বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

শেখ হাসিনার মধুর প্রতিশোধ

ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের হাতে পদ্মা সেতুর বিশাল একটি ছবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২ মে, ২০২৩ ২৩:০৯

দুর্নীতির মিথ্যে অভিযোগে অনেক টালবাহানার পর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ফিরিয়ে দিয়ে পুরোপুরি নিজস্ব অর্থে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এই অবকাঠানো প্রকল্পটি। প্রায় এক বছর ধরে এই সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল করছে। দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও সচল করেছে। কিছুদিন পর ছুটবে ট্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের হাতে তুলে দিলেন সেই পদ্মা সেতুর বিশাল একটি ছবি। এ যেন পদ্মা সেতু নিয়ে শেখ হাসিনার মধুর প্রতিশোধ।

গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠানের পর এই ছবি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। মে দিবসের কারণে ছুটি থাকায় মঙ্গলবার জাতীয় দৈনিক পত্রিকা বের হয়নি। তবে পত্রিকাগুলোর অনলাইন, অন্যান্য অনলাইন পত্রিকা এবং টেলিভিশনগুলো ফলাও করে প্রচার করেছে এই ছবিসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বব্যাংকের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার নানা খবর। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বাইরের চাপে দুর্নীতির মিথ্যে অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করেছিল। কানাডার আদালতে তা প্রমাণ হয়েছে।’

সবচেয়ে বড় সুখবর হচ্ছে শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের উপস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বড় অঙ্কের ঋণচুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশকে পাঁচটি প্রকল্পে ২২৫ কোটি (২.২৫ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনো এক দিনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এত বড় অঙ্কের ঋণচুক্তি সই হয়নি। বিশ্বব্যাংকপ্রধান ও বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে ঋণচুক্তির ঘটনাও আগে কখনো দেখা যায়নি।

‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বড় অনুষ্ঠানে যোগ দেয়াকে খুবই তাৎপর্য’ উল্লেখ করে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান এবং বড় অঙ্কের ঋণচুক্তির মধ্য দিয়ে এক দশক আগে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল, তার একটা সম্মানজনক পরিসমাপ্তি হলো। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতুর ছবি উপহারও বিরল ঘটনা হয়ে থাকবে।’

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গত পাঁচ দশকের সম্পর্ক সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে। পদ্মা সেতুতে তাদের ১২০ কোটি ডলার দেয়ার কথা ছিল। পদ্মা সেতুই হতে পারত কোনো একক প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে বড় অর্থায়ন। কিন্তু দুর্নীতি হতে পারে- এমন অভিযোগ এনে ২০১১ সালে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় সংস্থাটি। সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কানাডার আদালত- কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে ৩২ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করে।

প্রায় ১০ বছর আগে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ সহায়তার অনুরোধ প্রত্যাহার করে নেয়ার পর নিজস্ব অর্থে এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। গত বছরের জুনে চালু হয়েছে সেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সেতুটি একদিকে যেমন বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তেমনি পুরোপুরি নিজস্ব অর্থে এই সেতু নির্মাণ করে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

তবে পদ্মা সেতু নির্মাণে ঋণ না নিলেও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তেমন অবনতি হয়নি। উন্নয়ন সংস্থাটি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে। এমনকি পদ্মা সেতুতে যে অর্থায়ন করার কথা ছিল, তার চেয়েও বেশি অর্থ অতিরিক্ত হিসেবে অন্য প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটি।

চার দিনের সফরে ২৫ এপ্রিল জাপান যান প্রধানমন্ত্রী। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি জাপানে ছিলেন। ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জাপান থেকে সরাসরি ওয়াশিংটন যান বিশ্বব্যাংকের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।

সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান
বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল ভিন্নধর্মী। সংস্থাটির সদর দপ্তরে একটি দেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে এ ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান আগে কখনোই হয়নি। অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু।

বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বাংলাদেশের এগিয়ে চলায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্য থেকে অনেক দেশ শিক্ষা নিতে পারে। রেকর্ড সময়ের মধ্যে দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, দেশব্যাপী বিদ্যুতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার উদ্ভাবনী পদ্ধতির জন্য স্বাতন্ত্র্য।’

বাংলাদেশ নজিরবিহীন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বৃহত্তম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাসে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই। বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, করের ভিত্তি প্রসারিত, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বব্যাংক তার সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ অনুষ্ঠানে ডেভিড ম্যালপাস বাংলাদেশ এবং এর জনগণের জন্য বিশ্বব্যাংকের দৃঢ় সহায়তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস সোমবার বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারত্ব উদযাপন করেন।

এই অংশীদারত্ব লাখ লাখ বাংলাদেশিকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করেছে এবং এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সহায়তা করেছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ, বন্যা দুর্যোগ মোকাবিলা, সবুজ, অভিঘাত সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থপনার উন্নয়ন ও মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ সেক্টরকে কম দূষণকারী এবং আরও জলবায়ু- সহনশীল হতে সাহায্য করতে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংক মোট ২২৫ কোটি (২.২৫ বিলিয়ন) ডলার সহায়তা করেছে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দরিদ্রতম দেশ থেকে ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ করে। দেশটি এখন পৃথিবীর দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর অন্যতম।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারত্বের স্মৃতিচারণা করেন। এই অংশীদারত্ব লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে সাহায্য করেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশের মধ্যে একটি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশের জন্ম হয়, তখন অনেক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অঙ্কুরিত আকাঙ্ক্ষা ও আমাদের জনগণ বিশ্বকে দেখিয়েছে, দৃঢ়সংকল্পের মাধ্যমে কঠিন চ্যালেঞ্জকেও অতিক্রম করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘এই উন্নয়ন যাত্রা সহজ ছিল না। কিন্তু আমরা কখনো সাহস হারাইনি। বিগত ৫০ বছরে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে থেকেছে, আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করেছে। ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ যাতে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করতে পারে, সেজন্য আমরা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আশা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধে কখনো খেলাপি হয়নি এবং ‘ঋণের ফাঁদে’ পড়েনি।” তিনি বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল ও ভৌত অবকাঠামোতে বিশ্বব্যাংকসহ বৈশ্বিক উন্নয়ন সহযোগীদের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সুযোগ এবং খাপ খাইয়ে নেয়ার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয় এবং বাংলাদেশ কখনোই তার ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়নি বা তথাকথিত ‘ঋণের ফাঁদে’ পড়েনি।”

সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও অধিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাইছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের অংশীদারত্বের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। বিশ্বব্যাংককে অবশ্যই দারিদ্র্যবিমোচন এবং উন্নয়ন অর্থায়নের মূল লক্ষ্যের বিষয়ে মনোযোগী থাকতে হবে। বিশ্বব্যাংক সক্রিয়ভাবে আমাদের ডিজিটাল রূপান্তরে সম্পৃক্ত রয়েছে। আমাদের সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার মাধ্যমে আমাদের জনগণের কাছে তার কথা রেখেছে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হওয়ার জন্য আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।”

প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট একটি মাল্টিমিডিয়া ফটো প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। যা গত ৫ দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প তুলে ধরে এবং ৫০ বছরের অংশীদারত্বের প্রতিফলন করার জন্য একটি সেমিনারে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মোট ২২৫ কোটি ডলারের ৫টি অর্থায়ন চুক্তিও স্বাক্ষর করে। আঞ্চলিক সংযোগের উন্নতি, স্থলভূমিতে বন্যা মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার, সবুজ ও জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়নের দিকে স্থানান্তর, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা ও সবুজ বিনিয়োগ জোরদার এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোকে কম দূষণকারী ও অধিক জলবায়ু-সহিষ্ণু হওয়ার জন্য সহায়তা দিতে এই অর্থায়ন করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা এবং ডেভিড ম্যালপাস বাংলাদেশের গত ৫ দশকের উন্নয়নের ওপর একটি মাল্টিমিডিয়া আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ৫০ বছরের অংশীদারত্ব বিষয়ে এক সেমিনারে যোগ দেন।

১৯৭২ সালের আগস্টে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য হয় এবং একই বছরের নভেম্বরে বিশ্বব্যাংক প্রথম প্রকল্প অনুমোদন করে, যার মাধ্যমে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ, কৃষি এবং শিল্প খাতের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতে সহায়তার জন্য ৫ কোটি ডলারের জরুরি পুনরুদ্ধার ঋণ দেয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ৪টি প্রকল্প পুনরায় চালু করে, যা স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে অনুমোদিত হয়।

৫০ বছরে ৩৮ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংক
গত ৫০ বছরে বাংলাদেশকে সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৮০০ কোটি (৩৮ বিলিয়ন) ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ কাজে লেগেছে দারিদ্র্যবিমোচনে। রাস্তাঘাট, ভবনসহ বড় অবকাঠামো নির্মাণেও অর্থ দিয়েছে এই বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাংক দশকের পর দশক অর্থ দিয়ে আসছে। বর্তমানে ৫৭টি চলমান প্রকল্পে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বিশ্বব্যাংক।

সত্তরের দশকে মূলত পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন প্রকল্পেই বেশি অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। আশির দশকে কৃষি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে তারা। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে সংস্কারে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশে দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প হয়। এ দুটি প্রকল্প হলো বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু (যমুনা সেতু) এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (দুই লেন) নির্মাণ। এ ছাড়া তাদের সহায়তায় ২৬টি জেলায় মোট ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পল্লি সড়ক নির্মাণ করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গত পাঁচ দশকের সম্পর্ক সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে। পদ্মা সেতুতে তাদের ১২০ কোটি ডলার দেয়ার কথা ছিল। পদ্মা সেতুই হতে পারত কোনো একক প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সবচেয়ে বড় অর্থায়ন। কিন্তু দুর্নীতি হতে পারে- এমন অভিযোগ এনে ২০১১ সালে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় সংস্থাটি। সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কানাডার আদালত, কোথাও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে ৩২ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী তার সুবিধামতো সময়ে ভারত সফরে যাবেন: চিফ হুইপ

চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের শীর্ষ নেতার পারস্পরিক সুবিধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। বুধবার জাতীয় সংসদের টানেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সফরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া বা শর্ত আরোপ করা স্বাধীন দেশের পক্ষে গ্রহণ করা কঠিন। চিফ হুইপ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তাদের সময় মিলে যে সময়টা সুবিধাজনক হবে এবং এটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যখন ভালো হবে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন।”

ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মনি জানান যে, বাংলাদেশ কাউকেই উপেক্ষা করে না। তবে সরকারের মূল নীতি হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, মর্যাদা এবং সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখেই বিদেশের সাথে সম্পর্ক গড়া হবে। চিফ হুইপ আরও বলেন, “ইফ এনি কন্ডিশন হ্যাজ বিন ইমপোজড বাই আওয়ার ফ্রেন্ডস, সেটা আমাদের ভালোভাবে নেওয়াটা একটু কষ্টের ব্যাপার হয়ে যায়।” বাংলাদেশের ভূখণ্ড কোনোভাবেই অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না এবং বিনিময়ে প্রতিবেশী দেশ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

চিফ হুইপ গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লুণ্ঠিত হলেও ভারত নীরব ছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের মনে কষ্টের সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, গত দেড় দশকে লুটপাট, গুম ও খুনে জড়িত অনেক ব্যক্তি বর্তমানে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কাউকে যেন আশ্রয় বা প্রশ্রয় না দেওয়া হয়। ভারতের সাথে বিদ্যমান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে পানিবণ্টন সমস্যাকে অন্যতম ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দ্রুত এর সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যু নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, “আমরা বলি ভারত আমাদের বন্ধু, ভারতও বলে আমরা তাদের বন্ধু। কিন্তু তারা বেড়া দিয়েছে আমাদের ওপরে।” সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনাগুলোকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া দুই দেশের সংসদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের একটি প্রস্তাব নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে আলোচনার বিষয়টিও তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী এখনও নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন: আতিকুর রহমান রুমন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর চালানো অমানসিক নির্যাতনের স্মৃতি এখনো অমলিন বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজও সেই দুঃসহ নির্যাতনের চিহ্ন বহন করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘৩ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। আমাদের প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।’ তবে নেতার উদারতার কথা স্মরণ করে তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে চান না প্রতিশোধের রাজনীতি করতে। রুমনের ভাষায়, ‘আমাদের প্রিয় নেতা নিজেই বলেছেন তিনি সেই দিনগুলো মনে রাখতে চান না। আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি, প্রতিশোধ নিতে যাই তাহলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না।’ তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিশোধের বদলে দেশের উন্নয়ন করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য।

বিগত দিনগুলোতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে রুমন বলেন, ‘বিগত সময় বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে ঠিক ওই সময় আমাদের প্রিয় নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে যেন আমাদের প্রিয় নেতার ভালো কাজগুলো ভুলন্ঠিত না হয়।’ তিনি ছাত্রদল, যুবদলসহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনকল্যাণমূলক কাজগুলো সফল করার আহ্বান জানান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণই সকল শক্তির উৎস এবং সেই জনগণই একাত্তর, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ওয়ান-ইলেভেন এবং সর্বশেষ জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরচারকে হটিয়েছে।

দুঃসময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রুমন বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কীভাবে গোপনে কারামুক্তি দিবস পালন করা হতো, তা আজ ইতিহাসের অংশ। সে সময় রুহুল কবির রিজভী, ইকবাল হাসান মাহমুদ, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালের মতো নেতাদের সাহসিকতার কথা তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে যেসব সাংবাদিক সাহস নিয়ে তথ্য প্রচারে সহায়তা করেছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা।


নির্বাচিত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবদিয়া এলাকায় একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের বিষয়ে বর্তমানে আগ্রহী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই টার্মিনালটি চালু হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও আবাসিক খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পায়রা ও মোংলা বন্দর এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। মূলত ভৌগোলিক গুরুত্ব ও জ্বালানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই অঞ্চলগুলোতে টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো সফলভাবে স্থাপিত হলে দেশের গ্যাস সংকট অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। এর ফলে সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পায়নের গতিকে আরও বেগবান করবে।


নির্বাচিত

স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তাঁরা দুই দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর, রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের সসম্মানে প্রত্যাবাসন এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, “দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বাধীন সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক সামনে এগিয়ে যাবে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, এই মৈত্রী সবসময় বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে তা পরিবর্তিত হয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্পিকার বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক মূলত সরকারকেন্দ্রিক ছিল।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ভারত সরকার দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিশেষভাবে আগ্রহী। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান ভারত সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে হাইকমিশনার ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের এলএনজি জাহাজ চলাচলে বাধা নেই: ইরানি রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ চলাচলে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সমস্যা হবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও ইরানি রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে বলেন, ‘বাংলাদেশের এলএনজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হতে কোনো সমস্যা নেই। মক্কা প্যাক্টের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার করতে পারবে।’ তাঁর এই মন্তব্য বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের স্বস্তির বার্তা বহন করছে।

মক্কা প্যাক্ট বা মক্কা জোটে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা মক্কা প্যাক্টকে আমাদের বিপক্ষে দেখছি না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আমরা শুধু আমেরিকার ক্যাম্পে আক্রমণ করেছি, ইসলামিক কোনো রাষ্ট্রকে নয়।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, মক্কা প্যাক্টে যোগদানের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হলে ইরান তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং গ্রহণ করবে।


নির্বাচিত

স্থানীয় নির্বাচনে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের সময়সীমা ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আবাস্থল পরিবর্তনের কারণে যারা নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক, তারা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই আবেদন জমা দিতে পারবেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রাপ্ত আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যু করার সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর। এরপর দাখিলকৃত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এবং ভোটারদের সঠিক আবাস্থল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন এই সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু

খুলে দেওয়া হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত দুটি সার্ভিস সেতু সাধারণ যানবাহনের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। দুই লেনের এই পৃথক দুটি সেতুর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। উদ্বোধনের পরপরই সড়কটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশের দীর্ঘতম উড়ালসড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রকল্পটির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একাংশ খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’ অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।

আশুলিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির কথা স্মরণ করে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ‘আশুলিয়াবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের প্রকল্প এটি। অনেক ঘটনা ঘটেছে দীর্ঘ দিন ধরে। এখানে প্রচুর কারখানা, এগুলো সামার দিতে বেগ পোহাতে হয়েছে। আজকে চালুর মধ্য দিয়ে সেই ভোগান্তি কমবে। সবাই এর উপকার ভোগ করবে।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বারে দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।

এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখার স্বার্থে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বর্তমানে ব্যবহৃত সড়কটি আর রাখা হবে না। এর পরিবর্তে নতুন নির্মিত এই সার্ভিস লেন ব্যবহার করেই যানবাহনগুলো যাতায়াত করবে এবং তুরাগ নদ পারাপারের ক্ষেত্রে চালকদের কোনো টোল দিতে হবে না। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে নতুন এই পথ খুলে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকরা। সাইফুল ইসলাম নামে একজন পিক-আপ চালক বলেন, ‘আগে রাস্তায় অনেক যানজট ছিল। এখন কমে যাবে। অনেক ভালো লাগছে। এখন দ্রুত যেতে পারবো।’ একই সুরে আশুলিয়ার বাসিন্দা দীপংকর দাস বলেন, ‘আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবশেষে চালু হয়েছে। এত দিন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আশা করছি, এখন যানজট থেকে অনেকটা রক্ষা পাবো।’ যাতায়াত সুবিধা নিয়ে পথচারী বাবুল হোসেন মন্তব্য করেন, ‘যানজট নিরসনে এক্সপ্রেসওয়ে অনেক ভূমিকা রাখবে। উত্তরা থেকে আশুলিয়া আসতে প্রচুর ভোগান্তি হতো। এখন আর ভুগতে হবে না আশা করছি।’

ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি গত জুলাই মাস পর্যন্ত ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন ছাড়াও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ এবং বাইপাইলে দৃষ্টিনন্দন ‘ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তুরাগ নদের পরিবেশ রক্ষা করে প্রকল্পের ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু আজ যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মাদকাসক্তি ও নৈতিকতাহীনতা থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা, স্কাউটিং এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মেধাবীদের আগামীর বাংলাদেশের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “মেধাবীদের হাত ধরেই আগামী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে আমার সামনে প্রথম সারিতে যারা বসে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন। মেধাবীদের সমর্থন দিতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম এবং জনসম্পৃক্ততার শিক্ষা দেয়, যা তাদের মাদক ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি জানান যে, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং নৈতিকতাকে পাঠ্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি স্কাউট ও বিএনসিসির জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে সরকার পোশাক ও মিডডে মিলের ব্যবস্থা করছে এবং ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলায় বিজয়ীদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই পুরস্কৃত করছেন বলে তিনি জানান।

নারী শিক্ষার অগ্রগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপবৃত্তি কর্মসূচির কথা স্মরণ করে বলেন, এটি দেশে এক সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের বাজেট বাড়াচ্ছেন এবং স্কাউটের জন্যও আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মেধাবীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে যে কাজ করেনি, তাকে সেই কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়া যায় না। এটা আমার কথা নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। তোমরা যারা ভালো ফল করেছ, তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সম্মানিত করা হবে।” পরিশেষে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ জনসংখ্যা ও মেধা দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, যা কাজে লাগিয়ে দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।


নির্বাচিত

দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, নিয়োগ-বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান তালিকায় আসিফ মাহমুদ ছাড়াও রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন, মানিলন্ডারিং বা বিদেশে টাকা পাচার এবং নিষিদ্ধ বিটকয়েন লেনদেনের মতো গুরুতর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

আরও জানা যায়, ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গঠনে সরাসরি অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে যে, আসিফ মাহমুদ তাঁর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। ভুক্তভোগীদের দেওয়া এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই দুদক এই ব্যাপক তল্লাশি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।


নির্বাচিত

নতুন পে-স্কেলের গেজেট কবে, জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অবশেষে অনুমোদিত হয়েছে। এখন কেবল গেজেট বা আনুষ্ঠানিক আদেশ জারির অপেক্ষা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জারি হতে পারে।

প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে সচিব বলেন, “অর্থ বিভাগ আজ অথবা আগামীকাল নতুন বেতন কাঠামো-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে। তখন এ বিষয়ে সবকিছু স্পষ্টভাবে জানা যাবে।” গত সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত এই নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্তভাবে অনুমোদন লাভ করে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অনুমোদিত পে-স্কেল ও সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারও এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা এই নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

নতুন বেতন স্কেলের কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি কর্মচারীদের পূর্বের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে, তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।


নির্বাচিত

চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার সকালে তিনি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় মন্ত্রীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের সাথেও কথা বলেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যগত সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মন্ত্রীর অসুস্থতার বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লা আল কায়েস গণমাধ্যমকে জানান, ‘গত কয়েক দিন ধরে মন্ত্রী ঠান্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার শ্বাসকষ্ট কিছুটা বেড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।’ বর্তমানে মন্ত্রী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


নির্বাচিত

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল, ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন এনে ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকারকে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রিভার) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সাথে ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশিকুর রহমানকে ভোলার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম গতিশীল করতে হবিগঞ্জের মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম সালিমুল হক এবং এপিবিএনে কর্মরত তানিয়া ইসলামকে ওই ইউনিটে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রামের মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরীর আগের ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলির আদেশটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার অনিক চৌধুরীকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পদায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বদলি ও পদায়ন করা এসব কর্মকর্তাদের আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে অবশ্যই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।


নির্বাচিত

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সিসিইউতে ভর্তি জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি ভাইরাল ফ্লু, জ্বর এবং কাশিতে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে সোমবার ও মঙ্গলবার তিনি দাপ্তরিক কাজ থেকেও বিরত ছিলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান যে, মন্ত্রীর শারীরিক সমস্যা ও বর্তমান স্থিতিশীলতা সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকরা বিস্তারিত জানাবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।


নির্বাচিত

banner close