সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
৩০ চৈত্র ১৪৩২
আরপিও সংশোধন

গাইবান্ধার মতো ভোট বাতিল করতে পারব: ইসি

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইসি রাশেদা সুলতানা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২১ মে, ২০২৩ ১৬:১৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২১ মে, ২০২৩ ১৬:০১

সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ সংশোধনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন গাইবান্ধার মতো ভোট বাতিলের ক্ষমতা হারাতে যাচ্ছে বলে আলোচনা তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশেদা সুলতানা। তার মতে, ভোট বাতিলের ক্ষমতা হারায়নি নির্বাচন কমিশন।

রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝি যে আমরা পারবো। কারণ আমরা ৯১ (ক) নিয়ে কোনো প্রস্তাবনাই দেইনি। যেটা প্রস্তাবনা যায়নি, সেটা তো বাতিল হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না।’

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি রাশেদা সুলতানা এসব কথা বলেন।

গত ২৮ মার্চ আরপিও সংশোধনী প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হয়। তাতে উল্লেখ ছিল, ভোটের পর কোনো কেন্দ্রে, এমনকি পুরো নির্বাচনী এলাকার (আসন) ভোটে বড় ধরনের অনিয়ম, কারসাজি ও ভোটের প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়ার প্রমাণ পেলে গেজেট প্রকাশ স্থগিত এবং ভোট বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দেশ দিতে পারবে ইসি।

গত ১৮ মে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মাহবুব হোসেন জানান, নির্বাচনে কোনো ভোটকেন্দ্রে বড় ধরনের অনিয়ম, কারসাজি ও ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়ার প্রমাণ পেলে নির্বাচন কমিশন সেই কেন্দ্রের ভোট বা ফল বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে। পুরো আসনের ভোট বাতিল করতে পারবে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচন আইনের এমন বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ সংশোধনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংশোধনী প্রস্তাবে ইসি ভোটে অনিয়ম হলে পুরো আসনের নির্বাচন বা ফল বাতিলের ক্ষমতা চেয়েছিল।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) নির্বাচন বন্ধ করার প্রধান অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেছেন, ‘সেটা কিন্তু ৯১ এর ক। একটা নির্বাচনে তিনটা পর্যায়। প্রথম হলো নির্বাচন পূর্ব, আরেকটা হলো নির্বাচন চলাকালীন, একটা নির্বাচনের পরবর্তী; এই তিনটা ধাপের মধ্যে ৯১-এর ক যেটা আছে, সেটা কিন্তু নির্বাচন পূর্ব পর্যন্ত, নির্বাচন চলা পর্যন্ত। ওইখানে কমিশনের একটা ক্ষমতা দেয়া আছে। সেই ক্ষমতায় কমিশন কোনো রকম অনিয়ম, কারচুপি যেটাই হোক, নির্বাচন কমিশনের নজরে এলে যদি দেখে এরকম, তাইলে নির্বাচন বন্ধ করে দিতে পারে। এইটা তো আছেই আইনে, এক্সিসটিং।’

আরপিওর অধ্যায় ৭ এর ৯১ ক-তে উল্লেখ আছে, ‘যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভীতি-প্রদর্শন এবং চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করিতে সক্ষম হইবেন না, তাহা হইলে ইহা যে কোনো ভোট কেন্দ্র বা, ক্ষেত্রমত, সম্পূর্ণ নির্বাচনি এলাকায় নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করিতে পারিবে।’

বিভ্রান্তির প্রসঙ্গ টেনে রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন যে ৯১ (ক)-তে যে ক্ষমতাটা ছিল, নির্বাচন চলাকালীন নির্বাচন বন্ধ করে দেয়ার যে সুযোগটা, সেটা বোধহয় খর্ব হয়েছে। বিষয়টা তা নয়। আমি যতটুকু বুঝি, ওইটা তো হবেই না। কেননা আমরা তো ওইটা চাই-ই নাই। সেখানে প্রস্তাবনা হলো ৯ (ক) এর সঙ্গে ক (ক) বলে আরেকটা উপ-অনুচ্ছেদ যোগ দেয়া। রিটার্নিং অফিসার ফলাফল প্রকাশের পর থেকে গেজেট হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টা অনিয়মন হলে যেন ব্যবস্থা নেয়া যায়, সেই ক্ষমতাটা চাওয়া হয়েছে।’

রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘আমরা যেটা এখানে এসে দেখলাম, নির্বাচনের ফলাফলের তিনটা পর্যায়। আপনারা জানেন যে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা কেন্দ্রে কেন্দ্রে একটা রেজাল্ট দেন, এই রেজাল্ট চারটা কপি করা হয়। একটা প্রার্থীদের জন্য, একটা সাঁটানোর জন্য, একটা রিটার্নিং কর্মকর্তার জন্য, আরেকটা কপি করতে হয়। এগুলো করার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠান। কিন্তু কেন্দ্রে নয়, অন্যখানে থাকেন। এরপর তিনিও ফলাফল ঘোষণা করেন। সেই রেজাল্ট কিন্তু প্রাইমারি রেজাল্ট। ওইটা চূড়ান্ত নয়। ওইটার ওপর কিন্তু কে জিতল তার কার্যক্রম শুরু হবে না। শুরু হবে কখন, যখন কমিশন থেকে গেজেট হবে।’

কমিশনে ফলাফল পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় অভিযোগ আসে জানিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এই সময়টার মধ্যে কোনো অভিযোগ এলে কমিশনের হাতে কোনো ক্ষমতা নাই। সেই অভিযোগের বিষয়ে কমিশন কিছু করতে পারে না। তাকে গেজেটটা করে দিতে হয়। যদি বড় ধরনের কোনো অভিযোগ থাকে, যে সত্যিকার অর্থেই বড় কোনো অনিয়ম ঘটে গেছে, সেটা রেখেই যদি একটা গেজেট করে দেয়া হয়, তখন কিন্তু যারা অভিযোগ তোলেন তাদের কিন্তু একটা কষ্ট থেকেই যায়।’

রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘যে কারণে কমিশনের প্রতি একটা অনাস্থা থেকেই যায় যে—আমরা একটা অভিযোগ দিলাম, কমিশন যাচাই-বাছাই কিছু না করে রিটার্নিং কর্মকর্তা যে রেজাল্ট দিল, সেটাই তারা বাস্তবায়ন করে ফেলল। একাট ক্ষোভ কিন্তু তৈরি হয়। একটা নির্বাচন করছেন, কাজেই তার কথাটা তো আমলে নেয়া উচিত। এই জায়গাটাতেই আমরা চিন্তা করলাম যে শূন্য আছে। কমিশনের হাতে কোনো সুযোগ নাই। আমরা সেখানেই একটা নতুন প্রস্তাবনা পাঠালাম সংশোধনীতে, যেটা মন্ত্রিপরিষদে গেছে। আমরা পাঠালাম ৯-এর ক, তার সঙ্গে ক-এর ক বলে একটি উপ-অনুচ্ছেদ যোগ করতে হবে। সেখানে কোনো অনিয়মের তথ্য বা অভিযোগ এলে কমিশন সেই গেজেট নোটিফিকেশনটা স্থগিত রাখবে। এরপর তদন্ত করে যদি অভিযোগটার সতত্যা প্রমাণ হয় যে, আসলেও বড় ধরনের অনিয়ম হয়ে গেছে, সেখানে তখন কমিশন সুনির্দিষ্টভাবে যে জায়গাটায় অনিয়ম হয়েছে, সেই জায়গাটার যে কেন্দ্র বলেন বা যে আসনটার ভোট বাতিল করার জন্য চাচ্ছিলাম, মন্ত্রিপরিষদ ওখানে পুরো আসনের কথাটা বাদ দিয়ে সেটা খণ্ড করে আংশিকভাবে একটা অনুমোদন দিয়েছেন। আমরা পুরোটা কপি এখনো দেখি নাই।’

পাঁচ সিটি নির্বাচনে ইসি সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিচ্ছে না বলে প্রশ্ন উঠেছে, এর জবাবে এই কমিশনার বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটে, পেপার-পত্রিকায় যদি এসে থাকে আমার ব্যবস্থা নেব। কোনো ধরনের নমনীয়তার কোনো সুযোগই নেই।’

তিনি বলেন, ‘কমিশনের কাছে কেউ তো লিখিত কোনো অভিযোগ আনে নাই। অভিযোগ এলে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা আসলেই চাই সবগুলো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হোক। কমিশনের ইচ্ছার কোনো কমতি নাই।’

গাইবান্ধার ভোট প্রসঙ্গে এই কমিশনার বলেন, ‘গাইবান্ধায় আমরা যখন সিসি ক্যামেরায় নানান ধরনের অনিয়ম দেখছিলাম, গোপন কক্ষের মধ্যে ভোটার ভোট দেয়ার আগেই অন্য কেউ দিয়ে দিচ্ছেন, ওখানে আসলে কোনো ভোটারই ভোট দিতে পারছে না। তখন কিন্তু আমরা ৯১ (ক) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে নির্বাচনটা বন্ধ করেছি। এখন আমরা চাচ্ছি এক বা একাধিক কেন্দ্র যেখানেই হোক, রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল ঘোষণার পর এবং গেজেট হওয়ার আগ পর্যন্ত, এই মধ্যবর্তী সময়ে অভিযোগ এলে সেটা যেন তদন্ত করে বন্ধ করতে পারি এবং সেখানে নতুন করে ভোট হবে। যেখানে ছিলই না, সেখানে তো কিছুটা হলেও বাড়ল। পুরোটা না হলেও কিছুটা তো অর্জন হয়েছে। পুরোটা বাতিলের ক্ষমতা পেলে ভালো। কেননা, যারা অনিয়ম করে তাদের একটা ভয় থাকতো যে ভোট বাতিল হয়ে আবার হ্যাপাটা নিতে হবে।’


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর গ্রুপের সিইও’র সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নরওয়েভিত্তিক মোবাইল অপারেটর এবং টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু)।

তিনি জানান, প্রতিনিধি দল সেখানে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন তারা।


সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয়, রাষ্ট্রের অমূল্য সম্পদ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের এক অমূল্য সম্পদ। গতকাল রোববার ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর এক বিশেষ দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানান এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে এই বাহিনী যে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে, তা দেশপ্রেমিক জনগণকে আশান্বিত করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল এবং সেই বিয়োগান্তক ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তার সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত দেড় দশকের শাসন ও শোষণের সময় সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার সমালোচনা করে তিনি বাহিনীকে জনআস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা সেনানিবাসের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

দরবারে প্রধানমন্ত্রী গত আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও শান্তি রক্ষায় এই বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশপ্রেমকে ধারণ করার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও ত্যাগের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অটুট রেখে কাজ করার জন্য সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এই বিশেষ দরবারে ঢাকা সেনানিবাসের সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সেনানিবাসের সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।


গণতন্ত্র আস্থার জায়গা, প্রতিষ্ঠায় অপরকে বিশ্বাস করতে হবে: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র হলো একটি আস্থার জায়গা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সঠিক দায়িত্ব পালন ও একে অপরকে বিশ্বাস করতে হবে। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব বলেছেন।

চিফ হুইপ বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে দায়িত্ব পালন করা দরকার, তা আপনাদের সংসদ এবং সংসদের বাইরে পালন করতে হবে। কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে সবাই জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। কোনো সমস্যা হলে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবে, তবে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।

জ্বালানি সংকট নিরসন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সমস্যা সমাধানে ভর্তুকির ওপর আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চান টাকা পাচার না হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগুক।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ চলাকালীন শেরপুরে একজন জামায়াত কর্মী নিহতের ভুয়া তথ্য দিয়ে বিরোধী দলের এক সদস্যের দেওয়া বক্তব্য দুঃখজনক। এটি এক্সপাঞ্জ করার প্রস্তাব করবো আগামী অধিবেশনে।

সংসদীয় কার্যক্রমের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম মাত্র ৫ দিনে ১১৭টি বিল পাস করার নজিরবিহীন রেকর্ড গড়া হয়েছে। আমরা সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই করেছি। এর মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংশোধনের জন্য রাখা হয়েছে এবং ১১৭টি পাস হয়েছে। এর জন্য সংসদ সচিবালয় ও বিজি প্রেসের কর্মীরা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

এত পরিশ্রমের পরও বিরোধী দলের সদস্যদের ওয়াকআউট নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে চিফ হুইপ বলেন, ছোট দুটি সংশোধনী নিয়ে তাদের ওয়াকআউট করাটা ছিল ঠুনকো বিষয়। তবে ওয়াকআউট গণতন্ত্রের অংশ, এটা তাদের অধিকার।

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে ‘জুলাই জাদুঘর’ নির্মাণের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সব ইতিহাসকে আমরা এই জাদুঘরে জীবন্ত করে রাখতে চাই। এখানে মন্ত্রীর সম্পৃক্ততা থাকলে কাজের গতি বাড়বে।


গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকির প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। এটা তো ফ্যাক্টাম ভ্যালেট, এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। অধ্যাদেশ জারি হয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ। গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন পরবর্তী বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণভোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেছেন।

রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলামও বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, এটার বিষয়ে নতুন করে আইন করে— আগামীতে তো এর ওপরে কোনো গণভোট হবে না। ভবিষ্যতে যদি কোনো গণভোট করতেই হয়, আইদার (দুটির মধ্যে যে কোনো একটি) সাংবিধানিক গণভোট হবে আর্টিকেল ১৪২ অনুসারে, অথবা যদি সংবিধানের বাইরে, যেহেতু সংবিধানে এমন কিছু বলা নাই যে, আর কোনো গণভোট কোনো বিষয়ে করতে পারবে না সরকার চাইলে। সুতরাং সেটা যদি করতে চায় অন্য কোনো বিষয়ে, সেটা আলাদা একটা আইন করতে হবে...সুতরাং এটা হুমকি দেওয়ার কোনো বিষয় নাই। এটার বৈধতা তো আছেই। অবৈধ তো বলছি না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যখন বিগত গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তী সরকার) সকল কর্মকাণ্ডকে, দুই-একটা বাদে বৈধতা দেওয়া হবে তখন সেটা লেজিটিমেট (বৈধ) হয়ে যাবে।’

সরকার গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ—বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, নির্বাহী ক্ষমতা ও সংশোধন-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর আগেও একটি গণভোট অধ্যাদেশ জারি এবং সেই অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং তার আইনি বৈধতা ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ কারণে ভবিষ্যতে গণভোট আয়োজন করতে হলে তা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই করতে হবে। সংবিধানের বাইরে কোনো গণভোট হলে তা আইনি জটিলতায় পড়তে পারে।

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের বিধান যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যদি গণভোট আয়োজন করতে হয়, তাহলে তা হয় সংবিধানসম্মতভাবে, নয়তো আলাদা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে করতে হবে।


নববর্ষে জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই, রয়েছে জোর প্রস্তুতি

রাজধানীর রমনা পার্কে ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার/ ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই বলে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলার শঙ্কা নেই। আমাদের জোর প্রস্তুতি রয়েছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য।

রোববার রমনা বটমূলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।

এর আগে নববর্ষের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। যাতে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারে, সেজন্য ডিএমপি ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, নববর্ষের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ঢাকা মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে ‘সুইপিং’ করা হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কমিশনার আরও বলেন, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪টি পয়েন্টে ব্যারিকেড বসানো হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। সিসিটিভি, ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও রুফটপে বিশেষ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ইভটিজিং ও অপরাধ দমনে বিশেষ টিম সাদা পোশাকে কাজ করবে। এছাড়া হকারদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতেও থাকবে আলাদা নজরদারি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বা গুজব ঠেকাতে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।

ছায়ানট ও বৈশাখী শোভাযাত্রার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং নারী-পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে সকাল ৯টায় শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হওয়া পর্যন্ত পুরো রাস্তা কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকবে। অনুষ্ঠানমালা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনাও দেন তিনি। বিকাল ৫টার পর রমনা পার্কের সব গেট শুধু বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হবে, নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ট্রাফিক ডাইভারশন প্রসঙ্গে তিনি জানান, পহেলা বৈশাখ ভোর ৫টা থেকে শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায় যান চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে। বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্ট, নীলক্ষেতসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড থাকবে। এই সময়ে যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্কিং, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম এবং নৌপুলিশের ডুবুরি দল সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করুন। কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানান।


রহিত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে নতুন আইন করবে সরকার

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, মানবাধিকার কমিশনসহ কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব আইন নতুন করে করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ মের পরে মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘স্বচ্ছভাবে বিলগুলো আনতে চাই। ১২ এপ্রিলের মধ্যে বিলগুলো পাস হলে আলোচনার সুযোগ থাকত না। আমরা বিলগুলো আনব, অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।’

আইনমন্ত্রী জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি অধ্যাদেশ বিল করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু, ১৩টি সংশোধিত আকারে এবং সাতটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি।


১৭ এপ্রিল হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি- সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুক্রবার রাত থেকে শুরু হবে। যা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ তথ্য জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হাজী ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন। সভায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও হজ ফ্লাইটের শিডিউলে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে হজযাত্রীরা নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেন।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।


এপ্রিলের ১১ দিনেই প্রবাসী আয় এক বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ তিন দিনেই এসেছে ২৪ কোটি ডলারের বেশি, যা প্রবাহ বৃদ্ধির ধারাকে আরও জোরালো করেছে।

রোববার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বছরের একই সময়ে এপ্রিল মাসে মোট রেমিট্যান্স ছিল প্রায় ১০৩ কোটি ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনিশ্চয়তা এড়াতে দেশে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। ওই মাসে মোট ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার (৩৭৫ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। আগের বছরের মার্চের তুলনায় এ প্রবাহ প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় ছয়টি দেশ— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন এবং কুয়েত থেকেই দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, পবিত্র ঈদকে ঘিরে অতিরিক্ত অর্থ প্রেরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব মিলিয়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই ধারা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদে এ প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।


বিমানমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত উপস্থিত ছিলেন।

রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সৌদি আরবের সাথে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

মন্ত্রী বাংলাদেশের যাত্রী সাধারণের জন্য সৌদি আরবের এয়ারলাইন্সগুলোর সেবার মান আরো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত এয়ারলাইন্সগুলোর সেবার মান দ্রুত উন্নয়নের ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত সৌদি আরবের এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার এর বাংলাদেশে স্টেশন চালু ও ফ্লাইট পরিচালনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ঢাকার পাশাপাশি সিলেট এবং চট্টগ্রাম থেকেও ফ্লাইট পরিচালনার ব্যাপারে সৌদি আরবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


শিক্ষার ভিশন হবে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্যারিয়ার গঠন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আমাদের দেশে শিক্ষা নিয়ে অনেক কমিশন গঠিত হয়েছিল, নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু, শিক্ষার সঠিক মানোন্নয়ন সম্ভব হয়নি। কারণ, আমাদের দেশের শিক্ষার কোনো ভিশন ছিল না। শিক্ষার ভিশন হবে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্যারিয়ার গঠন।

রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা মিলনায়তনে ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও রাষ্ট্রের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ কথা বলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মমুখী সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব রয়েছে। এজন্য আমাদের দেশে গার্মেন্টস সেক্টরসহ বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশিরা চাকরি করে বেতন নিয়ে যাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। দক্ষতার অভাবে আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের এসব পদে চাকরি দেওয়া হয় না।

তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম।


স্কুলে পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সকল)-কে অনুরোধ করা হলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওর পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/অ্যাডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরিখে সাময়িকভাবে উক্ত পুল থেকে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এ সংক্রান্ত সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।


জামিনে কারামুক্ত সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনা ঘটে। দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হলে গুলিবিদ্ধ হন আশরাফুল ওরফে ফাহিম, যার একটি গুলি চোখে লাগে। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ঘটনার পর গত বছরের ২৫ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ১৩০ জনকে নামীয় আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও ১১৫-১২০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ৩ নম্বর আসামি হিসেবে শিরীন শারমিনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করলে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করে এবং আসামিপক্ষ জামিন চান। সেদিন আদালত উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রোববার আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় তিনি জামিন লাভ করে কারামুক্ত হন।


কৃষক কার্ডে যুক্ত হবে সময়োপযোগী নতুন নতুন সেবা: কৃষিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষি একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদাকে আরো মহিমান্বিত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ সেবার বাইরেও সময়োপযোগী নতুন নতুন সেবা যুক্ত হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কৃষিকে আরও লাভজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় পরিণত করবে এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কৃষকের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট উপযোগী কৃষক কার্ড দিতে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক রূপে গড়ে তুলতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সারের অপচয় কমবে, উৎপাদন পরিকল্পনা উন্নত হবে এবং কৃষকের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ কৃষকের হাতে। আমাদের কৃষি জমির উর্বরতা, মাটির গুণাগুণ ও ফসলের বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রণোদনা ও সেবা গ্রহণ করবেন; সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য/প্রাণী খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন।

কৃষক কার্ডে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে

ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ; ন্যায্য মূল্যে সেচ সুবিধা; সহজ শর্তে কৃষি ঋণ; স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি; সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা; মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য; কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ; ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ; কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা।


banner close