বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

বিআরআইয়ের আঞ্চলিক সংযোগে অবদান রাখতে আগ্রহ বাংলাদেশের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
কূটনৈতিক প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২৩ ২১:২৯

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ ও চীন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগে অবদান রাখতে আগ্রহ দেখিয়েছে। অনলাইনে জুয়া এবং মাদক পাচারের মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা তৈরিতে বাংলাদেশকে সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছে চীন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ১২তম পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই পক্ষ জননিরাপত্তা বিষয়ে আয়োজিত সংলাপে নীতিগতভাবে সম্মত হয়। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটসহ বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনাও করে তারা।

শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সুন ওয়েইডং নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বৈঠকের পর কোনো পক্ষই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেনি।

পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। এতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে নিয়মিত কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে চীনা ভাইস মিনিস্টার সুন ওয়েইডং ১০ বছর পর বাংলাদেশ সফর করছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নেতৃত্বে এ দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অর্জন হয়েছে বলে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। দুই দেশের প্রতিনিধিদল পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। ‘এক চীননীতি’তে অব্যাহত সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। সাম্প্রতিকালে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সফর বিনিময়ের দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও গভীর করেছে বলে উল্লেখ করে দেশটির প্রতিনিধিদল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, টেকসই এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে সহায়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন।

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পাশাপাশি সমগ্র অঞ্চলের জন্য উপকারী হবে বলে মনে করেন চীনের ভাইস মিনিস্টার। তিনি পাইলট প্রজেক্টের প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মিয়ানমারে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসা এবং বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগের প্রশংসা করেছে চীনের প্রতিনিধিদল।

বৈঠকে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় চীনের টিকা সহায়তার জন্য বাংলাদেশ আবারও ধন্যবাদ জানায়। দুই পক্ষ বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। এ সময় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল এবং পদ্মা সেতু রেল সংযোগের মতো মেগা প্রকল্পের আসন্ন উদ্বোধনকে স্বাগত জানায় চীন। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতে কয়েকটি অতিরিক্ত প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া গত বছর ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া ৯৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন ফল বিশেষ করে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা এবং হিমায়িত খাবার আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করে চীন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধার আওতায় শাকসবজি, ওষুধ, কাঁচা চামড়া, ফুটওয়্যার, পোশাক ইত্যাদি রপ্তানি আইটেম অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়।

চীনের ভাইস মিনিস্টার চট্টগ্রামে চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে তার দেশের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আশ্বাস দেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা-গুয়াংজু সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সময়মতো আলোচনার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দুই পক্ষ নিয়মিত কনস্যুলার পরামর্শ চালু করতে সম্মত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বায়োটেকনোলজিতে উদ্ভাবনের বিষয়ে চীনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

বৈঠকে দুই পক্ষ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের পৃষ্ঠপোষকতায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে। উভয়পক্ষ বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আবহাওয়া স্যাটেলাইটের তথ্য শেয়ার করার জন্য বাংলাদেশ চীনকে ধন্যবাদ জানায়।

বিষয়:

সেনাপ্রধানের সঙ্গে রুয়ান্ডার চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রুয়ান্ডা ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এমকে মুবারাখ। বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদরে তিনি সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিকেলে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সেনাবাহিনী প্রধান তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য রুয়ান্ডার চিফ অব ডিফেন্স স্টাফকে ধন্যবাদ জানান। সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে রুয়ান্ডা ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেন এবং সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রুয়ান্ডা ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) ৫ দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসেন। তার এই সফরকালে তিনি মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ পরিদর্শন, বঙ্গবন্ধু মিলিটারি মিউজিয়াম পরিদর্শন, রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিপসট) এবং কক্সবাজার এরিয়া পরিদর্শন করবেন। এই সফর বাংলাদেশ ও রুয়ান্ডার মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।


অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক সার্ভিলেন্স টিম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান। বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রস্তুতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের টার্মিনালের ভেতরে ওঠানামা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই টার্মিনাল হতে বের হয়ে রাস্তায় বাসে যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপরিবহনগুলো নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে পারবে না। বিশেষ করে ছাদে কোনো যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে গমন করবেন না। দূরপাল্লার পরিবহনগুলো মহানগরীর মধ্যে যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না। গণপরিবহনের ফিটনেসের বিষয়টি মালিক-শ্রমিক পক্ষ নিশ্চিত করবে। খালি ট্রাক বা পিকআপে যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার যাত্রা করা সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে।

ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের নিজ নিজ মালামাল নিরাপদে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাত্রাকালে অপরিচিত কোনো ব্যক্তির দেওয়া কোনো খাদ্য গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন। মোটরসাইকেলে যারা দূরে ভ্রমণ করবেন তারা অবশ্যই হেলমেট পরিধান করবেন। তাছাড়া অতিরিক্ত মালামাল বহন না করা, মোটরসাইকেলে দুইয়ের অধিক যাত্রী না ওঠা ও মোটরসাইকেলের ফিটনেসের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।’

তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার লাখ লাখ শ্রমিকের বাড়ি ফেরার সুযোগ নিয়ে অনেক ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে নামানোর প্রয়াস চালানো হয়। এতে যানজট তৈরি হয়, আবার যাত্রাপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। তাই দূরপাল্লার এবং সিটিং সার্ভিসের বিভিন্ন রুটের গণপরিবহনের মালিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থেকে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।

ঈদ যাত্রার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস যাত্রীদের বাসের অপেক্ষায় টার্মিনাল সংলগ্ন সড়কে দাঁড়িয়ে না থেকে টার্মিনালের ভেতরে অবস্থান করবেন। লঞ্চ টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যাত্রীদের গমনাগমন সুষ্ঠু করার জন্য ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সচেষ্ট রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মনিবুর বলেন, ঢাকা মহানগর এলাকায় চলাচলরত বাসগুলো দূরপাল্লার যাত্রী বহন করলে সেই বাসগুলোর নম্বর প্লেট ভিডিও করে রাখা হবে। পরবরর্তীতে ওই বাসগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি এসব গাড়ির রুট পারমিট বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।


বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তি: নিরপেক্ষ কমিটি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ তদন্তে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুন, জামিউল হক ফয়সাল ও আব্দুল্লাহ আল হাদী। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হাসান রিগান ও মো. জাকির হায়দার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। তবে গতকাল একই রিটে নতুন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুতের বিলিং প্র্যাকটিস পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা, স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত চার্জের রিফান্ড, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নীতি সংস্কার করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, বাংলাদেশ রুর‌াল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, ডেসকো, ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি ও ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম জামিউল হক ফয়সাল, কামরুল হাসান রিগ্যান ও জাকির হায়দারের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হাদী এ নোটিশ পাঠান।

ওই নোটিশে বলা হয়, প্রিপেইড মিটার চালু হওয়া সত্ত্বেও ভোক্তারা অতিরিক্ত চার্জ, গোপন চার্জ এবং স্বচ্ছতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সমস্যাগুলো ব্যাপক অসন্তোষ ও আর্থিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে বিলিং প্র্যাকটিস পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা, স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত চার্জের রিফান্ড, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নীতি সংস্কার প্রয়োজন।

আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে প্রিপেইড মিটার চালু করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে সব বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে এর আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু এরপরও ভোক্তারা অতিরিক্ত চার্জ, গোপন চার্জ এবং স্বচ্ছতার অভাবসহ নানাভাবে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

তাই ২৬ মের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোটিশে অনুরোধ জানানো হয়। এর ব্যত্যয় হলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু নোটিশের জবাব না পাওয়ায় গত ৬ জুন জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুতের বিলিং প্র্যাকটিস পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা, স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত চার্জের রিফান্ড, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ ও নীতি সংস্কার করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।


মে মাসে ৫০৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে মে মাসে ৫০৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত ও ৯২১ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ১৭৬টি মোটরসাইকেলে ১৭৫ জন নিহত ও ১৯০ জন আহত হয়েছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৪.৬৪ শতাংশ।

বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মে মাসে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ১১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২১ জন নিহত ও ২১০ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এ ছাড়া সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫০.৭৮ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়া, ২২.০৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২২.২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৩.৯৩ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩৯ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ও ০.৫৯ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে মে মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩০.৭০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২০.৮৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৪২.১২ শতাংশ সংযোগ সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদেনে জানানো হয়েছে, সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৭৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.৯৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩১ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ১২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৪ জন শিক্ষার্থী, ১৯ জন শিক্ষক, ৮১ জন নারী, ৫৮ জন শিশু, দুইজন সাংবাদিক, তিনজন প্রকৌশলী, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং পাঁচজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে ছয়জন পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী দুইজন, র‌্যাব একজন, একজন মুক্তিযোদ্ধা, দুইজন প্রকৌশলী, ১০৪ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৬৮ জন পথচারী, ৫৭ জন নারী, ৪৩ জন শিশু, ৪১ জন শিক্ষার্থী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯ জন শিক্ষক ও চারজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংঘটিত ৭৫৭টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৭.২১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৪.৭০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১০.০৩ শতাংশ বাস, ১৭.৮৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫.২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯.৩৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্র-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৫.৫৪ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫০.৭৮ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২২.০৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২২.২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৩.৯৩ শতাংশ বিবিধ কারণে, চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ০.৩৯ শতাংশ এবং ০.৫৯ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩০.৭০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২০.৮৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৪২.১২ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৭৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.৯৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চলমান গতানুগতিক কার্যক্রম অডিট করে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকারিতা সংস্কার করা এবং সক্ষমতা ঘাটতি পূরণ করা জরুরি বলেও দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে গণপরিবহনে নগদ অর্থের লেনদেন বন্ধ করা গেলে পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরতে বাধ্য। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা গেলে পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং দুর্ঘটনা কমে আসবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


রাত ১টার মধ্যে যেসব এলাকায় ঝড় হতে পারে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলেও জানায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।

আজ বুধবার বিকেলে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ সকালে দেওয়া আবহাওয়ার পৃথক বার্তায় বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে।


‘মিয়ানমার থেকে কারা গুলি করেছে তা নিশ্চিত নই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে নাফ নদীতে মিয়ানমার থেকে কারা বাংলাদেশের নৌযানে গুলি করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজ বুধবার সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আরাকান আর্মি যুদ্ধ করছে। যুদ্ধটা বেশ কিছুদিন ধরে হচ্ছে। আমরা দেখেছি আরাকানের অনেক জায়গায় তারা দখল করে নিয়েছে। এখন আমাদের নাফ নদীর নিচের অংশটায় যুদ্ধ চলছে। এখানে যখন যুদ্ধ চলছে কখন কোন সময় কার গুলি আসছে। দু-একটা গুলি জেলেদের ট্রলার কিংবা আমাদের টহল বোটে এসে লেগেছে। কে গুলি করেছে সেটি আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তাদের (মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারাও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। মিয়ানমার অস্বীকার করেছে তারা গুলি করেনি, কিন্তু গুলি তো হয়েছে।’

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সে আসছে, তার আবেগের কথা বলে গেছে। তার বাবা নিহত হয়েছেন, সে তার বাবার হত্যার বিচার চাইবে এটাই স্বাভাবিক। সেটাই সে বলছে যে কেউ যাতে পার না পেয়ে যায় সে বিষয়টি দেখার জন্য। যেটিই তদন্ত আসবে আমরা সেটিই বিশ্বাস করি। তদন্ত যেভাবে করেছেন তাতে কেউ যাতে পার না পেয়ে যায়-সে বিষয়ে আমাদের অনুরোধ করে গেছেন।’

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীরের বিরুদ্ধে ওঠা নানান অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন, আমাদের কাছে এমন কিছু আসেনি, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে তাকে আমরা দায়ি করতে পারি। কাগজপত্র সঠিকভাবে আসছে, এখানে কোনো ভুল-ভ্রান্তি করে থাকলে তদন্ত হচ্ছে সেখানে দেখবে। তদন্ত যারা করছেন তারা যদি কিছু প্রমাণ করতে পারেন তখন সেটা দেখা হবে।’


‘পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক জিয়াসহ সাজাপ্রাপ্ত ১৫ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বেগম ফরিদা ইয়াসমিনের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে আজ বুধবার একথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়াসহ সাজাপ্রাপ্ত ১৫ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। বিদেশে পলাতক আসামি মাওলানা তাজউদ্দীন, মো. হারিছ চৌধুরী ও রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবুদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮-এর ৩/৪ ধারায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হয়, যার নং-৯৭ তারিখ-২২/৮/২০০৪ খ্রি.।

সরকারপ্রধান বলেন, মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘ তদন্ত শেষে মোট ৫২ আসামির বিরুদ্ধে ২টি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্বে অভিযোগপত্রভুক্ত ৫২ জন আসামির মধ্যে ৩ জনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নং-০১, ঢাকার বিজ্ঞ বিচারক ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর তারিখে রায় ঘোষণা করেন। বিচারে ৪৯ জন আসামির সাজা হয়, যার মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। সাজাপ্রাপ্ত ৪৯ আসামির মধ্যে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


যেকোনো সময় ৮ আট মাত্রার ভূমিকম্পও হতে পারে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে বিএসআরএফ সংলাপ’-এ বুধবার বক্তব্য দেন দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেছেন, ঢাকা শহরে সর্বোচ্চ আট মাত্রার ভূমিকম্পও হতে পারে। এতে ২০ শতাংশ ভবন ধস হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এজন্য ভয়ের কারণ নেই। কারণ এমন পরিস্থিতি বহু দেশে হয়ে আসছে। যেমন তুরস্কে ভূমিকম্প হয়, তবে তারা দুর্যোগ সহনীয় অবকাঠামো ও সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যে কারণে সমস্যা এলে তা সমাধান করার সক্ষমতা তারা তৈরি করেছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন। বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব।

মহিববুর রহমান বলেন, যদি কোনো রকম ভূমিকম্প হয়, সেজন্য শহুরে অঞ্চলে ব্যাপকভাবে স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করতে কাজ করছি। ভবনগুলো যদি ধসে যায়, তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করা ও মানুষকে উদ্ধারে আমরা ব্যাপকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যেতে চাইলে পুরো জাতিকে দুর্যোগের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে আমার ভয়ের কারণ ভূমিকম্প। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। যেকোনো সময় সর্বোচ্চ আট মাত্রার ভূমিকম্পও হতে পারে। এতে ঢাকা শহরের লাখ লাখ লোক আটকা পড়তে পারেন।

আট মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার যে তথ্য দিয়েছেন, সেটা কীসের ভিত্তিতে বলেছেন– জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্দিষ্ট গবেষণার ভিত্তিতেই আমি এমন কথা বলেছি। এ নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে।’


ঢাকায় আসতে পারেন নরেন্দ্র মোদি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

চলতি বছরের জুন মাসের শেষ দিকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ঢাকায় আসতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই হতে পারে মোদির প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।

শপথের দিন সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করার পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ভারতে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর চলতি জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে প্রথম বিদেশি অতিথি হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সফর করার কথা ছিল শেখ হাসিনার। নরেন্দ্র মোদি তার তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি সফর করেন।

তবে মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় ঢাকার প্রত্যাশা, এবার ঢাকা সফরে আসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দিল্লি সফরে ৯ জুনের একান্ত বৈঠকে নরেন্দ্র মোদিকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমন্ত্রণ গ্রহণও করেছেন নরেন্দ্র মোদি। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ২৭-২৮ জুন সফরসূচি সাজানোর কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেষবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ২০২১ সালের মার্চে। জুনে ঢাকায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ ও ২০২১ সালের পর এটা হবে তার তৃতীয় বাংলাদেশ সফর। নরেন্দ্র মোদি যদি এ মাসেই বাংলাদেশে আসেন তাহলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীনে সফরের আগ মুহূর্তেই; যা কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশেষ বার্তা দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। জুলাইয়ের প্রথম দিকে বেইজিং সফরে যেতে পারেন সরকারপ্রধান।


শেষ হচ্ছে হজ ফ্লাইট

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র হজ ফ্লাইট শেষ হচ্ছে আজ। দুপুর ২টা ৫মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের হজযাত্রা। হজ পালনের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে সৌদি পৌঁছেছেন ৮২ হাজার ৭৭২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। মোট ২০৯টি ফ্লাইটে তারা সৌদি পৌঁছান।

আজ বুধবার হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টা ৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের SV3809 ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৌদির উদ্দেশ্য ছেড়ে যাবে শেষ হজ ফ্লাইট।

হেল্প ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০৯টি ফ্লাইটে ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৮২ হাজার ৭৭২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০৫টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৭২টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ৩২টি ফ্লাইট রয়েছে।

এর আগে, গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গাইডসহ হজ পালনে সৌদি আরব যাচ্ছেন ৮৫ হাজার ২৫২ জন। এর মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধন করেন ৪ হাজার ৫৬২ জন। আর বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেন ৮০ হাজার ৬৯৫ জন। প্রতি ৪৪ জনে একজন করে গাইড হিসেবে ১ হাজার ৮৯৯ জন হজযাত্রীদের সঙ্গে যাচ্ছেন। হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী এজেন্সির সংখ্যা ২৫৯টি। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ২০ জুন আর শেষ ফিরতি ফ্লাইট ২২ জুলাই।


আজ থেকে ঈদ স্পেশাল ট্রেনের যাত্রা শুরু

আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৪ ০০:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে ১০ জোড়া (২০টি) স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ বুধবার থেকে স্পেশাল ট্রেনগুলো চলাচল শুরু করবে।

সম্প্রতি রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়, ঈদুল আজহায় চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল (১, ২, ৩ ও ৪) চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম; দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল (৫ ও ৬) ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা; ময়মনসিংহ ঈদ স্পেশাল (৭ ও ৮) চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম; কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল (৯ ও ১০) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ১২ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ও ঈদের পরে ৭ দিন চলাচল করবে।

এ ছাড়া পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল (১৫ ও ১৬) জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে আগামী ১৩-১৫ই জুন (৩ দিন) ও ঈদের পরে ২১-২৩ জুন (৩ দিন) চলাচল করবে।

অন্যদিকে, শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল (১১ ও ১২) ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব বাজার; শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল (১৩ ও ১৪) ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ; গোর-এ-শহীদ ঈদ স্পেশাল (১৭ ও ১৮) পার্বতীপুর-দিনাজপুর-পার্বতীপুর; গোর-এ-শহীদ ঈদ স্পেশাল (১৯ ও ২০) ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও রুটে শুধু ঈদের দিন চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনে সাড়ে ৩৩ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছে। কালোবাজারি রুখতে ঈদযাত্রায় সব আন্তনগর ট্রেনের সব টিকিট গত বছর থেকে অনলাইনে অগ্রিম বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৩৩ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হলেও টিকিটপ্রত্যাশী ছিলেন কমপক্ষে ২ লাখ। এ কারণে টিকিট প্রত্যাশীদের ছয় ভাগের পাঁচ ভাগই কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাননি। তাদের সুবিধানুযায়ী সড়ক ও নৌপথে গন্তব্যে যাত্রা ছাড়া উপায় নেই। ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষে এখন বিক্রি চলছে ফিরতি যাত্রার টিকিট।


১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

নেপাল থেকে কেনা হবে জলবিদ্যুৎ
আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৪ ১২:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে ১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে এই তেল আমদানি করতে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই বৈঠকে নেপাল থেকে ৫ বছরের জন্য ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানিরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ জন্য বিপিসির ১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে ৫টি প্যাকেজে বিভক্ত করে আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হয়। সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তার মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।

প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১১৭ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

প্রতি ব্যারেল জেটএ-১ এর দাম পড়বে ১০.৮৮ ডলার। এ ছাড়া প্রতি ব্যারেল গ্যাস অয়েল ৮.৮৩ মার্কিন ডলার, ফার্নেস অয়েল ৪৬.৭২ ডলার, মোগ্যাস ৯.৮৮ ডলার এবং মেরিন ফুয়েল ৭৬.৮৮ ডলার দিয়ে কেনা হবে। এই দামে গ্যাস অয়েল ১০ লাখ টন, জেট-এ-১ ২ লাখ টন, ফার্নেস অয়েল ২ লাখ ৫০ হাজার টন, মোগ্যাস ১ লাখ টন এবং মেরিন ফুয়েল ৩০ হাজার টন আমদানি করা হবে।

নেপাল থেকে ৮ টাকা ১৭ পয়সায় বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান আরও জানান, নেপাল থেকে ৫ বছরের জন্য ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার। এতে প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৮ টাকা ১৭ পয়সা। ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসবে এই বিদ্যুৎ। এজন্য দিতে হবে ট্রেডিং মার্জিন ও ট্রান্সমিশন খরচ।

নেপালের জলবিদ্যুৎ ভারতীয় সঞ্চালন লাইন হয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপকেন্দ্র দিয়ে আমদানি করবে সরকার। এ বিষয়ে চুক্তি হয় নেপালের জাতীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে। নেপাল থেকে ৫ বছরে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় হবে ৬৫০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের জন্য ইউনিট প্রতি দশমিক ০৫৯ রুপি ট্রেডিং মার্জিন এবং ট্রান্সমিশন খরচ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেপাল সফরের সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেপাল থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসবে। এক্ষেত্রে ভারতের ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহার করতে হবে। ফলে তিনপক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এটার দাম পড়বে ৮ টাকা ১৭ পয়সা।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে থেকে এ দামে বিদ্যুৎ কেনা মোটেও লাভজনক নয়। সরকারকে আরও সাশ্রয়ী উৎস খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা তাদের বিদ্যুৎ কিনেছি এবং নেপালের বিদ্যুৎ আমদানি করার ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীক সুবিধাটা, যে ব্যবসা হবে আমদানি করতে গিয়ে, সেখানে ভারতে বেনিফিট দিতে গিয়ে যদি এভাবে দাম বাড়ে, সেটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এবং ন্যয্য ও যৌক্তিক হবে না সেটা।’

এদিকে, টিসিবির জন্য প্রায় ৫৩৭ কোটি টাকার সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কিনবে সরকার। এর মধ্যে ৩৩২ কোটি টাকার সয়াবিন তেল এবং ২০৫ কোটি টাকার মসুর ডাল কেনা হবে। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।


সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে ঋণ সহায়তা দেবে এডিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ঋণ সহায়তা দিয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক- এডিবি। এ জন্য সরকারের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে দাতা সংস্থাটি। এডিবি-বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ও বাংলাদেশের এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিংয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। যে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বা ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পারবে আর্থসামাজিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার জন্য। পাশাপাশি এ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছে এডিবি।

এডিবি আশা করছে, নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবলয় আরও বাড়াতে সক্ষম হবে। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ২০২১-২৬-এর দ্বিতীয় ধাপের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করার প্রত্যাশাও করছে তারা। এডিবি বলছে, এতে মানুষের অসহায়ত্ব কমার পাশাপাশি দারিদ্র্যের মাত্রাও সহনীয় পর্যায়ে রাখবে। তবে সংস্থাটি আশা করে নগদ সহায়তা কর্মসূচি যাদের পাওয়ার কথা শুধু তাদেরই দেবে সরকার। এ জন্য সত্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা চালু করার কথা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যারা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে অর্থাৎ যাদের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তাদের প্রয়োজন মেটাতে এ তহবিল কাজে আসবে বলেও জানিয়েছে এডিবি।

এ ছাড়া বিধবা ভাতার সংখ্যা বৃদ্ধি ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য কয়েক ধরনের কর্মসূচি বৃদ্ধিও এই প্রকল্পের আওতায় করা হবে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের পুনঃঅর্থায়নের আওতা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত নারী উদ্যোক্তা স্কিমের বরাদ্দ বৃদ্ধি দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং।


banner close