বিশ্বজুড়ে অস্ত্র কেনার প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘এখন কেন এই অস্ত্র প্রতিযোগিতা (চলছে), অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্য যে অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে তা ক্ষুধার্ত শিশু ও মানুষের জন্য ব্যবহার করা হবে না কেন? এই অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্য হাজার হাজার শিশু ও নারী বিশ্বজুড়ে অমানবিক জীবনযাপন করছে।’
রোববার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদানের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। খবর বাসস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আর কোনো সংঘাত চায় না, বরং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি চায়। আমরা আর কোনো অশান্তি, সংঘাত চাই না। আমরা মানুষের জীবনকে উন্নত করতে চাই এবং আমরা সর্বদা এটি কামনা করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে দেশে বিরাজমান শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ গত ১৪ বছরে বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়মী লীগ জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠন থেকে অব্যাহত শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশের কারণে বাংলাদেশ আর্থসামাজিক উন্নয়নে সক্ষম হয়েছে। সরকার ২০০৮ সালের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘এর ফলে, আমরা দারিদ্র্যের হার এবং মাতৃমৃত্যু হ্রাস করতে, শিক্ষার হার এবং মানুষের গড় আয়ু বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। দেশে বিরাজমান টেকসই ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশই বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থসামাজিক অগ্রগতির একমাত্র কারণ। একটি শান্তিপূর্ণ টেকসই পরিবেশ জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে সহায়ক এবং সবাইকে এটি মনে রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আলোচনার মাধ্যমে সব বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ যে কাজটি ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, যারা নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছিল যা তাকে ১৯৭১ সালের পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসুক, (পৃথিবীতে) কোনো ধরনের অশান্তি থাকবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছে। ‘প্রতি মুহূর্তে আমাদের তাদের (স্বাধীনতা বিরোধীদের) বাধা অতিক্রম করতে হচ্ছে।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন, সারাজীবন শান্তির বাণী প্রচার করেছেন, কিন্তু তাকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে।
‘আমাদের কী দুর্ভাগ্য, যে মানুষটি সারাজীবন শান্তির কথা বলেছেন তাকে তার জীবন দিতে হয়েছিল। আজ তিনি আর আমাদের মধ্যে নেই, তবে আমরা চাই যে তার দেশ উন্নত এবং সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে উঠুক।’
দেশে-বিদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছেন তাদের স্বীকৃতি দিতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শান্তি পুরস্কার’ প্রবর্তনেরও ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কারণ আমরা শান্তি চাই এবং আমরা অবশ্যই শান্তির পথে এগিয়ে যাব।’
‘জনগণই শক্তি, জনগণই শক্তির উৎস’- বঙ্গবন্ধুর এই উক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী এবং সেই বিশ্বাস নিয়েই আমার পথচলা।’
বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী শান্তি রক্ষায় অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করছে- উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এক নম্বর দেশ হিসেবে আমরা বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখছি। আমরা বাংলাদেশের মানুষ, সব সময় শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ শতাংশ। কিন্তু আজ সরকার তা ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে দারিদ্রের সংখ্যা ছিল ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, তা আজ ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, এ দেশে কোনো মানুষ দরিদ্র, গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না। প্রতিটি মানুষ অন্তত তাদের মৌলিক অধিকার- খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান পাবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’
বাংলাদেশের আজকের এই আর্থসামাজিক উন্নয়নকে ধারাবাহিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশের অবদান বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশের পরিবেশ বিশৃঙ্খল ছিল ও প্রতি রাতে কারফিউ দেয়া হয়েছিল। ২১ বছর পর আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা অন্তত এটা বলতে পারি যে আমরা একটি ভিত্তি তৈরি করেছি। মাঝখানে একটি অশান্ত পরিবেশ ছিল (২০০১ থেকে ২০০৮)।’
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এবং মূল বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও গবেষক মোনায়েম সরকার।
মূল বক্তব্যের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও বিশিষ্ট লেখক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু ও তার জুলিও-কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও-কুরি শান্তি পদক প্রদানের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও প্রথম দিনের কভার উন্মোচন করেন। তিনি দিবসটি উপলক্ষে একটি স্যুভেনির প্রকাশনার প্রচ্ছদও উন্মোচন করেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক জুলিও-কুরি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। বিশ্ব শান্তি পরিষদের পুরস্কারটি ছিল বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। জুলিও-কুরি শান্তি পুরস্কার ছিল বাংলাদেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি শিগগিরই ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠনের জন্য ইতোমধ্যে পত্র জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের মোট দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে যেসব কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, সুদ-আসল মিলিয়ে সেই পুরো অর্থই মওকুফ করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সুবিধার আওতায় মোট প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের ক্ষেত্রে যত সুদই হোক, সুদ-আসলসহ সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে কৃষকদের পাওনা সুদসহ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এই মওকুফের আওতায় পড়বে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে উৎপাদন কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঋণের বোঝা কমে গেলে কৃষকেরা নতুন মৌসুমে আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁদের ঋণমান উন্নত হবে, ফলে ব্যাংক থেকে ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার ঘটে যাওয়া মবের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। যেসব কর্মকর্তা মব কালচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এইচআর নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মুখপাত্র জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গভর্নর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বন্ধ কলকারখানা পুনরায় সচল করতে সক্রিয় সহায়তার কথা বলেছেন। অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী ধারায় নিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ‘মব’ তৈরি করে বের করে দেন। তাকে গাড়িতে তোলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। দুপুর ৩টার দিকে গভর্নরের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।
এদিন বিকেলে আরও একটি ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তার বদলি আদেশে ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
বইমেলা জাতীয় মেধা ও মননের প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।
তিন দফা তারিখ পরিবর্তন এবং প্রকাশকদের বিভিন্ন দাবি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন।
পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে মেলা ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য নিজেদের প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মনোনীত প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের পরিবর্তে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য নতুন প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে নবনির্বাচিত সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা হবে।
আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে এবার এশিয়া মহাদেশ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুর দিকে এই পদের জন্য বাংলাদেশ ছাড়াও প্যালেস্টাইন ও সাইপ্রাস তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল। তবে কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন করে অন্য কোনো দেশ এই দৌড়ে শামিল না হলে সভাপতি পদের জন্য সাইপ্রাসের প্রার্থীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই পদটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক পর আবারও সেই গৌরব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ঢাকা। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জুন মাসের এই নির্বাচনের দিকে এখন তাকিয়ে আছে দেশের কূটনৈতিক মহল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, শিক্ষা-গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই একটি সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নৈতিক মানসম্পন্ন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও শিল্পকলার প্রতিটি শাখায় দেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এই অগ্রযাত্রায় তিনি দেশের বিজ্ঞজনদের গঠনমূলক দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করেন।
একুশে পদকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একুশে পদক কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঘটনাবলির এক অনন্য স্বীকৃতি। শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সমাজের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ১২টি ক্ষেত্রে গুণীজনদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক অর্জন।
জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাস আমাদের আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস এবং আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম এবং অন্যদিকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক অনন্য স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তে তিনি সকল ভাষাশহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চার ধারাকে আরও বিকশিত করতে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী এ বছর একুশে পদকে ভূষিত হওয়া সকল জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গুণীজনদের সৃজনমুখর জীবনের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় উজ্জ্বল আলো ছড়াবে। গুণীজনদের কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় করিয়ে দেওয়াকে তিনি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ কামনা করেন।
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম হোসেনকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন বাগেরহাটের এই বাসিন্দা।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এর আগে গত বুধবার খান আকরাম হোসেনের আপিলের ওপর শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন আদালত। আপিল বিভাগের এই আদেশের মাধ্যমে ২০১৫ সালে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল হয়ে গেল।
মামলার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বাগেরহাটের তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছিলেন। সেই রায়ে প্রধান আসামি শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, খান মো. আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মামলার অপর আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদার বিচার চলাকালীন কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালের সেই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন খান আকরাম হোসেন। দীর্ঘ সময় পর আপিল বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুনর্বিবেচনা করে তাঁকে নির্দোষ হিসেবে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে মামলার প্রধান আসামি সিরাজ মাস্টারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশটি বহাল রয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইতিহাসে একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত রয়েছেন।
এবার দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করা হবে।
এরপর দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এ মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি মতিঝিলস্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের হাল ধরলেন। এর আগে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে আগামী চার বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে পূর্ববর্তী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার।
নিয়োগের শর্তানুযায়ী, মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পেশাগত জীবনে ৩৩ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কর্মকর্তা দেশের আর্থিক ও শিল্প খাতের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত। কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) মোস্তাকুর রহমান করপোরেট ফাইন্যান্স, রপ্তানি, অর্থনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
শিক্ষাজীবনে মো. মোস্তাকুর রহমান ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) একজন ফেলো সদস্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ পদে আসার আগে তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর্থিক খাতের গভীর জ্ঞান এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে জারি করা এই নিয়োগ আদেশ তাঁর যোগদানের তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এদিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান।
এ বছর শিল্পকলা, শিক্ষা, স্থাপত্য ও সাংবাদিকতাসহ নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, অভিনয় বিভাগে পদক পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়েছে প্রয়াত গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুকে। এছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং স্থাপত্যে বিশ্বখ্যাত স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এই গৌরবময় পদক লাভ করেছেন।
অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, নৃত্য বিভাগে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। পাশাপাশি দেশের সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘ চার দশকের যাত্রায় বিশেষ অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’কে প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে এবারের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক, সম্মাননা সনদ ও চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা গুণীজনদের প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
মেট্রোরেল স্টেশন এবং ট্রেনের ভেতরে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সব ধরনের ভিডিও ধারণ ও কনটেন্ট তৈরির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ. কে. এম. খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। মূলত যাত্রীসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে মেট্রোরেলের স্টেশন এলাকা, প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স হল, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ এবং ট্রেনের ভেতরে পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ভিডিও ধারণ বা প্রচার করা যাবে না। বিশেষ করে ইউটিউব বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য শর্ট ভিডিও তৈরি, লাইভ স্ট্রিমিং এবং ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফটোগ্রাফি ও শুটিংয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে যারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মেট্রোরেল এলাকায় শুটিং বা ফটোগ্রাফি করতে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্যিক কাজের ক্ষেত্রে ‘বাণিজ্যিক স্পেস ভাড়া/ইজারা নীতিমালা ২০২৩’ অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগেভাগেই লিখিত অনুমতি সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রোরেল প্রাঙ্গণে অপেশাদার কনটেন্ট নির্মাতাদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। কর্তৃপক্ষের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে মেট্রোরেলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন থেকে অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন দিয়ে কোনো ধরনের কনটেন্ট তৈরির সুযোগ আর থাকছে না।
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত মাস ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ পর্দা উঠছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের মেলা দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
এবারের মেলায় রেকর্ড সংখ্যক ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুচত্বরে ৬৩টি এবং লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি স্টল থাকছে। সাধারণ দিনগুলোতে মেলা দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও ছুটির দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কাউকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পাঠকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বরাবরের মতোই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীগুলো নতুন বইয়ের ওপর ২৫ শতাংশ কমিশন দেবে।
মেলার সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মূলমঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। এছাড়া এবার রমজান মাস বিবেচনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য তারাবির নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সাথে নতুন প্রকাশকদের উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদদীন স্মৃতি পুরস্কার’, যা গুণগত মান বিচারে সেরা নতুন প্রকাশনীকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মেলা শেষে চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী ও কাইয়ুম চৌধুরীসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি পুরস্কারগুলোও প্রদান করা হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, মেলায় কোনো ধরনের ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই, তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রেখেছে। বিশেষ নজরদারি রাখা হবে উসকানিমূলক বা ধর্ম অবমাননাকর বইয়ের দিকেও। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও হারানো-প্রাপ্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং মেলা প্রাঙ্গণকে পুরোপুরি পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর এবং নিরাপদ পরিবেশে পাঠকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত একুশে বইমেলা।
আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই সাহসী যোদ্ধা। তাঁর স্মরণে এবং অসামান্য বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
নূর মোহাম্মদ শেখের শৈশব কেটেছে অত্যন্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। খুব অল্প বয়সেই তিনি তাঁর বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেসাকে হারান। দারিদ্র্য ও অভিভাবকহীনতার কারণে তাঁর পড়াশোনা সপ্তম শ্রেণির বেশি এগোতে পারেনি। তবে নিজের মনোবল ও দেশপ্রেমের কারণে তিনি ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর), যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), যোগদান করেন। বাহিনীতে থাকাকালীন দীর্ঘ সময় দিনাজপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নূর মোহাম্মদ শেখ দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরবর্তী সময়ে মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক বীরত্বপূর্ণ লড়াই পরিচালনা করেন।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে এক ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন নূর মোহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা। যুদ্ধের একপর্যায়ে সঙ্গীদের জীবন বাঁচাতে এবং অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। নিজের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর এই অসামান্য ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০০৮ সালে তাঁর জন্মভূমি মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে বীরের সম্মানে ‘নূর মোহাম্মদনগর’ রাখা হয়। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ চিরকাল বাঙালি জাতির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।