জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন ব্যাংক কর্মকর্তা। সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে মামলার ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে ছয়জনের সাক্ষ্য শেষ হলো।
তারা হলেন এস এম মুসা করিম, ওবায়দুর রশীদ ও এমরান আহমেদ। তারা তিনজনই এবি ব্যাংকের কর্মকর্তা। এরপর আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামীকাল ৩০ মে দিন ধার্য করেন।
গত ১৩ এপ্রিল একই আদালত তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে তাদের বিরুদ্ধে গেজেট প্রকাশের আদেশ দেন একই আদালত।
গত বছরের ১ নভেম্বর তারেক-জোবাইদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। একই আদালত চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তাদের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।
২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় তারেক রহমান, জোবাইদা রহমান ও তারেকের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক। মামলায় ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি তারেক রহমানকে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয় জোবাইদা ও তার মায়ের বিরুদ্ধে।
দুদক এ মামলা করার পর ওই বছর তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আলাদা রিট করেন। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
এরপর আসামিরা মামলা বাতিলের আবেদন করলে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন। দীর্ঘ বিরতির পর রিট মামলাগুলো গত ১৯ এপ্রিল কার্যতালিকায় আসে।
এ মামলার বৈধতা নিয়ে আরেকটি ফৌজদারি আবেদন করেছিলেন জোবাইদা। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেসময় এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেই রুলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল মামলা বাতিলে জারি করা রুল খারিজ হয়ে যায়।
বিদেশে অর্থপাচার মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকা জরিমানা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছরের সাজা ও ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তির মামলায় তারেক রহমানের দুই বছরের সাজা হয়েছে।
২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তারের পরের বছর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে আর ফেরেননি তারেক রহমান। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার রাতে তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে বিএনপি।
তারেকের মতো জোবাইদাও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তিনি সরকারি চিকিৎসক ছিলেন। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় চাকরি থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।
গুম শুধু ভুক্তভোগীকে নয়, পুরো সমাজকেই শাস্তি দেয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ গুম হলে তার পরিবার প্রতিদিন বিচারহীনতার কারাগারে বন্দী থাকে। বুধবার আওয়ামী লীগের শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর আগে সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চিফ প্রসিকিউটর সূচনা বক্তব্যে বলেন, আমরা গুমের যে মামলার বিচার শুরু করছি, সেগুলো কেবল কিছু ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ছিল না। এগুলো ছিল নির্মম আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় শাসনপদ্ধতির কৌশলের সাক্ষ্য। যে কৌশল স্রেফ গোপনে হত্যা করে লাশ গোপনই করেনি, বরং বিরোধী মতের হাজার হাজার মানুষকে জ্যান্ত লাশ বানিয়ে অক্ষম করে রেখেছিল।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নীরব ও আলো-বাতাসহীন অন্ধকার কুঠরিতে হাত-পা বেঁধে মাসের পর মাস বিনা বিচারে বন্দীদের আটকে রাখার এই কৌশল, সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছিল। এই ক্ষত কেবল রাজনৈতিক জনপরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ বিদ্যমান ছিল, সেই বাহিনীগুলোর কাঠামোর মধ্যেও গভীরভাবে প্রবেশ করেছিল।
তিনি বলেন, বিরোধী চিন্তার মানুষদের গুম করে তিলে তিলে অক্ষম করে দেয়ার মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকল্পের যে উগ্র বাসনা বাস্তবায়িত হয়েছে, তার পথে দেশের প্রধান কয়েকটি নিরাপত্তা বাহিনীর একদল সদস্য মার্সেনারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, এর ফলে খোদ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যেই যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা নজিরবিহীন।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ হিসেবে মানুষের যে ন্যূনতম মর্যাদা থাকে, বলপূর্বক গুম সেই মর্যাদাকে সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ করে দেয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক আইনে বলপূর্বক গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, কারণ এটি একযোগে বহু অধিকার ধ্বংস করে।’
তিনি বলেন, হাসিনার রাষ্ট্রকল্পে গুমের কৌশল মানুষকে কেবল দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়নি, অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ঠুর নির্যাতনের মাধ্যমে দেহকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা চিরতরে অক্ষম করে দিয়েছে। এখানে মৃত্যু ঘটানো হয় না প্রকাশ্যে, বরং মানুষকে ঝুলিয়ে রাখা হয় জীবিত ও মৃতের মাঝখানে। পরিবার জানে না সে বেঁচে আছে কি-না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, রোজার আগেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট সমাধান হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, রোজার আগেই এলপিজি সংকট কাটাতে ইরানের বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানি করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) আমদানি অব্যাহত রাখবে। আশা করি রোজার আগেই সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।
বাজারে এলেই এলপিজি সরবরাহ সংকট রয়েছে দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা এটার সুযোগ নিয়েই এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। বাজারে সরকার মনিটরিং করছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা আরও বলেন, এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাকে পৌঁছে দিতে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। বাজারে সরবরাহ সংকট হলে এলপিজির দাম বাড়বেই। এটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এলপিজির নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় সংকটের বিষয়টি সরকার আগাম আঁচ করতে পারেনি।
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ১৮৩ দিন পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল সর্বশেষ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২)। স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে সে। বুধবার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন।
ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনায় আবিদের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সেদিনই তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। জীবন-মরণের সমস্যা ছিল আবিদের। তবে চিকিৎসকরা হাল ছাড়েননি। হাল ছাড়েনি আবিদ ও তার পরিবার। সর্বমোট ৫ দিন আইসিইউতে ভর্তি ছিল সে। এরপর ৬ দিন হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। এরপর বাকি দিনগুলো কেবিনে থাকার পর আজ সুস্থ হয়েছে। আজ সে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছে।’
তিনি বলেন, ‘আবিদের মোট ৩৫ বার ছোট-বড় অপারেশন হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে চামড়া প্রতিস্থাপন হয়েছে ১০ বার এবং তার দুই হাতের অকার্যকর টিস্যু ২৩ বার অপসারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত ছিল সে। সেজন্য ক্ষতস্থান শুকাচ্ছিল না। আবিদের মুখমণ্ডল দগ্ধ হয় বেশী। ৪৮ বার অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয়েছে এবং ২৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে।’
ডা. মারুফুল আরও বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে সে বাসায় যাওয়ার উপযোগী হয়েছে। আবিদের বাবা-মা যথেষ্ট ধৈর্যধারণ করেছেন। তার ফিজিওথেরাপি দরকার। যেটা সে হাসপাতালে এসে দিতে পারবে অথবা বাসায় গিয়েও দেওয়া যেতে পারে।’
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আবিদুর রহিমের শরীরের কম অংশ দগ্ধ হলেও আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। তার সেফটিসেমিয়া হয়েছিল। যে কারণে ৬ মাস লেগেছে। আমরা যে ৩৬ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি, তার মধ্যে সর্বশেষ রোগী হিসেবে আবিদুর রহিম সুস্থ হয়ে বাসায় যাচ্ছে। এটা আমাদের সবার জন্য আনন্দের বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের ডাকে সারা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে চিকিৎসকরা এসেছিলেন। তারা যে পরামর্শ দিয়েছেন, আমরা আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে একসঙ্গে বসে এমন কিছু ওষুধ ও ড্রেসিং মেটেরিয়ালস ব্যবহার করতে পেরেছি, যা এর আগে বার্ন ইনস্টিটিউটে ব্যবহার হয়নি। ভবিষ্যতে যাতে সব রোগীকে উন্নতমানের চিকিৎসা ও মেটেরিয়ালস দিতে পারি, সেজন্য সবাই বসে সরকারের কাছে আবেদনও করেছি। যেন মাইলস্টোনের রোগীদের মত সাধারণ রোগীদেরও এমন চিকিৎসা দিতে পারি।’
এসময় আবিদুর রহিমের কাছে তার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সে শুধু বলে, ‘আমি যখন হাসপাতালে এসেছি কোনো ভয় পাইনি।’ এরপর কান্না শুরু করে দেয়। আর কথা বলতে পারেনি। তবে ধরা কণ্ঠে বলে, ‘যুদ্ধ জয় করেছি’।
আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ছেলে ও এই ঘটনায় হতাহতদের জন্য দোয়া চান।
বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই পরিমাণটা কম হয়েছে।’ বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। মুহূর্তেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এসময় আগুনে পুড়ে ও চাপা পড়ে প্রাণ হারান স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের নারী-পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল সাধারণ জনগণ যাতে স্বেচ্ছায় ও সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। গতকাল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে তাদের এ দাবি জানিয়েছে। সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের ভোটের প্রচার।
দেশের ৭১টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি বলেছে, ‘আমরা সকলেই চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের সরকার গঠিত হোক; যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতামতের প্রতিফলন ঘটে। শুধু রাজনৈতিক দলের জন্য নয় নারী, আদিবাসী, দরিদ্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ এবং ভীতি-সন্ত্রাস-নির্যাতনমুক্ত এবং জেন্ডার সংবেদনশীল পরিবেশ চাই।’
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, নারীর মানবাধিকার অর্জন ও রক্ষার লক্ষ্যে বহুমুখী প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা সংগঠনটি বলেছে, ‘আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি সমতাভিত্তিক, জনপ্রতিনিধিত্বশীল, জবাবদিহিমূলক স্থায়ী কার্যকরী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠুক।’
নির্বাচন কমিশনে তাদের তরফে যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো হল- দেশের সব প্রান্তের সব নাগরিক যাতে নির্বিঘ্নে, স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নারীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক নারী-পুরুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের প্রতি হয়রানি, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংস আচরণ প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। নির্বাচনী ব্যায় সংকোচ করে ন্যূনতম নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। স্বতন্ত্র নারী প্রর্থীসহ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে দিকে দৃষ্টি রেখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুবিধাজনক স্থানে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য নিরপেক্ষভাবে সকল ধরণের সহায়তা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় সখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষদের হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন যে সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের প্রাণ এবং একটি জাতি কতটা উন্নত তা সেই দেশের সংস্কৃতি থেকেই বোঝা যায় যেখানে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে সুন্দরের দিকে নিয়ে যায় আর অপসংস্কৃতি মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়ে জাতীয় মূল্যবোধকে গলাটিপে হত্যা করে।
গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম বাংলাদেশি শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং তার সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম এ দেশের গণমানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ফোরাম (বিসিএফ) আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন যে, জিয়াউর রহমানের কীর্তি বাস্তবিকই বিপুল ও বিশাল কারণ তিনি ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসে মানবিক আদর্শ দিয়ে মানুষের মন জয় করেছিলেন এবং দেশে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে শিল্প-সংস্কৃতির পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দেওয়া জাতীয় পুরস্কার নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই কারণ তিনি প্রকৃত গুণীজনদেরই যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতেন।’
কাদের গনি চৌধুরী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জিয়াউর রহমান একটি আগ্রাসনমুক্ত সাংস্কৃতিক উত্থান চেয়েছিলেন; কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার শিল্পী-সাহিত্যিকরা দীর্ঘদিন অবহেলিত হয়েছেন। তিনি তারেক রহমানের হাত ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গন দুর্ভিক্ষমুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং বিসিএফের সভাপতি মো. এরশাদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, এরফানুল হক নাহিদ, কামরুল হাসান দর্পণ ও জাকির হোসেন রোকনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, “যেসব ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, ৭ দিনের মধ্যে সেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বা বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” মূলত পবিত্র রমজান মাস, আসন্ন নির্বাচন এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের প্রায় ৩২৫টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় নির্বাচন কমিশন থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতেই এই জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ৩২৫টি বিদ্যুৎহীন ভোটকেন্দ্রের একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সবুর হোসেন জানান, দেশের ৪টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন এলাকাগুলোতে এই কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সংযোগ প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, যেসব দুর্গম এলাকায় সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে নির্বাচনের আগেই বিকল্প পন্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলোহাব সাইদানী বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া এলাকায় অবস্থিত গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট লিমিটেডের তিনটি পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি গোল্ডেন জুট প্রোডাক্ট লিমিটেড, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফ্টস লিমিটেড এবং গোল্ডেন প্লাস ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলজেরিয়ান অ্যাম্বাসেডর একেএম সাঈদাদ হোসাইন, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারিফ উল হাসান এবং গোল্ডেন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হাকিম আলী সরদারসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কারখানা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই ফ্যাক্টরি থেকে পাট, হোগলাপাতা, কচুরিপানা, খড় ও ছন দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প আলজেরিয়াতে রপ্তানি এবং আলজেরিয়া থেকে অলিভ অয়েল, খেজুর ও জুস আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। আলোচনায় দুই দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নানামুখী দিক উঠে আসে, যা ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি আলজেরিয়াতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ারে এই কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যসমূহ প্রদর্শনের জন্য বিশেষ প্রস্তাবনা পেশ করেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে মো. হাকিম আলী সরদারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশ নদী ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষ। এখানকার উৎপাদিত নার্সারি পট, ফ্লোর ম্যাট, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ ও গৃহস্থালি পণ্য বর্তমানে বিশ্বের ২৬টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির একটি বড় বিশেষত্ব হলো এর মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী এবং এখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার করে বিশ্বমানের পণ্য তৈরি করায় রাজবাড়ীর এই কারখানাটি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে নিয়েছে।
দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও আটটি জেলায় একযোগে ‘ই-বেইলবন্ড’ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ডিজিটাল সেবার যাত্রা শুরু হয়। নতুন করে এই সুবিধার আওতায় আসা জেলাগুলো হলো— মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর। এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবাটি চালু করে আশাব্যঞ্জক সাফল্য পাওয়ার পর তা দেশব্যাপী সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগার থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া কয়েক দিনের পরিবর্তে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আগে জামিন পেতে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হতো, এতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হতো এবং ভোগান্তি বাড়ত। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত সময় লাগত। অনলাইনে এ প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় কে, কখন স্বাক্ষর করলেন—তার পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সুযোগ থাকবে না।” এই ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা এই প্রযুক্তিনির্ভর সেবাটির স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ জেলায় সফলভাবে চালুর পর আরও ৮টি জেলায় এ সেবা চালু হওয়ায় এখন এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের হাতে আরও কিছু সময় রয়েছে, এ সময়ের মধ্যেই আমরা আরও কয়েকটি জেলায় এ সেবা চালু করার চেষ্টা করব।” পুরো দেশ এই সেবার আওতায় আসার সময়সীমা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করছি আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দেশের সব ৬৪টি জেলায় ই–বেইলবন্ড চালু হবে।” এমনকি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ক্ষেত্রেও এই জনকল্যাণমূলক সেবাটি সচল থাকার বিষয়ে দৃঢ়তা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি একটি অত্যাবশ্যক সেবা। পরবর্তী যে সরকারই আসুক, তারা এ ব্যবস্থায় বাধা দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।”
ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, কারা মহাপরিদর্শকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আট জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, পুলিশ এবং কারা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। ডিজিটাল এই রূপান্তর বিচারপ্রার্থী জনতা, আইনজীবী এবং কারা প্রশাসনের মধ্যকার কাজের গতি বাড়িয়ে সময় ও ব্যয়ের সাশ্রয় ঘটাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে দেশে টাকার ঘাটতি রয়েছে এবং এই বাস্তবতায় একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এক লোক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কিছু খারাপ ব্যাংককে টিকিয়ে রাখতে টাকা ছাপাতে হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ধাপে ধাপে সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীতে প্রথমে সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে এবং পরবর্তীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।
গভর্নর ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে খেলাপি ঋণ ও লভ্যাংশ ঘোষণার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন বা কাভারেজ নেই, তারা কোনোভাবেই লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। দুর্বল ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশে এবং পরবর্তী বছরের মার্চের মধ্যে তা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে ড. মনসুর তার ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার অনুযায়ী দেশে ১৫টির বেশি ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সংখ্যা কমিয়ে মাত্র দুটিতে নামিয়ে আনার এবং বাকিগুলোকে একীভূত বা মার্জ করার ইঙ্গিত দেন তিনি। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সংকটের সময় যেন সরকারের কাছে হাত পাততে না হয়, সেজন্য ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি রেজুলেশন ফার্ম ও স্বতন্ত্র তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে গভর্নর বলেন, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং সুশাসনের অভাবে এই খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে, যার বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ব্যাংকিং খাতে আর কোনোভাবেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের প্রভাব বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে স্বাধীনভাবে কাজ করলেও আইনিভাবে পুরোপুরি স্বাধীন নয়। ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি রোধে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার ওপর জোর দেন গভর্নর। তার মতে, নগদ লেনদেন কমানো গেলে বছরে রাজস্ব আদায় দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
হারিয়ে যাওয়া শখের মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার আশা যারা ছেড়ে দিয়েছিলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে রাজধানীর পল্টন মডেল থানা-পুলিশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উদ্ধার করা ১০৫টি মোবাইল ফোন বুধবার (২১ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দুপুরের দিকে গণমাধ্যমকে এই সফলতার তথ্য নিশ্চিত করেন।
পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন হারানোর পর মালিকদের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এই ১০৫টি ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী ও পল্টন মডেল থানার এএসআই ইকবাল হোসেন অত্যন্ত সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন।
উদ্ধারকৃত এসব মোবাইল হস্তান্তরের জন্য গত মঙ্গলবার পল্টন মডেল থানার সম্মেলন কক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মালিকদের হাতে ফোনগুলো বুঝিয়ে দেন মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবীসহ থানার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গত এক বছরে পল্টন মডেল থানা-পুলিশ প্রায় ৬০০টিরও বেশি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জনস্বার্থে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। দ্রুততম সময়ে নিজেদের প্রিয় ফোনটি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত মালিকরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের বিচার বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ কূটনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
মার্কিন দূতাবাসের এক বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সম্মানিত বোধ করছেন। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে তারা বিশদ মতবিনিময় করেন। বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও আইনের শাসন সুসংহত করার বিষয়েও আলোচনায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সাম্প্রতিক সময়েই বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলেন, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও গুরুত্বকে নির্দেশ করে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে এবার ভোট গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয়াবলি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দুটি ভিন্ন ব্যালট ও প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলায় ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে হবে।
নির্বাচনের দিন তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে ভোটের দিন উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। প্রেস সচিব জানান, পুলিশের কাছে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি সুরক্ষা অ্যাপ-এ যুক্ত থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে এসব ফুটেজ দেখে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা বা কুইক রেসপন্স নিশ্চিত করা হবে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, ভোটের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে সমন্বয় করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন। নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন এক লাখ সেনা সদস্য, পাঁচ হাজার নৌবাহিনী সদস্য এবং সাড়ে তিন হাজার বিমান বাহিনীর সদস্য। অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া আকাশপথে নজরদারির জন্য ৫০০টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। নির্বাচনী সুরক্ষা নামক একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর তাগিদ দিয়েছেন। প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, পাবনা-১ ও ২ আসন নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেশের ৩০০টি আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার নির্বাচনে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোর্টিফাই রাইটস’ ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আটকে রাখার নীতি অবিলম্বে বাতিল এবং এই প্রকল্পটিকে পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায় যে, এই দ্বীপটি বর্তমানে রোহিঙ্গাদের কাছে কার্যত একটি কারাগারে পরিণত হয়েছে।
তাদের মতে, “ভাসানচরে সীমাবদ্ধ করে রাখা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর গুরুতর বিধিনিষেধের মুখে রয়েছেন, যা কার্যত নির্বিচার আটক হিসেবে গণ্য হয় এবং এটি বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।”
সংবাদ সম্মেলনে গত পাঁচ বছর ধরে ১০২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি ৩৬ পৃষ্ঠার একটি বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি বলেন, “বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ভাসানচরের শরণার্থীশিবির বন্ধ করা এবং দ্বীপে ও মূল ভূখণ্ডে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর আরোপিত ব্যাপক ও নির্বিচার আটক প্রথার অবসান ঘটানো, একই সঙ্গে তাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “ভাসানচর কখনোই শরণার্থীদের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত ছিল না। শরণার্থী হওয়া কোনো অপরাধ নয়, অথচ মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের এমনভাবে আচরণ করা হয়েছে যেন তা অপরাধ। বাস্তবে এই দ্বীপটি কার্যত একটি দণ্ড উপনিবেশের মতো পরিচালিত হচ্ছে, যা আইনসম্মত নয় এবং মানবিকতার পরিপন্থী।”
সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রোহিঙ্গাদের অনেককে সেখানে নিতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। দ্বীপে পৌঁছানোর পর তারা কাঁটাতারের বেড়া ও সিসিটিভি ক্যামেরার কঠোর নজরদারির মধ্যে বন্দি জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। মংডু থেকে আসা ২৯ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা পুরুষের জবানবন্দি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেন, “এখানকার পরিবেশ কারাগারের মতো। আমরা এখানে একেবারেই থাকতে চাই না, বছরের পর বছর থাকার কথা তো আরও ভিন্ন বিষয়। নৌবাহিনীর পাহারা এবং কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের কারণে মানুষ সহজে যেতে পারে না। যদি কোনো পাহারা বা নিয়ন্ত্রণ না থাকতো, এখানে একজন মানুষও থাকতো না। সবাই এই জায়গা ছেড়ে চলে যেতো।” ফোর্টিফাই রাইটস বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে এই ব্যর্থ প্রকল্পটি বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।