মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ‘কঠিন’ হয়ে পড়ছে: প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড
২৯ মে, ২০২৩ ১৯:৩৩
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৯ মে, ২০২৩ ১৯:২৬

জ্বালানি ঘাটতি ‘বড় সমস্যা’ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি ঘাটতি পূরণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সোমবার বিকেলে জ্বালানি সাংবাদিকদের সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সংগঠন বিপ্পা আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কয়লা এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ধাক্কা এখন আমরা টের পাচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া। সেই কাজ আমরা সফল ভাবে করতে পেরেছি। আমাদের কেন্দ্র এবং সঞ্চালন লাইনের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে গেছে জ্বালানি ঘাটতি।’

এক সপ্তাহ আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ডলার সংকটের কারণে সময়মতো জ্বালানি তেলের দাম পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আমদানি বাবদ ৩০ কোটি ডলারের বেশি বিল বকেয়া হয়েছে।

দ্রুত বকেয়া পরিশোধ কররতে না পারলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে বলেও বিপিসির শঙ্কা। এরইমধ্যে কিছু কোম্পানি আগের পরিকল্পনার চেয়ে সরবরাহ কমিয়েও দিয়েছে।

বিপিসি প্রতি মাসে ৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং ১০ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করে থাকে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৬৭ লাখ টন জ্বালানির প্রয়োজন হয়েছিল। এই চাহিদা প্রতিবছরই ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে। গত বছরের অক্টোবরে এক বৈঠকে ২০২৩ সালের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৫৪ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাবে সায় দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বাংলাদেশের জ্বালানি তেল সরবরাহকারীদের মধ্যে আছে চীনের ইউনিপেক, পেট্রোচায়না, সিঙ্গাপুরের ভিটল, দুবাইয়ের ইনওসি, ভারতের ইন্ডিয়ান ওয়েল করপোরেশন এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক মানদণ্ডে দ্রুত গতিতে এগোলেও ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে, বাড়ছে চলতি হিসাবের ঘাটতি।

কয়লা সংকটে আগামী ২ জুন বন্ধ হয়ে যাবে দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রার দ্বিতীয় ইউনিট। কয়লাসংকটে এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট গত ২৫ মে বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে, বাজেটের পর জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ইঙ্গিতও দেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন জ্বালানির ওপর ভিন্ন ভিন্ন আমদানি শুল্ক ধরা আছে। আগামী বাজেটে জ্বালানি তেলে একটি অভিন্ন শুল্ক করার প্রস্তাব দিয়েছি। এটি পাশ হলে বাজেটের পর জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকার বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। বাজেটকে সামনে রেখে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কর সমন্বয়ের প্রস্তব দেয়া হয়েছে।

জ্বালানি অনুসন্ধানে জন্য অর্থ পাওয়ার সমস্যা কথা তুলে ধরে নসরুল হামিদ বলেন, দেশীয় গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধানের ওপর আমরা জোর দিচ্ছি। করোনার কারণে বড় বাধা এসেছে এই খাতে, তেমন কাজ করা যায়নি। এ ছাড়া তেল গ্যাস অনুসন্ধানের বড় বাধা বিনিয়োগ। প্রতিটি কূপ খননে ৯০ থেকে ২১০ কোটি টাকা খরচ হয়। এই অর্থ পাওয়া কঠিন। আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধান উন্নয়ন দলের ঘাটতি রয়েছে। এজন্য ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাতে হয়। আমরা চেষ্টা করছি আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে।

ভোলার গ্যাস পাইপ লাইনে আনার প্রতিবন্ধকতা বিনিয়োগ উল্লেখ করে নসরুল হামিদ বলেন, ভোলার গ্যাসে সম্ভাবনা থাকলেও সেখান থেকে পাইপ লাইন করতে ৯ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এটি একটি বড় বিনিয়োগ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সব চাইতে বড় চ্যালেঞ্জ জমির সংস্থান করা। আমরা এখন দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছি। এজন্য ছয় হাজার একর জমি প্রয়োজন। এত জমির সংস্থান করা যাচ্ছে না। এরপরও সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সব চাইতে বেশি জোর দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন, বিপ্পার প্রেসিডেন্ট ফয়সাল খান, এফইআরবির প্রেসিডেন্ট শামীম জাহাঙ্গীর বক্তব্য রাখেন।


ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামিকে গ্রেফতারে পরোয়ানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে তোফাজ্জল নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। এদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।

এদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে আটক রয়েছেন। অপর ২২ আসামি পলাতক।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এ অভিযোগপত্রে নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে তিনি নারাজি জমা দেননি। এজন্য আদালত আজ মামলার ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। পলাতক থাকায় ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় একজন যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগ করে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ান। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

মামলাটি তদন্ত করে ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দাখিল করা হয়। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাত জনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


এক মাসের কম সময়ে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা এলাকায় ১৫ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমার সরকার পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে যে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে, তাদের সবার কাছে আগামী ৫ বছরে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হবো।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ১৭টি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে কার্ডের রেপ্লিকা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চাই। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই। তারই অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব। জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো আগামী মাসে কৃষক ভাইদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো। আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব। আমাদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত খুশি ও আবেগের দিন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত সপ্তাহে কৃষকদের সুদসহ কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের প্রতিনিধিমূলক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সরকার জনগণ নির্বাচিত করেছে, কাজেই স্বাভাবিকভাবে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এ জন্য প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে ১৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার: সিপিডির উদ্বেগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সই হওয়া বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির প্রভাবে চলতি অর্থবছরেই সরকার আমদানিশুল্ক বাবদ প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সুপারিশমালা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সংস্থাটি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে। সিপিডি মনে করে, এই চুক্তির ফলে কেবল সরাসরি রাজস্ব ক্ষতিই নয়, বরং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর নতুন কিছু আইনি ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ৪ হাজার ৫০০টি পণ্যকে বর্তমানে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হচ্ছে এবং আগামী ১০ বছরের মধ্যে আরও ২ হাজার ২১০টি পণ্যে এই সুবিধা প্রদান করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এই একতরফা সুবিধা প্রদান বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফলে ডব্লিউটিও’র নীতি অনুযায়ী সদস্য অন্যান্য দেশকেও যদি একই সুবিধা দিতে হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা থাকায় সরকারের খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাণিজ্যিক এই ইস্যুর বাইরে দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর একটি বিশদ চিত্র তুলে ধরেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন এখন ইতিহাসের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ২০.৩ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় ব্যাপক হারে পিছিয়ে রয়েছে। যেখানে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৩৪.৫ শতাংশ, সেখানে জানুয়ারি পর্যন্ত অর্জন মাত্র ১২.৯ শতাংশ। এর ফলে বর্তমান অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ইতিমধেই ৬০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজস্ব আহরণ কম হওয়ায় সরকারকে বাধ্য হয়ে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ব্যাংক থেকে এই বিশাল অংকের সরকারি ঋণের ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমে যাচ্ছে এবং সার্বিক আর্থিক খাতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

দেশের বহিঃস্থ বাণিজ্যের ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিপিডি। অর্থবছরের এই সময়ে এসে রপ্তানি আয় ৩.২ শতাংশ হ্রাস পেলেও আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩.৯ শতাংশ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব। বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসায় যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বাড়লে বর্তমানে ৮ শতাংশের ওপর থাকা মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের ওপর প্রভাব তৈরি হওয়া বা কারো কাছ থেকে কিনতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে এখন বাংলাদেশের সামনে এই চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন করার বড় একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রনয়নে সরকারকে ‘উচ্চাভিলাষী প্রবণতা’ পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশ করার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তা বর্তমানে ৬.৮ শতাংশে অবস্থান করছে। এই বিশাল ব্যবধান দূর করতে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করছে সিপিডি। একইসঙ্গে অপচয়মূলক ও অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দিতে আহ্বান জানিয়েছে এই গবেষণা সংস্থাটি।


ঘুষের অভিযোগ বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘুষের অভিযোগ বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে অবশ্যই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমাদের ইমেজ সংকট হয়। তবে আমি আগেই বলেছিলাম যে আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুর্নীতির অভিযোগ এলে বরদাশত করা হবে না। বৈঠক করে প্রত্যেক প্রসিকিউটরকে আমি একই কথা বলেছি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কাজ করতে হলে নির্লোভ হতে হবে। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে সবাইকে। এমন না হতে পারলে এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। যে কেউই চলে যেতে পারবেন।

প্রসিকিউটরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সংবাদ দেখেছি। এটা গুরুতর অভিযোগ। এমন কিছু আমাদের কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠার কথা ছিল না। যখন উঠেছে তাৎক্ষণিকভাবে এটার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আমরা এটা প্রশ্রয় কেন দিয়েছি জানি না। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। এলে আমরা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবো।


রাইড শেয়ারিং চালকদের বিশেষ সুবিধা: দৈনিক ৫ লিটার তেল সরবরাহের ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের রেশনিং বা সীমিত সরবরাহের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর রাইড শেয়ারিং চালকদের জন্য বিশেষ এক সুবিধার কথা জানিয়েছে সরকার। এখন থেকে এই পেশার সাথে যুক্ত মোটরসাইকেল চালকরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারবেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে। মূলত কর্মসংস্থান ও জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যেই বিপিসি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজমান জ্বালানি সংকট নিয়ে ভীতি ও আতঙ্ক হ্রাসের সব ধরণের চেষ্টা করছে সরকার। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির পূর্বনির্ধারিত সূচি বজায় রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত বিরতিতে তেলের পার্সেল দেশে পৌঁছাচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্থাপনা থেকে রেল ওয়াগন বা ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ডিপোতে নিয়মিত তেল পাঠানো হচ্ছে যাতে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় শূন্যতা তৈরি না হয়। বর্তমানের চ্যালেঞ্জিং সময়ে চাহিদাও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে রাইড শেয়ারিংয়ের নামে যাতে তেলের অপব্যবহার না হয়, সেজন্য বিপিসি বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চালককে অবশ্যই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় তাঁর স্মার্টফোনে রাইড শেয়ারিং অ্যাপটি সচল দেখাতে হবে। তেল গ্রহণের পরপরই অ্যাপে তেলের ধরণ, পরিমাণ ও মূল্যের ডিজিটাল রশিদ আপডেট করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া পরবর্তীবার তেল নিতে হলে পূর্বের জ্বালানি ক্রয়ের মূল রশিদের কপি পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মীরা মোটরবাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের তথ্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরই তেল সরবরাহ করবেন।

বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যাতে ফায়দা নিতে না পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিপিসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত দেশে তেলের খুচরা মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তাই পূর্বনির্ধারিত দামেই কেনাবেচা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়কে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়মিত বাজার তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংকটের এই মুহূর্তে ভোক্তা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকেই সহমর্মিতা এবং ধৈর্য প্রদর্শন করে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বিপিসি।


ঠাকুরগাঁওয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন, কার্ড পেলেন ৫৯০ নারী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। আজ মঙ্গলবার সকালে রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৫৯০ জন নারীর হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেন। এর মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের এই প্রান্তিক জনপদের হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা সরকারি সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় আসলেন।

এই কর্মসূচিটি সরকারের একটি বিশাল সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া বিশেষ পাইলট প্রকল্পের অংশ। বর্তমানে সারা দেশের নির্দিষ্ট ১৪টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড বিতরণের কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁওয়ের রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের অভাবী পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রীর পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম এবং জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তারা মূলত দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগকে যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন।

সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিখুঁত পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রথমে একটি বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক জরিপ চালানো হয়, যেখানে ১ হাজার ৩৫ জন নারীর নাম উঠে এসেছিল। পরবর্তীতে তথ্য যাচাই ও আইডির জটিলতা কাটিয়ে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সরকারি সার্ভারে আপলোড করা হয়। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচকের ভিত্তিতে সবচেয়ে যোগ্য ৫৯০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ নির্মোহ ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই তালিকা করা হয়েছে যাতে কোনো দুস্থ ব্যক্তি বাদ না পড়েন।

কার্ড বিতরণ শেষে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভাতার কার্ডটি হাতে পাওয়ার পর রহিমানপুর গ্রামের ৫০ বছর বয়সী মারজিনা বেগমের চোখে ছিল খুশির অশ্রু। তাঁর স্বামী স্থায়ী কোনো কাজ না করায় এত দিন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটত। তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে জানান যে, এখন থেকে চাল-ডাল কেনার খরচ অন্তত সরকার জোগাবে, এটি তাঁর জন্য বিশাল বড় একটি পাওয়া। বর্গাচাষী রাজিয়া সুলতানাও একই ভাবে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনার পেছনে এই সরকারি অর্থ ব্যয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। প্রান্তিক নারীদের এই হাসি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জনবান্ধব কর্মসূচির পথে একটি শক্তিশালী সফলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।


ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সূচনা করেন।

এই কর্মসূচির আওতায় দেশের নির্দিষ্ট জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পাওয়া পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। ডাবল ডিপিং বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ, সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রকল্পের আওতায় কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই উদ্যোগটি নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তৃতায় নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।

কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে যে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।


ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত জাতীয় সংসদ ভবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় ঘটা নজিরবিহীন হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষত কাটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিকে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় তিনশ কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগ এবং সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের নিরলস পরিশ্রমে ভবনটির হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে সংসদ ভবন অধিবেশন বসার জন্য সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কয়েক হাজার মানুষের সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ার ঘটনায় ৯ তলাবিশিষ্ট এই ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষ তছনছ করা হয়েছিল। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও হুইপদের কক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব অফিস এবং সংসদ লাইব্রেরি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লুটপাটের পাশাপাশি লাইব্রেরির হাজার হাজার বই আগুনে পুড়িয়ে দেয়। নথিপত্র অনুযায়ী, ওই দিন ব্যক্তিগত ও দাফতরিক মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ নগদ টাকা খোয়া গিয়েছিল। সেই ভয়াবহতা কাটিয়ে সংসদের সচল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এ পর্যন্ত মোট ২৯৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।

মেরামত কাজের আর্থিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় অংকের খরচ হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি সংস্কারে। শুধুমাত্র এসি ও স্ট্যান্ড ফ্যান মেরামত এবং পরিবর্তনের জন্য প্রায় ২১৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্লকের বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং, মেইন সার্ভিস লাইন ও লাইট প্রতিস্থাপনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ১, ৬, ৭ ও ১২ নম্বর গেটে স্ক্যানার, আর্চওয়ে ও আধুনিক সিকিউরিটি ডিভাইস স্থাপনে ৬ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এমনকি সংসদ এলাকার মাঠ, লেক ও সি-রোডের আলোকসজ্জার পেছনেও কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করেছে গণপূর্ত বিভাগ।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার নিশ্চিত করেছেন যে, নিজস্ব বাজেট ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজগুলো শেষ করা হয়েছে। অধিবেশন কক্ষ থেকে শুরু করে সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন ও কক্ষগুলো এখন পূর্ণ সচল। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের সময়ও নতুন সংসদ সদস্যরা ভবনের ভেতর পুনরায় সংস্কারের ছোঁয়া লক্ষ্য করেছেন। আজকালের মধ্যে ছোটখাটো কিছু ধোয়া-মোছার কাজ শেষ হলে পুরো কমপ্লেক্সটি সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকবে। প্রায় দেড় বছরের ব্যবধানে সংসদ ভবন আবারও গণতন্ত্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজের রূপ ফিরে পেল।


জাকাত ব্যবস্থাপনা ‘সুশৃঙ্খল এবং কার্যকর’ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাকাত ব্যবস্থাপনা ‘সুশৃঙ্খলা এবং কার্যকর’ করতে ধর্মমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ছিলেন। কীভাবে জাকাতের অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টন করা যায়, জাকাতের মাধ্যমে কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করা যায়, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়গুলোতে অবহিত হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন।’

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পরে আহমাদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাকাতের অর্থে স্কিল ডেভেলপ করে বা স্বাবলম্বী করে স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচনের পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কিছু অভিজ্ঞতা আছে। সেই জায়গা থেকে আমরা কিছু পরামর্শ, কিছু মত দেওয়ার চেষ্টা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা জানেন, আস সুন্না ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা জাকাত নিয়ে কাজ করি গত ৬-৭ বছর । শুধু গত এক বছরের হিসেব অনুযায়ী আমাদের মাত্র ১৩ কোটি টাকা খরচ করে আমরা ২১০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে পৃথকভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন সেই এক সময়ের বেকার তরুণরা গত এক বছরে ৪২ কোটি টাকা কামাই (আয়) করেছে। তার মানে প্রতিবছর এটা আস্তে আস্তে বাড়বে বৈই কমবে না।’

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে একটা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেখানে আমাকেও থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমি উনাকে বিনয়ের সাথে যদিও বলেছি যে, এখানে বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব আছেন, আরও অনেকে আছেন তারপরেও তার একান্ত অনুরোধে ইনশাল্লাহ আমি হয়ত থাকার চেষ্টা করব।

আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, কেবল ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে মানুষ বছরে ছয়শ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা জাকাত দেয়।

প্রধানমন্ত্রী এদিন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহাদ আসিফ আসাদকে নিয়ে বৈঠক করেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতি মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রণালয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিমানের সার্ভিস উন্নত করা, যাত্রী সেবা বাড়ানো, বিমান বন্দরে যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসন করা প্রভৃতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সাড়ে ৩৭ হাজার নারী-প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারী-প্রধান পরিবারকে ভাতার আওতায় আনার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এসব পরিবার মার্চ মাসের ভাতা ঈদের আগেই হাতে পাবে।

সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, কড়াইল বস্তিসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা বড় পরিবারে সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, যেসব নারী পরিবারপ্রধান এই কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তারা যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য ভাতা বা সহায়তা চালু থাকবে।

পাইলট পর্যায়ে এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে একই মূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি উপকারভোগীদের নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৬ শতাংশ। বাকি ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, কার্ড প্রস্তুতসহ কর্মসূচির বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত কাজে ব্যয় করা হবে।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ডিজেল নিয়ে এল প্রথম ট্যাংকার, আসবে আরও চারটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ১০ দিনের মাথায় সোমবার (৯ মার্চ) ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে একটি ট্যাংকার। এক সপ্তাহের মধ্যে আসবে আরও চারটি। এসব ট্যাংকারে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন ডিজেল রয়েছে। এশিয়ার দেশগুলো থেকে এসব পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।

এমন সময়ে বন্দরে ডিজেলের চালান আসার খবর পাওয়া গেছে, যখন আতঙ্কে কেনাকাটার কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মজুত ঠিক রাখতে সরবরাহ কমিয়েছে সরকার।

সিঙ্গাপুর থেকে সোমবার (৯ মার্চ) বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি। এটিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ট্যাংকারটি এখন কুতুবদিয়ায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আজ বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি। এটিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ট্যাংকারটি এখন কুতুবদিয়ায় রয়েছে।

শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও চারটি ট্যাংকার আসবে বন্দরে। সিঙ্গাপুর থেকে আজ রাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে লিয়ান হুয়ান হু নামের ট্যাংকার। এটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এসপিটি থেমিস। এটিতে ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল রয়েছে। র‍্যাফেলস সামুরাই নামের ট্যাংকারটি পৌঁছানোর কথা আগামী শনিবার। একই সময়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে চ্যাং হ্যাং হং টু নামের ট্যাংকার। এই দুটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চারটি ট্যাংকার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্দর জলসীমায় পৌঁছানোর পর পালাক্রমে খালাস শুরু হবে। এই চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চারটি ট্যাংকার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্দর জলসীমায় পৌঁছানোর পর পালাক্রমে খালাস শুরু হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশে ডিজেলের স্বাভাবিক চাহিদা ১২ হাজার টন। এ হিসাবে এই পাঁচ ট্যাংকারের পরিশোধিত ডিজেল দিয়ে ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। তবে গতকাল রোববার থেকে দিনে কমিয়ে ৯ হাজার ২২ লিটার করে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তাতে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। দেশে মজুত থাকা ডিজেল দিয়ে চলবে আরও ১৬-১৭ দিন। অর্থাৎ আগামী এক মাসের চাহিদার সমান ডিজেল আসছে। বিপিসির হিসাবে, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশ ডিজেল। ডিজেলের সিংহভাগ সরাসরি আমদানি করে মেটাতে হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়টি দেশ থেকে ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে ৭৮ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে কোনো ডিজেল আমদানি করা হয়নি।


বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির শঙ্কা, সতর্কবার্তা আইএমএফের

* বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে * সংঘাত দীর্ঘ হলে বিশ্বজুড়ে খুচরা পণ্যের দাম বাড়বে * তেলের দাম বাড়ায় কৃষিজাত পণ্যেরও দাম বাড়ছে
আপডেটেড ১০ মার্চ, ২০২৬ ০০:২৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্কবার্তা দিয়েছে। এ সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ১-২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খুচরা পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

সতর্কবার্তায় আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং তা বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে বজায় থাকে, তাহলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সোমবার (৯ মার্চ) জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সভায় তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

বর্তমান অস্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আইএমএফ প্রধান নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিবেশে অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো নিয়েও ভাবা এবং সেভাবেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির সহনশীলতাকে আবারও বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হলে তা সরাসরি পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়, যার প্রভাব পড়ে নিত্য পণ্যের ওপর। আইএমএফ-এর এই সতর্কবার্তা মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মন্দা বা উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নির্দেশ করছে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে তেলের বাজারে। বিশ্ববাজারে টানা বেড়েই চলেছে দাম। সোমবার তেলের দাম ২৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২-এর মধ্যভাগের পর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এখন ব্যারেল প্রতি দাঁড়িয়েছে ১১০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, সোনার দামে পতন হয়েছে দুই শতাংশ। তাছাড়া ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে দাম বাড়ছে ডলারের। তেলের দাম বাড়ায় কৃষিজাত পণ্যেরও দাম বাড়ছে।

মার্কেট অ্যানালিস্ট টনি সিকামোর রয়টার্সকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখা যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। বাজারে এর ফল দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে জানান তিনি।

মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। নাজুক বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর যে সম্ভাবনা ছিল, এ সংঘাত সেটিকে বিলম্বিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি দারুণ সহনশীলতা দেখিয়েছে। ধাক্কার পর ধাক্কা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে। এ সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ১-২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অনুমান, চলতি বছরের শেষে গিয়ে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনে (ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব দেশ ইউরো ব্যবহার করে) মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে দশমিক ৫-৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে ইউরোজোনে তা ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এখনো ২ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। এর কারণ হলো, পাইকারি বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির ফ্র্যাকিং (তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী) কোম্পানিগুলোর বড় মুনাফার মাধ্যমে আংশিকভাবে সামলানো হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা এখন থেকেই সরাসরি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের মতে, এ সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও তা কমে দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

একইভাবে ইউরোপীয় কমিশনের পূর্বাভাস, ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। নিম্ন প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে চললে, তা বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, সুদের হার বাড়াবে এবং সরকারি কোষাগারে চাপ সৃষ্টি করবে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এটি নতুন সংকট তৈরি করবে।

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খুচরা পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করার দরকার হতে পারে।


তিস্তা বাঁধ প্রকল্পসহ বাংলাদেশে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পেও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পেও অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়ান।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

তিনি আরও জানান, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়—এমন প্রকল্পগুলোতে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটি নতুন সরকার ও চীনের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর একটি।’ খুব দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তার মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করবে। এ সময় নতুন ঋণ সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন সপ্তাহে অন্তত চারটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আরও জোরদার হবে।’


banner close