রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা নেয়ার বাজেট: জিএম কাদের

গোলাম মোহাম্মদ কাদের। ফাইল ছবি
আপডেটেড
১ জুন, ২০২৩ ২২:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৩ ২১:৫৪

জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে পুঁজি করে সংশ্লিষ্টরা নির্বাচনী সুবিধা নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বাজেটে পরিচালন ব্যয় বাড়ানোর কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সরকার অ্যাডভান্টেজ পাবে। যেখানে-সেখানে ব্যয় করা যাবে। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় অনেক কম। অর্থ দিয়ে নির্বাচন পার করার একটি পরিস্থিতি হতে পারে।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপন হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাপা চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘নির্বাচনকে সমানে রেখে নির্বাচনমুখী বাজেট করা হয়েছে। গেল বছরের চেয়ে এবারের বাজেটে ১ লাখ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে। এই বাজেট বাস্তবসম্মত মনে করছি না। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে আছে, এমন বাস্তবতায় যে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট করা হয়েছে তা হয়তো আদায় হবে না। বাজেটে প্রাপ্তি দেখানো হয়েছে অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বিদেশি ঋণ। বর্তমান বাস্তবতায় ইচ্ছে করলেই বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পাওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। ডাইরেক্ট ট্যাক্সের পাশাপাশি সব কিছুতেই ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স দেয়া হয়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্তের কষ্ট বাড়বে। জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই উর্ধ্বমুখী। আরও বাড়বে। মানুষের আয় কমেছে কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলবে। এই বাজেটে জনবান্ধব বা কল্যাণমুখী কিছু দেখছি না। নিন্মবিত্ত, নিম্ম মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষ যাতে বেঁচে থাকতে পারে তা এই বাজেটে নেই।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, ‘এই বাজেট দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা আছে বলে মনে হয় না, তাদের হয়তো অন্য মেকানিজম আছে। এই বাজেটে পরিচালন ব্যয় অনেক বাড়ানো হয়েছে। এই পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে সব কিছুই করা সম্ভব। কৃচ্ছ্র সাধনের জন্য পরিচালন ব্যয় কমানো দরকার। আমরা মনে করি, আগে যা ছিলো তাই বেশি ছিল। যেটা আমাদের বাজেট দিয়ে সার্পোট দেয়া যেতো না। আমাদের উন্নয়ন ব্যয় দেশি ও বিদেশি ঋণ নির্ভর ছিল, এটা এখন আরও বেড়েছে।

বাজেটে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন ভোট বাড়া বা কমায় কিছু যায় আসে না। স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগের ভোট কমার কথা, কারণ জিনিস পত্রের দাম আরও বাড়বে নির্বিঘ্নে বলা যায়। এমনিতেই দেশের মানুষ অতিষ্ঠ, সাধারণ মানুষের রিলিফ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণ নেয়ার কারণে যে শর্ত দেয়া হচ্ছে তাতে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে।’


পুলিশ ও ছাত্রলীগের কাণ্ড!

বইমেলায় ফ্রি বরাদ্দ নিয়ে খাবারের দোকান ১৪ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৩
মনিরুল ইসলাম

‘খরচপাতির’ কথা বলে বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে তেরো লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানার পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেননি। আর বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

হাত-খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানার পুলিশ দুটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে একজন ব্যক্তি ও ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ছাত্রলীগ, কালীমন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং শাহবাগ থানার পুলিশ। এর মধ্যে শাহবাগ থানার পুলিশ পেয়েছে দুটি দোকান বরাদ্দ।

ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেহেদী হাসানের নামে, কালীমন্দিরকে দেওয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালীমন্দিরের নামেই, ডিএমপিকে দেওয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে আর শাহবাগ থানাকে দেওয়া হয়েছে ২০ এবং ২১ নম্বর দোকান দুটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছে উজ্জল নামের একজন। তিনি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, থাকেন কবি জসিমউদ্‌দীন হলের ২১৯ নম্বর রুমে।

আর শাহবাগ থানা-পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি পরিচালনা করছে বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহীন এবং সাব্বির টাকার অঙ্কের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন। এত টাকায় কিনে নেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতিবছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। কিন্তু এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা-পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলে বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না কোনো নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেওয়া যায়।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার-সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।

তবে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেওয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নেইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’

ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাবরক্ষণ ও বাজেট উপ-বিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে এই দোকান দেওয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেওয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নেওয়ার পর যদি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও আলাদা দোকান বরাদ্দ চায় তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুজনের সঙ্গেই কথা বলে শুধু একটা দোকান দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ‘খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির’ আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তাদের সমীহ করতে হবে না। তাদের আমরা অনেক কিছু দেইনি। একটা স্টল দিয়েছি।’

হাসান কবীর বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে। তখন আমরা বলেছি, তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব। তাদের এও বলেছি, আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, কেউই আসবে না। তারা এটি নিয়ন্ত্রণ করবে।’

খাবারের স্টল নেওয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল মাতৃভূমি প্রকাশনা স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায় এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, এ বিষয়ে আমার মন্তব্য হলো, আমার জানা নেই।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সঙ্গে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নেইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না। তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবীর শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’

দোকান বরাদ্দ পেয়েছে পরিচালকের বউ এবং একাডেমির এক কর্মকর্তাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বইমেলায় দুটি খাবারের দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন একাডেমির গ্রন্থাগার বিভাগের পরিচালক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী শারমিন সুলতানা শর্মী আর একটি পেয়েছেন একাডেমির হেড ইলেকট্রিশিয়ান আলী হোসেন। তবে টাকা দিয়েই এই স্টল তিনটি নিয়েছেন তারা। শর্মী নড়াইল পিঠাঘরের নামে দুটি দোকান পরিচালনা করছেন আর মোহাম্মদ আলী টিএফসি নামে দোকান পরিচালনা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা একাডেমির এক কর্মকর্তা বলেন, নিজের বউয়ের নামে স্টল বরাদ্দ নিতে শাহাদাৎ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আর মোহাম্মদ আলী তথ্য গোপন করে এই স্টলটি নিয়েছেন। বাইরের কাউকে দিলে ভালো দামে এই দোকান তিনটি বরাদ্দ দেওয়া যেত। কিন্তু তারা কম দামে নেওয়ায় বাংলা একাডেমিই লাভবান হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো।

পরিচালকের বউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে হাসান কবীর বলেন, এই স্টলটা মূলত আমাদের এক পরিচালক তার এক আত্মীয়কে দিতে বলেছেন। তাই এটা তার আত্মীয়কে দেওয়া হয়েছে।

যাকে ‘আত্মীয়’ বলা হচ্ছে তিনি পরিচালকের ‘স্ত্রী’ জানালে তিনি বলেন, ‘এটা আমি মাত্রই শুনেছি। আত্মীয়ের কথা বলেই এটা নেওয়া হয়েছে।’

আলী হোসেনের দোকান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হতেই পারে না। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’


দেশে তামাকজনিত রোগে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু

দেশে প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ তামাক ব্যবহার করে
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর দেশে এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু প্রতিরোধে দ্রুত বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা প্রয়োজন। কারণ যত দিন যাবে তত তামাকজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হল রুমে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের ভূমিকা: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তারা।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) অধ্যাপক ডা. ইউনুছুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় পৌনে চার কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয় তিন কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। তামাকজাত দ্রব্যের বহুল ব্যবহার হৃদরোগ, ক্যানসার, বক্ষব্যাধি এবং অন্যান্য অনেক প্রতিরোধযোগ্য রোগ ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তামাকের এসব ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষার জন্য দ্রুত বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করতে হবে। তা না হলে তামাকজনিত এই অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।

সেমিনারে বিএমএর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহা. শেখ শহীদ উল্লাহ বলেন, বিএমএ সাধারণত চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করলেও জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই তামাকের ভয়াবহতা থেকে জনস্বাস্থ্যকে রক্ষা করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বিএমএ। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। তারা রোগীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও তামাক ব্যবহার ছেড়ে দিতে উৎসাহিত করতে পারেন। তাহলে তামাক ব্যবহারে জনসাধারণ নিরুৎসাহিত হবে।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক বলেন, দেশের চিকিৎসকরা তামাক নিয়ন্ত্রণে সমাজে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারেন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারণে যেভাবে প্রভাব ফেলছে তা অতুলনীয়।

সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, ‌‘তামাক দেহের প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেটা আমরা চিকিৎসক হিসেবে এবং আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে গিয়ে ব্যাপকভাবে বুঝতে পারছি। এ জন্যই আমার দেশের তরুণ চিকিৎসকদের নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি।’

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)-বাংলাদেশের লিড পলিসি অ্যাডভাইজার মো. মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ, প্ল্যাটফর্ম ডক্টরস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিগণ, তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।


পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসের এক কালো দিন। ১৫ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় সাবেক বিডিআর ও বর্তমান বিজিবি সদর দপ্তরে ঘটে মর্মান্তিক ও নৃশংস এক হত্যাযজ্ঞ।

এদিন সকালে পিলখানা সদর দপ্তরের দরবার হলে সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়ে চলমান বার্ষিক দরবারে। বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিকরা তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বুকে অস্ত্র তাক করে। কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় গোলাগুলি। ঘটে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।

সেদিন বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানরা ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। প্রতিবছরের মতো এবারও বিডিআর বিদ্রোহের এই দিনে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) পক্ষ থেকে সকালে বিজিবি সদর দপ্তর, বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর ও ইউনিটগুলোতে বাদ ফজর পবিত্র কোরআন খতম, বিজিবির সব মসজিদ এবং বিওপিতে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর, পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা সদস্যদের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ হবে।

সেদিন পিলখানায় যা ঘটেছিল: প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, মামলার তদন্ত ও বিচারের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার নৃশংস ঘটনাগুলো। সেদিন বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকতাদের হত্যা করার পর জিম্মি করেছিল তাদের পরিবারের সদস্যদের। পুরো পিলখানাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল ভীতিকর বীভৎস পরিস্থিতি। বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় সেদিন বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিকরা যে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো বিদ্রোহে এমন ঘটনা ঘটেনি। এমনকি বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এক দিনে এত সেনা কর্মকতা নিহত হয়নি।

দেশ-বিদেশে আলোচিত এই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত বলেছেন, ওই ঘটনা ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি দক্ষ, প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসেরও চেষ্টা। বিডিআর জওয়ানরা দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর প্রত্যক্ষ হুমকির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে যে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে, সেই কলঙ্কের চিহ্ন তাদের বহুকাল বহন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেদিন সকাল ৯টার পরপরই তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যেতে থাকে। সবাই ভেবেছিল এসব চলমান বিডিআর সপ্তাহের কোনো কর্মসূচির ঘটনা। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, বিডিআর জওয়ানরা পিলখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করছে। বিদ্রোহের প্রথম দিন দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর বেড়িবাঁধের কাছে একটি ম্যানহোলের ‍মুখে দুই সেনা কর্মকর্তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পওয়া যায়। বোঝা যায়, পিলখানার ভেতরে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এতে সারা দেশে শোরগোল পড়ে যায়। চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র চলতে থাকে আলোচনা-সমালোচনা।

বিদ্রোহের এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রধানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এদিকে পিলখানার চারদিক ঘিরে ভারী অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে পিলখানার পর সারা দেশ থেকে আসতে থাকে বিভিন্ন জেলায় বিডিআর দপ্তরের বিদ্রোহের খবর। বিদ্রোহের মধ্যেই একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হয়। এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ মীর্জা আজম ও সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস। পরে ওইদিন বিকেলে বিদ্রোহীরা তাদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করে। এরপর রাতে পিলখানার প্রধান ফটকের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় আলোচনায় বসেন তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন। পরে গভীর রাতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ কয়েকজন পিলখানার ভেতরে প্রবেশ করেন। তার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা। পরে বিদ্রোহীদের হাতে জিম্মি হওয়া কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হয়ে আসেন সাহারা খাতুন।

জানা যায়, বিদ্রোহীদের একটি অংশ আত্মসমর্পণ করলেও পরদিন পর্যন্ত আরেক অংশের হাতে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ ছিল। একপর্যায়ে পরদিন সকাল থেকে পিলখানা থেকে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা পলিয়ে যাওয়া শুরু করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ৩০-৩৪ ঘণ্টার তাণ্ডবের পর বিদ্রোহ শেষ হলেও পিলখানায় তখন একের পর এক আবিষ্কার হতে থাকে গণকবর। এতে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।

বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে গণকবর দিয়ে রাখে। এই গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ অর্ধশতাধিক সেনা কর্মকর্তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। রক্তাক্ত সেই বিদ্রোহের পর দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) করা হয়। পরিবর্তন করা হয় তাদের পোশাকও।


লোকসান থেকে মুনাফায় অধিকাংশ বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেদী হাসান সজল

একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে, অন্যদিকে চাহিদার সঙ্গে ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে এ খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসার পালে হাওয়া বদল হতে শুরু করছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন ২০২৫ সালে বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমান সময়ের তুলনায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ফলে সামনের বছরগুলোতে বিদ্যুতের বর্ধিত চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হওয়ার অপার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি অধিকাংশ কোম্পানি ভালো পারফর্মেন্স দেখিয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানির সংখ্যা ৯টি। সেগুলো হলো- সামিট পাওয়ার লিমিটেড, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড (বিপিপিএল), ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল), শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এসপিসিএল), ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল), এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড (ইপিজিএল) ও জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে সামিট পাওয়ার তাদের আর্থিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করেনি। বাকিগুলোর মধ্যে বারাকা পাওয়ার, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, কেপিসিএল ও শাহজিবাজার পাওয়ার আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লোকসান গুণলেও এবার ভালো মুনাফা লুফে নিয়েছে। বিপরীতে নিজেদের সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকায় মুনাফা থেকে সামান্য লোকসানে পতিত হয়েছে জিবিবি পাওয়ার। আর এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন ও ইউনাইটেড পাওয়ারের মুনাফা চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সামান্য কমলেও বড় প্রবৃদ্ধি এসেছে ডরিন পাওয়ারের মুনাফায়। কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কমে আসায় এ সময়ে অধিকাংশ কোম্পানি ভালো করেছে।

অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, সে তুলনায় চাহিদা কম। চাহিদা কম হওয়ায় এ খাতের বেসরকারি অনেক কোম্পানিকে মাঝেমধ্যে উৎপাদন স্থগিত রাখতে হয়। যদি সামনের বছরগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি পায় তাহলে এ খাতের কোম্পানিগুলোরও ভালো করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পুঁজিবাজারে বারাকা গ্রুপের তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানি বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ও বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বারাকা পাওয়ার ও তার সাবসিডিয়ারির সমন্বিত বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ১৪২ কোটি ৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে এ আয় হয়েছিল ৮৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির সমন্বিত বিক্রি বাবদ আয় বেড়েছে ৬১ দশমিক ১২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত কর পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে সমন্বিত নিট লোকসান হয়েছিল ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে বারাকা পাওয়ারের কোম্পানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদার কারণে এ সময়ে আমাদের আয় বেড়েছে। আর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কমে আসায় ব্যয় কমেছে। এতে ভালো মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

গ্রুপের অন্য কোম্পানি বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার ও তার সাবসিডিয়ারির ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সমন্বিত বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৭২৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে এ আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় কমেছে ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে সমন্বিত নিট লোকসান হয়েছিল ৪৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।

বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষ থেকে এ সময়ে আমাদের কাছে চাহিদা কিছুটা কম ছিল। এতে পরিবর্তনশীল উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার আয় এবং জ্বালানি আয় যথাক্রমে ৪৮ শতাংশ ও ৫৮ শতাংশ কমেছে। যার ফলে সার্বিকভাবে আমাদের আয় কিছুটা কমেছে। তবে মূল কোম্পানি ও সাবসিডিয়ারির জন্য ভারী জ্বালানি তেল (এইচএফও) ও খুচরা যন্ত্রাংশসহ সব ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কমে আসায় আমাদের ব্যয়ও তুলনামূলক কমেছে। যার ফলে এ সময়ে ভালো মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

ডরিন পাওয়ার ও তার সাবসিডিয়ারি চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সমন্বিতভাবে বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ আয় করেছে ৭০৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় হয়েছিল ৯৯৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সমন্বিত আয় কমেছে ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবে আয় কমলেও এ সময়ে কোম্পানির নিট মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৫১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে যেখানে মুনাফা হয়েছিল ১৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা বেড়েছে ২৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ডরিন পাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে আমাদের মূল কোম্পানির আয় বেড়েছে। তবে সাবসিডিয়ারি কোম্পানির আয় উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। যার ফলে সার্বিকভাবে আমাদের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব প্রতীয়মান হয়েছে। তা সত্ত্বেও আর্থিক ব্যয় কমায় বড় মুনাফা এসেছে আলোচ্য সময়ে। মূলত এ সময়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কমে আসায় এ মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

খুলনা পাওয়ার চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ২১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা বিক্রি বাবদ আয় করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আয় হয়েছিল ১৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যেখানে নিট লোকসান হয়েছিল ৭৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

কেপিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে তারা লোকসান কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এ সময়ের মধ্যে তারা তাদের ১১০ মেগাওয়াট বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিক্রয় মূল্য ও বুক ভ্যালুর মধ্যে পার্থক্য সমন্বয় করেছে। এ সমন্বয় না হলে আলোচ্য সময়ে তাদের মুনাফা আরও বাড়ত।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে শাহজিবাজার পাওয়ার ও তার সাবসিডিয়ারির সমন্বিত বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৬৮৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৩৩৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় বেড়েছে ১০৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ৬৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যেখানে নিট লোকসান হয়েছিল ২২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে শাহজিবাজার পাওয়ারের কোম্পানি সচিব ইয়াসিন আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, আলোচ্য সময়ে আমাদের কাছে বিদ্যুতের ভালো চাহিদা থাকায় বিক্রি বাবদ আয় বেড়েছে। যার সুবাদে আমরা পুনরায় লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরতে পেরেছি। যদিও আগের অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে বিশেষ কিছু কারণে আমাদের লোকসান হয়েছিল। আলোচ্য সময়ে আমরা যে মুনাফা করেছি তা বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির অংশ।

ইউনাইটেড পাওয়ারের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সমন্বিতভাবে ১ হাজার ৮৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে এ আয় হয়েছিল ১ হাজার ৬৩৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সমন্বিত আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তা সত্ত্বেও প্রধানত দুটি কারণে এ সময়ে কোম্পানির মুনাফায় ভাটা পড়েছে। আলোচ্য সময়ে সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে এ মুনাফা হয়েছিল ৫৩৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা কমেছে ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।

এ মুনাফা কমার কারণ হিসাবে ইউনাইটেড পাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কিছুটা বেড়েছে। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে ঋণের বিপরীতে বেশি সুদ দিতে হয়েছে। এসব কারণে আমাদের মুনাফায় ভাটা পড়েছে।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে আয় ও মুনাফা দুটোই কমেছে এমন একমাত্র কোম্পানি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ১৪০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৩২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় কমেছে ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত জুলাই-ডিসেম্বরে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির মুনাফা কমেছে ৬৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।

আর চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদক বেসরকারি খাতের একমাত্র কোম্পানি হিসাবে জিবিবি পাওয়ারের বিক্রি ছিল শূন্য। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৩৫ কোটি ০৮ লাখ টাকা। বিক্রিশূন্য হওয়ায় আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটিকে ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। যেখানে আগের অর্থবছরের প্রথমার্ধে ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ সময়ে তাদের সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ ছিল। এ জন্য লোকসান হয়েছে।


মিয়ানমার অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ চাচ্ছে: র‍‍্যাব ডিজি 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন। শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‌‘মিয়ানমার যা করছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই করছে। মিয়ানমার অনেক আগে থেকেই চাচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য। রোহিঙ্গা আটক হওয়া থেকে শুরু করে তারা পায়ে পাড়া দিচ্ছে, আমরা তো কাজ করি আমরা জানি। আমি বহুবার কক্সবাজার গিয়েছি, বর্ডারে গিয়েছি, আমি সব ঘুরে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী যে দৃঢ়চেতা এবং তার যে প্রজ্ঞা, উনি কোনো দিন যুদ্ধে জড়াবেন না। কারণ এখন যুদ্ধে যাওয়া মানে আমার দেশটা শেষ হয়ে যাওয়া। মিয়ানমারে এখন সামরিক সরকার রয়েছে। তারা এখন চাচ্ছে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ বাধাতে পারলে তারা সেভ হবে। কারণ ওই দেশে এখন যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, আরাকান আর্মি তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে এখন সমানে ভূমি দখল করছে। সেনাবাহিনী-আরাকান দ্বন্দ্ব এখন বলতে গেলে শেষ পর্যায়ে চলে গেছে। গভর্নমেন্ট বাঁচার জন্য উসকানি দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক এখন বিভিন্ন দেশ থেকে এয়ারেও আসছে, জলপথেও আসছে। বেশির ভাগ মাদক মিয়ানমার থেকে আসছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে মাদক পাঠাচ্ছে মিয়ানমার। কিছু দিন পর আপনারা জানবেন আমরা যে জাল ফেলে রেখেছি, সবচেয়ে যে বড় গ্যাংস্টার, তাকে আমরা জালের মধ্যে ফেলেছি। আমরা কিছু করতে পারব।’

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলা প্রসঙ্গে র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘সাগীরা মোর্শেদ মারা যাওয়ার ৩৫ বছর পার হয়েছে। আর সাংবাদিক দম্পতি হত্যা তো মাত্র কয়দিন। আমরা চাচ্ছি প্রকৃত খুনিকে খুঁজে বের করতে। মামলাটির তদন্ত এর আগে ডিএমপি করেছে, ডিবি করেছে, এখন আমাদের কাছে। তবে এখনো পজিটিভ কিছু আসে নাই। আমাদের চেষ্টা চলছে। এতদিন যেহেতু হয়ে গেছে, আমরা ভাবছি দেখি না কী করা যায়, আর ওই দেখিনার মধ্যে রয়ে গেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, আমরা বিশ্লেষণ করছি, তদন্ত কর্মকর্তা বদলাচ্ছি, চেষ্টা করছি। তদন্ত প্রতিবেদন একদিন না একদিন হবেই। এভাবে পড়ে থাকবে না। শুরু যার আছে তার শেষও আছে।’

এর আগে এম খুরশীদ আলম কাশিয়ানী এম এ খালেক কলেজ মাঠে আয়োজিত কাশিয়ানী উপজেলার ১০৯ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট দেন। এম খুরশীদ হোসেন বিগত ১৯৮০-৮১ সালে কাশিয়ানী এম এ খালেক কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।


বিশ্বব্যাপী ভুল তথ্য প্রতিরোধে কাজ করবে বাংলাদেশ-তুরস্ক: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বব্যাপী অপ ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর তথ্যমন্ত্রীদের ইসলামিক সম্মেলন হয়। সম্মেলনে বিশেষ অধিবেশনের আগে তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ফাহরেতিন আলতুনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রচার লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এগুলো ছড়ানো হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও এর নেতিবাচক শিকার। অপতথ্য ও ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধ এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও তুরস্ক দুই দেশের মধ্যে যৌথ সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ একে অন্যকে সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

আরাফাত বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় যেভাবে ক্রমাগত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে, তা বিশ্ব খুব কমই দেখেছে। এ ধরনের অপতথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

বৈঠকে অপ ও ভুল তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কাজ করার ব্যাপারে বাংলাদেশর তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ফাহরেতিন আলতুন।


‘সমৃদ্ধির পথে যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

‘সমৃদ্ধির পথে যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার জাপান দূতাবাসে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি লিখেছেন মাৎসুশিতা কোনৎসুকে। তবে কাজুকো ভূঁইয়া ট্রাস্ট থেকে প্রকাশিত বইটির বাংলা অনুবাদ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাঞ্জেল অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মো. আজিজুল বারী।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা এবং বাজার গবেষণা কোম্পানি নিউভিশন সলিউশনস লিমিটেডের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাজুকো ভূঁইয়া ট্রাস্ট। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়াওয়ামা কিমিনোরি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহিদে এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোকোরোজাশি নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা জোকো আকিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আলোচনা করেন, কীভাবে অতিদরিদ্র একটি ছেলের হাত ধরে বিংশ শতাব্দীর জাপান শিল্প বিকাশের মহাসড়কে প্রবেশ করেছিল। তিনি আর কেউ নন, তিনি ছিলেন শিল্পপতি মাৎসুশিতা কোনৎসুকে। যিনি ‘সমৃদ্ধির পথে যাত্রা’ বইটিতে নিজের প্রচেষ্টায় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্পটি বর্ণনা করেছেন।

কোনৎসুকে ১৮৯৪ সালে জাপানে জন্মগ্রহণ করেন। আর্থিক অসুবিধার কারণে, তাকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর কর্মী হিসেবে ওসাকায় কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল। ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নিজ প্রচেষ্টায় গণিত, রসায়ন এবং পদার্থবিদ্যা অধ্যয়ন করেছিলেন।

তিনি ন্যাশনাল এবং প্যানাসনিক ব্র্যান্ডের জন্য ইলেকট্রনিক্স তৈরি করেছিলেন। আজকের জাপানকে একটি শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি জাপানের তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ১৯৭৯ সালে মাৎসুশিতা ইনস্টিটিউট অফ গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।


সম্পর্ক জোরদার করতে ঢাকায় মার্কিন প্রতিনিধিদল: দূতাবাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ঢাকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ইউএসএআইডির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল তিন দিনের সরকারি সফরে শনিবার ঢাকা এসেছে।

দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিনিধিদলটির সদস্যরা হলেন- মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর আইলিন লাউবাচার, ইউএসএআইডির এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর সহকারী প্রশাসক মাইকেল শিফার এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী সেক্রেটারি (এসসিএ) আফরিন আখতার। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সফর করবেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘তিন কর্মকর্তা বাংলাদেশ সরকারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উপায়, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পারস্পরিক স্বার্থের অগ্রগতির লক্ষ্যে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করবেন।’ তারা এই সফরকালে যুব কর্মী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক সংগঠক এবং মুক্ত ও অবাধ মিডিয়া বিকাশে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করবেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য আমাদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এগিয়ে নিতে, মানবাধিকারকে সমর্থন করতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে, আন্তর্জাতিক হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক টেকসইয়ত্ব জোরদার ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্ব করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক আরও গভীর ও মজবুত হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের (মার্কিন কর্মকর্তাদের) বাংলাদেশে (আগামী দিনগুলিতে) সফর দু’দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করবে।’ মাহমুদ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে চিঠি পাঠিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে তা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর, মার্কিন কর্মকর্তাদের এটাই প্রথম সফর।


বইয়ের মেলা শুধু ছবি তোলার মেলা না হোক!

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

মাতৃভাষা বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মরণে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে হরেক রকমের নতুন বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে চলে সবার প্রিয় এই বইমেলা। ঐতিহ্যসমৃদ্ধ এই মেলায় নিজেদের পছন্দের বই ও প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করতে বিভিন্ন বয়সের পাঠকরা আসেন। তবে মেলায় আসা অধিকাংশ পাঠক-দর্শনার্থী তরুণ বয়সের। এদের মধ্যে মেলায় অনেকে শুধু ঘুরতে আসেন, অনেকে আসেন নিজেদের ছবি ও সেলফি তুলতে, অনেকে আবার প্রিয় লেখকদের সঙ্গে সেলফি কিংবা ছবি নিতেও মেলায় আসেন। তবে বইমেলায় বই কেনার চেয়ে তরুণ প্রজন্মের দর্শনার্থীদের ছবি এবং সেলফি তোলার দিকে বেশি মনোযোগ দেখা যায়।

পাঠকরা মনে করছেন, দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়াতেই বইয়ের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া স্টলগুলোতে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিভিন্নধর্মী হাজারো বই। এমন পরিবেশে স্মৃতি ধরে রাখতে যেন সকলেরই ছবি তোলার ইচ্ছে জাগে। পাশাপাশি বই বিক্রি ও প্রচারে প্রকাশনীগুলোতে প্রায় প্রতিদিন থাকছেন লেখকরা। সেখানে বই কেনার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সেলফি তোলা ও আড্ডায় মেতে উঠেন বইপ্রেমীরা। তবে এ ছবি-সেলফি তোলাকে নিজেদের ব্র‍্যান্ডিং ও মার্কেটিং মনে করছেন অনেক লেখক।

প্রকাশক ও বিক্রেতাদের মতে, কিছু তরুণ মেলায় আসে বই কিনতে নয় বরং ফেসবুক, ইউটিউব সেলিব্রিটিদের সঙ্গে সেলফি তুলতে। যারা কোনো নিয়মিত লেখকও না। তবে তরুণ লেখকদের গতানুগতিক থ্রিলার, উপন্যাস, গল্প-কবিতার বই মূলধারার সাহিত্যকে তেমন একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। মূলধারার সাহিত্য ঠিকই মধ্যবয়সি ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আদান-প্রদান চলছে।

প্রকাশকরা বলছেন, বইমেলায় দর্শনার্থীদের দেখে মনে হচ্ছে, এদের বেশির ভাগই এসেছেন মেলায় একটা ‘কোয়ালিটি টাইম’ কাটাতে এবং তা কেবলমাত্র বইকেন্দ্রিক নয়। বইয়ের তুলনায় সেখানে হাত বেশি খোঁজে মোবাইল ফোন। আর সুযোগ পেলেই উঠে যায় ক্লিক ক্লিক ছবি। সেটা অবশ্য আয়োজকেরা কিছুটা হলেও বোঝেন। স্টলের সামনে মানুষের শুধু ছবি তোলার ভীড় দেখেই এই বিষয়টি অনুধাবন করা যায়।

অন্যদিকে লেখকরা বলছেন, মোবাইল ফোন বা তাতে থাকা ক্যামেরা এখন বইমেলার অন্যতম অনুষঙ্গ। এতে বিপণন থেকে প্রচার সবই যুক্ত। বইয়ের মেলায় মোবাইল ফোনের ক্যামেরা এখন গুরুত্বের শীর্ষেই আছে। মেলায় আসছেন আর ছবি তুলছেন না এমন মানুষ হাতে গোনা কয়েকজন।

বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টলে থাকা কয়েকজন বিক্রেতা জানান, বইয়ের পাতা উল্টিয়ে ভেতরের লেখা পড়ে খুব কম পাঠক। আর দাম তো জিজ্ঞেসও করেনা। বই হাতে ছবি তোলাই মূল উদ্দেশ্য মনে হয়। সবার হাতে এখন স্মার্টফোন। স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বই হাতে সেলফি তোলা আর ফেসবুকে দেয়াই তো কাজ। সেলফি তুলতে বই লাগে, কেনা বা পড়া লাগে না।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বাবা তার মেয়ের ছবি তুলে দিচ্ছেন, আবার কোথাও বন্ধু তার বন্ধুর ছবি তুলতে ব্যস্ত, কোথাও কোথাও প্রেমিক তার প্রেমিকার ছবি তুলে দিচ্ছেন। আবার কেউবা প্রিয় লেখকের বই হাতেও ছবি তুলছেন। কেউ কেউ সদ্য তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-ইন্সট্রাগ্রামে পোস্ট করছেন। বন্ধুদের জানান দিচ্ছেন বাইমেলায় উপস্থিতির কথা। মেলার নির্মল পরিবেশে বইমেলায় আগত দর্শনার্থীদের যেন ছবি তোলার এক উৎসবে মেতেছে। বই কেনার দৃশ্য মেলায় সত্যিই কম। এ অবস্থায় বই কেনার চেয়ে ছবি তোলাই যেনো মুখ্য। আবার কেউবা করছেন ভ্লগ। আর কেউ মেলামাঠে ঘুরছেন কন্টেন্ট বানানোর নামে গেমস আর ধাঁধার খেলায়।

শনিবার বিকেল থেকেই অমর একুশে বইমেলায় দর্শনার্থীদের ঢল দেখা গিয়েছে। মানুষ সিরিয়াল দিয়ে ঢুকছেন মেলা প্রাঙ্গণে। মেলায় আসা স্মৃতি ধরে রাখতে নিচ্ছেন সেলফি, তুলছেন ছবি। বই দেখছেন অনেকেই, কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। বিকেল তিনটা থেকে দেখা যায়, মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় বাড়তে থাকলেও বই ক্রেতা খুবই কম। অনেকেই এসেছেন দলবেঁধে, কেউ কেউ বন্ধুদের নিয়ে, কেউ আবার পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে। ছোট বাচ্চাদের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো।

প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রেতা মামুনুর রশিদ, এবার প্রথম দিকের চেয়ে শেষের দিকে শেষের দিকে ভীড় বেড়েছে। তবে গতবছরের তুলনায় এ বছর প্রথম দিকেও ভীড় ছিলো। আমাদের স্টলে সবাই বই কিনতেই আসে। অটোগ্রাফ সহ লেখকের সঙ্গে ছবিও তুলছেন অনেকে।

বই কম বিক্রি প্রসঙ্গে অন্যপ্রকাশের বিক্রয়কর্মী আলিয়া জাহান বলেন, দর্শনার্থীরা দশজন বই দেখলে কিনছেন একজন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মেলার শেষের দিকে বই বিক্রি বাড়বে।

পাঠক সমাবেশের একজন বিক্রেতা জানান, বইমেলায় দেখা যায় কিছু কিছু ব্যক্তি আসেন বই কেনেন না তবে সেলিব্রিটিদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। আবার অনেকে বই কেনেন তাদের সঙ্গে সেলফি তুলে নিজেকে ধন্য মনে করতে।

সেলফি আর ছবির প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর বিক্রেতা সুমাইয়া জাহান জানান, বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর হলেও আমরা কিছুই বলতে পারি না। আর এবারের মেলায় প্রতিবারের মতো সাজের কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। এজন্য পাঠক দর্শনার্থীরা ছবি তুলতে ব্যস্ত বেশি। তবে ছবি তুলতে গিয়ে তারা অনেকে আবার বই কিনতে ভুলছেন না। এবারের বইমেলায় অন্যবারের চেয়ে পাঠকের ভীড়ের পাশাপাশি বিক্রিও বেশ ভালো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লেখিকা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত মুখ যারা বইমেলাকে কেন্দ্র করে কিছু লেখা লেখেন কিন্তু সারা বছর তাদের কোনো লেখা দেখা যায় না। তবে তাদেরকে ঠিকই ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদিতে নিম্নমানের ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে দেখা যায়। দেখা যাচ্ছে তারা বইমেলায় এলে তাদেরকে ঘিরে তরুণ সমাজ সেলফি-ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে যায়। এতে আমাদের মূলধারার সাহিত্যকর্মের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। তা ছাড়া তরুণ সমাজ যারা আমাদের ভবিষ্যৎ তাদেরকে নিম্নমানের এসব কর্মের প্রতি ঝুঁকে যাওয়া ঠিক নয়। তাদের উচিত উন্নততর চিন্তাভাবনা করা। আর সমাজকে ইতিবাচক উন্নতির দ্বার দেখানো।

অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ জানান, পাঠক ক্রেতারা মেলার প্রথম সপ্তাহে দেখে, দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘুরে, তৃতীয় সপ্তাহে সিদ্ধান্ত আর শেষ সপ্তাহে কেনাকাটা করে। আর বইমেলার পুরো মাঠেই চলে সেলফি উৎসব। প্রকাশনীর সামনে তো কোনো কথাই নেই। তবে আমার কথা হচ্ছে বইটা আগে পাঠকের হোক, পরে সেলফি।

যেমন ছিল শনিবারের বইমেলা

২৪তম দিন শনিবার মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। এদিন নতুন বই এসেছে ১৩৮টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : মোহাম্মদ রফিক এবং স্মরণ : খালেক বিন জয়েনউদদীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে আলতাফ শাহনেওয়াজ এবং সুজন বড়ুয়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শামীম রেজা, শোয়াইব জিবরান এবং আসলাম সানী। সভাপতিত্ব করেন আবুল মোমেন।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও গবেষক শাহনাজ পারভীন, কবি ও অনুবাদক সাইফুল ভূঁইয়া, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ পারভীন স্মৃতি এবং গবেষক মনিরুজ্জামান শাহীন। এই মঞ্চে এদিন বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত, মুহম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ও আলোকচিত্র বই বিষয়ে লেখকের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

রোববারের বইমেলা

২৫তম দিন রোববার মেলা শুরু হবে বিকেল তিনটায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।


বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে সরকার ইশতেহার অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা বলেছিলাম, দ্রব্যমূল্য যেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সেটি আমাদের প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকার। এই সরকারের যাত্রার শুরু থেকে সেই অগ্রাধিকার নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং বাজারের অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকার সব রকম ব্যবস্থা নেবে।’

ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোজার আগেই কিছু পেঁয়াজ বাজারে ঢুকবে, কাজেই বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।

শনিবার রাজধানীতে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এলডি হল চত্বরে ‘রাঙ্গুনিয়া সমিতি, ঢাকা’ আয়োজিত সম্বর্ধনা, মেজবান ও মিলনমেলা ২০২৪ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাজারের অসাধু সিন্ডিকেট কারণে-অকারণে নানা অজুহাতে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে। আমরা দেখেছি, একটি কোল্ড স্টোরেজের ভেতর থেকে দেড় লাখ ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। অতীতে পেঁয়াজের সংকট তৈরি করা হয়েছিল। আবার যখন বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হলো, বাজারে পেঁয়াজ সয়লাব হয়ে গেলো, তখন স্টোরেজ থেকে জমিয়ে রাখা পচা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের সরকার সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, যারা সরকারকে টেনে নামাতে চায়, এই সিন্ডিকেটের সাথে তারাও যে যুক্ত, সেটিও সঠিক। তবে আপনারা দেখছেন, বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। ‘কেবল পাইকারি বিক্রেতা না, খুচরা বিক্রিতাদের মধ্যেও একটু বেশি মুনাফা করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এটির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হতে বলেছি। সরকারও সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন যে বর্তমান সরকার পরিবর্তন হবেই -এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার তো অবশ্যই পাঁচ বছর পর পরিবর্তন হবে। তখন দেশে নির্বাচন হবে, তারপর নতুন সরকার গঠন করা হবে। আশা করি জনগণের ভোটে সেই সরকারেরও প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ রাঙ্গুনিয়া সমিতি, ঢাকা'র সেবামূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন নিয়মিত আয়োজনের প্রশংসা করেন।

রাঙ্গুনিয়া সমিতি, ঢাকা'র সভাপতি মো: গিয়াস উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের হুইপ সাইমুম সরওয়ার কমল, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকা'র সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মল্লিক বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাঙ্গুনিয়া সমিতির নেতৃবৃন্দ এ সময় রাঙ্গুনিয়ার সন্তান চট্টগ্রাম ৭ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের হাতে সম্বর্ধনা স্মারক তুলে দেন। পরে আয়োজক ও অতিথিদের সাথে নিয়ে সমিতির ‘গুমাই’ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী।


‘ভাষাকে শক্তিশালী করতে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে হবে’

শনিবার বেলা ১১টায় সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আমার ভাষা আমার শক্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

যে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ সেই দেশের ভাষা তত শক্তিশালী। বিশ্বে নিজের ভাষাকে শক্তিশালী করতে প্রথমে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে হবে। নিজ ভাষায় পণ্য এবং সেবা ছড়িয়ে দিতে হবে। নিজ ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে এর পরিধি ও চর্চা বাড়াতে হবে।

শনিবার বেলা ১১টায় সিরডাপ মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আয়োজিত ‘আমার ভাষা আমার শক্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ভাষার মাসের গুরুত্ব বিবেচনায় এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে প্রধান নায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি নয়, বহু আগে থেকেই তিনি বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম ও পরিকল্পনা করেছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, শুধু পাকিস্তান শাসনামলে নয়, বাংলা ভাষা শত শত কাল থেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আবার এটি হিন্দু না মুসলমানদের ভাষা তা নিয়েও ছিল বিতর্ক। মূলত বাংলা ভাষা ছিল সাধারণ মানুষের ভাষা। যা এখনো সাধারণ মানুষের মাঝে বেঁচে আছে। অভিজাত শ্রেণির লোকজন বিভিন্ন দাওয়াত কার্ড ইংরেজিতে দিয়ে থাকে নিজেদের আভিজাত্য দেখাতে। সাধারণ থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে।

ভাষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভাষা যোগাযোগের মাধ্যম, অন্যদিকে সংস্কৃতির বাহক। গুগলে দেখা যায় পৃথিবীর বৃহত্তম পঞ্চমতম ভাষা বাংলা। আমার জানামতে এটি ভুল। জাতিগত দিক থেকে বাংলা হলো পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম ভাষা। যোগাযোগের বাহক হিসেবে এটি সপ্তম বা অষ্টম হতে পারে। আর এই বৃহত্তম ভাষার মানুষের প্রথম রাষ্ট্র গড়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তবে এখনো আমাদের দেশে বিভিন্ন সাইনবোর্ডে ইংরেজি আধিক্য দেখা যায়। বাংলা অক্ষর গুলো খুব ছোট আকারে লেখা থাকে, যা খুব দুঃখজনক। কলকাতায় এই অবস্থা আরও ভয়াবহ। এই সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত সকল বই বাংলায় অনুবাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে একটি নীতিমালা তৈরি করতে হবে যেন বাংলার ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।’

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. রতন সিদ্দিকি বলেন, ‘ভাষার লড়াই খুব প্রাচীন। যুগে যুগে যারাই এসেছে তারা আমাদের ভাষা দখল করতে চেয়েছে। তারা এসেছেন, কতৃত্ব করেছেন, কিন্তু ভাষা বিলুপ্ত করতে পারেনি। লোক মেরেছে, কিন্তু ভাষাকে মারতে পারেনি। এই ভাষার শক্তির কাছে কিছুই টিকে থাকেনি। দুই একটি শব্দ হয়তো তারা পাল্টে দিয়েছে।’

শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. বিশ্বজিত ঘোষ বলেন, অর্থনীতি শক্তিশালী না হলে ভাষা কখনোই প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না। নিজ ভাষায় পন্য বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে না পারলে এটিকে সমৃদ্ধ করা যাবে না। আবার ভাষার জন্য একটি নীতিমালা প্রয়োজন। সরকার চাইলে কোথাও অন্য ভাষার সাইনবোর্ড থাকবে না। পিএসসিতে একজন চাকরি প্রার্থীকে ২০ মিনিট ইংরেজিতে ইন্টারভিউ দিতে হয়। এই সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে বাংলা ভাষায় দক্ষতার উপর কর্মজীবন নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনা সভার সভাপতিত্বকালে সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দ্যোপাদ্যায় বলেন, ‘আমাদের মাতৃভাষা আজ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। তারা আমাদের থেকেই শিখেছে ভাষার গুরুত্ব। অতীতের মতো এখনো আমাদের ভাষা অনেক শক্তিশালী। তবে বর্তমান পুঁজিবাদ বিশ্বে এই ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু গবেষক ও দৈনিক বাংলা পত্রিকার নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) আফিজুর রহমান বলেন, ভাষা আন্দোলন হওয়ার পেছনে বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল, ছাত্র রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল। বঙ্গবন্ধু পরিষ্কারভাবে বলেছিলেন, বাংলা ভাষা হবে রাষ্ট্রভাষা। একুশে ফেব্রুয়ারিকে ভাষা দিবস হিসেবে পালনের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রধান ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু। যতদিন বাংলা ভাষা থাকবে বঙ্গবন্ধু থাকবেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। ওই সময় আরও বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের নেত্রী ফরিদা ইয়াসমিন, ডিরেক্টর গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক সাইফ আহমেদ ও সাবেক সচিব নব বিক্রম কিশোর ক্রিপুরা।


স্বাধীন বিচার বিভাগ ও শক্তিশালী সংসদ দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৫৫
বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী সংসদ ও প্রশাসন একটি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা বিচার বিভাগকে প্রশাসন থেকে আলাদা করে সম্পূর্ণ স্বাধীন করেছি, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাউথ এশিয়ান কনস্টিটিউশনাল কোর্টস ইন দ্যা টুয়েন্টি-র্ফাস্ট সেঞ্চুরি: লেসন্স ফ্রম বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া’ শীর্ষক দুদিন ব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

উচ্চ আদালতের রায়ে সামরিক শাসন এবং সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখলকে অবৈধ হিসেবে রায় দেয়ার প্রসংগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর যখন এই রায় এল, সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার গণতন্ত্রকে সুসংহত করি। আমাদের সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদ যেখানে বলা আছে যে ‘এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ’ সেখানে আরেকটি অনুচ্ছেদ আমরা যুক্ত করে এই উচ্চ আদালতের রায় অনুসারেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি যে অপরাধী এবং সেটা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সেটা আমরা সংযুক্ত করি। এর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আমরা আইন পাশ করেছি। এই নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। তাকে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। বাজেটেও তাদের জন্য পৃথক বরাদ্দ দিয়েছি। এমনকি আগে বিচার বিভাগও আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ছিল সরকারের ওপর। কিন্তু আমরা সরকারে আসার পর বিচার বিভাগকেও সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করে দিয়ে সবক্ষেত্রেই তাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। আমরা এই বিষয়টা বিশ্বাস করি বলেই আমরা সেটা করতে পেরেছি, আওয়ামী লীগ সরকার করতে পেরেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেমন আমরা নিশ্চিত করেছি তেমনি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনকেও স্বাধীন করে দিয়েছি। যাতে তাঁরা আমাদের দেশের মানুষের অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে পারে।’

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি ড. ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড় বক্তৃতা করেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম এনায়তুর রহিম স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন ক্ষমতা জনগণের হাতে ছিল না, ক্যান্টনমেন্টেই বন্দি ছিল, এটাই হলো বাস্তবতা।’

তিনি বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই সুপ্রীম কোর্টকে কেননা তাঁরা যে আদেশটা দিয়েছিল সেটাই আমাদের বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়। দুর্ভাগ্যক্রমে প্রায় ২১ বছর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতা মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতেই কুক্ষিগত ছিল।’

সরকারপ্রধান বলেন, “মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে একটা মামলা ছিল। মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে ঐ মালিকানাটা দেয়া হয়েছিল অন্য কাউকে। যেটা নিয়ে আদালতে বিচার হয়। সেই বিচারের রায় দিতে গিয়েই সুপ্রিম কোর্ট এই মার্শাল ল’কে অবৈধ ঘোষণা করে। শুধু তাই নয় সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল যে সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক এবং অসাংবিধানিক ও অনির্বাচিত কেউ সরকারে থাকতে পারে না, এটা যে অবৈধ সেই ঘোষণাই জারি হয়। সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেয়। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ এনে দেয়। আর এর মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দেয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় এসে প্রথমেই রাজনীতিবিদদের গালি-গালাজ করেছে। এরপর নিজেরাই রাজনীতিবিদ হয়ে গেছে, উর্দ্দী ছেড়ে রাজনিতিবীদ সেজে দল গঠন করে নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করার জন্য সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসে সেই অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার প্রয়াস পেয়েছে। সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী এভাবেই তৈরি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের উচ্চ আদালতকে, কৃতজ্ঞতা জানাই সে সব জজ সাহেবদের যাঁরা রায় দিয়েছিলেন সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল ও মার্শাল ল’ জারি অবৈধ। আপনারা যদি ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত হিসেব করেন আজ দেশের যে আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে সেটা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত এবং একটা স্থিতিশীল পরিবেশ আছে বলেই সেটা সম্ভব হয়েছে। আজকে এটা প্রমাণিত সত্য যে মানুষের জীবনে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি, আর্থসামাজিক উন্নতি একমাত্র হতে পারে যখন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার সুযোগ হয়।’

‘দেশে একটি গণতান্ত্রিক ধারা বা পরিবেশ ছাড়া কখনও কোনো দেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারতবাসী সেদিক থেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান যে তাদের দেশে ধারাবাহিক গণতন্ত্র চলেছে। হয়তো সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং বিরোধী মতালম্বীরাও রয়েছেন কিন্তু গণতন্ত্র কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে আমাদের জীবনে তো এসেছে অমানিশার অন্ধকার। পাকিস্তান আমলে যে স্বৈরশাসন বলবৎ ছিল তা আবার ’৭৫ এর পরে টানা ২১ বছর স্বাধীন বাংলাদেশেও চলেছে।”

তিনি মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকেও এ সময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আমাদের ৯শ’ জনের অধিক বিচারক ভারতের ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেয়ায় ভারত সরকার এবং ভারতের সুপ্রীম কোর্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ‘ভারতের সুপ্রীম কোর্ট আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে বিভিন্ন কালজয়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ একই আইনের ও আইনী দর্শনের উত্তরাধিকারী হওয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্তসমূহ আমাদের উচ্চ আদালত দৃষ্টান্ত/রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করার নজির আছে। তাছাড়া, কমন-ল কান্ট্রিজ হওয়ার সুবাদে যেকোনো দেশ যেকারো রায়কে প্রিসিডেন্স হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের সাথে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের মিথষ্ক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে। আইনী জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশের আদালত ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ সমৃদ্ধ হবেন। ফলে দুদেশের বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় আরোহণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে উন্নত বিচার প্রশাসন বিনির্মাণে দুদেশের মধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’


দরিদ্রদের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজ করার উপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৩
বাসস

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আজ রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন-২০২৪’ উদ্বোধনকালে দরিদ্রদের জন্য চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজ করতে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গরিবদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয় বা অর্থের অভাবে অবহেলিত না হয়।’

বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং ইউএসএ ইন্টারভেনশনাল একাডেমি এ সম্মেলনের আয়োজন করে। অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ভুয়া চিকিৎসকদের দ্বারা কেউ যেন প্রতারিত না হয় সেজন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা প্রদান করা একটি চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সরকার ইতোমধ্যেই উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। রোগীদের সঙ্গে সদয় আচরণ করুন এবং রোগীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করুন।’ রাষ্ট্রপতি শিক্ষা, চিকিৎসা, সেবা ও গবেষণা কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার উন্নতির প্রশংসা করেন। দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা অপ্রতুল- উল্লেখ করে তিনি দেশের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও চিকিৎসকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বিশাল জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা-সেবা প্রদানে চিকিৎসক ও নার্সদের আরও আন্তরিক হতে হবে।’

চিকিৎসাকে একটি মহৎ পেশা হিসেবে উল্লেখ করে- তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ভুয়া চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার কারণে সমগ্র চিকিৎসক সমাজের সততা ও সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘কিছু অসাধু লোক, ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রের কারণে সাধারণ মানুষের মনে যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি না হয়- সে ব্যাপারে আপনারা সতর্ক থাকবেন।’

বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থার কথা উল্লেখ করে- রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক বিশ্বমানের চিকিৎসক রয়েছেন যাদের ওপর নির্ভর করা যায়।’

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরেন যা সারা বিশ্বে রোল মডেল তৈরি করেছে। এর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনের উদ্যোগের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে- রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হৃদরোগ বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ ও মতবিনিময় সভা চিকিৎসকদের, বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধকরনে সহায়ক হবে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘চিকিৎসা বিজ্ঞান সবসময় পরিবর্তনশীল। নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞান সেগুলো মোকাবেলায় অগ্রসর হয়। রোগের বিভিন্ন ধরণ ও প্রকৃতির কথা বিবেচনায় রেখে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।’ তিনি হৃদরোগ, ক্যান্সার, এইডস ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ প্রতিরোধে আরও সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও নিরাপদ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ- করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রতিটি নাগরিকের জন্য দূষণমুক্ত ও পরিবেশ-বান্ধব একটি সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে কল্যাণমূলক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করাই সরকারের লক্ষ্য।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরপরই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা-সেবা পৌঁছে দিতে তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।’

সাহাবুদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আপনাদের (চিকিৎসকদের) কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নতুন হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে- যার ফলে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।’

সম্মেলনে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, ইন্টারভেনশনাল একাডেমির কোর্স চেয়ারম্যান, ইউএসএ, ডা. রাজেশ এম দেব, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ ও বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান।


banner close