শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক ১৪৩৩

তীব্র দাবদাহ আরও ৫-৬ দিন

তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলে নেমে পড়েছেন কয়েকজন তরুণ। ছবিটি রোববারের। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৫ জুন, ২০২৩ ১৫:১৭
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৫ জুন, ২০২৩ ১৪:৪৯

দেশের কিছু জেলায় তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। বাকি অংশের ওপর দিয়ে মৃদু ও মাঝারি দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন আবহাওয়ার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে। তীব্র গরমের কারণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস ৫ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শিগগির বৃষ্টির কোনো লক্ষণ নেই। তীব্র দাবদাহের মধ্যে জনজীবন অসহনীয় করে তুলেছে লোডশেডিং। খোদ রাজধানীতে দিন-রাত মিলিয়ে ৬ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গ্রামপর্যায় এ পরিস্থিতি আরও অসহনীয়।

আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জুনের শুরুতে সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ছিল। রোববার দেশের বাতাসে ক্ষুদ্রকণার পরিমাণও ছিল বেশি। এতে বাতাসে দূষণের মাত্রাও বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে দেশে বড় ধরনের বা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তেমন নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ৬ মাস পার হলেও দিতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। দফায় দফায় দেনদরবার করেও ডলার পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ডলার পরিশোধ করেছে চীনা কয়লা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সিএমসিকে। কিন্তু তত দিনে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব মজুত কয়লা শেষের দিকে। এখন কয়লা আমদানি করলেও ২৫ জুনের আগে কেন্দ্রটি চালু হবে না। পায়রা কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ ঢাকায় সরবরাহ করত। এ কারণে ঢাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।

দাবদাহে পুড়ছে দেশ
সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে গতকাল রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাত-দিন মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলাগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের অবশিষ্টাংশসহ ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসমতে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
গ্রীষ্মের এই গরমে মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে বিদ্যুতের দেখা মিলছে কম। পাখা চলছে না। ভ্যাপসা গরমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি উন্নতি হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
জ্বালানির অভাবে ধুঁকে ধুঁকে বন্ধ হচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে লোডশেডিং। বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট জ্বালানি ব্যয় ৫ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রের ব্যয় ইউনিটপ্রতি ৩০ টাকার বেশি আর ফারনেসের উৎপাদন ব্যয় ১৪ টাকার কিছু বেশি। এ পরিস্থিতিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি চালালে সরকারকে প্রতিদিন অন্তত বাড়তি গুনতে হবে ১৫০ কোটি টাকা। কয়লা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে না আসা পর্যন্ত দেশের বিদ্যুতের পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। কয়লা আসতে সময় নেবে ২৫ জুন পর্যন্ত। এ পর্যন্ত থাকবে লোডশেডিং।

গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ এত বিপর্যয়ের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গতকাল রোববার সচিবালয়ে লোডশেডিং সম্পর্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘লোডশেডিং পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ লাগবে লোডশেডিং কমতে। বেশ কিছুদিন ধরে গ্রাহকরা দেখছেন যে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। জ্বালানি হিসেবে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের জোগান দিতে কষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে লোডশেডিং ধীরে ধীরে বেড়ে গেছে। লোডশেডিং পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কত দ্রুত কয়লা নিয়ে আসা যায়, তার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। দ্রুত সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা করছে।’

তবে গত বছরের জুলাইয়ের মতো সূচি করে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের চিন্তা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘তাপপ্রবাহ চলছে, তাই বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে গেছে। আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।’

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য তৈরি আছে। দুই মাস আগে থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু জ্বালানি আসার পেছনের বিষয় সব সময় তাদের হাতে থাকে না। অর্থনৈতিক বিষয়, জ্বালানি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার বিষয় থাকে; সব সমন্বয় করতে হয়। সমন্বয় কোথাও বাধাগ্রস্ত হলেই সমস্যা হয়। এবারও তাই হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, কয়লার অভাবে আজ রাত ১২টার পরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা। এর আগে ২৫ মে কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায় কয়লার অভাবে। নতুন করে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা ২৫ জুনের আগে আসবে না। এ সময় পর্যন্ত কেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরিতে বকেয়া পরিশোধ করায় পায়রা বন্ধ হলো
৬ মাসের বাকিতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমসি কয়লা দিত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। কয়লা দেয়ার ৬ মাস পর অর্থ পরিশোধ করত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসে সিএমসি বকেয়া কয়লা বাবদ প্রায় ৩০ কোটি ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া হয়। এই অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এরপর সিএমসি পায়রাকে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কয়লা বাকিতে সরবরাহ করে। এর পরও অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় চীনের বৈদেশিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার পিটি বায়ান্স রিসোর্স টিবিকের কাছ থেকে কয়লা বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করার বিষয়ে সিএমসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

গত ২৭ এপ্রিল বিসিপিসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠি দিয়ে অবহিত করে। এরপর কয়েক দফা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়ার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। এরপরই দুই মাসের কয়লা সরবরাহে রাজি হয়েছে সিএমসি।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিকই ডলারের সংস্থান করল। কিন্তু যখন তারা ডলার দিল তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশ দেশের লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি অবনমের পেছনে অন্যতমভাবে দায়ী।’

লোডশেডিং
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদার কথা যখন বলা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। আর তখন সরবরাহ করা হচ্ছে ১২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি গড়ে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দুজন প্রকৌশলী পরিচয় গোপন রেখে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দেশে পিক আওয়ার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রকৃত চাহিদা থাকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। আর এ সময় ১৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে গিয়ে পিডিবির নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে। ঘাটতি থাকছে ৪ হাজার মেগাওয়াট। এটি মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ ভাগ। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।’ ঢাকার চেয়ে গ্রামে এই পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ বলেও ওই দুই কর্মকর্তার মত।


নির্বাচিত

অবশেষে ডিবি হারুনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার

গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অপরাধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী তাঁর এ আচরণকে ‘পলায়ন’ হিসেবে সাব্যস্ত করে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর বিবেচনা করে ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের আদেশ বহাল হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করে নিখোঁজ থাকেন তিনি। স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও ই-মেইলে বারংবার তলব করা সত্ত্বেও তিনি কাজে ফেরেননি। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি বা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেননি।

পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুসারে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তদন্তের পর পুনরায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে নোটিশ জারি করা হলেও তিনি নীরব থাকেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্তের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে সাংবিধানিক সংস্থাটিও তাঁকে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করে। সার্বিক নথিপত্র মূল্যায়নের পর সরকার এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।

বিষয়:

নির্বাচিত

এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, সম্পূরক পরীক্ষায়ও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না কিংবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের বাদ দেওয়া হবে না। বরং তাদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও আগের ফলাফল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে যাতে কোনো ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা না থাকে, সে জন্য এবার প্রতিটি পরীক্ষককে কমসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফলাফল কমে যাওয়ার কারণ ও শিক্ষার ঘাটতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে। এটি কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতির কারণে হয়নি। বরং সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে।

অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন উপায়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কারচুপির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে অতীতে বড় ধরনের ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি একসময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান সরকার কঠোর হাতে এসব দমন করেছে।

ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে ফলের অবনতি ঠেকাতে ইতোমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

যেসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম বা পাসের হার শূন্য, সেগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভালো ফল করা পাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাতে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু বড় শহর নয়, গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করতে না পারে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দেশে পৌঁছাল রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৭ শ্রমিকের মরদেহ

বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো অবশিষ্ট সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে যাবতীয় দাপ্তরিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর কফিনগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তীতে শেষকৃত্য ও দাফনের উদ্দেশ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি নওগাঁ ও নাটোরে নিয়ে যাওয়া হবে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ওই ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তবে অবশিষ্ট সাতজনের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে ঝলসে যাওয়ায় শুরুতে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করার পরই তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানোর পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিষয়:

নির্বাচিত

বিগ-বি শুধু বাংলাদেশ-জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, তৃতীয় দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি

* প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে ফলপ্রসূ * জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের প্রস্তাব
ছবি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে। সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশের পাশাপাশি ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগে তৃতীয় কোনো দেশকে যুক্ত করা কিংবা বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘বিগ-বি’ সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের উদ্যোগ। এর সঙ্গে অন্য কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়নি।

বিগ-বিকে ‘শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির পর্যায়ে উন্নীত করার মধ্য দিয়ে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে নেপাল, ভুটান ও ভারতকে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। যৌথ বিবৃতিতেও তৃতীয় কোনো দেশের উল্লেখ নেই।

তিনি বলেন, যৌথ যোগাযোগ বিবৃতিতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তৃতীয় কোনো দেশ কিংবা বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কোনো আলোচনারও উল্লেখ নেই। বিগ-বি মূলত বাংলাদেশ ও জাপানের একান্ত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের উদ্যোগ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও বাড়ানোর বিষয়ে জাপানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতিকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মানবসম্পদ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন।

গত ২৬ অক্টোবর জাপানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে জাপানের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করতে পারে বলেও আলোচনা হয়েছে।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি ইয়েন-ঋণ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান সহায়তার চুক্তিও হয়েছে।

সরকারি পর্যায়ের চুক্তির পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও সহযোগিতার অগ্রগতি হয়েছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সফরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করা। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও আইসিটি অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নে কাজ করবে দুই দেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়ন, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং দুই দেশের ধারাবাহিক সহযোগিতার ওপর।


নির্বাচিত

ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপের দাবি দীপের, আশ্বস্ত নয় পিবিআই

* তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, মোটরসাইকেল উদ্ধার
ছবি: বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক ও টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। তার দাবি, ঘটনার রাতে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ইউনিফর্মধারী ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে দীপের এই বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এদিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে সংস্থাটি। সেটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এ সময় তিনি ঘটনার রাতের বিবরণ দেন। পিবিআই জানায়, ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নৌপুলিশের তদন্তের পাশাপাশি তারাও ছায়া তদন্ত করছে এবং নৌপুলিশকে সহযোগিতা করছে।

পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দীপের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি তাহসিফকে নিয়ে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দীপ কোনোমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে দীপ বলেন, দূর থেকে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করছিলেন। তখন তিনি ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে গিয়ে দাঁড়ান, যাতে ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তিরা তাকে দেখতে না পান। তাহসিফ দৌড়ে গেলেও তিনি দৌড়াননি; হেঁটে সেখান থেকে চলে আসেন বলে দাবি করেন।

তবে দীপের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তদন্তকারীদের। পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, দীপের বক্তব্যে তারা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। মামলার অন্যান্য দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। স্থানীয় চায়ের দোকানি জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখেছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সেটি নিয়ে যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। সংস্থাটির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েতুর রহমান মান্না জানান, পিবিআই উত্তর বিভাগের একটি দল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে তাকে হেফাজতে নেয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করা সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যেতে দেখা যায়। ওই যুবকই তার জুনিয়র বন্ধু দীপ বলে জানান স্বজনেরা। তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, ছেলের মা বারবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

পরদিন বুধবার বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীর পাড়ে বাঁধা একটি স্পিডবোটে আটকে ছিল তার মরদেহ।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্‌ঘাটনে দীপের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আলামত যাচাই করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পিবিআই।


নির্বাচিত

অনলাইনে সহিংসতার শিকার ৪৫ শতাংশ নারী, আইনের আশ্রয় নেন মাত্র ৪ শতাংশ

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ হার ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে ভুক্তভোগীদের মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পুলিশের সহায়তা নিয়েছেন। পুলিশের কাছে যাওয়া নারীদের ৮১ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের মামলায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে অথবা কোনো অগ্রগতিই হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বোঝা ও মোকাবিলা’ শীর্ষক গবেষণার তথ্য রাজধানীর মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণী ও শিক্ষার্থীরা অনলাইন সহিংসতার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন। হয়রানি, অর্থনৈতিক প্রতারণা, ছবি ও যৌন নির্যাতন, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা, সাইবার অনুসরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও এ সহিংসতার উল্লেখযোগ্য ধরন। ফেসবুক ও মেসেঞ্জার এ ধরনের সহিংসতার প্রধান মাধ্যম।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ৫৬ শতাংশ ভুক্তভোগী। এ ছাড়া ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী মনে করেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় সমাজে ভুক্তভোগীদেরই দোষারোপ করা হয়। ৬৭ শতাংশ নারী কখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ পাননি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি জানান, গবেষণাটির লক্ষ্য সহিংসতার কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংকট চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের করণীয় তুলে ধরা। গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহারজনিত সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান গবেষক সায়েমা চৌধুরী বলেন, ‘ডিজিটাল সচেতনতার অভাব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে না জানার কারণে নারীরা অর্থনৈতিক শোষণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’

উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম বলেন, ‘ভুয়া পরিচয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করা, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও দ্রুত তদন্তে পুলিশকে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন নারী অধিকার, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নভেম্বরে প্যাকেটজাত মসলা ও চা বিক্রি শুরু করবে টিসিবি

* ভর্তুকির নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্য * আগামী অর্থবছরে গ্রাহক এক কোটি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আটা ও আরও কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, আটা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে নতুন পণ্য যুক্ত করা হবে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পণ্যগুলো প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে সংস্থাও সামান্য মুনাফা অর্জন করছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক আয় বাড়িয়ে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়াই সংস্থাটির লক্ষ্য।

ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন দক্ষতার ওপর।

বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, নতুন পণ্য বিক্রি শুরুর পর গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চান তারা। নতুন পণ্য যুক্ত হলেও ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে বিক্রি হওয়া পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এসব পণ্য আগের দামেই বিক্রি অব্যাহত থাকবে।

নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম রাখা হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্য হলো, যাতে ভোক্তারা টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় পরিবারের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য কিনতে পারেন।

এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করছে টিসিবি। তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং এপিআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। এ ছাড়া পরিবহন ও পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থা চালু করেছে সংস্থাটি।

ফয়সল আজাদ বলেন, শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়, পাশাপাশি আয়ও বাড়াতে হবে। ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পণ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি জানান, চিনি ও অন্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে কেনে না টিসিবি। বাজার পরিস্থিতি ও সরকারের প্রয়োজন বিবেচনায় এসব পণ্য সংগ্রহ করা হয়।

তিনি বলেন, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টিসিবি পেঁয়াজ কিনেছিল। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের সংকট না থাকায় নতুন করে কেনার পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজন মনে করলে পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে।

টিসিবির প্রত্যাশা, নতুন পণ্য যুক্ত করা এবং গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে একদিকে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগোতে পারবে সংস্থাটি।


নির্বাচিত

শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী টুকু

ছবি: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আপডেটেড ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশে কিছুটা বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে সেই ঘাটতি কমেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ময়মনসিংহের ভালুকায় আবাসিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিটিআরএস) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে ঋণ নিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। অথচ মুখে মুখে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা বলেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি যা বলে, তা করে। প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন, আমরাও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা দেখেছেন, উন্নয়নের কিছুই হয়নি।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বাড়িতে ২০ কিলোওয়াট পিক এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল রানার বাড়িতে ৫ কিলোওয়াট পিক সক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ সময় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করা হবে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

সরকারি আবাসন থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের সিদ্ধান্ত, নির্দেশ অমান্য করলে ব্যবস্থা

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসন বরাদ্দ নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন সরকারি চাকুরিজীবী আবাসন সুবিধা বরাদ্দ নিয়ে নিজে বসবাস না করে অন্য কারো কাছে বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন—এমন সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে সরকার।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এর মধ্যে এসব বাসা থেকে ভাড়াটে ও সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বাসা বাতিলের পাশাপাশি শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এ বিষয়ে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনাটি জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু সরকারি চাকরিজীবী তাদের নামে বরাদ্দ করা বাসার এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা পুরো ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া বাসার সম্পূর্ণ অংশ বা আংশিক কোনো অংশই অন্যের কাছে ভাড়া কিংবা সাবলেট দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে যারা এ ধরনের ব্যবস্থা করেছেন, তাদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি বরাদ্দ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই সংশ্লিষ্ট বাসায় অবস্থান ও বসবাস করতে হবে।

নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২ অনুযায়ী বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া বিধিমালার ১৪(৩) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।

আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর আজিমপুর, মতিঝিল, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব বাসা যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকে সেখানে বসবাস না করে অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিব নিবাস এবং ৭৯টি বাংলো রয়েছে। গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি এবং গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি বাসা বরাদ্দ রয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি, গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি এবং শুধু গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৭৭৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। কর্মচারীদের মধ্যে ১২ ও ১৩ গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫ গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭ গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০ গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট রয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে কারিগরি ত্রুটি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক এয়ার কমডোর মো. নিয়ামুল কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিমানের চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং) এই তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন) এবং ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি)। এ ছাড়া কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক)-কে। গঠিত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে উড়োজাহাজটিতে সংঘটিত কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন উদ্ঘাটন এবং উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ফ্লাইট বিলম্ব, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তাও নিরূপণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মীর দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা যাচাই করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করবে কমিটি।

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে উড়োজাহাজটির ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় ককপিটে উড়োজাহাজের স্পয়লার-সংক্রান্ত ত্রুটির একটি সতর্কবার্তা দেখতে পান পাইলট। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়ন বাতিল করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন করে উড়োজাহাজটি নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।


নির্বাচিত

খুতবা চলাকালে কথাবার্তা নয়, মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অনেক মসজিদে জুমার খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের পারস্পরিক কথোপকথন, অনর্থক গল্প কিংবা উচ্চস্বরে দরুদ পাঠ করতে দেখা যায়। আবার ঈদের জামাতেও ইমামের সঙ্গে সমস্বরে উচ্চৈঃস্বরে তাকবিরে তাশরিক বলার প্রচলন দেখা যায় অনেকের মাঝে। তবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জুমআ ও ঈদের খুতবা পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে নীরবে শ্রবণ করা প্রত্যেক মুসল্লির জন্য ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন যেকোনো ধরনের কথাবার্তা বলা, পার্থিব কাজে লিপ্ত হওয়া এবং এমনকি তাসবিহ-তাহলিল বা ব্যক্তিগত জিকির-আজকারে মশগুল থাকাও শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

হাদিস গ্রন্থ সহিহ ইবনে খুযাইমায় বর্ণিত একটি ঘটনায় খুতবার গুরুত্ব ও কথা বলার পরিণতির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। হজরত আবু যার (রা.) বর্ণনা করেন, একবার খুতবা দেওয়ার সময় মহানবী (সা.) সুরা তাওবা (বারাআত) পাঠ করছিলেন। সে সময় আবু যার (রা.) পাশে থাকা সাহাবি হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করেন যে এই সুরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে। প্রশ্ন শুনে উবাই (রা.) কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন এবং পরপর তিনবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও নিরবতা বজায় রাখেন। নামাজ শেষে কারণ জানতে চাইলে উবাই (রা.) বলেন, খুতবার সময় কথা বলার কারণে আবু যার (রা.) মূলত জুমার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নবীজি (সা.)-এর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, উবাই একদম সঠিক কথাই বলেছেন।

খুতবার সময় চুপ থাকার গুরুত্ব এতটাই কঠোর যে, অন্য কাউকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কথা বলাও শরিয়তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) উল্লেখ করেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন—ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন, তখন যদি তুমি তোমার পাশের ব্যক্তিকে কেবল ‘চুপ থাকো’ বলেও নির্দেশ দাও, তবে তুমি নিজেও একটি অনর্থক বা ভুল কাজ করলে। এ ছাড়া তাবেয়ি হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও ইমাম যুহরি (রহ.)-এর মতো প্রখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিতদের মতে, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নফল নামাজ পড়া যায় না এবং তিনি খুতবা শুরু করার পর কোনো কথা বলার অনুমতি থাকে না।

এসব নির্ভরযোগ্য হাদিস ও সাহাবিদের আমলের আলোকে ফকিহ ও ইসলামিক স্কলাররা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, খুতবা চলাকালে মুক্তাদিদের পুরোপুরি নীরবতা বজায় রাখা আবশ্যক। তাই খুতবার ভেতরে মুখে কোনো তাসবিহ পড়া, উচ্চৈঃস্বরে দরুদ পাঠ করা কিংবা ইমাম সাহেবের সঙ্গে সঙ্গে জোরে তাকবিরে তাশরিক বলা থেকেও মুসল্লিদের সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরি। ইমামের বক্তব্য নিবিষ্টচিত্তে শোনাই খুতবার একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিধান।


নির্বাচিত

এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। একই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রতিবেশী দেশ নেপালকেও সমপরিমাণ বর্ধিত সময় দেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের উত্তরণের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। মূলত অর্থনৈতিক খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন এবং প্রক্রিয়াটি টেকসই করতে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বৃদ্ধি করা হলো।

জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অভিঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এলডিসি উত্তরণ কাঠামোয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির নিয়মিত কারণ হিসেবে গণ্য না করা হলেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জটিল পরিস্থিতি ও বিশেষ বাস্তবতা আলাদা বিবেচনার দাবি রাখে। বর্ধিত এই সময়ে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত ইউএনসিডিপিকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের দুই দিনের মাথায় সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে সময় বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ইউএনসিডিপির ২৮তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের মূল্যায়নের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) হয়ে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য আসে। এ প্রক্রিয়ায় জি-৭৭ ভুক্ত দেশসমূহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানায়। এই তিন বছর সময় বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী পণ্যগুলোতে গড়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হলো। ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে পাওয়া বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, যা দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭৩ শতাংশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

উল্লেখ্য, মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (ইভিআই)—এই তিনটি মানদণ্ডই সফলভাবে পূরণ করে ২০১৮ ও ২০২১ সালের ধারাবাহিক পর্যালোচনায় উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের পর্যালোচনায়ও বাংলাদেশ নির্ধারিত সব মানদণ্ডের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল; যেখানে মাথাপিছু আয়ের নির্ধারিত সীমা ১ হাজার ৩০৭ ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের আয় ছিল ২ হাজার ৬৮৪ ডলার। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এলডিসি হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে অর্জিত উন্নয়ন অগ্রগতিকে সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভাব্য বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলা করে একটি টেকসই ভিত্তি নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।


নির্বাচিত

ঢাকায় বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আজ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য প্রযোজ্য আবহাওয়ার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পূর্বাভাসের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় ঢাকা ও আশপাশের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এছাড়া অঞ্চলটিতে উত্তর-পূর্ব অথবা উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকা ও বৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে দিনের তাপমাত্রায় কিছুটা শীতল ভাব বজায় থাকতে পারে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সে সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৫ শতাংশ। আজ ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে আগের দিন বৃহস্পতিবার নগরীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন অংশে সামান্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার রাজধানীতে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে।


নির্বাচিত

banner close