দেশের কিছু জেলায় তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। বাকি অংশের ওপর দিয়ে মৃদু ও মাঝারি দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন আবহাওয়ার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে। তীব্র গরমের কারণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস ৫ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শিগগির বৃষ্টির কোনো লক্ষণ নেই। তীব্র দাবদাহের মধ্যে জনজীবন অসহনীয় করে তুলেছে লোডশেডিং। খোদ রাজধানীতে দিন-রাত মিলিয়ে ৬ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গ্রামপর্যায় এ পরিস্থিতি আরও অসহনীয়।
আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জুনের শুরুতে সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ছিল। রোববার দেশের বাতাসে ক্ষুদ্রকণার পরিমাণও ছিল বেশি। এতে বাতাসে দূষণের মাত্রাও বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে দেশে বড় ধরনের বা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তেমন নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ৬ মাস পার হলেও দিতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। দফায় দফায় দেনদরবার করেও ডলার পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ডলার পরিশোধ করেছে চীনা কয়লা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সিএমসিকে। কিন্তু তত দিনে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব মজুত কয়লা শেষের দিকে। এখন কয়লা আমদানি করলেও ২৫ জুনের আগে কেন্দ্রটি চালু হবে না। পায়রা কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ ঢাকায় সরবরাহ করত। এ কারণে ঢাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।
দাবদাহে পুড়ছে দেশ
সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে গতকাল রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাত-দিন মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলাগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের অবশিষ্টাংশসহ ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসমতে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
গ্রীষ্মের এই গরমে মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে বিদ্যুতের দেখা মিলছে কম। পাখা চলছে না। ভ্যাপসা গরমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি উন্নতি হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
জ্বালানির অভাবে ধুঁকে ধুঁকে বন্ধ হচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে লোডশেডিং। বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট জ্বালানি ব্যয় ৫ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রের ব্যয় ইউনিটপ্রতি ৩০ টাকার বেশি আর ফারনেসের উৎপাদন ব্যয় ১৪ টাকার কিছু বেশি। এ পরিস্থিতিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি চালালে সরকারকে প্রতিদিন অন্তত বাড়তি গুনতে হবে ১৫০ কোটি টাকা। কয়লা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে না আসা পর্যন্ত দেশের বিদ্যুতের পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। কয়লা আসতে সময় নেবে ২৫ জুন পর্যন্ত। এ পর্যন্ত থাকবে লোডশেডিং।
গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ এত বিপর্যয়ের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গতকাল রোববার সচিবালয়ে লোডশেডিং সম্পর্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘লোডশেডিং পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ লাগবে লোডশেডিং কমতে। বেশ কিছুদিন ধরে গ্রাহকরা দেখছেন যে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। জ্বালানি হিসেবে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের জোগান দিতে কষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে লোডশেডিং ধীরে ধীরে বেড়ে গেছে। লোডশেডিং পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কত দ্রুত কয়লা নিয়ে আসা যায়, তার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। দ্রুত সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা করছে।’
তবে গত বছরের জুলাইয়ের মতো সূচি করে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের চিন্তা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘তাপপ্রবাহ চলছে, তাই বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে গেছে। আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।’
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য তৈরি আছে। দুই মাস আগে থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু জ্বালানি আসার পেছনের বিষয় সব সময় তাদের হাতে থাকে না। অর্থনৈতিক বিষয়, জ্বালানি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার বিষয় থাকে; সব সমন্বয় করতে হয়। সমন্বয় কোথাও বাধাগ্রস্ত হলেই সমস্যা হয়। এবারও তাই হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, কয়লার অভাবে আজ রাত ১২টার পরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা। এর আগে ২৫ মে কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায় কয়লার অভাবে। নতুন করে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা ২৫ জুনের আগে আসবে না। এ সময় পর্যন্ত কেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরিতে বকেয়া পরিশোধ করায় পায়রা বন্ধ হলো
৬ মাসের বাকিতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমসি কয়লা দিত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। কয়লা দেয়ার ৬ মাস পর অর্থ পরিশোধ করত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসে সিএমসি বকেয়া কয়লা বাবদ প্রায় ৩০ কোটি ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া হয়। এই অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এরপর সিএমসি পায়রাকে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কয়লা বাকিতে সরবরাহ করে। এর পরও অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় চীনের বৈদেশিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার পিটি বায়ান্স রিসোর্স টিবিকের কাছ থেকে কয়লা বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করার বিষয়ে সিএমসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
গত ২৭ এপ্রিল বিসিপিসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠি দিয়ে অবহিত করে। এরপর কয়েক দফা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়ার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। এরপরই দুই মাসের কয়লা সরবরাহে রাজি হয়েছে সিএমসি।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিকই ডলারের সংস্থান করল। কিন্তু যখন তারা ডলার দিল তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশ দেশের লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি অবনমের পেছনে অন্যতমভাবে দায়ী।’
লোডশেডিং
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদার কথা যখন বলা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। আর তখন সরবরাহ করা হচ্ছে ১২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি গড়ে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দুজন প্রকৌশলী পরিচয় গোপন রেখে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দেশে পিক আওয়ার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রকৃত চাহিদা থাকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। আর এ সময় ১৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে গিয়ে পিডিবির নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে। ঘাটতি থাকছে ৪ হাজার মেগাওয়াট। এটি মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ ভাগ। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।’ ঢাকার চেয়ে গ্রামে এই পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ বলেও ওই দুই কর্মকর্তার মত।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির (Sanae Takaichi) আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কমিশন ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ধাপের চার্জ বাড়াতে একযোগে দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ব্যবসায়ীদের দাবির তুলনায় কম হারে কমিশন ও চার্জ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি। সুপারিশ কার্যকর হলে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বর্তমান ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা হতে পারে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, সরবরাহসংকট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোক্তা প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণবিষয়ক গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব ও আপত্তি উঠে আসে। শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লিখিত মতামত জমা দেওয়ার জন্য ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে কমিশন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামী সপ্তাহে নতুন দাম ঘোষণা করা হতে পারে। এদিকে নভেম্বর মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
কমিশন বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের: বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন ২০০ টাকা। এটি বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি কমিশন ২৮০ টাকা করার সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ, সিলিন্ডারপ্রতি আমদানিকারকদের কমিশন ৮০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি।
অন্যদিকে পরিবেশকেরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। কারিগরি কমিটি খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৭০ টাকা করার সুপারিশ করলেও পরিবেশকদের দাবির বিষয়ে একই ধরনের সুপারিশ করেনি। অটোগ্যাস স্টেশন মালিকেরাও প্রতি লিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এলপিজি মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ানোর দাবিও এসেছে। বর্তমানে অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে পরিবেশক পর্যন্ত পরিবহনসহ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা। ব্যবসায়ীরা তা ২৭ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৯২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কারিগরি কমিটি এই চার্জ ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করেছে।
পরিবেশক পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতার আঙিনা পর্যন্ত পরিবহনসহ চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব ছিল ৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতার চার্জ প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৮৩ পয়সা করার সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি।
সব খরচ বিবেচনায় কারিগরি কমিটির হিসাবে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা হতে পারে। এ হিসাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াবে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা। অর্থাৎ, সিলিন্ডারপ্রতি দাম বাড়তে পারে ১৩৯ টাকা।
ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি ব্যবসায়ীদের: কমিশন ও চার্জ বাড়ানোর পক্ষে যুদ্ধের প্রভাব, জাহাজভাড়া, পরিবহন এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরেছেন ব্যবসায়ীরা।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগে জাহাজভাড়াসহ প্রিমিয়াম প্রতি টনে ৮০ থেকে ১২০ ডলার থাকলেও এখন তা বেড়ে ২৫০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। সব ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা উচিত, যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ গ্যাস বিক্রি না করেন।
নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ: ব্যবসায়ীদের ব্যয় বৃদ্ধির দাবির বিপরীতে ভোক্তা প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন, গ্রাহকেরা কেন বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাচ্ছেন না। অক্টোবরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপরও অনেক গ্রাহককে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা বিইআরসির দায়িত্ব। তা না হলে গণশুনানির উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। তিনি দাম না বাড়ানোর পাশাপাশি কমিশন নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বারবার দাম বাড়ানো হলে বিইআরসির ওপর গ্রাহকদের আস্থা কমতে পারে। নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা এবং বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মিজানুর রহমানও মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে কয়েকটি কোম্পানিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সেসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগেই কমিশন বৃদ্ধির শুনানি হচ্ছে। তার দাবি, বাড়তি দামে বিক্রির মাধ্যমে এক মাসে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ১১ লাখ টাকা জরিমানার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, এই জরিমানার মাধ্যমে অতিরিক্ত আদায় করা অর্থের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে কি না। শুনানিতে এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে শুনানি বর্জনের ঘোষণা দেন।
সরবরাহসংকট নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: শুনানিতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা আমদানিকারক ও অপারেটরদের বিরুদ্ধে সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, সংকট দেখা দিলে কোম্পানিগুলো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হওয়ায় বিইআরসি নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, আমদানি করতে না পারা কয়েকটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বাজারে পাইকারি দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
জবাবে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলছে।
গণশুনানি শেষে কমিশন জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব, কারিগরি কমিটির সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নভেম্বরেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম: এদিকে নভেম্বর মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বর্তমান নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে। গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এসব দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।
জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ কার্যকর হলে রান্নার গ্যাসের জন্য পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যে নতুন দাম কার্যকর হলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর গ্রাহকদের।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রক্রিয়ায় এগোনোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম। এতে দেশের বৃহৎ এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিট চালুর প্রস্তুতি নতুন গতি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদনের বিষয়টি জানা যায়। সংশ্লিষ্ট কারিগরি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তৈরি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে রসাটমের বাংলাদেশি জনসংযোগ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি: রূপপুরের প্রথম ইউনিটে চালুর প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রিটিক্যালিটির দিকে এগোনো হচ্ছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক পারমাণবিক বিভাজন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা ও প্রযোজ্য নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে প্রকল্পটির বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে। রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক পরীক্ষা ও প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় স্টেজ বি-১-এর কাজ এগিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে প্রাথমিক পরিচালনার উপযোগী করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে শক্তি বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বিভিন্ন কারিগরি সরঞ্জাম ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। নির্ধারিত শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের দিকে এগোনো সম্ভব হবে।
রসাটমের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানির প্রাথমিক লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসে ইউনিটটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে পৌঁছেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক।
দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে: প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতিতেও অগ্রগতি হয়েছে। রসাটমের জ্বালানি বিভাগের অধীন সাইবেরিয়ায় অবস্থিত নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেট প্ল্যান্টে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকেই প্রথম চালানটি বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
দেশে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব জ্বালানি রূপপুর কেন্দ্রে ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করা হবে। জ্বালানির অখণ্ডতা, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণের বিষয়গুলো পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
রসাটমের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ, প্রধান ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব পরীক্ষা ও পরিদর্শন পরিচালনা করবে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই জ্বালানি ব্যবহারের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিং বা জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানিও সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত জ্বালানি চক্র অনুসারে পরবর্তী সময়ে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।
২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সম্ভাবনা: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জেনারেশন থ্রি-প্লাস প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে।
এই বিদ্যুৎ দেশের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নগর অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনাতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাড়বে। উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরি, পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তামান অনুসরণের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এগোচ্ছে কার্যক্রম: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে প্রতিটি কারিগরি ধাপ নির্ধারিত নিয়ম ও নিরাপত্তাবিধি অনুসারে সম্পন্ন করা জরুরি। রূপপুরেও জ্বালানি ব্যবহার থেকে শুরু করে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জ্বালানি অ্যাসেম্বলির পরিদর্শনে দৃশ্যমান অবস্থা ও যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানির অখণ্ডতা এবং নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান পূরণের বিষয়টি যাচাই করা হবে। পাশাপাশি রিঅ্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও অন্যান্য কারিগরি ব্যবস্থার কার্যকারিতাও পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।
প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং এবং সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে চালুর প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে এসব অগ্রগতি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সমতুল্য নয়। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে হলে শক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো, বিভিন্ন শক্তিস্তরে পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অপেক্ষা: রূপপুর প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টরের শক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরীক্ষা, বিভিন্ন শক্তিস্তরে কার্যকারিতা যাচাই, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা মূল্যায়ন। এসব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানো রূপপুর প্রকল্পের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি পূর্ণ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাবে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে সই হওয়া ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ। অথচ চুক্তি নবায়নের আলোচনা এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পায়নি। ফলে নতুন সমঝোতা না হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নদী ও সুন্দরবনের পরিবেশে। একই সঙ্গে গঙ্গা অববাহিকার কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
শুকিয়ে যাচ্ছে নদী, বদলে যাচ্ছে জীবন: বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের ৭২ বছর বয়সি বাসিন্দা বিকাশ সোরেনের স্মৃতিতে এখনো ভাসে গঙ্গার পুরোনো রূপ। একসময় ভারত থেকে আসা এই নদীতে সারা বছর বড় বড় নৌকা চলাচল করত। এখন বছরের একটি বড় সময় নদীর অনেক অংশে পানির প্রবাহ থাকে না বললেই চলে।
বিকাশ সোরেন বলেন, এখন বছরের প্রায় তিন মাস নদীর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না।
তিনি জানান, গত মৌসুমে পানির অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ায় দুজন কৃষক আত্মহত্যা করেন। নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
৫৫ বছর বয়সী আবু বকর সিদ্দিক একসময় নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরতেন। কিন্তু মাছ কমে যাওয়ায় এখন তাকে পুকুরে মাছ চাষের দিকে ঝুঁকতে হয়েছে। তার আক্ষেপ, ‘এখন আমরা মাছ কোথায় পাব?’
বাংলাদেশে গঙ্গা নদী পদ্মা নামে পরিচিত। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, প্রায় ২ হাজার ৫২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী বিশ্বের অন্যতম জনবহুল অববাহিকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির সঙ্গে প্রায় ৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা জড়িত, যাদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষ রয়েছেন।
ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ৩০ বছরের চুক্তি: ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ২০ কিলোমিটার উজানে ভারতের ফারাক্কা বাঁধ এলাকায় দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন নির্ধারণ করা হয়।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন সমঝোতা নিয়ে অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশে। চুক্তি নবায়নের আলোচনা শুরুর অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো তাতে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পানিবণ্টনবিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এএফপিকে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিন্ন নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গত মে মাসে। অন্যদিকে সরকারি পর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া সর্বশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল ২০২২ সালে, দীর্ঘ ১২ বছরের বিরতির পর।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের মধ্যে গঙ্গা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তিও ২০১১ সাল থেকে ঝুলে আছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন: গঙ্গা চুক্তি নবায়নের আলোচনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কেও টানাপোড়েন রয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন শুধু পরিবেশ বা কারিগরি ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার সঙ্গেও জড়িত। ফলে নতুন চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নিতে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফারাক্কা বাঁধ থেকে দীর্ঘদিনের বিরোধ: গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বিরোধের সূত্রপাত ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর সময় থেকে। প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধের মাধ্যমে গঙ্গার পানি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে ১৯৭৭ সালে দুই দেশ পানিবণ্টন চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে সেই ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবারও সংকট তৈরি হয়।
ঢাকাভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন এএফপিকে বলেন, চুক্তি না থাকায় গঙ্গা নদী একসময় চরম সংকটে পড়েছিল এবং অন্তত তিনটি নদী প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল।
এসব নদীর মধ্যে গড়াই অন্যতম। সুন্দরবনে মিঠাপানি সরবরাহে নদীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার বিস্তার মোকাবিলায় সুন্দরবনের মিঠাপানির প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ। গড়াইয়ের পানিপ্রবাহ কমে গেলে এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটির বাস্তুতন্ত্রেও।
সেচব্যবস্থায় সংকট, কমছে কৃষিজমির আওতা: গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের কৃষি ও সেচব্যবস্থায়। শেখ রোকনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহৎ গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পও পানির অভাবে কার্যকারিতা হারিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ৯৫৫ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পটির সেচের আওতা কমে ৫৫০ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে।
পানির সংকট মোকাবিলায় গত মে মাসে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি অভিন্ন নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে শুধু সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে কৃষির দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধান করা কঠিন।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ঝুঁকি: বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের সাবেক সদস্য মালিক ফিদা এ খান অভিযোগ করেছেন, ভারত উজানে অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ করেছে। তার মতে, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পুরো নদী অববাহিকাকে বিবেচনায় রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে তার পরিণতি হবে বিপর্যয়কর। কারণ, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানের বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব বাড়ছে, অন্যদিকে বর্ষায় বন্যায় ফসলি জমি ও বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা দেশের খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গত কয়েক বছরে পদ্মা নদীর প্রস্থ কোনো কোনো স্থানে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নদীর গতিপথ ও প্রবাহের পরিবর্তন স্থানীয় মানুষের বসতি ও জীবিকার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
ফিল্টের হাট গ্রামের ৫০ বছর বয়সি রেহানা খাতুন নদীভাঙন ও বন্যার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বন্যার তোড়ে তার ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তিনি জানান, তখন নদী থেকে বিকট গর্জন শোনা যাচ্ছিল।
বাঁশের তৈরি ঝুপড়িতে বসবাস করা রেহানা বলেন, নদীটা যেন দানবের মতো হয়ে গিয়েছিল, পাড়ের সবকিছু গিলে খাচ্ছিল। বন্যার পানি নেমে গেলেও সেই আতঙ্ক শিশুদের মন থেকে সহজে দূর হয় না।
নতুন চুক্তি না হলে কী হবে: ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন সমঝোতা না হলে পানিবণ্টনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
শেখ রোকনের আশঙ্কা, দুই দেশ নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে আগের চুক্তিহীন সময়ের চেয়েও পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। কারণ, বর্তমানে উভয় দেশেই মিঠাপানির চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ঘাঁটি বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় ৭টি দেশের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৫ দিনব্যাপী ‘Brown Water Operation and Anti Human Trafficking Course-2026’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, কেনিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মোট ৮ জন বিদেশি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২ জন এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ২ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। মোট ১২ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে এই কোর্সটি সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান, এনবিপি, বিএসপি, বিসিজিএম, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি-সহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, "দেশের সমুদ্রসীমা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে বাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।" তিনি সফল আয়োজনের জন্য কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক ও বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রার কমান্ড্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় অভিযান পরিচালনা, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহের সাথে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে বিশ্বমানে উন্নীত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
কোর্সের বিষয়বস্তু বা সংবাদের বিন্যাসে অতিরিক্ত কোনো পরিবর্তন বা তথ্য যুক্ত করতে চাইলে জানাবেন!
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে তার ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে করে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। ত্রুটি ধরা পড়ার পর তাকে বহনকারী বিমানটি টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটির উড্ডয়নের কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর ককপিট থেকে পাইলট জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রা বিলম্ব হচ্ছে। এ জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ২৬ অক্টোবর টোকিও যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।
এ ছাড়া বৈঠক করেন জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
পাশাপাশি কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সফরের শেষ ভাগে টোকিওতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
চার দিনের ফলপ্রসূ সরকারি সফর সমাপ্ত করে জাপানের টোকিও থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১৮ মিনিট) প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
এর আগে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছান সরকারপ্রধান। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। এ ছাড়া জাপানের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি এবং অর্থলগ্নিকারী সংস্থাগুলোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন তিনি। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন করে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
জাপান অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
বিগত ১৭ বছরে ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছানো দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমূল সংস্কার করে এক বৈপ্লবিক রূপান্তরের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ও আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ সেবা পৌঁছে দিতে অচিরেই দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আধুনিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস এবং বিশেষায়িত ফিজিওথেরাপি ইউনিট যুক্ত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, মানসিক রোগীদের চিকিৎসার পরিসর ও শয্যা বাড়াতে নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিবেচনাধীন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ ও হাসপাতালে চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এই রোগ মোকাবিলায় পরিবার ও সমাজজুড়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে তিনি পাবনা মানসিক হাসপাতালে বিদ্যমান সকল ধরনের তথাকথিত বিনোদনমূলক কার্যক্রম আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুটিয়ে ফেলার কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশ দেন।
এদিকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে আলোচিত হওয়া ও ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে পরিচিত বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানের প্রস্তুতকৃত সুরতহাল প্রতিবেদনে এ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে নিহতের নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তাঁর হাতে থাকা ঘড়ি এবং পরিহিত কাপড়ের পকেটে পাওয়া আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত ২৮ বছর বয়সী তাহসিফ সুরি খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাস করছিলেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার তাহসিফের চোখ ও মুখ বন্ধ এবং পেট কিছুটা ফোলা ছিল। তাঁর মাথার সামনে দুই হাত বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ থাকলেও বুক, পিঠ ও উভয় পাসহ শরীরের কোথাও কোনো বাহ্যিক আঘাতের আলামত মেলেনি। নদী থেকে উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি এবং সাদা ট্রাউজার।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে সামরিক উড়োজাহাজে চড়ে দেশত্যাগের দৃশ্যটি তাহসিফ ভিডিও করেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা রয়েছে। পরবর্তীতে গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে ওই ভিডিও করার কারণেই বিমান বাহিনী থেকে তাঁর চাকরিচ্যুত হতে হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি সংক্ষেপে বলেছিলেন, “হতে পারে।”
ওই সাক্ষাৎকারে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, একটি দেশীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় বিমান বাহিনীর তদন্তে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাহসিফের নাম উঠে এসেছিল। এমন অভিযোগের জবাবে তাহসিফ বলেছিলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।”
এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত উক্ত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাহসিফ সুরিসহ দুই কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর দাবিটি সত্য নয়। বরং ‘বাস্তবে’ বাহিনীর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন ও বিধিমালার পূর্ণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাঁদের স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছিল, যার সাথে কথিত কোনো বিদেশি সংস্থার সংযোগ ছিল না।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিজেদের কারিগরি উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করতে বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করার মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কেন্দ্রটিতে নতুন করে আরও ৫০৮ জন রুশ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার সংস্থাটির প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রোসাটমের প্রধান বলেন, ‘আমরা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেব না। বরং সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মীর সংখ্যা ৭০০-তে উন্নীত করতে চাই।’
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যার ঠিক আগেই আন্তর্জাতিক গ্যাস রপ্তানিকারক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার রাতে মস্কো পৌঁছান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।
এর আগে কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রোসাটম প্রধান জানিয়েছিলেন, ইরানে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পরিসরে নতুন পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপযোগী বেশ কয়েকটি স্থান বিবেচনা করছে রাশিয়া। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি নতুন কিছু বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের স্থান নির্বাচন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণে ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞ দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের সঙ্গে নতুন যুক্ত হতে যাওয়া ৫০৮ জন যোগ দিলে কেন্দ্রটিতে রুশ বিশেষজ্ঞের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৭০০ জনে।
অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে না পারলে দায়িত্বরত প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও অদক্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের কড়া বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, দাসেরকান্দি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা অঞ্চলের পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে পূর্বাচল এলাকায় পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক তৈরিতে অবিলম্বে ডিপিপি প্রণয়নের নির্দেশনা দেন তিনি।
ওয়াসার সার্বিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আইনে ওয়াসাগুলোতে বোর্ড রাখার বিধান থাকলেও সরকার যেকোনো সময় তা গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়াসা বোর্ডগুলো জনসেবামূলক এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের কাজে বাধা বা অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ তৈরি করছে, যা কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। এ বাস্তবতায় বিদ্যমান আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসা থেকেই পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
নাগরিক সেবায় সংস্থাটির কার্যক্রমে গতিহীনতার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে পানির দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহ উভয়ই ৩১৪ কোটি লিটার। শহরে জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কিন্তু গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন বা প্রকল্পের গতি দেখা যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি স্পষ্ট করেন, রাজধানীতে পানি নিয়ে সংকট সৃষ্টি হলে সেটির দায়ভার সরকারের কাঁধেই বর্তায়, কাজেই ঢাকাবাসীর এই ভোগান্তি নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।
ভূমিকম্পের বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে নগরীতে সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভ থেকে এবং মাত্র ২৬ শতাংশ উপরিভাগ থেকে সংগৃহীত হয়। ঝুঁকি হ্রাস করতে পাতাল থেকে পানি উত্তোলনের হার ২০-২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সারফেস ওয়াটার প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে। নিজস্ব আয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সার্ভিস ঠিক রেখে নিজস্ব রাজস্ব আয় আরো বাড়াতে হবে, যাতে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় মিটার রিডিং ও বিলিং ব্যবস্থা জোরদার এবং ২০৫০ সালের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে আধুনিক জনবল কাঠামোর অর্গানোগ্রাম মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
নগরীর সব অবৈধ ও চোরাই পানির লাইন উচ্ছেদে কঠোর অভিযানের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব অপরাধে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জনসেবা বিঘ্নিত না করতে সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোকে সতর্ক করা হয় এবং ব্রাশ বা শেভ করার সময় অযথা ট্যাপ খোলা না রেখে পানির অপচয় রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কাজের অগ্রগতি মূল্যায়নের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী দুই মাস পর তিনি পুনরায় ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনায় আসবেন এবং এর মধ্যে দৃশ্যমান ও অমূল পরিবর্তন দেখতে চান, যাতে নগরবাসীকে পানির বিষয়ে একটি স্বস্তির জায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিরোধীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নিয়েছে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা থেকে নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
এ সময় সিইসির সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব উপস্থিত থেকে কেন্দ্রগুলোর ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণ শেষে সিইসি উল্লেখ করেন, আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই কেন্দ্রে আসছেন। আবহাওয়া অনুকূলে আসার সাথে সাথে বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটারদের সমাগম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা বিষয়ে সিইসি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর নিয়মিত টহল ও অবস্থান নির্বাচন ভবন থেকেই ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে সরাসরি তদারকি করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি বহাল রয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন গোটা প্রক্রিয়াটি জনগণের সামনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখতে চায়। স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিভাগ যেন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে, সে বিষয়ে কমিশন সতর্ক রয়েছে। নির্বাচনী সংঘাত বা উত্তেজনার আবহ দূর করে ভোটকে একটি আনন্দমুখর নাগরিক উৎসবে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশে একটি সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তোলাই কমিশনের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
স্বাক্ষরিত দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন অর্জনের বিষয়ে উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন এ তথ্য জানান।
দলিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান চুক্তি রয়েছে।
এ ছাড়া, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ ছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
এ ছাড়া, উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দুটি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরকালে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এর আগে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপান আগমন করেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান আসেন। সূত্র: বাসস