দেশের কিছু জেলায় তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। বাকি অংশের ওপর দিয়ে মৃদু ও মাঝারি দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন আবহাওয়ার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে। তীব্র গরমের কারণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস ৫ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শিগগির বৃষ্টির কোনো লক্ষণ নেই। তীব্র দাবদাহের মধ্যে জনজীবন অসহনীয় করে তুলেছে লোডশেডিং। খোদ রাজধানীতে দিন-রাত মিলিয়ে ৬ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গ্রামপর্যায় এ পরিস্থিতি আরও অসহনীয়।
আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জুনের শুরুতে সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ছিল। রোববার দেশের বাতাসে ক্ষুদ্রকণার পরিমাণও ছিল বেশি। এতে বাতাসে দূষণের মাত্রাও বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে দেশে বড় ধরনের বা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তেমন নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ৬ মাস পার হলেও দিতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। দফায় দফায় দেনদরবার করেও ডলার পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ডলার পরিশোধ করেছে চীনা কয়লা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সিএমসিকে। কিন্তু তত দিনে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব মজুত কয়লা শেষের দিকে। এখন কয়লা আমদানি করলেও ২৫ জুনের আগে কেন্দ্রটি চালু হবে না। পায়রা কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ ঢাকায় সরবরাহ করত। এ কারণে ঢাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।
দাবদাহে পুড়ছে দেশ
সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে গতকাল রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাত-দিন মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলাগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের অবশিষ্টাংশসহ ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসমতে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
গ্রীষ্মের এই গরমে মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে বিদ্যুতের দেখা মিলছে কম। পাখা চলছে না। ভ্যাপসা গরমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি উন্নতি হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
জ্বালানির অভাবে ধুঁকে ধুঁকে বন্ধ হচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে লোডশেডিং। বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট জ্বালানি ব্যয় ৫ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রের ব্যয় ইউনিটপ্রতি ৩০ টাকার বেশি আর ফারনেসের উৎপাদন ব্যয় ১৪ টাকার কিছু বেশি। এ পরিস্থিতিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি চালালে সরকারকে প্রতিদিন অন্তত বাড়তি গুনতে হবে ১৫০ কোটি টাকা। কয়লা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে না আসা পর্যন্ত দেশের বিদ্যুতের পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। কয়লা আসতে সময় নেবে ২৫ জুন পর্যন্ত। এ পর্যন্ত থাকবে লোডশেডিং।
গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ এত বিপর্যয়ের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গতকাল রোববার সচিবালয়ে লোডশেডিং সম্পর্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘লোডশেডিং পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ লাগবে লোডশেডিং কমতে। বেশ কিছুদিন ধরে গ্রাহকরা দেখছেন যে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। জ্বালানি হিসেবে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের জোগান দিতে কষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে লোডশেডিং ধীরে ধীরে বেড়ে গেছে। লোডশেডিং পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কত দ্রুত কয়লা নিয়ে আসা যায়, তার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। দ্রুত সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা করছে।’
তবে গত বছরের জুলাইয়ের মতো সূচি করে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের চিন্তা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘তাপপ্রবাহ চলছে, তাই বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে গেছে। আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।’
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য তৈরি আছে। দুই মাস আগে থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু জ্বালানি আসার পেছনের বিষয় সব সময় তাদের হাতে থাকে না। অর্থনৈতিক বিষয়, জ্বালানি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার বিষয় থাকে; সব সমন্বয় করতে হয়। সমন্বয় কোথাও বাধাগ্রস্ত হলেই সমস্যা হয়। এবারও তাই হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, কয়লার অভাবে আজ রাত ১২টার পরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা। এর আগে ২৫ মে কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায় কয়লার অভাবে। নতুন করে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা ২৫ জুনের আগে আসবে না। এ সময় পর্যন্ত কেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরিতে বকেয়া পরিশোধ করায় পায়রা বন্ধ হলো
৬ মাসের বাকিতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমসি কয়লা দিত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। কয়লা দেয়ার ৬ মাস পর অর্থ পরিশোধ করত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসে সিএমসি বকেয়া কয়লা বাবদ প্রায় ৩০ কোটি ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া হয়। এই অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এরপর সিএমসি পায়রাকে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কয়লা বাকিতে সরবরাহ করে। এর পরও অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় চীনের বৈদেশিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার পিটি বায়ান্স রিসোর্স টিবিকের কাছ থেকে কয়লা বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করার বিষয়ে সিএমসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
গত ২৭ এপ্রিল বিসিপিসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠি দিয়ে অবহিত করে। এরপর কয়েক দফা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়ার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। এরপরই দুই মাসের কয়লা সরবরাহে রাজি হয়েছে সিএমসি।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিকই ডলারের সংস্থান করল। কিন্তু যখন তারা ডলার দিল তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশ দেশের লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি অবনমের পেছনে অন্যতমভাবে দায়ী।’
লোডশেডিং
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদার কথা যখন বলা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। আর তখন সরবরাহ করা হচ্ছে ১২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি গড়ে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দুজন প্রকৌশলী পরিচয় গোপন রেখে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দেশে পিক আওয়ার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রকৃত চাহিদা থাকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। আর এ সময় ১৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে গিয়ে পিডিবির নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে। ঘাটতি থাকছে ৪ হাজার মেগাওয়াট। এটি মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ ভাগ। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।’ ঢাকার চেয়ে গ্রামে এই পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ বলেও ওই দুই কর্মকর্তার মত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকরা এ সম্মাননা পান।
এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ‘প্রয়োজন এবং প্রিয়জন’ হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে একজন সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে।
পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই ‘আদর্শ রোল মডেল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে পারেন, সে ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে সরকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এ সময়ে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তাই ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বইবিমুখ হয়ে না ওঠে, সেজন্য ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মুখস্থ করার বদলে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল তৈরি হলে একজন শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আনন্দময় শিক্ষা’ এখন সারা বিশ্বে, বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন একটি বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্য শ্রেণিতেও এ ধরনের বই দেওয়া হবে। দেশে কোনো শিশু শিক্ষা বঞ্চিত থাকবেনা।
তিনি বলেন, আমরা দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায় থেকে কেউ কোনো কারণে ড্রপ আউট হলেও যেন কাউকে বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত থাকা জরুরি। আপনারা দেখেছেন, শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দেশের ইতিহাসে এবারেই প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাজেট আরো বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেট নির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকে আরও আধুনিক করা জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিকে আমরা শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে দেখতে চাই না। বরং প্রযুক্তি হবে শিক্ষকের শক্তি। এ লক্ষ্যেই সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কর্মসূচির আওতায় একজন শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, প্রশ্নব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে।
স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন করে শিক্ষককে বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের নির্দেশনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন শিক্ষককে শুধু বেতন বা অবসরভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে ঘুরতে হবে না। যথানিয়মে যথাসময়ে তার প্রাপ্য অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে। দেশের শিক্ষকরাই জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।’
১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা: বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১০০ গুণী শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারই প্রথম প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষককে একসঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের এই সম্মাননার আওতায় আনা হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিকে ২০, কলেজে ২৫, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০, মেডিকেল কলেজে ১০, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন রয়েছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জনকে সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যা ১০০।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পৃথক সার্চ কমিটির প্রস্তুত করা প্যানেল থেকে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি চূড়ান্তভাবে শিক্ষকদের নির্বাচন করে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে গুণী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।
নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করবে সরকার: একইদিন রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-পরিষেবা সংবলিত ‘সর্বজনীন আবাসন’ নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী এই দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন। আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা মেলায় অংশ নিচ্ছে। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়। এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, উন্নত সড়ক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো সরাসরি সম্পৃক্ত।
বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য এমন টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের মতো সহজ নয়। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্য শহরের ওপর জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপের কথা স্বীকার করে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমানে ঢাকা ওভারপপুলেটেড। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা জরুরি।
শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সকল পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা একটি কার্যকর বিকল্প।
বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন তারেক রহমান। এর আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা ইতোমধ্যে কর্মীর চাহিদাপত্র দেওয়া শুরু করেছেন। কর্মীদের কী ধরনের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করতে দেশটির একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করতে পারে।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। শুরুতে কর্মীদের কোনো অভিবাসনগামী কর্মীদের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আলো ব্যয় ছাড়াই পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর বাছাই করে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।
দীর্ঘদিন সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানির শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আলোচনায় সরকার এ ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কিছু শর্ত আরোপ করেছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের তথ্যমতে, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র দেওয়া এবং লেভি পরিশোধের মাধ্যমে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) কর্মীদের নিবন্ধন শুরু করেছেন।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনও মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদাপত্র সত্যায়ন শুরু করেছে। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে হাইকমিশন।
কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রথম ১০ হাজার কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে পাঠানোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শারীরিক সক্ষমতা থাকা কর্মীদের মধ্য থেকে ১০ হাজার কর্মী বাছাই করা হবে। নিয়োগদাতারাই কী ধরনের কর্মী চান, তাদের কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং কোন ধরনের দক্ষতা দরকার—বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, কর্মী নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করবে। প্রতিনিধি দলের সফর এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদা স্পষ্ট হওয়ার পর কর্মী পাঠানোর সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
তবে নতুন কর্মী পাঠানোর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার সময় যেসব কর্মী দেশটিতে যেতে পারেননি, তাদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করবে বোয়েসেল। এ প্রক্রিয়া ১৬ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জন আটকে থাকা কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে বোয়েসেলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এদিকে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, চাহিদাপত্র পাওয়ার পর কর্মী বাছাই, মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম কখন এবং কীভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে তারা এখনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি।
মন্ত্রী আরিফুল হক জানিয়েছেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। ব্যবস্থা চূড়ান্ত হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে ১৭টি।
এর মধ্যে ১ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডের হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার সিলগালা করে কর্তৃপক্ষ। অনুমোদন ছাড়াই মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং আগের সরকারের সময় গড়ে ওঠা কাঠামোর কারণে কিছু জটিলতা এখনো রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কাজ করছে। কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেলে সরকার গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো চেষ্টা করছে না এবং এ ধরনের কোনো ইচ্ছাও সরকারের নেই।
সোমবার (৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে নিজ অফিসকক্ষে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছে বলেও তিনি জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাক্ষাৎকালে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের অফিস অফ কমিউনিকেশন বা ‘অফকম’ এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চাসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বাংলাদেশ সেগুলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ চায় এবং কূটনীতির মাধ্যমে এগিয়ে গিয়ে সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে দিল্লিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে সচিব ও কর্মকর্তা পর্যায়ে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা চলছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধান করে একটি ইতিবাচক ফলাফলে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি।
শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ কবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের ডায়লগ তো হবে যখন ভিজিট হবে। এর আগে অফিশিয়াল লেভেলের ডায়লগের মাধ্যমে কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট করতে হবে। দুই পক্ষেরই এগিয়ে আসতে হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধান চ্যালেঞ্জ—এটা খুব বেশি কিছু চাওয়া নয়, দিল্লিতে একজন সন্ত্রাসীকে সংযত করা। একজন সন্ত্রাসী দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সংযম দেখাচ্ছে এবং ভারত সরকারের কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।
বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবিরবঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র নয়, সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
আঞ্চলিক সহযোগিতায় ভারতকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কখনো ডায়লগ ও ডিপ্লোমেসির দরজা বন্ধ করিনি। আমরা ডায়লগ ও ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে এগিয়ে যাব এবং সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কি না—জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এটা হবে।’ নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের খবর নিতে হলে বাংলাদেশ থেকেই নিতে হবে। নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে জলবায়ু সম্মেলনে যেতে পারেন বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে ১৪টি ডাচ কোম্পানি আসবে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল। তিনি বলেছেন, ‘আগামী সপ্তাহে ১৪টি ডাচ কোম্পানির একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। তারা বিশেষ করে সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করবে।’
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬ ’-এর তৃতীয় দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও বঙ্গোপসাগরের টেকসই ব্যবহারে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা—টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা, কারিগরি দক্ষতা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।
নেদারল্যান্ডস পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই কৃষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা করতে পারে।
আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় একাধিক দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই নদী অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। আন্তর্জাতিক পানি আইন ও কূটনীতি বিষয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতেও নেদারল্যান্ডস কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বঙ্গোপসাগরকে আঞ্চলিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক যোগাযোগ, মৎস্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ডাচ রাষ্ট্রদূত। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক দূষণ ও পরিবেশের ওপর চাপ বঙ্গোপসাগরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নাগরিক, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা বাড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন এবং দিনটিতে সাধারণ ছুটি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৩তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া সরকারি তথ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে সরকারি পর্যায়ে পালন করা হবে। দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এরই মধ্যে দিবসটি পালনের বিষয়ে পরিপত্র জারি করেছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থানের পর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা নিহত হন। এর কয়েক দিন পর ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর ভেতরে পাল্টা অভ্যুত্থান ও সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বন্দী থাকা তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।
বিএনপি ও দলটির সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো দিনটির ঘটনাকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করে। ফলে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে।
এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়েছে এবং এ উপলক্ষে সরকারি ছুটিও ছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দিবসটির সরকারি স্বীকৃতি ও ছুটি বাতিল করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটি থাকবে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
ছুটির সমন্বয়ের জন্য ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস খোলা থাকবে। মন্ত্রিসভা দুর্গাপূজার ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
তবে জরুরি পরিষেবাগুলো নির্ধারিত ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে ছুটির বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরীকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা এমদাদুল হক চৌধুরী এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) এবং উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে এখন থেকে তিনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন এ এস এম সালেহ আহমেদ। তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এমদাদুল হক চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চলমান দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে এমদাদুল হক চৌধুরী দায়িত্ব পালন করবেন।
৪৯তম বিশেষ বিসিএসের (শিক্ষা) মাধ্যমে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৪০ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৪০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও ৪০ প্রার্থীর নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো।
মোটরসাইকেল ও গাড়ির মালিক-চালকদের বকেয়া কাগজপত্র হালনাগাদে জরিমানা ছাড়াই বিশেষ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে না; শুধু মূল কর ও প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে।
বিআরটিএর জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে মোটরযানের ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিটসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সঙ্গে বকেয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সও নবায়নের সুযোগ থাকছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, মোটরসাইকেল বা গাড়ি বিক্রির পর নতুন মালিকের নামে মালিকানা পরিবর্তন না করলে পুরোনো মালিককে ভবিষ্যতে আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, যানবাহন বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক।
মালিকানা পরিবর্তন না হলে অগ্রিম আয়কর, অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জসহ বিভিন্ন আর্থিক দায় পুরোনো মালিকের ওপর বর্তাতে পারে। ফলে গাড়ি বা মোটরসাইকেল বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা হস্তান্তরের পরামর্শ দিয়েছে বিআরটিএ।
মালিকদের ভোগান্তি কমাতে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে মালিকানা পরিবর্তনের আবেদন ও ফি পরিশোধের সুবিধাও চালু রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক ক্ষেত্রে অফিসে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে দোষসূচক পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও কার্যকর রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে।
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানার পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়। ফলে আইন লঙ্ঘনের পরিণতি শুধু অর্থদণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; বারবার আইন ভাঙলে চালকের লাইসেন্সের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
বিআরটিএর পক্ষ থেকে মোটরযান মালিক ও চালকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতের আইনি ও আর্থিক জটিলতা এড়ানোর পাশাপাশি যানবাহনের কাগজপত্রও নিয়মিত রাখা সম্ভব হবে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের প্রথম ও ব্যয়বহুল বড় প্রকল্প। প্রকল্পটি যখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যায়ে ঠিক এমন সময়ে প্রকল্পের ব্যয়, নিরাপত্তা, প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিভিন্ন অভিযোগ ও নেতিবাচক প্রচারণা সামনে এসেছে।
সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করলে প্রকল্পের প্রশাসনিক কাঠামো ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি)-এর ১৬ মেগাপাসকেল (এমপিএ) চাপের পরীক্ষা সফল হয়েছে। পাশাপাশি গত শনিবার দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালানও দেশে পৌঁছেছে।
প্রকল্পটির শুরুর পর থেকেই পারমাণবিক ভীতি, ব্যয় এবং কর্মকর্তা-বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা নিয়ে নানা অভিযোগ ও প্রচারণা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে ড. জাহেদুল হাসান জানান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক প্রচারণা নেতিবাচকভাবে দেখছেন রূপপুরে কর্মরত প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যাচাই-বাছাই ছাড়া অভিযোগ প্রচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তির পাশাপাশি কর্মরতদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, পরিসংখ্যান, সরকারি আদেশ, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ অডিটের তথ্য তুলে ধরে বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, প্রচারিত কিছু বক্তব্যে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে যথাযথ পার্থক্য করা হয়নি।
ড. জাহেদুল আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে তাকে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-এর জুন থেকে তিনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির বাংলাদেশ লিমিটেডের পূর্ণকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ পদের জন্য নির্ধারিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। একই সময়ে একাধিক পদের জন্য আলাদা বেতন নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় এবং সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদ, সংশ্লিষ্ট কমিটি ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়।
জনবল ও প্রশিক্ষণ নিয়েও প্রচারিত তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যমতে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির বাংলাদেশে ১ হাজার ৯২২ জন নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৯৯৭ জন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন ২৭ জন, যা মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ ছাড়া গ্রেড ১৬ থেকে ১৯-এর প্রায় ১০০ কর্মীর প্রতিষ্ঠান ত্যাগকে বিশেষায়িত পারমাণবিক জনবলের প্রস্থান হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। তাদের মধ্যে অ্যাটেনডেন্ট ও টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত ব্যক্তিরা ছিলেন। তাই মোট কর্মীপ্রস্থান ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের প্রতিষ্ঠান ত্যাগ পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উচ্চতর পদে দায়িত্ব অর্পণ নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনপিসিবিএল এমডি। তার বক্তব্য, শপ ম্যানেজার ও ডেপুটি শপ ম্যানেজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত বোর্ড কমিটির নেয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক এককভাবে এসব পদে কাউকে নিয়োগ বা দায়িত্ব দিতে পারেন না। ফলে বিদ্যমান কর্মীদের উচ্চতর দায়িত্ব অর্পণকে ব্যক্তিগত নিয়োগ বা একক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কমিশনিং কার্যক্রম নিয়েও তিনি দায়িত্বের বিভাজন তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের মালিক বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি), আর এনপিসিবিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপারেটিং অর্গানাইজেশন। ফলে কমিশনিংসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম বা বিলম্বকে সরাসরি এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।
রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন ড. জাহেদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘এ ব্যবস্থা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়নি। তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাশিয়ায় অবস্থানরত পরিদর্শকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। ভাড়া ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর জেএসসি এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (এএসই)।
ড. জাহেদুল হাসান জানান, বিভিন্ন সময়ে মোট ৪১ জন কর্মকর্তা এসব অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করেছেন এবং তাদের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছিল। একই সময়ে তারা হোটেল ভাতা নেননি।
বাসা ভাড়ার ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে অমূলক ও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, ‘অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন ও অর্থ পরিশোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং পরবর্তী অডিট বিবেচনায় না নিয়ে এর দায় ব্যক্তিগতভাবে তার ওপর চাপানো তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।’
তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বিষয়টি পরে ছয় সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট দলের মাধ্যমে পরিদর্শন করা হয়। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব। বাংলাদেশ দূতাবাসের রাশিয়াস্থ দুই কর্মকর্তাও এতে অংশ নেন। অডিট প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয় বলে তিনি জানান।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, রূপপুর বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্প নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অফিস আদেশ, পরিচালনা পর্ষদ ও কমিটির সিদ্ধান্ত, সরকারি আদেশ, অডিট প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকল্পটির নিরাপত্তা, দক্ষ জনবল, কমিশনিং ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং স্বচ্ছতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই উপায়হীন বিকল্প বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের সম্মান বৃদ্ধির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব স্তরের শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন ও প্রিয়জন হয়ে ওঠেন, তবে সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।
শিক্ষায় প্রযুক্তির সমন্বয় ও শিখন পদ্ধতি আধুনিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের মনের কৌতূহল জাগাতে এবং আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাসের বই হাতে পাবে এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বই চালু করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতিকে শিক্ষকের বিকল্প না ভেবে শিক্ষকের শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রসারিত করা হচ্ছে। টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকেও আরও আধুনিক করার কাজ চলছে।
বর্তমান বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার পার্থক্য দূর করে সকলের জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। কেবল কর্মসংস্থান নয়, শিক্ষার মাধ্যমে সত্যবাদিতা, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন চরিত্র গঠনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা প্রাপ্তিতে হয়রানি বন্ধে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে যথাসময়ে প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানোর নতুন নীতিমালার কথাও তিনি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি ঘর নয় বরং নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার এবং এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।'
আজ সকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ সরাসরি সম্পৃক্ত।'
বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে সবার জন্য নিরাপদ বসতি নিশ্চিত করা সহজ নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে তা ততটা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।'
বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় শহরাঞ্চলে কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাসের কারণে নগরজীবনে নানা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।'
এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।'
পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন আরও সহজ হবে।'
শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানো একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।'
তিনি বলেন, 'দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয় বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।'
সরকার ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ সুরক্ষাকে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সাম্প্রতিক বৈশ্বিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশকে নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি করছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায় বিশেষ করে সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।'
তিনি বলেন, 'দেশের নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে কিছুটা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।'
নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে 'সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান'- এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।’
বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠ করা হয়।
এ সময় বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬' উদযাপন উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন।
এদিকে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিস ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক।
সরকারি কর্মকর্তা বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির রোধে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লটারি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বিশেষ সিদ্ধান্তে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং লটারি পরিচালনা কার্যক্রমে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ঢাকা জেলার আওতাধীন বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পদগুলোর বিপরীতে বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের তালিকা থেকে সরাসরি লটারির মাধ্যমে নতুন কর্মস্থল বণ্টন করা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের জমিজমা ও সম্পত্তি নিবন্ধনসংক্রান্ত নাগরিক সেবাগুলো আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সেবা কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং পদায়ন নিয়ে যেকোনো ধরনের অস্বচ্ছতা দূর করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে এই বদলি কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ পদায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রশাসনিক এই সংস্কার মাঠপর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে বড় ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।