দেশের কিছু জেলায় তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। বাকি অংশের ওপর দিয়ে মৃদু ও মাঝারি দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন আবহাওয়ার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে। তীব্র গরমের কারণে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস ৫ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শিগগির বৃষ্টির কোনো লক্ষণ নেই। তীব্র দাবদাহের মধ্যে জনজীবন অসহনীয় করে তুলেছে লোডশেডিং। খোদ রাজধানীতে দিন-রাত মিলিয়ে ৬ থেকে ৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গ্রামপর্যায় এ পরিস্থিতি আরও অসহনীয়।
আগামী পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জুনের শুরুতে সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক ছিল। রোববার দেশের বাতাসে ক্ষুদ্রকণার পরিমাণও ছিল বেশি। এতে বাতাসে দূষণের মাত্রাও বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে দেশে বড় ধরনের বা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তেমন নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ৬ মাস পার হলেও দিতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। দফায় দফায় দেনদরবার করেও ডলার পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ডলার পরিশোধ করেছে চীনা কয়লা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সিএমসিকে। কিন্তু তত দিনে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব মজুত কয়লা শেষের দিকে। এখন কয়লা আমদানি করলেও ২৫ জুনের আগে কেন্দ্রটি চালু হবে না। পায়রা কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ ঢাকায় সরবরাহ করত। এ কারণে ঢাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।
দাবদাহে পুড়ছে দেশ
সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে গতকাল রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাত-দিন মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলাগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের অবশিষ্টাংশসহ ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসমতে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
গ্রীষ্মের এই গরমে মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। দিন-রাত মিলিয়ে বিদ্যুতের দেখা মিলছে কম। পাখা চলছে না। ভ্যাপসা গরমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি উন্নতি হবে জুনের শেষ সপ্তাহে
জ্বালানির অভাবে ধুঁকে ধুঁকে বন্ধ হচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে লোডশেডিং। বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট জ্বালানি ব্যয় ৫ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রের ব্যয় ইউনিটপ্রতি ৩০ টাকার বেশি আর ফারনেসের উৎপাদন ব্যয় ১৪ টাকার কিছু বেশি। এ পরিস্থিতিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি চালালে সরকারকে প্রতিদিন অন্তত বাড়তি গুনতে হবে ১৫০ কোটি টাকা। কয়লা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে না আসা পর্যন্ত দেশের বিদ্যুতের পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। কয়লা আসতে সময় নেবে ২৫ জুন পর্যন্ত। এ পর্যন্ত থাকবে লোডশেডিং।
গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহ এত বিপর্যয়ের বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গতকাল রোববার সচিবালয়ে লোডশেডিং সম্পর্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘লোডশেডিং পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ লাগবে লোডশেডিং কমতে। বেশ কিছুদিন ধরে গ্রাহকরা দেখছেন যে লোডশেডিং বেড়ে গেছে। জ্বালানি হিসেবে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের জোগান দিতে কষ্ট হচ্ছিল। এ কারণে লোডশেডিং ধীরে ধীরে বেড়ে গেছে। লোডশেডিং পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কত দ্রুত কয়লা নিয়ে আসা যায়, তার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। জ্বালানি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। দ্রুত সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা করছে।’
তবে গত বছরের জুলাইয়ের মতো সূচি করে পরিকল্পিত লোডশেডিংয়ের চিন্তা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘তাপপ্রবাহ চলছে, তাই বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে গেছে। আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।’
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনের জন্য তৈরি আছে। দুই মাস আগে থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু জ্বালানি আসার পেছনের বিষয় সব সময় তাদের হাতে থাকে না। অর্থনৈতিক বিষয়, জ্বালানি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার বিষয় থাকে; সব সমন্বয় করতে হয়। সমন্বয় কোথাও বাধাগ্রস্ত হলেই সমস্যা হয়। এবারও তাই হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, কয়লার অভাবে আজ রাত ১২টার পরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা। এর আগে ২৫ মে কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায় কয়লার অভাবে। নতুন করে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা ২৫ জুনের আগে আসবে না। এ সময় পর্যন্ত কেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরিতে বকেয়া পরিশোধ করায় পায়রা বন্ধ হলো
৬ মাসের বাকিতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমসি কয়লা দিত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে। কয়লা দেয়ার ৬ মাস পর অর্থ পরিশোধ করত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছয় মাসে সিএমসি বকেয়া কয়লা বাবদ প্রায় ৩০ কোটি ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া হয়। এই অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এরপর সিএমসি পায়রাকে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কয়লা বাকিতে সরবরাহ করে। এর পরও অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় চীনের বৈদেশিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার পিটি বায়ান্স রিসোর্স টিবিকের কাছ থেকে কয়লা বাংলাদেশের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করার বিষয়ে সিএমসির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে কয়লা আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
গত ২৭ এপ্রিল বিসিপিসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিদ্যুৎ সচিবকে চিঠি দিয়ে অবহিত করে। এরপর কয়েক দফা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়ার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। এরপরই দুই মাসের কয়লা সরবরাহে রাজি হয়েছে সিএমসি।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিকই ডলারের সংস্থান করল। কিন্তু যখন তারা ডলার দিল তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশ দেশের লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি অবনমের পেছনে অন্যতমভাবে দায়ী।’
লোডশেডিং
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দেশে বিদ্যুতের চাহিদার কথা যখন বলা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। আর তখন সরবরাহ করা হচ্ছে ১২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। ঘাটতি গড়ে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) দুজন প্রকৌশলী পরিচয় গোপন রেখে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দেশে পিক আওয়ার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রকৃত চাহিদা থাকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। আর এ সময় ১৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে গিয়ে পিডিবির নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে। ঘাটতি থাকছে ৪ হাজার মেগাওয়াট। এটি মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ ভাগ। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।’ ঢাকার চেয়ে গ্রামে এই পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ বলেও ওই দুই কর্মকর্তার মত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া, তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেছেন।
বিচারের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।
মামলায় অভিযুক্ত বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।
এছাড়া, আরও ৮ আসামিকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন আরপিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রংপুর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন ও এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।
গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু হয়। তার আগে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
রায় পড়ার প্রাক্কালে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ‘যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।’
মামলায় পলাতক থাকা আসামিরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, বেরোবির লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ, বেরোবির সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান ও বেরোবির সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যার নির্দেশদাতা বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই বেঁচে গেছেন। সব আসামির ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। কিন্তু আমি তখনই শান্তি পাবো যখন এ রায় কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল। এরপর গত ৫ মার্চ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম জানান, এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
আবু সাঈদের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা এবং পটভূমির সাক্ষী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আদালতে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।
আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া এক আসামিকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি বলেন, আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির চিহ্ন ছিল না, অর্থাৎ কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি। তার ডেথবডিতেও (মরদেহ) কোনো ধরনের গর্ত বা ক্ষতের চিহ্ন ছিল না। এমনকি দেহে এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। ফলে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করে গুলি করার অভিযোগ আনা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। এ বিষয়ে তারা আদালতে একাধিক পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।
আইনজীবী দোলন জানান, আসামিপক্ষের পক্ষে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে লিখিত যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রত্যাশিতভাবে খালাস না পাওয়ায় তারা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল শুনানির মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নীতিমালা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, চারদিন আগে এ বিষয়ে টেলিকম উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। এটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ইআরএফ ও সিটিজেন প্লাটফর্ম’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার, সিটিজেন প্লাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর সম্পাদক জাহিদ হোসেন, প্রথম আলোর হেড অফ অনলাইন শওকত হোসেন মাসুমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার হলো বাংলাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের অবৈধ ব্যবহার রোধ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া একটি বিটিআরসি-পরিচালিত সিস্টেম। এটি গ্রাহকের এনআইডি ও সিমের সাথে হ্যান্ডসেটের ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর সংযুক্ত করে বৈধতা যাচাই করে এবং অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া ফোন ব্লক করে দেয়।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৪২ দিনে দেশে কেউ গুম কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি বলে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারের বয়স ৪২ দিন, চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত। কিন্তু গত ৪২ দিনে দেশে একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি, একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। চাইল্ডহুড সোজ দ্য ম্যান, মর্নিং সোজ দ্য ডে। আমরা মানবাধিকারের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মানবাধিকার বিল ২০২৬ উত্থাপনের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়া পরিবারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের পরে আর কেউ হয়নি। আমার সামনে যারা বসে আছেন, আমার বন্ধুরা, তারা বিগত ১৭ বছরে অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। অনেকের পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আমাদের সামনে যারা বসে আছেন তাদের অনেকে মানবাধিকার কী জিনিস সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হলো জিয়া পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় পরিবার হলো বিএনপি পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধের শিকার হলো বিএনপি পরিবার এবং জিয়া পরিবার। আমাদের সামনে বসে আছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম শিকার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের মানবাধিকার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো পিছুটান নেই।
২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সেই অধ্যাদেশ রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি উত্থাপনের পর এর তীব্র বিরোধিতা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় অগ্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিকে পুনরায় কার্যকর করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি, অতীতে এই কমিশনকে বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কমিশন বিএনপিকে দমনের বৈধতা দিয়েছিল। এমনকি আমরা কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানো বৈধ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া এই সংসদের জন্য একটি ‘ব্যাকওয়ার্ড মুভ’ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ (টেক্সটবুক এক্সাম্পল) হয়ে থাকবে।’
হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও জুসি (রসালো)। উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি।’
আইনমন্ত্রী বিলে উল্লিখিত কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিলের প্রথম লাইনেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা, যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামোতে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশেই আপাতত ২০০৯ সালের আইনটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, যদি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয় এবং ২০০৯ সালের আইনটি পুনর্বহাল না করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বার্তা যাবে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশনই নেই। বিতর্ক শেষে স্পিকারের হস্তক্ষেপে বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হয় এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
সেনা কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ডিজিএফআই এবং সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফোনের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারকরা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের ছবি সংগ্রহ করে তা হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করছে। এরপর সেই পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের যোগাযোগ করা হয় না। কেউ যদি সেনা কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা কোনো ধরনের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট নম্বরসহ নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জানানো হয়, প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দেওয়া হবে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ায় পাবনা-১ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনের বিলটির বিরোধীতা করে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি ভোটে দিলে বিরোধী দলের সদস্যের আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর বিল পাসের প্রতিবাদ করে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
বিল পাসের প্রক্রিয়ায় মীর শাহে আলম বলেন, ‘আইনটি পাস হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনের মধ্যে আরেকটি বিষয় রয়েছে, তা হলো— দলীয় প্রতীকে যে নির্বাচন হতো, এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় এবং দলীয় প্রতীক বাতিল করে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা এই আইনে করা আছে। এই কারণে আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি।’
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দলীয় মনোনয়ন নির্বাচন না করার স্বার্থে স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বিলটি সংসদে পাস না হলে আসলে কারা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে এটা কিন্তু বিবেচনার বিষয়। উনারা কাদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে? রক্তপিপাসু জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা পুলিশের সাথে আমাদের হামলা করেছে, অস্ত্র ব্যবহার করেছে, হামলায় যারা আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল সেই সমস্ত জনপ্রতিনিধি, এই আইনটি পাস না হলে আবার তারা পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে ফিরে আসবে। এই কারণেই এই অধ্যাদেশটি করে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং এই জায়গাগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম আট দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৯৭.৫ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭৭.৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে গত বুধবার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৮৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭১৮ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ডলার। বছরে মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০.৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় পূর্বের মতোই তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং পরে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
বিলটি নিয়ে আপত্তি জানায় জামায়াতে ইসলামী, তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে অবহিত করে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা বিলের বিরোধিতা করে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও তিনি কোন ধারায় সংশোধন চান তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এ কারণে স্পিকার তার আপত্তির ওপর আলাদা করে কোনো ভোট গ্রহণ করেননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’—এই বিষয়গুলোর সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লিখিত দলগুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়, যা বর্তমান সংশোধনীতে বহাল রয়েছে।
বিলের বিষয়ে আপত্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সরকারগুলো, যেমন জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার আমলেও আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলের নাম এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার মতে, শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিষয়টি প্রথম যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারও কিছু পরিবর্তনসহ সেই ধারা বজায় রাখে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।
শফিকুর বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।
আলোচনা শেষে স্পিকার উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা নির্দিষ্ট কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দেননি, বরং সাধারণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেন এবং তা পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মিল্টন ডিক এমপি’র নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, বৈঠকে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এ অ্যাপ চালু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে—ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন—মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য অ্যাপটি ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে জ্বালানি বিতরণে বিলম্বসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নিচ্ছেন, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেশন ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। সিস্টেমটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটালভাবে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে পারবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
স্মার্টফোন না থাকলেও ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোড প্রিন্ট নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুকের আয়োজিত নৈশভোজে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী ও গভীর করতে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং এর অব্যাহত অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনোয়ার ইব্রাহিমকে শুভেচ্ছা জানান এবং একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষই তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। উভয় দেশই পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।
কর্ম হারিয়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে আসা নিহত প্রবাসী শাহ আলমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় এই কথা জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘নিহত প্রবাসীর লাশ কুমিল্লায় নিয়ে যেতে এবং দাফনের জন্য প্রবাসী সরকার খরচ দেবে। সরকার পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সেটাও দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ চায় এই যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ হোক এবং ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিশ্বে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সে সমস্যার সমাধান হোক।’
কিরগিস্তানে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের লাশ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আটকা পড়েছে তাদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাসহ অন্যান্য সমস্যা বাংলাদেশ সরকার দেখছে। ওইসব দেশে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা যেন আবার ফেরত যেতে পারে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আমরা দেখছি।’
প্রত্যাগত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সরকারের ম্যানুফেস্টোতেই রয়েছে, আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। যারা কর্ম হারিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে চেষ্টা করছি। এছাড়া যারা ফেরত যেত চায়, তাদের বিষয়েও কিন্তু আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।’