ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৪ আগস্ট দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার আদালত এ দিন ধার্য করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মহসিন রশিদ।
‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম ও সুশীলদের আমরা বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীর কালো পানিতে ছেড়ে দেবো’—ব্যারিস্টার তাপসের এমন বক্তব্যে আদালত অবমাননা হয়েছে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে গত রোববার আবেদন করেন আইনজীবী শাহ আহমদ বাদল। সোমবার এই বিষয়ে শুনানির জন্য আবেদন উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের এডহক কমিটির আহ্বায়ক সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশীদ।
শুনানিতে তিনি বলেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আদালত অবমাননার একটি অভিযোগ আমাদের আনতে হয়েছে। আমরা চাচ্ছি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করে দেবেন।
এ সময় চেম্বার জজ এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, কোর্ট কাচারি নিয়ে নানা জন, নানা কথা বলেন। রাজনীতিবিদেরা তো অনেক কথাই বলেন। রায় পক্ষে গেলে একরকম বলেন, বিপক্ষে গেলে আরেক রকম বলেন। একটি রায় নিয়ে এর আগে প্রধান বিচারপতির কুশপুতুল দাহ করার ঘটনাও ঘটেছে। তখন তো কেউ আদালত অবমাননার অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
জবাবে আইনজীবী মহসিন রশীদ বলেন, এ ধরনের কাজ আদালত অবমাননার অভিযোগ আমলে নেয়া উচিত।
পরে আদালত আগামী ১৪ আগস্ট আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ঠিক করে দেন। এ সময় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থক শতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
গত ২১ মে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘মনটা চায় আবার ইস্তফা দিয়ে ফিরে আসি। যেখানে মুগুর দেয়ার সেটাও জানি। একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম। মশিউজ্জামানকে (বারের গত নির্বাচনের সাব কমিটির প্রধান) আমরা মনে করতাম, ওরে বাবা, কী জানি ফেরেস্তা আসছে। সবচেয়ে বড় চোর হলো মশিউজ্জামান। যে সকল সুশীলরা আমাদেরকে বুদ্ধি দিতে যাবেন সেই সকল সুশীলদের আমরা বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীর কালো পানিতে ছেড়ে দেবো।’
তার এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ মে ‘একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম’—মেয়র তাপসের এমন বক্তব্য সম্বলিত একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রধান বিচারপতির আদালতের নজরে আনেন সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।
বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, মেট্রোরেল প্রকল্প, সড়ক ও সেতু অবকাঠামো, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, কারিগরি সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পে জাইকার সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়নে জাইকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় সড়ক ও সেতু মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, আধুনিক, টেকসই ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে; এ লক্ষ্যে গণপরিবহন, স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাৎকালে জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জাইকা নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে এবং চলমান প্রকল্পসমূহের সফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় খাতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ মেট্রোরেল প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন, মাতারবাড়ী অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়ে একমত হন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পবিত্র কালেমাখচিত পতাকা বা ইসলামের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয় বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের যে কোনো অপচেষ্টা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের কারণ হতে পারে।’
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে ‘পবিত্র কালেমা খচিত পতাকার সম্মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, ‘ধর্মীয় সব বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.)-এর আদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে। ইসলামের পবিত্র নিদর্শন ও ধর্মীয় প্রতীকসমূহের মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব।’
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনাদর্শের বাইরে ইসলামে নতুন কোনো মতবাদ, বিশ্বাস কিংবা অনুশীলনের স্থান নেই।’
তিনি আলেম, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজ ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা, ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয়প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব, মুফতি ও বিশিষ্ট আলেমরা অংশ নেন।
সভায় আলেমরা বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ যুবসমাজ ধর্মীয় অনুভূতি থেকে কালেমাখচিত পতাকা বহন করলেও পরে একটি বিশেষ মহল এ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কালেমাখচিত পতাকাকে অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর ঘটনাও লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মপ্রাণ যুবসমাজকে সতর্ক থাকতে হবে। ইসলামের পবিত্র প্রতীকসমূহের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কোনো মহল যদি ধর্মীয় প্রতীককে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তবে আলেম সমাজ ও সচেতন মুসলিম জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলা করবে।’
বক্তারা জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিজি-১৪৮ নম্বর ফ্লাইটের কার্গো হোল থেকে প্রায় ১৯ কেজি ওজনের ১৬০টি সোনার বার জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত এই সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগিব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের একটি সমন্বিত দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত সোনাগুলো অত্যন্ত কৌশলে কার্গো হোলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে এই চালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোনা চোরাচালানের উৎস এবং কার্গো হোলে এই মূল্যবান ধাতুর প্রবেশ নিশ্চিত করার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে এমন বড় ধরনের সোনার চালান উদ্ধারের ঘটনাটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির ফসল বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত সোনাগুলো কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংস্থাটির মহাপরিচালক পদে রদবদল করেছে সরকার।
বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুই আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে দুদকের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দুদকের বর্তমান মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে।
জনস্বার্থে জারিকৃত ওই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ জুলাই দেশের শীর্ষতম চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন। তার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও থাকবেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং ঢাকা মেডিকেলের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা প্রদান করে বলেন, আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও ভয়াবহতা বাড়তে পারে। তবে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে থানা, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তের এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঢাকা এবং দেশের বড় শহরগুলোর হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হবে।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি দেশের চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন যে, বর্তমানে সব ধরনের ভ্যাকসিন, রি-এজেন্ট এবং স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ‘মোবাইল হাসপাতাল’ চালুর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্যানসার নির্ণয় প্রক্রিয়ায় আধুনিকতা আনতে ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে রোগীদের ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ‘নজরুল বর্ষ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বছরব্যাপী এই আয়োজনের ঘোষণা দেন। চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বর্ষের কার্যক্রম আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। কবির সাহিত্য ও দর্শনের প্রচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে হবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।"
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে এই আয়োজনের সার্থকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নানা আয়োজনের মাধ্যমে এটিকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশে জেলা-উপজেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বছরজুড়ে সফলভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরি।" কবির সাম্য ও বিদ্রোহের বাণী যেন প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সরকার সেই লক্ষ্যেই এক বছর মেয়াদী এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
নজরুল বর্ষকে ঘিরে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও উৎসবের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক দর্শনকে জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের জন্য বছরজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী কবির স্মৃতি স্মরণে জাতীয় পর্যায়ের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হলো।
সন্ত্রাসবাদের বর্তমান ও পরিবর্তিত রূপ মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে আরও কার্যকর ও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভার্চুয়াল অ্যাসেটের মতো আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যেভাবে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র। নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার (১ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশল বিষয়ক এক বিতর্কে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনরুল্লেখ করেছেন। তিনি সংসদকে অবহিত করে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন দমনে বাংলাদেশে অত্যন্ত শক্তিশালী আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিদ্যমান। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) সমন্বিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরালো করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ অবশ্যই আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল সন্ত্রাস দণ্ড নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে হবে। তিনি ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখতে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। স্পিকারের দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জানাজায় অংশগ্রহণ ও শোক সন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন শেষে আগামী ৪ জুলাই তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণকারী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গনে তিনি ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা নিহত হন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ তেহরানে সমবেত হচ্ছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের এই সফরকে ইরানের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরানে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনির দাফন ও জানাজার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টসহ একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।
সাক্ষাৎকালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি (MRT) লাইনসমূহ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক সাড়া দেয়।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (Bangladesh–Japan Economic Partnership Agreement—EPA) দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এ সময় জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্যাট্রোল বোট (Patrol Boat) প্রদান করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও ভূমিকা আশা করেন।
প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।
নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। বুধবার (১ জুলাই) থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হয়েছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। এই পদ্ধতিতে লেনদেনে গ্রাহকের প্রতি হাজারে সর্বোচ্চ খরচ হবে সাড়ে ১১ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, সর্বজনীন এই ব্যবস্থার ফলে আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব হবে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে লেনদেনে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি কমবে দুর্নীতি এবং বাড়বে সরকারের রাজস্ব আদায়। ‘বাংলা কিউআর’ পুরোপুরি সচল হলে টাকা ছাপানো ও এর ব্যবস্থাপনা বাবদ রাষ্ট্রের বছরে যে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, তার সিংহভাগ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে দোকানে দোকানে আলাদা আলাদা ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না। একটিমাত্র ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকলেই যেকোনো ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপ থেকে সরাসরি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে মুহূর্তেই টাকা চলে যাবে। অর্থাৎ, একজন ব্যবসায়ী একটিমাত্র কোড ব্যবহার করেই যেকোনো ব্যাংক বা বিকাশ-রকেটের মতো এমএফএস গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে পারবেন।
সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, শুধু বড়ো শপিংমল আর সুপারশপগুলোতেই নয়, সবাই এগিয়ে এলে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবজি আর মুদি দোকানেও পৌঁছে যাবে বাংলা কিউআর কোড। এর ফলে একসময় মানিব্যাগ বা ছেঁড়া-ফাটা কাগুজে নোটের ব্যবহার অতীত হয়ে যাবে।
এর আগে গত এক এপ্রিল সব ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছিলো, ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যবসায়িক স্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাংলা কিউআর’ বসাতে হবে। এক জুলাই থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে নিজস্ব কোড বহাল রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
আষাঢ়ের রিমঝিম বৃষ্টির হাত ধরে দেশজুড়ে যখন স্বস্তির আবহ নামার কথা, ঠিক তখনই এক নিঃশব্দ ঘাতকের ডানার গুঞ্জনে ভারি হয়ে উঠছে দেশের বাতাস। সে ঘাতকের নাম-এডিস মশা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবার বর্ষার আগেই এ মশার লার্ভার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু ওষুধ ছিটিয়ে নয়, নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকরা। আর ঝুঁকি কমাতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে যদি এখনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে চলতি জুলাই মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ জুনের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। আর আগামী আগস্টে তা রূপ নিতে পারে এক প্রলয়ংকরী সুনামি-যা বর্তমানের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। নতুবা সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়-ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী রেখাকে টেনে ধরার সময়ও ফুরিয়ে যাবে।
এদিকে, সারাদেশে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মুত্যু হয়েছে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬৩ জন।
বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন রয়েছেন।
এই সময়ে ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৩ জন।
এ বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। চলতি বছরে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, দায়সারা মশক নিধন অভিযান এবং বছরব্যাপী বৈজ্ঞানিক নজরদারির অভাব আজ পুরো দেশের জনস্বাস্থ্যকে এক ভয়াবহ ও নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবহাওয়া বা জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার চিরাচরিত চেষ্টা এবার আর খাটছে না; কীটতত্ত্ববিদরা আঙুল তুলে দেখিয়েছেন—প্রকৃতি নয়, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চরম অভাবই এই আসন্ন বিপর্যয়ের মূল কারিগর।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়বে। জুলাই ও আগস্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এবার ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসছেন। দীর্ঘ সময় যাতায়াতের কারণে রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা ও প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে সব রোগীকেই রাজধানীতে আসতে না হয়।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং কার্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে সেখানে লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। এভিডেন্সভিত্তিক লক্ষ্য-নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে হবে।
পরিসংখ্যানে রক্তের দাগ: মে মাস আক্রান্ত হয় ৭১৪ জন আর মারা যায় একজন। পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে। জুন মাস ৫,৯২৪ জন আক্রান্ত। এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে আট গুণেরও বেশি! এই গাণিতিক হারের বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার কতটা জ্যামিতিক গতিতে ছড়াচ্ছে। জুনের এই ভয়াবহতা জুলাই এবং আগস্টে আরও কতটা নৃশংস হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
আগস্টের মহাবিপদ সংকেত: ঢাকার বাইরে সংক্রমণের নতুন ফ্রন্টলাইন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার আগামী দুই মাসকে (জুলাই ও আগস্ট) ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত ‘সংকটাপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তার তৈরি করা গাণিতিক পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, এবারের ডেঙ্গুর চরিত্র অন্য বছরের চেয়ে আলাদা এবং আরও বেশি বিপজ্জনক। এতদিন ডেঙ্গুকে মূলত রাজধানী ঢাকার রোগ মনে করা হলেও, এবার ঢাকার বাইরের জেলাগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
হটস্পট জোন: পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের আরও কয়েকটি অববাহিকায় ডেঙ্গু এবার মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।
এই সম্ভাব্য সংক্রমণের বিস্ফোরণ রুখতে হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এখনই নড়েচড়ে বসতে হবে। প্রতিটি জেলা শহর ও পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রমকে জরুরি ভিত্তিতে বিকেন্দ্রীকরণ ও জোরদার করতে হবে।
অব্যবস্থাপনার ব্যবচ্ছেদ: যেখানে গলদজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ জিএম সাইফুর রহমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই লাগামহীন অবনতির পেছনের ভেতরের গল্পটি উন্মোচন করেছেন। উচ্চ আর্দ্রতা, তীব্র তাপমাত্রা আর ঘন ঘন বৃষ্টিপাত এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে সত্য, কিন্তু কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ব্যর্থতাই পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে নিয়ে গেছে।
আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের অনুপস্থিতি: উন্নত বিশ্বে মশার ঘনত্ব এবং ভাইরাসের উপস্থিতি দেখে আগেই বিপদ সংকেত বা ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ চালু করা হয়। বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।
সংক্রমণ ক্লাস্টার চিহ্নিত না করা: কোন এলাকায় ডেঙ্গুরোগী বেশি (হটস্পট বা ক্লাস্টার), তা সময়মতো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ করার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।
পূর্বাভাসকে অবহেলা: বিশেষজ্ঞরা আগেই এই ভয়াবহ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতায় তা মাঠপর্যায়ে কোনো কাজে আসেনি।
ক্র্যাশ প্রোগ্রাম: বিজ্ঞানভিত্তিক নিধনে বিশেষজ্ঞদের ৪ দফা বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়েছেন, শুধু লোকদেখানো ড্রেন পরিষ্কার বা নালায় সামান্য লার্ভিসাইড (লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ) ছিটিয়ে ডেঙ্গুর এই সুনামি ঠেকানো যাবে না। উড়ন্ত ও সংক্রমিত পূর্ণবয়স্ক মশা বেঁচে থাকলে তারা প্রতিনিয়ত ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে। প্রাদুর্ভাবের এই শৃঙ্খল ভাঙতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অবিলম্বে যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে- নিখুঁত হটস্পট ম্যানেজমেন্টযেসব বাড়ি বা এলাকায় ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হবে, তার চারপাশের ৫০০ গজ এলাকার মধ্যে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ফগিং এবং আলট্রা-লো-ভলিউম (ULV) স্প্রে করতে হবে, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশাটি অন্য কাউকে কামড়ানোর আগেই মারা যায়। সঠিক ও কার্যকর অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগপূর্ণবয়স্ক মশা মারার জন্য শুধু ডিজেলের ধোঁয়া নয়, বরং পরীক্ষিত ও ল্যাবে কার্যকর প্রমাণিত হওয়া মানসম্মত অ্যাডাল্টিসাইড কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। মশার ওষুধে ভেজাল বা অদক্ষতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সমন্বিত ও সর্বজনীন সামাজিক আন্দোলনশুধু সরকারের দিকে চেয়ে না থেকে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি তিন দিনে একবার জমা পানি ফেলে দেওয়ার স্লোগান ‘৩ দিনে ১ দিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এটি প্রতিটি ঘরে ঘরে বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্মাণাধীন ভবন, বহুতল ভবনের বেইজমেন্ট ও ছাদবাগানে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা কবচ নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষায় কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এই মৌসুমে শরীর ভালোভাবে ঢাকা থাকে এমন লম্বা হাতাওয়ালা পোশাক পরা। এডিস মশার প্রধান কামড়ানোর সময়-অর্থাৎ ভোরে ও বিকেলে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখা। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মশার প্রতিরোধক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা।
সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এক বছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে শুধু ৩০ জুনই এসেছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। তবে গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ জুন মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ হাজার ৫৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরে (জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫) এ পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ডলার।
এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
ভোক্তাপর্যায়ে জুলাই মাসে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে কি না, বৃহস্পতিবার জানানো হবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী জুলাই মাসে ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
আরও বলা হয়, ওই দিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহিদ প্রকৌশলী ভবনের (ষষ্ঠ তলা) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করা হবে।
এ ছাড়া এলপিজির নতুন দর ঘোষণা-সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.berc.org.bd) পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সবশেষ গত ২ জুন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সেই সঙ্গে ওই দিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।