মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

গণমাধ্যমকর্মী বিল পরীক্ষায় আরও ৯০ দিন নিল সংসদীয় কমিটি

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৫ জুন, ২০২৩ ২২:৫২

‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল-২০২২’ যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা করে জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন জমা দিতে চতুর্থ দফায় আরও ৯০ দিন সময় নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন দিতে না পারায় সোমবার জাতীয় সংসদে আরও ৯০ দিন সময় চান সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

প্রস্তাবটি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ভোটের জন্য উপস্থাপন করলে এতে অনুমোদন দেয় সংসদ।

বহুল আলোচিত এই বিলটি গত বছরের ২৮ মার্চ সংসদে উপস্থাপন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তখন বিলটি পরীক্ষা করে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন দিতে না পেরে গত বছরের ৬ জুন ৬০ দিন বাড়তি সময় নিয়েছিল সংসদীয় কমিটি। এরপর আগস্টে আবার দ্বিতীয় দফায় ৬০ দিন সময় বাড়িয়ে নেয় তারা। এরপর গত ৮ জানুয়ারি আবারও বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে ৯০ দিন সময় নেয়া হয়। দীর্ঘ ছয় মাস পর আবারও ৯০ দিন সময় নিল সংসদীয় কমিটি।

প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও মালিকপক্ষের মধ্যে অসন্তোষ আছে। গত মার্চে আইনের খসড়া সংসদে তোলার পর থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন আইনের বেশ কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

প্রস্তাবিত আইনে গণমাধ্যমকর্মী ও মালিকপক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গণমাধ্যম আদালত স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন-২০২২’ পাস হলে এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সংবাদপত্রের বিকাশ সংকুচিত করবে বলে মনে করছে সম্পাদক পরিষদ।

গত এপ্রিলে এক বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ বলেছিল, প্রস্তাবিত এই আইনের ৫৪টি ধারার মধ্যে ৩৭টি ধারাই সাংবাদিকবান্ধব নয়। সার্বিকভাবে এই আইন গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে। এ ধরনের আইন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে প্রস্তাবিত গণমাধ্যমকর্মী আইন প্রচলিত বিচারব্যবস্থা, শিল্প আইন ও বাংলাদেশ শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে দৈনিক সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। সংগঠনটির বক্তব্য, প্রস্তাবিত ওই আইনটি পাস হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্তসহ সংবাদপত্রের বিকাশ সংকুচিত হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

২৭ আগস্ট বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন শুরু হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইং থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার স্বাক্ষর করা রাষ্ট্রপতির এ আদেশটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুইডেনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস (Nicolas Linus Ragnar Weeks)।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সুইডেনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দক্ষ ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরিতে বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ জোরদার এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুইডিশ সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

আলোচনায় সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল’ (Bilateral Cooperation Strategy) রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেডিমেড গার্মেন্টস ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইডিশ বিনিয়োগও বাড়ছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী।

বৈঠকে সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, অসাধু মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু নিরপরাধ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং মানবপাচারকারীদের প্রলোভন অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সুইডেন রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সুইডেনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুইডেনের কাজ করার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ও অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আগ্রহী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সকল প্রকার প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যম-কে নিশ্চিত করেছেন। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি এবং মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, প্রায় দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করা সংগঠনটির নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও বৃহৎ পরিসরে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অ্যামচেম প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্বকে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


নির্বাচিত

সরকারের ১৮০ দিনের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনতার কাছে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: ডা. জাহেদ উর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন চলছে এবং শাসনের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই দেশবাসীর সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে মূলত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এ কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মূল্যায়ন শেষে প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের মাধ্যমে বা বিশেষ কোনো উপায়ে সব তথ্য জনগণের সামনে পেশ করবেন। তবে এটি চূড়ান্ত হতে এখনও কিছু সময় বাকি।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রেলপথ খাতের আধুনিকায়নে সরকার নিরলস কাজ করছে। নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের পরিসর বাড়ানো হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে নতুন এক জোড়া ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ ট্রেন চালু করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে দীর্ঘ এক বছরের সফল আলোচনা শেষে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ বা সিইপিএ সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভ করবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে উপদেষ্টা জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনে দেশের প্রথম ‘বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হয়েছে, যা বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের অধীনে ৭০ হাজার ৮৬১টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে সারা দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ‘ভিসা’র এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সের গতি ত্বরান্বিত করা এবং পেমেন্ট বা লেনদেন ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তরে ভিসার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্টিফেন কারপিন তিন দিনের এক সংক্ষিপ্ত সফরে গত সোমবার বাংলাদেশে এসে পৌঁছান। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত তিনি এ দেশেই অবস্থান করবেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সুরেশ শেঠি। সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই সাক্ষাৎটিকে বাংলাদেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার পথে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সভা আজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আজ জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় এ সভা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৩ আগস্ট। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ।


নির্বাচিত

ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জাতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর ও আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তারেক রহমান আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি’র সঙ্গে সমন্বিত করেছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতির দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সব সময় বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব। দেশ ও জনগণের উন্নয়নে- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটিই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) কিংবা বর্তমানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) ভিশন ও মিশনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, এসডিজির প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ কিংবা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, সকল শ্রেণিপেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজির এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বা রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর- সবকিছুই একটি সুসংহত নকশায় বাস্তবায়িত হবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে চলছে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণজনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয়গুরুদেরকেও সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।

‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারাদেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসডিজি ভিলেজ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা।

তিনি বলেন, আশা করি, তিন দিনের এই সম্মেলনে প্রতিটি সমন্বয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অভীষ্টভিত্তিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। এর একটি হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। আরেকটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন। এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

ভিসার শ্রেণি বাড়িয়ে নতুন নীতিমালা করল সরকার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিসার শ্রেণি বাড়িয়ে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন ভিসা নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ভিসা নীতিমালা ২০২৬ অনুমোদন করা হয়।

রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা; বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা; পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা; প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা; জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা; পারস্পরিকতা নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক এবং সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান ভিসা পদ্ধতি যুগোপযোগী, নিরাপদ, গতিশীল এবং সহজীকরণের উদ্দেশ্যে নতুন ভিসা নীতিমালা করা হয়েছে।

২০০৬ সালে ভিসা নীতিমালা ভিসার শ্রেণি ৩৩টি ছিল জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন ভিসা নীতিমালায় ৩৪টি ভিসার শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভিসা নীতির ভিত্তিতে আগের সব ভিসাসংক্রান্ত সার্কুলার বাতিল করে একটি সমন্বিত ও আধুনিক ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো সমন্বিতভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে।


নির্বাচিত

ফ্যাসিবাদী সময়ের কৃত্রিম ফলাফলের সংস্কৃতি ভেঙে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য প্রকাশিত চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে কৃত্রিমভাবে পাসের হার কিংবা জিপিএ-৫ বাড়ানোর যে সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।’

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চিত্র তুলে ধরে ড. মাহদী আমিন বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের মাত্র দুই মাস পর গত ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথমবারের মতো আমরা সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করেছি। কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে খাতার শতভাগ নিরপেক্ষ ও নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে শিক্ষার্থী যেভাবে পড়াশোনা করেছে, ফলাফল ঠিক সেভাবেই এসেছে। এরফলে ফলাফলের ভালো বা মন্দের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এটিই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন। যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি, তাদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। সরকার প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে।’

বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

শিক্ষা খাতের চলমান সংস্কার ও নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যক্রম পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। এতে নতুন চারটি বই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘স্টার্টআপ কম্পিটিশন’ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ক্রীড়া-সংস্কৃতির সন্নিবেশ এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির সঠিক সংমিশ্রণে (টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন) শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ চলমান রয়েছে।

পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় শিক্ষক, অভিভাবক, পরীক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

একই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফল করেছে, তাদের কৃতিত্ব তুলে ধরে অনুপ্রেরণা দিন। আর যেসব জায়গায় ঘাটতি বা সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করি।’


নির্বাচিত

শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ‘শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আমরা খুব শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করব, আপনাদের সামনে তার ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো পরীক্ষার্থী যদি ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে কিংবা নম্বর প্রদানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, তবে রিভিউ কমিটির মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।’

ফল পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হতো। কিন্তু এবার আমরা আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর খাতা যথাযথভাবে পুনর্নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছি। যদি কোনো শিক্ষক মূল্যায়নকালে যথাযথ নম্বর না দিয়ে থাকেন বা অসাবধানতাবশত ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে অভিজ্ঞ রিভিউ কমিটির সম্মুখে সেই খাতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রিভিউ করা হবে। পরীক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে যখন আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম এবং কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল নির্মূল করেছিলাম, তখনও প্রাথমিক অবস্থায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ধারাবাহিক ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে সেই সংখ্যা আমরা সফলভাবে কমিয়ে এনেছিলাম এবং সামগ্রিক পাসের হার ২৮ শতাংশ থেকে ৭৭ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে।’

ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিশেষ করে উপকূলীয় বা পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত পার্থক্যের কারণে ফলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভিন্নতা তৈরি হয়, যা বিশ্বের যে কোনো দেশেই বিদ্যমান। তবে শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান বাড়িয়ে এ বৈষম্য দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশেষ তদারকি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


নির্বাচিত

অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবিক অর্থেই আমাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে দু’দেশের এই অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বরিশালের গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চে আন্তঃধর্মীয় নেতাদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বক্তব্য দেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশী অভিবাসীরা প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে আসা মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) সিংহভাগই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা আমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় বড় অবদান রাখছে।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্যমন্ত্রীর নিজ এলাকা বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঘুরতে যাওয়ায় তাকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চর্চা হয়ে আসছে, যা এই অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হয়েছে।’

নিজ দেশের মূলনীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর উদযাপন করছে। আমাদের দেশের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ধর্মীয় স্বাধীনতা, যেখানে প্রতিটি মানুষ কোনো ভয়ভীতি বা নিপীড়ন ছাড়া স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালন করতে পারে। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সূচনা থেকেই চলে আসছে।’

প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বলেও জানান তিনি।

উৎসবে সার্বজনীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘উৎসব সবার জন্য হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রেও আমরা ঈদ, দেওয়ালি, ক্রিসমাস ও ইস্টারের মতো অনুষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে পালন করি, যা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মানুষের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য ধর্মীয় গুরুদের অবদান অপরিসীম। স্থানীয় কোনো ধর্মীয় বিরোধ যেন বড় কোনো সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে ধর্মীয় ও স্থানীয় নেতাদের সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার, বাংলাদেশের এই ধারণা একটি চমৎকার উদ্যোগ।’

গৌরনদী ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পুরোহিত ফাদার লিটন ফ্রান্সিস গোমেজের সভাপতিত্বে সভায় গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, আগৈলঝাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার, কলেজ অব ক্রিশ্চিয়ান থিওলজি বাংলাদেশের ভিসি রেভারেন্ড ড. পলাশ রায়সহ সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশের মতো দেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে শতভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও শতভাগ ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব হয় না এবং সেখানে নিয়মিতভাবেই নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে; তবে ফলাফল ঘোষণার পর সবাই তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মেনে নেয়। সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকারের যৌথ আয়োজনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে শিষ্টাচার ও সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সময় ভাষা, শব্দচয়ন এবং বাক্যবিন্যাসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বা আক্রমণাত্মক ভাষার কারণে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহজেই সহিংসতার মানসিকতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। রিজভী মনে করেন, একটি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যত কঠোর আইনই প্রণয়ন করা হোক না কেন, মানুষের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন না ঘটলে সেসব আইনি উদ্যোগ কখনোই পুরোপুরি কার্যকর হবে না।

দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে রিজভী জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে দলের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে অনেক নেতা-কর্মীকে দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার, অব্যাহতি এবং শোকজ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে দলের একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, অতীতে কোনো বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙচুর বা প্রতিহত করলে ‘রংবাজ’ বা ‘মাসলম্যান’দের প্রশংসা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি দলীয় কোনো মাস্তান, সন্ত্রাসী বা দখলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না এবং এমন কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাই প্রমাণ করে যে দলটি সঠিক পথে রয়েছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে সেই সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে উপকারী এবং ভবিষ্যৎমুখী হতে হবে, যা গণতন্ত্রের পথচলাকে আরও মসৃণ করবে এবং রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূর্ণ বিকাশ ঘটাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চার জন্য অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। একতরফাভাবে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী না করে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষের ভূমিকাই বিবেচনা করতে হবে, কারণ তার ভাষায়, ‘এক হাতে তালি বাজে না।’


নির্বাচিত

১৯ শিক্ষার্থীর জন্য ১৭ শিক্ষক, তবুও পাসের হার শূন্য!

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসায় এবার দাখিল পরীক্ষায় এক নজিরবিহীন ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও চলতি বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৯ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ, এবারের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির পাসের হার একেবারেই শূন্য। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও একজন শিক্ষার্থীরও উত্তীর্ণ হতে না পারার এই ঘটনা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

মাদ্রাসাটির অতীত ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্তির সুযোগ পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক এবং চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষসহ নানাবিধ অবকাঠামোগত সংকট রয়ে গেছে। প্রত্যন্ত চলনবিল এলাকায় এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট-নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষক মাদ্রাসার আশপাশে না থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদরে বসবাস করেন। যাতায়াতের এই দূরত্বের অজুহাতে শিক্ষকরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন না বলে স্থানীয়রা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

শিক্ষকদের এই নিয়মিত অনুপস্থিতি এবং পাঠদানে চরম গাফিলতির কারণেই মূলত দীর্ঘ এক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিকভাবে এমন বিপর্যয় ঘটছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম আক্ষেপ করে জানান, শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে এসে ঠিকমতো পড়ান না, শুধু মাস শেষে বেতন তোলেন; যার কারণে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা এখন আর তাদের সন্তানদের এই মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে চান না। তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা এই গাফিলতির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও ফলাফলের এই চরম বিপর্যয়ের দায় শিক্ষার্থীদের কাঁধেই চাপিয়েছেন মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইন। তার দাবি, গ্রামের ছেলেরা পড়াশোনায় মনোযোগী না হওয়ার কারণেই মূলত সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন করুণ দশা ও ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরেও এসেছে। এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান জানিয়েছেন, কেন এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটল, সে বিষয়টি তারা গভীরভাবে খতিয়ে দেখবেন। তবে শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, কেবল শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে শিক্ষকদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলে আসা এই শিক্ষার্থী সংকট ও ফলাফলের ধারাবাহিক বিপর্যয় ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।


নির্বাচিত

banner close