বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

‘বাংলাদেশে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে অনড় যুক্তরাষ্ট্র’

অ্যাডমিরাল জন কিরবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৬ জুন, ২০২৩ ১৬:৫৫

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনএসসি) স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন্সের পরিচালক অ্যাডমিরাল জন কিরবি। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে সেদেশের কংগ্রেসের ছয় সদস্যের চিঠি দেয়ার বিষয়টি হোয়াইট হাউস অবগত।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জন কিরবি এ কথা জানান। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারাইন জ্যাঁ পিয়ের সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

এতে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে চিঠি দিয়ে ছয় কংগ্রেসম্যান অনুরোধ করেছেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানানো হয়েছে সেখানে। পাশাপাশি ওই চিঠিতে বাংলাদেশের জনগণকে অবাধ ও সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য সর্বোত্তম সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?’

জবাবে কিরবি বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় এবং এই যোগাযাযোগের (চিঠি পাঠানো) বিষয়েও আমি অবগত। বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার লক্ষ্যে আমরা অনড় অবস্থানেই আছি। এই দায়বদ্ধতা থেকেই সম্প্রতি পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসানীতি ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের (অবাধ ও সুষ্ঠু) নির্বাচন আয়োজনে বাধাদানকারীদের ভিসা দেয়ার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।’

গত ২ জুন নিজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২৫ মে লেখা চিঠিটিসহ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বব গুড। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী বাকি কংগ্রেস সদস্যরা হলেন- স্কট পেরি, ব্যারি মুর, টিম বারচেট, ওয়ারেন ডেভিডসন এবং কিথ সেল্ফ। তারা সবাই বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির সদস্য।

চিঠিতে বাংলাদেশকে অবাধ নির্বাচনের একটি সর্বোত্তম সুযোগ করে দেয়ার জন্য কঠোর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা, বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সেনাদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

চিঠিটির বিষয়ে সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জানান, বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে ছয় কংগ্রেসম্যান চিঠি দিয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এরকম চিঠি অতীতেও এসেছে, ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে আসতে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এই ধরনের কার্যক্রম তত বাড়তে থাকবে।’

বিভিন্ন লবিস্ট ফার্ম বা শক্তির কাজ করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা তাদের কাজ করবে, আমরা আমাদের কাজ করবো। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন বাংলাদেশের মানুষ আমাদের শক্তি।’


বিদেশ যেতে পারবেন না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই জাকির

মো. জাকির হোসেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থপাচার আইনের মামলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। তবে এ সময় তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। এ জন্য তার পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুধবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

অর্থপাচার আইনে করা মামলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জামিন দেন হাইকোর্ট। এ জামিন স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করে দুদক। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

তিনি চেম্বার আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। আমরা সেই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করি। আদালত শুনানি নিয়ে জামিন স্থগিত না করলেও পাসপোর্ট জমা দিতে বলেছেন, এবং বিদেশ যেতে আদালতের অনুমতি নিতে হবে বলেছেন।

জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৪ মার্চ মামলা করে দুদক। মামলায় তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলের অভিযোগ আনা হয়।

জাকির হোসেনের জমা দেয়া আয়কর নথি ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে দুদক তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের তথ্য পায়। ২০২১-২২ আয়কর নথি অনুযায়ী, জাকির হোসেনের নামে ধানমন্ডির ১ নম্বর সড়কে ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় ২৬৩ অজুতাংশ জমির ওপর ৭৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭০০ টাকা খরচ করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণসহ মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকার স্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের টয়োটা রোস গাড়ি, নগদ ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৯৭০ টাকা ও ব্যাংক হিসাবে রক্ষিত ৭২ হাজার ৫০৬ টাকাসহ মোট ১৩ কোটি ৮৮ লাখ ৮৭ হাজার ৪৭৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে আয়করে। সব মিলিয়ে জাকির হোসেনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৬ টাকা।

জাকির হোসেন ১৯৯২ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। তিনি ১৯৯৫ সালে কুয়েত দূতাবাসে এবং ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কেনিয়ার নাইরোবিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


সফর শেষে দেশে ফিরলেন বিমান বাহিনীর প্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সরকারি সফর শেষে গত সোমবার দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

সফরকালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান শারজাহে অবস্থিত এএএল গ্রুপের আমন্ত্রণে ওই প্রতিষ্ঠানের

এমআরও ফ্যাসিলিটির হেলিকপ্টার মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওভারহল প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন। বিমান বাহিনী প্রধান গত ২১ সেপ্টেম্বর দুজন সফরসঙ্গীসহ সরকারি সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। বিজ্ঞপ্তি


তেজগাঁওয়ে এলোপাতাড়ি গুলিতে জড়িতরা দেশের বাইরে চলে গেছে: পুলিশ

আইনজীবী ভুবন চন্দ্র শীল। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে টার্গেট করে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রচার হওয়ায় অপরাধীরা আত্মগোপনে চলে গেছে। তবে যে বা যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

জানা গেছে, জেলখানায় থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন তার প্রতিপক্ষ আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মনিরকে খুনের পরিকল্পনা করে। দীর্ঘ ২০ বছর কারাগারে থাকার পর বের হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সন্ত্রাসীরা তাকে উদ্দেশ করে গুলি ছোড়ে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। দুর্বৃত্তদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ভুবন চন্দ্র শীল ও মো. আরিফুল নামে দুই পথচারী আহত হন। তাদের মধ্যে সোমবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইনি পরামর্শক ভুবন চন্দ্র মারা যান।

আলোচিত এই ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কাছে।

আজিমুল হক বলেন, ‘তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় অত্যন্ত লোমহর্ষক এই ঘটনার পর পুলিশ প্রথম থেকে কাজ করছিল। অগ্রগতিও ছিল। তবে ঘটনার সময়ের একটা সিসিটিভি ফুটেজ মিডিয়ায় প্রচার হওয়ায় অপরাধীরা অ্যালার্ট (সচেতন) হয়ে গেছে। তবে ইতোমধ্যে আমরা একজনকে ধরতে সক্ষম হয়েছি। তার নাম বলছি না। আশা করছি এই অপরাধে জড়িত সবাইকে ধরতে পারব।’

পুলিশ বলছে, গণমাধ্যমে ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ প্রচার হওয়ায় অভিযুক্তরা পালিয়ে আত্মগোপনে গেছে। তবে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পরপর অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেছে। তাই তাদের আটক কিংবা শনাক্ত করা যাচ্ছে না।


মোহাম্মদপুরের আলোচিত ‘রক্তচোষা’ জনি গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী, পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. মনির হোসেন ওরফে মো. জনি মিয়া ওরফে ‘রক্তচোষা’ জনিকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ৩০০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই এলাকার দুর্ধর্ষ, কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী রক্তচোষা জনিকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তুরাগ নদী সংলগ্ন একতা হাউজিং এলাকা থেকে জনিকে গ্রেপ্তার করে।

ডিসি বলেন, তার নামে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধে ১৪টি মামলা রয়েছে। সে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, একতা হাউজিং, নবীনগর হাউজিং ও বসিলা এলাকা এবং আদাবর থানা এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মারামারি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

তাকে মোহাম্মদপুর এলাকার ত্রাস বলা চলে। এমন কোনো অপরাধ নেই যে সে করেনি। একবার তাকে আটক করতে গেলে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের এসআইকে কুপিয়ে সে আহত করেছিল। অনেক বড় বড় অপরাধে জড়িত এই জনি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে নতুন করে দুটি মামলা হবে।

জনির নামের সঙ্গে ‘রক্তচোষা’ যোগ হওয়ার বিষয়ে ডিসি আজিমুল হক বলেন, জনির বিভিন্ন কুখ্যাতির জন্য স্থানীয়রা তাকে এই নামে ডেকে থাকে। অবশ্যই সে এমন কোনো কাজ করেছে, যার কারণে এই ভয়ংকর নামের খ্যাতি পেয়েছে। তার নামে মামলার সংখ্যা দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে কতটা ভয়ংকর। বেশকিছু দিন ধরে সে সাধারণ মানুষকে বিরক্ত করছিল। এ ছাড়া, জনির দুষ্কর্মের সহযোগী, আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া লোকজন থাকতে পারে। এ বিষয়গুলো আমরা তদন্তে আনার চেষ্টা করব। তাকে গ্রেপ্তারের পর জনমনে স্বস্তি ফিরেছে বলেও দাবি করেন তিনি।


বনানীর সেই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে কামরুল হাসান নামের এক প্রকৌশলীকে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে তার খোঁজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বনানী থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে গত সোমবার রাতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী কামরুল হাসান বনানীর একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্ত হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত রোববার সন্ধ্যায় কাজ শেষে অফিস থেকে এক সহকর্মীর সঙ্গে বের হয়ে বনানী ২৮ নম্বর সড়কে এলে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। এ সময় সঙ্গে থাকা তার সহকর্মীকে বলা হয়েছিল, রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। তবে এর পর থেকে তাকে খুঁজে না পাওয়ায় কামরুলের স্ত্রী বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বনানী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, গত সোমবার রাতে এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


আল কায়েদার মতাদর্শে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন তারা

নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার মেজবাহ ওরফে আবু মাসরুরসহ ছয়জন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ঢাকা অঞ্চলের দাওয়াতি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজবাহ ওরফে আবু মাসরুরসহ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আল কায়েদা মতাদর্শের জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

গত সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরা, বনানী, বনশ্রী ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আনসার আল ইসলামের ঢাকা অঞ্চলের দাওয়াতি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ওরফে আবু মাসরুর (৫০), শেখ আশিকুর রহমান ওরফে আবু আফিফা (৪৯), সাদী মো. জুলকার নাইন (৩৫), মো. কামরুল হাসান সাব্বির (৪০), মো. মাসুম রানা ওরফে মাসুম বিল্লাহ (২৬), সাঈদ মো. রিজভী (৩৫)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, ছয়টি মোবাইল ফোন, উগ্রবাদে সহায়ক পুস্তক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সংক্রান্ত ডায়রি ও নোট বই জব্দ করা হ‌য়ে‌ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বরাতে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন সময় অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী নেতাদের বক্তব্য দেখে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে আনসার আল ইসলামে যোগ দেন। সংগঠনে যুক্ত হয়ে তারা দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে তারা মসজিদ, বাসা বা বিভিন্ন স্থানে সদস্যদের নিয়ে গোপন সভা পরিচালনা করতেন‌। তারা বিভিন্ন অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে দেশের বিচার ও শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিতৃষ্ণা তৈরি করে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য সদস্যদের উগ্রবাদী করে তুলতেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের সমমনা ব্যক্তিদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন উগ্রবাদী গ্রুপে তাদের বিচরণ ছিল।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার মেজবাহ ওরফে আবু মাসরুর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপে যান। ২০১০ সাল থেকে ডেনমার্কে সপরিবারে বসবাস শুরু করেন। ডেনমার্কে গ্রেপ্তার আশিকুরের মাধ্যমে আনসার আল ইসলামে যোগ দেন মেজবাহ। পরে ২০২২ সালের অক্টোবরে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে বাংলাদেশে এসে সংগঠনের ঢাকা অঞ্চলের দাওয়াতি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তি‌নি দেশে ও দেশের বাইরে থেকে সংগঠনের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতেন।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এ কমান্ডার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিএফআই ও র‍্যাবের অভিযানে আনসার আল ইসলামের প্রায় ২০ জন সদস্যকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংগঠনটি মূলত কাট অব চেইনের পদ্ধতিতে কাজ করে। গ্রেপ্তার জঙ্গি মেজবাহর সঙ্গে আনসার আল ইসলামের নেতা আবু ইমরানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করেন।

সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর জিয়ার নেতৃত্বে আনসার আল ইসলাম পরিচালিত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আনসার আল ইসলামের নেতা বরখাস্ত হওয়া মেজর জিয়ার বিষয়ে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার আমিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি, নাইক্ষ্যংছড়িতে একটি মাদ্রাসায় ২০২০ সালে তার সঙ্গে মেজর জিয়ার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। এরপর আর তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।


উত্তরায় দুটি মানি এক্সচেঞ্জ থেকে দেশি-বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫

বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রাসহ সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার পাঁচজন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় দুটি মানি এক্সচেঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. নাইমুল ইসলাম (২৭), মো. রেজাউল করিম সোহেল (৩৮), মো. আব্দুল আওয়াল (৪১), মো. সাইফুল হাসান ভূঁইয়া (৪৩) ও রফিকুল ইসলাম (৬৬)।

গত সোমবার রাতে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর রোডের লতিফ অ্যাম্পোরিয়াল মার্কেটের নিচ তলায় আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার অ্যান্ড স্টেশনারি এবং কুশল সেন্টারের নিচ তলায় মার্ক ন্যাশনাল মানি এক্সচেঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশি মুদ্রাসহ ৪০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়, যা ৮৮ লাখ ২ হাজার ২২৮ টাকা সমমূল্যের।

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) আজাদ রহমান বলেন, অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ ও বৈধ মানি এক্সচেঞ্জের অবৈধ লেনদেনের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাতে উত্তরা এলাকায় দুটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।

তিনি বলেন, যথাযথ নিয়ম না মেনে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় ও বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশি টাকা হেফাজতে রাখার অপরাধে গ্রেপ্তার আসামিরাসহ অজ্ঞাতানামা চার-পাঁজনের বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে উত্তরা পশ্চিম থানায় মঙ্গলবার মামলা করা হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সিআইডির অভিযান চলছে।


গণপিটুনির ভয়ে ৯৯৯ এ ‘চোরের’ কল 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘হ্যালো এটা কি পুলিশের কন্ট্রোল? আমি একটা দোকানে ঢুকছিলাম চুরি করতে, এখন লোকজন টের পাইয়া গেছে, আমারে তো পিটাইয়া মাইরা ফালাইবো, আমারে গ্রেপ্তার করেন। তাড়াতাড়ি খানকা রোডে পুলিশ পাঠান, আমারে বাঁচান।’

মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টায় রাজধানীর কদমতলীর খানকা রোডের পাসপোর্ট অফিসের পাশে একটি দোকান থেকে হৃদয় নামে একজন কলার ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে এমন তথ্য জানান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা থেকে তাৎক্ষণিক কদম তলী থানায় বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

জরুরি সেবা ৯৯৯ এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তার জানান, সংবাদ পেয়ে কদমতলী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ততক্ষণে জনগণ হৃদয়কে ধরে পিটুনি দেয়া শুরু করেছিল। পুলিশ দল সেই অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। প‌রে গ্রেপ্তার করে থানায় নি‌য়ে আসে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হৃদয় (২৫) কদমতলী থানার মেরাজনগরের বি ব্লকে বসবাস করে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসা‌মি‌কে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


সংবিধানকে সংরক্ষণ করা সবার পবিত্র দায়িত্ব: প্রধান বিচারপতি

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিনিধি, সাভার

সংবিধানকে সংরক্ষণ করা বিচার বিভাগের সবার পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন দেশের ২৪ তম প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই স্মৃতিসৌধ আমাদের শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সহকর্মীদের নিয়ে এখানে এসেছি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, এ দেশের সংবিধান তৈরি হয়েছে। এই সংবিধানকে সংরক্ষণ করা আমি ও আমার সহকর্মীদের প্রত্যেকের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা সেভাবেই শপথ নিয়েছি। এই শপথে বলীয়ান থাকার জন্য আবারও এলাম স্মৃতিসৌধে।’

স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে প্রধান বিচারপতি তার মন্তব্যে লেখেন, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনে শাহাদতবরণকারী সকল শহীদদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী ৩০ লাখ শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। শ্রদ্ধা জানাই ২ লক্ষাধিক মা-বোনের প্রতি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করছি যে মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে আত্মনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিলো। জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতিসমূহ আমি বাংলাদেশর প্রধান বিচারপতি হিসেবে ও ব্যক্তি জীবনে দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করবো। বীর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ও সুপ্রীম কোর্ট। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি ও সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের পক্ষ থেকে সকল শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলবো না। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’

এরআগে বেলা ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রধান বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত ১২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে বাংলাদেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।


নীতিমালা সংশোধন, ভোটে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন সাংবাদিকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ভোটের দিন নির্বাচনী কাজে সাংবাদিকদের সীমিত পর্যায়ে মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নানা আলোচনা-সমালোচনার পর আগের নীতিমালা সংশোধন এনে মঙ্গলবার এমন নির্দেশনা জারি করেছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।

নীতিমালার ৬ নম্বর নির্দেশনায় সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক। ওই নির্দেশনায় আগে বলা হয়েছিল, সাংবাদিকরা ভোটের কাজে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সংশোধনের পর এখন বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের যাতায়াতের জন্য যৌক্তিক সংখ্যক গাড়ির স্টিকার দেয়া হবে।

সংশোধিত নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতার আলোকে স্থানীয় প্রশাসন (রিটার্নিং অফিসার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার সমন্বিতভাবে) প্রকৃত সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের লক্ষ্যে সীমিত পর্যায়ে মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র প্রেস আইডির কপি, এনআইডির কপি এবং যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হবে সেই মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিকট জমা দিতে হবে।

রিটার্নিং অফিসার বা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যাচাই বাছাই শেষে মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি দেবেন। কোনো সাংবাদিকের জন্য গাড়ির স্টিকার দেয়া হলে স্টিকারের ক্রমিক নম্বর রেজিস্টারে লিখে রাখতে হবে। এ ছাড়া নীতিমালার অন্যান্য বিষয় আগের মতোই আছে।


ভিসানীতি কারো পক্ষ নেয়ার উদ্দেশ্যে নয়: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতির উদ্দেশ্য জাতীয় নির্বাচনে কারো পক্ষ নেয়া নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। তিনি বলেছেন, এ ভিসানীতির উদ্দেশ্য, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা।

গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

ভিসানীতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মিলার বলেন, ‘আমি বলব, যেমনটা আমরা আগেও বলেছি, যেমনটা গত মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন এ নতুন নীতি ঘোষণা করেছিলেন, তখনো আমরা বলেছিলাম, এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশে নির্বাচনে কারো পক্ষ নেয়া নয়। এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করা বা সমর্থন করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলব, গত শুক্রবার যখন আমরা এ নতুন ভিসা বিধি-নিষেধ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিলাম, তখন আমরা উল্লেখ করেছি, এতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ক্ষমতাসীন দল ও রাজনৈতিক বিরোধীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসনকে মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মিলার জানান, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।

ভিসানীতিতে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি জানান, ভিসা-সংক্রান্ত রেকর্ড গোপনীয় হওয়ায় সুনির্দিষ্ট সদস্য বা ব্যক্তি- কার জন্য এ নীতি প্রযোজ্য হবে, তার ঘোষণা তারা দেননি।

তবে তারা এ বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এ নীতি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য, ক্ষমতাসীন দল ও রাজনৈতিক বিরোধীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।


বুধবার পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৮:২৫
ইউএনবি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল বুধবার তিন দিনের সফরে নিজ জেলা পাবনা যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রপতি তিন দিনের সফরে বুধবার বিকালে পাবনার উদ্দেশে রওনা হবেন। খবর ইউএনবি।

তিনি আরও বলেন, সেখানে বিভিন্ন জনসভায় ভাষণ দেবেন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

সফরকালে তিনি সাথিয়া উপজেলায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার পর জনসভায় বক্তব্য রাখবেন এবং পাবনা মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

২৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন ওবায়দুল হাসান

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান
আপডেটেড ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। মঙ্গলবার বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

গত ১২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে বাংলাদেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৯৫৯ সালের ১১ জানুয়ারি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম ডা. আলাকুল হোসাইন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তিনি গণপরিষদ সদস্য হিসেবে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় সক্রিয় অংশ নেন এবং সংবিধান রচনার পর তাতে স্বাক্ষর করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস, এমএসএস ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৯৮৬ সালে জেলা আদালত, ১৯৮৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

২০০৯ সালের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০১১ সালের ৬ জুন স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

তিনি ১৯৯১ সালে বিচারপতি হাসান নিয়মিত আইনজীবী হিসেবে হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ল’ইয়ারস কনফারেন্সে’ অংশ নেন। তিনি অনেক সাংবিধানিক মোকদ্দমা পরিচালনা করেন।

বিচারপতি হিসেবে যোগদানের আগে তিনি দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং সাংবিধানিক বিষয়াদি সম্পর্কিত মোকদ্দমার একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধানমন্ডি ল’ কলেজের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০১২ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর একজন সদস্য হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীকালে একই সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিচারপতি হাসান অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান, নেপাল, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, সৌদি আরব ইত্যাদি।

তার একমাত্র ছেলে আহমেদ শাফকাত হাসান আইনবিষয়ক একজন গবেষক। তিনি যুক্তরাজ্যের ইনার টেম্পল থেকে বার-এট-ল করার পর ইউনিভার্সিটি অব ডারহাম থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত। তার স্ত্রী নাফিসা বানু বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য (অর্থ) হিসেবে কর্মরত।


banner close