লোডশেডিং যেভাবে বাড়ছে তাতে ‘জনরোষের’ সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
বিরোধী সংসদ সদস্যদের এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে সবাইকে সপ্তাহ দুয়েক ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
মঙ্গলবার ২০২২–২০২৩ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সাম্প্রতিক লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
চলতি অর্থবছরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য ৩২ কোটি ৪৬ লাখ চার হাজার টাকা মঞ্জুরি দাবি তোলেন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তার এই দাবিতে ছাঁটাই প্রস্তাব দেন ১০ জন সংসদ সদস্য। তবে আলোচনায় অংশ নেন ছয়জন। বাকিরা অনুপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, ‘আমাদের ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার কিন্তু করে ফেলেছি ২৬ হাজার মেগাওয়াট। আর আজকে উৎপাদন হচ্ছে ৭ হাজার মেগাওয়াট।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘এখন কমবেশি এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। এই লোডশেডিং আরও বাড়বে। বিল পরিশোধের কারণে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিল তো মানুষের বাকি নেই। গ্রাহকরা তো সবাই বিল দিচ্ছেন। তাহলে এই বিল কেন বাকি থাকছে? একটা হতে পারে ক্যাপাসিটি চার্জ। গণমাধ্যমে দেখেছি ৯০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ এসেছে। ২০ হাজার কোটি টাকা নাকি এখনো বাকি আছে। কেন এত ক্যাপাসিটি চার্জ হয়? কেন চুক্তিটা এভাবে করা হলো যে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতেই হবে। কেন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে খাম্বা ও সঞ্চালন লাইন করা হলো না।’
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিএনপির আমলে বিদ্যুৎ ছিল না, খাম্বা ছিল। এখন বিদ্যুৎ আছে খাম্বা নেই। ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। টাকা সর্টেজ। মানুষ গরমে কষ্ট পাচ্ছে। মোগল আমলে মানুষ যে কষ্টে ছিল এখন তার থেকে বেশি কষ্টে আছে।’
তিনি বলেন, ১৫৩ টি কেন্দ্রের সবগুলোতে কম উৎপাদন হচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যের একটি জায়গা ছিল বিদ্যুৎ। সেটি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেল। এর থেকে তো আমি মনে করি জনরোষের সৃষ্টি হবে।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ বিভাগ হুমকির মধ্যে পড়েছে। কবে যে আবার লোডশেডিং কমবে! এখন যেভাবে বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আগামী ১০ বছর পরে আমাদের গ্যাসও শেষ হয়ে যাবে।
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকলে দেশের অগ্রগতি থেমে যাবে। কৃষি উৎপাদন কমে যাবে। সমস্ত জায়গায় স্থবিরতা তৈরি হবে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গোটা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ দিয়েছেন। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু নেই। হঠাৎ করে কী হলো যে বিদ্যুৎ চলে গেল। আগেই যদি কয়লা বা ডিজেল আমদানি করা যেত আজকের এই সমস্যা হতো না। আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। তড়িৎগতিতে আমাদের কয়লা আমদানি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু করতে হবে।
রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে কিন্তু মন্ত্রীর কোনো কথা নেই। কেন? জনগণকে কনভিন্স করতে হবে। গণশুনানি করে বিষয়টি জানাতে হবে। লোডশেডিংয়ে বিষয়ে কেউ বলতে পারেন না। লোডশেডিংয়ের তথ্য জানাতে হবে। কোথায় অব্যবস্থাপনা রয়েছে সেটা দেখতে হবে। এখানে কিন্তু অনেক ঘষেটি বেগম থাকতে পারে। তারা যেন আপনাদের সুনাম নষ্ট করতে না পারে।
ছাঁটাই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, কোভিড আমাদের অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে। একটি করেছে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। আরেকটি করেছে স্বাস্থ্যগতভাবে মেমোরিটা লস করে দিয়েছে। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। কারণ আমরা খুব দ্রুত ভুলে যাই। ১৬ ঘণ্টা, ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। সেখান থেকে আমরা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছি।
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট ‘আকস্মিক’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেকোনো মুহূর্তে ২০ থেকে ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারি। তার জন্য দরকার জ্বালানি। দুই-তিন বছর কোভিডে আক্রান্ত ছিল সারাবিশ্ব। প্রত্যেকটি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর আসলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। সারাবিশ্বের সমস্ত কিছুর দাম বেড়ে গিয়েছিল। গ্যাস ও তেল পাওয়া যাচ্ছিল না। তারপরও আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চেষ্টা করেছি কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি রাখা যায়। বড় বড় চ্যালেঞ্জ আছে এবং থাকবে। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো সক্ষমতা। আমরা কত সাশ্রয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ দিতে পারব। সেটা ভবিষ্যতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। বিশ্বের বাজার কখন, কী হবে ধারণা করা যাচ্ছে না। নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি পাব কি পাব না, নিজেদের জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার করছি আমরা। সেটা ভবিষ্যতে ব্যবহারের পরিকল্পনার জন্যও অর্থ লাগে। এক একটি কূপ খননের জন্য লাগে ৯ থেকে ২১ মিলিয়ন ডলার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দিনের বেলায় ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারি। পিক আওয়ারে সন্ধ্যা বেলায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। দুই থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং বর্তমানে চলছে। আরেক সংসদ সদস্য বলছেন আমরা প্রচার করছি না। কিন্তু আমি বারবার আসছি, প্রচার করছি। ওয়েবসাইটে দিয়েছি, বিজ্ঞাপন প্রচার করছি। আমরা কষ্টটা সকলের সঙ্গে ভাগ করতে চেয়েছি। সকলকে জানিয়েছি কোথায়, কীভাবে হবে। মিডিয়াতে বলা হয়েছে বারবার। লোডশেডটা আকস্মিক, এটা বেশিদিন থাকবে না। এই আকস্মিকতার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি।
নসরুল হামিদ বলেন, ৭১ বিলিয়ন ডলার পাওনার তথ্য ভুল। পাওনা আছে অবশ্যই, সেটা আমরা অবশ্যই জোগান দিচ্ছি। সকলের সহযোগিতায়। অনেকেই বিল দিচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের বিল বাকি আছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। আমাদের একজন সংসদ সদস্য বলছেন, আমরা বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি। অনেকেই বিল দিচ্ছে না, কেন হল? সেটা হল করোনা কারণে। করোনার সময় আমরা বিল নেইনি। আমরা বলেছি মাসকে মাস বিল নিচ্ছি না। আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। যাতে মানুষ অস্বিস্থিতে না পড়ে। আমরা প্রতিবছর জ্বালানি খাতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি। তেলে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু গ্যাসে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সবমিলিয়ে। এই বছরে ২৪ থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি যাবে খালি বিদ্যুৎ খাতে। আমরাতো সমন্বয় করতে পারতাম। কিন্তু সেটা করিনি। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন সকলের কাছে যাতে বিদ্যুতটা পৌঁছায়। এ কারণে আমি মনে করি সকলকে ধৈর্যধারণ করতে হবে।
বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নসরুল হামিদ বলেন, আমরা সময়মতো কয়লার জন্য এলসি করতে পারিনি। বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও বর্তমানে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সবকিছুর উপর চিন্তা করে আমরা সময়মতো কয়লাটা আনতে পারি নাই। যার কারণে পায়রার এ অবস্থা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্ল্যান্ট চালু করে দেব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু হবে, পায়রা চালু হবে। রামপাল চলছে। এসএস পাওয়ার চালু হয়ে যাবে। আমরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনছি। আরও নিয়ে আসব। কিন্তু কিছু কিছু জায়গা আমাদের যে সমস্যা হচ্ছে সেটা হচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের অর্থের যোগানটা সমস্যা হয়ে গেছে। এটা বেশি দিনের জন্য না। আমরা মনে করি ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আপনারা সকলেই একটু ধৈর্য ধরেন। বিশ্বের দিকে ও নিজের দেশের দিকে তাকিয়ে যদি আমরা ধৈর্য ধরি তাহলে যে সমস্যাটা দেখতে পারছি সেটা পার হতে পারব।
মধ্যরাতে বিশাল বিদ্যুতের ব্যবহার হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আগে ছিল না। অটো রিকশা সাড়ে তিনহাজারের মত বিদ্যুৎ নিয়ে যায়। আমরাতো বন্ধ করেনি। সেগুলোও চালু রেখেছি। সাধারণ মানুষ যাতে সেটা ব্যবহার করতে পারে। ৪০ লক্ষের মতো অটো রিকশা আছে দেশে। আমরা তাদের ব্যবহার করার জন্য উৎসাহ করছি। সবাই বলছি একটু ধৈর্য ধরুন। এই মাসের মধ্যে সমাধান করতে পারব।
জাতীয় সংসদে বৃহত্তর নোয়াখালীকে দেশের একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। আজ বুধবার সংসদের অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে আলোচনাকালে তিনি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বক্তব্যে তিনি এই অঞ্চলের সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
আবদুল হান্নান মাসউদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নোয়াখালীকে বিভাগে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ ১৯৯৪ সাল থেকে সুদীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাচীন ইতিহাস এবং স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে এই জনপদের একটি বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। এই ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নোয়াখালীকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশাল বিমানঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছিল। এছাড়া প্রাচীন ভুলুয়া নদীবন্দরটি তৎকালীন সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এসব নিদর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এই অঞ্চলের হারানো গৌরব ও বর্তমান প্রশাসনিক সক্ষমতার বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন।
দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে নোয়াখালীবাসীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ বলেন, খেলাফত আন্দোলন থেকে শুরু করে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে এই অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ অনস্বীকার্য। প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে নোয়াখালীর সাহসী জনতা সম্মুখসারিতে থেকে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে।
তবে দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি জানান, যথাযথ প্রশাসনিক কাঠামোর অভাবে এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে নোয়াখালীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নতুন বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। একই সঙ্গে অবৈতনিক করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠান হয়।
৪ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা করতে চান উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রাথমিক গ্রেড বাড়িয়ে অষ্টম পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। এটা করব ধাপে ধাপে।’
ইউনেস্কোর কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য ও ভুল তথ্যের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে মন্ত্রী এ আগ্রহের কথা জানান। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাসসের।
এ সময় ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বাংলাদেশে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।
ড. সুসান ভাইজ গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠা ভুল তথ্য ও অপতথ্য রোধে ইউনেস্কোর ভূমিকা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমানে অপপ্রচারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের ওপর ইউনেস্কো বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ইউনেস্কোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
তিনি প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইউনেস্কোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
ইউনেস্কো প্রতিনিধি এ বিষয়ে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং সচিব মাহবুবা ফারজানাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তাকে ডিসি নিয়োগ দিয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) ও প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
অপর আদেশে ঢাকার ডিসি মো. রেজাউল করিমকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গিয়ে দীর্ঘ ২৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন তালুকদার। মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাটিক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ৬২ বছর বয়সী আমির হোসেনকে বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন তার ছেলে বাবু তালুকদার এবং ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। প্রবাস জীবনের দীর্ঘ তিন দশক পর বাবাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা আমির হোসেন ১৯৯৬ সালে রং মিস্ত্রির কাজ নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। প্রবাস জীবনের প্রথম তিন বছর তিনি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং নিয়মিত সংসার খরচ পাঠাতেন। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই তার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৭ বছর পরিবারের কাছে তার কোনো হদিস না থাকায় স্বজনরা একপর্যায়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং এলাকার একটি গভীর জঙ্গলে জরাজীর্ণ এক টিনের ঘরে আমির হোসেনকে খুঁজে পান কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি। উদ্ধারের সময় তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস এবং প্রবাসী দীপুসহ অন্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দেশে থাকা তার পরিবার সেই ভিডিও দেখে আমির হোসেনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ট্র্যাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ব্র্যাকের উদ্যোগে তাকে শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে বসবাসের ফলে আমির হোসেন বর্তমানে শারীরিকভাবে বেশ দুর্বল এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তারা পাশে থাকবে। দীর্ঘ ২৭ বছর পর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়াকে অলৌকিক হিসেবে দেখছেন তার স্বজন ও গ্রামবাসী। বর্তমানে তাকে নিজ বাড়িতে রেখে প্রয়োজনীয় সেবা-শুশ্রূষা দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অফিসে খাবারের বাজেট আগের চেয়ে পাঁচ গুণ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২২ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের সময় লাঞ্চের মেন্যুতে ছিল- ভাত, ছোট চিংড়ি দিয়ে লাউ, ঢেঁড়শ ভাজা, ডিম সেদ্ধ রান্না, ডাল, দই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুপুরের খাবার ও বিকালের নাস্তা মিলিয়ে একজনের জন্য মোট বাজেট ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা, যা আগে এর চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি ছিল।
আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস ও পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি ব্যাগ বিতরণের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই নতুন কার্যক্রমের কথা ঘোষণা করেন। মূলত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণে সহায়তা এবং দেশীয় পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, এই কার্যক্রমটি প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে কেবল প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই সামগ্রী বিতরণের জন্য নির্বাচন করা হবে। কোন স্কুলগুলো এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবে, তা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের লক্ষ্য রয়েছে কার্যক্রমের প্রথম মাসেই অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পোশাক ও পাটের ব্যাগ তুলে দেওয়া। তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে। প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে পর্যায়ক্রমে মানসম্মত ও দেশীয় উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
একই দিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই কার্যক্রমের পোশাকের ধরন সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন বা একই রকম পোশাক বা ইউনিফর্ম নিশ্চিত করা হবে। তবে ছাত্র এবং ছাত্রীদের ব্যবহারের সুবিধার্থে তাদের পোশাকের নকশা ও ব্যাগের ধরনে প্রয়োজনীয় ভিন্নতা থাকবে।
শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এই অনন্য উদ্যোগ কেবল শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে না, বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট শিল্পের পুনর্জাগরণেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ প্রদান সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতিরই একটি প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের সাফল্য বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণ করা হবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ধান, চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার। এ ছাড়া আতপ চাল ৪৮ টাকা কেজি এবং ৩৬ টাকা কেজি গমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় সরকারি এই দাম নির্ধারণ করা হয়। সভাশেষে গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ধান ৩ মে থেকে ও চাল ১৫ মে থেকে সংগ্রহ শুরু করবে সরকার। ধান ও চাল সংগ্রহ চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে গম কেনার আলোচনা চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেখান থেকে কেনা সম্ভব না হলে বাকিটা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৬৩ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে মক্কায় নঈমুদ্দিন মন্ডল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
তার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। তিনি মক্কায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
হজ বুলেটিন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বুলেটিন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত ২০ হাজার ৫৬৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ২ হাজার ৮৭০ জন ও বেসরকারি মাধ্যমে ১৭ হাজার ৬৯৩ জন।
এর মধ্যে মোট ৫১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১৯টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ১৮ ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১৪টি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন হজযাত্রী। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ১৫ জনও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে পরিপত্র জারি করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে।
এ সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাকে পরিপত্রে অনুরোধ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রতি বছর ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করার জন্যও পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে আবার পালনের সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গণি ব্রিফিংয়ে জানান, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিগত ১৬ বছর এ দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এখন থেকে এটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এদিন সরকারি ছুটি থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৮তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত; উক্ত ঋণ পরিশোধে এই পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধ করেছে কিনা; করলে, তা কী?
আমির খসরু জানান, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাস পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সরকারের পক্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে থাকে। প্রতি অর্থবছর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণের আসল ও সুদ বাবদ সম্ভাব্য মোট ব্যয় কত হতে পারে তার একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সে পরিমাণ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ বাজেটে সংস্থান রাখা হয়। বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করেই সারাবছর পরিশোধ সূচি অনুসরণ করে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ব্যবহার না করার এবং প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিরোধী দলও এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেছেন।
এর আগে সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ উপজেলায় অফিস পেয়ে ধন্যবাদ জানাতে দাঁড়িয়ে সরকারের কাছে গাড়ির আবদার করেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত করতে হয়, যা লোকলজ্জার কারণে কাউকে বলাও যায় না। মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ আরও সহজ করতে সরকারের কাছে একটি গাড়ির সুব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার ব্যাপারে শুরুতেই অনুশাসন দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোসহ সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের দাবির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো বিহিত ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছোটদের আবদারে সবসময় ‘না’ বলতে নেই। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো তরুণ সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে এটি বিবেচনার আশ্বাস দিলে আরও খুশি হতাম।
তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে স্পিকার পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ অংশে বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছেন।