বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

লোডশেডিংয়ে ‘জনরোষের’ আশঙ্কা জাপার, ২ সপ্তাহ ধৈর্য ধরতে বললেন প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৬ জুন, ২০২৩ ১৯:২৭

লোডশেডিং যেভাবে বাড়ছে তাতে ‘জনরোষের’ সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

বিরোধী সংসদ সদস্যদের এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে সবাইকে সপ্তাহ দুয়েক ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার ২০২২–২০২৩ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় সাম্প্রতিক লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

চলতি অর্থবছরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য ৩২ কোটি ৪৬ লাখ চার হাজার টাকা মঞ্জুরি দাবি তোলেন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তার এই দাবিতে ছাঁটাই প্রস্তাব দেন ১০ জন সংসদ সদস্য। তবে আলোচনায় অংশ নেন ছয়জন। বাকিরা অনুপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, ‘আমাদের ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার কিন্তু করে ফেলেছি ২৬ হাজার মেগাওয়াট। আর আজকে উৎপাদন হচ্ছে ৭ হাজার মেগাওয়াট।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘এখন কমবেশি এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। এই লোডশেডিং আরও বাড়বে। বিল পরিশোধের কারণে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিল তো মানুষের বাকি নেই। গ্রাহকরা তো সবাই বিল দিচ্ছেন। তাহলে এই বিল কেন বাকি থাকছে? একটা হতে পারে ক্যাপাসিটি চার্জ। গণমাধ্যমে দেখেছি ৯০ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ এসেছে। ২০ হাজার কোটি টাকা নাকি এখনো বাকি আছে। কেন এত ক্যাপাসিটি চার্জ হয়? কেন চুক্তিটা এভাবে করা হলো যে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতেই হবে। কেন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে খাম্বা ও সঞ্চালন লাইন করা হলো না।’

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিএনপির আমলে বিদ্যুৎ ছিল না, খাম্বা ছিল। এখন বিদ্যুৎ আছে খাম্বা নেই। ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। টাকা সর্টেজ। মানুষ গরমে কষ্ট পাচ্ছে। মোগল আমলে মানুষ যে কষ্টে ছিল এখন তার থেকে বেশি কষ্টে আছে।’

তিনি বলেন, ১৫৩ টি কেন্দ্রের সবগুলোতে কম উৎপাদন হচ্ছে। সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যের একটি জায়গা ছিল বিদ্যুৎ। সেটি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেল। এর থেকে তো আমি মনে করি জনরোষের সৃষ্টি হবে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ বিভাগ হুমকির মধ্যে পড়েছে। কবে যে আবার লোডশেডিং কমবে! এখন যেভাবে বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আগামী ১০ বছর পরে আমাদের গ্যাসও শেষ হয়ে যাবে।

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকলে দেশের অগ্রগতি থেমে যাবে। কৃষি উৎপাদন কমে যাবে। সমস্ত জায়গায় স্থবিরতা তৈরি হবে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গোটা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ দিয়েছেন। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু নেই। হঠাৎ করে কী হলো যে বিদ্যুৎ চলে গেল। আগেই যদি কয়লা বা ডিজেল আমদানি করা যেত আজকের এই সমস্যা হতো না। আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। তড়িৎগতিতে আমাদের কয়লা আমদানি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু করতে হবে।

রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে কিন্তু মন্ত্রীর কোনো কথা নেই। কেন? জনগণকে কনভিন্স করতে হবে। গণশুনানি করে বিষয়টি জানাতে হবে। লোডশেডিংয়ে বিষয়ে কেউ বলতে পারেন না। লোডশেডিংয়ের তথ্য জানাতে হবে। কোথায় অব্যবস্থাপনা রয়েছে সেটা দেখতে হবে। এখানে কিন্তু অনেক ঘষেটি বেগম থাকতে পারে। তারা যেন আপনাদের সুনাম নষ্ট করতে না পারে।

ছাঁটাই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, কোভিড আমাদের অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে। একটি করেছে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। আরেকটি করেছে স্বাস্থ্যগতভাবে মেমোরিটা লস করে দিয়েছে। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। কারণ আমরা খুব দ্রুত ভুলে যাই। ১৬ ঘণ্টা, ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। সেখান থেকে আমরা শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছি।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট ‘আকস্মিক’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেকোনো মুহূর্তে ২০ থেকে ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারি। তার জন্য দরকার জ্বালানি। দুই-তিন বছর কোভিডে আক্রান্ত ছিল সারাবিশ্ব। প্রত্যেকটি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর আসলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। সারাবিশ্বের সমস্ত কিছুর দাম বেড়ে গিয়েছিল। গ্যাস ও তেল পাওয়া যাচ্ছিল না। তারপরও আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে চেষ্টা করেছি কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি রাখা যায়। বড় বড় চ্যালেঞ্জ আছে এবং থাকবে। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো সক্ষমতা। আমরা কত সাশ্রয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ দিতে পারব। সেটা ভবিষ্যতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। বিশ্বের বাজার কখন, কী হবে ধারণা করা যাচ্ছে না। নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি পাব কি পাব না, নিজেদের জ্বালানির সর্বোত্তম ব্যবহার করছি আমরা। সেটা ভবিষ্যতে ব্যবহারের পরিকল্পনার জন্যও অর্থ লাগে। এক একটি কূপ খননের জন্য লাগে ৯ থেকে ২১ মিলিয়ন ডলার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দিনের বেলায় ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারি। পিক আওয়ারে সন্ধ্যা বেলায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। দুই থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং বর্তমানে চলছে। আরেক সংসদ সদস্য বলছেন আমরা প্রচার করছি না। কিন্তু আমি বারবার আসছি, প্রচার করছি। ওয়েবসাইটে দিয়েছি, বিজ্ঞাপন প্রচার করছি। আমরা কষ্টটা সকলের সঙ্গে ভাগ করতে চেয়েছি। সকলকে জানিয়েছি কোথায়, কীভাবে হবে। মিডিয়াতে বলা হয়েছে বারবার। লোডশেডটা আকস্মিক, এটা বেশিদিন থাকবে না। এই আকস্মিকতার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি।

নসরুল হামিদ বলেন, ৭১ বিলিয়ন ডলার পাওনার তথ্য ভুল। পাওনা আছে অবশ্যই, সেটা আমরা অবশ্যই জোগান দিচ্ছি। সকলের সহযোগিতায়। অনেকেই বিল দিচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের বিল বাকি আছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। আমাদের একজন সংসদ সদস্য বলছেন, আমরা বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছি। অনেকেই বিল দিচ্ছে না, কেন হল? সেটা হল করোনা কারণে। করোনার সময় আমরা বিল নেইনি। আমরা বলেছি মাসকে মাস বিল নিচ্ছি না। আমরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। যাতে মানুষ অস্বিস্থিতে না পড়ে। আমরা প্রতিবছর জ্বালানি খাতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি। তেলে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু গ্যাসে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সবমিলিয়ে। এই বছরে ২৪ থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি যাবে খালি বিদ্যুৎ খাতে। আমরাতো সমন্বয় করতে পারতাম। কিন্তু সেটা করিনি। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন সকলের কাছে যাতে বিদ্যুতটা পৌঁছায়। এ কারণে আমি মনে করি সকলকে ধৈর্যধারণ করতে হবে।

বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নসরুল হামিদ বলেন, আমরা সময়মতো কয়লার জন্য এলসি করতে পারিনি। বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও বর্তমানে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সবকিছুর উপর চিন্তা করে আমরা সময়মতো কয়লাটা আনতে পারি নাই। যার কারণে পায়রার এ অবস্থা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্ল্যান্ট চালু করে দেব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু হবে, পায়রা চালু হবে। রামপাল চলছে। এসএস পাওয়ার চালু হয়ে যাবে। আমরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনছি। আরও নিয়ে আসব। কিন্তু কিছু কিছু জায়গা আমাদের যে সমস্যা হচ্ছে সেটা হচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের অর্থের যোগানটা সমস্যা হয়ে গেছে। এটা বেশি দিনের জন্য না। আমরা মনে করি ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আপনারা সকলেই একটু ধৈর্য ধরেন। বিশ্বের দিকে ও নিজের দেশের দিকে তাকিয়ে যদি আমরা ধৈর্য ধরি তাহলে যে সমস্যাটা দেখতে পারছি সেটা পার হতে পারব।

মধ্যরাতে বিশাল বিদ্যুতের ব্যবহার হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আগে ছিল না। অটো রিকশা সাড়ে তিনহাজারের মত বিদ্যুৎ নিয়ে যায়। আমরাতো বন্ধ করেনি। সেগুলোও চালু রেখেছি। সাধারণ মানুষ যাতে সেটা ব্যবহার করতে পারে। ৪০ লক্ষের মতো অটো রিকশা আছে দেশে। আমরা তাদের ব্যবহার করার জন্য উৎসাহ করছি। সবাই বলছি একটু ধৈর্য ধরুন। এই মাসের মধ্যে সমাধান করতে পারব।

বিষয়:

বিদ্যুৎ প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তি: নিরপেক্ষ কমিটি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ তদন্তে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুন, জামিউল হক ফয়সাল ও আব্দুল্লাহ আল হাদী। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হাসান রিগান ও মো. জাকির হায়দার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। তবে গতকাল একই রিটে নতুন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুতের বিলিং প্র্যাকটিস পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা, স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত চার্জের রিফান্ড, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নীতি সংস্কার করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, বাংলাদেশ রুর‌াল ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, ডেসকো, ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি ও ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম জামিউল হক ফয়সাল, কামরুল হাসান রিগ্যান ও জাকির হায়দারের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল হাদী এ নোটিশ পাঠান।

ওই নোটিশে বলা হয়, প্রিপেইড মিটার চালু হওয়া সত্ত্বেও ভোক্তারা অতিরিক্ত চার্জ, গোপন চার্জ এবং স্বচ্ছতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সমস্যাগুলো ব্যাপক অসন্তোষ ও আর্থিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে বিলিং প্র্যাকটিস পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা, স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত চার্জের রিফান্ড, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নীতি সংস্কার প্রয়োজন।

আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে প্রিপেইড মিটার চালু করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে সব বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে এর আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু এরপরও ভোক্তারা অতিরিক্ত চার্জ, গোপন চার্জ এবং স্বচ্ছতার অভাবসহ নানাভাবে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

তাই ২৬ মের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোটিশে অনুরোধ জানানো হয়। এর ব্যত্যয় হলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু নোটিশের জবাব না পাওয়ায় গত ৬ জুন জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুতের বিলিং প্র্যাকটিস পর্যালোচনা ও নিরীক্ষা, স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত চার্জের রিফান্ড, জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ ও নীতি সংস্কার করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।


মে মাসে ৫০৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫১০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে মে মাসে ৫০৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত ও ৯২১ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ১৭৬টি মোটরসাইকেলে ১৭৫ জন নিহত ও ১৯০ জন আহত হয়েছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৪.৬৪ শতাংশ।

বুধবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মে মাসে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ১১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২১ জন নিহত ও ২১০ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এ ছাড়া সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫০.৭৮ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়া, ২২.০৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২২.২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৩.৯৩ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩৯ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ও ০.৫৯ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে মে মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩০.৭০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২০.৮৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৪২.১২ শতাংশ সংযোগ সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদেনে জানানো হয়েছে, সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৭৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.৯৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩১ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ১২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৪ জন শিক্ষার্থী, ১৯ জন শিক্ষক, ৮১ জন নারী, ৫৮ জন শিশু, দুইজন সাংবাদিক, তিনজন প্রকৌশলী, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং পাঁচজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে ছয়জন পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী দুইজন, র‌্যাব একজন, একজন মুক্তিযোদ্ধা, দুইজন প্রকৌশলী, ১০৪ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৬৮ জন পথচারী, ৫৭ জন নারী, ৪৩ জন শিশু, ৪১ জন শিক্ষার্থী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯ জন শিক্ষক ও চারজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংঘটিত ৭৫৭টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৭.২১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৪.৭০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১০.০৩ শতাংশ বাস, ১৭.৮৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫.২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯.৩৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্র-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৫.৫৪ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫০.৭৮ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২২.০৪ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২২.২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৩.৯৩ শতাংশ বিবিধ কারণে, চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ০.৩৯ শতাংশ এবং ০.৫৯ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ মাসে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩০.৭০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২০.৮৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৪২.১২ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৭৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.৯৬ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৯ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চলমান গতানুগতিক কার্যক্রম অডিট করে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকারিতা সংস্কার করা এবং সক্ষমতা ঘাটতি পূরণ করা জরুরি বলেও দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে গণপরিবহনে নগদ অর্থের লেনদেন বন্ধ করা গেলে পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরতে বাধ্য। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা গেলে পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং দুর্ঘটনা কমে আসবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


রাত ১টার মধ্যে যেসব এলাকায় ঝড় হতে পারে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলেও জানায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।

আজ বুধবার বিকেলে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ সকালে দেওয়া আবহাওয়ার পৃথক বার্তায় বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে।


‘মিয়ানমার থেকে কারা গুলি করেছে তা নিশ্চিত নই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে নাফ নদীতে মিয়ানমার থেকে কারা বাংলাদেশের নৌযানে গুলি করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজ বুধবার সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আরাকান আর্মি যুদ্ধ করছে। যুদ্ধটা বেশ কিছুদিন ধরে হচ্ছে। আমরা দেখেছি আরাকানের অনেক জায়গায় তারা দখল করে নিয়েছে। এখন আমাদের নাফ নদীর নিচের অংশটায় যুদ্ধ চলছে। এখানে যখন যুদ্ধ চলছে কখন কোন সময় কার গুলি আসছে। দু-একটা গুলি জেলেদের ট্রলার কিংবা আমাদের টহল বোটে এসে লেগেছে। কে গুলি করেছে সেটি আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তাদের (মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারাও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। মিয়ানমার অস্বীকার করেছে তারা গুলি করেনি, কিন্তু গুলি তো হয়েছে।’

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সে আসছে, তার আবেগের কথা বলে গেছে। তার বাবা নিহত হয়েছেন, সে তার বাবার হত্যার বিচার চাইবে এটাই স্বাভাবিক। সেটাই সে বলছে যে কেউ যাতে পার না পেয়ে যায় সে বিষয়টি দেখার জন্য। যেটিই তদন্ত আসবে আমরা সেটিই বিশ্বাস করি। তদন্ত যেভাবে করেছেন তাতে কেউ যাতে পার না পেয়ে যায়-সে বিষয়ে আমাদের অনুরোধ করে গেছেন।’

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীরের বিরুদ্ধে ওঠা নানান অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি পুলিশ বাহিনীর প্রধান ছিলেন, আমাদের কাছে এমন কিছু আসেনি, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে তাকে আমরা দায়ি করতে পারি। কাগজপত্র সঠিকভাবে আসছে, এখানে কোনো ভুল-ভ্রান্তি করে থাকলে তদন্ত হচ্ছে সেখানে দেখবে। তদন্ত যারা করছেন তারা যদি কিছু প্রমাণ করতে পারেন তখন সেটা দেখা হবে।’


‘পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক জিয়াসহ সাজাপ্রাপ্ত ১৫ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বেগম ফরিদা ইয়াসমিনের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে আজ বুধবার একথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়াসহ সাজাপ্রাপ্ত ১৫ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। বিদেশে পলাতক আসামি মাওলানা তাজউদ্দীন, মো. হারিছ চৌধুরী ও রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবুদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮-এর ৩/৪ ধারায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হয়, যার নং-৯৭ তারিখ-২২/৮/২০০৪ খ্রি.।

সরকারপ্রধান বলেন, মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘ তদন্ত শেষে মোট ৫২ আসামির বিরুদ্ধে ২টি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্বে অভিযোগপত্রভুক্ত ৫২ জন আসামির মধ্যে ৩ জনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নং-০১, ঢাকার বিজ্ঞ বিচারক ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর তারিখে রায় ঘোষণা করেন। বিচারে ৪৯ জন আসামির সাজা হয়, যার মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। সাজাপ্রাপ্ত ৪৯ আসামির মধ্যে ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


যেকোনো সময় ৮ আট মাত্রার ভূমিকম্পও হতে পারে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে বিএসআরএফ সংলাপ’-এ বুধবার বক্তব্য দেন দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেছেন, ঢাকা শহরে সর্বোচ্চ আট মাত্রার ভূমিকম্পও হতে পারে। এতে ২০ শতাংশ ভবন ধস হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এজন্য ভয়ের কারণ নেই। কারণ এমন পরিস্থিতি বহু দেশে হয়ে আসছে। যেমন তুরস্কে ভূমিকম্প হয়, তবে তারা দুর্যোগ সহনীয় অবকাঠামো ও সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যে কারণে সমস্যা এলে তা সমাধান করার সক্ষমতা তারা তৈরি করেছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন। বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব।

মহিববুর রহমান বলেন, যদি কোনো রকম ভূমিকম্প হয়, সেজন্য শহুরে অঞ্চলে ব্যাপকভাবে স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করতে কাজ করছি। ভবনগুলো যদি ধসে যায়, তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করা ও মানুষকে উদ্ধারে আমরা ব্যাপকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যেতে চাইলে পুরো জাতিকে দুর্যোগের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে আমার ভয়ের কারণ ভূমিকম্প। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। যেকোনো সময় সর্বোচ্চ আট মাত্রার ভূমিকম্পও হতে পারে। এতে ঢাকা শহরের লাখ লাখ লোক আটকা পড়তে পারেন।

আট মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার যে তথ্য দিয়েছেন, সেটা কীসের ভিত্তিতে বলেছেন– জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্দিষ্ট গবেষণার ভিত্তিতেই আমি এমন কথা বলেছি। এ নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে।’


ঢাকায় আসতে পারেন নরেন্দ্র মোদি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

চলতি বছরের জুন মাসের শেষ দিকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ঢাকায় আসতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই হতে পারে মোদির প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।

শপথের দিন সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৈঠক করার পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ভারতে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর চলতি জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে প্রথম বিদেশি অতিথি হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সফর করার কথা ছিল শেখ হাসিনার। নরেন্দ্র মোদি তার তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি সফর করেন।

তবে মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় ঢাকার প্রত্যাশা, এবার ঢাকা সফরে আসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দিল্লি সফরে ৯ জুনের একান্ত বৈঠকে নরেন্দ্র মোদিকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমন্ত্রণ গ্রহণও করেছেন নরেন্দ্র মোদি। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ২৭-২৮ জুন সফরসূচি সাজানোর কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেষবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ২০২১ সালের মার্চে। জুনে ঢাকায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৫ ও ২০২১ সালের পর এটা হবে তার তৃতীয় বাংলাদেশ সফর। নরেন্দ্র মোদি যদি এ মাসেই বাংলাদেশে আসেন তাহলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীনে সফরের আগ মুহূর্তেই; যা কূটনৈতিক সম্পর্কে বিশেষ বার্তা দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। জুলাইয়ের প্রথম দিকে বেইজিং সফরে যেতে পারেন সরকারপ্রধান।


শেষ হচ্ছে হজ ফ্লাইট

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র হজ ফ্লাইট শেষ হচ্ছে আজ। দুপুর ২টা ৫মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের হজযাত্রা। হজ পালনের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে সৌদি পৌঁছেছেন ৮২ হাজার ৭৭২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। মোট ২০৯টি ফ্লাইটে তারা সৌদি পৌঁছান।

আজ বুধবার হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টা ৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের SV3809 ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৌদির উদ্দেশ্য ছেড়ে যাবে শেষ হজ ফ্লাইট।

হেল্প ডেস্ক সূত্রে জানা গেছে, ২০৯টি ফ্লাইটে ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৮২ হাজার ৭৭২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০৫টি, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৭২টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ৩২টি ফ্লাইট রয়েছে।

এর আগে, গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গাইডসহ হজ পালনে সৌদি আরব যাচ্ছেন ৮৫ হাজার ২৫২ জন। এর মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধন করেন ৪ হাজার ৫৬২ জন। আর বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেন ৮০ হাজার ৬৯৫ জন। প্রতি ৪৪ জনে একজন করে গাইড হিসেবে ১ হাজার ৮৯৯ জন হজযাত্রীদের সঙ্গে যাচ্ছেন। হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী এজেন্সির সংখ্যা ২৫৯টি। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ২০ জুন আর শেষ ফিরতি ফ্লাইট ২২ জুলাই।


আজ থেকে ঈদ স্পেশাল ট্রেনের যাত্রা শুরু

আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৪ ০০:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে ১০ জোড়া (২০টি) স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ বুধবার থেকে স্পেশাল ট্রেনগুলো চলাচল শুরু করবে।

সম্প্রতি রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনায় বলা হয়, ঈদুল আজহায় চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল (১, ২, ৩ ও ৪) চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম; দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল (৫ ও ৬) ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা; ময়মনসিংহ ঈদ স্পেশাল (৭ ও ৮) চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম; কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল (৯ ও ১০) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ১২ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ও ঈদের পরে ৭ দিন চলাচল করবে।

এ ছাড়া পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল (১৫ ও ১৬) জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে আগামী ১৩-১৫ই জুন (৩ দিন) ও ঈদের পরে ২১-২৩ জুন (৩ দিন) চলাচল করবে।

অন্যদিকে, শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল (১১ ও ১২) ভৈরব বাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব বাজার; শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল (১৩ ও ১৪) ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ; গোর-এ-শহীদ ঈদ স্পেশাল (১৭ ও ১৮) পার্বতীপুর-দিনাজপুর-পার্বতীপুর; গোর-এ-শহীদ ঈদ স্পেশাল (১৯ ও ২০) ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও রুটে শুধু ঈদের দিন চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনে সাড়ে ৩৩ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছে। কালোবাজারি রুখতে ঈদযাত্রায় সব আন্তনগর ট্রেনের সব টিকিট গত বছর থেকে অনলাইনে অগ্রিম বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৩৩ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হলেও টিকিটপ্রত্যাশী ছিলেন কমপক্ষে ২ লাখ। এ কারণে টিকিট প্রত্যাশীদের ছয় ভাগের পাঁচ ভাগই কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাননি। তাদের সুবিধানুযায়ী সড়ক ও নৌপথে গন্তব্যে যাত্রা ছাড়া উপায় নেই। ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষে এখন বিক্রি চলছে ফিরতি যাত্রার টিকিট।


১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

নেপাল থেকে কেনা হবে জলবিদ্যুৎ
আপডেটেড ১২ জুন, ২০২৪ ১২:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে ১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে এই তেল আমদানি করতে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই বৈঠকে নেপাল থেকে ৫ বছরের জন্য ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানিরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ জন্য বিপিসির ১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে ৫টি প্যাকেজে বিভক্ত করে আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হয়। সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তার মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।

প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশ করা রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১১৭ কোটি ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

প্রতি ব্যারেল জেটএ-১ এর দাম পড়বে ১০.৮৮ ডলার। এ ছাড়া প্রতি ব্যারেল গ্যাস অয়েল ৮.৮৩ মার্কিন ডলার, ফার্নেস অয়েল ৪৬.৭২ ডলার, মোগ্যাস ৯.৮৮ ডলার এবং মেরিন ফুয়েল ৭৬.৮৮ ডলার দিয়ে কেনা হবে। এই দামে গ্যাস অয়েল ১০ লাখ টন, জেট-এ-১ ২ লাখ টন, ফার্নেস অয়েল ২ লাখ ৫০ হাজার টন, মোগ্যাস ১ লাখ টন এবং মেরিন ফুয়েল ৩০ হাজার টন আমদানি করা হবে।

নেপাল থেকে ৮ টাকা ১৭ পয়সায় বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান আরও জানান, নেপাল থেকে ৫ বছরের জন্য ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করবে সরকার। এতে প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ৮ টাকা ১৭ পয়সা। ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসবে এই বিদ্যুৎ। এজন্য দিতে হবে ট্রেডিং মার্জিন ও ট্রান্সমিশন খরচ।

নেপালের জলবিদ্যুৎ ভারতীয় সঞ্চালন লাইন হয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপকেন্দ্র দিয়ে আমদানি করবে সরকার। এ বিষয়ে চুক্তি হয় নেপালের জাতীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে। নেপাল থেকে ৫ বছরে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় হবে ৬৫০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, ভারতের সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের জন্য ইউনিট প্রতি দশমিক ০৫৯ রুপি ট্রেডিং মার্জিন এবং ট্রান্সমিশন খরচ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেপাল সফরের সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেপাল থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসবে। এক্ষেত্রে ভারতের ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহার করতে হবে। ফলে তিনপক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। এটার দাম পড়বে ৮ টাকা ১৭ পয়সা।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে থেকে এ দামে বিদ্যুৎ কেনা মোটেও লাভজনক নয়। সরকারকে আরও সাশ্রয়ী উৎস খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা তাদের বিদ্যুৎ কিনেছি এবং নেপালের বিদ্যুৎ আমদানি করার ক্ষেত্রেও ব্যবসায়ীক সুবিধাটা, যে ব্যবসা হবে আমদানি করতে গিয়ে, সেখানে ভারতে বেনিফিট দিতে গিয়ে যদি এভাবে দাম বাড়ে, সেটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এবং ন্যয্য ও যৌক্তিক হবে না সেটা।’

এদিকে, টিসিবির জন্য প্রায় ৫৩৭ কোটি টাকার সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কিনবে সরকার। এর মধ্যে ৩৩২ কোটি টাকার সয়াবিন তেল এবং ২০৫ কোটি টাকার মসুর ডাল কেনা হবে। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।


সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে ঋণ সহায়তা দেবে এডিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ঋণ সহায়তা দিয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক- এডিবি। এ জন্য সরকারের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে দাতা সংস্থাটি। এডিবি-বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী ও বাংলাদেশের এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিংয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। যে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার বা ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে, যা বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পারবে আর্থসামাজিক চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার জন্য। পাশাপাশি এ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছে এডিবি।

এডিবি আশা করছে, নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবলয় আরও বাড়াতে সক্ষম হবে। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ২০২১-২৬-এর দ্বিতীয় ধাপের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করার প্রত্যাশাও করছে তারা। এডিবি বলছে, এতে মানুষের অসহায়ত্ব কমার পাশাপাশি দারিদ্র্যের মাত্রাও সহনীয় পর্যায়ে রাখবে। তবে সংস্থাটি আশা করে নগদ সহায়তা কর্মসূচি যাদের পাওয়ার কথা শুধু তাদেরই দেবে সরকার। এ জন্য সত্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা চালু করার কথা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যারা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে অর্থাৎ যাদের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তাদের প্রয়োজন মেটাতে এ তহবিল কাজে আসবে বলেও জানিয়েছে এডিবি।

এ ছাড়া বিধবা ভাতার সংখ্যা বৃদ্ধি ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য কয়েক ধরনের কর্মসূচি বৃদ্ধিও এই প্রকল্পের আওতায় করা হবে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের পুনঃঅর্থায়নের আওতা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গঠিত নারী উদ্যোক্তা স্কিমের বরাদ্দ বৃদ্ধি দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং।


ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পশুর হাট-সংলগ্ন ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার দুই সি‌টি ও চট্টগ্রাম সি‌টি করপোরেশন এবং নাটোরের সিংড়া পশুর হাটের সংলগ্ন ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা খোলা রাখার নির্দেশ দি‌য়ে‌ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই সঙ্গে এসব শাখার ব্যাংকিং কার্যক্রম রাত ১০টা পর্যন্ত পরিচালনা করতে বলা হয়ে‌ছে। কোরবানির পশু ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং লেনদেনের সুবিধার্থে এ নির্দেশনা দিয়ে‌ছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ’ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার মঙ্গলবার জা‌রি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় আসন্ন ঈদুল আজহায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সিংড়া পৌরসভা, নাটোরের কোরবানির পশুর হাটের (স্থায়ী ও অস্থায়ী) নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা, উপশাখা স্বীয় বিবেচনায় নির্বাচন করে বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদুল আজহার আগের দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে বলা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোরবানির পশুর হাটে অস্থায়ী বুথ স্থাপন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোতে অতিরিক্ত সময়ে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিধিমোতাবেক ভাতা প্রদান করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


শিশুশ্রম নিরসনে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাসহ শিশুশ্রম নিরসনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামীকাল ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে একযোগে কাজ করার এখনই সময়। এসডিজি ৮.৭ অর্জনে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বাস করতেন আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, শিশুরাই তার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। এই ভাবনা থেকেই জাতিসংঘ শিশু সনদের ১৫ বছর আগে ১৯৭৪ সালে তিনি জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের শিশু, নারী ও অনগ্রসর অংশসহ প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মের স্থিতিশীলতা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাতে (আইএলও) যোগ দেয়। শিশু শিক্ষার বিকাশ নিশ্চিত করতে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুসহ সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে নারী, শিশু ও সমাজের অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে শিশু শ্রম প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি বলেন, শ্রমজীবী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে প্রত্যাহারের লক্ষ্যে আমরা ‘জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০’ প্রণয়ন করেছি। এ নীতি বাস্তবায়নে জাতীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ, উপজেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি, জেলা শিশুশ্রম পরিবীক্ষণ কমিটি এবং বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ গঠন করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিশুদের জন্য ৪৩টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হিসেবে চিহ্নিত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘শিশুশ্রম নিরসন ও পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে যা এবছর শেষ হবে। গৃহকর্মে শিশুশ্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি-২০১৫’।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অনুযায়ী আমরা দেশকে সকল ধরনের শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২১-২৫ প্রণয়ন করেছি এবং এটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সরকার ‘জাতীয় শিশুনীতি-২০১১’, ‘শিশু আইন-২০১৩’, ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭’ প্রণয়ন করেছে। এ ছাড়া সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসন এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিকাশে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতে বিনামূল্যে নতুন বই প্রদান করা হচ্ছে। প্রায় শতভাগ শিশু আজ স্কুলে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শিশু ও তাদের পরিবারের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, শিশু সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করা। এ ছাড়া শিশুশ্রম নিরসনে আমরা বেসরকারি খাতগুলোকে সম্পৃক্ত করেছি। সহিংসতা ও শোষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষা সম্পর্কে নিয়োগদাতাদের প্রশিক্ষিত করার বিষয়টিতে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি।

আগামীকাল বুধবার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হল ‘শিশুশ্রম বন্ধ করি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি।’


banner close