বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩

তেজগাঁওয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

আপডেটেড
৭ জুন, ২০২৩ ১৬:১৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৭ জুন, ২০২৩ ১৫:৪৯

রাজধানীর তেজগাঁও লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে দুলাল হোসেন (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুলালের বাড়ি ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানার ছোনাউটা গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল মজিদ। তিনি হাতিরপুল ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় মেসে থাকতেন।

নিহতের ভাগনে তরিকুল ইসলাম জানান, দুলাল হোসেন নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন নামে একটি বিদ্যুৎ কোম্পানির গাড়ি চালাতেন। গাড়িটি নষ্ট হওয়ায় তেজগাঁও র‌্যাংগস গ্রুপের ওয়ার্কশপে মেরামত করতে দেয়া হয়। সেখান থেকে গাড়িটি আনতে যাওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়েন তিনি।

তেজগাঁও বিভাগের ফায়ার সার্ভিস লিডার আবুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তরুণদের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আহবান’-এর একটি প্রতিনিধিদল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বঙ্গভবনে বুধবার (৭ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও জেলার তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আহবান’-এর একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সংগঠনটির আহ্বায়ক লুকমান শারীফ এবং সদস্য সচিব ডা. তাহমিদ আহমেদের নেতৃত্বে ৩৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করা না গেলে জাতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।’ মাদকের কারণে বহু তরুণের সম্ভাবনাময় জীবন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একটি জনপদকে সমৃদ্ধ করতে হলে ওই অঞ্চলের মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে।’ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং মানুষের কল্যাণে দেশের সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি ‘আহবান’-এর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত ঠাকুরগাঁও স্কুলভিত্তিক সায়েন্স ফেস্ট, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট, মেডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং জেন-জি কার্নিভালসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও জেলার সার্বিক উন্নয়নে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জেলার অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়ন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তরুণ ও পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।’ পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিরসন এবং জনগণের সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতেও তারা ভূমিকা রাখতে পারেন বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি তরুণ প্রজন্মকে তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংগঠনিক জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে ‘আহবান’-এর সদস্যরা রাষ্ট্রপতিকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তার ভূমিকার জন্য তারা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একটি সুন্দর, মানবিক, আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সকল সদস্যের সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।


নির্বাচিত

ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ ও তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তারের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তারের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশ দেশটিতে মাত্র প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি করা সম্ভব।

বৈঠকে পিটিএ, সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ), জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশি আলু, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের ইন্দোনেশিয়ার বাজারে প্রবেশের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং এসব পণ্য বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে রপ্তানি করা হয় বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার বাজারে এসব পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ওষুধ নিবন্ধনসহ প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমানোর জন্য দেশটির সহযোগিতা চান তিনি।

এ সময় জাকার্তায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য নিয়ে একটি ‘সোলো এক্সিবিশন’ আয়োজনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রদর্শনী আয়োজনে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

দুই দেশের মধ্যে পিটিএ নিয়ে চার দফা আলোচনা হলেও তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে ২০২৩ সাল থেকে আলোচনা থমকে আছে। ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পে প্রতিযোগিতা থাকলেও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আগামী ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনীর সময় দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাব দেন তিনি। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও একটি প্রতিনিধিদলকে ওই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও জানান তিনি।

বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পারতামিনাকে বাংলাদেশের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) টার্মিনাল পরিচালনার প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশি আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে পরীক্ষাগার ও নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে দুই দেশের পরীক্ষার ফলাফলের পারস্পরিক স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব জটিলতার কারণে তা এগোয়নি।

বৈঠকে হালাল পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে হালাল সনদ ও মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সরকার-টু-সরকার সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়। বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিস্টিওয়াতিসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনে নতুন শর্ত, লাগবে ভিসার কপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভিসার কপি ও বিদেশে বসবাসের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী নাগরিকদের আবেদন শুরুতেই শনাক্ত করতে পৃথক আবেদন ফরম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ইসির এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে বসবাসরত ও প্রবাসী নাগরিকরা একই ব্যবস্থায় এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন। এতে প্রবাসীদের আবেদন আলাদাভাবে শনাক্ত করতে সময় লাগে। এ কারণে আবেদনের শুরুতেই প্রবাসীদের শনাক্ত করার জন্য পৃথক ফরম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ফরমের প্রথম অংশে আবেদনকারীর নাম, কোন দেশে বসবাস করছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কি না, পেশা, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর এবং বিদেশে বসবাসের ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে।

ফরমের দ্বিতীয় অংশে বাবা-মা, সব ভাই-বোন এবং নিজের পরিবারের সদস্যদের তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসার কপি এবং বিদেশে বসবাসের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এনআইডি সংশোধন সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে আবেদনগুলো দ্রুত ও সহজে নিষ্পত্তি করা যায়।

ইসি সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে দেশে বসবাসরত ও প্রবাসী নাগরিকদের মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন পৃথক ফরম চালু হলে প্রবাসীদের আবেদন দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে বলে মনে করছে ইসি।


নির্বাচিত

মৌলভীবাজারে এনসিপির ৬ নেতা বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ ও সংগঠনের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয় নেতাকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মঙ্গলবার রাতে এনসিপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তিগুলো প্রকাশ করা হয়।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া, সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদ, জাতীয় যুবশক্তির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আল হামিদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য জাবেদ রহমান, জাতীয় ছাত্রশক্তির মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শাফকাত হোসেন সাদেক এবং মুখ্য সংগঠক মামুন রহমান রাজু।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার ‘সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ প্রমাণিত হয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে এবং দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়।

অন্য একটি বিজ্ঞপ্তিতে জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ ওঠার কথা জানানো হয়। অভিযোগের গুরুত্ব এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থ বিবেচনায় তাকে দলীয় কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দলের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়। এসব বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় যুবশক্তির দপ্তর উপকমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাকিল আহমদ ইকবাল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ স্বাক্ষর করেন।

এনসিপি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ ছয় নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গারা অধিকার চায়, দান নয়: প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

ছবি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারকে প্রত্যাখ্যান করছে না, বরং যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল, সেখানে তারা সেভাবেই ফিরে যেতে রাজি নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ক্রিমিনোলজি বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন: রোহিঙ্গা কণ্ঠস্বর প্রত্যাবাসন’ শীর্ষক জাতীয় নীতি প্রচার কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, প্রত্যাবাসন একটি বিশ্বাসের বিষয় এবং রোহিঙ্গারা তাদের মৌলিক অধিকার চাইছে, কোনো প্রকার দান নয়। তিনি রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় ও স্বীকৃতি, জমি ও সম্পত্তির মালিকানা, নিরাপত্তা এবং সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তাকে টেকসই প্রত্যাবাসন রোডম্যাপের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বক্তব্যে তিনি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণের ৫টি জরুরি অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্মরণে আনেন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করেন।

এই সংকটের স্থায়ী সমাধান যে মিয়ানমারের হাতেই রয়েছে তা মনে করিয়ে দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ কখনোই অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বোঝা বা সংকট বজায় রাখতে পারবে না। তিনি আন্তর্জাতিক সমাজকে শুধু সহায়তার আশ্বাসবাণীতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া ও অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়টিকে 'নতুন স্বাভাবিকতা' বা সাধারণ ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। সমাপনী পর্বে প্রতিমন্ত্রী ক্রিমিনোলজি বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।


নির্বাচিত

কৃত্রিম সংকট নিরসনে নতুন সার ডিলার নীতিমালা প্রণয়ন: অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একই পরিবারের একাধিক সদস্য সারের ডিলারশিপ গ্রহণ করতে পারবেন না—সরকারের প্রণীত এমন বিধানের কার্যকারিতা বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত করে বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এই আদেশ দেন। এর ফলে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ কার্যকর করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সার সরবরাহে কোনো প্রকার আইনি বাধা রইল না বলে নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

কৃষি খাতে সারের কৃত্রিম সংকট দূরীকরণ, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি প্রতিরোধ এবং নির্দিষ্ট পরিবারের একচেটিয়া প্রভাব বন্ধ করার লক্ষ্যে গত ২৭ আগস্ট নতুন এই সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল সরকার। পরবর্তীতে এই নীতিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন ডিলার হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত নীতিমালার ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন।

হাইকোর্টের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আপিল আবেদন জানায়। চেম্বার আদালতের এই নতুন আদেশের মাধ্যমে সরকারের প্রণীত নীতিমালার আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় হলো এবং নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে মাঠ পর্যায়ে সার বণ্টন ও সুষ্ঠু ডিলার ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার পথ সুগম হলো।


নির্বাচিত

একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার সংস্থান করা হবে। বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রকল্প ছাড়পত্র পায়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি সম্পূর্ণ নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সর্বোচ্চ সাতটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন, গাজীপুর সিটির ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় (দ্বিতীয় সংশোধন) এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দু’টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প-বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ’ প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে পঞ্চগড়ের ভজনপুর-আমতলী-মিরগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন করা হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পটি ছাড়পত্র লাভ করেছে। একই সাথে পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত জয়পুরহাটের নদী ও খাল পুনঃখনন প্রকল্পের বিষয়ে সভাকে অবহিত করা হয়।

উক্ত সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এ সাধারণ ছুটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে সারা দেশে নিয়মিত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে বুধবার এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওয়ালীউল দামান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

এর আগে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত পরিপত্রে সংশোধন এনে দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ফলে দিনটি এখন থেকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হবে এবং সরকারি ছুটি কার্যকর থাকবে।


নির্বাচিত

ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপতৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থানের কথা জানান।

ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন এবং এ উপলক্ষে দলটির কোনো কর্মসূচি বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিবিপ্রধান স্পষ্ট করেন যে, আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন কোনো সংগঠনের অপতৎপরতা দেশে বরদাশত করা হবে না। এই ধরনের অপচেষ্টা রুখে দিতে গোয়েন্দা পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর ও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে।

নগরবাসীর সুরক্ষার বিষয়ে জোর দিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশ বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা হবে।

ডিবিপ্রধান আরও জানান, নিষিদ্ধ দলের যেকোনো তৎপরতা নস্যাৎ করতে আইনানুগ কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হবে।


নির্বাচিত

স্ত্রী চাওয়ামাত্রই দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিয়ের সময় বকেয়া রাখা দেনমোহর স্ত্রী দাবি করামাত্রই স্বামীকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই পাওনা আদায়ের জন্য স্ত্রীকে আর বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বামীর মৃত্যুর মতো পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। দেনমোহর সংক্রান্ত একটি সিভিল রিভিশন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে বিচারপতি আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ ও রায় দেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে উচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে উল্লেখ করেন, পরিশোধের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী যদি দেনমোহর প্রদানে অযথা কালক্ষেপণ বা গড়িমসি করেন এবং স্ত্রীকে অর্থ আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেন, তবে বিচারিক আদালত স্বামীকে মূল দেনমোহরের পাশাপাশি স্ত্রীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন। পর্যবেক্ষণে আরও স্পষ্টভাবে জানানো হয়, দেওয়ানি চুক্তি ও বিদ্যমান আইনের সুস্পষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো অবস্থাতেই দেনমোহরের কোনো অংশ হ্রাস, কর্তন কিংবা মওকুফ করার আইনি এখতিয়ার কোনো আদালতের নেই।

উল্লেখ্য, দেশে বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালায় বকেয়া দেনমোহরের কথা উল্লেখ থাকলেও তা ঠিক কখন পরিশোধযোগ্য হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব ছিল। ফলে বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পরই কেবল দেনমোহর দাবি করা যায় বলে সমাজে যে ভ্রান্ত ধারণা গড়ে উঠেছিল, এই আদেশের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতার অবসান ঘটল। পবিত্র কোরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে রায়ে বলা হয়, ইসলামে দেনমোহর আটকে রাখা বা বকেয়া রাখার সুযোগ নেই; বরং এটি স্ত্রীর তাৎক্ষণিক ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার।

এই রায়কে দেশের বিচারিক অঙ্গন ও নারীর অধিকার সুরক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান। তিনি অভিমত দেন, এই আদেশের ফলে বকেয়া দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে নারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হলো এবং আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামীর দেনমোহর নিয়ে টালবাহানা করার সুযোগ বন্ধ হয়ে সমাজে নারীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পথ সুগম হলো।


নির্বাচিত

শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: ড. মঈন খান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস ও একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের জন্য কাজ করা মানে দেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করা। আজকের শিশুরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে এ দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। এটা কঠিন দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব শুধু তাদের নয়, আজকে আমরা যারা বয়স্ক, আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে যাতে তারা সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা যদি সঠিকভাবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হও, সেটার দায় আমাদের ওপর এসে বর্তাবে। তাই তোমরা যদি দেশকে ভালোবাসো, তাহলে বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

শিশুদের অধিকার নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ১৩ বছর আগেই ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তিনি অনুধাবন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সব শিশুরই অন্তরে’- এই কথার অর্থ হলো- শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক এবং দেশের নেতৃত্ব দেবে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিকে শিশুদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুরা বাংলাদেশের শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। আজকের অভিজ্ঞতা তাদের সারাজীবন মনে রাখা উচিত।

সৃষ্টির চাকার সঙ্গে শিশুদের ভবিষ্যৎকে তুলনা করে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবী কখনো থেমে থাকে না। সৃষ্টির চাকা ঘুরে চলেছে এবং তা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। শিশুরা সেই সৃষ্টির চাকারই একটি অংশ। তাই তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে আমরা যে শিক্ষা আজকে নেব, সেই শিক্ষা তোমাদের জীবনে প্রতিফলিত করবে। তোমরা ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার ও শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, ডায়াগনস্টিক কিট, ওষুধ এবং স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করেছে সরকার। ফলে বিগত তিন বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে ডেঙ্গু চিকিৎসা সহজলভ্য করা, ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার ০.৩১ শতাংশে রাখা সম্ভব হয়েছে। এ বছর ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৮১ জনের মৃত্যুর হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুতে এই হার ছিল ০.৫৩ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৪৮২ জনের মৃত্যুতে ০.৪৯ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৩২৩ জনের মৃত্যুতে এই হার ছিল ০.৩৪ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে মৃত্যুর হার ছিল ০.৪২ শতাংশ।

সরকারি নির্দেশনার আলোকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, ওয়ান স্টপ সার্ভিস ও ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু, পর্যাপ্ত ডায়াগনস্টিক কিট ও স্যালাইনের মজুত এবং বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু এনএস১ পরীক্ষা নিশ্চিতকরণসহ দেশব্যাপী ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ২২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। সেখানে দুটি ফ্লোরকে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রূপান্তর করে হাসপাতালটি তাদের মোট শয্যা সংখ্যা ৬০টি (শিশুদের জন্য ২০টি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪০টি) থেকে বাড়িয়ে ২০০টিতে উন্নীত করেছে।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যাতে তারা ওয়ার্ড থেকে বের না হয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।

তিনি জানান, ডেঙ্গু চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা সম্প্রতি একটি ইন-হাউস সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। তাছাড়াও মেডিসিন ও শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত সকালে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেশন পরিচালনা করছেন, যা মৃত্যুর হার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে ৪০২, ৫০২ এবং ৭০২ নম্বর ডেডিকেটেড ওয়ার্ডের মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডটি নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত।

ঢামেক ডেঙ্গু ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক শাহনুর শারমিন মুন্নি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্ধারিত ক্ষমতা প্রায় ৫০টি শয্যা হলেও রোগীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারণ ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম বেশি হয়।

তিনি জানান, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় জরুরি পণ্যসামগ্রী, যেমন- আইভি ফ্লুইড (স্যালাইন), আইভি সেট, প্যারাসিটামল, বমি ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ এবং বিশেষ তরল হিসেবে ব্যবহৃত প্লাজমা সলিউশনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে হাসপাতালে।

কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সক্ষমতা আরও ১০০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের অষ্টম তলায় আরও ১০০টি শয্যা চালু করেছি, যার মধ্যে ৫০টি পুরুষ এবং ৫০টি নারী রোগীদের জন্য।

ইতোমধ্যেই সেখানে রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে ৬ জন চিকিৎসক ও ১০ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছে।

সাইদুর রহমান জানান, ১ হাজার ২০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে জরুরি বিভাগে ৫০টি শয্যা ছাড়াও প্রায় ২০০টি শয্যা বিশেষভাবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে।

সব ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রোগী—যাদের রক্তপাত, তীব্র ডায়রিয়া বা অনিয়ন্ত্রিত বমির মতো গুরুতর লক্ষণ রয়েছে, তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

বাসসের খুলনা প্রতিনিধি জানান: ডেঙ্গু সংক্রমণের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হটস্পট হিসেবে খুলনা আবির্ভূত হওয়ায় সেখানকার বিভিন্ন সরকারি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সংক্রমণের তীব্রতা বিবেচনায় খুলনা শহরের বিভিন্ন স্থানে ৯টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সপ্তাহজুড়ে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারটি ওয়ার্ড ও সংলগ্ন বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কেসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে হাসপাতালে ৩০টি শয্যা সরবরাহ করেছে, যার ফলে হাসপাতালের মোট ডেঙ্গু শয্যা সক্ষমতা ১৫০টিতে পৌঁছেছে।

সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দল বিএনপি শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা সেবা ও অস্থায়ী হাসপাতাল চালু করেছে এবং খুলনা ডায়াবেটিক সমিতি মাত্র ১০০ টাকা খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ সুবিধা চালু করেছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, দেশজুড়ে বিশেষ করে রাজধানীতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেওয়ায় ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে ঢামেক প্রাঙ্গণে ফিল্ড হাসপাতালটি পুনরায় চালু করার কথা বিবেচনা করছে সরকার।

একই সাথে, ডেঙ্গু চিকিৎসা সহজতর করতে পর্যাপ্ত জায়গা সাপেক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের কিছু রোগীকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের কথাও বিবেচনা করছেন কর্তৃপক্ষ।

ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে স্যালাইনের মজুতের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, আগামী মাসগুলোতে প্রত্যাশিত চাহিদার কথা মাথায় রেখে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি) এবং এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)-কে পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

পরিচালক জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইডস কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ৫ লাখ ডেঙ্গু এনএস১ র‌্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট প্রদান করেছে। এর ফলে দেশের যেকোনো অংশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এছাড়া, চিকিৎসকরা যাতে ডেঙ্গু রোগীদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেন এবং ব্যবস্থাপনার ভুলে মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়—সে লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ডেঙ্গু চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. নুরুল ইসলাম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালে যেন ডেঙ্গু থেকে নতুন করে সংক্রমণ না ছড়ায়, সেজন্য রোগীরা যাতে মশারি ব্যবহার করেন তা নিশ্চিত করছেন কর্তৃপক্ষ। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ঢাকায় বস্তিতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ কার্যক্রমে জাপানের ১.৪৫ লাখ ডলারের সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর বস্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে যক্ষ্মা রোগ দ্রুত শনাক্তকরণের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান সহায়তা দিচ্ছে জাপান সরকার। এ লক্ষ্যে সোমবার ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসে একটি দ্বিপক্ষীয় অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ’ (icddr,b)-এর প্রতিনিধিরা নিজ নিজ পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

জাপান সরকারের ‘গ্রাসরুটস হিউম্যান সিকিউরিটি প্রজেক্টস’ (জিজিপি) কর্মসূচির অধীনে ‘ঢাকা জেলায় যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি সংগ্রহ প্রকল্প’ শীর্ষক উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হবে। এই সহায়তার মাধ্যমে icddr,b একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ও একটি অত্যাধুনিক ফুজিফিল্ম পোর্টেবল ডিজিটাল এক্স-রে ইউনিট সংগ্রহ করবে, যা ব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যকর্মী দল সুবিধাবঞ্চিত ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগবঞ্চিত মানুষের কাছে সরাসরি যক্ষ্মা স্ক্রিনিং সেবা পৌঁছে দেবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর অন্তত ৯ হাজার মানুষকে নিয়মিত যক্ষ্মা পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে অপ্রকাশিত যক্ষ্মা রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাবে, যা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই রোগের সংক্রমণ রোধে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও সামাজিক মর্যাদা সুরক্ষাকে জাপান সর্বদা বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস জাপানের সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে টয়োটা সুশো কর্পোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিদানি উপস্থিত ছিলেন; প্রতিষ্ঠানটি এবং ফুজিফিল্ম যৌথভাবে এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি ও যানবাহন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। উল্লেখ্য, তৃণমূল পর্যায়ে মানব নিরাপত্তা নিশ্চিতের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সাল থেকে জিজিপি কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশে ২২৪টি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে জাপান।


নির্বাচিত

banner close