প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমতায় বসলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।
সোমবার গণভবনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ, ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এসব কথা জানিয়েছেন।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাদে অন্য কেউ ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন এবং দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশবিরোধী, খুনি, মৌলবাদী চক্র, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাতকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আরাফাতকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে কাজ করবেন। অনেকেই যোগ্য আছেন, একজনকে তো দিতে হবে। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে আমরা একজনকে মনোনয়ন দিয়েছি। যাদের মনোনয়ন দিতে পারিনি তাদের হয়তো কষ্ট লাগবে, কারণ তারাও যোগ্য। আমরা অবশ্যই সামনের দিনে তাদের দেখব। নিরাশ হওয়ার কিছু নেই।’
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা-১৭ আসনের থানা-ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে গণভবনে ডাকা হয়। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা যাতে বাড়ে, সে জন্য সবাইকে ভোটারদের কাছে যেতে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। অল্পদিনের ভোট হলেও নির্বাচনের আমেজ যেন থাকে- এমন নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের জীবনমান উন্নত হয় সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বিদেশে বাংলাদেশের সম্মান-মর্যাদা বেড়েছে অনেক। ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যে পরিবর্তনটা দৃশ্যমান হয়েছে, আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় আছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আমরা মানুষের মন জয় করেই ক্ষমতায় এসেছি। আর ক্ষমতায় এসে ধারাবাহিক উন্নয়ন করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর ’৭৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত যে অন্যায়-অত্যাচার করা হয়েছে আমরা তার প্রতিশোধ নিইনি। আমরা অন্যায়ের জবাব দিচ্ছি উন্নয়ন করে। আমাদের সরকার প্রতিটি জেলায় পরিকল্পিত উন্নয়ন করেছে। ফলে আজ গ্রামে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা একেবারে নেই বললেই চলে। সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারলে গত সাড়ে ১৪ বছরে আমরা যে উন্নয়ন করেছি তার সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে।’
আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন করেছে সেগুলো বেশি করে প্রচার করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি। তিনি বলেন, একই সঙ্গে উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে এবং আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনা দরকার, সেটাও মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি মানুষের আস্থা-বিশ্বাসও অর্জন করতে হবে।
সামনে জাতীয় নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে জানিয়ে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।
দলে দুঃসময়ের নেতা-কর্মীরা যেন অবহেলিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দিতে নেতাদের নির্দেশ দিয়ে দলীয় সভাপতি বলেন, ‘দুঃসময়ের নেতা-কর্মীরাই দলের এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে। আমার একমাত্র শক্তি আমার সংগঠন। সাংগঠনিক শক্তি না থাকলে বড় কোনো অর্জন সম্ভব হয় না। তাই দলকে সুসংগঠিত করতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে থেকে।’
বাংলাদেশকে নিয়ে নানা চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই চায় না আমাদের দেশটি এগিয়ে যাক। যাদের উসকানিতে বিএনপি আজ লাফাচ্ছে তারা কিন্তু তাদের ক্ষমতায় বসাবে না। তারা শুধু তাদের ব্যবহার করবে।’
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে বারবার ধ্বংস করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সে চেষ্টা কখনোই সফল হয়নি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ মানুষের মন জয় করে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করা দরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবা-মা-ভাই সবাইকে হারানোর পর আওয়ামী লীগই আমার পরিবার। বাংলাদেশের জনগণ আমার সমস্ত শক্তি। তারাই আমার একমাত্র ভরসা। তাদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। করোনা মহামারির মধ্যে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যারা সবচেয়ে বেশি মানুষের পাশে থেকে অবদান রেখেছে।’
বিএনপির নির্বাচন মানে দশটা হোন্ডা বিশটা গুন্ডা নির্বাচন ঠাণ্ডা- এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ভোটারবিহীন নির্বাচন করেনি। ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছে খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি, আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত প্রমুখ।
বৈঠকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ২২ জনের মধ্যে ১৮ জনই উপস্থিত ছিলেন।
ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে এখনো স্বাভাবিক রয়েছে বাস চলাচল। তবে তেলের জন্য ভোগান্তি এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় পাম্পে অপেক্ষা করার অভিযোগ করেছেন পরিবহনকর্মীরা।
সোমবার বিকেলেও মহাখালী বাস টার্মিনালে তেমন ভিড় নেই। এখনো ঈদের চাপ পড়েনি। কাউন্টার থেকে সহজেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। সড়কে যানজট না থাকায় বাস পেতেও সমস্যা হচ্ছে না।
এসি বাসের অপেক্ষায় থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘আজকে ঝামেলা কম। আমি এসির জন্য চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এখনো এসি বাস আসেনি। তাই নন-এসির টিকিট কাটলাম। আমার খুব বেশি সময় লাগেনি। আমি দুই-তিন মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম। গাড়ি থাকলেই সিট পাওয়া যাচ্ছে।’
তবে জ্বালানি তেলের ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান পরিবহনকর্মীরা। বেতন-ভাতা নিয়েও অসন্তুষ্ট তাঁরা। এক বাসচালক বলেন, ‘আসার রাস্তা পুরোই যানজটমুক্ত ছিল। তবে বনানী থেকে মহাখালী আসতেই বেশি সময় লেগেছে। এটুকু রাস্তা এসেছি দুই ঘণ্টায়। রাস্তায় যতগুলো তেলের পাম্প আছে, সবাই বলছে তেল শেষ। আমরা যে ঈদের যাত্রীদের নিয়ে যাব, সেই সুযোগটা পাচ্ছি না।’
গাবতলীর চিত্রও প্রায় একই রকম। এই বাস টার্মিনালে কোনো অনিয়ম না পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিআরটিএ চার্টের বাইরে কোনো ভাড়া নেওয়া যাবে না। এই জিনিসটা আমরা সবার কাছে অনুরোধ করেছি। আমরা আশা করি, সবাই এটা মেনে চলবে। কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো আমাদের উদ্দেশ্য না।’
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, ‘ছোটখাটো কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা কাউন্টারগুলোকে সতর্ক করছি। তারাও এটি প্রতিপালন করছে।’
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও বাড়তি ভাড়া রোধে মঙ্গলবার থেকে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এসব দেশের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ৪ মার্চ ৩২টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপর ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৬টি এবং ১৫ মার্চ ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১২টার পরও ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এদিন কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এদিন বাতিল হয়েছে ২৮টি ফ্লাইট।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কানেক্টিভিটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাত নিয়েও উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বরেছেন।
ক্রস-বর্ডার এনার্জি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি একটি বড় পরিসরের এবং চলমান আলোচনা। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।
ভিসা প্রক্রিয়া কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের ভিসা চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম আজ সোমবার দুপুরে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্থাপিত একটি নতুন কম্পোস্ট প্ল্যান্টের শুভ উদ্বোধন করেন। পরিদর্শনকালে তার সাথে সাবেক ডেপুটি মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক উপস্থিত এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীদের জানান যে, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি দৃষ্টিনন্দন ইকো-পার্ক ও খেলার মাঠে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডফিল এলাকার চিরচেনা দুর্গন্ধ ও দূষণ দূর করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একে নাগরিক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
বর্জ্য থেকে সম্পদ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাঃ
প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন সংগৃহীত ৩২০০-৩৫০০ টন বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি কোরিয়ান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ আগামী ঈদুল আযহার পর শুরু হবে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ডাম্পিং করার পরিবর্তে তা প্রক্রিয়াকরণ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এছাড়া আজ উদ্বোধন হওয়া কম্পোস্ট প্ল্যান্টে প্রতিদিন ১০০ টন গৃহস্থালী পচনশীল বর্জ্য থেকে ২০ টন জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সফল হলে এর পরিসর আরও বৃদ্ধি করা হবে, যা গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে এবং সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষাঃ
ল্যান্ডফিলে প্রায়ই ঘটা অগ্নিকাণ্ড রোধে ১৮১ একর জায়গাজুড়ে ৪০টি পয়েন্টে পানির হাইড্রেন্ট স্থাপন এবং পানির লাইনসহ স্থায়ী জলাধার নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আগুন নেভানোর জন্য নতুন ৬টি পোর্টেবল পাম্প কেনা হয়েছে। প্রশাসক জানান, ময়লার স্তূপ থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের কারণেই মূলত এখানে আগুন লাগে। বর্তমানে ময়লার উপরে মাটির আচ্ছাদন দেওয়ার কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা দুর্গন্ধ ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুতই এই এলাকা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হবে।"
রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার গুজব ছড়িয়ে বিপণিবিতানে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত রোববার রাত ১১টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কথা–কাটাকাটির জেরে ওই বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা এক রিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন এমন গুজব ছড়িয়ে রিকশাচালকেরা এ ভাঙচুর চালান। এমনকি তারা বিপণিবিতানের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। পরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে যান।
রাতেই সেখানে যান ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। গতকাল সকালেও ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, একটি বিপণিবিতানের সামনে রিকশা দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মী ও রিকশাচালকদের মধ্যে গত সোমবার রাতে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একজন রিকশাচালকের সঙ্গে বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীদের কথা–কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রিকশাচালক চলে যান।
ওসি বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে। বিপণিবিতানের মালিকেরা আরেকটি মামলা করবেন। এখনো সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের অভিযোগ, বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে এক রিকশাচালককে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে ওই রিকশাচালকের পরিচয় কেউ নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।
নাগরিকদের সব ধরনের তথ্য ও সুযোগকে একটি কার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলার পর তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভারতের আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে, দেশেও ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর বিষয়ে চিন্তা করছে সরকার।
এছাড়া ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চীন ও ভারতের সঙ্গে ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। ঋণ নয়, এখন থেকে বিনিয়োগে জোর দেবে সরকার।
জ্বালানি বিষয়ে হওয়া চুক্তি বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের সরকার জ্বালানি বিষয়ে যেসব চুক্তি করেছিল সেগুলো অসম চুক্তি ছিল। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিষয়ে কী ধরনের চুক্তি করলে সেটি লাভজনক হয়, এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
আগের সরকারের চুক্তিগুলোর পুনরাবৃত্তি না করে, বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এমনভাবেই চুক্তি করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে ঈদের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। জানা গেছে, আগামী ২৪ বা ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক হতে পারে।
আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আসার আগে রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাক্সিম ক্রিশকো। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও সৌজন্য বৈঠক করেন।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঋণ কর্মসূচির আকার বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।
সংস্থাটি থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ঋণসহায়তা পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি বা চেয়ারম্যান হতে হলে স্নাতক পাস হতে হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডিগ্রি কলেজ ছাড়া ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, প্রাইমারি স্কুলসহ সব স্কুল মাদরাসায় ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতিকে স্নাতক পাস হতে হবে।’
লটারিতে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামনের বছর থেকে ভর্তিতে লটারি তুলে দেয়া হলো। খুবই সাধারণ উপায়ে পরীক্ষা হবে। কোনো প্রতিযোগিতা থাকবে না। লটারি কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় থাকতে পারে না। বহুদিন ধরে গবেষণা করে এ সিদ্ধান্ত। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, সামনেও আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলা, ভর্তিতে লটারি কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না। সরকার ইনহাউজ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করবে।
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার, তাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের সার্কিট হাউস মাঠে সুধীসমাজের সম্মানে ইফতারে অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গেল ১৭ বছরের ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ গঠনে সময়ের প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটা দল করি, যে দলের কাজ হচ্ছে মানুষের উপকার করা। সেই কাজ করা, যেগুলো করলে মানুষের উপকার হবে। তাই আজকে আমরা এখানে এসেছি। সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহাপাড়ায় খাল খনন শেষ হলে এ এলাকার ৩১ হাজার কৃষক পানি পাবে এবং ১২শ হেক্টর জমি সেচের সুবিধা হবে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ সরাসরি এই খাল থেকে সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার নীতি গ্রহণ করছে। বন্যা ও খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও সরকার কাজ করছে। মৌলিক খাদ্য উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে খাল খননের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
কৃষকদের জন্য আগামী মাস থেকেই চালু করা হবে কৃষক কার্ড উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে। উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর হওয়ায় এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে ঈদের পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হলো। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
স্কুল ভর্তিতে লটারি চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে স্কুলে ভর্তির বিদ্যমান লটারি প্রথা থাকবে না। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীরা চায়, সে অনুযায়ী হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলা, ভর্তিতে লটারি কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না। সরকার ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা করবে।
উল্লেখ্য, প্রথমে শুধু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির পদ্ধতি চালু করা হয়। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় (যেসব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি রয়েছে) প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষার মাধ্যমেই হতো।
ঢাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রইস উদ্দিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মো. আল ফোরকান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং উচ্চশিক্ষার তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) বর্তমান উপাচার্য ও ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অন্যদিকে, ইউজিসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে। অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দেশের প্রাচীনতম এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইউজিসির শীর্ষ পদে অধ্যাপক মামুন আহমেদের নিয়োগ উচ্চশিক্ষা খাতের তদারকি ও সমন্বয় সাধনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এই নিয়োগের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে পূর্ববর্তী শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের মাধ্যমে। ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে আজ সোমবারই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি চেয়েছিলেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তিনি তাঁর মূল কর্মস্থল অর্থাৎ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। মূলত ১০ ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তিনি পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেন।
ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের জনগণের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবদুর রহমান সানী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিনিধি নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তারেক রহমান। পরে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
আজ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, ‘ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারেক রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের (ঢাকা-১৭) জনগণের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদনের সুবিধার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আবদুর রহমান সানীকে এই আসনের প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হলো।’