শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনের উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করতে পেরেছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদে প্রধানমন্ত্রী। ফাইল ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৩ ২০:৩৯

সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো বিতর্কিত নির্বাচন কখনো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়নি এবং হবেও না।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সফরে সুইজারল্যান্ড অবস্থান করছেন। তার লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতা দখল করতে আসেনি, বরং জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এসেছে, যাতে জনগণ তাদের সরকার বেছে নিতে পারে।

আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেটের ওপর বিশ্বাসী জানিয়ে দলটির প্রধান বলেন, ‘জনগণ ঠিক করবে কে দেশ চালাবে। এটা জনগণের ক্ষমতা। আমাদের সরকার জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ আওয়ামী লীগ সব সময়ই দেশে ওয়েস্ট মিনস্টার স্টাইল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারাই পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায়, তারা পাঠাতে পারবে।’

আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ, ভীতিহীন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ যাতে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, সে লক্ষ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে আমাদের সরকার সদা প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আইন, ২০২২-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে আমাদের সরকার যা যা আবশ্যক সেসব বিধি প্রণয়ন করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করে যাবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে যা যা করার তার সবকিছু করবে।

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিন যুগ ধরে সংসদে আমি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিরলস কাজ করছি। বাংলাদেশের জনগণই আমার শক্তি, প্রেরণা। বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে সদা প্রস্তুত আমি।’

বগুড়া-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের আওতায় ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৭০১ গবেষককে ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। এতে তাদের ১১৫ কোটি ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ টাকা দেয়া হয়।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করি এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদা হানিকর কোনো হীন উদ্দেশ্যকে আমি কখনোই প্রশ্রয় দেব না।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বক্তব্যের পর আমি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে পদ্মা সেতুর বাঁধাই করা একটি চিত্রকর্ম উপহার প্রদান করি। বিশ্বব্যাংক আমাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল তারা তা বুঝতে পেরেছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের প্রতি তাদের অব্যাহত আস্থা ও সহায়তার পরিচায়ক।’


উপদেষ্টা পরিষদের সভা: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ ১১ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশটি বাস্তবায়িত হলে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এক নতুন আইনি কাঠামোর সৃষ্টি হবে। একই সভায় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পায়। এ ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতের সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণে ‘বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।

কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও বৈঠকে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতিসংঘের ‘নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশন’-এর ৭০(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ কর্তৃক অতীতে দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের প্রস্তাব। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করবে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার সিদ্ধান্ত এবং নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন-১৯৮০’ কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের দিকে নজর রেখে উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৫-২৮ সময়কালের জন্য ‘আমদানি নীতি আদেশ’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের লক্ষ্যে পৃথক দুটি অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবছর ২৩ মার্চকে জাতীয়ভাবে ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাবটিও সরকার অনুমোদন করেছে। উপদেষ্টা পরিষদের এসব সিদ্ধান্ত দেশের মানবাধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নারীদের সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত অধ্যাদেশ ও প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


আরও ১২ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’র গেজেট বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য অবদান রাখা ছাত্র-জনতার তালিকায় অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত আরও ১২ জনের নাম তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা ভুল ও অসত্য তথ্য প্রদানের মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে ধরা পড়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করার পর তা সরকারি গেজেট আকারেও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর ১১(৪) ধারা এবং ‘রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬’-এর শিডিউল-১ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে এই ১২ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। তারা সবাই জুলাই যোদ্ধাদের ‘গ’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মূলত গেজেটভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়ায় সরকার এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত ইতিহাস ও যোদ্ধাদের সম্মানের প্রশ্নে কোনো প্রকার জালিয়াতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

বাতিল হওয়া এই ১২ জনের মধ্যে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার পাঁচজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার সাতজন রয়েছেন। দিনাজপুরের যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তারা হলেন তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা. কহিনুর এবং মোছা. সখিনা। অন্যদিকে, চাঁদপুরের বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল এবং মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেকের গেজেট নম্বর, মেডিকেল কেস আইডি এবং স্থায়ী ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এটিই জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম বাতিলের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও গত বছরের ২৯ অক্টোবর একইভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং একই নাম দুইবার অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ১২৮ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করেছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শহীদ ও যোদ্ধাদের একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরির লক্ষ্যে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। মূলত প্রকৃত যোদ্ধাদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার্থেই এই ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত যোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় প্রতিফলিত হয়েছে।


নির্বাচনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বিজিবি

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কোনো ধরনের মারণাস্ত্র বা ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেক্টর কমান্ডার বিজিবির প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা সেক্টরের অধীনে ৯টি জেলা এবং ৪টি সিটি করপোরেশনের মোট ৫১টি আসনে ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ৪২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ভোটাররা যেন কোনো প্রকার ভয় বা শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং সকল প্রার্থীর জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেই বিজিবি কাজ করছে। এছাড়া বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রমের জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকবে।

নির্বাচনী ডিউটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবার বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানান, সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর এবং আধুনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বিজিবি মূলত মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাবে যাতে কোনো অশুভ শক্তি নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

যেকোনো ধরনের আকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির বিশেষ সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজিবির র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সক্ষমতা বিজিবির রয়েছে। সেক্টর কমান্ডার স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বড় কোনো শঙ্কার কারণ দেখা যায়নি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়টি বিজিবি মহাপরিচালকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অংশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বিজিবির নিবিড় সমন্বয় থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। বিজিবির প্রতিটি বেইজ ক্যাম্পের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে যাতে প্রয়োজনে তারা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমেও তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। বিজিবি আশা প্রকাশ করছে যে, সংবিধান ও আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং জনগণের আস্থাকে সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর। মূলত একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থেই বিজিবি তাদের পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ স্তর নিশ্চিত করবে।


হজযাত্রীদের ভিসার আবেদন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক যাত্রীদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত এই আবেদন কার্যক্রম চলবে। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর প্রস্তুতি হিসেবেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের হজের জন্য সরকারি ও বেসরকারি—উভয় মাধ্যমে যারা এরই মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তাদের জন্য সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি হজযাত্রীকে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ শেষ করে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনলাইন সনদ বা ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে হবে। এই ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রী এবার সৌদি আরবে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিবন্ধিত বাংলাদেশি হজযাত্রী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌদি আরবের ‘নুসুক মাসার’ (Nusuk Masar) ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট এই সময়ের পর আবেদনের আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই সকল নিবন্ধিত হজযাত্রীকে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা গ্রহণ এবং ফিটনেস সনদ নিয়ে ভিসার আবেদন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, এ বছর ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে হজ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সময়মতো ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যারা এখনও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেননি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত যাত্রী নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা কঠোরভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার হুমকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর আগে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি কর্মচারীরা। ঢাকায় শুক্রবার সকালে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেন তারা।

পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও সরকারি কর্মচারীদের দাবি আমলে নেওয়া হচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আশা করা হয়েছিল, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, কিন্তু তা হয়নি। দাবি আদায়ে তাই আগামী ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করা হবে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে সরকারি কর্মচারীরা তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। গুলো হচ্ছে—সর্বনিম্ন পে-স্কেল ৩৫ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।

২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণ করা তিনটি টাইম ফেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল ও সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্র্যাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্র্যাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা পাঁচ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।

কর্মরত কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না বিধায় চাকরিরতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহতভাবে রাখতে হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম ফেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে নং-অম/অবি (বাস্ত-৪) /বিবিধ-২০ (উঃক্ষেঃ/ ০৭ / ৪৭, তারিখ-২৪-০৩-২০০৮ খ্রি. যোগে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত বৈষম্যমূলক জারিকৃত আদেশ বাতিল করতে হবে।

বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ ও সামরিক/আধা সামরিক বাহিনীর মতো (১০-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদবৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের মতো সকল সরকারি, আধা সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।


বাংলাদেশের পক্ষে লড়বে ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কয়লার দাম ও বিদ্যুৎ শুল্ক নিয়ে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) মধ্যস্থতা ও সালিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান থ্রি ভিপি চেম্বার্স নামের লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ থ্রি ভিপি চেম্বার্স বাংলাদেশের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করবে। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কিংস কাউন্সেল ফারহাজ খান নেতৃত্বাধীন এই চেম্বার্সটি গত কয়েক মাস ধরে আদানির সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনাকারী জাতীয় কমিটিকে পরামর্শ দিয়ে আসছিল।

হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই এই আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর আদানি পাওয়ার সিঙ্গাপুরে সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করায় বাংলাদেশকেও আইনি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।

আদানি পাওয়ারের দাবি, বিতর্কিত কয়লা শুল্ক সংক্রান্ত বকেয়া বাবদ বাংলাদেশ তাদের প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেনি। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সালিশে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হলেও তা চূড়ান্তভাবে বাধ্যতামূলক নয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কৃত্রিমভাবে বাড়ছে। চব্বিশের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিপিডিবি আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ জোরদার করে।

জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি বৃহস্পতিবার জানায়, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেয়ার মতো শক্ত প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, আদানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু কর্মকর্তার অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রমাণ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে পর্যালোচনা কমিটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছিলেন, চুক্তি যদি দুর্নীতির মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আদানির সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিল করতে পারে।

হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে আলাদা প্রতিবেদনও তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এক কমিটি সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশে ও বিদেশে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে আদানি ও তাদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শক্ত প্রমাণ সামনে আসবে।

তবে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, আইনি ভিত্তি থাকলেও আন্তর্জাতিক আদালতে গেলে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি আসতে পারে।

বর্তমানে আদানি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জুনে এককালীন ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল পাওনা মিটিয়েছে। এর আগে অর্থ পরিশোধে জটিলতার কারণে আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল, তবে বকেয়া পরিশোধের পর পূর্ণ সরবরাহ আবার চালু হয়েছে।


রোজার আগেই বাড়ল গরুর মাংসের দাম

* পোলাও চালসহ কয়েকটি উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দামও বাড়তি * আগের দামেই মিলছে সবজি, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন মুদিপণ্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো বাকি সপ্তাহতিনেক। এর মধ্যেই গরুর মাংসের বাজার যেন ‘গা গরম’ করতে শুরু করেছে। কোনো কোনো বাজারে এমন অবস্থাই দেখা গেছে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি)। এত দিন যারা ৭০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করতেন এদিন তাদের সাড়ে সাতশ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। যারা ৭৫০ টাকায় বিক্রি করতেন তারা ৭৮০ টাকা পর্যন্ত নেন। কোথাও কোথাও আবার ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিন্তু বিক্রেতাদের দাবি, এই দাম আগে থেকেই ছিল। এদিকে, বাজারে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। সেই সঙ্গে দাম কমেছে আমদানি করা নাজিরশাইল চালের। তবে দাম বেড়েছে ছোট দানার মসুর ডাল, লেবু ও পোলাওয়ের চালের। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আর বিদেশ থেকে নাজিরশাইল চাল আমদানি বেড়েছে। ফলে এ ধরনের চালের দামও কমেছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, মালিবাগ, মানিকনগর ও মুগদাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস ও পোলাওয়ের চালসহ কয়েকটি উৎসবকেন্দ্রিক পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে নিত্যদিনের প্রয়োজনের সবজি, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন মুদিপণ্য বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের দামেই।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচা বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা মো. খোকন ৮০০ টাকা দাম চাইছিলেন। তবে দামাদামি করে ৭৮০ টাকায় কিনতে দেখা যায় কয়েকজন ক্রেতাকে। এ ছাড়া পরিচিত ক্রেতাদের কাছ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত রাখেন খোকন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোকন বলেন, ‘হাটে এখন গরু কিনতে ৩-৪ হাজার টাকা বেশি লাগছে। তাই কেজিপ্রতির দামও কিছুটা বেশি রাখতে হয়।’

রাজধানীর মুগদা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজিতে। এই বাজারের বিক্রেতা আব্দুস সালাম সপ্তাহখানেক আগেও ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বললেন, ‘এখন আর পোষাতে পারছি না। এখন দাম কম রাখলে মাংসের মান ঠিক রাখা যাবে না। মান ঠিক রাখতে দাম কিছুটা বাড়িয়েছি। আমি ছাড়া সবাই আগে থেকেই ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি।’

মাংস বিক্রেতারা বলছেন, রোজার মাসে মাংসের চাহিদা বাড়ে। এ ছাড়া রোজার আড়াই মাস পর কোরবানির জন্য অনেক খামারি গরু সংরক্ষণ করেন। এতে বাজারে গরুর সরবরাহ কমে দাম বেড়ে যায়।

মানিকনগর বাজারে আসা মাংসের ক্রেতা মো. আলী বলেন, ‘একটা সময় ছিল শবে বরাতের কিছু আগে বাজার গরম হয়ে উঠত। তখন মাংসের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিটি করপোরেশন দাম বেঁধে দিত। তবে শবে বরাতের বাজার নিয়ে আগ্রহ আগের মতো নেই। দামও বেঁধে দেওয়া হয় না। তবে হুজুগ একেবারে শেষ হয়েও যায়নি। তাই চাহিদা বাড়তে থাকায় মাংসের দাম বাড়ছে।’

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে গড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি দরে। টিসিবির ভাষ্য, গত বছরও এ সময় গরুর মাংসের একই দাম ছিল।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৮৫ টাকা কেজির মধ্যে। গতকালও এ দামেই বিক্রি হয়। ফার্মের ডিমের দাম প্রতি ডজন বাজারভেদে ছিল ১১০-১২০ টাকা।

শীতের সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় স্থির রয়েছে গত সপ্তাহের দামেই। সপ্তাহখানেক ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়ার পর আলুর দাম আবার কমে ২০-২৫ টাকায় নেমেছে। বাজারে আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০-৩৫, শিম প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকার মধ্যে কেনা যাচ্ছে। তবে শসা ও খিরার বাজার এখনো চড়া, দাম প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা। প্রতি কেজি বেগুন মান ও জাতভেদে ৫৫-৮০ টাকার মধ্যে। প্রতিটি লাউ কিনতে ৭০-৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

পেঁয়াজের বাজার স্থির রয়েছে গত সপ্তাহের দামেই। ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া মানভেদে ৫০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

দাম কিছুটা বেড়েছে প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা দামে, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে।

বেড়েছে খোলা সুগন্ধি চালের দামও। প্রতি কেজি খোলা চালের দাম দেখা গেল ১৫০-১৬০ টাকা। এত দিন ছিল ১৪০-১৫০ টাকা।

সেগুনবাগিচা বাজারের মুদি দোকানি মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, মুদিসামগ্রীর মধ্যে ছোলা, চিনি, ডালসহ অনেক কিছুর দাম আগেই বেড়েছে। নতুন করে আর তেমন বাড়েনি। রোজার আগে হয়তো আর বাড়বে না।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ১০ টাকা।

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। মুদি পণ্যের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে সরবরাহকারীদের (ডিলার) কাছ থেকে চাহিদামতো সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না খুচরা বিক্রেতারা। তবে দাম বাড়েনি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাজারে ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০–১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে ২০ টাকা কম ছিল। অবশ্য মোটা দানার মসুরের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৮৫–৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাজিরশাইলের দাম কমেছে: বাজারে দেশি ও আমদানি করা—দুই ধরনের নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়। এর মধ্যে আমদানি করা নাজির চালের দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা কমেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এ চাল বিক্রি হয়েছে ৭৫–৮০ টাকা দরে। এক সপ্তাহ আগে যার দাম ছিল ৮০–৮৫ টাকা। তবে দেশি নাজিরশাইলের দাম ৮৫ টাকার আশপাশে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে দেশি নতুন নাজিরশাইল চাল এলে দাম আরও কমবে।

অবশ্য মিনিকেট চালের দাম কমেনি। অর্থাৎ আগের দামেই তা স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চালের মধ্যে প্রতি কেজি রশিদ ৭২–৭৩ টাকা, সাগর ও মঞ্জুর ৮০–৮২ টাকা, ডায়মন্ড ৮৫ টাকা এবং মোজাম্মেল চাল ৮৫–৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক মাসের ব্যবধানে পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা বেড়েছে।


নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আমাদের নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন নিশ্চিত করা। ইনশাল্লাহ, আমরা সেই পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এটি সফল হবে।

শুক্রবার পটুয়াখালীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি পটুয়াখালী এসেছিলাম রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ আমাদের ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলকে সঙ্গে নিয়ে। আমরা দুই টিমের মাধ্যমে জেলায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১২ দিন বাকি থাকলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি দেখে অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং আশাবাদী যে, পটুয়াখালীতে খুব ভালো নির্বাচন হবে।

নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, নির্বাচন কোনো নির্দিষ্ট শতাংশের ওপর নির্ভর করে না। আমরা চাই শতভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হোক। আমরা পরিবেশ ও পরিস্থিতি যথাযথভাবে তৈরি করেছি এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করি।

তিনি সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় সাধারণত যে পরিবেশ থাকে, তার থেকে এবার মোটামুটি ভালো। কিছু ঘটনা ঘটে থাকলেও তা সীমিত। আমরা চাই না, নির্বাচনের কারণে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হোক। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে কিছু উত্তেজনা হতে পারে, কিন্তু সেটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলে ভালো হয়। নির্বাচনের পরে আমরা সবাই একসঙ্গে সমাজে বসবাস করব।

বিলবোর্ড সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিলবোর্ডের জন্য কোনো রঙিন পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়। তবে ব্যানার, ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ডিজিটাল বিলবোর্ড থাকলে সেগুলোকে সাদাকালো করার প্রয়োজন নেই।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আমরা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি; শুধু আইন অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাধারণ নির্বাচনের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো পক্ষপাতে অংশ নেওয়া বা প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে প্রস্তাব দেওয়া যাবে না। তারা কেবল নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য মানুষকে অবহিত করতে পারবেন।

সভায় আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় ও ভিজিল্যান্স টিমের দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কোর আফিসার, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন নির্বাচন কমিশনার। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।


ধুলায় ধূসর ঢাকা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকা যেন ধুলার চাদরে ঢাকা এক শহর। টানা পাঁচ দিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকায় শীর্ষে রাজধানী—বাতাসে ভাসছে ধুলাবালু। রাস্তায় নামলেই চোখ জ্বালা করে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এ ক্ষেত্রে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। অসহনীয় বায়ুদূষণে নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি চলাচলেও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রাজধানীবাসী।

বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন গবেষণা বলছে, রাজধানীতে ধুলাদূষণের অন্যতম উৎস অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সরকারি উন্নয়নকাজ ও ভবন নির্মাণ। শীত এলেই রাজউক, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও সিটি করপোরেশন একসঙ্গে যার যার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন চলমান। আবাসন খাতে কাজ চলে সারা বছর। তবে শীতে একটু বেশি থাকে। এ মৌসুমে বৃষ্টি হয় না বললেই চলে। সব মিলিয়ে ধূলায় আচ্ছাদিত থাকে রাজধানী ঢাকা।

সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির স্থান ও নির্মাণাধীন স্থাপনা ঘুরে দেখা যায়, অব্যবস্থাপনায় চলছে নির্মাণকাজ। বিভিন্ন জায়গায় চলছে অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখা। কোথাও দেখা যায়নি নির্মাণ বিধি মেনে ছাউনি দিতে কিংবা রাস্তা কাটাকাটি করতে। এসব জায়গা থেকে উড়ছে ধুলাবালি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে।

মালিবাগ রেলগেট থেকে বাসাবো পর্যন্ত গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। এ সড়কটি ঘুরে দেখা যায় কোথাও নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখতে দেখা যায়নি। ইট, বালু, সিমেন্ট সুরকি আর মাটি থেকে প্রতিনিয়ত ধুলা ছড়াচ্ছে। এসব ধুলাবালিতে আশপাশের বাসিন্দারা বিরক্ত। এই সড়ক দিয়ে চলা গণপরিবহনের যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পথচারীরা মাস্ক পরেও নিস্তার পাচ্ছেন না।

মালিবাগ বাজারের দোকানি গফুর হক বলেন, গত দেড় বছর ছিল এক্সপ্রেওয়ের কাজের কারণে ধুলাবালি। সেটি কিছুটা কমলেও এখন গ্যাসলাইনের কাজের কারণে এত ধুলাবালি বেড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কষ্টকর। মাস্ক পরলেও ধুলাবালি মুখে ঢুকছে। দোকানের জিনিসিপাতি প্রতি ঘণ্টায় মুছতে হয়।

শুধু মালিবাগ নয়। রাজধানীর বসুন্ধরা, নদ্দা, নতুনবাজার, প্রগতি সরণি, মৌচাক সিদ্ধেশ্বরী রোড, যাত্রাবাড়ী এলাকায়ও দেখা যায় একই চিত্র। সিদ্ধেশ্বরী রোডে কেটে রাখা রাস্তায় কংক্রিট, বালি ও মাটি রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে, যা বাতাসে ধুলা ছড়াচ্ছে। প্রগতি সরণিতে পাতালরেলের কাজ চলমান থাকায় ব্যাপক আকারে ছড়াচ্ছে ধুলাবালি। ইউটিলিটি লাইন অপসারণ করে নতুন করে বসানোর কাজ চললেও সেখানে যত্রতত্র জমে আছে মাটির স্তূপ।

রাজধানীর মৌচাক মোড়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙার কার্যক্রম। বুলডোজার ও কন্সট্রাকশন ক্রেন দিয়ে ইট, সিমেন্ট, সুরকি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। ধুলাবালি উড়ে আশপাশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ফুটপাতের দোকানি ও পথচারীরা।

মৌচাক মোড়ের দোকানি হুমায়ুন কবির বলেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই ভবন ভাঙার কাজ চলমান। ইটের গুঁড়া আর বালি বাতাসে উড়ছে। আমি জামা-কাপড় বিক্রি করি। প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। ধুলাবালি দোকানে ঢুকে যাচ্ছে।


দায়িত্বশীল আচরণের অভাবে পর্যটন শিল্প পিছিয়ে রয়েছে: সৈয়দা রিজওয়ানা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অপার সম্ভাবনা থাকার পরও কেবল দায়িত্বশীল আচরণের অভাবে দেশের পর্যটন শিল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকার পরও আমরা এখানে ভালো করতে পারিনি। এজন্য দায়িত্বশীল আচরণ দরকার। এটি যেমন পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি যারা পর্যটন ব্যবসা করছেন তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ রাজধানীর একটি হোটেলে দি বাংলাদেশ মনিটর ও গ্যালাক্সি গ্রুপের যৌথ আয়োজনে এক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন নিয়ে যখন অপপ্রচার হয়েছে, তখন যদি আপনারা পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা কথা বলতেন, তবে এত শোরগোল হতো না। আমরা সোনার ডিম পাড়া হাঁস থেকে একবারে সব ডিম পেতে চাই। একই ঘটনা সিলেটের সাদা পাথর এবং হাওরের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।’

অনুষ্ঠানে দেশের ট্রাভেল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ২৯টি ক্যাটাগরিতে ২৭টি প্রতিষ্ঠান ও ৮ জন ব্যক্তি এবার এই সম্মাননা পেয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অ্যাওয়ার্ডের মূল লক্ষ্য হলো পর্যটন খাতের অংশীজনদের সেবার মান ও পেশাদারত্ব উন্নয়নে অনুপ্রাণিত করা।

এ বছর আতিথেয়তা খাতে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদানের জন্য ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান শহীদ হামিদ। গ্যালাক্সি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ জানান, দেড়শর বেশি মনোনয়ন থেকে জুরি বোর্ড যোগ্যদের নির্বাচিত করেছে।

সম্মাননা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ঢাকা, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট রংপুর, হোটেল গ্র্যান্ড পার্ক বরিশাল, ওয়ান প্যারাডাইস হোটেল কক্সবাজার, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা কক্সবাজার, সায়মন বিচ রিসোর্ট কক্সবাজার ও হোটেল সারিনা।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে আয়োজিত গণভোটের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ে বিশ্বের ১৬টি দেশ থেকে মোট ৫৭ জন দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, এই একক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বাইরেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন বিষয়ক সংস্থার কয়েকশ বিশেষজ্ঞ নির্বাচনী কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন, যাঁর নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন। এর পরেই ১২ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত তুরস্কের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেবেন সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল।

তালিকায় আরও রয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন এবং পাকিস্তান থেকে আসা ৩ জন পর্যবেক্ষক। এছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৬টি দেশের প্রতিনিধিরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সাক্ষী হতে বাংলাদেশে পা রাখবেন। এই বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক দলে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমার মতো ব্যক্তিত্বরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান যে, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।’ তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। ইইউ প্রতিনিধিদলে অস্ট্রিয়া, রোমানিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের অন্তত সাতজন পার্লামেন্ট সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশব্যাপী এক ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।


অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর ১১টি থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান যে, ‘রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’ গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহবাগ থানা এলাকা থেকেই সর্বোচ্চ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের নাম হলো— মো. রমজান (১৯), কাউছার আহম্মেদ (৩৩), মো. আলম সরদার (৪২), মো. আইউব আলী (৩৩), মিজানুর রহমান (৩৮), মো. শাহদাত (২৪), এমসার ইউনুছ (৪০), মাইখেল চন্দ্র (২৮), আলী আহম্মেদ (২৬), ইয়াহিয়া ফেরদৌস হিটলার (৩০), লিমন (১৯), মো. করিম মিয়া (২৬), মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫) ও মো. রমজান আলী (২৪)।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ সাব্বির হোসেন (২৪) নামের এক তরুণকে এবং লালবাগ থানা পুলিশ শাহীন বাপ্পী শামীম ওরফে সেলিম (২৫) ও আমির হোসেন (২৬) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ডেমরা থানা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন আক্তার হোসেন (৫৩), সূত্রাপুর থানা থেকে মনা ব্যাপারী (২৭) এবং মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ মো. হাফিজুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া খিলগাঁও থানা এলাকা থেকে তাজবিন খান (৩২), শরিফুল ইসলাম (২৯), মো. ফারুক (৩৫) ও শরিফুল ইসলাম (৫৩) নামের চারজন এবং হাজারীবাগ থানা থেকে সুফল চৌধুরী (৩৫), মো. মুন্না (২০) ও মেহেদী হাসান (৩০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাড্ডা থানার অভিযানে মো. সাহেব আলী (২১) নামের একজন এবং যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে ইফতেখার রেজা (৪০), মামুন (৩০), রাজিব (২৬) ও শাওন ওরফে সেন্টু (২৮) নামের চারজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

একই সময়ে শেরেবাংলানগর থানা এলাকা থেকে এ বি এম মাহমুদুল বসরি (৩০), মো. জয়নাল হাওলাদার (৬৩) ও মো. সেলিম (৩০) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এসব ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই বিশেষ অভিযান পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে বলেও পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।


সারাদেশে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্রসহ ৫০৪ জন গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের সার্বিক জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৫০৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বার্তায় জানানো হয় যে, গত ২৩ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের সেনাসদস্যরা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সমন্বিত তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং ডাকাতসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করে। এই এক সপ্তাহের অভিযানে মোট ৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ৯৫টি ককটেল এবং দেশীয় অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ধৃত ব্যক্তিদের যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একইসাথে যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে এলে দ্রুততম সময়ে তা ‘নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য’ সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী সময় থেকে অর্থাৎ গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে মোট ১ হাজার ৫০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই সময়কালের মধ্যে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ১৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৮৩৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করার সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে সেনাবাহিনীর এই সমন্বিত তৎপরতা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


banner close