সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো বিতর্কিত নির্বাচন কখনো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়নি এবং হবেও না।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সফরে সুইজারল্যান্ড অবস্থান করছেন। তার লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতা দখল করতে আসেনি, বরং জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এসেছে, যাতে জনগণ তাদের সরকার বেছে নিতে পারে।
আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেটের ওপর বিশ্বাসী জানিয়ে দলটির প্রধান বলেন, ‘জনগণ ঠিক করবে কে দেশ চালাবে। এটা জনগণের ক্ষমতা। আমাদের সরকার জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ আওয়ামী লীগ সব সময়ই দেশে ওয়েস্ট মিনস্টার স্টাইল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারাই পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায়, তারা পাঠাতে পারবে।’
আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ, ভীতিহীন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ যাতে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, সে লক্ষ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে আমাদের সরকার সদা প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আইন, ২০২২-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে আমাদের সরকার যা যা আবশ্যক সেসব বিধি প্রণয়ন করবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করে যাবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে যা যা করার তার সবকিছু করবে।
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিন যুগ ধরে সংসদে আমি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিরলস কাজ করছি। বাংলাদেশের জনগণই আমার শক্তি, প্রেরণা। বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে সদা প্রস্তুত আমি।’
বগুড়া-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের আওতায় ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৭০১ গবেষককে ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। এতে তাদের ১১৫ কোটি ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ টাকা দেয়া হয়।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করি এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদা হানিকর কোনো হীন উদ্দেশ্যকে আমি কখনোই প্রশ্রয় দেব না।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বক্তব্যের পর আমি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে পদ্মা সেতুর বাঁধাই করা একটি চিত্রকর্ম উপহার প্রদান করি। বিশ্বব্যাংক আমাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল তারা তা বুঝতে পেরেছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের প্রতি তাদের অব্যাহত আস্থা ও সহায়তার পরিচায়ক।’
জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ক্যাপশনে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।
সূচি অনুসারে, সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তিনি এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরের কর্মসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টেক্সটাইল খাতের চাহিদা পূরণে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তৈরি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের অ্যালামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি টেক্সটাইলকে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন দেশে ও বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে একদিকে দেশের দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে তুলার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজে বের করা এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
পাশাপাশি পাট, আনারসের পাতা, কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ ও সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, বিসিএস (টেক্সটাইল) নামে আলাদা ক্যাডার সৃষ্টি, বাজেট সম্প্রসারণ এবং ঢাকার পূর্বাচলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপাচার্য আগামী বছরের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর’-কে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি, পলাতক অপরাধী বা গণহত্যাকারীকে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।
শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠানের বিষয়ে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার গুঞ্জন আছে— এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত পাওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী দেশকে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। আমাদের অবস্থান পরিস্কার।
দুর্গাপূজা সম্পর্কে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মন্ত্রী বলেন, এবারে দুর্গাপূজায় ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। অতীতে বিগত ১৫-১৭ বছরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনাশের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই সমস্ত অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে পেরেছে এবং সকলের সহযোগিতায় সামনের দিনেও এ রকম পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এবারে দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সংখ্যক পূজামণ্ডপ হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার পূর্বে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতো। এবার যা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া এবার পূজায় ৫ দিন ছুটি ছিল। পূজামণ্ডপেও চালের বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত ১৭ বছর সরকারিভাবে প্যাট্রোনাইজ করে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখরা তৈরি করা হয়েছে। এটা কে নির্মূল করবে। দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার। আমরা এই বছরে ২০ হাজার লোক নিয়োগ দেব।
কিন্তু আমাদের একসঙ্গে ২০ হাজার লোক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো জায়গা নেই।
এখন নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।
একটা দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট ভূমিকা নেই। আপনারা সবাই মিলে যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে দেশ আগাবে না।
দেশের শান্তি-সম্মৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে।
রোববার দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে নানা নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত থাকবে। আপনারা জানেন কার ছেলে কি করে। তাই আপনাদের তথ্যের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরত্ম্য কমবে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে। যারা গুজব ও মব প্রতিরোধে কাজ করবে বলে জানান আইজিপি।
দেশে যুবকদের অপরাধে জড়ানোর কারণ হিসেবে বেকারত্বকে দায়ী করে আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রতি বছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যোগ হচ্ছে। এদের ভেতরে হতাশা এবং যে জীবনী শক্তি আছে তা আমরা ব্যবহার করতে পারছি। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করছে না। তারা টাকা ব্যংকে রেখে দিচ্ছে। বিনিয়োগ না করলে কর্মসংস্থান তেরি হবে না।
মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি মাদকের কারণে। আগে ঘর পরিস্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিস্কার হবেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান পুলিশ প্রধান।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আইজিপি বলেন, গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোনো ভাবনা নেই।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায়, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিসেস পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
পরিবেশগত সংকটাপন্ন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। তবে দ্বীপের নাজুক প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেখানে যাতায়াত করতে পারবেন। রবিবার এ সংক্রান্ত নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব শর্ত চূড়ান্ত করা হয়। অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে কোনো অবস্থাতেই দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা গড়ে সাড়ে তিন হাজার অতিক্রম করতে পারবে না।
একই সঙ্গে দ্বীপে ভ্রমণকারী প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি-২৬ অনুযায়ী এই ফি সংগ্রহের যাবতীয় প্রক্রিয়া তদারকি করবে। এ ছাড়া নৌপরিবহন ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে; পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট পূর্বানুমতি ছাড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তর কিংবা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সেন্টমার্টিন রুটে কোনো নৌযানের অনুমোদন দিতে পারবে না। পর্যটক পরিবহনে কেবল নির্ধারিত দুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই অনুমোদিত জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।
পর্যটক নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত এসব শর্তাবলি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং জেলা ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার সকালে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে অসুস্থ মন্ত্রীর চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মন্ত্রীর চলমান চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ভূমিমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ২১ অক্টোবর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথমে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নিবিড় চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার স্বার্থে তাঁকে ঢাকায় এনে ভর্তি করা হয়।
মন্ত্রীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নাজমুল হক জানান, নিয়মিত সেবন করা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেই মন্ত্রীর শরীরে আকস্মিক রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন।
ইউরোপের দুই দেশ স্পেন ও যুক্তরাজ্যে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার (২৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এই কূটনৈতিক সফর অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সুদৃঢ় করা এবং সাংস্কৃতিক সংযোগকে কাজে লাগানোর যে মূল লক্ষ্য রয়েছে, তার বাস্তবায়নে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। সফরকালে প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব আলোচনায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটন খাতের প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো অগ্রাধিকার পাবে।
সফরের সূচনাতেই আগামী ২৬ অক্টোবর স্পেনের সেভিল শহরে ‘তৃতীয় স্পেন-বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ‘স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ কর্তৃক আয়োজিত এই প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দৃঢ়তর অংশীদারিত্ব, অভিন্ন সমৃদ্ধি’। মূলত স্পেনের স্থানীয় উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সুদৃঢ় সংযোগ স্থাপনই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।
স্পেনের কর্মসূচি সমাপ্ত করে আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সফর করবেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তাঁর কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব পাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির প্রসার ঘটানো, বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মৈত্রীর পরিধি বাড়ানো এবং দেশের সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশের নতুন সুযোগ অন্বেষণ করা। ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, বিনিয়োগ আহরণ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা গভীর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রত্যয়ই এ সফরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে।
টোকিওর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ়করণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বৃহৎ পরিসরে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আয়োজিত এ সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়গুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টোকিওর উদ্দেশে যাত্রা করবেন সরকারপ্রধান।
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বৈঠকে বিদ্যমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে মিলিত হবেন।
এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। পাশাপাশি একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল, বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বহুজাতিক পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় এবং গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, সফরকালে কৃষি, মৎস্য খাত, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে একাধিক সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ছাড়াও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার মতো আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা, সরকারপ্রধানের এ সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সংহত হবে এবং বাংলাদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও জাপানি বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা, আর সেই খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু আমদানি করা চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং পরীক্ষায় ক্ষতিকর ছত্রাকজাত বিষ আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে এই উপাদান শনাক্ত হওয়ার খবরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণায় বাংলাদেশ ও ভারতের বাজারের চালেও আফলাটক্সিনের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা কোনো একটি দেশ বা নির্দিষ্ট চালের চালানে সীমাবদ্ধ নয়। উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা হলে চালসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যে ছত্রাক জন্মাতে পারে। এর ফলে তৈরি হতে পারে আফলাটক্সিন, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি ও ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও খাদ্যশস্যে ছত্রাকজাত বিষের উপস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, পরে ধরা পড়ল বিষ: ভারত থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় আমদানি করা চালের চালানটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে মান যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ জুলাই ২০২৬ চালবোঝাই এমভি এইচটি পাইওনিয়ার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে চালকে খাবার উপযোগী বলা হলে ২৪ ও ২৫ জুলাই তা খালাস করা হয়। পরে বিভিন্ন খাদ্যগুদামে চাল পৌঁছানোর পর রং পরিবর্তন, দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের অভিযোগ ওঠে।
১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চালের মান নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ স্থগিত করা হয়েছিল। এর আগে ৯৮৪ টন নিম্নমানের চাল ফেরত পাঠানোর তথ্যও প্রকাশিত হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসে।
এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রথম পরীক্ষায় চালকে খাবার উপযোগী ঘোষণা করার পরও পরবর্তী পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান ধরা পড়ল কেন? নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা, চালের সংরক্ষণব্যবস্থা এবং সরবরাহকারীর মান নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই এখন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য দেশেও চালের নমুনায় আফলাটক্সিন: চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একক কোনো সমস্যা নয়। বিভিন্ন দেশের গবেষণায় খাদ্যশস্যে এই ছত্রাকজাত বিষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার ফলাফল নির্দিষ্ট নমুনা, অঞ্চল ও পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত; এগুলো দিয়ে কোনো দেশের সব চালকে অনিরাপদ বলা যায় না।
২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ভারতের হায়দরাবাদের স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত চালের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় ৫৪ শতাংশ নমুনায় আফলাটক্সিন বি১ এবং ৩৪ শতাংশ নমুনায় বি২ শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। তিনটি নমুনায় মোট আফলাটক্সিনের মাত্রা ভারতের নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সীমা ছাড়িয়েছিল। গবেষণাটি হায়দরাবাদের নির্দিষ্ট নমুনার ওপর পরিচালিত; এটি ভারতের সব চালের প্রতিনিধিত্ব করে না।
স্থানীয় বাজারের চালেও ঝুঁকির প্রমাণ: বাংলাদেশি গবেষক নুরশাদ আলীর ২০১৯ সালের পর্যালোচনায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বাংলাদেশের বাজারের চালসহ এশিয়ার একাধিক দেশের চাল ও চালজাত পণ্যে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। অর্থাৎ, আমদানি করা চালের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব উৎপাদন, গুদামজাতকরণ ও খুচরা বাজারের চালও নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় রাখা প্রয়োজন।
চীন, ইরান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: বিভিন্ন সময়ের গবেষণায় চীন, ইরান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশের চালের নমুনায় আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট নমুনার মাত্রা প্রযোজ্য সীমার চেয়েও বেশি ছিল। এসব তথ্য দেখায়, এটি আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তার একটি স্বীকৃত সমস্যা; তবে বিভিন্ন দেশের পরীক্ষার পদ্ধতি, নমুনার ধরন ও আইনি সীমা এক নয়।
আফলাটক্সিন কী, কেন বিপজ্জনক: আফলাটক্সিন এক ধরনের মাইকোটক্সিন—অর্থাৎ নির্দিষ্ট ছত্রাকের তৈরি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। Aspergillus flavus ও Aspergillus parasiticus গোত্রের ছত্রাক থেকে এটি তৈরি হতে পারে। ধান, চাল, ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যে অনুকূল আর্দ্রতা ও তাপমাত্রায় এসব ছত্রাকের বৃদ্ধি ঘটতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফলাটক্সিনের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে তীব্র বিষক্রিয়াও হতে পারে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, খাদ্যে ছত্রাকের উপস্থিতি সব সময় খালি চোখে বোঝা যায় না এবং প্রচলিত রান্নার তাপে এই বিষ নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না। তাই চালের রং, গন্ধ বা বাহ্যিক চেহারা দেখে একে সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা যায় না। আবার চালের রং পরিবর্তন বা দুর্গন্ধ থাকলেই নিশ্চিতভাবে আফলাটক্সিন রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া যায় না। বিষের উপস্থিতি ও মাত্রা নির্ধারণে প্রয়োজন উপযুক্ত পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশের সরকারি খাদ্য বিতরণব্যবস্থা নিয়ে ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় চাল ও গমে আফলাটক্সিন, আর্সেনিক, ছত্রাক ও আর্দ্রতার মতো বিষয় পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষণাটিতে সামগ্রিকভাবে গুরুতর দূষণের মাত্রা ব্যাপকভাবে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্দ্রতাকে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরশাদ আলীর বলেছেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ও ঝুঁকি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট চাল আলাদা ও নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে স্বীকৃত স্বাধীন পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠিয়ে আফলাটক্সিনের মাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বন্দরে প্রাথমিক নমুনা পরীক্ষা নয়, ঝুঁকিভিত্তিকভাবে চাল খালাস ও গুদামজাত করার পরও মান যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমদানি করা চালের পাশাপাশি স্থানীয় মিল, পাইকারি বাজার, খুচরা দোকান এবং সরকারি খাদ্যগুদামের চালও নিয়মিত নমুনা পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।
ভারত থেকে আমদানি করা চালের একটি অংশে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়ার ঘটনা শুধু একটি চালানের মান নিয়ে প্রশ্ন নয়; এটি খাদ্য পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা, গুদাম ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নজরদারির কার্যকারিতা যাচাইয়েরও সুযোগ। আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিভিন্ন দেশের চালের নমুনায় একই ধরনের বিষের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য সমস্যাটির বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরে।
বাংলাদেশে চাল কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য। তাই আমদানি করা হোক কিংবা দেশীয় উৎপাদন—কোনো চালই যথাযথ পরীক্ষা ও মান যাচাই ছাড়া মানুষের খাদ্য হিসেবে বিতরণ করা উচিত নয়। দ্রুত ও স্বচ্ছ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, সন্দেহজনক চালের নিরাপদ নিষ্পত্তি এবং নিয়মিত বাজার নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য বিতরণব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও বাড়বে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, ইসলামের ধারক-বাহক ইমাম ও আলেমদের জন্য রক্ত দিতে হলেও পিছপা হব না।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ দেশের ইমাম-আলেম, কওমি ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, যারা ইসলামের ধারক-বাহক; তাদের জন্য যদি গায়ের রক্ত দিতে হয়, তবে রক্ত দেব, দ্বিধা করব না ইনশাআল্লাহ।
অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে কেউ যাতে উসকানি দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
একই সঙ্গে জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সমাজে ইমামদের গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করে এসব অপরাধ প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির নেতারা ইমামদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত জমা পড়া ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ৮৪২টি সংশোধন আবেদনের মধ্যে ৬৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৩২টি নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।
তবে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির পরও এখনো অপেক্ষমাণ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আবেদন।
অন্যদিকে, বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৭টি আবেদন।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও আবেদন নিষ্পত্তি, অযৌক্তিক আবেদন বাছাই এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আবেদন নিষ্পত্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত জমা পড়া এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ায় কিছু আবেদন অপেক্ষমাণ থাকছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংশোধনের অযোগ্য আবেদন এবং একই বিষয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুনরায় আবেদন করার প্রবণতা।
‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ প্রায় ৭০ হাজার আবেদন
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৯টি আবেদন। এছাড়া ২০২৫ সালের একই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষমাণ আবেদন রয়েছে ৯৮৩টি। সব মিলিয়ে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা ৬৯ হাজার ২৫২টি।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ঢাকা অঞ্চলে ১০ হাজার ৬১৫টি, ফরিদপুরে ৫ হাজার ১৪০টি, খুলনায় ৫ হাজার ৮৭১টি, ময়মনসিংহে ৮ হাজার ৩৩২টি এবং রংপুরে ৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এছাড়া সিলেটে ৬ হাজার ৪৬৯টি, রাজশাহীতে ৬ হাজার ৮৭৫টি, বরিশালে ৪ হাজার ২২৬টি, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৬৮৮টি এবং কুমিল্লায় ১০ হাজার ৫৫৯টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান বলছে, অপেক্ষমাণ আবেদনের চাপ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ফলে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আবেদন নিষ্পত্তিতে কমানো হয়েছে সময়সীমা, প্রশাসনিক ধাপ
এনআইডি সংশোধন কার্যক্রমে গতি আনতে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইসি।
পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকেরা নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আবেদন নিষ্পত্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ভুলভাবে কাজ করা। এমনভাবে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন না পড়ে।
তিনি বলেন, অতীতে অযৌক্তিক আবেদনগুলো সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। এখন যুক্তিসংগত নয়—এমন আবেদন বাতিল করা হচ্ছে এবং প্রতিটি আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইসি সচিবের ভাষ্য, সংশোধন আবেদনের মধ্যে এমন অনেক আবেদন রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজন আর নেই। আবার বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের কিছু আবেদনেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের অসংগতি পাওয়া যায়। এসব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
জন্মতারিখ সংশোধনে নতুন নজরদারি
এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষাসনদকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে ইসি। গত ১৩ আগস্ট জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাসনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ প্রযোজ্য নয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার অন্তত তিনটি আবেদন যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
গত ১৩ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের প্রতিবেদন ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরের মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনে সিদ্ধান্তের যথার্থতা ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
অযোগ্য আবেদন বাতিল, বয়সের অসংগতিতে কঠোর যাচাই
এনআইডি সংশোধনের অপেক্ষমাণ আবেদন ও বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনেক আবেদন রয়েছে যেগুলো সংশোধনযোগ্য নয়। বয়স সংশোধনের ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায়, বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১০ বছর। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশোধনের পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সময় বয়স ১৮ বছরের কম ছিল। এ ধরনের অসংগতি থাকলে আবেদন বাতিল করা হয় বলে জানান তিনি।
সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো আবেদন একটি ক্যাটাগরিতে বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য ক্যাটাগরিতে আবার আবেদন করেন। এতে একই ধরনের আবেদনের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেশি বলে মনে হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সেবার মানসিকতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও নিষ্পত্তির অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
জালিয়াতি রোধে কঠোর অবস্থান, আসছে প্রযুক্তিগত উদ্যোগ
এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে সোপর্দ করা হচ্ছে। কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকলে তভদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে জালিয়াতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে একটি প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।
ইসি সচিবের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা গেলে এনআইডি-সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে, সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক করছে এনআইডি বিভাগ। এ বিষয়ে হেল্পডেস্ক থেকেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।
নির্ভুল নিবন্ধনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ার বাস্তবতায় কেবল নিষ্পত্তির গতি বাড়িয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিবন্ধনের সময় তথ্য যাচাই জোরদার করা, আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা এবং সংশোধনের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা মনে করেন, ৬৪ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তির সাফল্যের পর এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে বড় পরীক্ষা—অবশিষ্ট আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন কমিয়ে নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও মানুষের জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে সুশীল সমাজের প্রণীত কপ ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থানপত্র প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অর্ধশতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। এর অন্যতম শিকার নারী ও শিশুরা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের ভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বহু মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। এ কারণে জলবায়ুজনিত অভিবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও অভিযোজন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পে সম্পদের পুনর্ব্যবহার ও চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা, উপকূলে ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টি ও পুনরুদ্ধার, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ। পাশাপাশি কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজও চলছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায় করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জলবায়ু অর্থায়নের রোডম্যাপ তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও মানুষের জন্য তহবিলের অর্থপ্রাপ্তি সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সংগৃহীত নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণার ফলাফল বিশ্বপরিসরে তুলে ধরতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে কপ ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থানপত্র তৈরিতে অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে ধন্যবাদ জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। আসন্ন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি জানান, আসন্ন কপ ৩১-এ বাংলাদেশের ‘সোনালি সুতো’ পাটকে পরিবেশবান্ধব, জৈব অবক্ষয়যোগ্য ও প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে তুলে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি জুট প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে। পাটের তৈরি শৈল্পিক পণ্যের প্রচার ও বাণিজ্যিক প্রসারে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিক সমাজ, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এসে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবিধান বিশেষজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করেছিল। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সে পথে হাটবে না।
তিনি আরো বলেন, আজকের বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-আর্টিকেল ৭০-প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া আইন, শাসন ও বিচার বিভাগসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বাধীনতা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।