সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপির আমলে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো বিতর্কিত নির্বাচন কখনো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়নি এবং হবেও না।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সফরে সুইজারল্যান্ড অবস্থান করছেন। তার লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতা দখল করতে আসেনি, বরং জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এসেছে, যাতে জনগণ তাদের সরকার বেছে নিতে পারে।
আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেটের ওপর বিশ্বাসী জানিয়ে দলটির প্রধান বলেন, ‘জনগণ ঠিক করবে কে দেশ চালাবে। এটা জনগণের ক্ষমতা। আমাদের সরকার জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ আওয়ামী লীগ সব সময়ই দেশে ওয়েস্ট মিনস্টার স্টাইল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যারাই পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায়, তারা পাঠাতে পারবে।’
আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যাতে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ, ভীতিহীন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ সহায়তা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ যাতে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, সে লক্ষ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন স্বাধীন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে আমাদের সরকার সদা প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আইন, ২০২২-এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে আমাদের সরকার যা যা আবশ্যক সেসব বিধি প্রণয়ন করবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করে যাবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে যা যা করার তার সবকিছু করবে।
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিন যুগ ধরে সংসদে আমি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিরলস কাজ করছি। বাংলাদেশের জনগণই আমার শক্তি, প্রেরণা। বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে সদা প্রস্তুত আমি।’
বগুড়া-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপের আওতায় ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৭০১ গবেষককে ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। এতে তাদের ১১৫ কোটি ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ টাকা দেয়া হয়।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করি এবং দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের মর্যাদা হানিকর কোনো হীন উদ্দেশ্যকে আমি কখনোই প্রশ্রয় দেব না।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বক্তব্যের পর আমি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে পদ্মা সেতুর বাঁধাই করা একটি চিত্রকর্ম উপহার প্রদান করি। বিশ্বব্যাংক আমাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল তারা তা বুঝতে পেরেছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের প্রতি তাদের অব্যাহত আস্থা ও সহায়তার পরিচায়ক।’
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাটি মূলত একটি বিতর্কিত জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে ঘটেছে এবং প্রাথমিকভাবে তিনি এই ঘটনার ভিকটিম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও সামগ্রিক বিষয়াদি খতিয়ে দেখতে পুলিশের গভীর তদন্ত চলছে এবং এ নিয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাস্থলটি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদী নামাপাড়া এলাকায় অবস্থিত। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে একটি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই সাবেক সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের কিছু লোক রাতের আঁধারে জায়গাটি দখল করতে গেলে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সম্পত্তির মধ্যেই সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড কাঠামো ছিল, যা তিনি কনটেন্ট তৈরির স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করতেন এবং দখলচেষ্টার সময় সেই স্থাপনাটিতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ঘটনার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ তথ্য পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেখান থেকে গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সালমান মুক্তাদির সামাজিক মাধ্যমে এসে চাঁদা না দেওয়ার কারণে ভাঙচুরের অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা করেননি। এমনকি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর কাছে কেউ সরাসরি চাঁদা দাবি করেনি। ফলে কোনো দলের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সালমান মুক্তাদির যদি সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তবে পুলিশ তা তদন্ত করে দেখবে। বিরোধপূর্ণ জমি দখল ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও নিয়োগপত্র না পাওয়ার প্রতিবাদে এবং অনতিবিলম্বে তা প্রদানের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রার্থীরা। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। 'সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ' ব্যানারে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেখানে প্রাথমিক জমায়েত শেষে একটি সুশৃঙ্খল মিছিল নিয়ে তাঁরা শাহবাগের দিকে অগ্রসর হন এবং সড়কে বসে পড়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে রবিবারের এই অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশনের পর অধিকাংশকে যোগদান করানো হলেও অন্তত দুই হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এখনো আটকে রাখা হয়েছে।
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ নতুন উন্নয়নযাত্রা শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেছেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন-এই তিন ‘আর’ (থ্রি-আর) কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের দ্বার উন্মুক্ত করতে প্রবাসী পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ড. তিতুমীর বলেন, ‘আপনাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগও বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। আসুন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তর করি।’
সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিগণ অংশ নেন। সূত্র: বাসস
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিরক্ষা খাত, নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ ঢাকা ও আঙ্কারার মধ্যকার বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় সফর বিনিময় এবং বাংলাদেশে তুর্কি কোম্পানিগুলোর নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এছাড়া তুরস্কের আনতালিয়া শহরে অনুষ্ঠাতব্য বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-৩১’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে আয়োজিতব্য ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্মেলন’-এ আঙ্কারার প্রতিনিধিদলকে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে সরকারি সফর সমাপ্ত করে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ রাষ্ট্রীয় সফরের নানা কূটনৈতিক অর্জন তুলে ধরে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সফল। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমেরিকা থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার কঠোরভাবে এসব দমন করবে।’ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের বক্তব্য সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে সাদরে গ্রহণ করেছেন।’
বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় ভিড় পরিহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রেসসচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী জনসমাগম পছন্দ করছেন না এবং এটিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক রূপান্তর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, পাঁচ দিনের এই ব্যস্ত সফরে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌম মর্যাদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন সরকারপ্রধান। সাধারণ পরিষদে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে আজ সকালে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু আজ সকালে এ কথা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি আজ সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।
নিউইয়র্কে চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
ঢাকা ফেরার আগে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, ইউএনজিএর সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরকালে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেন। এগুলোর মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান। সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, মানুষের অস্তিত্ব, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবনধারণের সঙ্গে জীববিজ্ঞানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে এ বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জ্যুলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক শর্ত খাদ্য। আর খাদ্যসংস্থান সরাসরি উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল। মাছ, মাংস ও উদ্ভিদজাত খাদ্য মানুষের পুষ্টি ও জীবনধারণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে মানুষের খাদ্য ও জীবনব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, রাজনীতি বা তাত্ত্বিক আলোচনার বাইরে সাধারণ মানুষের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং সন্তানদের সুশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের বাস্তব সুফল মানুষের কাছে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
চীফ হুইপ বলেন, নদী, হাওর, বন, পাহাড়, জলাভূমি ও সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতির আবাসস্থল। দেশের এই সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রাণী ও উদ্ভিদকূলের সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং টেকসই গবেষণার মাধ্যমে তরুণরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সম্মেলনে দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ড. মো. খালেদ কানাক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে গবেষকগণ ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে সই করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে রেহান আসাদও চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সমঝোতায় পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশই পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, উন্নত পারমাণবিক চুল্লি প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরেও পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে ছোট আকারের আধুনিক পারমাণবিক চুল্লি প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে। এ ধরনের চুল্লি তুলনামূলক কম জায়গায় স্থাপন করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে। জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এ প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৮১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুই দেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক ব্যবহারে সহযোগিতার একটি চুক্তি সই করেছিল। পরবর্তী সময়ে ওই সহযোগিতার মেয়াদ বাড়ানো হলেও একপর্যায়ে তা আর নবায়ন হয়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন সমঝোতা সইয়ের ফলে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতা নতুন কাঠামোতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি চুল্লি রয়েছে। দুটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
রূপপুর প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ চিকিৎসা, কৃষি, খাদ্য সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শিল্প খাতেও পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বাড়াতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও তদারকির আওতায় থেকেই এসব কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে আসছে বাংলাদেশ।
নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির সমতুল্য নয়। সমঝোতা স্মারক মূলত দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ভিত্তি তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পারমাণবিক জ্বালানি, সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বর্তমান সমঝোতাকে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতার একটি প্রাথমিক ও কৌশলগত কাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সহযোগিতার গুরুত্ব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষ জনবল, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা ও কৃষিতে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিরাপত্তা, পরিবেশগত ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করাই হবে মূল বিষয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সফরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সফরের চারদিনে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকসহ প্রতিনিধিদলের প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হয়।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমিত আকারের প্রতিনিধিদল নিয়ে নিউইয়র্ক সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল আউটপুট বা ফলাফল দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং এ খাতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক প্রভাব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দুই দেশই ক্রমবর্ধমান জাতীয় জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক শক্তির অপরিহার্য ভূমিকা স্বীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সুরক্ষা মানদণ্ড, সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে।
সমঝোতার রূপরেখা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় রাষ্ট্রই ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পক্ষভুক্ত দেশ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সার্বিক সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকল বাস্তবায়নে দুই দেশই দায়বদ্ধ। দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় বৈচিত্র্য আনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ নতুন সমঝোতায় পৌঁছাল ঢাকা। উল্লেখ্য, রাশিয়ার সহায়তায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সাধারণ জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ। তবে এবারের সমঝোতাটি প্রথাগত জ্বালানি বাণিজ্যের বাইরে গিয়ে একান্তভাবেই পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ গবেষণা ও টেকসই ব্যবহারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ, ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের জন্য ৯২ জনকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে। জনগণের শান্তি বিনষ্ট হয়, এমন কোনো কাজ সহ্য করা হবে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দেশবাসী জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের শক্তি আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা বেশি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে আরও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে কঠোর হতে হবে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুলিশের কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে বা অন্যভাবে সহযোগিতা করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা ও দায়িত্বে অবহেলা করার ঘটনাও আছে। ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা ১ মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, জনগণ তাদেরকে পুনরায় আর আহ্বান জানাবে না। এ ঘটনায় তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি।
সরকার তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জন-আকাঙ্ক্ষা, ব্যাপক জনপ্রত্যাশা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর গঠিত বর্তমান সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবার কাছে সরকারের একটাই বার্তা— সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনপ্রত্যাশা পূরণের জন্য পুলিশকে কঠোর হতে হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি তারা অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীকেও অপব্যবহার করেছে, তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে, তাদের দিয়ে নির্যাতন করিয়েছে ও তাদেরকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। অনেকে এই অবৈধ নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন আমরা এটি চাই না।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। সূত্র: বাসস
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্যের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।
তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম বাঙালি জাতির চেতনা, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। এটি নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।
আজ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সাম্যের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগীরা কবিতা আবৃত্তি, নজরুল সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় বিজয়ীরা পুরস্কার পেয়ে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম তারেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাইমা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাদ্দাম হোসেনসহ প্রমুখ।
এর আগে, এদিন বিকালে তথ্য প্রতিমন্ত্রী সুন্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন এবং রাজগাতী ইউপি উলহাটি বাজার সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এতে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অনন্য সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ অবদান, জনসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন এবং প্রশংসনীয় উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মনোনীত পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে এ পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর আগে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাহসিকতা ও সেবামূলক অনন্য অবদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট চারটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে মনোনীত কর্মকর্তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ক্যাটাগরিগুলো হলো—‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের অনুপ্রেরণা জোগাতে প্রতি বছর এ পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।