১৪ ও ১৫ জুন অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’-এ যোগদান শেষে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। খবর বাসসের।
ফ্লাইটটি এর আগে জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট) যাত্রা করেছিল। এর আগে ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী সুইজারল্যান্ডে চার দিনের সরকারি সফরে জেনেভা যান।
১৪ জুন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ইউএনএইচসিআর প্রধান ফ্লিপো গ্র্যান্ডি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বাসস্থানে সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্যালাইস ডি নেশনস-এ সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেইন বারসেটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সেখানে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী প্যালাইস ডি নেশনস-এ ‘ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট ২০২৩’ এর প্লেনারিতে ভাষণ দেন। শেখ হাসিনা মাল্টার প্রেসিডেন্ট ডক্টর জর্জ ভেলার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এরপর আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হাউংবোর সঙ্গে বৈঠক করেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী আইএলও এর সদর দপ্তরে ডিজি কর্তৃক আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নৈশভোজে যোগ দেন।
১৫ জুন তিনি ডব্লিউইএফ কার্যালয়ে এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে একটি বৈঠকের পর ‘এ টক এট দ্য ডব্লিউইএফ’ এ যোগদান করেন।
সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ‘নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটি ইন স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সন্ধ্যায়, ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক ড. ওকোনজো-আইওয়ালা তার বাসস্থানে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সন্ধ্যায় একটি সামাজিক সংবর্ধনায়ও যোগ দেন।
‘দ্য ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট ২০২৩: সকলের জন্য সামাজিক ন্যায়’ হলো সামাজিক ন্যায়বিচারকে সমর্থন করার জন্য বিস্তৃত, সমন্বিত এবং সুসঙ্গত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা মোকাবিলায় সোচ্চারদের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈশ্বিক ফোরাম।
এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য একটি বৈশ্বিক জোট গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও অবহিত করার একটি সুযোগ দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রম অফিসের ৩৪৭ তম অধিবেশনে গভর্নিং বডি স্বাগত জানিয়েছে।
সম্মেলনে বেশ কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের অতিথিদের পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
দু’দিনের শীর্ষ সম্মেলনে আরও টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব গড়তে সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল ভূমিকা তুলে ধরে এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে এবং নীতির সুসঙ্গততা নিশ্চিত করার জন্য বর্ধিত এবং আরও ভালো ভাবে সমন্বিত যৌথ পদক্ষেপের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, তাই দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাকালে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নির্বিঘ্ন বাণিজ্য সম্পর্ক নিশ্চিতকরণ এবং দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের বাজারে এখন বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। এই সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও অনুরূপ আলোচনা করতে চায়, যাতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য প্রধান রপ্তানি পণ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
ইউরোচ্যাম চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ প্রধান উপদেষ্টার এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের পর ইইউ বাজারে বিদ্যমান সুবিধাগুলো হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, একটি শক্তিশালী বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশে আরও বেশি ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। লোপেজ উল্লেখ করেন যে, ভারত ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে চুক্তির পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে এ ধরনের একটি চুক্তি কার্যকর থাকায় তারা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, ইউরোচ্যাম ইউরোপের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে কাজ করে যাবে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বৈঠকে জানান যে, এলডিসি উত্তরণের পর ২০২৯ সালের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধরনে কোনো বড় পরিবর্তন আসবে না। তবে প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার এই বিশাল বাজারকে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে ইইউ। তিনি ২০২৬ সালে একটি ‘ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসার আগে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা চায়, যাতে তারা এখানে সমান সুযোগ ও সুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি দক্ষ শ্রমশক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ের ভাণ্ডার। সরকার দেশজুড়ে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে এবং লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা।
নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং গত ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার দাবিতে সারা দেশে একযোগে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ডাকে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এই দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ফলে সকালের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারা দেশের দাপ্তরিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতিপূর্বেই একটি কমিশন গঠন করেছিল এবং সেই কমিশনের সুপারিশ সম্বলিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিবেদন জমা পড়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকার তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে গড়িমসি করছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা কর্তৃক এই কমিশনের সুপারিশ বর্তমান সরকারের মেয়াদে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে দেওয়া বক্তব্যে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
আজকের এই দুই ঘণ্টার কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় প্রতিটি সরকারি দফতরে কর্মচারীরা কাজ ফেলে অফিসের সামনে অবস্থান নেন। তারা সাত দফা দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবি মানার আহ্বান জানান। সকালের ব্যস্ত সময়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, নির্বাচন অফিসসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে আসা সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে আসা অনেক নাগরিককে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, গত ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সভার মাধ্যমে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিন এই দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার এবং আগামী মঙ্গলবারও একই সময়ে অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে এই বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও কর্মচারীরা তাদের দাবির প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছেন, যা আগামী দিনগুলোতে সরকারি দাপ্তরিক কাজে আরও বড় ধরণের স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বলেছে, গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে জানুয়ারিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে অজ্ঞাত লাশের সংখ্যাও।
শনিবার এমএসএফের দেওয়া জানুয়ারি মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদন এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং নিজেদের অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।
মব সন্ত্রাসে মানুষ হত্যার ঘটনা এ সরকারের আমলে বেড়েছে উল্লেখ করে এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মব বা গণপিটুনির ২৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ জন। গত ডিসেম্বরে এ ধরনের ২৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১০ জন।
এমএসএফ বলেছে, ‘গণপিটুনির ঘটনায় জানুয়ারিতে নিহত ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।’ মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, আইন অবজ্ঞা করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধ, যা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি জানুয়ারি মাসে ৫৭টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে। ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৪৮। এমএসএফ বলেছে, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া সমাজে সহিংসতা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার আশঙ্কা জোরদার করে। এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে কারা হেফাজতে ৯ জন মারা গেলেও এ মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে হেয়েছে ১৫।
বেড়েছে মামলায় আসামির সংখ্যা
এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে অর্ধেকে নেমে এলেও (১৬ থেকে ৮), সরকার পতনের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় শেখ হাসিনা–সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে, জানুয়ারিতে নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৩০ থেকে বেড়ে ১২০ এবং অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ১১০ থেকে বেড়ে ৩২০ হয়েছে। এমএসএফ বলছে, ‘এ অবস্থা আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণমামলার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।’
রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা
রাজনৈতিক সহিংসতায় জানুয়ারি মাসে আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে আহতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমএসএফ বলছে, ‘দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত ও আহতের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাজনৈতিক সহিংসতার নৃশংসতা বৃদ্ধির দিকটি নির্দেশ করে। নির্বাচনী সহিংসতা ছিল জানুয়ারি মাসের অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট।’
জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ থেকে ৪ হয়েছে। এ অবস্থা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নির্দেশ করে বলে মনে করে এমএসএফ। মানবাধিকার সংগঠনটি আরও বলেছে, ‘এটি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কার্যত প্রাণঘাতী সহিংসতার দিকে যাচ্ছে।’
সংখ্যালঘু নির্যাতন
জানুয়ারি মাসে বেড়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাও। এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘর ভাঙচুর, মামলাসহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। অথচ ডিসেম্বরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ৪টি।
এমএসএফ বলছে, ‘সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড ও হামলার ঘটনা জানুয়ারি মাসে স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।’
এ ছাড়া চলতি জানুয়ারি মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া এসব বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এমএসএফ বলেছে, ‘নির্যাতনে মৃত্যুর সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় স্পষ্ট হয় যে হেফাজতে নির্যাতন এখনো একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান।’
সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে এমএসএফ বলেছে, জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও জটিল, সহিংস ও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। প্রায় সব প্রধান মানবাধিকার সূচকেই জানুয়ারি মাসে ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, মানবাধিকারের এ চিত্র রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ধারাবাহিক প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘মানবাধিকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবনতি দেখছি আমরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জানমালের নিরাপত্তা ও অপরাধ কমানো—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। কিন্তু আমরা দেখেছি জানুয়ারি মানে এসব দায়িত্ব পালন বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যা বাড়ানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল কাজ হয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে এসে এই চর্চা তারা দেখাচ্ছে।’
এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘সেই সঙ্গে বাড়ছে অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা, মব সন্ত্রাস। কিন্তু এসব প্রতিরোধে কোনো চেষ্টা তো নেই-ই, বরং সরকারের কোনো কোনো মহল থেকেই মব সন্ত্রাসের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি জায়গা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গণভবনের পাশেই নির্মাণ করা হবে এই বাসভবন। ইতোমধ্যে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চূড়ান্ত মতামত নিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন’ তৈরির কাজ শুরু করতে চায় গণপূর্ত অধিদপ্তর।
তবে সেটি তৈরি হতেও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। সে সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ অথবা সংসদ ভবনসংলগ্ন স্পিকারের বাসভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান হিসেবে নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। এটি নির্ভর করবে হবু প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ওপর। তিনি চাইলে স্পিকারের বাসভবনের সঙ্গে লাগোয়া ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকেও যুক্ত করে দেওয়া হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পরই শপথ নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে শেরেবাংলানগরের ‘গণভবন’ নির্ধারিত ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে তৈরির উদ্যোগ নেয় এবং জাদুঘর তৈরির কাজ এখন শেষের পথে।
প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন যে এলাকায় নির্মিত হচ্ছে, তাতে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নকশায় কোনো ব্যত্যয় হবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে স্থাপত্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশের দাবিতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে ২ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান, বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
৯ম পে-স্কেল ও ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।
৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসান।
সমাবেশে উপস্থিত জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ‘গত ৭ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরেও সরকার কর্মচারীদের দাবি আমলে নিচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর তারিখে লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আশা করা হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, কিন্তু তা হয়নি।
২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট প্রদানের পর অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের নামে কালক্ষেপণ করছেন। এছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টা তার এক মন্তব্যে ‘বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন স্তিমিত রাখতে কমিশন গঠন করা হয়েছিল’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।’
বক্তারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘কর্মচারীরা বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই অবিলম্বে বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে ১৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।
একইসাথে ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ব্লক পোস্টে কর্মরতদের ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান, কারিগরি কাজে নিয়োজিতদের টেকনিক্যাল মর্যাদা দান, চাকরির শেষ ধাপে উন্নীতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, উন্নয়ন প্রকল্পের চাকুরীকাল গণনার বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল, রেশন পদ্ধতি চালু এবং সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তরে এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন।’
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন, ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদসহ জোটভুক্ত ৩৫টিরও বেশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার বলেন, শুধুমাত্র আসামির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে তদন্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে বলেছেন। পিআরবির বিধি ২৮৩ অনুযায়ী মামলার আসামিকে আদালত চলাকালীন সময়ে উপস্থাপন করা এবং আসামিকে শনাক্ত করার জন্য টিআই প্যারেডের আয়োজন করারও নির্দেশনা দেন।
শনিবার চট্টগ্রামে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে এসব নির্দেশনা দেন। সিএমএম আদালতের সম্মেলন কক্ষে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মো. সোয়েব খান, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হামীমুন তানজীন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক, মো. আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা ও মুহাম্মদ আবুল মনছুর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, ডিসি (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরীসহ ১৬ থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলা হতে অব্যাহতির লক্ষ্যে সংশোধিত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩-বি ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্রোকি পরোয়ানামূলে জব্দকৃত মালামাল রাখার পর্যাপ্ত স্থান নেই মর্মে জানান।
‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ’র খসড়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের, যার প্রতিফলন ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ ১০ মাসের অধিক সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ শীর্ষক যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তার প্রতি গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।
জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতের অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিনদিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মনে করে টিআইবি। একই সঙ্গে, শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থি অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।
শনিবার এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, এমনকি অনেকক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল।
তিনি বলেন, মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটল।
বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছে, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি উল্লেখ করে ড. জামান পারষ্পরিক সম্পর্কযুক্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর দুটি নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের অপরিনামদর্শী উদ্যোগের পরিবর্তে সরকারি কর্তৃত্বের বাইরে একটি অভিন্ন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাব করছেন।
উল্লিখিত খসড়া দুটিকে তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে প্রণীত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশে মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের শিকার ও ভুক্তভোগী হয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় জোড়ালো অঙ্গীকার করছেন, তাদের প্রতি টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত্যাশা, নতুন সংসদ গঠনের পর অনতিবিলম্বে এক্ষেত্রে নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অঙ্গীকার ও জনপ্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবেন এবং একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করবেন। যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্তগণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
এবার ভোট দিয়েই জিততে হবে, জেতার জন্য দুই নম্বরি কোনো পদ্ধতি নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
শনিবার সকালে ভোলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, যা পক্ষপাতমূলক। ভবিষ্যতেও এমন কিছু করা হবে না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং নিরপেক্ষতা হারান, তবে তার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ‘ভয়ানক কঠিন’ হবে।’
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের বা গণতান্ত্রিক ধারা সুসংগঠিত করার নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনের সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের অবস্থান, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান জড়িত। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা সবকিছুর সঙ্গেই এই নির্বাচন সম্পৃক্ত। তাই এটি কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়, সবাইকে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভয়ভীতি, ত্রাস কিংবা মব ইত্যাদি কিছুই যেন আমাদের কাজ থেকে দূরে রাখতে না পারে।’
এসময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গুমকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে একে ‘মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘গুম আসলে মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশ করতে পারেন এবং দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু কেউ গুমের শিকার হলে পরিবার জানতেই পারে না সে কোথায় আছে।’
শনিবার ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি মঈনুল আরো বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করে। আশা ও হতাশার মাঝামাঝি এক স্থগিত অবস্থায় তারা সামাজিক কলঙ্ক, আর্থিক সঙ্কট ও একঘরে হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
বিলিয়া আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাজ্জাদ হোসেন ও নূর খান লিটন; অধিকার-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা; বিলিয়ার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ একরামুল হক এবং বিলিয়ার পরিচালক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান।
দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (৬৬০ মেগাওয়াট) আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক (তদন্ত) শাহ মনি জিকো গতকাল শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় চালু করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি থেকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রথম ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় মোট ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
দুইজন মার্কিন সিনিয়র কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও নাইল পাও বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ হওয়া নিশ্চিত করতে মার্কিন ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।
গত মঙ্গলবার লিখিত এ চিঠিতে তারা বলেন, এ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন একটি ইতিবাচক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কংগ্রেস সদস্যরা পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার অনুরোধ জানান। চিঠিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের প্রথমবার ভোট হতে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না-বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নাজুক অবস্থা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সদস্যরা। তাদের মতে, এই প্রেক্ষাপট লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের এক নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে জনতার হাতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও তারা উল্লেখ করেন।
চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় সুযোগ। আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথ সুগম করতে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে তা সহায়ক হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদের দপ্তরগুলোকে অবহিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং দেয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যাত্রীসাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
শনিবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণপরিবহন হিসেবে রেলকে লক্ষ্য করে নাশকতামূলক কার্যক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে রেলের যাত্রীসাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ, তা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের নাশকতা, কিংবা রেল যাত্রী, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ রেলস্টেশনে দায়িত্বরত কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে কল করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা যাবে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শনিবার স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া উৎসবভাতা ও বেতন সংক্রান্ত এক জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে। অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর তথ্যের ত্রুটিজনিত কারণে যেসব শিক্ষকের ঈদ বা নববর্ষের উৎসবভাতা বকেয়া রয়ে গিয়েছিল, তাদের বিল সাবমিটের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ইএফটি বিল সাবমিট অপশন ব্যবহার করে বকেয়া ভাতার আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইএফটি প্রক্রিয়ায় জটিলতার ফলে যদি কোনো শিক্ষকের এক বা একাধিক মাসের নিয়মিত বেতনও বকেয়া থেকে থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রেও মাসভিত্তিক বকেয়া বিল দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তথ্যের সঠিকতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুত এই পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।