বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্নেহ-মমতার এক অনন্য বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করছিলেন।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে দেশে ফেরার পথে ফ্লাইটের যাত্রীরা বিস্মিত ও আনন্দিত হয়ে ওঠেন, যখন তারা দেখলেন যে, শেখ হাসিনা নিজেই তাদের সঙ্গে দেখা করছেন। তিনি একের পর এক তাদের আসনে আসছেন ও বিমানের আরোহী সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন।
শেখ হাসিনা জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে পরিপূর্ণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্লাইটে তাদের আসনের পাশে প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে অনেকেই বিস্মিত ও অবাক হয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী অনেক যাত্রীর তার সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধও হাসিমুখে গ্রহণ করেন।
তিনি বাচ্চাদের সঙ্গে খুব স্নেহভরে কথা বলেন ও তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ মজার গল্প করেন। কয়েকটি শিশুকে কোলেও তুলে নেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় কয়েকজন যাত্রী গত সাড়ে ১৪ বছরে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী ১৪-১৫ জুন অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড অব ওয়ার্ক সামিট : সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’- এ যোগদান শেষে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে দেশে ফিরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইট শুক্রবার রাত ১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সড়কপথের পর এবার নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চের ভাড়াও পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের অতিরিক্ত দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌপথে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লঞ্চমালিকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, জ্বালানির মূল্য ও পরিচালন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে নৌযান মালিকেরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানালেও সাধারণ যাত্রীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে তা ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ভাড়া সমন্বয়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানো কারও জন্যই কাম্য নয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব কোনো না কোনোভাবে পরিবহন খাতে পড়ে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, যাতে যাত্রীদের ওপর কম চাপ পড়ে। লঞ্চমালিকদের বিভিন্ন দাবি থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ১০০ কিলোমিটারে যে হারে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, পরবর্তী ১০০ কিলোমিটারেও নির্ধারিত হারে ভাড়া সমন্বয় হবে। নৌপথে সর্বনিম্ন দূরত্ব ১০ কিলোমিটার ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তাই সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা করা হয়েছে।’
রেলের ভাড়া বাড়ানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ রবিউল আলম জানান, ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং সরকার বিদ্যমান ভাড়াতেই পরিষেবা চালু রাখতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘গতবার ডিজেলের দাম বাড়ার সময়ও রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। প্রায় ১০ বছর ধরে রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবার জ্বালানির দাম আরও বাড়ায় রেলের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তারপরও আমরা এখনো ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিইনি। রেলের সংশ্লিষ্টদের বলেছি, সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে।’
সড়কপথে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া বাসের নতুন ভাড়ার তদারকি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাসমালিকেরা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত যে রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী ভাড়া আদায় হচ্ছে।’ তবে চার্ট না টাঙানো বা বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গ্যাসচালিত যানবাহনের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ‘সিএনজির দাম বাড়েনি। তাই সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমাদের জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মালিক ও যাত্রী উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা যেন কেউ কাউকে প্রতিপক্ষ না মনে করি। ন্যায্যতার জায়গা থেকে সবার অধিকার বিবেচনা করলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সহকারী সচিব জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই নতুন ভাড়ার হার গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বড় বাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সায়। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাভুক্ত জেলাসমূহ—ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের অভ্যন্তরে চলাচলকারী উভয় যানের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মহানগরে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াতের লক্ষ্যে বিআরটিএ অনুমোদিত আসন সংখ্যা হ্রাস করে ভেতরের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হলে ভাড়ার হার আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে বিআরটিএ বা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। তবে এই বর্ধিত ভাড়ার হার গ্যাস বা সিএনজিচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের ভেতরে যাত্রীদের সহজে নজরে পড়ে এমন স্থানে অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীগণ এ নৈশভোজে অংশ নেন।
এর আগে সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও অংশ নেন। সূত্র: বাসস
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবিশাল ব্যবহারকারী এবং অনলাইন বাণিজ্যের সম্প্রসারিত বাজারকে বিবেচনায় নিয়ে রাজধানী ঢাকায় নিজস্ব কার্যালয় খোলার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদান উপলক্ষে সফরের প্রথম দিনের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, মেটার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততার কারণে প্রধানমন্ত্রী নিজে অংশ নিতে না পারলেও তাঁর নির্দেশনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দল বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করে। ঢাকায় মেটার প্রাতিষ্ঠানিক দপ্তর খোলার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় স্থান পেয়েছে।
আলোচনায় দেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল খাতের নীতিগত কাঠামো এবং অনলাইন ব্যবসায় মেটার কার্যকর সহযোগিতার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। বিভিন্ন ডিজিটাল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ মেটার প্ল্যাটফর্মে দেশে বিজ্ঞাপনী ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মূল্য পরিশোধের সুবিধাও চালু করেছে মেটা, যার ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সহজেই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের সুযোগ নিতে পারছেন।
এর পাশাপাশি ডিজিটাল মানবসম্পদ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দক্ষতা বাড়াতে দেশীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সঙ্গে যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল বিপণন বিষয়ক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মেটার ‘স্মল বিজনেস গ্রোথ একাডেমি’র অধীনে ইতোমধ্যে দেশের এক হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, বিপুল ব্যবহারকারী ও অনলাইন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে মেটার মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের স্বার্থ ও বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮ টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচি পর্যালোচনা করে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থকে কীভাবে প্রাধান্য দেওয়া যায় এবং জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখা যায়, বিশ্বমঞ্চে একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদাকে কীভাবে আরও উপরে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটাই নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিগুলো ব্যক্তিগত, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক, দ্বিপক্ষীয়, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনাসহ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিল। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে। বৈঠকে হাইতির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সেখানে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, আগামী বুধবার জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও বৈঠক করেছেন জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সংস্কার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং মেটার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তবে মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে এবং বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনায় অংশগ্রহণও ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিতে এ অভ্যর্থনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে তার প্রথম ভাষণ দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান। সূত্র: বাসস
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অধিবেশনের ফাঁকে এই শীর্ষ সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের একটি স্থিরচিত্র নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে ড. খলিলুর রহমান লেখেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত মতবিনিময়।’ তবে দুই নেতার এই সাক্ষাতে পারস্পরিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান বিশ্বসংস্থার জরুরি কাঠামোগত সংস্কার এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আফ্রিকান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তি ও অধিকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জাতিসংঘের দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ জুন ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর এক বছর মেয়াদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার থেকেই নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল বিতর্ক পর্ব শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারণ পরিষদে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সরকারি সফরে এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দু'দেশের শীর্ষ নেতৃদ্বয়।
স্হানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক একথা জানান।
সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করপন তাঁরা।
তিনি জানান, বৈঠকের আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, 'মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই।'
তিনি বলেন, 'মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।'
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।
সহকারী প্রেস সচিব বলেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও হাইতির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা আরো জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
দেশে স্বর্ণের দাম যখন একের পর এক রেকর্ড গড়ছে, তখন থামছে না স্বর্ণ পাচার। আন্তর্জাতিক বিমানপথে বিদেশ থেকে আসছে স্বর্ণর চালান, আবার দেশের ভেতর দিয়ে এসবের একটি অংশ যাচ্ছে সীমান্তের দিকে। উড়োজাহাজের শৌচাগার, আসনের নিচ, যন্ত্রাংশ কিংবা গাড়ির বিশেষভাবে তৈরি অংশ—পাচারকারীরা ব্যবহার করছে নানা কৌশল। সাম্প্রতিক জব্দের ঘটনাগুলোতে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে স্বর্ণ আসা এবং পরে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে পাচারের দুই প্রবাহই সামনে এসেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিজিবির প্রকাশিত মাসভিত্তিক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৮ কেজি ৩৩৫ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ হয়েছে। বর্তমান ২২ ক্যারেট বাজারদর ধরে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তবে এটি মোট জব্দের হিসাব নয়; কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কোস্টগার্ডের জব্দ এর বাইরে।
সেপ্টেম্বরেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকটি বড় চালানে ২৯ কেজির বেশি স্বর্ণ জব্দ হয়েছে। অর্থাৎ স্বর্ণ পাচারের নেটওয়ার্ক শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়; বিমানবন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থাও এর সঙ্গে যুক্ত।
বিমানবন্দরেই কোটি টাকার চালান: সর্বশেষ বড় চালানটি ধরা পড়ে ২১ সেপ্টেম্বর। সিঙ্গাপুর থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটের শৌচাগার থেকে ৫০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ওজন প্রায় ৫ কেজি ৮৩২ গ্রাম। এনবিআরের হিসাবে, এর বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা। স্বর্ণগুলো কোনো যাত্রীর ব্যাগেজে ছিল না; উড়োজাহাজের শৌচাগারে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। ২ সেপ্টেম্বর ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের আসনের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ৯ কেজি ৩৩১ গ্রাম স্বর্ণ, যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
শুধু সেপ্টেম্বরের এই তিন ঘটনায় প্রায় ২৯ কেজি স্বর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার হিসাবে প্রায় ৫৬ কোটি টাকার চালান জব্দ হয়েছে।
ঢাকা থেকে যশোর, এরপর ভারত: স্বর্ণ পাচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠেছে যশোর। বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঢাকায় আসা স্বর্ণের একটি অংশ বিভিন্ন পরিবহনে যশোরে নেওয়া হচ্ছে। পরে শার্শা-বেনাপোল, চৌগাছা কিংবা সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা হচ্ছে।
মে থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ও দাইতলা এলাকায় নয়টি পৃথক অভিযানে ৭ কেজি ১২২ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করে বিজিবি। আটক করা হয় ১১ জনকে। জব্দ স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
জুনে একটি গাড়ি থেকে ৩ কেজি ৬৪১ গ্রাম স্বর্ণর ৩১টি বার উদ্ধার করা হয়। বিজিবির দাবি, চালানটি ঢাকা থেকে বেনাপোল সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল। এর আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতমুখী স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে সীমান্ত ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এনবিআর, ব্যবসায়ী ও কাস্টমসের বক্তব্য: এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, দেশে থাকা এবং প্রতিনিয়ত আসা স্বর্ণের বড় অংশই অবৈধ পথে আসছে। তার মতে, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ দিতে হবে। আনুষ্ঠানিক আমদানি প্রত্যাশিত মাত্রায় না হলেও বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ থাকায় এর উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক খান বৈধ ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেছেন, আমদানি প্রক্রিয়ার জটিলতা বৈধ ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার দাবি, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অনুমোদিত ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রতি ভরিতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেশি খরচ পড়ত। আমদানি সহজ করা গেলে বৈধ সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলছে, বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচারে চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছে। উড়োজাহাজের শৌচাগার থেকে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেকর্ড দামে বাড়ছে ঝুঁকি: মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণর দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামকে এক ভরি ধরে বর্তমান দরে এক কেজি স্বর্ণের সমতুল্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ১ লাখ টাকা।
উচ্চ দাম যেমন বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে পাচারের প্রণোদনাও। বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্বর্ণের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৬৯ টন। প্রথমার্ধে মোট চাহিদার মূল্য রেকর্ড ৩৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
সরকার স্বর্ণ খাতকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার উদ্যোগও নিয়েছে। আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘গোল্ড পলিসি ২০১৮ (সংশোধিত) ২০২৬’ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। লক্ষ্য—বৈধ বাণিজ্য বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, রপ্তানি বাড়ানো ও রাজস্ব আহরণ।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বিমানবন্দর ও সীমান্তে অভিযান চালিয়ে পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। বাহক গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা, বিদেশি সরবরাহকারী, দেশের অভ্যন্তরের ক্রেতা এবং সীমান্তের গ্রহণকারীকে শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ আমদানির পথ সহজ করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো গেলে অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগও কমতে পারে।
সাম্প্রতিক জব্দের ঘটনাগুলো তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৈধ আমদানি, বাজারের সরবরাহ, উচ্চ মূল্য এবং সীমান্তপথে আন্তর্জাতিক চোরাচালানের পুরো একটি চক্র।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রেকর্ড ১ হাজার ৮৭২ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি বছর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন এবং মারা গেছেন ১৯৫ জন।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ৭ সেপ্টেম্বর একদিনে ১ হাজার ৫৫৮ জন, ১৬ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৭৫৩ জন এবং সর্বশেষ ১ হাজার ৮৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে সেপ্টেম্বরেই একের পর এক দৈনিক ভর্তির রেকর্ড হচ্ছে।
দুই সপ্তাহেই আগস্টের কাছাকাছি রোগী: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, জুনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২ হাজার ৯০৭ জন। জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৪ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৪২৪ জন। অর্থাৎ আগস্টের পুরো মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহেই রোগীর সংখ্যা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এরপরও দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী।
বর্ষা, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মডেলভিত্তিক পূর্বাভাসেও অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজধানীর বাইরে ছড়াচ্ছে চাপ: গত একদিনে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৮৭২ রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৯১, খুলনা বিভাগে ৩১৬, চট্টগ্রামে ২৮৫, বরিশালে ১৯০, রাজশাহীতে ১৬২, ময়মনসিংহে ১০৫, রংপুরে ৬৭ এবং সিলেটে ৬ জন রয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯১ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন। ফলে ডেঙ্গুর চাপ যে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, তা স্পষ্ট।
জ্বর কমলেই ছাড় নয়: ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্লাজমা লিকেজ এড়াতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জ্বর কমে যাওয়ার পর চার দিন গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখতে হবে। রোগী চলে যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে সিকিউরিটি দিয়ে হাসপাতালের গেট বন্ধ রেখেও রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। পৃথিবীতে এর আলাদা কোনো চিকিৎসা নেই। নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রটোকল রয়েছে। সে চিকিৎসা প্রটোকল দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে স্যালাইন। প্রয়োজনীয় স্যালাইন প্রতিটি উপজেলায় ও কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রাখা হয়েছে। চিকিৎসায় কোনো কিছুর অভাব হবে না। একটা লেবেলে গিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের প্লাজমা লিকেজ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যেন সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আরও ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
৪০ জেলায় প্রশিক্ষণ ১,৬০০ চিকিৎসককে: মানসম্মত ডেঙ্গু চিকিৎসা সারা দেশে পৌঁছে দিতে ৪০ জেলায় ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের পরিচালনায় দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে ‘ট্রেনিং অব ডক্টরস অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনার ভুলে যেন কোনো ডেঙ্গু রোগীর প্রাণ না যায়, সে জন্য চিকিৎসকদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণে দক্ষ করে মৃত্যুর হার শূন্যে নামানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, এবারের ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৬২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯ হাজার ৮৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। রোগী বেড়ে গেলেও আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশকে সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আবেগ বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না। রোগতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমন্বিতভাবে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ঢালাও মিডিয়া ট্রায়ালও গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মূল প্রশিক্ষণের আগে প্রায় ৩৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসককে ‘ট্রেইনার্স ট্রেনিং’ দেওয়া হয়েছে। তারা দেশের ৪০ জেলায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
অক্টোবর নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসককে পুনঃপ্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির পানির পাত্র, ড্রাম-বালতি, ভবনের বেজমেন্ট, পার্কিং এলাকা, পানির মিটার ও পাইপসহ বিভিন্ন স্থানে এডিসের প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধনে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন। তাই বছরজুড়ে নজরদারি, আক্রান্ত এলাকার সঙ্গে মশার ঘনত্বের তথ্য মিলিয়ে ‘হটস্পট’ নির্ধারণ, লার্ভিসাইডিং ও উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ফগিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা।
আগের বছরের চিত্রও উদ্বেগজনক: ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন।
চলতি বছরের রোগী ইতোমধ্যে ৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে সম্ভাব্য সংক্রমণের শীর্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সক্ষমতা, চিকিৎসকদের দক্ষতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ এখন জরুরি।
পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি ও আধুনিক নৌপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নৌযান চার্টার প্রদানের বিদ্যমান নীতিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নৌযান চার্টার প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থার রাজস্ব বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা হয়েছে।
সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি উপস্থিত থেকে প্রস্তাবিত নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
সভায় কর্মকর্তারা বলেন, দেশের নৌপরিবহন খাতে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত চাহিদা এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে নৌযান চার্টার ব্যবস্থাপনাকেও আধুনিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন।
এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় নৌযান চার্টার প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
একই সঙ্গে চার্টার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসির রাজস্ব আয় বাড়ানো, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি নৌযানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিআইডব্লিউটিসির নৌযানগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। তাই এসব নৌযান চার্টারে দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক বিষয় বিবেচনা করলেই হবে না; জাতীয় স্বার্থ, সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা এবং নৌযানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন নীতিমালায় এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি বলেন, বিআইডব্লিউটিসির নৌযানগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এসব নৌযান চার্টার দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও সংস্থার আর্থিক সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একই সঙ্গে অংশীজনদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নৌযান চার্টারের ক্ষেত্রে এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে চার্টার গ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত ও সহজভাবে দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
সভায় কর্মকর্তারা বলেন, নৌযানের অব্যবহৃত সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তা বিআইডব্লিউটিসির আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ জন্য চার্টার প্রদানের ক্ষেত্রে নীতিমালা সুস্পষ্ট ও সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নৌযান চার্টারের শর্ত, প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বগুলো আরও সুস্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌযান চার্টার প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চার্টার প্রক্রিয়া যত বেশি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে, সরকারি সম্পদের ব্যবহার তত বেশি কার্যকর হবে এবং অংশীজনদের আস্থাও বাড়বে। এ ছাড়া গ্রাহকদের চাহিদা ও নৌপরিবহন খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবা প্রদানের বিষয়টি নতুন নীতিমালায় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এতে একদিকে চার্টার গ্রহীতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হবে, অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের মতামত ও পরামর্শ দেন। এসব মতামত পর্যালোচনা করে খসড়াটি প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’ দ্রুত চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বিআইডব্লিউটিসির নৌযান চার্টার ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।
হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে পরবর্তীতে অর্থাৎ দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সই করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পরিপত্রটি মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
জিডি যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া বা উদ্ধার করা সম্ভব নয়- তাহলে আগের পাসপোর্ট ‘Revoke’ করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।
এছাড়া হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের Immigration Management System (IMS)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজনে ইন্টারপোলকে অবহিত করাসহ বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘Lost Circular’ জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সময় ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ লেখা থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের ‘Lost/Revoked’ অবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম- এই মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ তথ্য সংশোধনের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।
আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা সমর্পণের ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে এবং আবেদনকারীকে শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এছাড়া হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করা পাসপোর্ট ‘Revoke’ করার পর সেটি পরবর্তীতে পাওয়া গেলেও পুনরায় সক্রিয় বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এবং নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা আরও হয়েছে, হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত আগের পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনাগুলো সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরিপত্র জারির তারিখ থেকেই এটি কার্যকর হবে।