ঈদযাত্রায় মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি চলতে পারবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এছাড়াও কোরবানির পশু পরিবহনে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে নিকটস্থ থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে ঈদুল আজহার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোরবানির পশুবাহী গাড়ি থামানো যাবে না। সড়ক অথবা নৌপথে কোরবানির পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে পশুবাহী গাড়ির সামনে গন্তব্যস্থান বা পশুর হাটের নাম উল্লেখ করে ব্যানার লাগাতে হবে। কোরবানির পশু পরিবহনে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার অনুরোধ করেন আইজিপি।
অনুষ্ঠানে জাল টাকা প্রতিরোধে পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন বসানোর নির্দেশ দেন পুলিশ প্রধান। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার জন্য হাইওয়ে পুলিশ এবং জেলা পুলিশকে নির্দেশ দেন। এ সময় অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
পরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, গাড়ির চালক গাড়ি না চালিয়ে হেলপারকে দিয়ে গাড়ি চালায়। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এ বিষয়ে সজাগ থাকবেন। পণ্যবাহী গাড়িতে বা ট্রাকে ভ্রমণ না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান পুলিশ প্রধান।
রমজানের ঈদযাত্রার উদাহরণ টেনে আইজিপি বলেন, গত ঈদুল ফিতরে আমরা সবাই মিলে একই প্লাটফর্মে একযোগে কাজ করে জনগণকে একটি স্বস্তিদায়ক ঈদ উপহার দিতে সক্ষম হয়েছি। ফলে আমাদের সম্পর্কে জনমনে একটা আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায়ও একটি সুন্দর ঈদ উপহার দিতে পারবো।
সভায় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান, ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলামসহ পুলিশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীসহ সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ রবিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় রমজানের সুমহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংযম, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষা নিয়ে পবিত্র রমজান আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে। এই মাসটি মানবজাতির জন্য শান্তি, কল্যাণ ও উচ্চতর নৈতিকতার বার্তা বহন করে আনে। সিয়াম সাধনা, দান-সদকা ও গভীর ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয় এই মহিমান্বিত মাসে। তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ড. ইউনূসের বাণীতে উঠে এসেছে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের সামাজিক গুরুত্ব। তিনি উল্লেখ করেন যে, পবিত্র রমজান আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে সব ধরনের অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচার পরিহার করে একটি ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা জোগায়। এই মাসটি কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে সত্যনিষ্ঠা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার সময়। বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ প্রদর্শনের মাধ্যমেই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য ফুটে ওঠে।
প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও ভোগ-বিলাস পরিহার করি। তিনি পবিত্রতা রক্ষা করে বেশি বেশি সৎকর্ম, কোরআন তেলাওয়াত ও প্রার্থনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন। সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন যেন তিনি দেশ ও জাতিকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন এবং সকলের ইবাদত ও নেক আমল কবুল করেন। প্রধান উপদেষ্টার এই সময়োপযোগী বার্তা দেশবাসীর মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতির নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের পদত্যাগের খবর নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার দুপুর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ বা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন এবং এটি নিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, আজ রোববার সকাল থেকেই আইজিপি বাহারুল আলম তাঁর দপ্তরে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর দুপুরে তিনি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান এবং আসন্ন ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেন। এই সভা শেষ হওয়ার পরপরই তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি গুঞ্জন হিসেবে ডালপালা মেলতে শুরু করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার এবং আইজিপি অফিসের কর্মকর্তারাও এমন খবরের কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আইজিপির ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আইজিপির পদত্যাগের এই গুঞ্জনের পেছনে কিছু পূর্ববর্তী ঘটনাও নতুন করে সামনে আসছে। গত জানুয়ারি মাসেই বাহারুল আলম তাঁর সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। ওই সময়েই প্রশাসনের ভেতরে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং মেয়াদের পূর্ণতা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছিল। আজকের এই অনানুষ্ঠানিক খবর সেই আলোচনার পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসার প্রাক্কালে পুলিশ প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে স্বাভাবিক অবসরে যাওয়া এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে বিশেষ পরিস্থিতিতে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। যদি এই পদত্যাগের গুঞ্জন সত্য প্রমাণিত হয়, তবে নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ৯ মাস আগেই তিনি দেশের পুলিশ প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। আপাতত সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।
দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রাক্কালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী নবনির্বাচিত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই সেনাবাহিনী মাঠ থেকে ব্যারাকে ফিরে যাবে। আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুলিশ বাহিনী বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি অংশ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে।
সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাসদস্যদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অত্যন্ত প্রতিকূল ও সংবেদনশীল পরিবেশে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে চমৎকার দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর দক্ষতা দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি মনে করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, গত দেড় বছরের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা দেশ ও জাতি দীর্ঘকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।’ এই চড়াই-উতরাইপূর্ণ সময়ে সেনাসদস্যরা যেভাবে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সাথে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের দক্ষতা ও বীরত্বের কথাও তিনি তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেশে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করায় সেনাবাহিনীর এই পেশাদার অবস্থান সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে। সেনাপ্রধানের এই সময়োপযোগী নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে মোতায়েন থাকা সকল সেনাসদস্যের মনোবল দৃঢ় করবে এবং একটি সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি তাঁর এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিন সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
আসিফ নজরুল জানান যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বিএনপির পরিকল্পনা ও অভিপ্রায় অনুযায়ীই সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভায় নিজের থাকা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকার প্রশ্নই উঠে না।”
আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটি তদারকি করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে বিদেশি কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণের বিষয়ে নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কারা কারা আমন্ত্রিত হবেন; সেটি কনভেনশন অনুযায়ী করা হবে, সেটি ক্যাবিনেট ডিভিশন দেখছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” পরবর্তী মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করে বলেন, “মন্ত্রীসভায় আমার থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন জনপ্রতিনিধিদের বরণ করে নিতে জাতীয় সংসদ ভবনকে এক নতুন ও দৃষ্টিনন্দন রূপে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও আসন্ন সংসদ অধিবেশনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।
একই দিন বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভাও সংসদের এই দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে বলে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। সংসদ ভবন সূত্র অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য পুরো ভবন ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিপাটি করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোও নতুন করে সাজানো হচ্ছে এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অংশগুলোর মেরামত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। গত শনিবার থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় এই শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করেছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে বলেন, “দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকালে নতুন সরকারের শপথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই স্থানে বিকেল ৪টায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। উল্লেখ্য যে, সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশন গত শুক্রবার রাতে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের গেজেট চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের অবস্থানে থাকতে যাচ্ছে এবং বাকি আসনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে ওই দিন সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান যে, নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে বেগবান করায় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা পৃথক টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে এই তিন নেতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শুভেচ্ছা জানান।
আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম ও পরিমিতিবোধের প্রশংসা করে বলেন, দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের ফলেই সারাদেশে একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আলাপচারিতার শুরুতে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলটির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। তারেক রহমানের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে পাঠানো পৃথক বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস দলটির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, নবগঠিত দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে এনসিপি যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।” মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন দল হিসেবে ৩০টি আসনে লড়াই করে ছয়টিতে জয়লাভ এবং অন্যান্য আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাকে তিনি তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের শক্তিশালী প্রকাশ বলে অভিহিত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক দলগুলো এমন ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সকল রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঐতিহাসিক বিজয় উপলক্ষে তিনি শুভেচ্ছা হিসেবে উপহারস্বরূপ মিষ্টি ও ফুল পাঠিয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই উপহারসমূহ গ্রহণ করা হয়। মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান এগুলো গ্রহণ করেন এবং এসময় গুলশান কার্যালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তারেক রহমানকে আগাম শুভেচ্ছা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বার্তায় তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিও ভালোবাসা ব্যক্ত করেন।
নিজের পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, "বাংলাদেশের সব ভাইবোনকে, জনগণকে জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।" তিনি প্রতিবেশী সুলভ সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, "আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।"
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে ইতালি। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের এই নতুন রাজনৈতিক সাফল্যকে সাধুবাদ জানানো হয়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তার মাধ্যমে এই শুভেচ্ছার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বার্তায় উল্লেখ করে যে, বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের জন্য বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তায় বলা হয়, “বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে আন্তরিক শুভেচ্ছা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থীতিশীলতার জন্য আমরা সকল রাজনৈতিক পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই।”
এছাড়া ইতালি সরকার বাংলাদেশের সাথে চলমান ফলপ্রসূ সংলাপ বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, ইতালীয় প্রশাসন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে। নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিফলিত হওয়ায় তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে তিনি তারেক রহমানকে এই উষ্ণ অভিবাদন জ্ঞাপন করেন।
বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন-বিমসটেকের মহাসচিব তার বার্তায় বিএনপির এই নিশ্চিত সাফল্যে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও সুযোগ্য নেতৃত্বের উচ্চকিত প্রশংসা করেন। আঞ্চলিক এই সহযোগিতামূলক জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আয়োজক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিমসটেক মূলত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জ্বালানি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ জনগণের সঙ্গে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও বাংলাদেশের সাথে এই সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে বিমসটেক সচিবালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর। ঐতিহাসিক এই বিজয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক বার্তার মাধ্যমে তারেক রহমানকে এই অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিএনপি। এছাড়া ফলাফল স্থগিত থাকা আরও দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা জয়ের পথে রয়েছেন এবং দলটির শরিকেরা লাভ করেছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা ৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে।
অভিনন্দন বার্তায় জোনাস গাহর স্টোর উল্লেখ করেছেন, “ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয় অর্জনের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। নরওয়ে আন্তর্জাতিক আইন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বৃদ্ধিসহ আমাদের দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য উন্মুখ।”
উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানকে এর আগে ফ্রান্স ও জার্মানি সরকার এবং বিমসটেক মহাসচিবের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নরওয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে দেশ দুটি বিশেষভাবে আশাবাদী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ওপর কোনো নির্দিষ্ট আক্রমণ বা দমনের ঘটনা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল।
শনিবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের চেয়ার ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষক দলের কাছে কোনো সরাসরি রিপোর্ট পাওয়া যায়নি যে, কোনো সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নির্বাচনের সময় আক্রান্ত হয়েছে। তবে আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোটার উপস্থিতির হার কম ছিল এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটাররা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এটি আমাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এটি একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত।’
আকুফো-আডো আরো বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যবেক্ষকরা দেখেছেন, যদিও দেশের একটি প্রধান রাজনৈতিক দল (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, তবু প্রায় সব প্রার্থীর জন্য ভোটাধিকার, প্রার্থী নিবন্ধন এবং ফল গণনা প্রক্রিয়া উন্মুক্ত ছিল। প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ফলে নতুন সরকারে কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হচ্ছেন তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তবে এবার প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যম-এই দুইয়ের সমন্বয়ে গঠন করা হবে নতুন মন্ত্রিসভা।
সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হবে। তবে মন্ত্রিসভার আকার বেশি বড় হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতা। তারা জানিয়েছেন, ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের মধ্যে থাকতে পারে মন্ত্রিসভা। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। তবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন জানা যাবে তা শপথের পর।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর মতে, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলীয় প্রধান। বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, বৈঠকে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেন। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন তা নিয়ে পরামর্শ করেন তিনি। এছাড়া সংসদ-সদস্যেদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক আরেকজন নেতা বলেন, মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন সেটি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করছেন। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ওই নীতিনির্ধারক।
দলটির একটি সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, নূরুল ইসলাম মনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় আরও স্থান পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারও। তবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে এদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্ব পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ-সদস্য না হয়ে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা মন্ত্রী হন তাদের বলা হয় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬-এর ২ ধারায় বলা রয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হতে মনোনীত হতে পারবেন।’ মন্ত্রিসভা ৪০ জনের হলে সে হিসাবে টেকনোক্র্যাট কোটায় চারজনকে মন্ত্রী করা যাবে।
অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, শরীফুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আফরোজা খান রিতা। এছাড়াও ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, মো. শাজাহান, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, ড. রেজা কিবরিয়া, মো. মোশাররফ হোসেন ও সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে শেষ পর্যন্ত টেকনোক্র্যাট কোটায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।