প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, ফিফা বিশ্বকাপ পরবর্তী কাতারে কর্মহীন হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির আমির শেখ তামিম ইবনে হামাদ আল থানি। প্রধানমন্ত্রীর কাতার সফরকালে তার সঙ্গে আমিরের সাক্ষাতে এ আশ্বাস দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বুধবার দুপুরে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। সাম্প্রতিক সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফরের সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,২৪ মে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানির সঙ্গে তার কার্যালয় আমিরি দেওয়ানে আমার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাকে প্রবেশদ্বারে অভ্যর্থনা জানান। আমির কাতারের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সে দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আমার অনুরোধে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ পরবর্তী সময়ে কর্মহীন হয়ে যাওয়া বাংলাদেশিদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি দেখবেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি কাতার থেকে বাংলাদেশে অব্যাহতভাবে সুবিধাজনক শর্তে এলএনজি আমদানির বিষয়টিকে নিশ্চিত করার ব্যাপারেও আশ্বাস দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সরকারপ্রধান বলেন, বৈঠককালে আমি কাতারের আমিরকে চলতি বছরে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করলে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন। আমি মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতিতে কাতার সরকারকে তাঁদের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানাই।
প্রধানমন্ত্রী গত ১৪-১৫ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট : সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’-এ যোগ দিতে দেশটি সফর করেন।
তার আগে গত ২৩-২৫ মে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাতার ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেন সরকারপ্রধান।
নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তুরাগ নদী থেকে তাহসিফ সৌরি নামের বিমানবাহিনীর সাবেক এক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উত্তরখান থানার ডিউটি অফিসার শাহীনুর জামান। তিনি বলেন, বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনার সত্যতা জানিয়ে নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, তাহসিফ সপরিবার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত মঙ্গলবার তিনি নিখোঁজ হন। তার বাবার নাম কে এম এনায়েত হেলাল।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহটি উদ্ধারের সময় তার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর বলে ধারণা করা হয়েছিল। নিহতের পরনে ছিল কালো রঙের জামা ও সাদা পায়জামা, মুখে হালকা দাড়ি এবং হাতে ছিল ঘড়ি। পরবর্তীতে পকেটে পাওয়া আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের শেষভাগের দিকে তাহসিফসহ বিমানবাহিনীর মোট পাঁচজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) জনবল সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। অনুমোদিত টিকাদানকর্মীর ৪০ শতাংশ পদই শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে একসময় দক্ষিণ এশিয়ায় অনুকরণীয় সাফল্য অর্জন করা বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি এখন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।
সম্প্রতি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা দলের (জয়েন্ট ইনডিপেনডেন্ট রিভিউ টিম) প্রতিবেদনে ইপিআইয়ের জনবল, টিকা সংরক্ষণ, সেবার পরিধি ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত এসব ঘাটতি উঠে এসেছে।
কর্মসূচিটির অর্জন ধরে রাখতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি, টিকা সংরক্ষণব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মাঠপর্যায়ে সেবা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের সুপারিশ করেছে দলটি।
পর্যালোচনা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইপিআইয়ের কোল্ডচেইন টেকনিশিয়ানের ৫৩ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ৩৪ শতাংশ এবং ইপিআইয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ৪৫ শতাংশ পদ শূন্য। শহরাঞ্চলে টিকাদানকর্মীদের ৯০ শতাংশই বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মী। তাদের কার্যক্রমে নজরদারিও দুর্বল।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে টিকাদানকর্মীদের সাত মাসের কর্মবিরতিতে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। স্বেচ্ছাসেবীদের পারিশ্রমিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায়ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে।
হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণ, টিকার পরিস্থিতি এবং ইপিআইয়ের কার্যক্রম মূল্যায়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ, টিকা সরবরাহ ও বিতরণে কাজ করা বৈশ্বিক জোট গ্যাভি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইপিআই কর্মকর্তা এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা দল গঠন করা হয়।
নয়টি উপদলে বিভক্ত ৭০ সদস্যের দলটি গত ৩ অক্টোবর কাজ শুরু করে এবং ১৪ অক্টোবর সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। একটি জাতীয় দলের পাশাপাশি আটটি বিভাগীয় দল মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রতিটি বিভাগীয় দল দুটি জেলার দুটি করে উপজেলা পরিদর্শন করে। এ সময় তারা টিকাদানকেন্দ্র, স্কুল ও মাদ্রাসা পরিদর্শনের পাশাপাশি টিকা নিতে এসে ফিরে যাওয়া মা, সদ্য মা হয়েছেন এমন নারী এবং বিভিন্ন পরিবারের মা ও মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতও জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঘাটতি পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেবে এবং বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ করবে।
মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশের ইপিআই একসময় সীমিত সম্পদ দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং টিকাদান কার্যক্রমের পরিধি বাড়লেও সে অনুযায়ী জনবল কাঠামো সম্প্রসারিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি টিকাদানকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা জনসংখ্যার তথ্যসহ ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব ও ঝুঁকি বিবেচনায় টিকাদানকেন্দ্রের বণ্টনে অসমতা রয়েছে। দুর্গম ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কেন্দ্র কম।
আরবান ইমিউনাইজেশন স্ট্র্যাটেজি-২০১৯ এবং ইপিআই মাইক্রোপ্ল্যান-২০২৪ অনুযায়ী, প্রতি ৫০ হাজার মানুষের জন্য ছয়জন টিকাদানকর্মী প্রয়োজন। নগর টিকাদান কৌশলে প্রতি ৮ হাজার ৩০০ মানুষের বিপরীতে একজন টিকাদানকর্মীর মানদণ্ডও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এসব জনবল চাহিদা পূরণ করা হয়নি।
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে এবং শহরাঞ্চলে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্রে সেবা দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে মাসে আটটি টিকাদান সেশন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে মাসে ২৪টি আউটরিচ সেশন পরিচালনার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় কর্মী ও অর্থের অভাবে এসব কার্যক্রম নিয়মিত ও মানসম্মতভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মূল্যায়ন দলের সদস্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও টিকাবিজ্ঞানী ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, মাঠপর্যায়ে টিকার সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ঘাটতি পাওয়া গেছে। এতে টিকার গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে টিকা পরিবহনের জন্যও পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
তিনি বলেন, জনবল নিয়োগের পাশাপাশি টিকার তাপমাত্রা যথাযথভাবে বজায় রাখা, সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের যাতায়াতের জন্য অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোল্ডচেইন ব্যবস্থাপনায় কর্মী সংকট টিকার সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রমকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে উৎপাদন ও সরবরাহ থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ পর্যন্ত নির্ধারিত তাপমাত্রা ও সংরক্ষণবিধি অনুসরণ করা জরুরি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি একসময় সীমিত সম্পদ দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে অনুকরণীয় সাফল্য অর্জন করেছিল। এ সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিল কার্যকর ব্যবস্থাপনা, প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার উপযোগী জনবল এবং শক্তিশালী নজরদারিব্যবস্থা। তবে গত আট থেকে ১০ বছরে এই নজরদারি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত প্রতি চার থেকে পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ইপিআই কর্মসূচির পর্যালোচনা করা হয়। এতে কর্মসূচির দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলো দূর করার সুপারিশ দেওয়া হয়। কিন্তু গত আট বছরে এ ধরনের কোনো পর্যালোচনা হয়নি। বিগত সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার—কেউই এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেনি।
তিনি আরও বলেন, আট বছর পর সম্প্রতি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ইপিআই কর্মসূচির পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ জন্য আটটি বিভাগে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়। তারা সরেজমিনে কর্মসূচি পরিদর্শন করেছেন এবং টিকাদানকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন ঘাটতি চিহ্নিত করেছেন। তাদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে।
ডা. এম এ মুহিত জানান, ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলার সিভিল সার্জন ও আট বিভাগের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকদের সঙ্গে সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চিহ্নিত ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কম্পিউটার অপারেটর, ডেটা এন্ট্রি কর্মী কিংবা কাস্টমার সার্ভিসের চাকরি। মাসে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বেশি বেতন। এমন আকর্ষণীয় প্রস্তাবে বিশ্বাস করে দালালদের হাতে লাখ লাখ টাকা তুলে দিয়ে কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু স্বপ্নের চাকরির বদলে সেখানে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয় একটি চীনা প্রতারক চক্রের কাছে। কেড়ে নেওয়া হয় স্বাধীনতা। বাধ্য করা হয় অনলাইনে প্রতারণার কাজে। কাজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে জুটত নির্যাতন, এমনকি বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তোফায়েলের মতো আরও বহু বাংলাদেশি চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় গিয়ে সাইবার প্রতারণার জালে আটকা পড়েছেন। তাদের কেউ জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন, কেউ আবার পালিয়ে দেশে ফিরতে গিয়ে পড়েছেন নতুন বিপদে।
এদিকে অনলাইন প্রতারণাবিরোধী অভিযানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কম্বোডিয়া থেকে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের তথ্যের বরাতে কম্বোডিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিটিভি নিউজ গ্লোবাল এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বহিষ্কৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন প্রতারণায় সরাসরি জড়িত ছিলেন আর কতজন মানবপাচারের শিকার হয়ে এসব কর্মকাণ্ডে বাধ্য হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
তিন বছরে ফেরত ৩ হাজার ৩৬৪ বাংলাদেশি: কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র টাচ সোখাকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটি থেকে ৯৬টি দেশের মোট ৭২ হাজার ৪২৬ বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৬৪ জন বাংলাদেশি। এদের মধ্যে ৮৫২ জনকে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, দেশটির অভিবাসন বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ৮৭টি দেশের ৫২ হাজার ৩৯ জন নাগরিককে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ৩ হাজার ১০৪টি অভিযান পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় বহিষ্কারের সংখ্যা বেড়েছে ৪১ হাজার ৬৮৫ জন।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার চীনা নাগরিক রয়েছেন। এরপর আট হাজারের বেশি ইন্দোনেশীয়, চার হাজারের বেশি ভিয়েতনামি এবং তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি। এ ছাড়া আড়াই হাজারের বেশি পাকিস্তানি, প্রায় দুই হাজার মিয়ানমারের এবং দেড় হাজারের বেশি থাই নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৩৮টি দেশের ১৮ হাজারের বেশি নাগরিককে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন এ ধরনের অপরাধে যুক্ত ছিলেন, তা পৃথকভাবে জানানো হয়নি।
চাকরির নামে দুই হাজার ডলারে বিক্রি: তোফায়েল আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, কম্বোডিয়ায় ডেটা এন্ট্রির চাকরির আশায় তিনি বাংলাদেশি দালালদের ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) স্মার্ট কার্ড পাওয়ার পর গত ৩০ এপ্রিল তিনি কম্বোডিয়ায় যান। তবে তাকে ডেটা এন্ট্রির কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নিয়োগসংক্রান্ত আমন্ত্রণপত্রে নির্মাণকাজের কথা উল্লেখ ছিল।
দেশটিতে পৌঁছানোর পর একজন তাঁকে গ্রহণ করেন এবং তিন দিন থাকার ব্যবস্থা করেন। এরপর রাতে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছেই তোফায়েল বুঝতে পারেন, তাকে অনলাইন প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করার জন্য আনা হয়েছে।
স্ক্যাম সেন্টারে তার ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, টাইপিং এবং মানুষকে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।
তোফায়েলের অভিযোগ, তিনি কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বলা হয়, কাজ করতেই হবে। দালালেরা তাকে প্রায় দুই হাজার ডলারে চীনা চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। মুক্তি পেতে হলে ওই অর্থ তাকেই পরিশোধ করতে হবে বলেও জানানো হয়।
প্রায় এক মাস ২৭ দিন ওই স্ক্যাম সেন্টারে ছিলেন তোফায়েল। রাত ১০টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত তাকে কাজ করতে হতো। তার ভাষ্য, কাজের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং খাবার না দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
১১ ফুট দেয়াল টপকে মুক্তি: পালানোর সুযোগ খুঁজতে গিয়ে একপর্যায়ে ব্যাংক হিসাব খোলার কথা বলে নিজের পাসপোর্ট উদ্ধার করেন তোফায়েল। এক রাতে আড়াইটার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রায় ১১ ফুট উঁচু দেয়াল টপকে বেরিয়ে খালি পায়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার দৌড়ে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন। পরে বাংলাদেশ থেকে ২০ ডলার সংগ্রহ করে অন্য একটি স্থানে চলে যান। তার আশঙ্কা ছিল, প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাকে ধরে ফেললে আবার নির্যাতন করবে। কিন্তু পালিয়ে আসার পরও তার দুর্ভোগ শেষ হয়নি। দালালেরা এক বছরের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা দেয়নি। ফলে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কম্বোডিয়ায় অবস্থান করতে বাধ্য হন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের সহায়তার তথ্য জানতে পারেন তোফায়েল। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার জরিমানা মওকুফের সুযোগ কাজে লাগিয়ে টিকিটের ব্যবস্থা করে ২০২৬ সালের ১৪ জুন দেশে ফেরেন। বর্তমানে তিনি ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহায়তা নিচ্ছেন।
তোফায়েল বলেন, দালালেরা এক ধরনের কাজের কথা বলে মানুষকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অন্য কাজে বাধ্য করে। তার মতো পরিস্থিতিতে যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ আর না পড়েন, সে জন্য গণমাধ্যমের জোরালো ভূমিকা চান তিনি।
প্রলোভনের ফাঁদে হাজারো কর্মপ্রত্যাশী: চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের কম্বোডিয়ায় নেওয়ার ক্ষেত্রে কম্পিউটার অপারেটর, ডেটা এন্ট্রি কর্মী ও কাস্টমার সার্ভিসের চাকরির কথা বলা হয়। মাসে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের আকৃষ্ট করা হয়। অনেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য দালালদের দুই থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন।
কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কারও কারও পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। কড়া পাহারায় আটকে রেখে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয় তাদের। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতন এবং মুক্তির জন্য অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যের বরাতে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৯৬৩ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় কাজের অনুমতি বা ক্লিয়ারেন্স নিয়েছেন।
সংস্থাটির তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৫৮৩ বাংলাদেশিকে কম্বোডিয়া থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০৯ জনকে স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের বাইরে আরও কতজন পাচারের শিকার হয়ে আটকা রয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি।
দেশে ফেরার অপেক্ষায় আরও ১ হাজার ৪০০ বাংলাদেশি: কম্বোডিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে সহায়তা চেয়ে থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের কাছে ১ হাজার ৭৯৬ জন আবেদন করেছেন। ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ জন ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছেন। আনুমানিক ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ বাংলাদেশি এখনও ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
গত ২০ অক্টোবর আরও ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। কম্বোডিয়া ছাড়ার চেষ্টা করার সময় আটক হওয়ার পর বাংলাদেশ মিশনের হস্তক্ষেপে তারা মুক্তি পান। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যাচাই এবং প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ভবিষ্যতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা, নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এবং ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। তাদের আবেদন যথাযথভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, গুমের শিকার হয়ে এখনো ফিরে না আসা ব্যক্তিদের স্বজন এবং ফিরে আসা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪৮ জনের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ‘মায়ের ডাক’সহ কয়েকটি সংগঠন সহযোগিতা করেছে।
তিনি বলেন, গুমের শিকার হয়ে এখনো ফিরে না আসা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কেউ স্ত্রী, কেউ সন্তান, কেউবা বাবা-মা। তাদের আবেগ, বেদনা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা শুনে কমিটির সদস্যরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে তাদের বক্তব্য শেষ করতে পারেননি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মূল দাবি হলো-ভবিষ্যতে যেন কেউ গুমের শিকার না হন, গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুটি ব্যবস্থা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে। দায়ী ব্যক্তির সম্পদ না থাকলে বা তা থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পত্তির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও আইনে বিধান রাখা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে এসব সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশে আর কখনো এমন সময় ফিরে না আসুক। গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক। এ দেশে আর কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ঘটনা না ঘটুক। পুলিশি ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনাও বন্ধ হোক।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রত্যেক নাগরিক ন্যায়বিচার পাবেন। এ জন্য সংবিধানে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, সেগুলো সংবিধানে এবং যেসব বিষয় আইন বা বিধিবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব, সেগুলো সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের সুরক্ষা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অধিকারের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনে আরও আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
গুমের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনীর সংশ্লিষ্ট শাখা দিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করা হবে না; অন্য বাহিনী তদন্ত করবে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে তদন্তপ্রক্রিয়া, জবাবদিহি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আর বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।
বিরোধী দলের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে সমালোচনা ও আন্দোলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে তাদের দাবি ও মতামত তুলে ধরলে সেগুলো বিবেচনার সুযোগ থাকত।
সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষক, সম্পাদকমণ্ডলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে কমিটি নানা প্রস্তাব পেয়েছে। এসব প্রস্তাব সংকলন করে কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হবে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। তবে এর গঠনপ্রক্রিয়া, কার্যপরিধি, গঠনের সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি বা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পরীক্ষা করা হবে। সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপনের পর বিতর্কের সময়ও নতুন প্রস্তাব আসতে পারে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন অংশ নেন।
বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী তাদের অভিজ্ঞতা, নির্যাতনের ঘটনা এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সকল নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের জন্য ভালো কিছু করা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যার সুফল প্রবাস ও দেশের সকল বাংলাদেশি ভোগ করবেন। সভায় উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিসহ জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার অংশ হিসেবে আগামী বছর থেকেই প্রাথমিক স্তর থেকে স্কুলগুলোতে জাপানিসহ ফরাসি, জার্মান ও অন্যান্য বিদেশি ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, আগামী পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতালগুলোর বর্তমান ৫০টি শয্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে ডায়াবেটিস ও ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরির জন্য এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই নারী হবেন। এর ফলে বড় শহর বা বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী করতে কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা ও দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের দেশে শিক্ষক বা অন্য কোনো ভূমিকায় কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সম্ভাব্য উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে। পরিশেষে, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির এই যাত্রায় প্রবাসীদের সর্বাত্মক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে থাকলেও তারা এ দেশেরই সন্তান এবং দেশের কল্যাণে প্রত্যেকেরই সমান সুযোগ ও দায়িত্ব রয়েছে।
জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার সম্ভাব্য খরচের প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নভেম্বরের শুরুতেই মালয়েশিয়ার মেডিকেল প্রক্রিয়া শুরু হবে। দু–চার দিন পরে মেডিকেল করার পরেই কর্মীরা যেতে পারবে। নভেম্বরের এক তারিখ বা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমরা বলতে পারি যে ফ্লাইট উইল স্টার্ট।’
নুরুল হক বলেন, ‘মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ–আলোচনা সাপেক্ষে আমাদের মন্ত্রণালয় মেডিকেলগুলোর তালিকা ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে। এ তালিকা তারাও (মালয়েশিয়া) তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মেডিকেলের বিষয়ে আলাপ–আলোচনা হয়েছে এবং ৩১ তারিখের মধ্যে মালয়েশিয়া ফাইনালি ডিক্লেয়ার করবে তালিকা সেটা আমাদেরকে ব্যক্ত করেছে। মেডিকেল খরচটা আজকে আমরা বসে নির্ধারণ করে দেব। আর যাওয়ার ক্ষেত্রে মোটামুটি কত একটা খরচ হতে পারে। আশা করা যায়, নভেম্বরে এভরিথিং উইল বি ওপেন।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘বোয়েসেল থেকে আমরা যেটা আলাপ–আলোচনা করে দেখলাম ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো পড়তে পারে। আর প্রাইভেটেরটাও আমরা একটু এস্টিমেট করে তাদের সাথে আলাপ–আলোচনা করে নির্ধারণ করে দেব।’
শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল লক্ষ্য।
একথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে নূন্যতম মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মানদণ্ড বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, ‘শুধুমাত্র একটা ভালো নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে সবগুলো নির্বাচন সেই একই মানদণ্ডের হয়, সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা শুধু এককালীন আয়োজন নয়। একটা ভালো নির্বাচন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং দেশে একটা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব নির্বাচন ওই মানের হয়। সেই ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে।’
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও একই মানদণ্ডে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। সম্ভব হলে আরও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এক্ষেত্রে সব অংশীজনের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে ইসি
গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, এই অঙ্গীকারই কমিশনকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণেই এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সিইসি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টের মধ্যে কোনো খাদ নেই।
আসন্ন ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের মতোই আগামী নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। কমিশনের ওপর কোনো পক্ষের চাপ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেভাবেই কাজ করছেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সিইসি।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সিইসি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা খুবই দরকার। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই নভেম্বর মাসের মধ্যেই তাদের সঙ্গে বসব আমরা।’
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে এবং পূর্ণমাত্রায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে তা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
ইউপি নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, কঠোর হবে আচরণবিধি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিইসি। ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে। এ কারণে আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত করা ক্যামেরাও থাকবে। এতে নির্বাচনে সহিংসতা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তা রেকর্ডে থাকবে।
সিইসি বলেন, ‘আচরণবিধি আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিইসি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত মূল্যায়নে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন এবং সামগ্রিক নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
সিইসি বলেন, মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা, নির্বাচন কমিশনকে আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিইসি বলেন, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা মানুষের আস্থা ফেরানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের সহযোগিতায় গুরুত্ব
ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মানুষের আস্থা ধরে রাখা, প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সিইসি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ এমন হতে হবে, যাতে মানুষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তার সুযোগ না থাকে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সবার সহযোগিতা কমিশনকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কমিশনের দরজা উন্মুক্ত। তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র কমিশন থেকে দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রেস ক্লাবের সাথে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
তিনি বলেন, কমিশন সব সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায় এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সাংবাদিকদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে।
অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা জানান সিইসি।
তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিকার যেন স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
কালো টাকা ব্যবহার ও ভোট কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিইসি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সব অংশীজন নিয়ম মেনে নির্বাচনী মাঠে থাকলে কমিশনের জন্য অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
১০ মাস থেকে এক বছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ইতিহাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করেন। নির্বাচন না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কার্যক্রমের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রয়োজন হয়। এ কারণেও ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সিইসি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমের সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি।
তিনি বলেন, নারী ভোটার পাওয়া গেলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তুলনামূলক কঠিন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নিরুৎসাহিত করা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক প্রচারণা নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।
এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।
সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য আইনে রাখা হয়েছে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ সুযোগ
তরুণদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে ভোটার হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানান সিইসি।
তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগে বছরের ১ জানুয়ারিকে ভিত্তি ধরে বয়স গণনা করা হলেও এবার নতুন সুযোগের ফলে আরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সব পক্ষের সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। একইসাথে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কমিশন।
সিইসি বলেন, কমিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। সূত্র: বাসস
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর কর্মপরিকল্পনার ওপর জোর দেন এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গাড়ির ত্রুটিমুক্ত অবস্থা এবং চালকদের মনোভঙ্গির প্রসঙ্গ টেনে সড়কমন্ত্রী বলেন, “চালকদের আচরণ পরিবর্তন কিংবা গাড়ির ফিটনেস নিয়ে কথা বললেই অনেকে ক্ষুব্ধ হন। অথচ সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কেউ যদি বলতে পারেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কোন কাজটি করলে সড়কে একটি প্রাণও ঝরবে না, তাহলে আমরা তা করতে প্রস্তুত। সরকারও সেই দায়িত্ব নিতে চায়।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য চলাকালে উপস্থিত চালকদের একাংশ হট্টগোল শুরু করলে তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেভাবে মেজাজ হারাচ্ছেন, স্টিয়ারিংয়ে বসেও যদি এভাবে মেজাজ হারান, তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে না। সবার কথা শুনতে হবে, তা মানতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় কেউ কারও প্রতিপক্ষ নন; বরং সবারই দায়িত্ব রয়েছে।”
সড়কপথে প্রাণহানির পরিসংখ্যানের সার্বিক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, “প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে মানুষ সড়কে মারা যাচ্ছেন। তবে সব দুর্ঘটনাকেই সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো ভ্যান উল্টে খাদে পড়ে কেউ মারা গেলে তার দায় সরাসরি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপানোর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।”
চালক সংকট ও সচেতনতার ঘাটতি চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দক্ষ ও যোগ্য চালক নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিবর্তন চান। তবে কিছু ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে না। তার অর্থ এই নয় যে সরকার হাল ছেড়ে দিয়েছে। যে কোনো মূল্যে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।”
আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি আরও বলেন, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একে অপরের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।”
শহরাঞ্চলে অটোরিকশার বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অটোরিকশার কারণে জনজীবনে সমস্যা তৈরি হওয়া নিয়ে অনেকে আপত্তি জানান। কিন্তু যারা এর বিরোধিতা করেন, তাদের মধ্যে কতজন নিজেরা অটোরিকশায় ওঠা বন্ধ করেছেন, সেই প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।”
একইভাবে ফুটপাত অবৈধভাবে দখল হওয়া এবং পথচারীদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে আত্মোপলব্ধির তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন না করলে দেশের আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধও জরুরি।”
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট সকলকে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোথায় কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাব দিলে সরকার তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের ওপর দায় না চাপিয়ে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলেই নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হবে।”
উক্ত সভায় আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। এছাড়া অংশীজনদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ, প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার সকালে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল প্রাঙ্গণে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন যেভাবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, ঠিক সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।
নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, চলমান উপনির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে না। একইভাবে তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতেও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা রাখবে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার কোনো মানসিকতা বর্তমান বিএনপি সরকারের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।
আজ জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতা চান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানী বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।’
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তাঁর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।
এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো।
বুধবার জাপানের টোকিওতে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার জন্য অনুরোধ জানানো হলে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য জেবিআইসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।’
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জাপানের বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতি ইউনিক্লোর আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন।
এ সময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে আরও বিনিয়োগের জন্য ইউনিক্লোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবার (কৃত্রিম তন্তু), টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং টেকসই পোশাক উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে জমির ব্যবস্থা, বিনিয়োগ অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণে সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ। এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই। সূত্র: বাসস
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্য সরকারের অবস্থান নয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’ গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ–সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না, এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কাস্টডিয়াল ডেথ (পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু) সহ্য করবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার যা যা দরকার, সব করবে।
এর আগে দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে বিএনপি দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাদের ভাবিয়ে তুলছে।
সোমবার ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’— আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের এই বক্তব্যের পরপর তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ জানায়।
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর একটি ব্যাখ্যা দেয়। তাতে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন।