পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশে উন্নয়ন ও জ্বালানি সংকটসহ চাপ মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা দেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে এআইআইবির প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, বৈঠকে জ্বালানি সংকটের সমাধান, উন্নয়ন ও বিনিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার এআইআইবির সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে সে বিষয়েও কথা হয়। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে তাদের সহযোগিতার বিষয়ে উভয়পক্ষ খোলামেলা কথা বলেছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বান্ধব হওয়ার যে প্রক্রিয়া ও সমস্যা তা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ নিয়েও মতামত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন প্রকল্পের বাইরে সরকারি যেসব প্রকল্প বন্ধ হয়েছে, সেগুলো চালুর বিষয়েও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াো বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
দেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’-এর নির্বাচন আগামী ১৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল সভায় এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান এ এস এম বদরুল আনোয়ার, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন, রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম, রোল অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. মাইনুল আহসান, হাউজ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মহসিন মিয়া, ল’ রিফর্ম কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া, কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট এ টি এম ফয়েজ উদ্দিন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম খান সভায় অংশ নেন।
ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। নিহতদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাহরাইন থেকে আসা রেমিট্যান্স যোদ্ধা এস এম তারেকের মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি নতুন ভিসা কিংবা পুরোনো ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন, তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন প্রবাসে নিরাপদে জীবনযাপন ও কাজ করতে পারেন, তার জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় স্থানীয় দূতাবাসগুলো সব সময় সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। আর শাস্তির বিধানসহ এটি আইনে পরিণত হলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে আরও বেগ পেতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর তা কার্যকারিতা হারাবে।
গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশে এখনই উত্থাপন নয় এবং চারটি রহিত করে হেফাজতের সুপারিশ রয়েছে প্রতিবেদনে।
যে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এর অন্যতম হলো– ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশ বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।
এনসিপি নেতারা গত বছরের ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।
১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না দলটি।
আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অধ্যাদেশে বলা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে। ফলে এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শাস্তির বিধান ছিল না।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে সংসদের বিশেষ কমিটি। সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাজার বিধান নেই অধ্যাদেশে। সাজার বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।’
অবশ্য কী ধরনের সাজার বিধান যুক্ত করা হবে– এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য জানা যায় নি। তবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য আইনের ১৬ ধারায় যেসব সাজার বিধান রয়েছে, সেগুলোই প্রযোজ্য হবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য।
আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে মন্তব্য করতে চায় না বলে জানিয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুর রহমান। তবে তিনি এ বিষয়ে গনমাধ্যমকে বলেছেন, যা করার জনগণই করবে। দল নিষিদ্ধ হওয়া ও কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আওয়ামী লীগের জন্য নতুন নয়। অতীতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলা করেছে আওয়ামী লীগ।
অধ্যাদেশটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আওয়ামী লীগ আদালতে যাবে কিনা– এমন প্রশ্নে আবদুর রহমান বলেন, যেখানে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে তাই নেওয়া হবে। যেখানে প্রতিবাদ করার দরকার হবে, সেখানে প্রতিবাদ করা হবে।
জ্বালানি সাশ্রয় ও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ অফিসের সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে বিকেল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ হবে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখতে হবে। তবে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও খাবারের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। এটি কঠোরভাবে মনিটর করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন। সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনা দেবে, যা আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হতে পারে। এ ছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে এবং যানজট নিরসনে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ‘ইলেকট্রিক বাস’ আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব স্কুল এই উদ্যোগে অংশ নেবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কোনো পুরনো বাস আনা যাবে না। সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ মাস পর্যন্ত সরকারি কোনো নতুন গাড়ি (সড়ক, নৌ বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সব বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কোনো ধরনের বেসরকারি বিয়ে বা উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন কিছুটা ইনসিকিউর হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গাড়ি কিনতে সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ আপাতত বন্ধ:
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। সরকারের পরিচালন ব্যয় কমাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি অর্থায়নে সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ, সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।
উল্লেখ্য প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা (উপসচিব ও এর ওপরের কর্মকর্তা) সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ নিয়ে গাড়ি ক্রয় করতে পারেন। ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী এ সুবিধা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু ঋণ সুবিধাই নয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ভাতা পান। এ ছাড়া, গাড়ির জন্য প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রযোজ্য রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পুরোনো কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানালেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি অপতথ্য রোধে কার্যকর ভারসাম্য বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পাবনা জেলা স্কুল চত্বরে ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও দায়িত্বশীলতার সীমারেখা।’
‘সাইবার জগৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিকাশের ফলে তথ্যের ধারণা ও বিস্তারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন-কানুন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি।’ - যোগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও এই ডিজিটাল পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছেন এবং খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী ও পাবনা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ আহমেদ পরাগ, পাবনা জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান, জেলা ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি তারেক খান এবং সাধারণ সম্পাদক রনি ইমরান অন্যান্যরা।
পরে মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পৌর মিলনায়তনে পাবনা বইমেলা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন করেন।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সংস্থাটির ফুড প্রাইস ইনডেক্স বা খাদ্যমূল্য সূচকে এ তথ্য জানিয়েছে। এফএও’র এ তথ্যে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মূল কারণ জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য।
এক বিবৃতিতে এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দামের বৃদ্ধি এখন পর্যন্ত পরিমিত পর্যায়ে আছে। কিন্তু এই সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং সারের চড়া দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ৩৫তম দিনে গড়িয়েছে। ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, ‘কম সার ব্যবহার করে একই জমিতে চাষ করা, চাষের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া কিংবা সার কম লাগে এমন ফসল চাষ- এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে চাষিরা বাধ্য হবেন। এতে করে ভবিষ্যতে ফলন কমে যাবে। বড় প্রভাব পড়বে চলতি বছরের বাকি সময় এবং আগামী বছরের খাদ্য সরবরাহ ও পণ্যের দাম নির্ধারণে।’
জাতিসংঘের সংস্থাটির সূচক অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে- ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে পাম অয়েলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে। প্রভাব পড়েছে কয়েক লাখ মানুষের ওপর। যুদ্ধের এ পর্যায়ে এসে উভয়পক্ষ অর্থনৈতিক ও শিল্প এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব রণক্ষেত্রের বাইরেও গভীর হচ্ছে।
তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। বরং ইরানে হামলা আরও জোরদারের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পাল্টা জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে বলেছেন, ‘সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে না।’
সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলের একটি চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে এসে পৌঁছেছে ‘ইয়ান জিং হে’ নামের একটি জাহাজ। শিগগিরই আরও দুটি জাহাজ ডিজেল নিয়ে বন্দরে ভিড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ‘ইয়ান জিং হে’ নামের জাহাজটি বন্দরে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘ইয়ান জিং হে’ জাহাজটি ভোরে বহির্নোঙরে পৌঁছেছে এবং একে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামের আরও একটি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে আসছে। এ ছাড়া আজ শনিবার এলএনজি নিয়ে আরও একটি জাহাজ আসার কথা আছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে মার্চ মাসে বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি নিয়ে মোট ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল, ৮টি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং ৯টি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে এসেছিল।
জাহাজ দুটির শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড’-এর স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল শুক্রবার আসা জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল নিয়ে এসেছে। জাহাজটি বর্তমানে ডলফিন জেটিতে বার্থিংয়ের অপেক্ষায় আছে। রাতে মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে পৌঁছাবে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান।’
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯৪৭ শিশু। এ সময় মারা গেছে ৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ৪২ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এসব জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে গত একদিনেই ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ৫২৭ জন।
এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
তবে পূর্বে প্রকাশিত তথ্য সংশোধন করে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা থেকে ৫টি মৃত্যু বাদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের তথ্য বলছে, জেলা পর্যায় থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে এসব মৃত্যু জাতীয় প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া (৩), লক্ষ্মীপুর (১) ও চাঁদপুর (১)।
এদিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে আরও একজন হামে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা সর্বশেষ প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সে নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে ভিন্ন ধরনের যান চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ ধরনের অপরাধে জেল ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিআরটিএ সদরদপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স বা হালনাগাদ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি জনসমক্ষে মোটরযান চালাতে পারবেন না কিংবা কাউকে চালাতে দিতে পারবেন না।
এছাড়া ধারা ৪(২) অনুযায়ী, লাইসেন্সে উল্লেখিত ক্যাটাগরির বাইরে অন্য কোনো ধরনের যান চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ধারা ৫(১) অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া কেউ গণপরিবহন চালাতে বা চালাতে দিতে পারবেন না।
আইন ভঙ্গ করলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
বিআরটিএ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এমনকি শারীরিক বা মানসিকভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হলেও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করে, সাম্প্রতিক সময়ে লাইসেন্সবিহীন চালনা, ভুল ক্যাটাগরির যান ব্যবহার, বেপরোয়া গতি ও বিশৃঙ্খল ড্রাইভিংয়ের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে, যা প্রাণহানি ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে চালকদের বৈধ লাইসেন্স ব্যবহার এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদেরও চালকদের বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের রুহের মাগফিরাত কামনায় রাজধানী গুলশানের সোসাইটি জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ওই মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এ সময় তিনি তার সহধর্মিণীর সঙ্গে দীর্ঘ ৫৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথা উল্লেখ করেন।
স্পিকার বলেন, তার সহধর্মিণী একজন ধার্মিক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ ও রোজা আদায় করতেন। স্পিকার মরহুমা সহধর্মিণী ও তার মৃত মা-বাবার জন্য মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
একইসঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির উন্নতি ও কল্যাণে সকল নাগরিককে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মরহুমা দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সরকারি ইডেন কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দোয়া মাহফিলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, সংসদ সদস্য মো. মজিবর রহমান সরওয়ার, সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনা কর্মকর্তারা, ভোলা-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মী, আপামর জনসাধারণসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে জাপানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিইকো।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩ মার্চ এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, একজন রিকসা চালকের রিকসা চালানোর অধিকার, একজন কৃষকের চাষাবাদের অধিকার এবং তাঁদের ঘাম ও শ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন পাওয়াই হলো স্বাধীনতার স্বাদ। প্রকৃত স্বাধীনতা মানে হলো জনগণের রুটি রুজির অধিকার ফিরে পাওয়া।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চীফ হুইপ এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের পর জনগণ স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসনের একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মানুষ ভালো থাকায়ই বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মানুষ অনাহারে থেকেছে। দূর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তির বমি আরেক ব্যক্তি খেয়েছে। মা ছেলেকে লাশ বানিয়ে ভিক্ষা করত। ঠিক সেসময়েই আবার কামালের বিয়ে হয়েছে মুকুট পরিয়ে। আইন শৃংখলা বলে কিছু ছিলনা। বাবাকে বাধ্য করা হয়েছে ছেলের মাথায় কুড়াল চালাতে, যুবলীগের ছেলেরা লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র পেত। পথে ঘাটে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যেত। এসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের চাপে দায়িত্ব নেন। তার খাল খনন কর্মসূচির ফলে তিন বছরের মাথায় খাদ্য সংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ প্রথম খাদ্য রপ্তানি করে সেনেগালে।
জুলাই সনদ নিয়ে চীফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না। বিএনপি এই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা নেই। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে যাতে আইনী প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোন প্রশ্ন না উঠে।
বিরোধী দল প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, তারা একের পর এক অবস্থান বদলাচ্ছে, কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে। নির্বাচনের আগে তারা পিআর পদ্ধতি চেয়েছিল। আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা আমাদের পাশের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এই ব্যবস্থা নেই। তারা বলছিল পিআর না দিলে নাকি নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা তখন স্পষ্ট বলেছি, কোনো বিশেষ অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচন আটকে রাখা যাবে না।
শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাকে অরক্ষিত রেখে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তারই দল আওয়ামী লীগ দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। তারেক রহমান সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি টাকা চুরি করতে আসেননি। তিনি একজন সাশ্রয়ী মানুষ, যিনি নিজের অফিসে সেন্ট্রাল এসি চালান না এবং রাত ৩টায় ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়। তারেক রহমান কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন এবং প্রস্তাব রেখেছেন যে, দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটান জিয়াউর রহমান। পৃথিবীর একমাত্র সামরিক শাসক যিনি মার্শাল ল জারি করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা দেন। যার ফলে বর্তমান সময়ে এত মিডিয়া চালু রয়েছে। বিনা বাধায় মানুষ এখন তারেক রহমানের ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন আকতে পারে। এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ সমালোচকদের প্রশংসাও করেন।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়বার দেশে অন্ধকার নেমে এলে দায়িত্ব নেন বেগম খালেদা জিয়া। মানুষের ভাগ্য বদলাতে থাকে। দেশের উন্নয়ন হয়। ‘বেগম জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভালো থাকল, কেন দেশের উন্নতি হলো? শুধু এসব কারণে আমরা ১৭ বছর অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করেছি। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে এবং এর প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়ে দেখা করার নজিরও তিনি স্থাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া ও অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।