পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল, অথচ গভীরভাবে বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ এবং যারা আহত হয়ে আজও জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দেড় বছর অতিক্রম করলেও আন্দোলনে আহতদের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। আহতদের অনেকেই বারবার আবেদন করেও পাচ্ছেন না সহায়তা। দীর্ঘসূত্রতা, অর্থ সংকট এবং প্রশাসনিক ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর (প্রধান নির্বাহী)
সোহেল মিয়া ( জেনারেল ম্যানেজার)
মো জাহিদ হোসাইন ( গণসংযোগ ও মিডিয়া প্রধান), আমানুল্লাহ সাকিব (ভেরিফিকেশন প্রধান), সাকিব হাসান (আইটি প্রধান) ও মাহফুজ (কল সেন্টার প্রধান)।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সামনে একাধিক সংকট একযোগে উপস্থিত হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, স্থায়ী ও অস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক আঘাত, কর্মসংস্থান সংকট এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা - এই বহুমাত্রিক সংকটগুলো মোকাবিলার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশন মানবিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ফাউন্ডেশন চারটি মূল ম্যান্ডেটকে কেন্দ্র করে তহবিল সংগ্রহ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চাকরি, স্বনির্ভর কর্মসংস্থান ও আবাসনের মাধ্যমে টেকসই পুনর্বাসন, গবেষণা, নথিভুক্তকরণ ও স্মৃতি সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো স্বচ্ছ যাচাই ও নীতিমালাভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশন ১১৯ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
যাচাই-বাছাই ও তথ্য যাচাই শেষে এর মধ্যে ১১৬ দশমিক ২১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এই সহায়তার আওতায় ৮২৯টি জুলাই শহীদ পরিবার পেয়েছে ৪১ দশমিক ২৭ কোটি টাকা, ৬,৪৭১ জন আহত জুলাই যোদ্ধা পেয়েছেন ৭৪ দশমিক ২১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৭,৩০০ জন শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধা মোট ১১৬ দশমিক ২১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
তবে আমাদের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। এখনো ৭,৭৬৯ জন আহত জুলাই যোদ্ধা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তহবিলের পরিমাণ প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা। এই লক্ষ্য পূরণে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ধারাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ফাউন্ডেশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সম্মানজনক ও টেকসই পুনর্বাসনই আহত জুলাই যোদ্ধাদের দীর্ঘমেয়াদি মুক্তির পথ।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে এ পর্যন্ত ৭,০৮২ জন আহত জুলাই যোদ্ধা পুনর্বাসনের জন্য ফাউন্ডেশনে আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের আগ্রহ বিশ্লেষণে দেখা যায় প্রায় ২৫ শতাংশ দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী, ২০ শতাংশ চাকরিতে যুক্ত হতে আগ্রহী, এবং ৫৪ শতাংশ স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা গড়ে তুলতে আগ্রহী।
এই পরিসংখ্যান আমাদের পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবভিত্তিক, প্রয়োজননির্ভর ও কার্যকর করে তুলেছে।
এ পর্যন্ত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৮২ জন আহত জুলাই যোদ্ধার টেকসই পুনর্বাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় তাদের জন্য স্বনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, পেশাভিত্তিক পুনঃসংযুক্তি এবং ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী সহায়ক সরঞ্জাম প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে তারা সম্মানজনক ও স্থায়ী জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে ২৩ জন আহত জুলাই যোদ্ধার পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে মোট ৪২ লাখ টাকা সরাসরি পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে। এই উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের একটি বাস্তব উদাহরণ।
এছাড়া এসএমই-এর মাধ্যমে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য চারু ও কারু প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিকেএসপির মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য প্যারালিম্পিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে আর্চারি, শুটিং ও টেবিল টেনিস বিভাগে।
এছাড়া বিটিসিআই-এর মাধ্যমে মৌলিক চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেসিক ফিল্ম মেকিং, ফিল্ম এডিটিং, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, সেট ডিজাইন ও ডকুমেন্টারি মেকিং। এর পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টারের জন্য ১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির একটি গর্বিত ও অনুপ্রেরণাদায়ক অর্জন হলো আহত জুলাই যোদ্ধা আমাউল্লাহ, যিনি ১০ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্যারালিম্পিকে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব। এ পর্যন্ত ৮০৪ জন জুলাই শহীদের ঘটনা, ছবি, পরিবারিক তথ্য ও বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে, ৩০০টির বেশি শহীদের ভিডিও ডকুমেন্টারি, ৪০টির বেশি আহত যোদ্ধার ভিডিও ডকুমেন্টারি, আন্দোলনকালীন দুর্লভ ভিডিও ফুটেজ, এবং সেই সময়কার সব প্রিন্ট মিডিয়া রিপোর্ট ও কাটিং সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই আর্কাইভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি প্রামাণ্য, নির্ভরযোগ্য ও ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করবে।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বাবলম্বী জীবন নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, সমাজের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এই তিনের সমন্বয়েই আমাদের এই জাতীয় দায়িত্ব আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৬৯ হাজার বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক বা রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদানের প্রক্রিয়ার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পাসপোর্ট প্রদানের ইতিবাচক ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এবং বাংলাদেশের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এ বিষয়ে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান যে, এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি বিশেষ টিমও পাঠানো হয়েছে, তবে আবেদনের তুলনায় পাসপোর্টের এনরোলমেন্টে উপস্থিতির হার কিছুটা কম। এই পরিস্থিতির বিষয়টি ইতোমধ্যে সৌদি আরবের ইন্টেরিয়র মিনিস্টারকেও অবহিত করা হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন যে, সৌদি আরব বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এটি কেবল ইসলামের পবিত্র ভূমি হিসেবেই নয়, বরং ৩২ লাখেরও বেশি প্রবাসী কর্মীর দ্বিতীয় আবাসস্থল হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের বিশাল অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যতে দেশটিতে আরও বেশি জনশক্তি আমদানির জন্য রাষ্ট্রদূতকে বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এর মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
এ সময় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।” এছাড়া সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মেয়াদে রিয়াদে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য সৌদি ইন্টেরিয়র মিনিস্টারের একটি আমন্ত্রণপত্র উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকায় উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে সেখানে উপস্থিত থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপযুক্ত প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে আসীন থেকে ক্রিকেটারদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করাকে তিনি ‘দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “বিসিবির একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে পুরো ক্রিকেটকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এখন একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে থাকছি, সেখানে এমন মন্তব্য সমস্ত ক্রিকেটারদের অপমান করার শামিল।”
ক্রীড়া উপদেষ্টা মনে করেন, যেখানে বিদেশের মাটিতে দেশীয় ক্রিকেটারদের সম্মান রক্ষায় পুরো জাতি সোচ্চার থাকে, সেখানে খোদ বোর্ডের ভেতর থেকেই এমন অবমাননাকর আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন মোস্তাফিজুর রহমানকে (আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে) অপমান করা হয়েছে বলে যেখানে পুরো বাংলাদেশ রুখে দাঁড়িয়েছে, সেখানে বিসিবির ভেতর থেকেই পুরো ক্রিকেটব্যবস্থাকে ছোট করে দেখা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” বর্তমান এই অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে বিসিবি কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিপিএল স্থগিত হওয়া এবং ক্রিকেটারদের বয়কট কর্মসূচির কারণে আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা প্রচণ্ডভাবে বিশ্বকাপ খেলতে চাই এবং শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। পরিস্থিতি যাই হোক, আমি মনে করি, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই অসম্ভব নয়।” ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে এবং চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো আহ্বান জানান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের কন্যা ও এশিয়ার প্রথম ‘চিফ হিট অফিসার (সাবেক)’ বুশরা আফরিনকে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম শুরু হয়, যা প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে কারাবন্দি সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান ব্যাপক দুর্নীতির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই তার পরিবারকে এই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি তদন্তের স্বার্থে সাবেক চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন ও তার মা শায়লা সাগুফতা ইসলামের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন আদালত।
সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি এবং মশার লার্ভা নিধনের যন্ত্র কেনাকাটায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয়সহ অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
সংস্থাটি জানায়, আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে— বিশেষ করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক মেয়রকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মূলত পরিবারের সদস্যদের নামে পাচারকৃত ও অর্জিত অবৈধ সম্পদের তথ্যের সত্যতা যাচাই করতেই আজ বুশরা আফরিনকে তলব করা হয়েছিল।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেওয়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে তারা সায়েন্সল্যাব এবং মিরপুর টেকনিক্যাল মোড় থেকে সরে দাঁড়ালে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেছেন যে, আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তারা আবারও সায়েন্সল্যাব মোড় ব্লকেড করে গণজমায়েত মঞ্চ তৈরি করবেন।
এর আগে দুপুর ১টা থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধের কারণে রাজধানীর একটি বড় অংশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে টেকনিক্যাল মোড়েও শিক্ষার্থীরা সড়ক দখল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির আহ্বান জানান। দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় মিরপুর ও নিউ মার্কেটমুখী সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও আগামী সপ্তাহের নতুন কর্মসূচি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অবরোধের কারণে বাসটি আটকে পড়লে বাসে থাকা ঢাবি শিক্ষার্থী ও আন্দোলনরত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিম বাসটি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পেছন দিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে বাসের কাচ ভেঙে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং বাসের বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি হাজারীবাগে অবস্থিত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। এই হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম জানান, “আমাদের দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালের ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া, একজন সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে বাসটির দুটি জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বিকল্প রুট নির্ধারণের পরিকল্পনা করছি।”
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে নিয়ে আসা হয়েছে। বাসের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে ঢাবির পরিবহন দপ্তরের পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, “বাসের পেছনের গ্লাস পুরোপুরি ভেঙে গেছে, দরজা ও বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন যাতায়াতের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
আসন্ন গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা দেশব্যাপী এক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রমের সূচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়েছে। নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাগণ আজ থেকে শুরু হওয়া এই প্রচার অভিযানের মাধ্যমে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গণভোটের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি জনসমক্ষে তুলে ধরবেন।
প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন জেলার স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন এবং গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন। কর্মসূচির প্রথম দিনে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসহ জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রচারণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ ও প্রভাব জানতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার পরেই বাংলাদেশ সরকার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলক বেশি হারে মার্কিন কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নতুন অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবেন না—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। মূলত পারিবারিক পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান বা স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থগিতাদেশের সুনির্দিষ্ট আওতা, সময়সীমা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের নাগরিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ একটি দায়মুক্তি আইন অনুমোদন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। গণঅভ্যুত্থানকারীদের নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সরকার প্রত্যাহার করবে। নতুন করে মামলা করা হবে না।”
বিগত আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে যেসব মামলা রুজু হয়েছিল সেগুলো সরকার নিজে থেকেই প্রত্যাহার করে নেবে বলে উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের যেকোনো প্রকার হয়রানি থেকে মুক্ত রাখতে এবং তাদের অবদানের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারির দাবিতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে দ্বিতীয় দিনের মতো টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সড়ক দখল করে অবস্থান নিলে যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর একটি বিশাল মিছিল নীলক্ষেত অতিক্রম করে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। রাজপথ প্রকম্পিত করে শিক্ষার্থীরা এসময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারি করতে হবে। আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মানব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না।” সায়েন্স ল্যাবের পাশাপাশি মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানের ফলে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে সাধারণ নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবারও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল, যার ফলে রাজধানীবাসীকে ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া সাত কলেজের সংকট নিরসনে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে এখনো অনড় রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই খসড়াটি দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ থাকলেও শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ‘অধ্যাদেশ’ জারির দাবি জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে গিয়ে এই পরিচয়পত্র দাখিল করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।
বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন রাষ্ট্রদূতের মেয়াদকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রত্যুত্তরে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর, বহুমাত্রিক এবং ফলপ্রসূ করতে তিনি সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন। তিনি দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বেতন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত সুপারিশ কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্থান না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান বলেন, বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনার আলোকেই দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ শেষে কমিশনের কাছে মোট ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সেই প্রস্তাবনাগুলোর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। কমিটির সুপারিশগুলো এভাবে উপেক্ষিত হওয়ার প্রতিবাদেই তিনি কমিশন থেকে সরে দাঁড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবিক চাহিদা পূরণে এই সুপারিশগুলো অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে তিনি উচ্চশিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে ও এর উন্নয়নের স্বার্থে উপ-কমিটির প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বসহকারে আমলে নেওয়ার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। তার এই হঠাৎ পদত্যাগ শিক্ষা অঙ্গনে এবং বেতন কমিশনের কার্যক্রমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের হাওর ও জলাভূমি রক্ষা এবং এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। বুধবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশটি প্রকাশ করা হয়। নতুন এই আইন অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি অবৈধভাবে দখল, ভরাট কিংবা এর শ্রেণি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সারা দেশের হাওর ও জলাভূমির একটি সরকারি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনে সময় সময় তা সংশোধন বা হালনাগাদ করা হবে।
অধ্যাদেশটিতে হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর এই মহাপরিকল্পনা তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে, যা সরকারের বিদ্যমান নীতি ও কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া হাওর বা জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে মতামত না নিলে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।
নতুন এই আইনে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাওর বা জলাভূমির কান্দা অবৈধ দখল, ভরাট, অননুমোদিত খনন, রূপান্তর কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। অনুমোদন ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্য প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করলেও একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া পানি, মাটি ও পরিবেশ দূষণ করলে ২ বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এমনভাবে পানি উত্তোলন করা যা জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদের ক্ষতি করে, তার জন্য ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও অধ্যাদেশটিতে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল, বৈদ্যুতিক শক, বিষটোপ বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরলে ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। মাছের প্রজনন বা উৎপাদন ব্যাহত হয় এমন কর্মকাণ্ডের জন্য ১ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি বা সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার, জলাবন বা কান্দার বন ধ্বংস কিংবা প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করলে ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার উল্লেখ অধ্যাদেশে করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশও দিতে পারবেন, যা পালন করা বাধ্যতামূলক।