সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ল, জাপার হইচই, ওয়াকআউট, স্পিকারের রুলিং

আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৩ ০০:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২৩ ২২:২০

পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।

বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।

বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।

গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।

সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’

খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।

টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'

জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।

ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’

প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।

সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।

আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।

স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’

ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’

তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।

এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’

মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।

পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।

বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।

তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিষয়:

ঢাকা ওয়াসার এমডির দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব মনিরুজ্জামান

আপডেটেড ৯ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামান।

সোমবার (৯ মার্চ) তাকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

মনিরুজ্জামান স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

মুহা. মনিরুজ্জামান প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন বলে অফিসে আদেশে জানানো হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম ব্যাপারী পদত্যাগ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর তা গৃহীত হয়।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি দেশের শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সাক্ষাৎকালে বেপজা চেয়ারম্যান বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়নে দেশের আটটি ইপিজেড-এর সার্বিক কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।

সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।


নৌ পুলিশের প্রধানসহ পাঁচ কর্মকর্তা অবসরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌ-পুলিশের প্রধান কুসুম দেওয়ানসহ একযোগে বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

রোববার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক ৫ প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।

অবসরে পাঠানো বাকি চারজন অতিরিক্ত আইজিপি হলেন–আবু হাসান মুহম্মদ তারিক, মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ, মো. মাসুদুর রহমান ও মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী। তাদের মধ্যে আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ও মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে মন্ত্রণালয় ন্যস্ত আছেন।

এছাড়া মো. মাসুদুর রহমান মিয়া পুলিশ অধিদপ্তর ঢাকায় (টিআরপদে) এবং তওফিক মাহবুব চৌধুরী সারদা রাজশাহীতে অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করছেন।


১১ মার্চ সরকারি দলের সংসদীয় সভা ডেকেছেন চিফ হুইপ

আপডেটেড ৯ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সংসদীয় সভা আগামী ১১ মার্চ (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওইদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত সরকারি দলীয় সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আজ (সোমবার) সংসদ সচিবালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ নেতার সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সরকারি দলের সকল সংসদ সদস্যকে (এমপি) যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

সংসদ সচিবালয় জানায়, সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদীয় কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই সভায় আলোচনা হতে পারে। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।


২৫শে মার্চ সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউটের পরিকল্পনা সরকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, গণহত্যা দিবসের গাম্ভীর্য ও শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫শে মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই (কী পাওয়ার ইন্সটলেশন) ও জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এবারের স্বাধীনতা দিবসে বর্ণিল আলোকসজ্জার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৫শে মার্চ রাতে কোনোভাবেই আলোকসজ্জা করা যাবে না এবং ২৬শে মার্চের জাতীয় দিবসটি উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হলেও তাতে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কড়া নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে নতুন প্রজন্মের কাছে ২৫শে মার্চের কালরাত ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরাই হবে এসব অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এছাড়া ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে সারা দেশের সিটি করপোরেশন এলাকার ডিজিটাল মিনিপোলগুলোতে গণহত্যা সংক্রান্ত দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পুলিশের আইজিপি এবং জেলা প্রশাসকদের এই কর্মসূচিগুলো নির্বিঘ্ন করার জন্য সমন্বয় করে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৯৭১ সালের সেই কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতায় শহীদদের স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাও পালিত হবে। ২৫শে মার্চ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে। সভা শেষে জানানো হয়, জাতীয় গুরুত্বের এই দুই দিবসকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে এই সভায়।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বাধীনতা দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এবার সারাদেশে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা হবে না। মূলত জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং সরকারি কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ঈদুল ফিতর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।’

রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা ও প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রথাগতভাবে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হলেও বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে তা পরিহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকট যাতে না হয় এবং আমরা যাতে সাশ্রয়ী হতে পারি, সেজন্য দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তবে আলোকসজ্জা না থাকলেও দিবসটির গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষায় কোনো ত্রুটি রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পমাল্য অর্পণসহ সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

আসন্ন ঈদুল ফিতর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সড়কে যানজট ও ভোগান্তি রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’

ঈদের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রস্তুতি সমন্বয়ে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন, যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।’

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত মব জাস্টিস ও বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সহিংস ঘটনা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা মবের বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বাংলাদেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকেও পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।


ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট, ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে

* প্রতি লিটারে ৫-১০ টাকা রাড়তি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের * যুদ্ধের ঠুনকো অজুহাত দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা * যুদ্ধের প্রভাব ভোগ্যপণ্যের বাজার পড়ার সময় হয়নি
ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর অনেক বাজারেই ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট দেখা যাচ্ছে। এখনো খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়েনি। কিন্তু ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভোক্তাদের খোলা সয়াবিন ও পাম তেল কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। যুদ্ধের অজুহাত ঈদ সামনে রেখে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, ৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের গায়ের দাম (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা। ডিলারের কাছ থেকে আগে তারা এই তেল ৯৩০ টাকায় কিনতেন, বেচতেন ৯৪০ টাকায়। ১০ টাকা লাভ থাকত। কিন্তু তিন–চার দিন ধরে তারা ৫ লিটারের বোতল কিনছেন ৯৫০ টাকায়, বিক্রি করেন ৯৫৫ টাকায়। অর্থাৎ ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। তাতে খুচরা বিক্রেতাদের ৫ টাকা লাভ কমেছে। অন্যদিকে ভোক্তাদেরও আগের তুলনায় ৫–১০ টাকা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন তেল কেজি আকারে বিক্রি হয়। গত চার দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৯৮–২০০ টাকায়। চার দিন আগে এ দাম ছিল ১৯৩–১৯৫ টাকা। প্রতি কেজি খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকায়, যা চার দিন আগে ছিল ১৬৫ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, যুদ্ধের সুযোগ নিতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ডিলার পর্যায়ে বেড়েছে বোতলজাত তেলের দাম। এতে খোলা তেলের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ক্রেতাদের অনেকেই যুদ্ধের আতঙ্কে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনছেন। এভাবে যদি আরও দু-তিন দিন তেলের বাজারে টানাপড়েন থাকে, তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

তবে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ বলছেন, ডিজেল সংকটে তেলবাহী পরিবহন পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। এ কারণে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বেড়েছে। এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে বাজারে।

সরবরাহ কমার কারণে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান ডিলাররা। কোম্পানি পর্যায়ে বাড়েনি, কিন্তু ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে কেন জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের তীর ব্র্যান্ডের ডিলার এটিএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম বলেন, তীরের তেলের বেশ সংকট রয়েছে। শনিবার মাত্র ৫০ কার্টন তেল পেয়েছেন তিনি। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দুই থেকে আড়াইশ কার্টন তেল পেতেন।

সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিবহন সংকটে ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছে না। সে জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও ট্রাকের সংকটে বিভিন্ন স্থানে তেল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। এচাড়াও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম।

খোলা তেলের ব্যাপারে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বোতলজাত তেলের কয়েক দিন ধরে সংকট চলছে। খোলা তেলের বাজারেও কিছুটা টান রয়েছে। এ কারণে বাজার বাড়তি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা সব সময় অজুহাত খোঁজেন। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল পরিবহনে সংকট হলেও এ কারণে ভোগ্যপণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে কিছুটা হলেও সময় লাগবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তার আগেই দাম বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, প্রতিদিনই বাজারে তদারকি করা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে জানা নেই। অধিদপ্তরের কয়েকটি টিম পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।


মাসিক পাঁচ হাজার টাকা সম্মানী পাচ্ছেন ইমাম পুরোহিতরা, শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের আগেই

১৪ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করছে সরকার। আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই একটি পাইলট স্কিমের আওতায় এই সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।

রোববার (৮ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ (প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে ১টি করে), ৯৯০টি মন্দির (প্রতিটি উপজেলা হতে ২টি করে), ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার (৭২টি উপজেলা হতে ২টি করে) এবং ৩৯৬টি গির্জা (১৯৮টি উপজেলা হতে ২টি করে) নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ধারিত মাসিক ভাতার পরিমাণ হলো: মসজিদ: ইমাম ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম ২,০০০ টাকা। মন্দির: পুরোহিত ৫,০০০ টাকা এবং সেবাইত ৩,০০০ টাকা। বৌদ্ধ বিহার: বিহার অধ্যক্ষ ৫,০০০ টাকা এবং বিহার উপাধ্যক্ষ ৩,০০০ টাকা। গির্জা: যাজক ৫,০০০ টাকা এবং সহকারী যাজক ৩,০০০ টাকা।

এছাড়া প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় ১ হাজার টাকা করে এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ ও যাজকদের ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে।

পাইলট স্কিম বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ২৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্বাচিত উপকারভোগীদের নিকট সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই সম্মানি পৌঁছে দেওয়া হবে।

দেশের সকল উপাসনালয়কে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হলে বার্ষিক আনুমানিক ৪,৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সরকার আগামী ৪ (চার) অর্থবছরে মোট চারটি ধাপে এটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১,১০০ কোটি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,২০০ কোটি, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩,৩০০ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ ৪,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য স্থায়ীভাবে মাসিক সম্মানি প্রদানের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ৬ (ছয়) সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত সচিবকে (বাজেট/সংস্থা) সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।

এই কমিটির প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো—দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খতিব-ইমাম ও ধর্মীয় প্রধানদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের কর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধিমালা বা নীতিমালা প্রণয়ন করা।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন দেশে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের চার রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। রোববার (৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. মাহফুজুল হক, মো. ময়নুল ইসলাম, এম. মুশফিকুল ফজল (আনসারী) এবং মো. নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রত্যাহারের পর এসব রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।


স্বচ্ছতার পরোয়া না করেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি

আপডেটেড ৯ মার্চ, ২০২৬ ০০:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের স্বচ্ছতার পরোয়া না করেই। সেই সরকার তথ্য কমিশনকে দেড় বছর প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য কমিশন গঠন ও তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তথ্য অধিকার ফোরাম।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, হয়তোবা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কিছু গোপন করার মতো ছিল। যে কারণে পুরো চর্চাটাই ছিল অন্ধকারের মধ্যে। গোপনীয়তার মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণীত হতে দেখেছি আমরা।

আওয়ামী লীগ সরকারে প্রসঙ্গে টেনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল, আর সুযোগ থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেনি।

সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তথ্য অধিকার আইন দিয়ে যেকোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব, যা সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। তথ্যের অধিকার মানে সত্য জানার অধিকার। নাগরিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নাই। গত ১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত ছিল। রাজনৈতিক দলকে যেন সম্পৃক্ত করা হয়, যেন আমরা তাদের হিসেব নিকেশের বিষয়ে জানতে পারি। Politics

বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, তথ্য প্রবাহ ঠিক থাকলে এই যে বাংলাদেশ থেকে এতো টাকা লুট হলো সেটা কমানো যেত। তথ্য কমিশনের ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহিতা দরকার যে কাকে ওই আসনে বসাবে সেটি যেন দলীয় না হয়। আর সরকার পরিবর্তন হলে সব পরিবর্তন করতে হবে এই সংস্কৃতিও পরিবর্তন দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক এবং তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান ও নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে।


বাংলাদেশে ভারতের ঋণ প্রকল্পের জটিলতা সমাধানের আশ্বাস প্রণয় ভার্মার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন বড় প্রকল্পে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দুই দেশের যৌথ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সামগ্রিকভাবে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট, তবে যেসব বড় প্রকল্পে সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।

রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের আর্থিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ভারতের ঋণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক। বড় প্রকল্পে কিছু প্রাথমিক জটিলতা থাকলেও সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে দুই পক্ষই সন্তুষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা সহজীকরণ, করব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ভারতের ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামোর অভিজ্ঞতার কথাও অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছেন বলে জানান প্রণয় ভার্মা। প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্য প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে বিদ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সহজ করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যবসা সহজীকরণের জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে। এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনীতিকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দর ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও ভবিষ্যতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, দুই দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, নতুন ধারণা, প্রযুক্তি এবং জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।


সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ মার্চ গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।


ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার

আপডেটেড ৮ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৩৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের পুলিশের একটি বিশেষ শাখার সদস্যরা বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করেন। ভারতের প্রভাবশালী বার্তা সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারের খবরটি নিশ্চিত করেছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যরা বনগাঁও সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে নিজেদের হেফাজতে নেন। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফয়সাল করিম মাসুদ আত্মগোপনে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আত্মগোপন করার চেষ্টা করেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ফয়সালের বিষয়ে বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার আইনি দিকগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো একটি স্পর্শকাতর ও আলোচিত মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এই মামলার তদন্তে বড় ধরণের অগ্রগতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে ফয়সাল ভারতীয় পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন।


banner close