পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আগামী ১ জুন পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন সফটওয়্যার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, ২৪ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে ১ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত বিডিআরআইএস (BDRIS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সকল প্রকার নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। সিস্টেমের আধুনিকায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়।
সফটওয়্যার বন্ধ রাখার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন এক জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো অননুমোদিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সরকারি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কারিগরি দক্ষতার অভাব অথবা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের অজুহাতে ইউজার আইডি অন্যের হাতে হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে কঠোর তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি কোনো ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কারিগরি সমস্যার কারণে নিবন্ধনকারীর দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তবে তার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নিয়মিত বেতনভুক্ত ‘হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ২০১৮ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিয়মিত কর্মচারীদেরই এই সিস্টেমের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা যাবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য কাউকে এই তথ্য প্রদান করা হলে তা বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় আরও সতর্ক করেছে যে, ব্যক্তিগত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং এটি করা একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। অনিবন্ধিত বা বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তথ্য এন্ট্রি করার ফলে সিস্টেমের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে পাসওয়ার্ড সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ১ জুন থেকে পুনরায় সফটওয়্যারটি চালু হলে সাধারণ মানুষ আগের মতোই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে নিবন্ধক কার্যালয়গুলোর কার্যক্রমে আরও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছে। এর মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
সোমবার (২৫ মে) দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে এসব মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত আরও অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক দুর্ঘটনার চিত্র-
টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ প্রাণহানি: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতি উপজেলার সরাতৈল এলাকায় সোমবার ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রডবাহী ট্রাক রাস্তার পাশে খাদে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৫ জন যাত্রী রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারা সবাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাশ্রয়ী ভাড়ায় ট্রাকে চড়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। কালিহাতি ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, “টাঙ্গাইলে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের পরিচয় মিলেছে”। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য ২৫ হাজার এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু: কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে অলওয়েদার সড়কে চালবোঝাই পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ভাতশালা সেতুর কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কোচিং সেন্টার পরিচালক মনির হোসেন (৩৭), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান। কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, তারা মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় বিপরীতমুখী পিকআপের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিথর হয়ে যান।
বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় ৪ জনের প্রাণহানি: বগুড়ার কাহালু উপজেলায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা জেসমিন খাতুন ও মেয়ে তণু আক্তার নিহত হয়েছেন। কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।” এছাড়া শাজাহানপুর উপজেলায় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা আনিছুর রহমান ও তার ৪ বছরের মেয়ে পুষ্পর মৃত্যু হয়েছে। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
সিরাজগঞ্জে দুই শিশুর মৃত্যু: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজি ও ভটভটির সংঘর্ষে ৮ বছরের সারা খাতুন এবং মশিপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকচাপায় ৭ বছরের আহম্মদ মারা যায়। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, “আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
মানিকগঞ্জে মোটরসাইকেল চালক নিহত: মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিপরীতমুখী দুটি যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জে ত্রিমুখী সংঘর্ষে চালক নিহত: গোপালগঞ্জ সদরের সোনাশুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহম্মেদ জানান, একটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতমুখী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।
পবিত্র ঈদুল আজহার অবকাশকালীন সময়েই দেশের প্রশাসনিক উচ্চস্তরে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে প্রকাশিত পৃথক আদেশের মাধ্যমে তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।
জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, "অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।" এই পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে উন্নীত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
রদবদলের এই প্রক্রিয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকেও সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক প্রয়োজনে পৃথক এক আদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই ২ কোটির অধিক শিশুকে প্রতিষেধকের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং হামের টিকাদান কার্যক্রমে সাফল্যের হার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আজ দুপুরে কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি উপজেলায় হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে।’ এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে রোগ সংক্রমণের প্রকোপ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা।’
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে এদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি জরুরি সেবা প্রদান, রোগীদের ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ততা খতিয়ে দেখেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের পথ্যের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন। মন্ত্রীর এই সফরের সময় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহ জাহান, সহকারী পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা এবং স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। এতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।
তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য রাখা হবে ৪টি এবং বের হওয়ার জন্য ৭টি গেট।
এছাড়া কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পশুর বর্জ্য ড্রেনে না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে, যাতে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা যায়।
চলতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সোমবার (২৫ মে) ঢাকায় সফররত এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশাল সহায়তার ঘোষণা দেন। এই অর্থ মূলত ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির আওতায় ব্যয় করা হবে, যার মূল লক্ষ্য দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সারা দেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
সফরকালে এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই বিষয়ে মাসাতো কান্দা বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এই পরিস্থিতিতে এডিবি দেশটিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে। এই প্যাকেজের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে অর্থ ছাড় করা হবে, যা বাংলাদেশের জন্য এডিবির সার্বভৌম অর্থায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।
বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এডিবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটও অব্যাহত আছে। এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের চাপ মোকাবিলায় অর্থায়ন ঘাটতি পূরণের জন্য এডিবি অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তাও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এডিবি প্রেসিডেন্টের এই সফরকালে ২০২৬ সালের প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণচুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির অর্থ দেশের জ্বালানি, পরিবহন, জলবায়ু সহনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি ব্যয় করা হবে।
এছাড়া বাংলাদেশে তাদের বার্ষিক সার্বভৌম অর্থায়নের পরিমাণ ২০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এই বাড়তি অর্থ বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, সুশাসন সংস্কার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, নতুন প্রকল্প প্রস্তুত এবং যৌথ অর্থায়ন বাড়াতেও এডিবি সরকারকে নিরলসভাবে সহায়তা করছে।
বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে তিনটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে সরকার। বিএনপি সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৫ মে) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমানসহ অন্যান্য উপ-প্রেস সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত ১০০ দিনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের খতিয়ান তুলে ধরা হয়। মাহদী আমিন জানান, দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আনতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ। এছাড়া তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিতে বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাই-স্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তরুণদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে নতুন করে স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি কার্যক্রমও শুরু করেছে সরকার।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও সরকার বেশ কিছু দ্রুত ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে। শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনতে হামের নতুন টিকা আনা হয়েছে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি উন্নীত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই মুখপাত্র আরও জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মোট ১০টি কেবিনেট সভা সম্পন্ন করেছে। এসব সভায় গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বর্তমানে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা সরকারের কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও সাংবাদিকদের জন্য সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, এই নজিরবিহীন স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অশালীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার একদিকে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ সহিষ্ণু ও আন্তরিক, যা গত ১০০ দিনের কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, বাকস্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদ্গারের যে রাজনীতি কিছু মানুষ অপকৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে, তা গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলন করবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। আজ সোমবার সকাল থেকেই সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে যাত্রী সাধারণের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা থাকলেও প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের পিছু ছাড়েনি নানা ভোগান্তি। বিশেষ করে যারা আগে থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের চরম বাসের সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগে প্রতিটি রুটের পরিবহনেই নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
সকাল থেকেই সায়েদাবাদ এলাকার বাস কাউন্টারগুলোর সামনে শত শত মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত বাসের দেখা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী দূরপাল্লার বাসে যাত্রীপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা বলছেন, পরিবহনের টিকিট সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই বাড়তি মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। নিয়মিত মূল্যে টিকিট না পেয়ে অনেককে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হচ্ছে।
অগ্রিম টিকিট না পাওয়া অনেক যাত্রীকে দেখা গেছে চরম ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে। বড় বাসে সিট না পেয়ে অনেক যাত্রী লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে কিংবা বাসের ইঞ্জিনের ওপর বসেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন। বিশেষ করে বরিশাল ও খুলনাগামী রুটে এই চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বরিশালগামী যাত্রী জসিম জানান, নিয়মিত ৫০০ টাকার টিকিট এখন ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকিট সংগ্রহের পরও দীর্ঘ সময় টার্মিনালে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাত্রী পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি ছাড়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভাড়ার নৈরাজ্য দেখা গেছে চট্টগ্রাম ও খুলনা রুটেও। যাত্রীদের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের নন-এসি বাসে নিয়মিত ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও বর্তমানে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খুলনাগামী বাসে ৭০০ টাকার ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০০ টাকায়। নিয়মিত বাসের পাশাপাশি বিএমএফ-এর মতো লোকাল বাসগুলোতেও যাত্রী ঠাসাঠাসি করে নেওয়া হচ্ছে। আসন পূর্ণ হওয়ার পরও দাঁড়িয়ে এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার রাস্তাগুলোতে মানুষের প্রচণ্ড চাপের কারণে যানজটও তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি থাকলেও ভাড়ার লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ে বাস না ছাড়া এবং টার্মিনালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকার ফলে শিশু ও নারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ঘরমুখো এই মানুষের ভিড় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে বন্ধুত্ব ও সংহতির নিদর্শন স্বরূপ কুয়েতকে ২৪০ টন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহায়তা হিসেবে প্রদান করছে বাংলাদেশ সরকার। গত রবিবার (২৪ মে) কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে এই খাদ্য চালানের প্রতীকী হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু ফ্লাইটের মাধ্যমে এই সাহায্য কুয়েতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জারাহ জাবের আল-আহমেদ আল-সাবাহর উপস্থিতিতে কুয়েতি আমিরের নিকট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা ও সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটায় কুয়েতের কৌশলগত খাদ্য মজুতকে সুসংহত করতে এই সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। শুভেচ্ছা বার্তায় কুয়েতের জনগণের শান্তি ও সার্বিক কল্যাণের প্রত্যাশার পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চশিখরে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, জনশক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সিনিয়র সিটিজেন (বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক) এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যাত্রীদের জন্য একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে উপস্থিত থেকে মেট্রোরেলের বিশেষ ছাড় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় পাবেন। জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগটি সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গ্রহণ করা হয়েছে বলে গত রোববার এমআরটি লাইন-৬ এর উপ-প্রকল্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়।
ছাড় পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সি সিনিয়র সিটিজেনরা টিকিট কাউন্টারে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শন করে বয়স যাচাইয়ের মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। একইভাবে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা একক যাত্রা টিকিটের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ পাবেন।
ঈদুল আজহা উদযাপনে ঘরমুখী মানুষের চিরচেনা স্রোত শুরু হয়েছে। তবে ঈদযাত্রার আসল ধকল ও মূল চাপটি শুরু হবে সোমবার (২৫ মে) থেকে বুধবার পর্যন্ত—এই তিন দিন। এবার এক কোটির বেশি কর্মজীবী মানুষ ঢাকা ছাড়বে। সেই হিসেবে দিনে ঢাকা ছাড়বে ৩৫ লাখ মানুষ। এই আনন্দযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে রয়েছে বহুমুখী ব্যবস্থা। এগুলো মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, ৬৬টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং ঈদের আগে-পরে নৌযানে মালামাল পরিবহন নিষিদ্ধ করা। এছাড়া মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন, পশুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ, এবং ভাড়া ও চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
এতে বলা হয়েছে, বাসযাত্রার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না। একই আসন একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা যাবে না। সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বা বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা যাবে না।
নির্দেশনায় পণ্য ও পশুবাহী যানবাহনে, বিশেষ করে ফেরার পথে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, চালকদের গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং বেপরোয়া বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং করা যাবে না। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব নিয়ে কিংবা শারীরিক অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। মালিকপক্ষ কোনো চালককে একটানা ৫ ঘণ্টা এবং দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবে না।
বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। চালক নিয়োগের আগে তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং উচ্চস্বরে গান বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্টোপথে গাড়ি চালানো যাবে না।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে হবে। নিজেদের মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে এবং বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টার বা টার্মিনালে উপস্থিত হতে হবে। এছাড়া চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী বা পশুবাহী যানবাহনে যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।
এদিকে, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতু পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কেও বাড়তে শুরু করেছে যানবাহনের চাপ। তবে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও যানজট দেখা যায়নি। ফাঁকা সড়কে ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে ফিরছে মানুষ। রোববার (২৪ মে) বিকাল ৪টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কড্ডার মোড়, নলকা, হাটিকুমরুল গোল-চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মহাসড়ক ফাঁকা দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে গত কয়েকদিনের চেয়ে রোববার (২৪ মে) যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট বা ধীরগতি না থাকায় স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছে যানবাহনগুলো। এতে এবার ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।
হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় বাসচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এই মহাসড়কে যানজট নেই। অতিরিক্ত পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যমুনা সেতু পশ্চিমপাড়ে রাস্তা ফোর লেন চালু হয়েছে। যাত্রীরা ভালো সেবা পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও সমস্যা নেই। আশা করা যাচ্ছে এবার ঈদে সমস্যা হবে না। সমস্যা হলে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় কিছুটা হবে। সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট নেই। সড়ক ফাঁকা।’
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের তেমন একটা চাপ নেই। তবে গত কয়েকদিনের চেয়ে রোববার (২৪ মে) বিকাল ৪টার পর থেকে গাড়ির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের কোথাও যানজট বা ধীরগতি সৃষ্টি হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে আশা করা যায়।
তবে স্বস্তির খবর নেই দক্ষিণাঞ্চলে। এবার মৃত্যুফাঁদের মহাসড়ক ধরে ঈদে বাড়ি ফিরছে এ অঞ্চলের মানুষ। এতে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা আর হতাহতের সংখ্যা। গত শুক্রবারও (২২ মে) এই সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ৩৫ বছরের এক যুবক। দেড় মাসে এভাবে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬১। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ শতগুণ বাড়লেও প্রশস্ত হয়নি মহাসড়ক। উপরন্তু বিপদ বাড়াচ্ছে সড়কে থাকা ৩৮টি বিপজ্জনক বাঁক। যেসব বাঁকে প্রায়ই দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে যানবাহন। সব মিলিয়ে যেন লাশের মিছিল রাজধানীসহ সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে।
নৌপথ বনাম সড়কপথ: রাজধানীসহ সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ প্রশ্নে লঞ্চই ছিল একসময় বরিশাল অঞ্চলের প্রধান ভরসা। বিভাগের ৬ জেলা আর ৪২ উপজেলা থেকে লঞ্চে ঢাকায় যেত মানুষ। সড়কপথে যোগাযোগ থাকলেও পদ্মা নদীর কারণে বরিশাল থেকে ঢাকায় যেতে লাগত ৮/১০ ঘণ্টা। পদ্মা সেতু চালুর পর সেই সময় নেমে আসে ৩/৪ ঘণ্টায়। অন্যান্য জেলা-উপজেলা থেকেও এখন সড়কপথে কম সময়ে যাওয়া যাচ্ছে ঢাকায়। এতে এই মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহন।
যানবাহনের উপচে পড়া চাপ: রোড সেফটি মুভমেন্ট নামে একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক প্রায় আড়াই লাখ মানুষ যাতায়াত করে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে, যা আগের তুলনায় প্রায় দেড়শগুণ। সড়কপথে চলাচলে সময় কম লাগায় নৌপথের তুলনায় পণ্য পরিবহণও বেড়েছে আলোচ্য এই মহাসড়কে। বেড়েছে ট্রাকসহ পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের সংখ্যা।
প্রশস্ততার তীব্র অভাব: মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা এভাবে শতগুণ বাড়লেও সেই তুলনায় প্রশস্ত হয়নি মহাসড়ক। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে হলেও ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কটির অধিকাংশ জায়গা এখনো রয়ে গেছে আগের প্রস্থে। কোথাও ১৮ আবার কোথাও বা ২৪ ফুটের বেশি প্রশস্ত নয় সড়ক। পরিস্থিতি এমন যে, নামমাত্র এই মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় দুটি বাস পাশাপাশি একে অপরকে অতিক্রম করাও হয়ে পড়ে বিপজ্জনক।
ঈগল পরিবহনের বাসচালক সাত্তার মিয়া বলেন, ভাঙ্গা পার হওয়ার পর টেকেরহাট পর্যন্ত মোটামুটি সোজা এই মহাসড়ক। তারপর শুরু একের পর এক বিপজ্জনক বাঁক। কিছু বাঁক আছে উলটো দিক থেকে আসা যানবাহন চোখেই পড়ে না। বিশেষ করে মাদারীপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত এলাকা।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ৬ লেন না হলে এই মহাসড়কে যেমন গতি বাড়বে না, তেমনই বন্ধ হবে না মৃত্যুর মিছিল।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। মাদারীপুর অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বরিশাল থেকে লেবুখালী পায়রা ব্রিজ পর্যন্ত যে অধিগ্রহণ, তাও ১/২ মাসের মধ্যে শেষ হবে। এরপর বাকি থাকে ফরিদপুর অংশ। যতদূর জানি, সেখানকার জমি অধিগ্রহণ শেষ হতে ৩/৪ মাস লাগবে। এগুলো হয়ে গেলেই শুরু হবে মূল প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করেছি। অর্থ সহায়তা দিতে দাতা সংস্থারও আগ্রহ রয়েছে।
স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি: বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ: বিআরটিএ-এর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তদারকি দল টার্মিনালগুলোতে সক্রিয় রয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল জানান, নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
বিজিবি মোতায়েন: পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার ঈদের ৭ দিন আগে থেকে এবং ঈদের ৩ দিন পর পর্যন্ত সারাদেশে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। তারা মহাসড়ক, টোল প্লাজা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহায়তা করবে।
ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা: এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট উৎসাহিত করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সেতু বিভাগ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে ‘কন্ট্যাক্টলেস’ টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার (২৫ মে) থেকে টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে। ফলে, রোববার (২৪ মে) অফিস শেষ করেই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন লাখো চাকরিজীবী। আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।
ঈদযাত্রা যেন সাধারণ মানুষের জন্য নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক হয়, সেজন্য আগেভাগেই ছুটির বিষয়টি ঢেলে সাজিয়েছে সরকার। পূর্ব নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে মন্ত্রিসভার বিশেষ সিদ্ধান্তে আরও একদিন যুক্ত করায় এবার মোট সাত দিনের লম্বা ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) থেকে আগামী রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। মূলত ২৮ মে ঈদের মূল ছুটির সঙ্গে আগের ও পরের নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে এই দীর্ঘ ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এর আগে, ঈদযাত্রা সহজ করতে গত ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে ঈদের ছুটিতেও দেশের সব হাসপাতাল ও জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে। ফলে, এ সেবায় যুক্ত কর্মী, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীদের সবাই ছুটির সুযোগ পাবেন না।
এছাড়াও এই দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও জনগণের ভোগান্তি কমাতে জরুরি সেবা খাতগুলোকে সচল রাখা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও ডাক সেবার মতো জরুরি বিষয়গুলো ছুটির আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির দিনগুলোতেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।