পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান দমনসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী মৌচোষায় একটি নতুন বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিজিবির উত্তর-পশ্চিম রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর ২১তম ‘মৌচোষা’ বিওপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে রিজিয়ন কমান্ডার বিওপি প্রাঙ্গণে একটি আম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় বিজিবির দিনাজপুর সেক্টরের অধিনায়ক কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান এবং দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম নাছের বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিকূল পরিবেশেও দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সীমান্ত দিয়ে কোনো দুষ্কৃতিকারী যাতে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও বদ্ধপরিকর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের পাচার প্রতিরোধে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) আওতাধীন কিশোরীগঞ্জ ও রামচন্দ্রপুর বিওপির মধ্যবর্তী শূন্যরেখার নিকটবর্তী এলাকায় মাদক, নারী ও শিশু পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নতুন এই ‘মৌচোষা’ বিওপি স্থাপন করা হয়েছে। নবসৃজিত বিওপিটি স্থাপনের ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর প্রায় ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং সীমান্তে আস্থার পরিবেশ সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে প্রয়াত খালেদা জিয়ার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি জাইমা রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। তার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন নাতনি জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাইমার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে বিকেল ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কৃত অন্য ব্যক্তিত্বরা হলেন—মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত),বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এ ছাড়া পুরস্কৃত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো—মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়াও সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-এ এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু। দুই দেশের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হলে তা পারস্পরিক উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় টিকে থাকতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চীনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দিক। গণমাধ্যম, প্রশিক্ষণ ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেন, যার মাধ্যমে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হবে। পাশাপাশি, আগামী জুলাই ও অক্টোবর মাসে চীনে দুটি সামিট আয়োজনের প্রস্তাব দেন, যেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা অংশগ্রহণ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরি, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমান এবং তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম ম্যাগাজিন’-এর বিশ্বের সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে তিনি এই গৌরবময় অর্জনের কথা দেশবাসীকে অবহিত করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর জনকল্যাণমুখী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, গতকাল টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় আমাদের নেতা তারেক রহমানের নাম এসেছে। এটি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো জাতির জন্য এক বিশাল সম্মান। তিনি সম্মানিত হওয়া মানে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে সম্মানিত করা। এই অনন্য স্বীকৃতির জন্য সংসদ ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান চিফ হুইপ।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের স্মৃতি চারণ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছেন। দেশের মানুষ তার ওপর আস্থা রেখে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে তাকে এই সংসদে পাঠিয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
ইশতেহার বাস্তবায়নের গতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের আঙুলের কালি শুকানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সহায়তায় পহেলা বৈশাখে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা কৃষক কার্ডের উদ্বোধন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়াও প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ ও আসল মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, তিনি ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিতদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানী ও ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাকে ভালোবাসার স্বীকৃতি দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে, আর বিশ্ব আজ তার কাজের স্বীকৃতি দিয়ে টাইম ম্যাগাজিনে স্থান দিয়েছে। চিফ হুইপের এই বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ অর্জন গোটা জাতি তথা দেশের অর্জন।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, শূন্যপদ পূরণের জন্য এরইমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর এবং ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এছাড়া, কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর নিয়োগ’-এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদ করা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪ অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোর শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এরমধ্যে ১ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, ১০ম গ্রেড থেকে ১২তম গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, ১৭তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক-যারা বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থান করে এমন ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্যপদ রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে আরও তিনটি জাহাজ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এসব জাহাজ থেকে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে জাহাজ তিনটি সিঙ্গাপুর থেকে জেট ফুয়েল ও ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (গণ-সংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা জানান, তিনটি জাহাজের মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের সরবরাহ করা ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ জাহাজে রয়েছে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল। বাকি দুটি জাহাজের মধ্যে ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩২ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। আর ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ নামক অপর জাহাজে করে এসেছে প্রায় ৩৪ হাজার টন ডিজেল। এটির সরবরাহকারী কোম্পানি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া। বর্তমানে তিন জাহাজ থেকেই জ্বালানি তেল খালাস কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তা ও শিপিং এজেন্টরা জানান, ডিজেলবাহী জাহাজ দুটির একটি আংশিক খালাস শেষে গতকাল বুধবার বন্দরের পতেঙ্গার ডলফিন জেটির দিকে রওনা হয়েছে। অন্য জাহাজটি আজ বৃহস্পতিবার জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চলতি এপ্রিল মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে আরো ১৭ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ৮ হাজার টন পৌঁছেছে এবং আজ আরো ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং শুরু হবে। পাম্পিং শুরু হলে ৪-৫ দিনের মধ্যে ৫ হাজার টনের পুরো চালান পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ভারত থেকে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পর্যায়ক্রমে পুরো চালান দেশে পৌঁছাবে এবং পরবর্তী পাম্পিং দ্রুত শুরু করা হবে। এপ্রিল মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ হাজার টন আসার পর পরবর্তী দুই ধাপে ৭ হাজার ও ৫ হাজার টন করে ডিজেল আমদানি করা হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে ‘সুপারনিউমারারি পদোন্নতি’ পাওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পুলিশ-১ শাখা) তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে পিবিআইয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কামরুল হাসান মাহমুদকে এসবিতে অতিরিক্ত ডিআইজি, তোফায়েল আহমেদকে আরপিএমপিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং সুফিয়ান আহমেদকে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া মুহাম্মদ বাছির উদ্দিনকে সিআইডিতে, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে এসবিতে এবং হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াকে সিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাহবুবুল করিমকে পুলিশ সদর দপ্তরে, আল মামুনকে আরএমপিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং মোহা. আসাদুজ্জামানকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে এসবিতে, ড. আ ক ম আকতারুজ্জামান বসুনিয়াকে পুলিশ সদরদপ্তরে, মো. জাহাঙ্গীর আলমকে পুলিশ সদরদপ্তরে এবং মোহাম্মদ হায়াতুন নবীকে সিআইডিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পুলিশ সদর দপ্তরে, আফরোজা পারভীনকে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে রেলওয়ে পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের নাম বাতিলের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে, যা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সংসদে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে জামুকার উপকমিটি। কোনো ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার সনদ ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
রংপুর-৪সহ দেশের যেকোনো এলাকার ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা আরও স্বচ্ছ করার কাজ চলমান থাকবে।
এর আগে, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারকারী।
সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধন একটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। বিরোধী দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও তা মূলত সংশোধনের পদ্ধতি নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে, যা প্রমাণ করে কেউই জবাবদিহিতার বাইরে নন।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে কাজ করছে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মমুখী শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার বাহিনীকে রাজনীতিকরণ করেছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের সংবাদই প্রকাশ করা উচিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হওয়ার খবর প্রচারিত হলেও তেলবাহী জাহাজ বন্দরে আসার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
সবশেষে তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও সংবিধান সংশোধনে রাজনৈতিক ঐকমত্য খুব বেশি দূরে নয়।
আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম-এর ‘বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে প্রত্যাবর্তন এবং জাতীয় নেতৃত্বে তার ভূমিকার কারণে এই স্বীকৃতি এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—কয়েক মাস আগেও লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন ৫৭ বছর বয়সি তারেক রহমান। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আনে। সেই প্রেক্ষাপটে বিরোধী আন্দোলনের মুখ থেকে তিনি দ্রুত জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেন তারেক রহমান। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি তার মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অনুসরণ করেন। তবে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে।
টাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশের মানুষকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করতে চান। প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের এই দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি—এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ (যেগুলো পরবর্তীতে আদালতে খারিজ হয়েছে) তার নেতৃত্বের শুরুটা কিছুটা কঠিন করে তুলতে পারে বলেও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবুও দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে থাকার পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না বলে জানান।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে—যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি রূপে ধারণ করার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৬ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে হাম সন্দেহে এবং নিশ্চিত হামে ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ও যথাযথ বহুমুখী পদক্ষেপ না নিলে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬৬ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জনের। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১ জন। এসময় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৬ জন, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৯৭৩ জন।
বিগত বছরগুলোর চিত্র: এশিয়া অঞ্চলের অন্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হাম ও রুবেলা ভাইরাস নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় হামের সংক্রমণের হার ছিল ১ দশমিক ৪১, ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬০, ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৪৩ এবং ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৭২। কিন্তু বর্তমানে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে। লক্ষ্যমাত্রার বছরেই এমন ভয়াবহ সংক্রমণ জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
টিকাদানের পরিসংখ্যান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এমআর-১ টিকার কভারেজ ছিল ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এমআর-২ ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ছিল যথাক্রমে ৮৬ দশমিক ৪ ও ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৮৮ দশমিক ১ ও ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮১ দশমিক ৭ ও ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ।
২০২১ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭ দশমিক ৩ ও ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০২২ সালে এমআর-১ শতভাগ এবং এমআর-২ ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও কভারেজ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে ছিল।
তবে ২০২৫ সালে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওই বছর এমআর-১ টিকার কভারেজ নেমে আসে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে এবং এমআর-২ দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ১ শতাংশে। ফলে প্রায় ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন কভারেজ।
দেশে প্রতি চার বছর অন্তর হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং চলতি বছরের শুরুতে নতুন সরকারের নির্বাচন; এসব কারণে টিকাদান কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হয়নি।
সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে ব্যত্যয়ই হামের প্রকোপ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। আগে যেখানে ৯৭-৯৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় ছিল, সেখানে গত প্রায় ১৮ মাস ধরে এই হার ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ফলে হার্ড ইমিউনিটি ভেঙে পড়ে এবং সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। বছরে দুবার হওয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছরে এটি মাত্র দুবার হয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া অপুষ্টিও বড় একটি কারণ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা সহজেই সংক্রমিত হয়। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু অপুষ্টির শিকার বলে জানা গেছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, করোনার সময় মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক শিশু সময়মতো টিকা পায়নি। পরবর্তীতে গণটিকাদান কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা চলতি বছরে হামের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শিশুরা টিকা না পাওয়ায় এটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। যেকোনো সংক্রমণ যখন অতিরিক্ত হয়ে যায়, ভাইরাস মারাত্মক শক্তি ধারণ করে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন করা হলে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যেত। টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও জনবল সংকটসহ একাধিক কারণ একত্রে কাজ করেছে।
মহামারি কি না : বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রোগের স্বাভাবিক সংক্রমণ হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তাকে মহামারি বলা হয়। যেমন, কোনো একটি অঞ্চলে সাধারণত প্রতি বছর কোনো রোগে যতজন মানুষ আক্রান্ত হয়, হঠাৎ করে যদি একই সময়ে সেই সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, তখন সেটাকে মহামারি বলা হয়। যেমন ঢাকা বিভাগে বা বাংলাদেশে যদি প্রতি বছর ১০০ জন হাম রোগী থাকে, আর কোনো বছরে হঠাৎ তা বেড়ে ৫০০ জনে পৌঁছে যায়, তাহলে সেটিকে মহামারি বলা হয়।
ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, মানুষ ভয় পাবে বলে এখন মহামারি শব্দটা ব্যাবহার করা হচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ১৫-২০ বছরে বাংলাদেশে এত সংখ্যক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়নি এবং মৃত্যুও এত হয়নি। চলতি বছর হামের প্রকোপ অনেক বেড়েছে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দেশে হামের মহামারি শুরু হয়ে গেছে।
প্রতিরোধে করণীয়: বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা এখন সবচেয়ে জরুরি। আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, হাম হলে বাচ্চারা খুব দুর্বল হয়ে যায়। তাদের মধ্য থেকেই অনেকের মৃত্যু হয়। ফলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও শিশুকে একটা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। করোনাভাইরাসের সময় আমরা যেখানে একটা টাইমলাইন মেনে চলতাম, ঠিক সেভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো শিশুর মৃত্যু যেন না হয় তা নিশ্চিত করা। এজন্য চিকিৎসার মান উন্নয়ন জরুরি। অর্থাৎ হামের চিকিৎসায় জোর দিতে হবে। আমাদের চিকিৎসায় ঘাটতি রয়েছে। এখন যে পরিমাণ রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাতে আগামী চার থেকে আট সপ্তাহ এই পরিস্থিতি চলমান থাকা অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসা যদি উন্নত না হয়, তাহলে প্রতিদিন এভাবে আমাদের শিশুদের মৃত্যু মেনে নিতে হবে।
এই জনস্বাস্থ্যবিদ আরও বলেন, গাইডলাইনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধসহ চিকিৎসার সব উপকরণ সব হাসপাতালে সরবরাহ করতে হবে। টিকাদান কার্যক্রম চলছে, সেটি ভালো উদ্যোগ। তবে সেই টিকাদানেও কিছু ঘাটতি রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এসব পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে।