পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সামনের দিনে বড় সুখবর আসছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় শূন্যপদে ৫ লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব নিয়োগ শেষ করতে চায় সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পিএসসি কতজন জনবল নিয়োগ দেবে। আমরা আমাদের পুরো পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে।’
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম নিলেন সেই সিথীবিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম নিলেন সেই সিথী
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা পেয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীও বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে ৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে।’
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাঁচ লাখ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিপরীতে সরকারের সাড়ে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) লাগবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জুলাই ও আগস্টে লাগবে ৪ কোটি টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত আছেন। এর বিপরীতে শূন্য আছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত আছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্য ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন, শূন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ।
সারাদেশে চাঁদাবাজদের একটি ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তালিকা তৈরির পর এতে অন্তর্ভুক্ত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘আনবায়াসড’ বা পক্ষপাতহীন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তালিকায় যারাই থাকবেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হবে এবং কোনও ধরনের পক্ষপাতিত্ব রাখা হবে না। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে। প্রয়োজনে তা তাৎক্ষণিকভাবেও শুরু হতে পারে।
র্যাব জানায়, বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি বিস্তৃত। বিশেষ করে পরিবহন খাতে মহাসড়কভিত্তিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি—সব ধরনের অপরাধকেই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করতে চান না। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং তদন্ত চলছে। পাশাপাশি র্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে আটক ব্যক্তিরা সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্য। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনও চাপ রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র্যাব বর্তমানে স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনও ধরনের বেআইনি চাপ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়; অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট স্থানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে। এতে কৃষকেরা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না এখানে। সারা দেশে কৃষক যাতে তাঁর উৎপন্ন পণ্য সপ্তাহে এক দিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন সে বিষয়ে প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকেরা ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়, এমন কথাই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দেব।’
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে কৃষিপণ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কয়েক দফা হাতবদল হয়, যার ফলে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ চালুর মাধ্যমে এই চক্র ভেঙে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, এ ছাড়া আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেন এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এতে বাজার নজরদারি সহজ হবে এবং বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।
সরকারি সংস্থা টিসিবির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা বাড়ানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার প্রতিবছর টিসিবির কাজের জন্য ৩২-৩৩ শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়, এটা কমানো হবে। তবে টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো হবে।’
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খালটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন ছিল।
বর্তমানে সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে খালটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ প্রাথমিক সংস্কারকাজ চলছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘সব খাল দখলমুক্ত করা হবে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাই জনস্বার্থে যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরো যোগ করেন, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং জনকল্যাণই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর ভর্তুকির চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও এলএনজি খাতে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। আগামী ঘাটতি বাজেটে বাড়তি চাপ পড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় এই অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রয়োজন হচ্ছে। এর ফলে একদিকে বাজেটে ঘাটতি বাড়বে, অন্যদিকে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছে- যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে। এর প্রভাবে সরকারকে চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, এলএনজিতে নির্ধারিত ভর্তুকির অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। এটি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়াবে অন্যদিকে সমপরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার এ অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। যার মধ্য উল্লেখযোগ্য—সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালত বিকেল ৫টার পরিবর্তে ৪টায় বন্ধ করা, ডেলাইট ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক লাইট ব্যবহার কমানো ও এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মার্কেট-সুপারমল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে জ্বালানির নিরাপত্তা মজুত নিশ্চিত করা, ভর্তুকির অর্থ যথাসময়ে ছাড়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি ক্রয় ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজেটে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সহনীয় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত বাজেট সাপোর্ট পেতে উদ্যোগ গ্রহণ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রদানের প্রয়োজন হলেও জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সরকার আপাতত মূল্য সমন্বয় না করে পূর্বের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যেই আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে এবং আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা স্থাপন ও নানা চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজে হাত দিয়েছি। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটের কাছে জনগণের যে বিপুল প্রত্যাশা সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। অন্যদিকে জনগণও উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রাখবেন—এটাও আমরা আশা করি। আমাদের এবারের লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।’
আমির খসরু বলেন, ‘সেই ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার উত্তরাধিকার ধারণ করে আমরা আজ আবার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি প্রাগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই পথে পরিচালিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা এটা করতে চাই স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহির ওপর নির্ভর করে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়াই হবে এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩ কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ৯১টি বিল পাসের নজির সৃষ্টি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’; ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’; ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস হলো। এর আগের দিন, অর্থাং বৃহস্পতিবার ৩১টি বিল পাস হয়েছিল।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বিল, ২০২৬’; ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’; অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল, ২০২৬’; ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘অর্থ ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’; শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত কিছু আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন ও বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করার প্রস্তাব করলে ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলের সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি ভোটে দেন। পরে কণ্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয় ও বিলটি পাস হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমান এই বিলের ওপর তিনটি সংশোধন প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার তার সংশোধনীগুলো গ্রহণ করেন। পরে বিলটি সংসদে স্থিরকৃত আকারে পাস হয়। তবে বিলে গৃহীত সংশোধনীর ওপর আপত্তি জানায় বিরোধী জোট। এ বিষয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
অধিবেশনে সর্বশেষ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাওয়া পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। দেশটিতে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার হার নেমেছে অনেক। সেই সঙ্গে বেড়েছে প্রত্যাখ্যানের হারও।
দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিদেশ থেকে করা উচ্চশিক্ষার ভিসা আবেদনগুলোর মাত্র ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ অনুমোদন পেয়েছে। গত অন্তত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম হার।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে যারা আবেদন করেছেন, তাদের ৫১ শতাংশই ভিসা পাননি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি আবেদনকারী প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তথ্যটি প্রকাশ করেছে টাইমস হায়ার এডুকেশন।
এতে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশেও ভিসা প্রত্যাখ্যান বেড়েছে। যেমন ভারতে ৪০ শতাংশ, নেপালে ৬৫ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩৮ শতাংশ এবং ভুটানে ৩৬ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। আবেদনকারী সত্যিই পড়াশোনার জন্য যাচ্ছে কিনা, সেটি বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেক আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আবেদনও বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন বেড়েছে ৫১ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ৩৬ শতাংশ আর নেপালে ৯১ শতাংশ। তবে চীন থেকে আবেদন কমেছে।
এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। ভিসা না পাওয়ার হার বাড়লে কোনো প্রতিষ্ঠানের ‘ঝুঁকি’ বাড়ে। ফলে ভবিষ্যতে সেখানকার আবেদন আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হতে পারে।
এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া। সংগঠনটি বলছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার যেভাবে বাড়ছে, তা নিয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সময়টা সহজ নয়। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ-২০২৬ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে। শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনসহ গণঅভ্যুত্থানের মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এবং এ সংক্রান্ত ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বিলটি উত্থাপন করা হয়। অন্যদিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। এরপর অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি ভোটে দেন। তখন সংসদ সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ বলে বিলের পক্ষে সম্মতি দেন।
স্পিকার বিলটি পাসের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো সংসদ কক্ষ দীর্ঘস্থায়ী করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এবং টেবিল চাপড়িয়ে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। মাইক ছাড়াই অনেকে এটিকে ‘বিপ্লবের আইনি স্বীকৃতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। সরকারের দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই অভ্যুত্থানের প্রকৃত মর্ম ও আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১৭ জুন এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। ইতোমধ্যে কার্যকর হওয়া সেই অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে পরিণত হলো।
অপরদিকে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি পাসের বিষয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা আপত্তি জানালেও বিধিসম্মত না হওয়ায় তা গ্রহণ করেননি স্পিকার।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) উত্থাপিত জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার এবং প্রয়োজনে তা লেখে রাখার জন্য মন্ত্রীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরেন। তখন সংশ্লিষ্ট অনেক মন্ত্রীই তা মনোযোগ দিয়ে শোনছেন না বা নোট নিচ্ছেন না। এতে এমপিদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। ট্রেজারি বেঞ্চ হোক কিংবা বিরোধী দল–নির্বিশেষে সবার কথা শোনার মাধ্যমেই জনগণের সমস্যার সঠিক সমাধান সম্ভব।’
মন্ত্রীদের এই ছোট উদ্যোগগুলো মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশে হামে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৭৭ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মোট ১৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দেশের ৩০ জেলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত এক দিনে নতুন করে ১৬৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৪০৯ জনে। এ ছাড়া সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯১০ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১৩ হাজার ৪৯৭ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬ হাজার ৬০৯ জন।
এদিকে পূর্বে পাঠানো তথ্যে ভুল থাকায় তা সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংশোধিত তথ্যে বলা হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি এবং ঢাকার ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্য ভুলভাবে যুক্ত হয়েছিল। এ কারণে মোট সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা তিনটি কমানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আরও ২০টি বিল পাস হয়েছে। এরমধ্যে সকালের অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে কণ্ঠভোটে ৩১টি বিল পাস হয়। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ২৮টি বিল পাস করা হয় এবং অধ্যাদেশ রহিত করে আরও তিনটি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ১৩তম দিনের সকালের অধিবেশনে উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীরবিক্রম।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাশের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উত্থাপন করেন- ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উত্থাপন করেন- ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু উত্থাপন করেন- ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বিল, ২০২৬’; ‘বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’; অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উত্থাপন করেন- ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল, ২০২৬’; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; শিক্ষা মন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন উত্থাপন করেন- ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপন করেন- ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন উত্থাপন করেন- ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দেশে ফেরেন তিনি।
সফরকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে সেনাপ্রধানকে একটি বিশেষ রেজ্যুলেশন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলনের আবেদনের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের দর্শক গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০০টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংসদ অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত মোট আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০টিতে উন্নীত হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সংসদ গ্যালারিতে অনূর্ধ্ব ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৫০টি আসন সংরক্ষিত ছিল। আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে মন্ত্রী স্পিকারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে আরও ১০০টি আসন বরাদ্দের আবেদন জানান। স্পিকার সেই আবেদন অনুমোদন করেছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে পূর্বের তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী সরাসরি সংসদের কার্যক্রম দেখার সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংসদীয় রীতিনীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করবে।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রজন্মকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়ার সঙ্গে তার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সচিব এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা সংসদে এলে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সংসদের কার্যপ্রণালী, স্থাপত্যশৈলী, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হবে।