বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ল, জাপার হইচই, ওয়াকআউট, স্পিকারের রুলিং

আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৩ ০০:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২৩ ২২:২০

পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।

বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।

বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।

গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।

সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’

খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।

টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'

জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।

ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’

প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।

সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।

আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।

স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’

ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’

তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।

এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’

মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।

পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।

বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।

তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিষয়:

ঢাকায় কোথায় কখন ঈদুল আজহার জামাত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি কূটনীতিকরা অংশ নেবেন। প্রধান জামাতের আগে ও পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে দিনের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বরাবরের মতো পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক জামাত আয়োজিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায় এবং পরবর্তী জামাতগুলো যথাক্রমে ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে প্রবেশের জন্য পাঁচটি ফটক নির্ধারিত রাখা হয়েছে, যার মধ্যে একটি শুধুমাত্র নারী মুসল্লিদের জন্য। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে চার থেকে ছয় স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আকাশপথ থেকে নজরদারির জন্য ড্রোন এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের মতো বিশেষায়িত দলগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও পৃথক ইবাদতের স্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের কেবল জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ব্যাগ, দাহ্য পদার্থ বা ধাতব বস্তু নিয়ে ঈদগাহে প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট মোড়ে ট্রাফিক ডাইভারশন ও ব্যারিকেডের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অন্যদিকে, রামপুরা, মিরপুর এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানীয় ঈদগাহ ও মসজিদে অধিকাংশ জামাত সকাল ৭টায় শুরু হবে। গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সকল সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।


কারাগারের চার দেয়ালে ১৬১ ভিআইপি’র ঈদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

একদা ক্ষমতার দাপটে নেতাকর্মীদের বিশাল বহর নিয়ে ঈদগাহে নামাজ আদায় কিংবা গণভবনে আড়ম্বরপূর্ণ মিলনমেলায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের ১৬১ জন হেভিওয়েট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন কারাগারের প্রকোষ্ঠে।
অতীতে ঈদের দিনে তাঁদের যে রাজসিক ব্যস্ততা দেখা যেত, কারাবন্দি জীবনে তার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র ফুটে উঠছে। ঈদের দিনের বিশেষ কারামেনু সম্পর্কে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, "অন্যবারের মতো এবার ঈদের দিনও সকালের নাশতায় আসামিদের জন্য থাকবে পায়েস বা সেমাইয়ের সঙ্গে মুড়ি।" দুপুরের ভোজে বন্দিদের পাতে থাকবে পোলাও, গরুর মাংস (অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসি), মুরগির রোস্ট, মিষ্টান্ন, ডিম এবং পান-সুপারিসহ শীতল পানীয়। রাতের আহারে সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশিত হবে মাছ ভাজা ও আলুর দম। দেশের সকল কারাগারেই বন্দিদের জন্য এই অভিন্ন খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ কারা কর্মকর্তা আরো বলেন, "প্রতিটি কারাগার নিজেদের সাধ্যমতো বন্দীদের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। দর্শনার্থীদের গ্রহণের জন্য বিশেষ আয়োজন ও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।" ঈদের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন স্বজনদের পাঠানো ঘরোয়া খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন কারাবন্দিরা।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দুই শতাধিক বিশিষ্ট আসামির মধ্যে ১৬১ জন প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে ‘ডিভিশন’ সুবিধা পাচ্ছেন। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় এর মধ্যে প্রায় ৬০ জন উচ্চপর্যায়ের আসামিকে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁরা একত্রে ঈদের নামাজ আদায় ও পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী আগে থেকে জমা দেওয়া নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে স্বজনদের সাথে কথা বলা ও সরাসরি সাক্ষাতের সুবিধাও বহাল থাকবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ক্ষমতার বলয় থেকে বিচ্যুত হয়ে কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে পোলাও-রোস্টের আয়োজন থাকলেও বন্দিদের মনে এক ধরনের বিষণ্নতা বিরাজ করছে।


দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের আপামর জনসাধারণসহ বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বুধবার (২৭ মে) এক বাণীতে এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করে তিনি উৎসবের আনন্দ সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। আর্তমানবতার সেবায় বিত্তবানদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘মানবকল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ঈদুল আজহার গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে উল্লেখ করেন যে, এই উৎসব মূলত মানুষের ভেতরের পাশবিকতা ও হিংসা বিসর্জন দেওয়ার এক মহান মাধ্যম। তাঁর ভাষায়, ‘ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়; এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান। মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আবারও সমাগত।’ ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্রকে উৎসর্গ করার যে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তাকে মানবজাতির জন্য পরম শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ। এই মহান ঘটনা আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।’

সামাজিক সংহতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে কোরবানির প্রভাব অত্যন্ত ইতিবাচক বলে রাষ্ট্রপতি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারি, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। একই সঙ্গে কোরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষের জোগান দিতে সাহায্য করে এবং সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে।’ এই উৎসবের মূল শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উন্নত মানবিক গুণাবলি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সততা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।’ এছাড়া জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। পরিশেষে দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে তিনি প্রার্থনা করেন, ‘মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার কোরবানি কবুল করুন, দেশ ও জাতির ওপর তার অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে বয়ে আনুক শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও অশেষ কল্যাণ।’


ঈদের দিনেও দেশজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের স্রোত যখন গ্রামমুখী, তখন প্রকৃতিতে গত কয়েক দিন ধরেই বৃষ্টির আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বৃষ্টি একদিকে তীব্র দাবদাহ থেকে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিলেও যাতায়াতের পথে কিছুটা বিড়ম্বনা তৈরি করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঈদের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সক্রিয় থাকায় এমন বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হতে পারে বলে একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঈদের দিনের তাপমাত্রা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ১০৩ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ৭৮ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মোংলায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে জানিয়ে আবহাওয়া অফিস আরও উল্লেখ করেছে যে, ঈদের আমেজ কাটলেও বৃষ্টির এই প্রবণতা এখনই থামছে না।
আগামী ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে এই বর্ষণ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎসবের আনন্দ ও কোরবানির আনুষ্ঠানিকতায় বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান নামাজ রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিচারপতিগণ, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বৃহৎ আয়োজনকে ঘিরে জাতীয় ঈদগাহে যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানিয়েছেন যে, “আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈদ জামাতকে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়ক করতে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে।” ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এই ঐতিহাসিক জামাতে ইমামতি করবেন।

প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটারের বিশাল এই ঈদগাহ প্রাঙ্গণে ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকা প্যান্ডেলের আওতায় আনা হয়েছে। এখানে ১২১টি কাতারে একযোগে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ভিআইপি পুরুষদের জন্য ২৫০টি এবং নারীদের জন্য ৮০টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের ক্ষেত্রে ৩১ হাজার পুরুষ এবং পৃথক স্থানে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য আরামদায়ক নামাজের সুব্যবস্থা রয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ময়দানে প্রবেশের জন্য চারটি এবং বের হওয়ার জন্য সাতটি পৃথক তোরণ রাখা হয়েছে, যেখানে ভিআইপি, নারী ও সাধারণ পুরুষদের জন্য স্বতন্ত্র পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তীব্র গরম ও বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ঈদগাহ ময়দানে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্যান্ডেলের নিচে পর্যাপ্ত ফ্যান, আলোর ব্যবস্থা এবং ভিআইপিদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিদের জন্য নিরাপদ পানীয় জল ও কার্পেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ১৪০ জন মুসল্লির একযোগে অজুর জন্য নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক অজুখানা নির্মাণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের সংস্থান রাখা হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও পানি নিরোধক সামিয়ানার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তিনটি দৃষ্টিনন্দন ফটক নির্মাণের মাধ্যমে উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই জাতীয় ময়দানে।


ঈদের দিন তিন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহার দিন তিনটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল সাড়ে ৭টায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে অংশ নেবেন।’
‘আতিকুর রহমান রুমন জানান, জাতীয় ঈদগাহ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত এবং ফাতেহা পাঠ করে গুলশানের বাসায় যাবেন।
এরপর দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘বড়খানা’ (প্রীতিভোজ) অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঈদের দিন এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দেশবাসীর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন এবং বিশেষ প্রার্থনা করবেন।


কোরবানি হচ্ছে না, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষের ঠাঁই হলো চিড়িয়াখানায়

আপডেটেড ২৭ মে, ২০২৬ ২১:২৩
অনলাইন ডেস্ক

দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করা অ্যালবিনো প্রজাতির সেই বিশেষ মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানি হচ্ছে না। জননিরাপত্তা রক্ষা ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বিশেষ নির্দেশে ক্রেতার কাছ থেকে মহিষটিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুর থেকে মহিষটিকে উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটিকে এখন থেকে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে বড় হওয়া এই মহিষটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড আগ্রহ তৈরি হওয়ায় সেটির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে উদ্ভূত যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং ক্রেতাকে পরিশোধিত অর্থ ফেরত দিয়ে মহিষটি সরকারি হেফাজতে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, “জননিরাপত্তা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আপাতত মহিষটিকে লালন-পালন করা হবে।” মূলত বিরল বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক প্রচারণার কারণে প্রাণীটিকে জবাই না করে প্রাণিসম্পদ হিসেবে বাঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ সম্পর্কে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ বলেন, “মালিকের বাসা থেকে মহিষটিকে ফেরত আনা হয়েছে। এটি বিরল প্রজাতির প্রাণী বিধায় এটাকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হবে।” ইতোমধ্যে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় মহিষটিকে রাখার জন্য বিশেষ শেড প্রস্তুত করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার গণমাধ্যমকে জানান, “নারায়ণগঞ্জের ট্রাম্প নামের মহিষটাকে প্রদর্শনীর জন্য আজ রাতেই চিড়িয়াখানায় আনার কথা আছে, এখনও আসেনি। আমরা একটা শেড প্রস্তুত করেছি ওটাকে রাখার জন্য। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সংবাদেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। বিশ্বের প্রভাবশালী একাধিক গণমাধ্যম এই অ্যালবিনো মহিষটিকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত জনসমাগম ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনা করে সেটিকে কোরবানির হাট থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে নেওয়ার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এখন থেকে খামারের পরিবর্তে এটি জাতীয় চিড়িয়াখানায় সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হবে।


ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চাই কোরবানির মূল তাৎপর্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ মে, ২০২৬ ২০:৫৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহার গুরুত্ব ও গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে, "কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ আর মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা গ্রহণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে কোরবানির মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য।" বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলিম উম্মাহকে ঈদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, তাকওয়ার আদর্শ এবং নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার অনন্য বার্তা নিয়ে পুনরায় আমাদের দ্বারে উপস্থিত হয়েছে ঈদুল আজহা। দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষকে তিনি "ঈদ মুবারক" জানিয়ে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শুধু পশু কোরবানি নয়- ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চাই কোরবানির মূল তাৎপর্য।

পবিত্র কোরবানির শিক্ষা সম্পর্কে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণের এই উৎসব আমাদের ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করবে, সত্য ও সুন্দরের পথে ধাবিত করবে, এটিই হোক পবিত্র কোরবানির অন্যতম শিক্ষা।" সামর্থ্যবানদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বিনীত অনুরোধ জানান যাতে তারা সুবিধাবঞ্চিতদের ভুলে না যান। তাঁর ভাষায়, "যাদের আল্লাহ এ বছর কোরবানি করার সামর্থ্য দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত আবেদন, যাদের পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি, তাদের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে নিন।" এটিকেও তিনি কোরবানির একটি অপরিহার্য শিক্ষা হিসেবে গণ্য করেন।

পরিবেশ সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, "কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য পরিষ্কারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহায়তা করুন। যথাসম্ভব নিজেরাও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিন, যাতে কোরবানির দিনেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফেলা যায়।" পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন বাংলাদেশসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। তাঁর প্রার্থনা ছিল, "পবিত্র ঈদে কায়মনোবাক্যে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন।" একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার জন্যও স্রষ্টার দরবারে বিশেষ মোনাজাত করেন।


ঢাকা ছাড়লেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৭ মে) সকাল সোয়া ৭টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। যাত্রা পথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত ট্রানজিট নিয়ে তার প্যারিসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

দুপুরে বিমানবন্দরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিমানবন্দরে বিদায়কালে সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টাকে যথাযথ ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, ড. ইউনূস সকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিমানবন্দর সূত্র তার প্যারিস যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য কিংবা সেখানে তার নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।


উন্নয়নের নামে আবাদি জমি নষ্ট না করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশের আবাদি বা কৃষিজমি যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইক্ষু খামারে প্রস্তাবিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য ক্যাম্পাস এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, উন্নয়নের প্রয়োজন থাকলেও তা কৃষিজমি ধ্বংস করে করা উচিত হবে না।

পরিদর্শনকালে মির্জা ফখরুল বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশে কৃষিজমি কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের ফলে দেশের আবাদি জমি অতি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় যতটা সম্ভব কৃষিজমি রক্ষা করে বিকল্প স্থানে প্রকল্প গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য বর্তমানে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে জামালপুর ইক্ষু খামারের প্রায় ১০০ একর জায়গাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মির্জা ফখরুল জানান, এই বিশাল এলাকাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে এখানে শিক্ষা কার্যক্রমের অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারি খাস জমি বা ইক্ষু খামারের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু এই জমিটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে রয়েছে, তাই সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হস্তান্তর করা অনেক সহজ ও দ্রুততর হবে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ কৃষকদের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের ঝামেলা থাকবে না, অন্যদিকে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

পরিশেষে তিনি জানান, শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থান নয়, বরং জেলার আরও বেশ কয়েকটি এলাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। সব দিক পর্যালোচনা করে পরিবেশ ও কৃষি রক্ষা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই বিশ্ববিদ্যালয় যেন আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাদান কেন্দ্রে পরিণত হয়, সে লক্ষ্যেই বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি : সড়কমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা, প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহন এবং সড়ক, রেল ও নৌপথে বাড়তি চাপের মধ্যেও সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত ভাড়ায় ও শৃঙ্খলার সঙ্গে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারছেন এবং নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সবকিছু মিলিয়ে একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে ঈদযাত্রা মনিটরিং করছে। যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় কিছু যানজট বা ধীরগতি থাকলেও সেটি স্বাভাবিক। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। তবে ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিআরটিএর কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে বসে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে আমি জেনেছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা বাড়ি যাচ্ছেন। দেড় কোটি মানুষ দুই-তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়ছে। আবার প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুও পরিবহন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কাউন্টার ও বাসস্ট্যান্ডের বাইরে কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যাত্রীদের বাড়ি যাওয়ার তাড়াহুড়োকে পুঁজি করে কেউ কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে। তবে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জরিমানাও করা হচ্ছে। যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না যায়, সে জন্য কঠোর নজরদারি চলছে।

রেলপথে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজনের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, এরইমধ্যে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনে বিশেষ কোচ যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব ট্রেনে এখনই এটি সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচও হাতে নেই। ঈদ উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ এরইমধ্যে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রো স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত ছিল না। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনকে জিজ্ঞেস করেন। যারা এখানে ইজারা দিয়েছে, টাকা নিয়েছে দায় তাদের।


মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে গ্যাস লিকেজে ৬ শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) গ্যাস লিকেজের ঘটনায় চিকিৎসাধীন ছয়টি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার তথ্য জানাজানি হলে পুরো হাসপাতাল এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের পক্ষ থেকে এই বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি থেকে নির্গত গ্যাসের বিষক্রিয়া বা দমবন্ধ হয়ে শিশুগুলো প্রাণ হারিয়েছে।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে থাকা এসি সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সেখান থেকেই মূলত গ্যাস লিকেজের সূত্রপাত হয়। সেই সময় ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল এবং ক্রাইমসিন ইউনিট ইতিমধ্যে হাসপাতাল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে।

রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মধ্যরাতের পর এই ঘটনা ঘটলেও সকালে এর ভয়াবহতা সামনে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা এসির গ্যাস লিকেজ থেকে তৈরি হওয়া শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে শিশুগুলো মারা গেছে। তবে বিষয়টি নিখুঁতভাবে নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। এটি কোনো অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের ভেতরে সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু ওয়ার্ডের এই চরম বিপর্যয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়ে যায়। তবে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডটি পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছে এবং সেখানে সাধারণের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং যদি কারো অবহেলা থেকে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।


রাজধানীর নর্দায় ২ বাসের সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত বেশ কয়েকজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় বুধবার (২৭ মে) ভোরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন যাত্রী নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘ইসলাম পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজক ভেঙে বিপরীত লেনের ‘আকাশ পরিবহন’-এর একটি বাসে সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— লাইজু বেগম (৩৮), তাঁর স্বামী মো. কবির জোমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) এবং মো. রবিউল (২২)। নিহতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলায় এবং একজনের বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভোর ৬টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় বাস দুটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। খবর পেয়ে বাড্ডা ও ভাটারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেকারের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাসগুলো সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে ঘটনার পরপরই ঘাতক ইসলাম পরিবহনের চালক ও হেল্পার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন একটি বলেন, “নতুন বাজারের নর্দ্দা এলাকায় সড়কের সঙ্গে একটি বাস কাউন্টার আছে। ওখানের রাস্তায় ভিড় থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের একটি বাস ওই পথে বেপরোয়া গতিতে আসছিল। নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক পার হওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডারের উপরে বাস উঠিয়ে দেয়। গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বাসটি বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনের একটি বাসে ধাক্কা দেয়।”

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ইসলাম পরিবহনের বাসটি শুরু থেকেই অত্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত গতিতে চালানো হচ্ছিল। এসআই নেসার উদ্দিন জানান, “গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনের বাসে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিল ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের বাসের ধাক্কায় আকাশ পরিবহনের বাসটি অনেকটা দূরে সরে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান একজন নারী যাত্রী। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট চার যাত্রী নিহত ও অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।” বাসের যাত্রীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, “পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে আসছিল। চালক ও হেল্পার ছিল অবাধ্য। পুরো রাস্তায় চিৎকার চেঁচামেচি করেছে চালক।” বর্তমানে ঘাতক বাসটি থানা হেফাজতে রয়েছে এবং পলাতক চালক ও হেল্পারকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


banner close