পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ৩টি নতুন উপজেলা ও ১টি নতুন থানা গঠনের অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলো গঠন করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাংশের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা। চট্টগ্রাম মহানগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে হাটহাজারী থানাকে দ্বিখণ্ডিত করে নতুন ‘হালদা’ থানা গঠনের প্রস্তাবও বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।
উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে রাজউকের ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ প্রকল্পের ভৌগোলিক বিভক্তি দূর করতে প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো স্থায়ীভাবে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পটির প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এই নতুন উপজেলা ও থানাগুলো গঠনের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাও সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা নিকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূরণ হলো।
আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তার সনাতন ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে একটি বিশাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিন্দুক পাহারা দেওয়ার চেয়ে তার কম্পিউটারকে হ্যাকারমুক্ত রাখা এবং দীর্ঘ সীমান্ত পাহারার চেয়েও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) খিলগাঁওস্থ আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাহিনীর মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, “যুদ্ধ কেবলই সমরাস্ত্রের বিষয় নয়, যোগাযোগ কেবলই মানুষের কণ্ঠস্বর বিনিময় করা নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কীভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।” তিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য বাহিনীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। মন্ত্রী মনে করেন, ডিজিটাল লিডারশিপ গ্রহণ করার এই মানসিকতা বাহিনীকে আরও সময়োপযোগী করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এএম সাজ্জাদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সময়ের স্পন্দনে, আকাঙ্ক্ষা পূরণে’। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে জ্ঞান ও মনোজগৎকে স্থির রাখার কোনো অবকাশ নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় জ্ঞান ও মনোজগতকে স্থিতিশীল রাখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতি মুহূর্তে আমাদের চিন্তার দিক থেকে গতিশীল থাকতে হবে এবং চলমান আপগ্রেডিং সিস্টেমের মধ্যে থাকতে হবে। তা না হলে আজকে যিনি আধুনিক, আগামীকালই তিনি অচল হয়ে যেতে পারেন।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে এই ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তিনি এই উদ্ভাবনী উদ্যোগকে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য একটি শিক্ষণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদও তাঁর বক্তব্যে বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি আনসার বাহিনীর ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজার নামাজ।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক বিশিষ্টজন।
পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন রাখা হলে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলাসহ অনেকে।
শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশন, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই গুণী মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার জন্য। এরপর প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
গত সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শিল্প ও সংস্কৃতিকে মুক্তির সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের নির্দেশ অমান্য করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার কক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী বাংলাদেশে পাপেট থিয়েটারকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি শিশুদের জন্য অসংখ্য কালজয়ী টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ আছে; ততদিন রিফাইন্ড বা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভারতে অবস্থান করা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করে এবং সেসব বক্তব্যের অনুবাদ প্রচার করেছে বাংলাদেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। তাই, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বক্তব্য প্রচারে কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা দেশের গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিফাইন্ড কিংবা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ এবং নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এতে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব উত্তরাঞ্চলের মানুষকে চরম সংকটে ফেলে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ করা। এই কাজে চীনের বিপুল দক্ষতা (এক্সপার্টিজ) এবং প্রয়োজনীয় ফান্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রকল্পটি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ হিসেবে জনগণ ও তার নিজস্ব স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়ার কারণ দেখি না। ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই এনগেজ করবে। যদি কারো কোনো সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কনসার্ন থাকেও, বাংলাদেশ তা মাথায় রাখবে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস না করেই কাজ করবে।
বিগত আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শুধু একটি নয়, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করব।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, এই প্রকল্প বা ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করা ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ নিজেদের স্বার্থেই দ্রুত করতে হবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন দেশের বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য শিল্পী এবং তার অবদান শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভি প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী। দেশের সকল প্রতিভাবান মানুষের তালিকা করা হলে মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম সারির অনন্য মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার জান্নাত প্রার্থনা করেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের কৈশোর থেকেই আমরা তার বহুমুখী প্রতিভা ও কাজের সাথে পরিচিত। তিনি শিল্পকলা ও সাহিত্যের জগতের বহু ক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন। নিজে যেমন মেধার অবিরাম চর্চা করেছেন, ঠিক তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার যখনই যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তার কর্মের আন্তরিকতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি এক অনন্য মননশীলতার গভীর ছাপ রেখে গেছেন।’
মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে পারাকে পরম সৌভাগ্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বিটিভি পরিবার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।
বিটিভি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নেন।
দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বা মব জাস্টিস কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে এই ধরনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত হয়েছিলেন ৭১ জন। সেই হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মব সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, জুন মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে এবং অধিকতর অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি—এসব সূচকে উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত এবং দলীয় সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা, উভয় ক্ষেত্রেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে তিনজন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
এ মাসে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ জন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক।
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি অজ্ঞাত ও নামীয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৫৩।
এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য বলছে, জুনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৬ জন নিহত এবং ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জুনে ভারত থেকে ৪২৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের জীবন যাপন করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে সহিংসতা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা একটি বড় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুনে ৯ জন মৃত ও ২ জন জীবিতসহ মোট ১১ নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মাসে মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে।
বার্ষিক সমাপনী মজুত গণনা, পরিসম্পদ মূল্যায়ন ও বাস্তব যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বুধবার সারাদেশের সব তেল ডিপো ও প্রধান স্থাপনা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পক্ষ থেকে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিপিসির বণ্টন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখার মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌসী মাসুম হিমেল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে যে, বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপোসমূহে বার্ষিক সমাপনী মজুদ গণনা ও যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামস্থ প্রধান স্থাপনা থেকে শুরু করে দেশের সব ডিপো এবং স্থাপনার বিপণন কার্যক্রম এদিন স্থগিত থাকবে।
তবে বিমান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জেট-এ১ জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিপোর মজুদ ট্যাংকের বার্ষিক যাচাই কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে সরবরাহ সচল রাখতে হবে।
যমুনা অয়েল, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এই আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে আসার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে ২০টি ভারতীয় রেলকোচ। জুলাই মাসেই কোচগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় রেল বিভাগের কর্মকর্তারা।
২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রাইটসের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সরকার। সেই চুক্তির শর্ত ছিল— বাংলাদেশে মোট ২০০ রেলকোচ রপ্তানি করবে ভারত। এসব কোচের মধ্যে ১২০টি ব্রডগেজ যাত্রী কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই ২০০ কোচের মূল্য হিসেবে ভারতকে ৯১৫ কোটি রুপি প্রদান করবে বাংলাদেশ। এই প্রকল্পে বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)।
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনমিক টাইমসকে বলেন, ‘প্রথম চালান হিসেবে জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ কোচ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য আমাদের যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ। জুলাইয়ের যে কোনো দিন এই চালান বাংলাদেশে পাঠানো হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, পরবর্তী চালানগুলো আগামী ৩৬ মাসে পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে।’
প্রথম চালানের এই ২০টি কোচ তৈরি করা হয়েছে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা এলাকায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায়। পরবর্তী কোচগুলোও সেখানেই প্রস্তুত করা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় রেল দপ্তরের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কোচের ওয়ারেন্টির মেয়াদ হবে ১৪ বছর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বুধবার ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।
তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেট-নির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।
সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
গত ১০-১৫ বছরের তুলনায়; বিশেষ করে ২০২৫ সালের চেয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘ঐতিহাসিক উন্নতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গত পরশু আমি সংসদে খাতভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেছি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অধিকাংশ সূচকে আমরা ঐতিহাসিকভাবে উন্নত অবস্থানে আছি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকার বরাদ্দ কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিরোধী সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধিকাংশ অপরাধের সূচকে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে, যদিও ধর্ষণ মামলার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।
এর কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে ধর্ষিতারা মামলা রেকর্ড করতে থানায় যেত না, বা সামাজিক-রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে পারতো না। এখন থানায় গেলেই বা অনলাইনে তারা জিডিসহ এফআইআর দায়ের করতে পারে। এখানে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই । যার ফলে সংখ্যাটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের বিষয়েও সরকারের অগ্রগতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচার ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
এছাড়া দীর্ঘদিন অমীমাংসিত তনু হত্যা মামলায় ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পুলিশ কোনো গ্রেপ্তার করছে না। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা প্রাধান্য দেব না।
তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে ডগ স্কোয়াড, আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষেত্রেই সশস্ত্র থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আধুনিক সরঞ্জাম ও সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক জুয়া ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইন বাদ দিয়ে আধুনিক জুয়া প্রতিরোধ আইন আনার উদ্যোগও চলছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটে ছাঁটাই প্রস্তাব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। দেশে ক্রমবর্ধমান হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও নারী-শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসে সারাদেশে হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয় ৬০৫টি। একই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২২১৪টি চুরির ঘটনা এবং ১২৯টি পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে । নারী ও শিশু নির্যাতন এ দুই মাসে নথিভুক্ত করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৬টি।
জাতীয় দৈনিকের সংবাদের উদ্ধৃতি টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে।
বাজি বা পণ (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করতে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। পাস হওয়া বিলে অনলাইন বেটিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬ পাস হয়। ১৮৬৭ সালের দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট রহিত করে নতুন আইন করা হচ্ছে।
নতুন আইনকে সমর্থন করলেও আইনে দেওয়া কিছু ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা করেছে বিরোধী দল। জুয়া প্রতিরোধের কথা বলে সরকারের সমালোচনাকারী কোনো ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন। বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।
পাস হওয়া বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং, জুয়ার স্থান, সামগ্রীসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড/উভয় দণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ এবং ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, মুরাদনগরকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ ও গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন ৩টি উপজেলা গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভা আজ বুধবার বেলা ১১টায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে গত রোববার জারি করা সভার নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন থানা ও উপজেলা গঠন এবং জেলা সীমানা পুনর্গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে।
সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এছাড়া চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সভায় আরও আলোচনা হবে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘বাঙ্গারা’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নিয়ে।
অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশ ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক সীমানা পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
এছাড়া ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়নের সমন্বয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবও সভায় বিবেচিত হবে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি) সংশ্লিষ্ট একটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী এবং কমিটির সদস্যদের সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভার কার্যপত্র আগেই সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সভা শেষে কার্যপত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও জনসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে নিকারের এ সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী যোগ দিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আ. ছালাম খানের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান কার্যালয়ে যোগ দেন তিনি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২১ মে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভীকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী ১৯৯৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পেশ ইমাম হিসেবে যোগ দেন।
এ ছাড়া তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ-এর জেনারেল সেক্রেটারি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি বাংলাদেশ-এর শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শরীয়াহ বোর্ডের এক্সপার্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসায় শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নবনিযুক্ত মহাপরিচালক দায়িত্বভার গ্রহণের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁওস্থ সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি সভায় মিলিত হন। মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে নিয়োগ দানের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিদায়ী মহাপরিচালক আ. ছালাম খান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ), নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়) প্রকল্পের পরিচালক এস. এম. তরিকুল ইসলাম।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের পরিচালক হাজেরা খাতুন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ খান, অনুবাদ ও সংকলন বিভাগের পরিচালক আনিসুজ্জামান সিকদার, পরিচালক যাকাত ফান্ড বিভাগ ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।