বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ল, জাপার হইচই, ওয়াকআউট, স্পিকারের রুলিং

আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৩ ০০:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২৩ ২২:২০

পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।

বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।

বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।

গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।

সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’

খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।

টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'

জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।

ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’

প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।

সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।

আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।

স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’

ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’

তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।

এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’

মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।

পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।

বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।

তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিষয়:

লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭২ বাংলাদেশি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭২ জন বাংলাদেশি। তারা দেশেটির বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। বৃহস্পতিবার বুরাক এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তারা দেশে ফিরেছেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


ইউনূস আমলে এক বছরে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের (২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি বলছে, জরিপটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির চিত্রের বিশ্লেষণ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে সুনির্দিষ্ট ১৮টি সেবা খাতের চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৩ সালে এই জরিপ করেছিল টিআইবি।

বর্তমান জরিপের ফলাফল বলছে, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩.৫) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি।

তবে সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার ১২৪ টাকা।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চহার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে আছে। পাশাপাশি কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে বা আগের মতোই রয়ে গেছে।

দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই দুর্নীতির অভিযোগ কোথায় ও কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।

দুদক সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার জানলেও অভিযোগ করার হার খুবই কম। অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্নীতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির বদলে সুবিধা পাওয়া।

জরিপে আরও দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয় (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে বেশি টাকা দিতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ‘নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী’ ব্যক্তিদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি কমাতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।


দীর্ঘ ২ বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ জুন, ২০২৬ ১৫:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে এই ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা—এই পাঁচটি প্রধান শহরের ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা শুরু হবে। তবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরের ভিসা সেন্টারগুলোতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত প্রায় দুই বছর ধরে সাধারণ ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান স্থগিত রেখেছিল ভারত। হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই ঘোষণা দিতে পেরে তিনি বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মেডিকেল ভিসা প্রসঙ্গে দিনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন যে, এই ক্যাটাগরির ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে মানবিক বিবেচনায় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ বিরতির পর সাধারণ ভিসা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন দিনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব শুরুর প্রথম দিনেই ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ভিসা সেন্টার পরিদর্শন করে সাধারণ আবেদনকারীদের কথা শুনবেন এবং সেবার মান উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীদের সুচিন্তিত পরামর্শ গ্রহণ করবেন। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


রাষ্ট্রপতির কাছে ভারতীয় হাইকমিশনারের পরিচয়পত্র পেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। সাবেক এই রেলমন্ত্রীকে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের জন্য ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। গত ১২ জুন তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছান এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দীনেশ ত্রিবেদীকে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছে ভারত সরকার। গত ২৪ জুন জারি করা এক সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে দায়িত্বরত থাকাকালীন তাঁকে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মূলত আনুষ্ঠানিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকায় (টেবিল অব প্রিসিডেন্স) তিনি এই উচ্চমর্যাদা ভোগ করবেন।

তবে স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মর্যাদা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি দীনেশ ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত সম্মাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে ভারতের স্থায়ী প্রটোকল তালিকায় বা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এর মৌলিক কাঠামোতে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। কূটনৈতিক মহলে দীনেশ ত্রিবেদীর এই বর্ধিত মর্যাদা দুই দেশের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


উড্ডয়নের আগে ইউএস-বাংলার ইঞ্জিন বিকল, জরুরি দরজা ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে উড্ডয়নের প্রাক্কালে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পরে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানের দরজা ভেঙে উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭০ জন যাত্রীকে নিরাপদ স্থানে বের করে আনা হয়।

জানা গেছে, ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হঠাৎ ককপিটের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ বা অগ্নি-সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। বিপদ টের পেয়ে অভিজ্ঞ পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজটি থামিয়ে দেন এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি অবহিত করেন। ইঞ্জিনে ত্রুটির খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তারা দ্রুত বিমান থেকে নামার চেষ্টা করেন। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উড্ডয়নের আগেই যান্ত্রিক গোলযোগ শনাক্ত হওয়ায় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উড্ডয়ন বাতিল করে কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর এবং সকল নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে ফ্লাইটটি পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ইঞ্জিনের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং বিমানবন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। সময়োচিত এই পদক্ষেপের কারণে যাত্রীদের জীবন রক্ষা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


মাদক মামলার জট কমাতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল, দেয়া হবে আধুনিক অস্ত্র: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষায় অস্ত্র প্রদানের পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যাদের একটি বড় অংশ সিনথেটিক ও সেমি সিনথেটিক মাদকের শিকার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, বর্তমান মাদকচক্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। তাঁর ভাষায়, “পরিস্থিতি অনেকটা ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারে’র মতো।” এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার মাদক আইন সংশোধনের কাজ শুরু করেছে এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংশোধিত আইনটি উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

মামলা জট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাতেও প্রচুর মামলা ঝুলে আছে। প্রথাগত আদালত ব্যবস্থায় এই বিশাল সংখ্যক মামলার বিচার সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তাই বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে ‘স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি প্রচলিত আদালতেও মাদকের বিচার কাজ যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষে সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এদিন ১৫টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রকে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয় এবং মোট ৭৩টি কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।


নদীর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিস্তা নদী প্রকল্পসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি ও গবেষণাধর্মী সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

বৈঠকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে চলমান নদী খনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের সক্রিয় কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া নদীভাঙন রোধ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশনের উন্নয়নে চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রত্যুত্তরে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি ২০০৫ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বর্তমান সহযোগিতা অত্যন্ত বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর। মন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন যে, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে প্রভূত উন্নতি করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও আমন্ত্রণ জানান।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকের শেষে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ বই উপহার দেন। এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলে বাংলাদেশের পানিসম্পদ উন্নয়নে চীনের সাথে সহযোগিতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।


প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রভাবশালী মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের প্রারম্ভে লিউ হাইশিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নয়বার চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি সগৌরবে জানান যে, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক চীন সফরের দুর্লভ স্থিরচিত্র তাঁর সম্মানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বিএনপি ও সিপিসি-র মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব উল্লেখ করে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

লিউ হাইশিং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, চীন সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক। তিনি পারস্পরিক সম্মান ও গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এবং বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সক্রিয় কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য রয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বিকশিত হবে।

চীনের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন যে, তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন লাভ করবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিনসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। চীনের পক্ষ থেকেও সিপিসি-র আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।


চীনের সঙ্গে শিল্প অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ জুন, ২০২৬ ১১:০৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ সম্মেলনে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকালে দিয়াওইউতাই হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এই সভায় চীনের শীর্ষস্থানীয় ১২৫ জন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।” তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ‘ভ্যালু চেইন’ সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং পুঁজি প্রবাহ সহজতর করতে তাঁর সরকার বর্তমানে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতকরণ এবং একটি টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিশেষায়িত ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। চীনা বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিতে খুব শীঘ্রই চীনে বাংলাদেশের প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি। সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বাংলাদেশে বিনিয়োগের বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একটি বিশেষ উপস্থাপনা বা প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন।

এই উচ্চপর্যায়ের বিনিয়োগ ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ আরও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর এই বলিষ্ঠ আহ্বানের ফলে বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে চীনা বিনিয়োগের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি হবে।


চার মুঠোফোন কোম্পানির কাছে সরকারের পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দেশের শীর্ষ চার মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, টেলিটক, রবি ও বাংলালিংকের কাছে সরকারের প্রায় ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কক্সবাজার-৩ আসনের সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, দেশে চারটি মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা রয়েছে। তিনি জানান, টেলিটকের কাছে ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, গ্রামীণফোনের ৬ হাজার ১০২ কোটি টাকা, রবি আজিয়াটার ৬১৫ কোটি টাকা ও বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনসের কাছে ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, টেলিটকের কাছে লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বাবদ ৫ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বকেয়া আছে। টেলিটক কর্তৃক ৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ইকুইটি কনভার্সনের আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে।

গ্রামীণফোনের বকেয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি বাবদ বিটিআরসির মোট পাওনা ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা। আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই কিস্তিতে ২ হাজার ৩৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে গ্রামীণফোন। বর্তমানে বকেয়া ৬ হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

রবির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি ও পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর মূসক বাবদ বিটিআরসির মোট পাওনা ৬৭৮ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশে রবি আজিয়াটা পাঁচ কিস্তিতে ১৮৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। অবশিষ্ট টাকা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

বাংলালিংকের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি ও পরিশোধিত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর মূসক বাবদ বিটিআরসির পাওনা ৪৭৩ কোটি টাকা। ৩৮১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। অবশিষ্ট টাকা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।


ব্যাংক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক       

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভিত শক্তিশালী করতে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে এই ঋণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ এই অর্থায়ন অনুমোদন করে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা। এটি ব্যাংক রেজোলিউশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

প্রকল্পটি আমানত সুরক্ষা তহবিলের মূলধন বাড়িয়ে একে সহায়তা করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার অগ্রাধিকার এগিয়ে নেবে। এর মধ্যে রয়েছে—আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা, একটি কার্যকর ‘ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ (জরুরি তারল্য সহায়তা) কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, ব্যাংক পুনর্গঠন কৌশল তৈরি করা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারে সহায়তা প্রদান।

বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স, রেগুলেটরি ক্যাপচার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ঋণ প্রদানের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২.৬ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশীয় ব্যাংকগুলোর গড় ৭.৯ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যবস্থার ঝুঁকি-ভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন অনুপাত ছিল ঋণাত্মক ২.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম বলেন, ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রার জন্য একটি স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক খাত প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাংক খাত—যা মোট আর্থিক খাতের সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশের যোগান দেয়—বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশকে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, পদ্ধতি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এর ফলে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।’

প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও উন্নত করা হবে। এটি ক্রমবর্ধমান সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা এবং খাতভিত্তিক ডেটা ও অ্যানালিটিক্স-এর ঘাটতিগুলো পূরণ করতে সাহায্য করবে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়বে এবং তথ্যনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির মাধ্যমে আর্থিক খাতের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার তোশিয়াকি ওনো বলেন, ‘আইএমএফ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগীদের একটি সমন্বিত পদ্ধতির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং ব্যাংক খাতের চাপ ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।’


পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত, বৈষম্য কমছে বেতন কাঠামোয়

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ এগিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য কারিগরি, আর্থিক ও আইনি প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকটি হয়।

বৈঠকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্যে বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, আইনি প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিন ধাপ নয়, দুই ধাপে বাস্তবায়নের ভাবনা: প্রাথমিক পরিকল্পনায় নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির মুখে সরকার সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে।

বৈঠকে দ্রুত বেতন কাঠামো কার্যকর করতে তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।

নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা: উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর চাপ বিবেচনায় এনে প্রথম ধাপেই তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

আলোচনায় উঠে এসেছে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে কার্যকর করা হতে পারে।

অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপেই বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে।

বেতন বৈষম্য কমাতে বিশেষ নজর: সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ছিল গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করা।

বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যের বিষয়টি বৈঠকে আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ভাতা ও অন্য সুবিধা বৃদ্ধির আলোচনা: শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও এগিয়ে: নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আইনি ও কারিগরি জটিলতা দূর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিধিমালা সংশোধন, আইনি ভেটিং সম্পন্ন করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত বেতন নির্ধারণ ও হিসাব-নিকাশের পরিকল্পনা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

বর্ধিত বেতন পেতে লাগতে পারে আরও কয়েক মাস: বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছাতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।


রোহিঙ্গাদের জন্য ১৩৭ কোটি টাকা দিচ্ছে অস্ট্রেলীয় সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক     

রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ১৩৭ কোটি টাকা দিচ্ছে অস্ট্রেলীয় সরকার। এ লক্ষ্যে বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মধ্যে ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (১৩৭ কোটি টাকা) চুক্তিতে সই হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে এ চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

মন্ত্রী এ সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চুক্তিটি মিয়ানমার এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ। উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়া এই আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় এ নিয়ে মোট ১.২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।

অস্ট্রেলিয়া প্রদত্ত ১৬ মিলিয়ন ডলারের এ তহবিল ইউনিসেফ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে ব্যয় করবে।


banner close