পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
স্থবিরতা কাটিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি ফেরাতে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ করতে করতে আগামী বাজেটে একগুচ্ছ কর্মকৌশল ও পরিকল্পনা থাকছে। যেসব ব্যবসায় লাইসেন্স ও পারমিশন লাগে, সেগুলো খুব সহজে এবং অল্প সময়ে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে– কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে ডি-রেগুলেশনের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইভি ও ইভির চার্জিং স্টেশন স্থাপনের যন্ত্রপাতি এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও বড় ধরনের ছাড়। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়া হতে পারে আগামী বাজেটে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন লাইসেন্স বা ব্যবসা সম্প্রসারণের অনুমোদন চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন অনুমতি (প্রভিশনাল পারমিশন) পেয়ে যাবে। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত লাইসেন্স দিতে ব্যর্থ হলে—ওই ব্যবসায়ীকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে। যা প্রচলিত নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি ও অনুশীলনে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। এছাড়া, বছর বছর বিভিন্ন লাইসেন্স ও পারমিশন নবায়ন করার ঝামেলা থেকে ব্যবসায়ীদের রেহাই দিতে সব ধরনের লাইসেন্স ও অনুমতির মেয়াদ ৫ বছর করার ঘোষণা থাকছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।
বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিরেগুলেশন, সংস্কারের পদ্ধতি প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও কর ছাড় দেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য অযথা বিলম্ব কমানো, নথিপত্রের পুনরাবৃত্তি দূর করা এবং সামগ্রিক অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলোর নকশা করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এর মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনসহ কর প্রশাসনের আধুনিকায়নে ধারাবাহিক কিছু সংস্কার এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে কর রেয়াত বা ট্যাক্স রিফান্ডের টাকা সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা (ক্রেডিট) হবে এবং ব্যাপকভিত্তিক এই অটোমেশনের ফলে কর ব্যবস্থার প্রশাসনিক বিলম্ব ও হয়রানি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমলাতান্ত্রিক জটিলতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে যত রকমের বাধা সৃষ্টি করা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা এখন তাই করছেন।
আগামী অর্থবছর থেকেই এই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার কাজ শুরু উল্লেখ করে তিনি জানান, কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় সব পারমিটের জন্য আবেদন করতে হলেও, এখন থেকে তারা একটি মাত্র ওয়ান-স্টপ বা সিঙ্গেল এন্ট্রি পয়েন্টের মাধ্যমে তা করতে পারবে। একইসঙ্গে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে একটি কঠোর সময়সীমার মধ্যে তা দিতে বাধ্য করা হবে। আসন্ন বাজেটে এই সময়সীমাগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিশেষ বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা খর্ব করা হবে বলে জানান আমির খসরু।
তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যেসব উদ্যোগ : ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত হতে পারে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এই সীমা ৭০ লাখ টাকা হতে পারে। স্টার্টআপ, ইনোভেশন ভেঞ্চার ও প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার ক্ষেত্রে ৯ বছরের জন্য কর অব্যাহতি আসতে পারে।
কর প্রদানে হয়রানি কমাতে উদ্যোগ: ডিরেগুলেশনের অংশ হিসেবে কর দেওয়ার সময় ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে—অনলাইনে করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন ফাইলিং চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একইসঙ্গে ই-রিটার্ন দাখিল সুবিধা চালু করতে মোবাইল এপ্লিকেশন চালু করবে এনবিআর।
ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্য বছরজুড়েই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকবে—যারা আগে রিটার্ন জমা দেবেন তারা প্রণোদনার যোগ্য বিবচিত হবেন। পক্ষান্তরে, যারা রিটার্ন জমা দিতে দেরি করবেন তাদের অতিরিক্ত কর দায়ের মুখে পড়তে হবে।
আসন্ন বাজেটে স্পট অ্যাসেসমেন্ট-এর সময় এনবিআর করযোগ্য ব্যবসায়িক আয়ের চারগুণ পর্যন্ত প্রাথমিক মূলধন (অ্যালাউন্স) প্রদানের সুযোগ দিতে পারে এনবিআর। এর ফলে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং ব্যবসার আনুষ্ঠানিকীকরণ বাড়বে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে কর প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি যত ধরনের বাধা আছে প্রায় সবই দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে আগামী বাজেটে।
বিদ্যমান জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চয়তায় ইভি ও ইভির চার্জিং স্টেশন স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হতে পারে। এছাড়া ইভি রেজিস্ট্রেশন ফি বর্তমানে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আছে, যা কমিয়ে অর্ধেক করা হতে পারে।
অন্যদিকে শোধনাগারের জ্বালানি সরবরাহের ওপর উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশ, মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশ ও প্যাকেজিং উপাদানের ওপর কর ৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশ হতে পারে। একইভাবে পরিবহন, পণ্য বহন ও ভেহিক্যাল রেন্টাল সার্ভিসে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে।
শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাএর ক্ষেত্রেও একই হারে কমতে পারে। অনাবাসীদের (নন-রেসিড্যান্টদের) সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ১৫ শতাংশ থেকে কইএ অর্ধেক করা হতে পারে। অনাবাসীদের পরিশোধ করা বিমা প্রিমিয়ামের উৎসে করও অর্ধেক করা হতে পারে।
একইভাবে অফশোর উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। বর্তমানে এ কর ২০ শতাংশ থাকলেও বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এনবিআর অব্যাহতি দিয়ে রেখেছে।
এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়া হতে পারে আগামী বাজেটে। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আয় ৩৫ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। সৌবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্যও কর রেয়াত থাকতে পারে।
রাজস্বসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হতে পারে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিকে সহজ ও দ্রুত করতে শর্ত সহজ করা হতে পারে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, অগ্রিম আয়কর ও উৎসে কর কমানো এবং অন্যান্য ব্যবসার বাধা অপসারণের যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, তা যদি সঠিকভাবে বাজেটে প্রতিফিলতি হয় এবং মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে ব্যবসা ও বিনিয়োগের বড় সহায়ক হবে। তবে এনবিআর কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম যদি সরকারের নীতিগত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে এসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও পাওয়া যেতে পারে।
আজকের প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে ভোক্তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু পণ্যের গুণগত মানই নয়, বরং উৎপাদনের নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নেন। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।
সোমবার (৮ জুন) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে লিখেন, বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস প্রতি বছর আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং আস্থার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (আইএএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (আইএলএসি) প্রতি বছর ৯ জুন বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস হিসেবে পালন করে। তিনি লিখেন, দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘Innovation, Trust and Sustainability: The Power of Accreditation’, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬ উদযাপনের উদ্যোগ সময়োপযোগী।
তিনি আরও লিখেন, অ্যাক্রেডিটেশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য ও সেবার গুণগত মান যাচাই করে। অ্যাক্রেডিটেশন কেবল একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়, এটি দেশের শিল্প খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এর মাধ্যমে বিএবি বাংলাদেশের পণ্য ও সেবাকে বিশ্ববাজারে আরও গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। এ পর্যন্ত বিএবি দেশে ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করেছে। বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী লিখেন, আমি আশা করি, ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’ দেশের মান অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। আমি ‘বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের ওষুধশিল্প বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা গেলে দেশের ওষুধ রপ্তানির পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
তিনি জানান, অতীত সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও টিকা উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়নি। এমনকি ভেন্টিলেটর ও সিরিঞ্জের মতো জরুরি চিকিৎসা উপকরণেরও ঘাটতি ছিল। তবে পরবর্তীতে বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতি এক লাখ ইউনিট শিরাপথে প্রয়োগযোগ্য স্যালাইন অনুদান দিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মজুতাগারে এক লাখ স্যালাইন সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়েও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন মজুত আছে। প্রয়োজন হলে আরও সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তুতি রয়েছে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে আরও দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আক্রান্তের হার কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, ডেঙ্গুরোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য খাত সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের পুশইন বিজিবি শক্তভাবে প্রতিহত করছে এবং পুশইন বন্ধে ভারত সরকারকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (৮ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘যারা অবৈধ, তাদের ফেরত দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়া মেনেই ভারতকে কাজ করতে হবে।’ পুশইন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে বাংলাদেশে পুশইন করার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কর্তৃক নারী, শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঠেলে পাঠানো ঠেকাতে বাংলাদেশের ২৬টি জেলার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাত-দিন বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। স্থানীয় জনগণও তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
এদিকে গতকাল সোমবার থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সম্মেলনে অবৈধ পুশইন, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সোমবার (৮ জুন) চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনির সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস। এ সময় চিফ হুইপ এ মন্তব্য করেছেন। সাক্ষাৎকালে চলমান বাজেট অধিবেশন, সংসদীয় কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সংসদীয় ককাস গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মো. নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামের পর জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি কার্যকর সংসদ গঠিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ২৬০ জন নতুন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং এটি তাদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। নতুন সদস্যরা সংসদীয় রীতি-নীতি ও কার্যপ্রণালী আয়ত্ত করার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। অতীতে জনগণের মধ্যে সংসদীয় কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বর্তমানে তারা নিয়মিত সংসদ অধিবেশন অনুসরণ করছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
স্টুয়ার্ট জেমস বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সংসদীয় ককাস গঠিত হলে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। তিনি জনগণের জন্য একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সংসদ প্রতিষ্ঠায় চিফ হুইপের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ধূমপান নিরুৎসাহিত করা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির উপকরণ ও নিকোটিন আমদানিতে ৩০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদ্রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং ও চোখের লেন্সে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যে কাস্টমস শুল্ক কমানো এবং এই খাতে ভ্যাট ও আয়কর অব্যাহতির পরিকল্পনাও রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কর ও ভ্যাট ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ আসতে পারে নতুন বাজেটে। এছাড়া করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে, ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের করের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
নতুন বাজেটে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর অংশ হিসেবে এনবিআরকে ইনপুট-আউটপুট কোয়েফিশিয়েন্ট ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার চিন্তা রয়েছে।
২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার প্রায় এক যুগ পরও নবম পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় চাকরিজীবীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও জুন মাসের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি না হলে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে উৎকণ্ঠাও। এখন তাদের দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রজ্ঞাপনের দিকে।
সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে ন্যূনতম বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশসহ নানা প্রস্তাবনার খবর প্রকাশ পেলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামো একযোগে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।
তাদের দাবি, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন পে স্কেল চালু করা হলে তা আংশিকভাবে নয়, একবারেই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে যথেষ্ট হবে না।
সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই মনে করছেন, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে তা কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা এবং অস্পষ্টতা তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে।
মরিশাসে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের শ্রমবাজার আবার চালু হতে যাচ্ছে। দেশটি থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে দুই দেশ।
সোমবার (৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের (আইএলও) সাইডলাইনে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই সম্মতি আসে। জেনেভাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম এই বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে মরিশাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ বাজার পুনরায় চালু এবং দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে মরিশাস সরকারকে অনুরোধ করেন।
বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির সক্ষমতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল শিল্প ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে এখন ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স এবং অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চ দক্ষ জনশক্তি মরিশাসে পাঠাতে প্রস্তুত সরকার। বৈঠক শেষে তিনি মরিশাসের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানান।
বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার ব্যাপারে মরিশাস সরকার অত্যন্ত আগ্রহী।
বিশেষ করে দেশটির ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পের প্রসারে প্রচুর দক্ষ কর্মী প্রয়োজন।
মরিশাসের মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, পুনরায় শ্রমবাজার চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে মরিশাস সরকারের বিনিয়োগের গভীর আগ্রহের কথাও বৈঠকে প্রকাশ করেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন— শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মিশনের প্রথম সচিব মো. আমিনুল ইসলাম।
চলতি মৌসুমে দেশে মোট ৩ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদিত হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। আজ সোমবার (৮ জুন) জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী এই বিপুল পরিমাণ বোরো উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলের বোরো ফসলের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলেও সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা এবং সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে গৃহীত সময়োপযোগী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত ৩ মে থেকে হাওর এলাকায় ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা সরাসরি সরকারি গুদামে ধান শুকিয়ে তা সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারি উদ্যোগে এই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বেসরকারি মিল মালিকরাও ধান কেনায় সক্রিয় হয়েছেন, যা বাজারে ধানের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
অভাবী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, হাওর অঞ্চলের ছয়টি জেলায় ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা বিক্রির জন্য বিশেষ ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে। একইসাথে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দেশের সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ লক্ষ্যে ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমকে অধিকতর সমন্বিত ও কার্যকর করেছে।
উক্ত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন ও নিরাপত্তাগত চাহিদার প্রেক্ষাপটে আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যারা বিজিবির সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে সীমান্তবর্তী ১১টি জেলায়—চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর এবং খাগড়াছড়ি—উপজেলা/থানা আনসার ও ভিডিপি/টিডিপি সদস্য-সদস্যাদের ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া প্রদান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল সরবরাহের লক্ষ্যে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদেরও প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমে আনসার-ভিডিপির এই সম্পৃক্ততা জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিজিবির কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি সমন্বিত ও টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠছে।
বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪০ দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর সরকারগুলো কোনো ভেন্টিলেটর, মেশিন, ভ্যাকসিন দিয়ে যায়নি। এমনকি সিরিঞ্জও ছিল না। প্রাইভেট এন্টারপ্রেনারদের সহায়তায় হামের মতো বিপদগুলো মোকাবিলা করেছে সরকার।
‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এছাড়া, ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ অনুদান হিসেবে আজ এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল স্টোরে ডেঙ্গুর এক লাখ স্যালাইন আছে, আর ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে। তবে, হঠাৎ আরও স্যালাইনের প্রয়োজন পড়তে পারে।
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দেওয়ার আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সময় না দিলে তারা আদালতের সুবিধা নিতে পারে। এ জন্য আদ-দ্বীন হাসপাতালকে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তারা উত্তর দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, আইনানুগভাবে কী কী ব্যত্যয় ঘটেছে এবং কী ধরনের অপরাধ করেছে, এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ কাকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে, সেটি তাদের ব্যাপার। সরকার তার অবস্থানে ঠিক আছে। জনস্বার্থ সংরক্ষণ থেকে এক বিন্দু পিছপা হব না।
এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা আক্রান্ত হবেন, তাদের যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যকে পুনর্গঠন করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধান কর্মপন্থা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে কাজ চলছে, সেখানে স্টেকহোল্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
‘ওষুধ শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পলিসি সাপোর্টের চিন্তা করছে সরকার। দেশের মানুষকে সঠিক ওষুধ, সঠিক মূল্য কিংবা বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্র যদি সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যদি তা না পারে, তবে শুধু গণমাধ্যমের উপস্থিতির কারণে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বিরাজ করবে, এটা আশা করা যায় না। ব্যাংকিং খাতের সুশাসন মূলত জাতীয় ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুশাসনের ঘাটতিরই প্রতিফলন। তবে ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা ও ক্ষমতার কোনো বিকল্প নেই।
রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলায় আমরা আয়না দিয়ে খেলতাম। ভালো কোয়ালিটির আয়নায় আসল চেহারা দেখা যায়, আর যেটার কোয়ালিটি ভালো না, সেখানে নিজের চেহারাই বাঁকা দেখা যায়। গণমাধ্যম হচ্ছে সেই আয়না। কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ নিজেদের চেহারা জনগণের সামনে কতটা স্বচ্ছভাবে প্রতিফলিত করতে চায়, তা নির্ভর করে তারা এই আয়নাকে কতটা গ্রহণ করছে তার ওপর।
মন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যারা ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা টার্গেট করে, তারাই আবার শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের টার্গেট করে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হলে ব্যাংকের ওপর চাপ কমিয়ে শেয়ারবাজারকে পুঁজির শক্তিশালী উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ব্যাংকিং কমিশন গঠন এবং উদ্যোক্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর থেকে এখন অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের মতো অর্থনীতিতে রক্তপ্রবাহের উৎসকে সংস্কার করতেই হবে। ব্যাংক থেকে মূলধন নিয়ে উদ্যোক্তারা কাজে লাগান। কিন্তু তাদের মধ্যে কারা সত্যিকারের পারফর্মার আর কারা চোর, বাটপার, গুন্ডা, বদমাশ- তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার একমাত্র মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা। বস্তুনিষ্ঠতা ছাড়া গণমাধ্যম কর্তৃত্ব পরায়ন হতে পারে না। সাংবাদিকদের বসার জায়গা ফার্স্ট ফ্লোরে নাকি থার্ড ফ্লোরে সেটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় কথা হলো অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন বা তথ্যের কাছে তাদের যাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না। ব্যাংক যেখানে তথ্য রাখে, সেখানে সাংবাদিকদের পৌঁছানোর সুযোগ বা গ্রাউন্ড ফ্লোর পর্যন্ত তাদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ‘ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠন এক বিবৃতিতে রোববার থেকে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বেতন বৃদ্ধিসহ কয়েকটি দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ চিকিৎসাসেবা থেকে বিরত থেকে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, ছয় দফা দাবি আদায়ে ‘সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদ’ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য তারা এভাবে আন্দোলনে নামতে চাননি। বিদ্যমান কিছু নীতিমালা ও বিধিবিধান চিকিৎসকদের অবমূল্যায়ন ও অপমানিত করছে বলে অভিযোগ তাদের।
গতকাল সকালে ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নোটিশে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এফসিপিএস কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের বেতনকাঠামোতে বৈষম্য, ভর্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অপ্রতুল বেতন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতনকাঠামোর অসংগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
পরিষদ দাবি করেছে, বারবার দাবি উপস্থাপন, প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান, কার্যকর ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানসম্মত চিকিৎসাশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না করে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করে সংগঠনটি। পরিষদের বিবৃতিতে পূর্বঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ঢামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি মোস্তফা আমির ফয়সাল, সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সাধারণ সম্পাদক নাবিল বিন কাসেম ও সহসাধারণ সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক এফসিপিএস (পর্ব-১) উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা-সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল; বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ; নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আবাসিক ভাতাসহ নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ ও প্রতি মাসের বেতন নিয়মিত পরিশোধ; ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন; বিসিএস (স্বাস্থ্য) চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পূর্বের ন্যায় ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতনকাঠামো প্রণয়ন (শ্রম আইন, ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ ও পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ)।