সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

ব্যাংক পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ল, জাপার হইচই, ওয়াকআউট, স্পিকারের রুলিং

আপডেটেড
২২ জুন, ২০২৩ ০০:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২১ জুন, ২০২৩ ২২:২০

পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।

বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।

বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।

গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।

সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’

খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।

টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'

জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’

মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।

ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’

প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।

সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।

আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।

স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’

ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’

তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।

এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’

মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।

পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।

বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।

তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিষয়:

তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে দুই সন্দেহভাজন আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবন এলাকা থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ ও চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। রোববার সকালে পৃথক দুটি ঘটনায় তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর রোডে অবস্থিত তারেক রহমানের বাসভবনের সামনে থেকে মো. রুহুল আমিন নামের ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক রুহুল আমিন নিজেকে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ওই বাসভবন ও সামনে থাকা গাড়িগুলোর বিভিন্ন দিক থেকে সন্দেহজনকভাবে ছবি তুলছিলেন। বিষয়টি সিএসএফ এবং দায়িত্বরত পুলিশের নজরে এলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করা হয়।

প্রথম ব্যক্তিকে আটকের কিছুক্ষণ পরেই বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে একই বাসভবনের সামনে থেকে মো. ওমর ফারুক নামের দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। যদিও তাঁর বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁর দেহ তল্লাশি করে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, আটক হওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর থেকে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সিএসএফ কড়া নজরদারি বজায় রাখছে। বাসভবন এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং সন্দেহজনক আচরণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।


জাপার সাবেক মহাসচিব চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব এবং বর্তমান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এই সিদ্ধান্ত জানান। চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিলের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে; তাঁর সমর্থিত জাপার একাংশের মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতা এবং ব্যাংক ঋণখেলাপি হওয়া। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে, কারণ তাঁর জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তথ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে চুন্নু ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আলমগীরের ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল এবং গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার দলীয় প্রধানের স্বাক্ষর জটিলতায় তাঁদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে এই আসন থেকে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, জামায়াতে ইসলামীর জেহাদ খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলমগীর হোসাইনসহ ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে। ফলে এই আসনে জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী সমীকরণ নতুন দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই দিনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনেও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। এই আসনে জেলা বিএনপির সাবেক স্পেশাল জজ মো. রেজাউল করিম খান, সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই ১ শতাংশ সমর্থকের তথ্যে ত্রুটি পাওয়া গেছে। তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মোছাদ্দেক ভূঞাসহ সাতজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে বিএনপির আইনজীবী জালাল উদ্দীন ও জামায়াতের শফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ হলেও গণ অধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলামসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, শনি ও রবিবার মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের মোট ছয়টি সংসদীয় আসনের ৬১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে তথ্যে ভুল, স্বাক্ষর না থাকা, ঋণখেলাপি এবং ভোটার তালিকায় অসংগতির মতো নানা কারণে ২৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়া এই প্রার্থীরা এখন নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। গত দুই দিনে এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ছিটকে পড়া নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বর্তমানে বৈধ প্রার্থীরা তাঁদের প্রচারণার পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।


শুল্ক কমানো হয়েছে, বন্ধ হবে না এনইআইআর: ফয়েজ তৈয়্যব

আপডেটেড ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন যে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) পদ্ধতি কোনোভাবেই বন্ধ করা হবে না। রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যে মোবাইল আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে এখন আর এনইআইআর বন্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। গ্রাহকের ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের যোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদ্ধতি সচল রাখা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তাঁর বক্তব্যে দেশের মোবাইল বাজারের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, বর্তমানে প্রতিবছর বাংলাদেশে যে পরিমাণ মোবাইল সেট আমদানি করা হয়, তার প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনোভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে দেশে আসছে। এই অবৈধ সেটগুলোর একটি বড় অংশই নকল, কপি অথবা পুরনো সেট, যা পরবর্তীতে নতুন বডি বা কেসিং লাগিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে নতুন হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এই ধরনের জালিয়াতি এবং অসাধু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড আর চলতে দেওয়া হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এনইআইআর পদ্ধতি এই অরাজকতা বন্ধে একটি ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

সম্প্রতি বিটিআরসি ভবনে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা নিয়েও কথা বলেন বিশেষ সহকারী। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, যারা বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের আওতায় আনা হবে। সরকারি সম্পদ নষ্ট করা এবং রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়াকে কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। গ্রাহকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের শুল্ক হ্রাসের সুযোগ গ্রহণ করে বৈধ পথে ব্যবসা করার আহ্বান জানান তিনি। মূলত রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বাজারে মানসম্মত মোবাইল হ্যান্ডসেট নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।


কারওয়ানবাজারে মোবাইল ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ: পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের পূর্বনির্ধারিত সড়ক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি)-এর ব্যানারে কয়েকশ ব্যবসায়ী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবস্থান নিলে আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের এই কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড এবং লাঠিচার্জ ব্যবহার করে তাঁদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। পুলিশের এই অ্যাকশনের ফলে পুরো এলাকায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। দুপুর পর্যন্ত ওই এলাকায় তীব্র যানজট ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা, মোবাইল ফোন আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমান করের হার কমিয়ে আনা। এছাড়া বিটিআরসি কার্যালয়ে সাম্প্রতিক ভাংচুরের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানান তাঁরা। আন্দোলনরত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বর্তমানে এনইআইআর কার্যক্রম এবং আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন, যার ফলে তাঁরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

এর আগে গত শনিবার এমবিসিবির পক্ষ থেকে এই অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ডাক দেওয়া হয়। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণ না হবে এবং আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তি দেওয়া না হবে, ততক্ষণ এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ব্যস্ততম সড়কে অবস্থান নিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতেই তাঁরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে কারওয়ানবাজার ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দেশজুড়ে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ থাকায় সাধারণ ক্রেতারা প্রয়োজনীয় সেবা ও হ্যান্ডসেট কিনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।


সাকিবুল হত্যায় জড়িত প্রধান আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে: এডিসি জুয়েল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা। রোববার সকালে রাজধানীর ফার্মগেট মোড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই স্পর্শকাতর মামলাটিতে ইতিমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অন্যজনকে থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধান আসামির প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ আনা হলেও এডিসি তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, আসামিকে আইনের আওতায় আনতে ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করছে এবং আশপাশের সব থানাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে এডিসি জুয়েল রানা জানান, ঘটনার শুরুতে মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় গুরুতর আঘাতের অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু হওয়ায় মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং এখন এটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, দেশের উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের বড় অবদান রয়েছে এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি পুলিশের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধী যেন পালিয়ে যেতে না পারে সে লক্ষ্যে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সতীর্থ হত্যার বিচারের দাবিতে রোববার সকাল সোয়া দশটা থেকে তেজগাঁও কলেজসহ আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশ আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।


গ্রেফতারের ১৪ ঘণ্টা পর আদালতের আদেশে মুক্তি পেলেন বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে আটকের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার সকালে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আব্দুল মান্নানের আদালতে তাঁর জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মাহদী হাসানের জামিন মঞ্জুর করেন। মাহদীর আইনজীবী এমএ মজিদ বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। মাহদী হাসানের জামিনের খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছাত্র-জনতার মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তারা উল্লাস প্রকাশ করেন।

এর আগে শনিবার রাতে হবিগঞ্জ শহরের শাস্তোনগর এলাকা থেকে মাহদী হাসানকে আটক করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। আটকের পর তাঁকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হলে তাঁর মুক্তির দাবিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হয়ে রাতভর বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কেবল হবিগঞ্জেই নয়, মাহদী হাসানের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। রবিবার সকালে মাহদীকে আদালতে হাজির করার সময় আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় এবং সকাল থেকেই সেখানে আন্দোলনের কর্মীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন।

পুরো ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই ছাত্রলীগ নেতাকে মুক্ত করার দাবিতে গত শুক্রবার মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির কক্ষে অবস্থান নেন। সে সময় ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের উত্তপ্ত বাদানুবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মাহদী হাসানকে জুলাই আন্দোলনের দোহাই দিয়ে ওসির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে দেখা যায়। তিনি আন্দোলনের সময় বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পুড়িয়ে মারার কথা উল্লেখ করে ওসিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি প্রদান করেন। ওই ভিডিওটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আজ তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন।


ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট সরকার: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন যে, ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, আসামিদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং এ ক্ষেত্রে আইনি সব পথ খোলা রাখা হয়েছে। যদিও আসামিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে এখনো শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে যে তারা সীমান্ত পার হয়ে পালিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিচার প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো করার কোনো সুযোগ নেই, বরং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জ সফরের শুরুতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শহরের দক্ষিণ কোটগাঁওয়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই সময় তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। পরবর্তীতে তিনি উত্তর ইসলামপুর এলাকায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ তিনজনের কবর জিয়ারত করেন এবং শহীদদের পরিবারের খোঁজখবর নেন। শহীদ পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন যে, তাঁদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং সরকার তাঁদের সব সময় পাশে থাকবে। উপদেষ্টার এই সফর স্থানীয় মানুষের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

সফরের শেষ অংশে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় জেলার সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এবং পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন তাঁরা অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি যেমন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তেমনি স্থানীয় প্রশাসনের কাজেও নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।


ওসিকে হুমকি দেওয়া সেই বৈষম্যবিরোধী নেতা গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারের পর হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সদর থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বসে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সামনে অত্যন্ত উসকানিমূলক এবং বিতর্কিত মন্তব্য করেন মাহদী হাসান। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, বিগত সময়ে তাঁরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছেন এবং এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছেন। ওসির সঙ্গে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তিনি তাকে সরাসরি হুমকি প্রদান করেন এবং এই পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে মাহদী হাসানকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

মাহদী হাসানের এমন দম্ভোক্তি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। ছাত্র আন্দোলনের একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখে এমন সহিংস বক্তব্য আন্দোলনের মূল চেতনার পরিপন্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে গণ্য হয়। এই বিতর্কিত ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এল। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হবে এবং উসকানিমূলক বক্তব্য বা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনির মনোনয়নপত্র বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরীর আওতাধীন আসনগুলোর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই ঘোষণা দেন। রনি রেলওয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছিলেন, তবে নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রাথমিক ধাপে আইনি জটিলতার কারণে তাঁর প্রার্থিতা বর্তমানে সংকটের মুখে পড়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত নিয়মনীতি সঠিকভাবে প্রতিফলিত না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে মহিউদ্দিন রনি সাংবাদিকদের জানান যে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর জমা দিলেও নির্বাচন কমিশন যখন দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করতে যায়, তখন সেখানে বিপত্তি ঘটে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই ১০ জনের মধ্যে ২ জন স্থানীয় ভোটারকে তাদের নির্ধারিত ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই অসংগতির ওপর ভিত্তি করেই রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রটি অবৈধ বলে গণ্য করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মহিউদ্দিন রনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন যে, যদিও ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, কিন্তু তাদের দোসররা এখনো প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে লুকিয়ে আছে এবং তাদের ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। রনি মনে করেন, তাঁর অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্যই এমন ঠুনকো অজুহাতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি চুপ করে থাকবেন না বরং ন্যায়বিচারের আশায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। ইতিমধেই তিনি আইনি পরামর্শ গ্রহণ করে আপিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে উচ্চতর কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেবে। বর্তমানে ঢাকা-১৮ আসনে তাঁর এই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে।


৬৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগে আসছে বড় সুখবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক স্বল্পতা দূর করতে বড় ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। প্রতিষ্ঠানটি সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৬৮ হাজার শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র বা চিঠি প্রেরণ করেছে। এনটিআরসিএ-র প্রশাসন বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় এই চাহিদাপত্রটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পর অনুমোদন দিলে এনটিআরসিএ আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কার্যক্রম শুরু করবে। এই উদ্যোগের ফলে হাজার হাজার শিক্ষক নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির এই প্রস্তুতির আগে এনটিআরসিএ সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করে। টেলিটকের মাধ্যমে সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৭২ হাজারের কিছু বেশি পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রাপ্ত পদের সঠিকতা ও বৈধতা যাচাইয়ের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে বর্তমানে ৬৮ হাজার শূন্য পদের সঠিক তথ্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই সংশোধিত ও চূড়ান্ত শূন্য পদের বিপরীতেই এখন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চেয়েছে এনটিআরসিএ। মন্ত্রণালয় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ জুন এনটিআরসিএ ১ লক্ষ ৮২২ জন শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে পরবর্তীতে প্রায় ৪১ হাজার প্রভাষক ও শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে বিপুল সংখ্যক পদ তখনও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং বর্তমান শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে এনটিআরসিএ এবার আরও সুশৃঙ্খলভাবে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তির পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আসবে এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের এক নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।


তারেক রহমানের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার ও প্রেস সচিব হলেন সালেহ শিবলী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সচিবালয়ে নতুন দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারকে তারেক রহমানের একান্ত সচিব এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এএএম সালেহ (সালেহ শিবলী)-কে তাঁর প্রেস সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই নিয়োগের ফলে তারেক রহমানের প্রশাসনিক ও জনসংযোগমূলক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে কাজ করছেন। এবিএম আব্দুস সাত্তার ইতিপূর্বে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক কাজে বিশেষ সহায়ক হবে। অন্যদিকে, এএএম সালেহ শিবলী পেশায় একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং তিনি এর আগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে অবস্থানকালে তারেক রহমানের প্রেস সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখাশোনা করে আসছিলেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান যখন যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে ফেরেন, তখন সালেহ শিবলী তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে একই বিমানে দেশে ফিরেছিলেন। দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, অভিজ্ঞ এই দুই কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক কাজ এবং গণমাধ্যমের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে এই ধরনের নিয়োগগুলো দলের প্রশাসনিক ভিত্তি আরও মজবুত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিএনপির প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, এই আদেশ ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং তাঁরা তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।


রাজশাহীতে দুই আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-২ আসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। শনিবার সকালে জেলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দুই আসনের মোট ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রাজশাহী-১ আসন থেকে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজন বাদ পড়েছেন, যাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ ও সুলতানা ইসলাম তারেকের ভোটার সমর্থনে গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। আল সাআদের সমর্থনকারী ১০ জনের মধ্যে দুজন মৃত ভোটার এবং চারজনকে খুঁজে না পাওয়ার পাশাপাশি সুলতানা ইসলামের নথিতে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও ভোটার সমর্থনে গরমিল ছিল। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহানের আবেদনে দলীয় সভাপতি নূরের স্বাক্ষরের মিল না থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্রটিও বাতিল করা হয়। এই আসন থেকে বিএনপির মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরীফ উদ্দিন, এবি পার্টির আব্দুর রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান বৈধতা পেয়েছেন।

অন্যদিকে রাজশাহী-২ আসনে নয়জন প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুসহ ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন, লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওয়াহিদুজ্জামান এবং সালেহ উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বাক্ষর না থাকা এবং মৃত ভোটারের সমর্থন ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ওয়াহিদুজ্জামান বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণখেলাপি হওয়ায় তাঁর প্রার্থিতা টিকেনি এবং সালেহ উদ্দিনের আয়কর তালিকা না থাকা ও ভোটার তালিকায় অসংগতি থাকায় তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছেন। এই আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর ডা. জাহাঙ্গীর, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল করিম, লেবার পার্টির মেসবাউল ইসলাম এবং নাগরিক ঐক্যের শামসুল আলম চূড়ান্তভাবে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যারা প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন, তাদের জন্য উচ্চ পর্যায়ে আপিল করার আইনি সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে সমর্থনকারী ভোটারদের অস্তিত্ব না থাকা, মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার এবং আর্থিক দলিলে স্বচ্ছতার অভাবের বিষয়গুলো এবারের যাচাই-বাছাইয়ে কঠোরভাবে দেখা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা এখন নির্বাচন কমিশনে আপিল করে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে পারবেন। রাজশাহীর এই দুই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের বৈধতা পাওয়ায় নির্বাচনী লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বর্তমানে পুরো এলাকায় নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে এবং প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতির দিকে নজর দিচ্ছেন।


খালেদা জিয়ার সমাধিতে পরিবারের সদস্যরা, শান্তি কামনা করে দোয়া

*শ্রদ্ধা জানাতে ও দোয়া করতে দলে দলে আসেন নেতাকর্মীরাও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তারা যান। এ সময় খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারতের সময় তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন। এরপর দোয়া ও মোনাজাত করেন। প্রায় ২০ মিনিট সেখানে অবস্থান শেষে পরিবারের সদস্যরা চলে যান।
ফজরের নামাজের পর থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কবর জিয়ারত ও দোয়া পাঠের সুযোগ উন্মুক্ত ছিল। তবে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
পরে খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে ও দোয়া করতে দলে দলে আসেন নেতাকর্মীরা। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পড়ছেন, মোনাজাত করেন ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিএনপির নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও শ্রদ্ধা জানাতে ও দোয়া করতে আসেন খালেদা জিয়ার কবরে।
এদিন সকাল থেকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা কবরের পাশে ভিড় করতে থাকেন। সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারত করেন। এ জন্য সকাল ১০টা থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত নেতা–কর্মীসহ সাধারণ মানুষ ভেতরে যেতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা যাওয়ার পর দলে দলে বিএনপির নেতা–কর্মীরা কবর জিয়ারত করতে যান।
বেলা সাড়ে ১১টার পর খালেদা জিয়ার কবরে আসেন আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন ও নাজমুল হক প্রধানসহ ৯০’– এর স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণঅভ‍্যুত্থানের নেতারা। তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ও দোয়া করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মা। আজ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এগিয়ে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হবে।’
বেলা ১১টার পর আসেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে দোয়া ও মোনাজাত করেন। সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু জাতীয়বাদী দলের নন, তিনি সারা বাংলাদেশের জনগণের নেত্রী। তার জানাজায় মানুষের যে রকম ঢল এবং কান্না দেখেছি, আমরা সেখান থেকে বুঝতে পেরেছি, এ রকম নেত্রী আমরা বাংলাদেশ আর পাব না।’
জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (জেটেব) বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দলে দলে খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, দোয়া ও মোনাজাত করেন।
খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। খালেদা জিয়ার জানাজায় দল–মতনির্বিশেষে অগণিত মানুষ যোগ দেন। জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবারও খালেদা জিয়ার কবরে বিএনপির নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ দোয়া করেন, শ্রদ্ধা জানান।
খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। খালেদা জিয়ার জানাজায় দলমত-নির্বিশেষে অগণিত মানুষ যোগ দেন।
জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়।


banner close