পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
দেশের ১৫টি জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পাবনা, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও গতি বাড়বে, কমবে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি—দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন স্বপ্নই দেখিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকারের দেড় বছরের পরিসংখ্যান মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্বপ্নের ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সময়মত টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ঘটছে মৃত্যু। এছাড়া জানা গেছে, বছরের প্রথম দিকে অর্থাৎ জানুয়ারিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের জানা থাকলেও ভ্যাকসিন সংগ্রহে জটিলতার কারণে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলেই বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ছে হামের। ঘটছে মৃত্যু। এছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ছিল প্রকট। ফলে সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যখাত চরমভাবে ভুগছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে।
স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব নিয়ে কাগজে-কলমে কিছু অগ্রগতি দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আগের মতোই ছিল। এমনকি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের দেওয়া সুপারিশও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সমস্যা চিহ্নিতে গুরুত্ব, সমাধানে ভাটা: অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যা চিহ্নিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছরের ৮ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতের ১০টি বড় সংকট বা ‘রোগ’ শনাক্তের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান।
সেদিন তিনি বলেছিলেন, মেধা, জ্ঞান ও যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা। পাশাপাশি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষজ্ঞনির্ভর চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, স্বচ্ছতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবলহীনতা, চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ ও চিন্তায় বিদেশনির্ভরতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনায় দুর্বলতা, চিকিৎসা শিক্ষায় মানহীনতা, নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় অকার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্য বাজেট বরাদ্দ ও ব্যবহারজনিত সমস্যা। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আমূল পরিবর্তনেও ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ৩৩টি জরুরি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৬টি বাস্তবায়ন হওয়ায় খাতটি চরমভাবে ধুঁকছে। এখন এই দুর্বল খাতটিকে টেনে তুলতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা বর্তমান সরকারের।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়নের পরিবর্তে আলোচনায় ছিল প্রশাসনিক অচলাবস্থা, চিকিৎসকদের অসন্তোষ এবং নীতিগত দুর্বলতা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যের ১৪টি খাতে অর্থ বরাদ্দ হয় অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের বছর ২০২৪ সালেই ওপি থেকে বেরিয়ে আসে সরকার। এতে স্বাস্থ্যের সব উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, পুষ্টিসহ ৩৭টির বেশি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ: জনস্বাস্থ্যবিদরা আশা করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্য খাতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেবা খাতে কোনো সফলতাই দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
উপরন্তু স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচি বা হেলথ সেক্টর প্রোগ্রাম বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, দাতা সংস্থার অগ্রাধিকার অনুসরণ করে স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচি পরিচালিত হতো।
ওষুধশিল্প ঝুঁকিতে: এদিকে, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের যাতায়াতের ব্যাপারেও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতপার্থক্য তৈরি হয়। ফলে ওষুধশিল্পের মালিকরা তখন অভিযোগ আনেন, অন্তর্বর্তী সরকার ওষুধশিল্পকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হলে শুরু থেকেই জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। কেন তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো এ নিয়ে বিস্ময় ও আলোচনা ছিল ব্যাপক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নগুলোর পেছনে বিভিন্ন অভিযোগ এখন সামনে আসতে শুরু করেছে।
এদিকে, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও ভাবতে বলেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরজাহান বেগমকে ঠিক কোন যোগ্যতায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদে বসিয়েছিলেন ড. ইউনূস? এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন সায়ের। তিনি বলেন, যারা ইউনূস সাহেবকে রাত-দিন পূজা করেন, তাদের প্রতি পরামর্শ রইল— পূজা-অর্চনার পাশাপাশি তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও ভাবতে শুরু করুন।
ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের বলেন, দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামের প্রকোপে ৪১ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই এইচপিএনএসপি তথা ওপি–ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়ার কারণে আজ দেশে হামসহ আরো ৮-১০টি রোগের টিকার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, নূরজাহান বেগম বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে কী কী কাজ করেছেন সেসবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। আমরা জানতে আগ্রহী ইউনূস সাহেবের পছন্দে নিয়োগ পাওয়া এই মহিলা আসলে কী করেছেন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা জুলাই বিপ্লবের আগে যেখানে ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সেখান থেকে বের হতে পারেনি।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, ১৬ বছরের আওয়ামী শাসন স্বাস্থ্য প্রশাসনে ব্যাপক ও গভীর বিশৃঙ্খলা তৈরি করে রেখেছিল। নিয়মনীতির বালাই ছিল না। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এক বছরে প্রায় সাড়ে আট হাজার চিকিৎসক বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল আমলাদের ও সরকারি চাকরিতে থাকা চিকিৎসকদের একটি অংশ সরকারকে সহযোগিতা করেনি। দাতাদের কেউ কেউ প্রতিশ্রুত সহায়তা দিতেও বিলম্ব ঘটায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দরকারি অথচ জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে রাজনৈতিক সরকার করতে চায় না, এমন কাজই অন্তর্বর্তী সরকারের করা উচিত ছিল। যেমন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা। কিন্তু সেটা তারা করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একইসঙ্গে তিনি দেশে এই মুহূর্তে কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে দেশে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে প্রধানমন্ত্রী কী ভূমিকা পালন করছেন, তা জানতে চান তিনি। এছাড়া, জাতিসংঘের প্রেসিডেন্সি পদে থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ালেও দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে তিনি কী করছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। এ সময় স্পিকার তাকে কেবল একটি প্রশ্ন করার নিয়ম স্মরণ করিয়ে দেন।
জবাবে সংসদ সদস্যকে অনেক নির্যাতনের পর সংসদে আসায় অভিনন্দন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, উনি একজন ব্যারিস্টার, ল’ইয়ার মানুষ। উনার সম্পূরক প্রশ্নের অর্থ বোঝা উচিত, কারণ মূল প্রশ্নের সঙ্গে এই সম্পূরক প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক ছিল না।’
এরপর জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা না না বলে প্রতিবাদ জানান।
পরে শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি যেন আমরা একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ করতে পারি, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্যান্য যেসব উৎস থেকে আমরা জ্বালানি আনতে পারি, সে বিষয়ে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হবো।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেখানকার মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, চলমান এই সংঘাতে দুর্ভাগ্যবশত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও তাদের মধ্যে দু’জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশিরা কখন কোথায় যুদ্ধের মধ্যে পড়ছেন, তা অনেক সময় তারা নিজেরাই বুঝতে পারেন না। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরান থেকে আইওএম-এর সহযোগিতায় ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে সরকারের একমাত্র অগ্রাধিকার বলে তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় যারা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন ইতোমধ্যেই তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে জানিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা বিজয়ীর পুরস্কার নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেরই প্রতিপক্ষ ছিল। প্রতিপক্ষ ছিল বলেই আপনি বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছেন। সুতরাং খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং জয়েরই একটা অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।
সোমবার (৩০ মার্চ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলবার্ট আইন্সটাইন যেমন বলেছিলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি সে কখনো কিছু করেইনি। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিটি খেলাকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে যারা অংশগ্রহণ করেছেন আমি সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে আপনাদের পরিবার, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দেরকে ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম খতিব এবং অন্য ধর্মের ধৰ্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান, এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’ । শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’— এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও দেশে বিদেশে সকল ধরনের সুবিধা প্রদান করতে সকল ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে যেসব খেলাগুলো সরকারি - বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব খেলাগুলোও দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলে মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায় এ জন্য শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলায়ও আগ্রহী এবং পারদর্শী হয়ে উঠবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যেই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে।
আগামী ৩০ এপ্রিল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান শুরু ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা বলে আমি বিশ্বাস করি। আপনাদের প্রতি আহবান, পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিতিনিধি হয়ে উঠুন। দেশে বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।
দেশে তথাকথিত আর কোনো ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল গণপিটুনির ঘটনা আর সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা জনসমাবেশের আড়ালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
আলোচনার সময় রুমিন ফারহানা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান সময়ের ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এ ধরনের ঘটনায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, ২১ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনায় নিজেও ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং এই প্রবণতা ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—দেশে কোনো ধরনের মব কালচার চলবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে সড়ক অবরোধের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা আর বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
মব এবং সংগঠিত অপরাধের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সব ধরনের সহিংস ঘটনাকে মব বলা ঠিক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর সুসংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের দাবি থাকতেই পারে, তবে তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করতে হবে। স্মারকলিপি প্রদান, সেমিনার আয়োজন বা শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের মাধ্যমে মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, সরকার বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করবে, তবে মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক’ মন্তব্য করায় জামায়াত নেতা ও কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। গত ২৬ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মুফতি আমির হামজা তাকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন, যা তার ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এতে তার ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় দায়ের করা এ মামলায় আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার বাদীর আবেদন ও উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত আমলে নিয়ে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
এদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিএনপি নেতারা মুফতি আমির হামজার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আব্দুল হান্নান দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টার এপিএস হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্জিত এই অর্থ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা একান্ত প্রয়োজন।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ব্রিগেডিয়ার সবিহউদ্দীন আহমেদ অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ।
মতবিনিময় সভার উপস্থাপনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার চলমান কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে উল্লেখ করা হয় যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৭ সালে দেশের নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনস্বার্থের উন্নয়নের জন্য গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন করা হয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়নের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র শিল্প গড়াসহ নানা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
সভায় জ্বালানিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আবেগে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বর্তমানে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আবেগ ও স্বপ্নে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো অশুভ শক্তির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে না মর্মে মতামত ব্যক্ত করেন।
পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক গঠিত মূল প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে কোনোক্রমে দুর্বল করা যাবে না। মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎসেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন জ্বালানিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘একটি মহল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আরইবি এবং আরইবির অধীনস্থ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো সৃষ্টির শুরু থেকে যেভাবে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতেও কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ ঝড়-বৃষ্টির পর প্রান্তিক জনগণের দ্বারপ্রান্তে দ্রুত মানসম্মত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে লাইন ফল্ট দ্রুত নিরসনের জন্য বিদ্যুৎ লাইনে ফল্ট লোকেটর স্থাপনের পাশাপাশি সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য কমানোর পরামর্শ প্রদান করেন। সেই সাথে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ডিজেল চালিত পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প স্থাপনের জন্যও পরামর্শ প্রদান করেন।
এ ছাড়া গ্রাহকসেবার গুণগত মানবৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎসেবা প্রদানের লক্ষ্যে যুগোপযোগী আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণের লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনহীন দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন ব্যতীত পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।
সোমবার ইউজিসির ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোছা. জেসমিন পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস এবং স্টাডিসেন্টার/টিউটোরিয়াল সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত স্থাপিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি তালিকা ইতোমধ্যে কমিশন কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪ এর অধীনে দেশে-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস এবং স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার বিধান রয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, অননুমোদিতভাবে পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪ এর ধারা ৪(৩) এর দফা (ঝ) অনুযায়ী অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্যে আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন কমিশনে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। একইসাথে, ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসহ সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। অন্যথায়, অননুমোদিতভাবে পরিচালিত ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে মাল্টার রাষ্ট্রদূত (বাংলাদেশ ও ভারত) রিউবেন গাউচির নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার পুলিশ সদরদপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সাক্ষাতে মাল্টার রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত আইজিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রদূত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধ, সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
আইজিপি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাল্টার সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জনগণের প্রকৃত কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম -দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সোমবার সচিবালয়য়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, যে সব প্রকল্প প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে জমির উর্বরতা পুনরুদ্ধার এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লতা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মাটির ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়াচ্ছে। মন্ত্রী এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মাটির অম্লতা হ্রাসে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি ৪২ দশমিক ১৮ শতাংশ।
সভায় কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দুই উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে। সোমবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. শাহরিয়ার আলীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে ডিবির উত্তরা বিভাগের ডিসি (ভারপ্রাপ্ত) মির্জা তারেক আহমেদ বেগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের দারুস সালাম জোনের এসি আরিফুল ইসলাম রনিকে ডিএমপির উত্তরা জোনে, ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনের এসি মো. শরীফ-উল আলমকে ট্রাফিক বিভাগের দারুস সালাম জোনে এবং ডিএমপির এসি মো. সেলিম রেজাকে ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনে বদলি করা হয়।
সারাদেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বাড়তি তেল কিনে বাসাবাড়িতে মজুত করছেন, যার কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চাহিদার তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে বড় পরিসরে জ্বালানি তেলের মজুতদারি পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তুলছে।
আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুই কার্গো জ্বালানি তেল দেশে আসছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (সাংশন ওয়েভার) চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঈদের পরদিন ওয়াশিংটনে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং এখন এর জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
আগামী মাসের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এপ্রিলে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সংকট হবে না। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং এপ্রিল মাসে বিভিন্ন জাহাজে করে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন তেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ আজ এবং আরেকটি ৩ এপ্রিল আসার কথা রয়েছে।