পরিচালক পদে একটানা বারো বছর থাকার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবশ্য এসব সংশোধনী সংসদে উপস্থাপিত বিলে বা স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে ছিল না।
বিলটি পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।
বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) বিল- ২০২৩’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানোর সংশোধনী প্রস্তাবটি যেভাবে আনা হয়েছে তা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা পরিচালকেরা। তাদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। তারচেয়ে পরিচালকদের মেয়াদ আজীবন করে দেয়া হোক।
গত ৮ জুন ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল–২০২৩ জাতীয় সংসদে তুলেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংশোধনীর মূল প্রস্তাবে পরিচালক পদের মেয়াদ বাড়ানো–কমানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব ছিল না। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটিও পরিচালক পদের মেয়াদ নিয়ে কোনো সংশোধনী আনেনি।
সংসদে বিলটি পাসের আগে টাঙ্গাইল-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানো ও খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ সুবিধা বিষয়ক সংশোধনী দুটি প্রস্তাব করেন। টিটু পরিচালকদের পদের মেয়াদ বিষয়ক সংশোধনীতে প্রস্তাব করেন- ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৮ কার্যকর হবার পর কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক পদে একাদিক্রমে ১২ বছরের অধিক অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।’
খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে ঋণ ছাড় বিষয়ক সংশোধনী প্রস্তাবে তিনি জানান, পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপভুক্ত কোনো খেলাপি ব্যক্তি বা ক্ষেত্রমত, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা না হয় অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি খেলাপি বলে গণ্য হবে না, এবং এইরূপ প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তৎকর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে।
টিটুর পরিচালক পদের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্য। বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বিলে সংশোধনী আনা যায় কি না। এ বিষয়ে তারা স্পিকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম বলেন, পরিচালক পদের মেয়াদ ১২ বছর করার জন্য সরকারি দলের একজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। এটা বিল উত্থাপনের সময় ছিল না। যেহেতু সরকারি দলের সংসদ সদস্য এই প্রস্তাব দিয়েছেন তাই মনে হচ্ছে এটা গ্রহণ করা হবে। যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপনই হয়নি সেটা চাওয়া হয় কী করে?
তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘পরিচালকেরা হচ্ছেন ব্যাংক লুটপাটের মূল হোতা। কোনো পরিচালক সুপারিশ না করলে আমার মতো লোক গেলে ব্যাংকঋণ পাবে না।'
জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, ‘যে আইনের কোনো ধারা অর্থমন্ত্রী সংশোধনীতে আনেননি, যে ধারা সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটি কোনো সুপারিশ করেনি, সেখানে একজন সরকারি দলের সদস্য কোন আইনে এই সংশোধনী আনলেন? তিনি এটা পারেন কি না? এটা জানা খুবই দরকার। অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এটা বলবেন বলে আশা করি।’
মুজিবুল হক বলেন, ‘মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে কনভিন্স করে সরকারি দল করেন, এমন অনেক ব্যাংকের পরিচালকদের সুপারিশে এটা আনা হয়েছে পাস করার জন্য। সেটা হলে আমরা আমাদের সব সংশোধনী প্রত্যাহার করলাম। কারণ, এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না। যেখানে ব্যাংক লুটপাট করা হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তামাক খায়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান-পরিচালক হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে চলে যান। আপনারা দেখছেন না। আপনারা আছেন কাউকে ফেবার (সুবিধা দেয়া) করার জন্য। পরিচালকের মেয়াদ ১২ বছর করার এই প্রস্তাবকে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এই আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে শুধু ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর খবরদারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কে হবেন, ডেপুটি গভর্নর কে হবেন—এগুলো তারা নির্ধারণ করে দেয়। ব্যাংকমালিকদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে গেছে।
ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক কারা—এই প্রশ্ন রেখে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমরা তার লিস্ট চাই। আমরা এই ভাগ্যবানদের সংসদে দেখতে চাই। সব দলীয় কর্মী ও আত্মীয়স্বজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়। তাঁরা ব্যাংকে যায় শুধু লোন দেওয়ার জন্য। ১০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দুই কোটি নিজে নিয়ে নিলেন। এক দিনে ধনী হয়ে গেলেন। যেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। এখানে লুটপাট চলছে। আমরা কমানোর প্রস্তাব করছি না। এদের মেয়াদ আজীবন করে দেন। আমি এখন প্রস্তাব আনলাম। এই পরিচালকেরা আজীবন থাকবেন। আল্লাহ যত দিন হায়াত রাখছেন, আপনারা খাইতে থাকেন। আমরা দেখতে থাকি।’
প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ব্যাংকমালিকদের অনুদান দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তারা পত্রিকার প্রথম ও শেষ পাতায় বড় বড় ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে টাকা (চেক) দিচ্ছেন। আরও এক বস্তা (টাকা) খালেদা জিয়ার হাতে দেন। সেটা প্রকাশ করেন না। এদের চরিত্র একই। সাবধান হতে হবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ব্যাংকমালিকদের সুবিধা দেয়ার জন্য আইনটি আনা হয়েছে। তারা জনগণের টাকার অপব্যবহার করেন। সর্দিকাশি হলেই তারা ব্যাংকের টাকায় সিঙ্গাপুর চলে যান।
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকার তাদের প্রিয় পরিচালকদের কীভাবে পদে রাখবে, সেটা ভুলে গিয়েছিল। এ কারণে পরবর্তী সময়ে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আইনে সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা সঠিক প্রক্রিয়া নয়।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, খেলাপি ঋণ ১৪ বছরে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। সরকারি ব্যাংকের শাখা দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকের আমানত ৭ গুণ বেড়েছে। বছরওয়ারি মুনাফা বেড়েছে ৮ গুণ। তিনি আশা করেন, তাঁর এই বক্তব্যে ভুল–বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান হবে।
সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম তার সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে গেলে জাপার সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, আগে সংসদ সদস্যকে সংশোধনী প্রস্তাব তুলতে দিন। এরপর বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
আহসানুল ইসলাম সংশোধনী প্রস্তাব তোলার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের কার্যপ্রনালি বিধির সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখ করে বলেন, মূল সংশোধনীতে বিলের ১০ দফায় সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল। আর আহসানুল ইসলাম যে সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন, সেটিও এই দফার একটি উপদফা। এখানে বিলে কোনো নতুন ধারা যুক্ত করা হয়নি বা এমন কোনো নতুন দফাও যুক্ত করা হয়নি। এটি অপ্রাসঙ্গিক নয়।
স্পিকারের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্য ফখরুল ইমাম কথা বলতে চাইলে স্পিকার মাইক না দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, এটা আমার রুলিং। এ বিষয়ে আর আপনার কিছু বলার নেই।’
ফখরুল ইমাম এ সময় আবারও হাত তুললেও তাকে ফ্লোর দেয়া হয়নি। রুলিংয়ের পর অর্থমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। এ সময় মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল, হইচই করতে থাকেন। পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বিধির বাইরে কিছু করব না।’
তখনো বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই, হট্টগোল করতে থাকেন। তাদের হইচইয়ের মধ্যেই ফ্লোর নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি আহসানুল ইসলামের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা হইচই ও চিৎকার করে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন মুজিবুল হক। কাজী ফিরোজ রশীদও দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ রশীদকে মাইক দেয়া হয়। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যে আজীবনের কথা বললাম, আপনি কি সেটা গ্রহণ করলেন? এই একজন পরিচালক আমৃত্যু থাকবেন, সেটা গ্রহণ করছেন? না ১২ বছর করছেন? কোনটা, সেটা আমাদের স্পষ্ট বলতে হবে।’
মুজিবুল হকও একই ধরনের বক্তব্য দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
পরে স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে আবারও মাইক দেন। তবে তিনি কথা বলেননি। একপর্যায় স্পিকার সংশোধনী ভোটে দেন। দফাভিত্তিক সব সংশোধনী ভোটে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্যরা হইচই করে ওয়াকআউট করে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
অবশ্য কিছু সময় পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আবার সংসদের অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসেন।
পাস হওয়া বিলে হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একটি একক পরিবারের সদস্যের বাইরে তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বোচ্চ দু’টি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক থাকতে পারবে। তবে কোনো ব্যাংকের পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে একজনের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক নিযুক্ত হতে পারবে না।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পর্ষদে প্রাকৃতিক ব্যক্তিসত্ত্বা বিশিষ্ট ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের পক্ষে অপর কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের শেয়ারের মালিক হলে তার প্রতিনিধি হিসেবে অন্য কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যাংক পরিচালক একইসময়ে অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকতে পারবেন না। তবে এই আইন কার্যকর হবার পর সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে বিমা কোম্পানির পরিচালক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও ২০১০ সালে প্রণীত বিমা আইন অনুযায়ী কোনো বীমা কোম্পানির পরিচালক ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না। সংশোধনী বিলে কোনো ব্যাংক পরিচালকের একইসঙ্গে বিমা কোম্পানির পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, কোনো পরিচালক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু বলা নেই। কিন্তু একজন পরিচালক আরও কোন কোন কোম্পানিতে পরিচালক থাকতে পারবেন না বলে বিলে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হলে একই সময়ে তিনি অন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি বা এসব কোম্পানির কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক থাকতে পারবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এমন কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যা ওই ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ বা যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার করে- এমন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকবে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনে বিকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও তার মেয়াদকাল এবং বিকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। নতুন আইনে এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হচ্ছে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো পরিচালক কমপক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে তিন মাস বিদেশে অবস্থান করলে তার অনুপস্থিতির কারণে পর্ষদ চাইলে মূল পরিচালকের বিপরীতে বছরে সর্বোচ্চ একবার একজন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করতে পারবে। পরিচালক নিয়োগের যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক-কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার স্বার্থে উহার পর্ষদ এবং পর্ষদ কমিটিগুলোর কর্মপরিধি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় নির্দেশনা জারি করতে পারবে।
নতুন আইনে ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পাবে। এতে নতুন ধারা যোগ করে বলা হয়েছে, যে উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হার বা পরিমাণের বেশি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধন হিসেবে বিনিয়োগ করতে পারবে না।
নতুন আইনের আওতায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যোগ্যতা ও উপযুক্ততার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করবে।
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিদেশ যাওয়া, বাড়ি-গাড়ি ও কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ তাদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে না রাখার বিধান রেখে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অধিকতর সংশোধন করতে একটি বিল সংশোধন আনা হয়েছে। এই বিলে এক পরিবার থেকে তিন জনের বেশি ব্যাংক পরিচালক হওয়া যাবে না এরকম বিধান রয়েছে।
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা শনাক্ত ও চূড়ান্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি পৃথক কমিটি গঠন করবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সময়ে সময়ে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাবে।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাইলে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেবার সুযোগ রাখা হয়েছে।
আগামী সোমবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত ওই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং একই দিন বিকেলে বঙ্গভবনে নবনিযুক্ত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বর্ণাঢ্য এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি গণ্যমান্য অতিথিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতিমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং বঙ্গভবনে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক ব্রিফিংয়ে এই আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তা প্রদান করেন। সংস্থাটি বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন ও সমৃদ্ধি অর্জনে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক ব্রিফিংয়ে বলেন, নির্বাচন পরবর্তী এই সময়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশে জাতীয় সংহতি জোরদার এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি দেশের সকল রাজনৈতিক পক্ষ ও অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা হয় এবং প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং তাদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ডুজারিক তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পর জনগণের পক্ষ থেকে সরকারের ওপর যে প্রত্যাশা থাকে, জাতিসংঘও ঠিক তেমনই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা দেখতে চায়। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন নয়, বরং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সরকারের কাছ থেকে যে সুশাসন ও ন্যায়বিচার আশা করে, তার প্রতি বিশ্বসংস্থার সমর্থন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব।
সবশেষে জাতিসংঘ বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় অংশীদার হওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে, একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। নতুন এই যাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদানে জাতিসংঘ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে এখন নতুন সংসদ গঠনের প্রস্তুতি চলছে। গত শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নামের গেজেট প্রকাশের পর দেশজুড়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ভাতা, আবাসন ও যাতায়াত সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা ভোগ করেন। ১৯৭৩ সালের ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার’ এবং পরবর্তী বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে এই সুযোগ-সুবিধাগুলো আইনি কাঠামোয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
একজন সংসদ সদস্যের মাসিক মূল বেতন নির্ধারিত আছে ৫৫ হাজার টাকা। তবে এই মূল বেতনের বাইরেও নির্বাচনী এলাকার কাজের জন্য তাঁরা প্রতি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পান। আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে তাঁদের মাসিক বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ হলো পরিবহন ভাতা, যার পরিমাণ প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা। এই অর্থ দিয়ে মূলত গাড়ির জ্বালানি খরচ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন মেটানো হয়। এর বাইরেও ব্যক্তিগত অফিস পরিচালনার জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি বা কাপড় ধোলাইয়ের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচ বাবদ আরও ৬ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রদান করা হয়।
পরিবহন সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। নির্বাচিত হওয়ার পর একজন সদস্য তাঁর মেয়াদে একবার একটি লাক্সারি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস সম্পূর্ণ কর ও ভ্যাটমুক্তভাবে বিদেশ থেকে আনতে পারেন। দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছর পূর্ণ হলে তিনি পুনরায় এই সুবিধা ব্যবহার করে নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগ পান, যা সংসদ সদস্যদের জন্য একটি বিশেষ বিশেষাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়। যাতায়াত সুবিধার অংশ হিসেবে তাঁরা বিমান, রেল বা নৌপথে ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পেয়ে থাকেন। এছাড়া বার্ষিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ভ্রমণ ভাতা অথবা বিকল্প হিসেবে বিনামূল্যে ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে।
সংসদ অধিবেশন বা বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য সদস্যদের আলাদা দৈনিক ভাতার ব্যবস্থা আছে। দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মস্থলে অবস্থান করলে তাঁরা দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা পান। তবে সংসদ অধিবেশন চলাকালে অথবা কমিটির বৈঠকে অংশ নিলে এই ভাতার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮০০ টাকা। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যরা বিশেষ অগ্রাধিকার পান। তাঁরা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের পূর্ণ চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করেন এবং মাসিক ৭০০ টাকা করে চিকিৎসা ভাতা পান। এছাড়া দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কোনো সংসদ সদস্য স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করলে বা মৃত্যুবরণ করলে তাঁর পরিবার ১০ লাখ টাকার সরকারি বিমা সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার আওতায় সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং মাসিক বিল বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে। এছাড়া এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করার জন্য সংসদ সদস্যদের হাতে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের ক্ষমতা থাকে। এই সুযোগ-সুবিধার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সংসদ সদস্যরা বেতন ছাড়া যে অন্যান্য ভাতাগুলো পান, সেগুলো সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। ফলে মাসিক বেতন ও ভাতার বাইরে রাষ্ট্রীয় এই সুযোগ-সুবিধাগুলো একজন সংসদ সদস্যকে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় কাজ করা এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর থেকেই এসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে শুরু করবেন।
আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন এবং এই রাজকীয় অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশের পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের আয়োজন করবে। সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংসদীয় দলনেতা নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন এবং দলনেতার দেওয়া নামের তালিকা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের শপথের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। সচিব সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান নিশ্চিতভাবেই সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল সম্বলিত গেজেট বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। সংসদীয় বিধিমালা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এখন দেশ নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় তারেক রহমান ও তার দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্রের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে শার্লি বোচওয়ে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং গণভোটে অবদান রাখা সব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে আমি প্রশংসা করি এবং বাংলাদেশ ও এর গণতন্ত্রকে সমর্থন করার জন্য কমনওয়েলথের অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করছি।’
উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টিতে জয়লাভ করেছে। এছাড়া ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা আরও দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন এবং তাদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যান্য শরিকেরা লাভ করেছে ৯টি আসন। প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির এমন ফলাফলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আমেজ কাটিয়ে আবারও চিরচেনা কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের বিশেষ ছুটি শেষে আগামীকাল রোববার থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত খুলে যাচ্ছে। ফলে নাড়ির টানে গ্রামে যাওয়া মানুষ আজ শনিবার ছুটির শেষ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় পরিসরে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ঢাকামুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রেলপথ ও সড়কপথে যাত্রীদের চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি।
রাজধানীর প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুরে আজ ভোর থেকেই দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল থেকে আসা প্রতিটি ট্রেনই ছিল যাত্রীতে ঠাসা। স্টেশন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে অধিকাংশ ট্রেন ঢাকায় পৌঁছালেও প্রতিটি কোচে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী দেখা গেছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ফিরতে পারেন সেজন্য রেলওয়ে বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের এই ভিড় আরও বেড়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এই প্রবাহ আগামীকাল রোববার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সড়কপথের প্রধান টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীতেও সকাল থেকে ঢাকামুখী বাসের চাপ বেড়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বাসগুলোতে সিট না পেয়ে অনেককে বিকল্প উপায়ে ফিরতে দেখা গেছে। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃজেলা রুটের বাসের অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে যারা ফিরছেন তাদের কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ছুটিতে যাওয়ার সময় যাত্রীরা দীর্ঘ যানজটের সম্মুখীন হলেও ফেরার পথে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আজ রাতের দিকে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে নৌপথেও। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আজ সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বড় বড় লঞ্চগুলো যাত্রীদের নিয়ে ভিড়তে শুরু করেছে। লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে কেবিন—সবখানেই ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে মানুষ ভিড় ঠেলে লঞ্চে করে ঢাকায় আসছেন। অন্যদিকে, আজ শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে যানজট ও মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম থাকলেও শহরের প্রবেশপথগুলোতে ছিল ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোট উপলক্ষে যানবাহনের ওপর যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা আজ থেকে পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন রাজপথে বাস, মিনিবাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। এমনকি মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও আজ থেকে আর কার্যকর নেই। এর ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজতর হয়েছে। আগামীকাল রোববার অফিস খুললে ঢাকা শহর আবারও তার নিয়মিত ব্যস্ততা ও যানজটের চিরচেনা রূপে ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। মানুষের এই ফিরে আসার মধ্য দিয়ে প্রাণহীন ঢাকা আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব সফলভাবে পালন শেষে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পুনরায় তাঁর আগের পেশায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জানান যে, দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পথ সুগম হওয়ার পর ড. ইউনূস তাঁর শিক্ষকতা, গবেষণা ও সামাজিক ব্যবসা সংক্রান্ত পূর্বের কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলেন, গণভোটের এই ঐতিহাসিক রায় থেকে এটি স্পষ্ট যে, দেশের সাধারণ মানুষ আর কোনোভাবেই পুরোনো শাসনব্যবস্থা বা রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দিকে ফিরে যেতে চায় না। সাধারণ নির্বাচনের চেয়েও গণভোটে ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বেশি হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের এই স্পষ্ট রায়কে ধারণ করে রাজনৈতিক দলগুলো আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে যেসব অঙ্গীকার করেছে, তারা তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে বলেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বাস করে। বিশেষ করে বিএনপির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দলটি অতীতেও দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে বিশেষ বিশেষ সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই পথটি বেশ কঠিন হলেও যদি সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য থাকে, তবে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হবে। তিনি দলগুলোর প্রতি জনগণের রায়কে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করারও আহ্বান জানান।
একই সাথে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আলী রীয়াজ সংস্কার কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপগুলো নিয়েও আলোকপাত করেন। তিনি জানান, দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা তথা সংসদের উচ্চ কক্ষ প্রবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মূলত একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের শেষ মুহূর্তের কাজগুলো গুছিয়ে আনছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টার এই প্রস্থানের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সময়সূচি নিয়ে বড় তথ্য জানিয়েছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিজয়ী সকল প্রার্থীর শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিজয়ীদের নামের গেজেট প্রকাশের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে চাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ১৬ অথবা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। কোনোভাবেই এটি এর চেয়ে বেশি দেরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। মূলত গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার সাংবিধানিক ও প্রথাগত রীতির কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই নতুন সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের আইনি বৈধতা ও দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল শুক্রবার রাতেই নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের বিজয়ীদের নামের গেজেট প্রকাশ করেছে। প্রেস সচিবের এই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই নতুন সংসদ সদস্যরা রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে স্পিকারের কাছে শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন এবং মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা দেশে দীর্ঘ দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকারের পথ চলা নিশ্চিত করবে।
ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব আরও ইঙ্গিত দেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পুনর্গঠনের কাজে দ্রুত গতি আনতে সরকার এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে চায় না। নির্বাচনের পর থেকে দেশে বিরাজমান স্থিতিশীল পরিবেশ ও উৎসবমুখর আবহে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হবে। ফরেন সার্ভিস একাডেমির এই ব্রিফিংয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর এই সময়সূচিকে রাজনৈতিক অঙ্গনের বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়লাভ করায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাঠানো এক বিশেষ অভিনন্দন বার্তায় তিনি এই শুভকামনা জানান। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় এই বিজয়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অভিনন্দন বার্তায় প্রফেসর ইউনূস উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই বিপুল বিজয় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে জনগণের এক সুস্পষ্ট রায়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারেক রহমান তাঁর প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনকল্যাণমুখী চেতনার প্রতিফলন ঘটাবেন। প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই নেতৃত্বের হাত ধরে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে যাবে, যেখানে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বিশেষভাবে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাবা-মায়ের এই মহান আদর্শ তারেক রহমানের আগামী দিনের পথচলাকে আরও আলোকিত ও সুদৃঢ় করবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত করতে সুসমন্বিত মেধা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য হবে।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালে তারেক রহমানের গঠনমূলক ভূমিকা ও মূল্যবান সহযোগিতার জন্য প্রফেসর ইউনূস আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশের এই পরিবর্তনের সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারেক রহমান যে সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন, তা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন সরকারের সব উদ্যোগের সফলতা কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য কামনা করেন। তারেক রহমানের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি বার্তার শেষে উল্লেখ করেন।
‘বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে...’—কবির এই পঙক্তিমালাকে সত্য প্রমাণ করে প্রকৃতিতে আজ নতুনের আবাহন। আজ পয়লা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। বাংলা সনের একাদশ মাসের এই আগমনী বার্তায় শীতের রুক্ষতা বিদায় নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের হাত ধরে যে বসন্ত উৎসবের সূচনা হয়েছিল, আজ তা ছড়িয়ে পড়েছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। কাকতালীয়ভাবে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হওয়ায় বসন্তের বাসন্তী রঙের সাথে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসার আবেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
বসন্ত মানেই প্রকৃতির এক অনন্য রূপান্তর। কচি পাতায় ভরে ওঠা গাছ, আম্রমুকুলের ম ম গন্ধ আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারিদিক। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা যেন প্রকৃতির কপালে এক নতুন টিপ পরিয়ে দিয়েছে। বসন্তের এই মোহনীয় দিনে তরুণ-তরুণীরা বাসন্তী ও হলুদ রঙের পোশাকে সেজে উৎসবে মেতে উঠেছে। নারীদের মাথায় ফুলের টায়রা আর খোঁপায় গোঁজা গাঁদা ও গোলাপ ফুল বসন্তের রঙকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে বসন্ত বরণ উৎসবের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সংগীত ও নৃত্যের ছন্দে ঋতুরাজকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে ফাল্গুন মাসের নামকরণ হয়েছে ‘ফাল্গুনী’ নক্ষত্র থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ সালের দিকেও এই মাসের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তবে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পয়লা ফাল্গুন উদযাপনের শেকড় রয়েছে গত শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। তৎকালীন পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাঙালির স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে রবীন্দ্রসংগীতের সুর আর দেশীয় ঢঙে বসন্ত পালন ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ। বাংলা সাহিত্যে বসন্ত নিয়ে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর কালজয়ী কবিতায় বলেছিলেন, ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। একইভাবে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে’ গানটি আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে বসন্তের আবহ তৈরি করে।
তবে বাঙালির কাছে ফাল্গুন মাস কেবল আনন্দ বা প্রেমের ঋতু নয়, এটি দ্রোহ এবং ত্যাগের রক্তিম ইতিহাস বহন করে। বায়ান্নর এই ফাগুনেই রফিক, সালাম, বরকত আর জব্বাররা রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে রক্ষা করেছিলেন মায়ের ভাষার মর্যাদা। শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ আজও আমাদের বায়ান্নর সেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। ভাষা আন্দোলনের সেই লড়াই থেকেই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। তাই ফাগুন আমাদের কাছে যেমন মিলনের মাস, তেমনি এটি বাঙালির দ্রোহ ও অধিকার আদায়ের মাসও বটে। ঋতুরাজের এই নতুন যাত্রায় প্রতিটি মানুষের মনে জরাজীর্ণতা মুছে গিয়ে নতুন সম্ভাবনা জাগুক—এমনই প্রত্যাশা আজ সবার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল দেশ গড়ার লক্ষ্যে নতুন বাংলাদেশের পথচলায় পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বসংস্থাটি। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিক্রিয়া জানান তাঁর মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করায় তিনি বাংলাদেশের জনগণের সাহসিকতা ও অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।
ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র স্টিফান ডুজারিক বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ যে রায় দিয়েছে, তাকে জাতিসংঘ স্বাগত জানায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে উদ্ধৃত করে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক জাতীয় সংহতি জোরদার করা এবং বিভেদ ভুলে দেশ গঠনে একাত্ম হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের কাছে মানবাধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। স্টিফান ডুজারিক বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা অপরিহার্য। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে যেসব টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা যেন স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছে বিশ্বসংস্থাটি। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বজায় রাখার মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবে বলে মনে করেন মহাসচিব।
অন্যদিকে, প্রেস ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা প্রদান করেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বর্তমান বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও সুদানের মতো দেশগুলোতে মানুষ চরম ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। রমজানের ত্যাগের মহিমা ও শান্তির তাৎপর্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আর্তমানবতার সেবা এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় বিশ্বনেতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতিসংঘের এই ইতিবাচক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এক দীর্ঘ ও স্পষ্ট পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। শুক্রবার এক ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে দাবি করেন। একই সাথে তাকে নিয়ে প্রচলিত নানা রাজনৈতিক তকমা বা বিশেষণের বিষয়েও নিজের খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেছেন তিনি। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সক্রিয় সমর্থক হিসেবে কাজ করেছেন বলে ওই পোস্টে উল্লেখ করেন।
শেহরীন আমিন মোনামী তার পোস্টে জানান, সমাজের একটি বড় অংশ তাকে ‘জামায়াত-শিবির ম্যাডাম’ হিসেবে সম্বোধন করে থাকে। তবে এই বিশেষণে তিনি মোটেও বিচলিত বা ক্ষুব্ধ নন; বরং তিনি এই পরিচয়ে বেশ স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি বলেন, কখনো কখনো তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথেই এই নামগুলো নিজের করে নেন। তার মতে, কে তাকে কী নামে ডাকল তার চেয়ে তার আদর্শিক বিশ্বাসটি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের রাজনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই শিক্ষিকা উল্লেখ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে একজন মধ্যপন্থী মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাকে প্রায়ই ডানপন্থী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তাকে ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করলে সাধারণ মানুষের বুঝতে সুবিধা হয়, তবে তারা সেটিই বিশ্বাস করতে পারেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকার কথা জানান এবং স্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি কোনোভাবেই ইসলামবিদ্বেষী নন। প্রচলিত একটি ধারণা যে ‘ইসলাম নারী-বিরোধী’, এই বিশ্বাসের সাথেও তিনি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি তার ফ্রেন্ড লিস্ট এবং অনুসারীদের উদ্দেশ্যে একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা তার রাজনৈতিক অবস্থান বা আদর্শ নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন, তারা যেন তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো থেকে বিরত থাকেন। নিজেকে একজন উদারপন্থী দাবি করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় পছন্দ-অপছন্দ নির্বিশেষে তিনি সবার অধিকারের পক্ষে কথা বলেন। তিনি তার অপছন্দের মানুষদের নিজের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, সবার কাছে প্রিয় হওয়া তার লক্ষ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকার এমন সাহসী ও স্পষ্টবাদী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নিরঙ্কুশ ও অভাবনীয় জয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানকে ফোন করার বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি এই ফোনালাপের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ বিজয়ের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে তার প্রচেষ্টায় আমি আমার শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাই।"
দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও নিবিড় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "গভীর শিকড়ে আবদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কযুক্ত দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে আমি আমাদের উভয় দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।" মূলত বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের এই শুভেচ্ছা ও সমর্থন নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি নরেন্দ্র মোদির এই বিশেষ অভিনন্দন বার্তাটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার হিসেবেই প্রকাশ পেয়েছে।