ঈদুল আজহা সমাগত। অন্যান্য বছর এই ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জমে ওঠে কোরবানির পশুর হাট। তবে এ বছরের চিত্র একটু ভিন্ন। ঈদের এক সপ্তাহ আগে হাটগুলোতে গরুর সরবরাহ থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল না, ছিল না বেচাকেনা। শেষ মুহূর্তে এসে অবশ্য জমজমাট চিত্র হাটের।
বরাবরের মতোই এবারও হাটে চাহিদার শীর্ষে ছোট থেকে মাঝারি আকারের গরু। তুলনামূলকভাবে বড় আকারের গরুর ক্রেতা নেই বললেই চলে। আর সারা দেশেই গরুর ক্রেতা-বিক্রেতা সবার বক্তব্য এক- এ বছর গরুর দাম বেশি। গরুর এই চড়া দামে হাসি নেই কারও মুখেই। সে কারণে শেষের দিকে এসেও বিক্রির পরিমাণে বিক্রেতারা খুশি হতে পারছেন না।
দৈনিক বাংলার নরসিংদী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটের সংখ্যা ৭১টি। ক্রেতারা বলছেন, ছোট গরুর দাম গত বছরের তুলনায় বেশি চাওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, বড় গরুতে তা ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা। বাড়তি দামের কারণে বেচাকেনায় সন্তুষ্ট নন বিক্রেতারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ঈদ সামনে রেখে জেলায় চাহিদার তুলনায় ১৩ হাজার বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও কৃষকরা। তারপরও হাটে গিয়ে গরু মিলছে না কম দামে।
খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামের জন্য কারণ দেখাচ্ছেন গো-খাদ্যের দামকে। ক্রেতা না পাওয়ায় সামান্য লাভে, এমনকি লোকসানেও গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
শিবপুর পুটিয়া বাজারের ইজারাদার মারুফ ইব্রাহিম জানালেন, দুই লাখ টাকা বা তার বেশি দামের পশু বিক্রি হলে হাসিলে ২০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন। আজ বুধবার এই হাটের শেষ দিন।
নওগাঁ প্রতিনিধি মো. সবুজ হোসেন জানিয়েছেন, ২৭টি স্থায়ী ও ৯টি অস্থায়ী হাটে চলছে কোরবানির পশু বেচাকেনা। জেলার চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত হয়েছে কোরবানির জন্য, যেগুলো অন্য জেলায় চলে যাবে।
মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরি ও রানীনগর উপজেলার ত্রিমোহনীসহ কয়েকটি কোরবানির পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ৭০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দামের গরুর চাহিদা এবং বেচাকেনা বেশি। এই জেলায়ও ক্রেতারা জানিয়েছেন, ছোট ও মাঝারি গরুগুলো আগের বছরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশিতে কিনতে হচ্ছে।
চকগৌরি হাট থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকায় গরু কিনে ফিরছিলেন একরামুল হক। তিনি বলেন, গত ঈদে এই গরু এক লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি হতো না।
ক্রেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে গরু ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, গত বছরের দামের সঙ্গে এবারের দাম মেলালে হবে না। এক বছরের ব্যবধানে গরুর সব ধরনের খাবারের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু গরুর দাম ততটা বাড়েনি। নয়তো এক লাখ টাকার গরুর দাম দুই লাখ হতো।
কুমিল্লা প্রতিনিধি মাহফুজ নান্টু জানাচ্ছেন, এই জেলায়ও কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত চাহিদার চেয়ে আট হাজার বেশি। তারপরও মধ্যবিত্তরা পশুর হাটগুলোতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ তাদের চাহিদা ছোট ও মাঝারি আকারের গরুগুলোর দাম বাজেটে মিলছে না।
আদর্শ সদর উপজেলার নেউরা বাজারে গিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ঘুরেও বাজেটের মধ্যে গরু কিনতে না পারার কথা জানালেন দুই শিক্ষক আবদুল হক ও ওবায়দুল হক। ঢাকায় বেসরকারি একটি কোম্পানিতে কর্মরত ফেরদৌস আহমেদ আবার বাজারের পরিস্থিতি দেখে অল্প টাকায় গরু কেনার আশা ছেড়ে দিয়ে ভালো একটি খাসি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মাগুরা প্রতিনিধি লিটন ঘোষ জানিয়েছেন, জেলায় কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় পশু প্রস্তুত হয়েছে আড়াই গুণেরও বেশি। তবে বেচাকেনা ও দামে সন্তুষ্ট না হওয়ায় অনেক খামারিই পশু খামারে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন।
সদরের বারাশিয়া গ্রামের খামারি শফিকুল বলেন, ‘মাঝারি দুটি গরু বিক্রি করেছি বাড়ি থেকে। বড় একটি গরু নিয়ে বিপদে পড়েছি। দুই লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রির আশা ছিল, এক লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি দামই উঠছে না। হাটে হাটে ঘুরছি। হাটে গরু নিলে খাজনা দিতে হয়, পরিবহন খরচ আছে। বিক্রি করতে না পারলে এত খরচ উঠানো সম্ভব না। তাই চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বাগেরহাটের মোংলা প্রতিনিধি আবু হোসাইন সুমন জানিয়েছেন, গরুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা কারও মুখেই হাসি নেই। জেলার খামারিরা বিত্তবানদের জন্য শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ানসহ দেশীয় জাতের গরু দেশীয় খাবারের মাধ্যমে মোটাতাজা করেছেন। আর মধ্যবিত্তদের জন্য প্রস্তুত করেছেন দেশি জাতের মাঝারি ও ছোট গরু। লবণাক্ত এ এলাকায় ঘাস ও খড় না থাকায় বিকল্প খাবার কিনে খাওয়াতে গিয়ে তাদের গরু লালন-পালনে খরচ অনেক বেড়েছে।
গরু খামারি মো. মাসুদ, বায়জিদ ও কামারুজ্জামান জসিম জানালেন, এ বছর হাটে বাইরের গরু না আসায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দেশীয় গরুর দাম। মাংস প্রতি মণ ৩১ থেকে ৩২ হাজার টাকা দর হিসেবে বিক্রি হচ্ছে একেকটি গরু, যা গত বছরের চেয়ে মণে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা বেশি।
গতকাল চটেরহাট ঘুরে দেখা যায়, পশু সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও চড়া দামের কারণে বেচাকেনা কম। ক্রেতাদের অনেকেই দীর্ঘ সময় হাট ঘুরে গরু কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। ভালো দাম না পাওয়ায় বিক্রেতারাও পশু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
চটেরহাট বাজারের ইজারাদার মোস্তফা বলেন, ‘হাটে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত, জাল টাকা শনাক্ত, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের তদারকির পাশাপাশি অন্যান্য হাটের তুলনায় খাজনাও কম নেয়া হচ্ছে। তবে বেচাকেনা কম, দাম বেশি।’
যশোরের বেনাপোল প্রতিনিধি রাশেদুর রহমান রাশু জানিয়েছেন, শার্শার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধপথে ভারতীয় গরু প্রবেশে কড়াকড়ির কারণে সীমান্তের পশু খাটালগুলো খাঁ খাঁ করছে। তবে ভারতীয় গরু না এলেও দেশীয় পশুতে জমজমাট হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় যশোরের শার্শার বাগ আঁচড়া সাতমাইল পশুহাট। খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু না আসায় এ বছর তারা ভালো দাম পাবেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও দেশি গরু কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও।
সাতমাইল গরুর হাটের খামারিরা বললেন, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা থাকলেও বড় গরুর দাম উঠছে না একেবারেই। তাতে খামারিদের অনেককেই গরু বিক্রি করে লোকসান দিতে হবে।
বেনাপোল বন্দর থানার বড় আঁচড়া গ্রামের খামারি আবু তাহের ভারত বলেন, ‘গো খাদ্যের দাম অনেক বেশি। কিন্তু ক্রেতারা যে দাম বলছেন, তাতে প্রতি গরুতে ২০ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান হবে।’
পশু বিক্রি না হওয়ায় হতাশা জানিয়ে আরেক খামারি বলেন, হাটে হাজার হাজার কোরবানির পশু রয়েছে। হাজার হাজার ক্রেতাও রয়েছে। কিন্তু তারপরও পশু বিক্রি হচ্ছে না।
সাতমাইল ও নাভারণ পশুহাটে কোরবানির পশু বেচাকেনার সময়ে মেডিকেল টিম কাজ করতে দেখা গেল। হাটে ছিল ক্যাশলেস ব্যবস্থা তথা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের সুবিধা।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্বভৌম অবস্থান রক্ষায় চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে এখনই মন্তব্য করেননি। তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তৃতীয় কোনো দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি জানান, চীন এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা কাম্য নয়। মূলত ওয়াশিংটনের প্রভাব ঠেকানোর কৌশলী বার্তার পাশাপাশি বেইজিংয়ের উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। চীন বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় তারা অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)। গত ২১ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসবিসি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হারুন-অর-রশিদ এই অভিনন্দন প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকার চলাকালে কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ দেশের বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তাঁরা। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বীমা শিল্পের আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা বৃদ্ধির নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কায়সার রশিদ চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পদোন্নতি সূচক ব্যাজ পরানো হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর দাপ্তরিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নতুন মহাপরিচালককে এই সামরিক সম্মাননা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত থেকে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নবনিযুক্ত মেজর জেনারেলকে ব্যাজ পরিয়ে দিতে সহায়তা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত থেকে কায়সার রশিদ চৌধুরীকে অভিবাদন জানান। নতুন মহাপরিচালকের অধীনে সংস্থাটির গোয়েন্দা কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে আরও গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে।
পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কায়সার রশিদ চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই র্যাংক ব্যাজ পরিধানের মাধ্যমে তাঁর নতুন দাপ্তরিক যাত্রার এক আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শুরু হলো। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আজ সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত সরকারপ্রধান তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান তিন বাহিনীর প্রধানগণ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সফরটি জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি তদারকি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অফিসের প্রথম দিনে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন ‘র্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।
অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রশাসনিক ও প্রচার শাখার কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলামসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর এই দাপ্তরিক কাজের সূচনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সেনানিবাসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির উদ্দেশে যাত্রা করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে নতুন র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশাসনিক ও কৌশলগত সমন্বয় সাধনে সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের সামরিক ক্যারিয়ার অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বর্ণাঢ্য। তিনি ১৯৯১ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে (কোর অব ইনফেনট্রি) কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নির্দেশনামূলক পদে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), সেনাসদরের সামরিক সচিব এবং প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের (ডিজিডিপি) মহাপরিচালক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও পদটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে এই পদের ভূমিকা অপরিসীম। নতুন সরকারের অধীনে প্রতিরক্ষা খাতের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব বিশেষ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার হবে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এই দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। প্রধান প্রসিকিউটর পদ থেকে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে সরিয়ে সেই পদে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে। নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম দেশের আইনি অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পিলখানা বিডিআর হত্যাকাণ্ড মামলায় আসামিপক্ষের অন্যতম প্রধান আইনজীবী হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মূলত জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত দেড় দশকের গুম-খুনের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেই তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। তাজুল ইসলামের অধীনে ট্রাইব্যুনালে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে সরকার প্রসিকিউশন টিমে নতুন নেতৃত্ব আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এখন থেকে ট্রাইব্যুনালের আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে ঘটা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই এখন নতুন প্রসিকিউশন টিমের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রদবদল ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নতুন নেতৃত্বের অধীনে আইনি লড়াই ও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরও গতিশীলতা ফিরে আসবে।
জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা ৮৭৯টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ১৮ মাসের শাসনে এ পরিবর্তন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি নাম পরিবর্তন করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার। এ মন্ত্রণালয়ের অধীন ২০৫টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগের অধীন ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরে দেশের ৯৭৭টি অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের নাম শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে সেনানিবাস, বিমানঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ, মেগাসেতু, সড়ক, স্থাপনা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, গবেষণাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
গত ১৮ মাসে শেখ পরিবারের নামে করা ৮৭৯টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, তার তালিকাও দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কলেজ বা মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, একাডেমিক বা বিজ্ঞান ভবন, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজ, ছাত্রাবাস বা হোস্টেল, গ্রন্থাগার বা পাঠাগার, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র।
অন্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে— সেনানিবাস, নৌজাহাজ, থানা ও পুলিশের স্থাপনা, পদক/বৃত্তি/ট্রফি, স্যাটেলাইট ও ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, জাদুঘর, কমপ্লেক্স, স্কয়ার, অডিটোরিয়াম, সম্মেলন কেন্দ্র ও নভোথিয়েটার, সড়ক, মহাসড়ক, সরণি, সেতু, টানেল, ফ্লাইওভার, রেলওয়ে স্টেশন, উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক স্কিম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পার্ক, ফ্লিম সিটি, উদ্যান, পুনর্বাসন কেন্দ্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনা, স্টেডিয়াম ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ম্যুরাল, কর্নার, মঞ্চ, বিদ্যুৎকেন্দ্র. পানি শোধনাগার, চর, বাজার, গ্রাম, বাস টার্মিনালসহ ২৯ ধরনের প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে— নেত্রকোনার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তিত নাম করা হয়েছে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুরের মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম বদলে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নাম বদলে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাম বদলে ডা. মমতাজ বেগম ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, জামালপুরের মেলানদহের শেখ ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব ইউনিভার্সিটির নাম বদলে ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নামকরণ করা হয়েছে।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন
অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে। এছাড়া খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও পরিবর্তন করে যথাক্রমেÑখুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে। শেখ পরিবারের নামে করা ৩৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।
একাডেমিক বা বিজ্ঞান ভবনের নাম পরিবর্তন
ঢাকা কলেজের শেখ জামাল একাডেমিক ভবনের নাম পরিবর্তন করে জুলাই ৩৬ একাডেমিক ভবন, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ শেখ লুৎফর রহমান একাডেমিক ভবনের পরিবর্তে ডা. গোলাম মাওলা একাডেমিক ভবন, সরকারি তিতুমীর কলেজের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের পরিবর্তে নতুন বিজ্ঞান ভবন, সরকারি তিতুমীর কলেজের শেখ কামাল প্রশাসনিক ভবনের পরিবর্তে প্রশাসনিক ভবন রয়েছে।
স্টেডিয়ামের বা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা ২০৫টি স্টেডিয়ামের বা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ তালিকায় রয়েছেÑজাতীয় স্টেডিয়াম ঢাকা, ফ্যাসিবাদ আমলে এর নামকরণ করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। এছাড়াও শেখ জামাল জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনা ঢাকার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনা ঢাকা ও শেখ কামাল মিলনায়তন, প্রধান ভবন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পল্টন ঢাকার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পল্টন ঢাকা করা হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২৮টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৯৯টি কলেজ/মহাবিদ্যালয়, ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১২টি একাডেমিক বা বিজ্ঞান ভবন, ৩৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ১৩টি ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজ, ৩৫টি ছাত্রাবাস ও হোস্টেল, ১৫টি গ্রন্থাগার ও পাঠাগার, ১৪টি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, ৯টি সেনানিবাস, ১১টি নৌজাহাজ, চারটি থানা ও পুলিশের স্থাপনা, ছয়টি পদক বৃত্তি ও ট্রফি, তিনটি স্যাটেলাইট ও ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পরিচালনার ভার দেওয়া হয়েছে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে। শিল্পাঞ্চল ও বিভাগীয় শহরগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনে খুলনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মো. শওকত হোসেন সরকারকে মনোনীত করা হয়েছে।
নিয়োগকৃত এই কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোতে মেয়রের যাবতীয় ক্ষমতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন নির্বাচিত বোর্ড বা করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে বহাল থাকবেন। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাঁরা বিধিমোতাবেক নির্ধারিত সম্মানী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জনগণের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নতুন প্রশাসকদের যোগদানের মাধ্যমে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের পথ সুগম হবে।
দেশের নাগরিকদের বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলেই এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে গত রবিবার ইসির এনআইডি অনুবিভাগ একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকরা নিবন্ধনের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। এর আগে ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত এনআইডি প্রাপ্তির সুযোগ ছিল না। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কাজে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
পরিপত্রে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, আবেদনের তারিখে যাদের বয়স ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে, তারা নিবন্ধনের আওতায় আসবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানায়, এই বয়সীদের তথ্য অগ্রিম সংগ্রহ করে রাখা হবে। আবেদনকারীদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব এই প্রক্রিয়ার যান্ত্রিক ও আইনি দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন। মূলত এনআইডি প্রাপ্তি এবং ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কিশোর বয়সেই জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন, যেখানে এনআইডি একটি অপরিহার্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা, পাসপোর্ট তৈরি কিংবা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পরিচয়পত্র না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। এই সমস্যা সমাধানেই বয়সের সময়সীমা কমিয়ে এনে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়া মাত্রই নিবন্ধনের পথ সুগম করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর একটি বড় সংখ্যক তরুণ জনবল জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হবে। এখন থেকে নির্দিষ্ট কোনো তারিখের জন্য অপেক্ষা না করে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়া নাগরিকরা বছরের যেকোনো সময় ইসিতে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ আরও সহজতর হবে।
বড় এবং দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ প্রবণতার লাগাম টেনে ধরতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে দেশের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এসব বোঝা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাঁধে পড়বে এবং এ সরকারকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ ডেবট বা ঋণ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে- অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন নির্বাচিত সরকারের কাঁধে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ ব্যবস্থাপনার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কিনা সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আগের সরকারের পতনের আগে, ওই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।
এছাড়া নির্বাচনের আগে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংকঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। এর আগে ৪ জানুয়ারি এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকঋণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটিরও বেশি।
সূত্র বলছ , ইউনূস সরকারের সময় গত ১৮ মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে মোট ৭৭ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়া হয়েছে।
সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে এ অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। এটি সে সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া বাবদ আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব কারণে সরকারকে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।
এরই মধ্যে যেসব ঋণ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে চাপে পড়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা আলোচ্য অর্থবছরে মোট সরকারি ব্যয়ের ২১ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরে সুদ বাবদ নতুন সরকারের ব্যয় আরো বাড়বে।
প্রতিবেদন থেকে ঋণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের চেয়ে বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে। এই সময়ে আইএমএফ এর ঋণের কিস্তির অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস বাজেট সাপোর্ট নিয়েছে। গত অর্থবছর অন্তর্বর্তী সরকার ৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার বাজেট সাপোর্ট পেয়েছে, আগের অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন ডলার। বিদেশি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ইউনূস সরকারের ১৫ মাসে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণের পরিমাণ ৮.১২ লাখ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯.৫১ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের যে ঋণের বোঝা পেয়েছে, সেটি পরিশোধ করাই চ্যালেঞ্জের বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, ধার করে বিশ্বের কোনো সরকারের পক্ষেই বেশিদিন চলা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে নতুন সরকারের কাঁধে যে ঋণের বোঝা চেপেছে, সেটি অনেক বড়।
অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং ঋণের সুদ পরিশোধ ও সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য ঋণ নিতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের দিনে ঋণের এ স্থিতি বাড়তে থাকবে এবং ঋণের মূল ও সুদ পরিশোধে নতুন যেকোনো সরকারকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে। অনেক বকেয়া দায় অন্তর্বর্তী সরকার পরিশোধ করলেও বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা পরিশোধ করাসহ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের জন্য রেখে গেছে, যা নির্বাচিত বর্তমান সরকারের জন্য অতিরিক্ত বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বিবেচনা করাসহ নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণে বিএনপিকে আগামী ১০০ দিনের মধ্যেই নতুন বাজেট ঘোষণা করতে হবে। এরই মধ্যে সরকার আগামী ঈদের আগে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী অর্থবছর রাজস্ব আহরণের অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কারা না গেলে বাজেটের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্তর্বর্তী সরকার আগের চেয়ে ঋণ পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক করে রেখে গেছে বলে মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিল, তার চেয়েও তা আরও নাজুক অবস্থায় রেখে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরসহ যে সব বৈদেশিক চুক্তি করেছে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নতুন সরকারের টাকা ছাপানোর চিন্তা স্বপ্নেও করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আজকের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমি পুনরায় আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী। আমি জানিয়েছি, আমরা পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চাই। একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আপনারা অবগত আছেন যে, নির্বাচনের পর থেকে আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ে বেশ কিছু যোগাযোগ হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। একই দিনে তারা টেলিফোনে কথা বলেন। পরবর্তীতে ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন নতুন সরকার শপথ নেয়, তখন ভারতের লোকসভার স্পিকার ঢাকায় গিয়ে শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকের সময় লোকসভার স্পিকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী রহমানের হাতে তুলে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার এবং বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মো. আতাউর রহমান নামের ওই গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১-এ সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক জানায়, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ-বাণিজ্য ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আতাউরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানে তার ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে তার নামে থাকা কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে ১৮৯টি লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনে ৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণের তথ্য রয়েছে। এসব অর্থের বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমেও বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের হিসাব ব্যবহার করে ঘুষের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অবৈধ আয়ের অর্থে ঢাকায় নিজের ও পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ি কেনার তথ্য পেয়েছে দুদক।
পিএসসির একটি সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আতাউর রহমানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাব।’
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আতাউর রহমান সাবেক পিএসসি সদস্য শেখ আলতাফ আলীসহ একাধিক সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’
এর আগে প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়। তদন্তে তার বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে আসে।
শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আর রাজপথে আসতে হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন ‘আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না। সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যদিও বাজেটসংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবু শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। নতুন বাজেটে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।’
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা ও সমাধান করা হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা চলছে। একজন ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না দেয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিবেচনা করা হবে।’
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) প্রসঙ্গে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘নিয়োগ ব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন এসেছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কোথায় সংশোধন দরকার, তা রিভিউ করে দেখা হবে। ‘আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না’-এই অবস্থানে সরকার অনড়। শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।’
অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টসহ অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিয়েও শিগগির বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষা খাত সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা বৈঠকেও শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষকরা যে লিখিত দাবি পেশ করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব স্ট্যান্ডিং ইস্যু রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে পাঁচ বা সাত বছর পর একই দাবিতে আবার আন্দোলনে নামতে না হয়।’