মাসছয়েক পরই বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো সরব রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই জুলাই মাসজুড়ে বাংলাদেশ সফরে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্তত চারটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের (পূর্ব) ঢাকা সফর নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কথাও আলোচনায় আসছে যে, পশ্চিমাদের সফরের আগে ভারতের সচিবের সফর নির্বাচন নিয়ে দেশটির অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য। যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই সফরের সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
কূটনৈতিক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন এসব সফর তাৎপর্যপূর্ণ। এসব সফরে সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো। ফলে জুলাই মাসজুড়েই সরকারকে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ সামলাতে হবে। যার প্রভাব পড়বে ভোটপূর্ব রাজনীতিতে।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিদেশিদের চাপ নতুন কিছু নয়। তবে নির্বাচনের আগে এসব সফর সরকারের প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিরোধী দলের প্রতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে এক ধরনের চাপ তৈরি করবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, পশ্চিমা প্রতিনিধিদলগুলো সরকার বা বিরোধী দল সবার সঙ্গে তাদের কথাবার্তা বলবে- এটা ধারণা করা যায়। পোস্ট কলোনিয়াল দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ব্যতিক্রমী ভারত ছাড়া এসব দেশের আবির্ভাব ঘটে। তিনি বলেন, এটা সাংঘাতিক রকমের আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত সেটা বলা যাবে না। যেকোনো কারণেই হোক, এ রকম একটা বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তবে সমাধান হতে হবে। বিদেশিরা সর্বোচ্চ বিবদমান কর্তৃপক্ষের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা মসৃণ করে দিতে পারে। কিন্তু তারা সালিশ ডেকে সব ঠিক করে দেবে, সেটা ২০২৩ সালের বাস্তবতায় বলা যাবে না।
শান্তনু মজুমদার বলেন, যে বা যারাই দায়ী হোক, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন দুটো ভালো হয়নি। ওই ধরনের নির্বাচন বহন করার ক্ষমতা বাংলাদেশের আর নেই। এমনকি সরকার বা বিরোধী দলেরও নেই। এ জন্য আমাদের রাজনীতিবিদরা নিজেদের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনে হোক কথা বলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে যাবেন- এটাই হলো বেস্ট অ্যাভেলেভল অপশন (সবচেয়ে ভালো বিকল্প)। বিদেশিরা চাপ দিয়ে সমাধান করে দেবে, সেই রকম সময় এখন আর নেই।
উচ্চপর্যায়ের সফর ঘিরে বেশ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ঢাকার কূটনৈতিক পাড়াতেও। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকের বিষয়ে কোনো পক্ষই মুখ খোলেনি। তবে এর আগে ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির বাসভবনে ১২টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিক একটি বৈঠকে অংশ নেন। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
জুলাইয়ে আলোচিত সফরগুলো
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী ১১ জুলাই চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নাগরিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া। এই প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু এবং ইউএসএআইডির এশিয়া ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অঞ্জলি কৌর।
চলতি বছর এটা বাংলাদেশে ডোনাল্ড লুর দ্বিতীয় ঢাকা সফর হবে। উজরা জেয়া ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনসহ রাজনীতিবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হোসে ফার্নান্দেজের। তিনি ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ব্যবসায়ী পরিষদের বৈঠকে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গেও তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদের আগেই ৮ জুলাই ১৫ দিনের সফরে ঢাকা আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদল। আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে কি না, তা যাচাই করতে আসছেন তারা। এরপর ২৪ জুলাই থেকে কয়েক দিনের সফরে আসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমোন গিলমোর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২-৫ মে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইমোন গিলমোরসহ ইইউর অন্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
গত ৪-৫ জুলাই বাংলাদেশ সফর করে গেছেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নাইজেল হাডলস্টন। সফরকালে তিনি দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ করার আহ্বান জানান।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা কীভাবে সেটা আয়োজন করবে, তা জানতে আসছেন উজরা জেয়া।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার ঢাকা সফরে নির্বাচন নিয়ে ‘আলোচনা হতে পারে’ বলে গতকাল জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং আমি এটি বাদ দিচ্ছি না। কিন্তু এটি নির্বাচনকেন্দ্রিক সফর- এটি ভাবাও ঠিক হবে না।’
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘মার্কিন প্রতিনিধিদল শুধু নির্বাচন নিয়েই কথা বলতে আসছে- এ ধরনের তথ্য আমার কাছে নেই। এটি আমাদের মধ্যে যে মেকানিজমগুলো আছে সেটির একটি ধারাবাহিকতা। অনেক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে এবং তার মধ্যে নির্বাচন আসতে পারে।’
মানবাধিকার, রোহিঙ্গা, শ্রমাধিকার, বাণিজ্যের মতো অনেক ইস্যু আছে জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে অনেক মেকানিজম কাজ করছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং তার কাজের ক্ষেত্র অনেক ব্যাপক। তার সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তার মধ্যে একটি হয়তো থাকতে পারে নির্বাচন।’
এ বিষয়ে জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, উজরা জেয়ার এই সফর মূলত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুপ্রতিম সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার এবং দুই দেশের সরকারের মধ্যকার যোগাযোগ জোরদার করার একটি প্রয়াস। সফরকালে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ ছাড়াও প্রতিনিধিদলটির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলাপ অমূলক
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো সরব থাকলেও প্রতিবেশী ভারত এখনো খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) সৌরভ কুমার।
গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, সৌরভ কুমারের সফরের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সফরে নির্বাচন নিয়ে আলাপের বিষয়টি অমূলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) ইস্যুতে আলোচনা করতে ঢাকায় এসেছেন তিনি। কিন্তু তিনি এমন একসময়ে ঢাকায় এসেছেন, যখন বিমসটেকের সেক্রেটারি জেনারেলই ঢাকায় নেই। তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নয়াদিল্লির প্রতিনিধির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয় পররাষ্ট্র সচিবের কাছে।
উত্তরে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বিভিন্ন ধরনের স্পেকুলেশন আমরা দেখেছি। এটা ঠিক নয়। কারণ বিমসটেকের সেক্রেটারি জেনারেলের মা মারা গেছেন। তিনি সে কারণে এখানে নেই। এখানে অন্য কিছু নেই।
সৌরভ কুমারের সফরের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরের কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সফরের তারিখগুলো আগেই নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের সচিব এলেন তার সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদল আসছে, বিষয়টা এ রকম না। একটা দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সিরিজ অব সফর হয়। অনেক দেশের তুলনায় আমাদের কমই হয়। এগুলো একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো সম্পর্ক নেই।’
শ্রম ইস্যুতেও গুরুত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্র
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নাগরিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার সফরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি শ্রম অধিকার ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যার পর সম্প্রতি শহিদুল ইসলাম নামে এক শ্রমিকের হত্যার বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তর এ বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে এই হত্যার বিচার দাবি করেছে। এই মামলার তদন্তের দিকে সতর্ক নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের শ্রম অধিকার, পরিবেশ ও মান নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রগতি করলেও শ্রম ইস্যুতে এখনো ছয়-সাতটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চলতি সংসদ অধিবেশনে সেগুলোকে দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
উজরা জেয়াকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খুব গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকায় বিশ্বের নজর বেড়েছে। ফলে সবাই তাদের সঙ্গে আমাদের রাখতে চায়।’
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে র্যাব এবং বাহিনীটির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এরপর দ্বিপক্ষীয় নানা আলোচনায় র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে অস্বস্তি কিছুটা কাটতে শুরু করে।
এরপর গত ২৪ মে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বাংলাদেশ-সম্পর্কিত নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেন, যা নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। তবে এই ভিসানীতি ঘোষণার দেড় মাস পর মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার সফর এবং ডোনাল্ড লু’কে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল রয়েছে।
নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে ইইউ প্রতিনিধিদল
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেন ঢাকায় ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। এদের মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে একটি প্রতিনিধিদল।
মূলত ইইউর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি জোসেফ বোরেল বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। এরই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য ইইউর স্বাধীন বিশেষজ্ঞ দলটি ঢাকা সফরে আসছে বলে জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।
চার্লস হোয়াইটলি জানান, প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। এখানে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ইইউর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি জোসেফ বোরেলের কাছে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন তারা। তার ভিত্তিতে বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইইউ মিশন পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জোসেফ বোরেল।
এর আগে ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ সফর করেছেন। সে সময় তিনি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, জোসেফ বোরেলের সফরের ইস্যু মানবাধিকার। বলা যায়, রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনই তার সফরের মূল উদ্দেশ্য। গত সফরের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখবেন তিনি। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে ঢাকায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সহিংসতা রোধ করার অংশ হিসেবে লাইসেন্স করা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুসরণ করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নির্বাচনের সময় যাতে কেউ অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন করতে না পারে বা নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে কারণেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এই নির্দেশনার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপি এবং আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া প্রার্থীদের নিরাপত্তার জন্য অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনাররাও তাদের বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন। তবে সাধারণ লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে এই আদেশ অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্নেয়াস্ত্র জমা নেওয়া এবং বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক প্রক্রিয়া। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রের অপব্যবহার রোধ করা গেলে ভোটের মাঠের সহিংসতা ও উত্তেজনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য প্রণীত অধ্যাদেশ বা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যাবতীয় দাপ্তরিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) এই চূড়ান্ত খসড়াটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত করার আগে দীর্ঘ ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই চূড়ান্তকরণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত নেওয়া হয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী একটি কাঠামো দাঁড় করাতেই সবার যৌক্তিক প্রত্যাশা ও উদ্বেগের বিষয়গুলোকে খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সকলের ধৈর্যশীল সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার কারণেই এই জটিল প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে।
একটি টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য অবকাঠামোগত ও মৌলিক সংস্কার কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যেকোনো পর্যায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা পুরো উদ্যোগটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যেহেতু অধ্যাদেশটি এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, তাই এই মুহূর্তে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়—এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করে, কোনো ধরনের আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের এই অর্জন ও শ্রমকে নসাৎ করে দিতে পারে।
পরিশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, দীর্ঘদিনের ধৈর্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত থাকলে অতি দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে ও মানোন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল স্বীকার করেছেন যে, সরকার যেভাবে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার করতে চেয়েছিল, নানাবিধ কারণে তা সেভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংস্কার হয়নি বলে যে সমালোচনা করা হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথা বলাটা এক ধরনের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি ভিউ বা জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, সংস্কার কিছুই হয়নি এমন ধারণা ঠিক নয়, বরং যথেষ্ট কাজ হয়েছে। নিজের মূল্যায়নে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা যদি ১০ থাকে, তবে অন্তত ৪ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান সরকার সংস্কারের পথে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যে পরিমাণ পরামর্শ বা কনসালটেশন করেছে, তা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইন ও বিধিমালা সরকার প্রণয়ন করেছে। তবে দেশে পরিপূর্ণ আইনের শাসন বা রুল অব ল প্রতিষ্ঠা করতে আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমান সরকার সংস্কারের যে ভিত্তি স্থাপন করেছে, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যদি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তবেই জনগণ এই সংস্কারের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে।
বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অতীতে যেভাবে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে পদায়ন পাওয়া যেত, সেই সংস্কৃতি আর থাকবে না। শুধুমাত্র ১০ বছর ধরে জয় বাংলা কিংবা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিলেই কেউ বিচারক হতে পারবেন না। বিচারক হওয়ার জন্য যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিই এখন প্রধান বিবেচ্য হবে। এছাড়া উচ্চ আদালতেও কিছু অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সংস্কার উচ্চ আদালতের ভেতর থেকেই আসতে হবে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতু এবং উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ বা সাসেক-২ প্রকল্পের নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ বৃহস্পতিবার তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি যমুনা সেতু এলাকা এবং সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধে চলমান নদীশাসন কাজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক এবং সাইট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সচিব মহোদয় যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে চলমান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং সেতুর স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং যানচলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশনা প্রদান করেন। বিশেষ করে টোল প্লাজায় যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি আধুনিক অটোমেটেড টোল কালেকশন সিস্টেম বা ইটিসি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার নির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে সেতু সচিব টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বাস্তবায়নাধীন সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাসেক-২ প্রকল্পটি শুধু একটি সড়ক নয়, বরং এটি পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রকল্পের কাজ শেষ করার আহ্বান জানান।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সচিব প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন, যাতে প্রকল্পের সুফল দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষায় নির্মাণ এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সংকেত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে নির্মাণকাজ চলাকালীন মহাসড়কে যেন যানজট বা দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য পর্যাপ্ত ডাইভারশন ও রোড সাইন স্থাপন করতে এবং ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশে কোনো সংস্কার হয়নি বলে যারা প্রচার করছেন, তাদের দাবি সঠিক নয়। বরং বিগত সময়ে যথেষ্ট সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, কিছু মানুষের কাছে সংস্কার নিয়ে নেতিবাচক কথাবার্তা বলাটা উদ্দীপকের মতো কাজ করে এবং এতে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তি ভিউ বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন শীর্ষক এক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা সংস্কারের অগ্রগতির বিষয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা যদি ১০ থাকে, তবে অন্তত চার ভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার যেভাবে করার পরিকল্পনা বা ইচ্ছা সরকারের ছিল, বাস্তবে নানাবিধ কারণে তা সেভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবুও সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইন প্রণয়ন ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আসিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে শুধুমাত্র ১০ বছর ধরে জয় বাংলা কিংবা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান দিলেই কেউ বিচারক হতে পারবেন না। বিচারক হওয়ার জন্য যোগ্যতা ও মেধার মাপকাঠিই প্রধান বিবেচ্য হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে সেই সংস্কার উচ্চ আদালতের ভেতর থেকেই আসতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা করণীয়, তার সবই করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ড. আসিফ নজরুল বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার ব্যাপকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যতটা পরামর্শ বা কনসালটেশন করেছেন, তা ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তিনি মনে করেন, দেশে পূর্ণাঙ্গ আইনের শাসন বা রুল অব ল প্রতিষ্ঠা করতে আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমান সরকার সংস্কারের পথে যে যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যদি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তবেই জনগণ এই সংস্কারের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, পুলিশের লুট হওয়া কোনো অস্ত্র আসন্ন নির্বাচনকালে ব্যবহার হবে না। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো যাতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই অস্ত্রগুলো ব্যবহারের কোনো সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমান্তপথে কিছু অস্ত্র আসার চেষ্টা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেগুলো উদ্ধার করছে এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি কোনো প্রার্থীর প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করাও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তারা যদি সঠিক পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন, তবে এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে গণ্য হবে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে জঙ্গি ও চরমপন্থি তৎপরতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং জঙ্গিবাদ এখন নেই বললেই চলে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি বিদেশে অবস্থান করছে। সরকার তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে।
সারদায় অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জনসহ বিভিন্ন ব্যাচের মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তারা আজ থেকে বাস্তবিক কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।
প্রশিক্ষণে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য অনুষ্ঠানে সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। এবার বেস্ট প্রবেশনার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ডে সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজে সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপে সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। নবীন এই কর্মকর্তারা এখন মাঠ পর্যায়ে ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় যোগ দেবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয় বরং তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। রবিবার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে যদি কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তবে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি তথ্য প্রকাশ করেন।
মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষার বিষয়টি মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে সমাজে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।
বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা আলোচিত দ্বীপ ভাসানচরের প্রশাসনিক সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান হতে যাচ্ছে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দ্বীপটিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি টিমের পর্যালোচনায় ভাসানচরসহ মোট ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপ উপজেলার ভৌগোলিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই প্রতিবেদনের আলোকে এই মৌজাগুলোকে সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, বিরোধপূর্ণ ছয়টি মৌজা—ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কাউয়ারচরের সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) এবং আরএস ম্যাপের পেন্টাগ্রাফ ও আর্কাইভ জিআইএস পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো মূলত সন্দ্বীপ উপজেলার অংশ। যদিও দিয়ারা জরিপে ভুলবশত এগুলোকে হাতিয়ার অংশ করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবিক পর্যালোচনায় তা সন্দ্বীপের সীমানায় পড়ে।
ভাসানচরের মালিকানা নিয়ে এই বিরোধের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ২০১০ সালে জেগে ওঠা এই দ্বীপটি ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের কেন্দ্র হিসেবে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্বীপটিকে তার নিজ জেলা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের দাবি ও ক্ষোভ থাকলেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সন্দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষ দ্বীপটিকে নিজেদের মানচিত্রে ফিরে পেতে সরব হন।
জনগণের দাবির মুখে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সীমানা জটিলতা নিরসনে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত এই কমিটির একাধিক সভার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকেই ভূমি মন্ত্রণালয় ভাসানচরকে সন্দ্বীপে ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন হবে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
আগামী ২১ জানুয়ারি নতুন বেতনকাঠামো–সংক্রান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ–এর কাছে জমা দেবে বেতন কমিশন। এরপর প্রতিবেদনটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
নতুন বেতনকাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। বেতন কমিশনের হিসাবে, প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
সুপারিশকৃত কাঠামোয় নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান–কে কমিশনের প্রধান করা হয়। ২১ সদস্যের এই কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন ও ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।
ঢাকাজুড়ে পাইপলাইনের গ্যাসে মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও আবার অল্প আঁচে টিমটিম করে জ্বললেও রান্না করতে লাগছে দ্বিগুণ সময়। এ সংকটের মধ্যেই বিকল্প হিসেবে এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। কিন্তু সেখানেও চলছে চরম নৈরাজ্য– এলপিজির বাজার চলে গেছে সিন্ডিকেটে কব্জায়। দ্বিগুণ দামেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ভোক্তা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি হয় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে আসে ১৬ লাখ ১০ হাজার টন। আর গত বছর আসে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। আমদানি বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো ১০ শতাংশ কমেছে। এতে বছর শেষে যেটুকু মজুত থাকার কথা, তা–ও বাজারে বিক্রি করা হয়ে গেছে। এরপরও বাজারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।
বিইআরসি বলছে, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নিয়েছে ৫২টি কোম্পানি। এর মধ্যে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরতে ৩২টি কোম্পানির নিজস্ব প্ল্যান্ট আছে। আমদানি করার সক্ষমতা আছে ২৩টি কোম্পানির। গত বছর কোনো না কোনো মাসে আমদানি করেছে ১৭টি কোম্পানি। আর প্রতি মাসে আমদানি করেছে মাত্র ৮টি কোম্পানি। বছরের শুরুতে আমদানি করলেও শেষ দিকে কেউ কেউ আমদানি বন্ধ রাখে।
বিইআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এলপিজির এ সংকট আরও আগেই বুঝতে পারার কথা ছিল। প্রতি মাসে আমদানি কমার এসব তথ্য সরকারের কাছে আছে। তাই যারা নিয়মিত আমদানি করে, তাদের আমদানি বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। যথাসময়ে অনুমতি দিলে বর্তমানের এ সংকট তৈরি হতো না।
বিইআরসি বলছে, এলপিজি আমদানি বাড়াতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। ঋণপত্র (এলসি) খোলায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমদানির অনুমতি বাড়িয়ে দিয়েছে বিইআরসি। ব্যবসায়ীরা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আমদানি বাড়লে সরবরাহ-সংকট কমে আসবে।
২০২৪ সালে আসে ১৬ লাখ ১০ হাজার টন। আর গত বছর আসে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। আমদানি বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো ১০ শতাংশ কমেছে। এতে বছর শেষে যেটুকু মজুত থাকার কথা, তা–ও বাজারে বিক্রি করা হয়ে গেছে। এরপরও বাজারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। দ্বিগুণ দামেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ভোক্তা।
বর্তমানে এলপিজির যে সংকট, তা সরবরাহজনিত সংকট বলে করেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। এলপিজির বাজার নিয়ে গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, গত নভেম্বর পর্যন্ত ১৭০টি জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। ডিসেম্বরে আরও ২৯টি জাহাজ নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। চীনের মতো বড় ক্রেতারাও এখন বৈশ্বিক এলপিজি বাজার থেকে কিনছে। তাই এলপিজি কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
তবে চলমান এলপিজিপর সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করেন এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক। একই গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, লোয়াবের পাঁচ সদস্য কোম্পানি এক বছর আগে আমদানি বাড়াতে অনুমোদন চেয়েছিল। এক বছর পর চিঠির জবাবে মন্ত্রণালয় বলেছে, এটা নীতিমালা অনুমোদন করে না। এরপর আবার চিঠি দেওয়া হয়েছে গত আগস্টে। নতুন প্ল্যান্টের অনুমোদন চাইলেও দেয়নি।
দোকানিদের ভাষ্য, পরিবেশকেরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার দিচ্ছে না। কোথাও দিনে যে কটি সিলিন্ডার আসে, তা ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান বলেন, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এখনো ৭০ শতাংশ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। শিগগিরই সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জাতীয় পে কমিশনের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই সরকার তা বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
নতুন পে-স্কেল বা বেতনকাঠামো প্রসঙ্গে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর পর দেশে জাতীয় পে কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং কমিশন বর্তমানে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে অনেকগুলো বাস্তবিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো অর্থের জোগান বা বাজেটের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। তাই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সরকার সব দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এই প্রক্রিয়ায় সবাইকে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা।
গণভোট সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতেই এই গণভোটে অংশগ্রহণ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কার্যক্রমকে ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ বা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যেন এই সংস্কার কার্যক্রমকে সহজেই এগিয়ে নিতে পারে, সেই পথ সুগম করতেই মূলত গণভোটের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটপূর্ণ বা ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের দিন সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সবাইকে গণভোটে অংশ নিতে হবে। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করলে দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গণভোটের পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে দেশের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ইতিপূর্বে দেশে অনেক নির্বাচন হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সুবিধামতো একতরফাভাবে সংস্কার কাজ করেছে। কিন্তু কোনো সময়ই সেসব সংস্কার জনবান্ধব বা টেকসই হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে যে, ভবিষ্যতে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। জনগণের ম্যান্ডেট বা সম্মতি ছাড়া একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট প্রদান করা জরুরি, যা রাষ্ট্রীয় সংস্কার কাজগুলোকে ত্বরান্বিত করবে।
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ আসন্ন নির্বাচনকে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শুধু দেশের মানুষই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা পর্যবেক্ষণ করছে যে বাংলাদেশ সংস্কারের পথে হাঁটছে কি না। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে। তাই বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। গ্রামের সাধারণ মানুষও গণভোট সম্পর্কে সচেতন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সুসজ্জিত ‘ভোটের গাড়ি’ উদ্বোধন করা হয়, যা প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি প্রদক্ষিণ করে গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরি করবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছে সরকার গঠিত বেতন কমিশন। আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন এই বেতনকাঠামো চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা প্রতিবেদনটি গ্রহণ করার পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বেতনকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এবারের কাঠামোতে বিশেষ করে নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অপেক্ষাকৃত বেশি হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তারা খাপ খাওয়াতে পারেন।
প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন কাঠামোতে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার সুপারিশ রয়েছে। এছাড়া বেতন বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য যুগোপযোগী বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২১ সদস্যের এই বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশনে জমা দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যেই তারা এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন, যারা ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দীর্ঘ এক দশক পর নতুন পে-স্কেলের খবরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।