সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪ ফাল্গুন ১৪৩২

আরপিও সংশোধনে ইসির ক্ষমতা রহিত হয়নি: সিইসি

আপডেটেড
১০ জুলাই, ২০২৩ ১৭:০১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১০ জুলাই, ২০২৩ ১৬:৪৪

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের ফলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতা ‘রহিত’ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

সোমবার নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আরপিওর ৯১এ ধারার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘৯১এ-তে কোনো ক্ষমতা রহিত হয় নাই, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাচ্ছি।’

নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) হেয় ও জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি। তিনি বলেন, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ইসি ভোট শেষে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ভোট বাতিল ও গেজেট প্রকাশ আটকে দেয়ার ক্ষমতা পেয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও বেড়েছে ও সুসংহত হয়েছে।

আরপিও সংশোধন গেজেট আকারে প্রকাশের পর সার্বিক বিষয় নিয়ে নির্বাচন ভবনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন সাংবিধানিক সংস্থা ইসির প্রধান কাজী হাবিবুল আউয়াল।

পাশাপাশি ভোট বন্ধে ইসির ক্ষমতা ‘খর্ব হয়েছে’ ‘নিজের পায়ে নিজে কুঠার মেরেছে’- এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সিইসির দাবি, ভোট বন্ধে ইসির ক্ষমতা রহিত হয়নি। একটি বিধান সংশোধন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ইসিকে হেয় করা হচ্ছে।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, দীর্ঘ ক’মাসে আইনটি নিয়ে নানা বক্তব্য এসেছে। তাতে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে। এ জন্য যেসব ব্যাখ্যা, মন্তব্য এসেছে তার সবগুলো সঠিক নয়। এ জন্য ইসির পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টীকরণ করতে চাই।

সরকার নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন করেনি

নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার আইন সংশোধন করেনি দাবি করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘সরকার আমাদের সম্মান দেখিয়েছে। আমরা যেটা চেয়েছিলাম সেটা নাও করতে পারতেন সেটা সরকারের অধিক্ষেত্র। কিন্তু আমরা যেটা চেয়েছিলাম, সেখানে সরকারে সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। তারা আমাদের প্রস্তাবিত সংশোধনগুলো সংসদে নিয়ে পাস করে দিয়েছে। দু-চার দিন আগেই একটা পত্রিকায় বলা হয়েছে, কমিশন থেকেই ক্ষমতা কমানো প্রস্তাব গিয়েছে। এটি একেবারেই অবান্তর। কমিশন কখনোই তার ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব পাঠায়নি। পাঠাতে পারেও না। আর এতটা দায়িত্বহীন কমিশন হবে, এটা চিন্তাও করা যায় না। কিছু কিছু জায়গায় ‘পোলিং’ এবং ‘ইলেকশন’ শব্দের কথা বলেছে। আমরা তিনটা জায়গায় ইলেকশন শব্দের পবিবর্তে পোলিং দিয়ে প্রতিস্থাপিত করেছি। এটা হলো ক্লারিক্যাল কারেকশন। ক্লারিক্যাল কারেকশন এবং অ্যামেন্ডমেন্ডের মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে। অ্যামেন্ডমেন্ডের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য থাকে, যেটা অর্থকে পরিবর্তন করে দেয়। ক্লারিক্যাল কারেকশন হচ্ছে জাস্ট সংশোধন। পানি বানান করতে গিয়ে উ-কার দিয়ে ফেলেছিলাম, কেউ সেটা ই-কার দিয়ে করতে পারে, যেটা কারেকশন। এটাকে নিয়ে অপব্যাখ্যা করাটা দুঃখজনক বলে মনে করি।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করব যারা বিজ্ঞজন আছেন, আমরা পুরো জাতি প্রত্যাশা করছি একটা সুন্দর নির্বাচন হোক। নির্বাচন নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনকে হেয় করা বা খাটো করা যেমন বাঞ্ছনীয় নয়, যেমন নির্বাচন কমিশনকে তারা যদি গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন, আমরা উপকৃত হব। আমরা যেকোনো গঠনমূলক সাজেশন বিবেচনায় নিতে সদা প্রস্তুত। আগামী নির্বাচনটাকে সুন্দর করার জন্য আমরা প্রত্যাশা করি যেকোনো আইন বা বিধিবিধানে ভালো কোনো সংশোধন সম্ভব হয় আমরা হয়তো আগামীতেও করব।’

শুধু ৯১-এ নয়, বেশ কয়েকটি ধারা সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে সুসংহত করেছে বলে মনে করেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, যেমন ৮৪এ –তে দেখবেন বেশ কিছু কর্মকে আমরা অপরাধের আওতায় এনেছি। যেমন গণমাধ্যম কর্মী তাদের ইক্যুপমেন্টকে যদি কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত করে, পর্যবেক্ষকদের দেহ এবং তাদের কোনো ইুক্যুপমেন্ট যদি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়, জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান এনেছি।

তিনি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় বাধা দেয়ার অভিযোগ আসে। এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য আমরা বাধাদানকারীকে শাস্তির আওতায় এনেছি। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে কাউকে চাপ প্রয়োগ করলেও সেটা অপরাধ হবে। তবে এগুলো কমে আসবে। কেননা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যবস্থা করছি। ইতোমধ্যে কিছু মনোনয়নপত্র অনলাইনে রিসিভ করতে পেরেছি। এতে শোডাউন এবং অর্থব্যয় কমে যাবে। চট্টগ্রাম-১০ ও ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনেরও আমরা অনলাইনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে পেরেছি। ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দিলে সেটা দণ্ডনীয় অপরাধ হবে, এটাও আরপিওতে একটা ইম্প্রুভমেন্ট।’

‘আরেকটি বিষয় কেউ প্রশাংসাও করেননি, সমালোচনা বা আলোচনাও করেননি। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এতে তিনি যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা না পান তবে ভোট বন্ধ করে সব কাগজপাতি ফেলে বেরিয়ে আসবেন। এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব স্পষ্ট করা। এতে তিনি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করলে সেটা ক্রিমিনাল অফেন্স হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

৩১(২)-তে আগে শুধু ছিল ব্যালট পেপারে। এখন সেখানে স্বাক্ষরের বিধানও এনেছি। ভোট গণনার সময় ব্যালটে স্বাক্ষর না পেলে সেটা বাতিল করা হবে। আরেকটা বিষয় হলো আবেদনের ভিত্তিতে এজেন্টদের রেজাল্ট দেবেন। কিন্তু এখন বলা হয়েছে আবেদনের ভিত্তিতে নয়, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এমনিতে সেটা দেবেন।

কারও প্রার্থিতা আমরা বাতিল করতে পারি। কিন্তু সে আবারও নমিনেশন জমা দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আমরা বিধান এনেছি কারও যদি অপকর্মের কারণে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সে পরবর্তী সময়ে নতুন নমিনেশন দাখিল করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে এটা একটা অগ্রগতি।

কমিশন ভুল করতে পারে কুঠার মারে নাই

‘ইলেকশন’ শব্দটির পরিবর্তে ‘পোলিং’ শব্দটি কেন আনা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ইলেকশন শব্দটা হচ্ছে জেনাস। ইলেকশনের আন্ডারে পোলিং। পোলিংয়ের আন্ডারে কখনো ইলেকশন হয় না। তো যেটা হচ্ছে, একটা নির্বাচন করে যিনি নির্বাচিত হলেন, উনি পোলড হবে না, উনি নির্বাচিত হবেন। আর পোলিংটা হবে যেই অংশটাতে ভোটাররা গিয়ে ভোট দিবেন। ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়াটাকে পোলিং বলা হয়। আমাদের আরপিওতে দেখবেন, ইলেকশন আর পোলিং শব্দটা ডেফিনেশনে আছে। কাজেই এই জিনিসটা বুঝবেন। এটাকে বিশাল করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, যে নির্বাচন কমিশন তার পায়ে কুঠার মেরে ফেলেছে। নির্বাচন কমিশন ভুল করতে পারে কিন্তু কুঠার মারে নাই। আমরা বলছি, এটা সুচিন্তিতভাবে এটা কারেকশন করেছি। এখানে আসলে ইলেকশন হবে না, পোলিং হবে।’

সিইসির দাবি কমিশন ভোট বন্ধ করতে পারবেন

নির্বাচনের আগে কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কমিশন ভোট বন্ধ করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, 'নির্বাচনের আগের দিন ভূমিকম্প হয়ে লক্ষ লোক মারা গেছে, কমিশনের কিছু ইনহেরেন্ট পাওয়ার আছে, কমিশন পারবে না কেন? অনিয়ম যদি হয়, নির্বাচনের আগে, আমাদের বিধান আছে তদন্ত করতে হবে। তদন্ত করে অনিয়ম যিনি করেছেন তার প্রার্থিতা বাতিল করার সুস্পষ্ট একটা বিধান আছে। আমরা যদি দায় নিরূপণ করতে পারি কে অনিয়ম করেছেন, তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন চালিয়ে নিতে পারব।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘আপনাদের উদ্দেশে বলার কারণ হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে মন্তব্য এসেছে। এতে করে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে যে এতে করে আমরা মনে করি যেসব ব্যাখ্যা এসেছে তা সবগুলো সঠিক নয়। যেমন প্রথম যেটা বলা হয়েছিল, কমিশন বুঝে না বুঝে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে। এবং কমিশন গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা চেয়েছিল এবং ৯১(এ)-তে সংশোধন এসেছে। আসলে তা হয়নি। সেটা হুবহু আগের মতোই আছে। ৯১এ(এ)-তে নতুন একটি ধারা সংযোজিত হয়েছে। সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য আরপিও সংশোধন করেছে- এমন মন্তব্যও এসেছে। কিন্তু সরকার আরপিও সংশোধন করে নাই। করেছে, তবে আমাদের প্রস্তাব অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশন তার অবস্থান আরও সংহত, দৃঢ় ও শক্তিশালী করার জন্য যে সংশোধনগুলো চেয়েছিল সে সংশোধনগুলোতে সরকার সম্মত হয়েছে। এতে আমাদের ক্ষমতা বেড়েছে। ৯১(এ)-তে সংশোধন হতো তবে আমাদের ক্ষমতা কিছু হেরফের হতো। যেহেতু ওখানে কিছু করা হয়নি, উটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা, যে পোংলি পিরিয়ডে আমরা যে একটি, দু’টি বা সব আসনের নির্বাচন আমরা বাতিল করে দিতে পারি। সেটা হুবহু আগের মতোই আছে।


মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ৩৭ বাড়ি প্রস্তুত: গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের আবাসন প্রস্তুতির কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ৩৭টি বাড়ি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। মিন্টু রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি এবং গুলশান এলাকায় এই বাসভবনগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। উপদেষ্টা আরও জানান, প্রয়োজনে আরও কয়েকটি বাড়ি প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং শপথ অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপি যেভাবে চাইবে, সেই অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। ১৮ মাস ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের স্বার্থে নিরলস কাজ করার চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে দেশকে বের করে একটি নতুন গতিশীল ধারায় নিয়ে আসাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। নিজেদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে তাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক দুর্নীতি সংক্রান্ত রিপোর্টের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আদিলুর রহমান খান বলেন, এই রিপোর্টের বিষয়ে টিআইবি-কে প্রশ্ন করা উচিত। তবে তিনি মনে করেন, জনগণের সাধারণ আলোচনা এবং টিআইবির রিপোর্টের দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় এক নয়। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে যাঁরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বললে কাজের একটি ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠবে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকতে পারে।

দেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের অগ্রগতি সম্পর্কে গণপূর্ত উপদেষ্টা জানান, অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে সংস্কারের বড় বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, আবার কিছু জায়গায় প্রক্রিয়া এখনো চলমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অসমাপ্ত সংস্কার কাজগুলো খুব শীঘ্রই পূর্ণতা পাবে। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত শাসনব্যবস্থা শুরু হতে যাচ্ছে, যার ফলে আবাসন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির এই বিষয়গুলো এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পুরোপুরি প্রস্তুত বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।


মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. নাসিমুল গনি

আপডেটেড ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রশাসনিক শীর্ষ পদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনি। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে এই পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীর সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ড. নাসিমুল গনিকে চুক্তিভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ড. নাসিমুল গনি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছে।

সাধারণত মন্ত্রিপরিষদ সচিব হলেন প্রশাসনের প্রধান এবং মন্ত্রিসভার বৈঠক পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের ঠিক আগের দিন এই নিয়োগের ঘোষণা আসায় প্রশাসনিক কাজকর্মে আরও গতিশীলতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ড. নাসিমুল গনি এখন থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আসন্ন নির্বাচিত সরকারের মধ্যে প্রশাসনিক সেতুবন্ধন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি নতুন পদে যোগদান করবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের প্রস্তুতিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ শুরু করবেন। এই নিয়োগের ফলে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে এক ধরনের স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন দেশি–বিদেশি ১২০০ অতিথি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ দুই যুগ পর পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নিতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা। দেশের ইতিহাসে এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সফল করতে ইতোমধ্যে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে দেশি-বিদেশি প্রায় ১ হাজার ২০০ জন উচ্চপদস্থ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে এককভাবে এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। নতুন এই সরকারের অভিষেক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যেমন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা। আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল সরাসরি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এছাড়াও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসাও ঢাকার এই রাজকীয় আয়োজনে অংশ নেবেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু শেষ মুহূর্তে সরাসরি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে বাড়তি গুরুত্ব প্রদান করছে।

মঙ্গলবার দিনটি শুরু হবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের তথ্যমতে, এদিন সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিজয়ীদের শপথ পাঠ করাবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই আনন্দঘন মুহূর্তের প্রাক্কালে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিগত দেড় বছরের কর্মকাল এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

শপথ অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত স্থানটি বিএনপির পক্ষ থেকেই পছন্দ করা হয়েছে, যা অনুষ্ঠানটিতে এক বিশেষ আবহ তৈরি করবে। প্রথা অনুযায়ী এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, দেশের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পূর্বনির্ধারিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ ব্যস্ততার কারণে তিনি আসতে পারছেন না। তাঁর পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি দিল্লির প্রতিনিধিত্ব করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক যাত্রার নবসূচনা হতে যাচ্ছে। নবনির্বাচিত সরকারের ওপর জনগণের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই আগামীকাল থেকে শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়।


সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও পান্নাকে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মত প্রকাশের জন্য কোন সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়নি। সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে নিশ্চয়ই ভিন্ন কোনো তথ্য ছিল। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ১৮ মাসে সফলতা বা ব্যর্থতা– বলার কিছু নাই। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। জনগণ মূল্যায়ন করবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশত্যাগ নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ফয়েজ তৈয়ব বিদেশে থাকতেন, রাষ্ট্রীয় কাজ শেষ করে ফিরে গেছেন। তিনি দেড় বছর পরিবারের বাইরে ছিলেন। তার পরিবার নেদারল্যান্ডসেই ছিল, তিনি পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন। এটি ভিন্নখাতে প্রবাহের সুযোগ নেই।


ছোট হচ্ছে আকার, বিএনপির মন্ত্রীসভায় ডাক পেতে পারেন যারা

আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৫৭
বিশেষ প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে বিশ বছর পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এখন দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক মহলে মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কাদের নাম থাকছে, তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এখন ব্যস্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতিতে। তবে এবারের মন্ত্রিসভা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় অনেকটা ছোট হতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যাও কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনা হতে পারে। খবর বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রের।

এদিকে, নতুন সংসদ, নতুন সরকার—এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দিকে। এখন সবার নজর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার দিকে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এবার মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনার ফলে একদিকে সরকারের ‘কাজ যেমন সহজ হবে’, তেমনি ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ ও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করে দলটি।

বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে নবীন ও প্রবীণের মিশেলে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ পড়ানোর কথা রয়েছে। নিজ দলের বাইরে ভোটে জয় পাওয়া সমমনা অন্য দলগুলোর নেতাদের মধ্যেও অনেকে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন। এছাড়া নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আলোচনায় যারা: এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি মেধাবী তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে অতীতে সফলভাবে মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন- এমন অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, অভিজ্ঞতা নেই, কিন্তু মেধাবী- এ রকম তরুণ নেতারা পাচ্ছেন উপমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নূরুল ইসলাম মনি ও আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আরও বেশ কয়েক জনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

নারীদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের নামও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে শামা ওবায়েদ এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে জয় পেয়েছেন।

এছাড়া তরুণ নেতাদের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে যারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন, তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন: লক্ষ্মীপুর সদর আসন থেকে বিজয়ী বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, টাঙ্গাইল-৫ থেকে নির্বাচিত সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ঢাকা-৬ আসনে জয়লাভ করা ইশরাক হোসেন।

এবারের নির্বাচনে মিত্র দলের সাতজন নেতা নিজ দল ছেড়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৩ আসন থেকে ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিম জয় পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে তাদের নামও আলোচনায় আছে।

বিগত সময় বিএনপির সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, সেই মিত্র দলগুলো থেকে মাত্র তিনজন জয় পেয়েছেন। তারা হলেন: বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। তারা তিনজনই নতুন মন্ত্রিসভায় ডাক পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

অন্যদিকে, সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা এবারের মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জায়গা পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে। তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে।

কিন্তু আলোচনায় যাদের নামই থাকুক না কেন, মন্ত্রিসভায় শেষ পর্যন্ত কাদের জায়গা হচ্ছে এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, আগামীকাল শপথ অনুষ্ঠানের পরই সেটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।


পদত্যাগ করলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম 

বাহারুল আলম। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই পদত্যাগের আগে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও নিয়মিত সভায় সভাপতিত্ব করেন। ওই বৈঠকেই তিনি আকস্মিকভাবে উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ব্যক্ত করেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আইজিপিকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত দুপুরে তিনি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠান। এই ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে যেমন বিস্ময় তৈরি হয়েছে, তেমনি বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। পদত্যাগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি আগেই নিজের সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন।

আইজিপি বাহারুল আলমের নিয়োগের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২১ নভেম্বর তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে ২০২০ সালে তিনি নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষে অবসরে গিয়েছিলেন। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ নভেম্বর তার মেয়াদের পূর্ণতা পাওয়ার কথা ছিল। তবে সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।


দেশবাসীকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীসহ সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ রবিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় রমজানের সুমহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংযম, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষা নিয়ে পবিত্র রমজান আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে। এই মাসটি মানবজাতির জন্য শান্তি, কল্যাণ ও উচ্চতর নৈতিকতার বার্তা বহন করে আনে। সিয়াম সাধনা, দান-সদকা ও গভীর ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয় এই মহিমান্বিত মাসে। তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ড. ইউনূসের বাণীতে উঠে এসেছে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের সামাজিক গুরুত্ব। তিনি উল্লেখ করেন যে, পবিত্র রমজান আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে সব ধরনের অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচার পরিহার করে একটি ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা জোগায়। এই মাসটি কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে সত্যনিষ্ঠা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার সময়। বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ প্রদর্শনের মাধ্যমেই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য ফুটে ওঠে।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও ভোগ-বিলাস পরিহার করি। তিনি পবিত্রতা রক্ষা করে বেশি বেশি সৎকর্ম, কোরআন তেলাওয়াত ও প্রার্থনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন। সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন যেন তিনি দেশ ও জাতিকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন এবং সকলের ইবাদত ও নেক আমল কবুল করেন। প্রধান উপদেষ্টার এই সময়োপযোগী বার্তা দেশবাসীর মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতির নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগের গুঞ্জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের পদত্যাগের খবর নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার দুপুর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ বা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন এবং এটি নিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, আজ রোববার সকাল থেকেই আইজিপি বাহারুল আলম তাঁর দপ্তরে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর দুপুরে তিনি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান এবং আসন্ন ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেন। এই সভা শেষ হওয়ার পরপরই তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি গুঞ্জন হিসেবে ডালপালা মেলতে শুরু করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার এবং আইজিপি অফিসের কর্মকর্তারাও এমন খবরের কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আইজিপির ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আইজিপির পদত্যাগের এই গুঞ্জনের পেছনে কিছু পূর্ববর্তী ঘটনাও নতুন করে সামনে আসছে। গত জানুয়ারি মাসেই বাহারুল আলম তাঁর সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। ওই সময়েই প্রশাসনের ভেতরে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং মেয়াদের পূর্ণতা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছিল। আজকের এই অনানুষ্ঠানিক খবর সেই আলোচনার পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসার প্রাক্কালে পুলিশ প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে স্বাভাবিক অবসরে যাওয়া এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে বিশেষ পরিস্থিতিতে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। যদি এই পদত্যাগের গুঞ্জন সত্য প্রমাণিত হয়, তবে নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ৯ মাস আগেই তিনি দেশের পুলিশ প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। আপাতত সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।


সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রাক্কালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী নবনির্বাচিত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই সেনাবাহিনী মাঠ থেকে ব্যারাকে ফিরে যাবে। আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুলিশ বাহিনী বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি অংশ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে।

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাসদস্যদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অত্যন্ত প্রতিকূল ও সংবেদনশীল পরিবেশে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে চমৎকার দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর দক্ষতা দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি মনে করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, গত দেড় বছরের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা দেশ ও জাতি দীর্ঘকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।’ এই চড়াই-উতরাইপূর্ণ সময়ে সেনাসদস্যরা যেভাবে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সাথে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের দক্ষতা ও বীরত্বের কথাও তিনি তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেশে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করায় সেনাবাহিনীর এই পেশাদার অবস্থান সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে। সেনাপ্রধানের এই সময়োপযোগী নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে মোতায়েন থাকা সকল সেনাসদস্যের মনোবল দৃঢ় করবে এবং একটি সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকার প্রশ্নই ওঠে না: আসিফ নজরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি তাঁর এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিন সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

আসিফ নজরুল জানান যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বিএনপির পরিকল্পনা ও অভিপ্রায় অনুযায়ীই সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভায় নিজের থাকা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকার প্রশ্নই উঠে না।”

আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটি তদারকি করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে বিদেশি কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণের বিষয়ে নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কারা কারা আমন্ত্রিত হবেন; সেটি কনভেনশন অনুযায়ী করা হবে, সেটি ক্যাবিনেট ডিভিশন দেখছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” পরবর্তী মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করে বলেন, “মন্ত্রীসভায় আমার থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”


প্রস্তুত হচ্ছে সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, নতুন সরকারের শপথ মঙ্গলবার

সংসদ ভবন এলাকা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন জনপ্রতিনিধিদের বরণ করে নিতে জাতীয় সংসদ ভবনকে এক নতুন ও দৃষ্টিনন্দন রূপে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও আসন্ন সংসদ অধিবেশনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।

একই দিন বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভাও সংসদের এই দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে বলে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। সংসদ ভবন সূত্র অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য পুরো ভবন ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিপাটি করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোও নতুন করে সাজানো হচ্ছে এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অংশগুলোর মেরামত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। গত শনিবার থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় এই শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করেছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে বলেন, “দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকালে নতুন সরকারের শপথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই স্থানে বিকেল ৪টায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। উল্লেখ্য যে, সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশন গত শুক্রবার রাতে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের গেজেট চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের অবস্থানে থাকতে যাচ্ছে এবং বাকি আসনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।


তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে ওই দিন সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান যে, নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।


গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও নির্বাচনী সাফল্যে তিন শীর্ষ নেতাকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে বেগবান করায় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা পৃথক টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে এই তিন নেতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শুভেচ্ছা জানান।

আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম ও পরিমিতিবোধের প্রশংসা করে বলেন, দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের ফলেই সারাদেশে একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আলাপচারিতার শুরুতে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলটির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। তারেক রহমানের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে পাঠানো পৃথক বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস দলটির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, নবগঠিত দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে এনসিপি যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।” মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন দল হিসেবে ৩০টি আসনে লড়াই করে ছয়টিতে জয়লাভ এবং অন্যান্য আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাকে তিনি তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের শক্তিশালী প্রকাশ বলে অভিহিত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক দলগুলো এমন ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সকল রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


banner close