শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

জুনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গেল ১৬৯ প্রাণ

আপডেটেড
১২ জুলাই, ২০২৩ ১৭:০৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৩ ১২:১৭

গত জুন মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫৫৯টি। এতে নিহত হয়েছেন ৫১৬ জন এবং আহত ৮১২ জন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ২০৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬৯ জন, যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বুধবার সকালে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের জুন মাসের দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছিল ১৩ দশমিক ১৬ জন। জুন মাসে গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছে ১৭ দশমিক ২ জন। এই হিসাবে জুন মাসে প্রাণহানি বেড়েছে ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ ঘরমুখী যাত্রা করেছিলেন। যেহেতু দেশে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নত নয়, সে কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে।

বর্তমানে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। অর্থাৎ অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এই গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ যেমন দরকার, তেমনি দরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন। যানবাহনে আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করতে হবে, যার মাধ্যমে গতিসীমা নজরদারি ও রেকর্ড করা যায়।

দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১৬৮টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে নড়াইল, পিরোজপুর ও রাঙামাটি জেলায়। এই ৩টি জেলায় সামান্য মাত্রার ১১টি দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

এদিকে রাজধানী ঢাকায় ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৮২টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৪৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৮টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৯টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৩টি সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে ভোরে ৬ দশমিক ৪৪, সকালে ২৬ দশমিক ৬৫, দুপুরে ২০ দশমিক ৩৯, বিকেলে ১৮ দশমিক ২৪, সন্ধ্যায় ৮ দশমিক ৫৮ এবং রাতে ১৯ দশমিক ৬৭।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে মধ্যরাতে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। নিক্ষিপ্ত ককটেলগুলোর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়, যা পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল গিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। তিনি জানান, রাত সোয়া ১টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে দুই ব্যক্তি এসে ঘটনাস্থলে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেন। আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে তাঁরা সড়ক লক্ষ্য করে দুটি ককটেল ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যান। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্তরা আগারগাঁও হয়ে কাফরুলের সড়ক ব্যবহার করে চলে গেছেন।

ডিসি ইবনে মিজান আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্পর্শকাতর এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সমঅধিকারের পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ এবং সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সমান নিরাপত্তা, সমান স্বাধীনতা এবং সমান মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন একথা বলেন।

সকাল ৬ টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। পরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। একইসঙ্গে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা। সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মাহদী আমিন এ সময় বলেন, 'আজ আমরা এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে, আর তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি।'

তিনি সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।

দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই এই উৎসবের আনন্দ একইভাবে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক দৃঢ় বন্ধন। আমাদের মধ্যকার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।

বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জনগণের অন্তরের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই আমাদের চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সার্বিক জনকল্যাণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আর সে কারণেই আমরা বলি 'সবার আগে বাংলাদেশ'। দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মহালয়ার বার্তা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি। সবশেষে তিনি আয়োজনের সুন্দর ও সার্থকতার মাধ্যমে সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায় প্রমুখ। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে বর্তমান সরকার: চিফ হুইপ

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) ৮ম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভার প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘এ খাতে বাজেট বরাদ্দ পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ এ উদ্যোগের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে ধন্যবাদ জানান।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) ৮ম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, ‘দেশে গত দুই বছর হামের টিকাদানে ঘাটতি থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে সৃষ্ট এ পরিস্থিতির চাপ বর্তমান সরকারকে সামাল দিতে হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা মোকাবিলা এবং জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পতিত সরকার দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছেন। স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নেও সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।’

থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘মানবদেহের বৃদ্ধি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে থাইরয়েড গ্রন্থির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ রোগের প্রতিরোধ, দ্রুত নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, থাইরয়েড বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে সংসদে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ থাকলে তা বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করবেন। শিক্ষা, উদ্ভাবন ও কার্যকর উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে চিফ হুইপ বলেন, এ সম্মেলনে অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা। অনুষ্ঠানে সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ফৌজিয়া মোসলেম উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী সম্মেলনে থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যান্সার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতিজনিত রোগ এবং থাইরয়েড রোগের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ১২টি মৌখিক গবেষণাপত্র ও ১০টি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়।


নির্বাচিত

রূপপুর থেকে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রোসাটমের

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়ার মস্কোয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্রুততম সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট (ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর) থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎসংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়ার মস্কোয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ কথা জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের’ সার্বিক অগ্রগতি ও প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎসংযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ-চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করবে। বৈঠকে রোসাটমের মহাপরিচালক জানান, আগামী বছর থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হবে।

বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে পারমাণবিক শক্তি খাতের আরও সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়।


নির্বাচিত

মানবপাচার নির্মূলে ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মানবপাচার নির্মূলে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা বাড়লেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। গত বছরগুলোর তুলনায় মানবপাচারবিরোধী উদ্যোগ জোরদার হলেও অপরাধীদের দণ্ডিত করার সংখ্যা কমেছে। দেশের অভ্যন্তরে মানবপাচার বন্ধেও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট’-এ বলা হয়েছে, মানবপাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। আগের প্রতিবেদনের সময়কালের তুলনায় সামগ্রিক অগ্রগতি হওয়ায় বাংলাদেশকে এবারও ‘টায়ার-২’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবপাচার মোকাবিলায় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করেছে। পাশাপাশি মানবপাচারের ঘটনায় তদন্ত ও মামলা বাড়ানো, অপরাধ শনাক্তকরণ এবং ভুক্তভোগী চিহ্নিত করার নির্দেশিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দ্রুত সুরক্ষাসেবা দিতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। মানবপাচারের ঝুঁকি কমাতে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা জোরদার করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। তবে এসব অগ্রগতির পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার এবার কমসংখ্যক মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভ্রমণ গাইড বাংলাদেশ এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি আদায়ের প্রচলন বন্ধ হয়নি। এসব ফি দিতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমাস ‘টমি’ পিগট বলেছেন, মানবপাচার স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হানে—যে মূল্যবোধগুলো আমেরিকার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অপরাধী সংগঠন ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থাগুলো কীভাবে আর্থিক লাভের জন্য এই ঘৃণ্য অপরাধের নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।’

মানবপাচারকারীদের শাস্তি দিতে এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ সরকারগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

পিগট বলেন, ‘মানবপাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের বিদ্যমান উপায় ব্যবহার করবে।’


নির্বাচিত

২০৩৪ সালের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে হবে: ববি হাজ্জাজ

ছবি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এসব দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানী ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) টেসলবিডি ও ইউল্যাবের যৌথ আয়োজনে ২য় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্স ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি জ্ঞান অর্জন করতে এবং নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি না হলে শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষার্থীকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তিনি অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন।’

ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার ঘাটতি তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখানো ও শেখার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর জন্য শিক্ষকদের নিজেদেরও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজিতে পড়াশোনা করেও অনেক শিক্ষার্থীর সাবলীলভাবে কথা বলা, লিখিতভাবে ভাব প্রকাশ করা এবং পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

ইউল্যাবের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলিইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাইজেল কিলিক এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। এ ছাড়া টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্য এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণাকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যেসব এজেন্সি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ২৫টি ট্রলি হস্তান্তরকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “প্রবাসীদের বিমানবন্দর সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘প্রবাসী কার্ড’ ও ‘প্রবাসী ব্যাংক’সহ নানা খাতের সেবা নিয়ে সরকার কাজ করছে।” এ সময় প্রবাসীদের সমস্যার কথা শুনতে সপ্তাহে অন্তত একদিন সময় বরাদ্দ রাখতে সিলেট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবী যতদিন থাকবে, সমস্যাও ততদিন থাকবে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৮ মাসে ধাপে ধাপে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত ও সহজ সেবা নিশ্চিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

কারিগরি শিক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে কারিগরি দক্ষতা জরুরি। এজন্য দেশের প্রতিটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ সেই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতেও কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবর রব চৌধুরী ফয়সল উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ভারতে পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে। দুই দিনব্যাপী এই দ্বিপক্ষীয় সভায় বাণিজ্যের নানা প্রতিবন্ধকতা নিরসন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাফটা (SAFTA) চুক্তির আওতায় বর্তমানে ভারতের বাজারে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, এলডিসি উত্তরণের পরও তা বহাল রাখা প্রয়োজন। এছাড়া বিআইএস (BIS) সনদপ্রাপ্তি সহজীকরণ, পণ্যের মানে সামঞ্জস্য বজায় রাখা এবং ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত বন্দরগুলোতে পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাবও উঠে আসে।

অন্যদিকে ভারত তাদের দিক থেকে তুলা ও সুতাসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি, আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সার্বিক রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং সীমান্ত হাট সচল করার বিষয়টিও ভারতের মূল এজেন্ডায় ছিল।

ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশই আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের এ আলোচনার ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সময় ও খরচ কমে আসবে এবং বিদ্যমান সমস্যার টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

মানসিক অসুস্থতা ঘিরে ভয় ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ফাইল ছবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আপডেটেড ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:২১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মানসিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সমাজে বিরাজমান ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 'বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬' উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই গুরুত্ব আরোপ করেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল দৃশ্যত নীরোগ বা শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখাই স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার সমন্বিত অবস্থাই হলো প্রকৃত স্বাস্থ্য। ফলে কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা বা উপেক্ষা করার অবকাশ নেই।

মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল চিকিৎসার বিষয় না রেখে এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত বলে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে অবহেলা না করে তাঁর কথা শোনা, সহানুভূতি নিয়ে পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা সুগম করার ওপর তিনি জোর দেন। এ বছরের দিবসের প্রতিপাদ্য তুলে ধরে তিনি জানান, যারা এ ধরনের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সহমর্মিতার সঙ্গে গ্রহণ করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।

তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের বিষয়টিও বাণীতে উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা, টেলি-কাউন্সেলিং সুবিধা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সরকারি হাসপাতালে পেশাজীবীদের সক্ষমতা বাড়ানো। এছাড়া গর্ভবতী মা, শিশু-কিশোরদের সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক সেবা জোরদারে সরকার বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের আরও আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। সরকার, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়, যেখানে মানসিক সুস্থতা নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বা লজ্জা বোধ করবে না।


নির্বাচিত

জুলাই অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান খালেদা জিয়ার, মেট্রোর পিলারে হবে গ্রাফিতি: ডিএনসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরিতে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার, তাই মেট্রোরেলের পিলারে তাঁর ছবি আঁকা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ডিএনসিসি আয়োজিত জুলাই গ্রাফিতি পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি নির্মাণে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য হওয়ায় মেট্রোরেলের পিলারে তাঁর প্রতিকৃতি স্থান পাবে। এই পদক্ষেপে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা দলীয়করণ করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের সবার অবদানকেই গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

একই সঙ্গে নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকার প্রতিটি ফুটপাত অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হবে এবং স্থানীয় নাগরিকদের সহযোগিতায় সব জটিলতা নিরসন করা হবে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল হকারদের উসকানি দিয়ে পুনরায় ফুটপাত দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করেন যে, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো অপচেষ্টা চালানো হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।


নির্বাচিত

অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে হবে: ববি হাজ্জাজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, কর্মক্ষম এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) অডিটোরিয়ামে যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘২য় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জন কর্মক্ষেত্রে সফলতার নিশ্চয়তা দেয় না; শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করা আবশ্যক। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে এসব প্রায়োগিক যোগ্যতায় প্রস্তুত করা সম্ভব হলে তারাই ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শিক্ষার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষ করেও অনেক শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে ভাব প্রকাশ ও পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার বদলে ব্যবহারিক প্রয়োগ ও কার্যকর যোগাযোগের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার সিংহভাগ ইংরেজিতে পরিচালিত হওয়ায় ভাষাগত দক্ষতা না থাকলে মেধাবীরাও কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। তবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পাশাপাশি মাতৃভাষায় আধুনিক জ্ঞান ও কারিগরি পরিভাষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

তরুণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান, টেকসই আয় ও উদ্যোক্তা হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ পেলে যুবসমাজ বিপথগামিতা এড়িয়ে উৎপাদনশীল কার্যক্রমে নিয়োজিত হতে পারবে। ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলিইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক এবং বিশিষ্ট লেখক আনিসুল হক। সম্মেলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নেন।


নির্বাচিত

পোস্টাল ভোটিংয়ের ‘বাংলাদেশ মডেল’ গ্রহণে আগ্রহী নেপাল-শ্রীলঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ভোটিংয়ের আওতায় এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রযুক্তিভিত্তিক ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম’ সম্পূর্ণরূপে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে (‘মেড ইন বাংলাদেশ’)। বিশ্বের কাছে সম্পূর্ণ নতুন এই উদ্ভাবন সফলভাবে বাস্তবায়ন করে নজর কেড়েছে বাংলাদেশ। এবার এই প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, অন্য কোনো দেশ এ প্রযুক্তি গ্রহণ করলে কারিগরি নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির টেকসই সমাধান সহজ হবে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিটির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’ (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসস’কে বলেন, ‘পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে এক অনন্য উদ্ভাবন। পুরোপুরি বাংলাদেশে তৈরি এই ব্যবস্থার বৈশ্বিক গুরুত্ব অনেক। নেপালের প্রতিনিধিদল স্বউদ্যোগে এসেছে এবং তারা এ বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক। শুধু নেপাল নয়, গত সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফরকালেও আমরা তাদের আগ্রহ দেখেছি। দেশের তৈরি এমন একটি প্রযুক্তি বিদেশে সমাদৃত হওয়া প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য গর্বের।’

সালীম আহমাদ খান আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ও উপ-নির্বাচনে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার আলোকে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি বড় সম্পদ, যা ভবিষ্যতে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং বিষয়ে বাংলাদেশে অভিজ্ঞতা নিতে আসা নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. রাজিব সুব্বা বলেন, ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই মডেল অত্যন্ত সফল। বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ থেকে কারিগরি সহায়তা পেলে আমরা সম্মানিত বোধ করব।

নেপালের আগামী প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং চালু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ড. রাজিব সুব্বা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক প্রবাসে থেকে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখেন। নেপালের প্রেক্ষাপটও একই রকম। তাই দেশের বাইরে থাকা নাগরিকদের ভোটদান নিশ্চিত করতে আমরা ‘বাংলাদেশ মডেল’ গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আগে এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছে বলে নেপাল ভুলগুলো এড়িয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে ভোটার শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। এছাড়া ডাকযোগে কাগজপত্র আদান-প্রদানে বিলম্বের ঝুঁকি, কাঠমান্ডুতে পৌঁছাতে সময়ের অনিশ্চয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

সফরের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে ড. রাজিব সুব্বা বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিভিত্তিক পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া সরাসরি দেখা ও জানা। বাংলাদেশ দলের সাথে এটি আমাদের তৃতীয় দফা আলোচনা। আমরা পরবর্তী দেড় বছরের মধ্যে যেকোনো একটি প্রাদেশিক নির্বাচনে এ ব্যবস্থা চালু করতে চাই।’

তবে বাংলাদেশের মডেলটি হুবহু গ্রহণ করা হবে কি না, তা গবেষণার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের মডেলটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে। সবচেয়ে বড় দিক হলো, এই প্রযুক্তির সফটওয়্যার, কোড ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিজের হাতে থাকে। প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয় না, যা অন্যান্য ব্যবস্থার চেয়ে আলাদা।’

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা নিতে নেপাল নির্বাচন কমিশনের ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ-এর নেতৃত্বে ইসির ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেপালের প্রতিনিধিদল পোস্টাল ভোটিংয়ের অপারেশনাল ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- নেপালের নির্বাচন কমিশনার ড. জানকী কুমারী তুলাধর, সচিব কৃষ্ণ প্রসাদ কাপরী, সিনিয়র কম্পিউটার অফিসার অনুপ নৌপানে, ডেপুটি অ্যাটর্নি কমলা কাফলে এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধি প্রভাত কুমার।

ইসির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন অনুমোদিত ভোটারের মধ্যে ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন ভোট দিয়েছেন (৮০.১১ শতাংশ)। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ভোট (৭৬.২৮ শতাংশ), যার মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি (৭০.২৫ শতাংশ)।

এর মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালটের মধ্যে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২০৫টি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৮টি ভোট গ্রহণ করেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

বিশ্ব ডিম দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ডিমের ভূমিকা, পুষ্টিগুণ এবং সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রোটিন দ্যাট পাওয়ার্স অ্যান্ড প্রোটেক্টস’ অর্থাৎ ‘যে প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রথম এই দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় এবার বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে।

সুলভ ও সহজলভ্য পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ডিমের গুরুত্ব অপরিসীম। মানবদেহের পেশি গঠন, সার্বিক বৃদ্ধি, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে ডিমে বিদ্যমান উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং কোলিন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু-কিশোর ও প্রবীণদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ডিম একটি আদর্শ খাদ্য উপাদান। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে ডিমের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও মাছসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা আবশ্যক। একই সঙ্গে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়াতে ডিমের পরিচ্ছন্ন সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে রান্না করার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যগত সুবিধার বাইরেও ডিমের উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়া দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পোলট্রি খামারি, পশুখাদ্য প্রস্তুতকারক, পরিবহনকর্মী ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পোলট্রি খাদ্যের মূল্য, রোগের প্রাদুর্ভাব ও বাজারব্যবস্থার প্রভাব সরাসরি ডিমের সরবরাহ ও দামের ওপর পড়ে। সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিমের মূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যেমন জরুরি, তেমনি খামারিদের সুরক্ষা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের বহুমুখী পুষ্টির ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং উৎপাদন সংশ্লিষ্টদের অবদানের স্বীকৃতি দিতেই দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।


নির্বাচিত

banner close