সারা দেশে ভয়াবহভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রভাব। গত কয়েক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগের প্রকোপ। এর মধ্যে রাজধানীর জুরাইন-কদমতলী এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এসব কারণে এই এলাকায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলবে।
জুরাইনের কমিশনার রোড, মিষ্টির দোকান, বিড়ি ফ্যাক্টরি, আলমবাগ, মুরাদপুর, ঋষিপাড়া, নামা শ্যামপুর, শনির আখড়া, ধোলাইরপাড় ও দনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর ভায়াবহ প্রকোপ। স্থানীয় হাসপাতাল ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। বিশেষ করে গত ১৫ দিন আগে থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যত রোগী সুস্থ হচ্ছেন, আক্রান্ত হচ্ছেন তার চেয়েও অনেক বেশি। কেউ কেউ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে বেশির ভাগ রোগীই চিকিৎসা নিচ্ছেন সরকারি হাসপাতালগুলোতে।
জুরাইন আদ-দ্বীন হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, নারী-পুরুষ ও শিশুসহ গত ১২ জুলাই (বুধবার) পর্যন্ত ৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর গত ১ জুলাই থেকে ১০ বছর বয়সী ও তার নিচে ১২৫ জন শিশু ও ৮৪ জন নারী-পুরুষ অর্থাৎ ২০৯ জন এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিনই কিছু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন এবং ভর্তি হতে আসছেন তার চেয়ে বেশি রোগী। হাসপাতালে শয্যা পরিপূর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।
দনিয়ার ৩৫ বছর বয়সের গৃহিণী আনোয়ারা বেগম চার দিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর স্বামী হাবিব দেওয়ান জানান, কয়েক দিন আগে তাঁর স্ত্রীর জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা, বমি বমি ভাব ও দুর্বলতা অনুভব করেন। পরীক্ষা করে দেখা যায়, ডেঙ্গু হয়েছে। প্রথমে কয়েক দিন বাসায় চিকিৎসা নেয়া হয়, কিন্তু রক্তের প্লাটিলেট ১৮ হাজারে নেমে যাওয়ায় দ্রুত তাকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জুরাইনের মুরাদপুর জিরো পয়েন্ট এলাকার আড়াই বছরের শিশু তাসরীফের বাবা তানভীর জানান, গত শুক্রবার শিশুটি জ্বরে আক্রান্ত হয়। ওষুধ খাওয়ার দুই দিন পর জ্বর কমে যায়। কিন্তু তার শরীরের দুর্বলতা বেড়ে যায়। সন্দেহ হলে পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ে। পরে হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ বিষয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রোগীর লক্ষণ বুঝে ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেয়া হয়। এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। ডেঙ্গুর জন্য জ্বর হয় ও রক্তের প্লাস্টিলেট কমে যায়। প্লাটিলেট নিয়ন্ত্রণে রাখাই হলো একমাত্র চিকিৎসা। তবে ডেঙ্গু একটি মৌসুমি রোগ। এটা আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ করলে এ রোগীর সংখ্যা অনেক কমে যাবে। আমাদেরও সচেতন হওয়া উচিত।’
জুরাইনের সাউথ ইস্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রওশন বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন জ্বরের রোগী আসেন ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। তবে আমাদের এখানে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা দেয়া হয় না।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালভেদে খরচ হচ্ছে ৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। নিম্নবিত্ত অনেকের পক্ষেই এত টাকা দিয়ে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সরেজমিনে দেখা যায়, জুরাইনসহ কদমতলীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ভাঙাচোরা ও পানি জমে থাকে। অনেক রাস্তার পাশের ড্রেনগুলোতে ঢাকনা নেই। আলমবাগের বাসিন্দা জুয়েল বলেন, ‘আমাদের এখানে এমনিতেই সারা বছর পানি থাকে। আর বৃষ্টি হলে পুরো এলাকা তলিয়ে যায়। দীর্ঘদিন সেই পানি জমে থাকে। তাই এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি।’ জুরাইন মেডিকেল রোডের বাসিন্দা রাসেল বলেন, ‘সারা বছর এই এলাকার অনেক রাস্তায় পানি জমে থাকে, রয়েছে খোলা ড্রেন। সিটি করপোরেশন থেকে ড্রেনগুলোতে ওষুধ দিতেও দেখা যায়নি।’
ডেঙ্গু রোগীর বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। এলাকাবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি প্রতিনিয়ত মসজিদে ও মাইকে মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছি।’
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফজলে শামসুল কবির দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অফিসে এসেই প্রথম মেয়র প্রতিদিন জিজ্ঞেস করেন, জুরাইন-যাত্রাবাড়ী কী অবস্থা, কী করলেন। মেয়রের নির্দেশে এই এলাকায় সর্বোচ্চ এফোর্ড দেয়া হচ্ছে। রমজান মাস থেকে কোরবানির ঈদ পর্যন্ত গত তিন মাসে আমরা ১৬টি ক্রাশ প্রোগ্রাম করেছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘোষিত ডিএসসিসির ২৮টিসহ ৩০ ওয়ার্ডে গত ৪-৬ জুলাই পর্যন্ত ৩ দিন এবং ৯-১১ জুলাই পর্যন্ত ৩ দিন চিরুনি অভিযান চালিয়েছি। এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত আগামী তিন মাস এই বিশেষ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে এ বিষয়ে এলাকাবাসীকেও সচেতন হতে হবে।’
নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এছাড়া 'নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা' (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজতর করার জন্য ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের কার্যকর সহায়তার প্রশংসা করেন। পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জাতিসংঘের সাথে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান যে, বাংলাদেশ 'উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি' (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মিশন এলাকাগুলোতে নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে জাতিসংঘের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাইতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই ইউনিটগুলো সোয়াত, সাইবার ক্রাইম তদন্ত এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী।
হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন এবং আগামী ১৫-১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ আলোচনার জন্য জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অবস্থান করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য আরও ত্বরান্বিত হবে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস ও শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।
টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তত ১৪ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে সাময়িকভাবে বন্যা ও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোমবার সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ পূর্বাভাস প্রকাশ করে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা ও মেঘালয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও জাদুকাটা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী কয়েক দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি কমে পরবর্তী তিন দিন আবার বাড়তে পারে। তবে নদীটি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মার পানিও স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে কিছুটা বাড়তে পারে, তবে সেখানেও আপাতত বিপদসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।
রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, এরপর আবার পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া বান্দরবানের লামায় ২০৬ মিলিমিটার, কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬২ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের আর কে এম সোহরায় ৭৭ মিলিমিটার, মাওসিনরামে ৬৯ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ৫৭ মিলিমিটার এবং মাওফ্ল্যাংয়ে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের কোনো নদীই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল না বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে সংস্থাটি পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে-কেয়ার সেন্টার) শুধু শিশুদের নিরাপদে রাখার স্থান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মানসম্মত দিবাযত্ন কেন্দ্রের অভাবে কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানদের নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর পানি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘শিশুর প্রাথমিক পরিচর্যা ও বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা), বেলা ১১টায় ভূমি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং সাড়ে ১১টায় পানি ভবনের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ নারী এবং ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ মানুষের বয়স শূন্য থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
কর্মজীবী মায়েদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি নিজের স্কুলজীবনের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো অনেক কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। বর্তমানে ১২৩টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৬০ জন শিশুকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মোট শিশুর মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশের চাহিদা পূরণ করছে।’
তিনি বলেন, এর ফলে অনেক শিশু প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম, সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধুলা এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানসম্মত ও সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং শৈশবকালীন বিকাশ শিশুদের জ্ঞানীয় ও সামাজিক বিকাশের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
তিনি বলেন, শৈশবই মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়েই সততা, নিষ্ঠা, শান্তি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিকতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
তিনি আরো বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীরা একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখছেন, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগও সৃষ্টি করছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও দেশব্যাপী উদযাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি-২০১১-এ কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা-উপধারা সংযোজন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুদের চলার পথে, গণপরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ ও ধৈর্যের সঙ্গে শোনেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার পরিবারেই কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেও তাদের প্রতি শোভন আচরণ করা উচিত। গ্রাম কিংবা শহর-সব জায়গাতেই ছেলে সন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা কাম্য নয়। দেশের অধিকাংশ নারী অপুষ্টিতে ভোগেন। তারা সবার শেষে খাবার খান, সবার পরে ঘুমাতে যান এবং সবার আগে ঘুম থেকে ওঠেন। পরিবারের জন্য তারা নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে নিরলসভাবে কাজ করেন। তাই তাদের প্রতি কোনো ধরনের অশোভন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নারীরা সামাজিকভাবে অনেক এগিয়ে আছেন।’
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে আইন ও বিধিমালার সংশোধনের বিষয়গুলো ককাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সবাই মিলে এ বিষয়ে কাজ করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কন্যাসন্তানের জনক। কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন নীতিগত ও আইনগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনসমূহকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সাক্ষাৎকালে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কন্যাশিশুবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় সংসদ, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে তার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় উভয় পক্ষ নারী ও কন্যাশিশুর সার্বিক কল্যাণ, অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি, মিটার ভাড়া এবং প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন দিক নিয়ে তৈরি বিভ্রান্তি দূর করতে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সোমবার এই বক্তব্য দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রাহকদের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানে বিতরণ সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তিনি নিজে এটি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জুন ২০২৬ থেকে নতুন ট্যারিফ কার্যকর করেছে। তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আগের হার বহাল রাখা হয়েছে। মূল্য সমন্বয়ের ফলে একই পরিমাণ অর্থ রিচার্জের বিপরীতে আগের চেয়ে কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যা অনেক গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে হতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব গ্রাহক দাবি করছেন অতীতে একই ব্যবহারে কম বিল আসত, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন যে—এই মিটারগুলো পূর্ববর্তী মাসগুলোতেও একই গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিমাপ করেছে। মিটারে কোনো কারিগরি ত্রুটি থাকলে তা নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই হঠাৎ শুরু হওয়ার সুযোগ নেই। অতএব, বিল বৃদ্ধির মূল কারণ মিটারের ত্রুটি নয়, বরং নতুন ট্যারিফ হারের প্রভাব।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টিপাত কম হওয়া, ঈদুল আযহা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি পরীক্ষার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাসাবাড়িতে এসি, ফ্যান, ফ্রিজের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ও ইলেকট্রিক কেটলির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক গ্রাহক সর্বোচ্চ ট্যারিফ স্ল্যাবে (৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে) পৌঁছে গেছেন, যা বিল বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে, কিছু ক্ষেত্রে কিছু দাপ্তরিক ভুল পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ প্রতিকার দেয়া হচ্ছে।
মিটার ভাড়া নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিতরণ সংস্থাগুলো এককালীন মূল্য পরিশোধ বা কিস্তিতে মিটার সরবরাহ করে। যারা এককালীন মূল্য পরিশোধ করেছেন, তাদের থেকে কোনো কিস্তি নেওয়া হয় না। শুধুমাত্র কিস্তিতে মিটার নেওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ফেজ মিটারের জন্য মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা কিস্তি নেওয়া হয়। চারটি সংস্থা গ্রাহকদের বাজার থেকে অনুমোদিত প্রিপেইড মিটার কেনার সুযোগও দিচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মিটার ভাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বিলম্বে বিল পরিশোধের জরিমানা প্রসঙ্গে জানানো হয়, পূর্বে ২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বিলম্ব মাশুল ধরা হলেও বিইআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে মোট বিলের ওপর ৫ শতাংশ হারে এককালীন একবারই বিলম্ব মাশুল নেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ আশ্বস্ত করেছে, অধিকাংশ অভিযোগ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো গ্রাহকের বিল নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগ পুনরায় আশ্বস্ত করতে চায়, জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যুৎ খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধুমাত্র গ্রাহকের মন্তব্যের উপর নির্ভর না করে সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরগণ বিদ্যুৎ বিল, মিটার ভাড়া ইত্যাদি সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান পর্যালোচনা ও বিল যাচাই করে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে পারলে তা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একটি স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
পরিশেষে, গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে বিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষতি করলে তা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাবে এবং জনদুর্ভোগ বাড়াবে বলে সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
গত জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। একইসঙ্গে অস্বস্তি কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিতেও। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবিএসের সবশেষ তথ্য বলছে, জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে, গত মে মাসে যেটি ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
অস্বস্তি কমেছে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতেও। জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে। মে মাসে যেটি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ।
এদিকে মে মাসে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থাকলেও জুন মাসে সেটি কমে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কমেছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ।
এছাড়া জুন মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
জুন মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।
দেশের সব মাদ্রাসায় দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলার আয়োজন নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে যেসব মাদ্রাসায় শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দিতে এবং শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সোমবার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার দেশের তৃণমূল পর্যায়ে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াচর্চার সম্প্রসারণে বদ্ধপরিকর।
এতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদ্রাসার শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে দৈনিক সমাবেশ (পিটি) ও খেলাধুলার আয়োজন করবেন এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন।
এ ছাড়া যেসব মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদ শূন্য রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে খেলাধুলায় পারদর্শী ও উপযুক্ত একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে এ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী শূন্য পদ দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক সংকটের জের ধরে বাংলাদেশে চলতি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এনার্জি। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত বিশেষজ্ঞরা।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যমান সব সমস্যার মূল উৎস এই যুদ্ধ। তবে এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ বসে নেই। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনা এবং অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সাথে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তিসহ বিকল্প উৎসগুলো অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
দেশের জন্য যে অপশনটি সবচেয়ে অনুকূল বাণিজ্যিক শর্ত দেবে, সেটিই বেছে নেওয়া হবে। কাতারএনার্জি অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ কমালেও তারা যথাসম্ভব জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করবে।
গত বছর বাংলাদেশের আমদানিকৃত প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজির মধ্যে ৪১.৫ লাখ টনই এসেছে কাতার থেকে, যা দেশটিকে বাংলাদেশের শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারীতে পরিণত করেছে। কাতার এনার্জির সাথে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, যার একটির আওতায় বার্ষিক ২৫ লাখ টন এবং অন্যটির আওতায় ১৮ লাখ টন এলএনজি পাওয়ার কথা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ কাতার থেকে ১৯টি কার্গো এলএনজি পেয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর কাতারের রাস লাফান রপ্তানি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে আর কোনো কার্গো আসেনি।
বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক খালি এলএনজি ট্যাঙ্কার এই প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হতে পেরেছে। কাতার থেকে কিছু কার্গো এই প্রণালী পার হতে পারলেও তার কোনোটিই বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।
যার ফলে, অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা মেটাতে গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে রেকর্ড ৩৫টি কার্গো এলএনজি আমদানি করতে বাধ্য হয়েছে। কাতার এনার্জির এই সাময়িক সরবরাহ হ্রাসের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘দেশের রাজনীতিকে যদি অর্থনীতিবান্ধব কাঠামোর মধ্যে আনা না যায়, তবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাণিজ্যের উন্নয়নসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কেবল তাত্ত্বিক তর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে। যেকোনো তাত্ত্বিক আলোচনাকে জনগণের কল্যাণে রূপান্তর করতে হলে একটি রাজনৈতিক শক্তির কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন।’
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর দেশের সামনে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তা কমবে না; বরং বাড়বে। সরকার ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে এই উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ জানিয়েছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো এই বর্ধিত সময়কে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতিবান্ধব রাজনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে আমাদের বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ হয়তো কম, কিন্তু অন্যান্য রপ্তানি গন্তব্যে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই বর্ধিত তিন বছরের মধ্যে আমাদের নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা পথনকশা তৈরি করতে হবে।’
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দেশের মানবসম্পদকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের কল্যাণে রাজনীতির অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামত করা।’
র্যাপিডের এই কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামতগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তথ্যমন্ত্রী।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগ ও শাস্তির বিধান কার্যকর রেখে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
আজ (সোমবার) জাতীয় সংসদ ভবনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর সহযোগিতায় The Enforced Disappearance Prevention and Redress Act, 2026 এবং The National Human Rights Commission Act, 2026-এর খসড়া বিষয়ে কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও দীর্ঘদিন অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করলে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। শাস্তির বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বহু মানুষ স্বজন হারিয়েও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বাবা, ভাই কিংবা বোনের হত্যার বিচার পেতে অনেককে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আইন সংস্কার প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক মতামতকে সরকার স্বাগত জানায়। আইন ও নীতিমালার প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অবদানেরও তিনি প্রশংসা করেন।
সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মুলার, ইউএনএইচসিএইচআরের মানবাধিকার কর্মকর্তা ইফতেখার সৈয়দ আলী, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লইস বারবার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালী দয়ারত্নে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিংসহ কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রাপ্ত বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতিও নিজ নিজ বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা দেওয়ার সবিনয় আহ্বান জানিয়েছেন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল একটা মিটিং হয়েছে। একজন প্রধানমন্ত্রী, অনেক বড় প্রশ্ন…। একটা দেশের প্রশাসনিক প্রধান ব্যক্তি, উনি আমাদের মিটিংয়ে কী বলেছেন জানেন? খুব বিনয়ের সঙ্গে বলেছেন— মন্ত্রী মহোদয়গণ, আমি একটা কথা বলবো আজকে, বিনয় করে বলা, আপনারা রাখতেও পারেন আমার কথাটা, নাও রাখতে পারেন।’
প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি কিন্তু হুবহু কোট করছি—রাখতেও পারেন আমার কথাটা নাও রাখতে পারেন। তবে আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে দেখেছি, আপনাদের আমার বলা উচিত, এখন আপনাদের ইচ্ছা! যেটা বলব, আমি এটা করছি। আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ বেতন সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন গরিব-মিসকিন মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে খরচ করার জন্য। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারতেছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন একাউন্টে আসে আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দেই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকাটা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর এমন উদার ও বিনয়ী প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার সকল সদস্য ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’
গরমে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল কেন অস্বাভাবিক বেশি আসছে এবং এর পেছনে কোনো অসাধু কর্মকর্তার হাত রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো প্রকল্পের জন্য কৃষিজমি নষ্ট করা হবে না। তিনি বলেন, “আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জ্বালানি আমদানির চাপ কমাতে আমাদের বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতেই হবে।”
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া ঋণের বোঝা এখন বর্তমান সরকারকে বইতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় পিডিবিকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা ও অপচয় মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাইভেট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ করতে না পারলে তারা জ্বালানি কিনতে পারে না, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়।”
খাতের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে ইতিমধ্যে একটি কারিগরি (টেকনিক্যাল) দল গঠন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পিডিবির একজন সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই দল বিভিন্ন পাওয়ার স্টেশন পরিদর্শন করে বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে এসির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবাই যে সৎ আমি তা বলছি না। এসব বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন ও কন্টেন্ট তৈরিতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। এছাড়া সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বিজিএমইএ-র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং পরিবেশ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিস্তারিত তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি নিজেও বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সুবিধাজনক সময়ে ক্রাউন প্রিন্স বাংলাদেশ সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে একটি কৌশলগত অবস্থানে নিয়ে যেতে চায়। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে এই সফরের আগ্রহ সম্পর্কের এক নতুন উচ্চতা ও তাৎপর্যকে তুলে ধরছে।
প্রধানমন্ত্রী কবে নাগাদ সৌদি আরব সফর করতে পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি, যা পরবর্তী আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমের পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। দুই দেশের এই কূটনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।