ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২৬ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
রোববার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (ইকে-৫৮৪) তল্লাশি করে এসব সোনা উদ্ধার করেন ঢাকা কাস্টম হাউসসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা।
তারা জানান, ফ্লাইটটির ১১টি সিটের নিচে ৯৮টি নীল রঙের স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ছিল ডিম্বাকৃতির এসব সোনার তরল পেস্ট।
বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টম হাউস ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা ওই ফ্লাইটে যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব সোনা বের করে আনেন।
টোকিওতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় জাপানের সরকারপ্রধানের দাপ্তরিক কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এই ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকপরবর্তী যৌথ ব্রিফিংয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ঢাকার সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও সুসংহত করতে আগ্রহী টোকিও।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বেগবান করার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। সেখানে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং বাজানো হয় উভয় দেশের জাতীয় সংগীত। অভিবাদন গ্রহণের পর তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন।
আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করে একান্ত বৈঠকে বসেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ‘কানতেই’-তে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী, যেখানে প্রথাগত শুভেচ্ছা পানপাত্র বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় নেতা বক্তব্য দেন। শীর্ষ এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক সম্পর্ক, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক নানা প্রসঙ্গের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখী সড়ক সাজানো হয়েছিল দুই দেশের জাতীয় পতাকায়।
চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ছাড়াও স্থানীয় শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিনেই তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
তারো আসোর সঙ্গে আলোচনায় ২০০৬ সালের পূর্ববর্তী সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বলে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে মারুবেনির শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কাফকোর আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় একটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাইকা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়ানো, দক্ষতা অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলা এবং কৃষি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পায়।
এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর মালয়েশিয়া, চীন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্ক সফরের ধারাবাহিকতায় এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।
রাশিয়া থেকে আনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) নতুন আরেকটি বহর সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি যানবাহন প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে ৪১ টন জ্বালানিসমৃদ্ধ রাশিয়ার একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিশেষায়িত ওই উড়োজাহাজে ১২টি টিপিএসের মাধ্যমে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছিল।
দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সুসংহত করার লক্ষ্যে শীর্ষ বৈঠকের প্রাক্কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওস্থ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-এ পৌঁছালে তাঁকে এ আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় সামরিক ব্যান্ডে উভয় দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সালাম গ্রহণ ও গার্ড পরিদর্শন করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পারস্পরিক পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর কান্তেই ভবনের পরিদর্শন বইয়ে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শেষে দুই সরকারপ্রধান একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক পরবর্তী সময়ে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন।
শীর্ষ এ বৈঠকে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি হস্তান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত মতবিনিময় স্থান পায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কান্তেই কার্যালয় অভিমুখী প্রধান সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা স্থাপন করা হয়।
এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী, যেখানে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী সাবেক জাপানি প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় মৈত্রী লীগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, আইসিটি, জ্বালানি এবং কাফকোর আধুনিকায়নসহ দেশে দ্বিতীয় সার কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিতকরণ, একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলা এবং কৃষির আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর এ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ও চীনের পর এটি সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের তৃতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছে।
দুই দেশের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।
উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আথর্-সামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
সরকারি সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট-দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকা শক্তিতে রূপান্তর করা।’
জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলি, যা আমাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে।’
এর আগে বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন। সূত্র: বাসস
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর থেকে আইবাসে হালনাগাদ তথ্য পূরণ করছেন কর্মচারীরা। এতে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বাড়তি টাকা পেলেও ভাতা বাড়ছে না। সম্প্রতি জারি করা প্রজ্ঞাপনে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩০ জুন যে হারে ভাতা দেওয়া হবে, আপাতত সেই হারই বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘মনিটরিং জোরদার না করলে এবং দুর্নীতিবাজদের কঠোরভাবে দমন না করলে মাসিক বেতন এক কোটি টাকা করলেও যারা দুর্নীতি করেন, তারা তা করতেই থাকবেন। আর যারা দুর্নীতি করেন না, তারা করবেন না। বেতন বাড়ানো ভালো কথা। এটি একেবারেই প্রয়োজন ছিল। তবে এখন দুর্নীতিবাজদের ধরতে হবে। তা না হলে বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে, এমন ধারণা একেবারেই অলীক।’
তবে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পাশাপাশি এর সুফল কতটা মিলছে, তা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী জানান, এ সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হবে, তা বিচার-বিবেচনা করা উচিত। এর প্রভাব সবার ওপর সমান হবে না, বরং ভিন্ন ভিন্ন হবে। সরকারি কর্মকর্তা দুই লাখ বা তিন লাখ, আর সারা দেশের মানুষের সংখ্যা ১৭ কোটি। ফলে এর কারণে অর্থের সরবরাহ বা মানি সাপ্লাই এতটা বেড়ে যাবে যে মূল্যস্ফীতি হবে, বিষয়টি এমন নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, মানি সাপ্লাই কিছুটা বাড়বে; কিন্তু তা এমন পর্যায়ে বাড়বে না, যার কারণে মূল্যস্ফীতিকে এ সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। তাই মূল্যস্ফীতির ওপর যতটুকু প্রভাব পড়ার কথা, বাস্তবে ততটুকুও পড়ছে না। বরং এর প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ও সরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত।’
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখার আলোচনা তার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গাড়ি উৎপাদন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, সার উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণও সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের এই সফর করছেন তারেক রহমান। গত রোববার রাত ১২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তার ফ্লাইট নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। পরে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীকে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে নেওয়া হয়। সফর শেষে আগামী বৃহস্পতিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অর্থনীতি, বিনিয়োগ, কূটনীতি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ ছাড়া রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারাও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ উদ্যোগ: জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার ২২ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার বিষয়ে জাপানের উদ্যোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাড়ি ও অন্য উৎপাদনশিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামো খাত গুরুত্ব পেতে পারে।
বাংলাদেশে জাপানের সংশ্লিষ্টতায় গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই বিনিয়োগ উদ্যোগের ঘোষিত পরিমাণকে ইতোমধ্যে সম্পন্ন বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। পরিকল্পনাটি কতটা বাস্তবায়িত হবে, কোন খাতে কত অর্থ আসবে এবং কী সময়সীমায় প্রকল্পগুলো কার্যকর হবে, তা চুক্তি ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান: সোমবার (২৬ অক্টোবর) টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।’ বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা, নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনের উন্নয়নে জেবিসিসিইসি ও মারুবেনি করপোরেশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পাশাপাশি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের সহায়তা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
মাসুমি কাকিনোকি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়বে, জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
জাইকার সঙ্গে ঋণসহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা: সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের জ্বালানি চাহিদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো বাজেট সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আজ মঙ্গলবার শীর্ষ বৈঠক, থাকছে একাধিক কর্মসূচি: আজ মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণা প্রকাশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরকালে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হয়েছে; এর মধ্যে কয়েকটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছিল।
সফরের অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং বিভিন্ন জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় এবং নাগোয়া শহরের টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য জাপানের শিল্প ও জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করা।
ইপিএ বাস্তবায়ন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা, স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিনিয়োগের সুফল শুধু মূলধন প্রবাহে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশীয় শিল্পের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য জাপানের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অবকাঠামো উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন। ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বড় প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সামনে নতুন অর্থনৈতিক লক্ষ্য: ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। বর্তমান সফরে সেই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করে বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার মানবপাচার প্রতিরোধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে উইনরক ইন্টারন্যাশনাল’র গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাকসোদা মাকসুদি সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ডিজিটাল এনআরএম প্ল্যাটর্ফম এবং মানবপাচারের শিকার ভিকটিমদের টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মানব পাচারের শিকার ভিকটিমদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জাতীয় রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) এবং মানবপাচার প্রতিরোধ তহবিল কার্যকরভাবে পরিচালনা করছে। এ সংক্রান্ত এনজিও কার্যক্রম ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে।’
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নামে সাইবার স্পেস ও বিভিন্ন ভুয়া অনলাইন জব অফারের মাধ্যমে সংঘটিত জালিয়াতি ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান।
উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট মাকসোদা মাকসুদি বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে ২০০৮ সাল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এবং আসন্ন ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনপিএ) বাস্তবায়নে উইনরক-এর পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রজেক্ট ডিরেক্টর দীপ্তা রক্ষিত ও নাসিরউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমাদের মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সম্প্রতি জারি হওয়া ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ এর আওতায় প্রথমবারের মতো মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন পরিদর্শন করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ পরিদর্শনে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সুযোগ পান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি গুরুজন ও শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করার পাশাপাশি সন্তানদের জন্য বাবা-মায়ের আত্মত্যাগের কথা স্মরণে রেখে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বাবা-মা, শিক্ষক ও মুরুব্বিদের সবসময় সম্মান করতে হবে। নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে যেমন বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, তেমনি জাতির প্রত্যাশাও পূরণ হবে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গভবন শুধু একটি ভবন নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতীক ও ইতিহাসের সাক্ষী।’ ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বঙ্গভবন পরিদর্শনে নিয়ে আসা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গভবন নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে যেন তোমাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, সে জন্যই আজ তোমাদের এই পরিদর্শন।’
এ সময় রাষ্ট্রপতি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ হয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ, বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণা এবং দক্ষ নারী কারিগরদের শ্রমে হারানো ঐতিহ্য ঢাকাই মসলিন ফিরে এসেছে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। একসময় বিশ্বজুড়ে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই সূক্ষ্ম বস্ত্র এখন গবেষণাগার ও প্রদর্শনীর গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে। আদি তুলার জাত পুনরুদ্ধার, সুতা তৈরির প্রাচীন প্রযুক্তির পুনঃপ্রবর্তন এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পকে উচ্চমূল্যের আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন পরিচিতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে শুধু ঐতিহ্যবাহী একটি শিল্পের পুনর্জাগরণ ঘটছে না, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান, কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ এবং রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্যনির্ভর বিলাসবহুল পণ্যও বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে পারবে।
ঢাকাই মসলিনের পুনরুজ্জীবনে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়। এর প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল মসলিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অতি সূক্ষ্ম সুতা উৎপাদনে সক্ষম ঐতিহাসিক ‘ফুটি কার্পাস’ তুলার জাত শনাক্ত করা এবং হারিয়ে যাওয়া বুননপ্রযুক্তি পুনরুদ্ধার করা।
গবেষকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বন্য তুলার নমুনা সংগ্রহ করেন। ঐতিহাসিক নথি, পুরোনো নমুনা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সহায়তায় আদি তুলার জাত শনাক্ত এবং তা চাষের উপযোগী করার চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি মসলিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ যন্ত্রপাতি ও প্রাচীন সুতা কাটার পদ্ধতিও পুনরায় প্রস্তুত করা হয়।
এই দীর্ঘ গবেষণার ফলে ঢাকাই মসলিন তৈরির উপযোগী তুলা উৎপাদন ও সূক্ষ্ম সুতা কাটার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসে। সাধারণ সুতির কাপড়ের তুলনায় অনেক বেশি সূক্ষ্ম সুতা ব্যবহারের কারণে মসলিনের স্বচ্ছতা, কোমলতা ও হালকা বুনন এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ফিরে এসেছে।
প্রাথমিক গবেষণার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সরকার মসলিন পুনরুজ্জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই পর্যায়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবোতে প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকাই মসলিন হাউস’ এ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকে মসলিন তৈরির প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারি গবেষণায় অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদনের পরিসর সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে মসলিন তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের সক্ষমতাও বাড়তে পারে।
মসলিন পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। অতি সূক্ষ্ম সুতা কাটার জন্য তিন শতাধিক নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
মসলিনের সুতা তৈরি অত্যন্ত ধৈর্য, নিপুণতা ও বিশেষ দক্ষতানির্ভর কাজ। ফলে এই শিল্পে প্রশিক্ষিত নারীদের অংশগ্রহণ শুধু উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নয়, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের জ্ঞান সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তুলা চাষ, সুতা উৎপাদন, বয়ন ও বিপণনকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্প্রসারণে নিরবচ্ছিন্ন কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কাপাসিয়া, রাজশাহী ও কুমিল্লার গ্রামীণ কৃষকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক তুলা চাষের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফুটি কার্পাসের জাত আরও উন্নত করার বিষয়েও কাজ চলছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মসলিন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় তুলার সরবরাহ বাড়বে এবং কৃষকদের জন্য বিশেষায়িত ফসল উৎপাদনের নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। তবে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে তুলার গুণগত মান, চাষের উপযোগী পরিবেশ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ঢাকাই মসলিনের ঐতিহাসিক পরিচিতি ও অনন্য বুননশৈলী আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ফ্যাশন বাজারে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের মতো দেশের বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর আগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মসলিনের কাপড় সরবরাহের অর্ডার পাওয়ার তথ্য এই সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে ঢাকাই মসলিন বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই স্বীকৃতি পণ্যটির স্বতন্ত্র ভৌগোলিক পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে মসলিনের বাণিজ্যিক সাফল্য নির্ভর করবে মান বজায় রেখে উৎপাদন বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিপণন এবং পণ্যের স্বকীয়তা সুরক্ষার ওপর। একটি মসলিন শাড়ি তৈরি করতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদন খরচও বেশি। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে একটি শাড়ি তৈরির খরচ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা; উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে তা ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
একসময় ঢাকাই মসলিন ছিল বাংলার বুননশিল্পের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। অত্যন্ত সূক্ষ্ম সুতা, স্বচ্ছ বুনন এবং কারিগরদের অসাধারণ দক্ষতার কারণে এই কাপড় বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছিল। ঔপনিবেশিক আমলে নানা প্রতিকূলতা ও উৎপাদনব্যবস্থার অবক্ষয়ে শিল্পটি হারিয়ে যায়।
দীর্ঘ বিরতির পর সরকারি উদ্যোগে মসলিনের পুনরুজ্জীবন বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। গবেষণা, কৃষি, কারুশিল্প, নারী কর্মসংস্থান এবং রপ্তানিকে একই ধারায় যুক্ত করতে পারলে এই উদ্যোগ দেশের বস্ত্র খাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ঢাকাই মসলিনের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো ঐতিহ্যের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে উৎপাদন বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করা। সরকারি পরিকল্পনা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও দক্ষ কারিগরদের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে একসময় বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়া এই বস্ত্র বাংলাদেশের উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে পারে।
বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি সেমিনার-২০২৬। এতে বিভিন্ন দেশের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আরও উন্নত করার উপায় নিয়ে সেমিনারে আলোচনা হচ্ছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন করা হয়েছে।
এ বছরের সেমিনারের প্রতিপাদ্য ‘প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রম: ভবিষ্যৎ উপযোগী নিরাপত্তাবোধ গড়ে তোলা’ (Technology, Training and Teamwork: Creating a Future-Ready Safety Mindset)।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিমান বাহিনীপ্রধান বলেন, ‘বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় ও দলগত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক এ ধরনের সেমিনার বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানো সম্ভব।’
সেমিনারে বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় উদীয়মান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন।
এবারের আয়োজনে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) প্রতিনিধিরাও যোগ দিয়েছেন। এতে সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইনস, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সেমিনারে যোগ দিয়েছেন।
পাশাপাশি বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন সংস্থার অংশগ্রহণ বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বহুমাত্রিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরছে।
সেমিনারের বিভিন্ন অধিবেশনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ফ্লাইট সেফটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও মতবিনিময় করছেন। আলোচনায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান বা হিউম্যান ফ্যাক্টর, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয় এবং দলগত কার্যক্রম গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নিরাপত্তার মান উন্নয়ন ও নতুন ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেফটি চর্চা থেকে অভিজ্ঞতা গ্রহণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতবিনিময় করছেন। সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে এ সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দিনের এ সেমিনার আগামীকাল বুধবার শেষ হবে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারলে এবং পরবর্তী সময়ে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তিনি জানান কর্মীরা পরে সৌদি আরবে যেতে পারলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্ট্রি সম্পন্ন হবে এবং তারা প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সি একসঙ্গে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। ৩ লাখ টাকায় যেখানে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭-৮ লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনা করতে হবে এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে সেই অর্থ তুলতে তুলতেই কর্মীদের সময় পার হয়ে না যায়।
তিনি আরও জানান, কর্মীদের বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ে বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণায় সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে নিজ দেশের নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আগামীতে শ্রম খাতে আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ হবে।
আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ও সম্মেলনের (আইডিইএক্স ২০২৭) ১৮তম সংস্করণে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী, দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। একই সময়ে অনুষ্ঠেয় নেভাল ডিফেন্স অ্যান্ড মেরিটাইম সিকিউরিটি এক্সিবিশনের (এনএভিডিইএক্স ২০২৭) অষ্টম সংস্করণেও অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস এ তথ্য জানায়। দুটি ইভেন্ট আগামী বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ২৫ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) অনুষ্ঠিত হবে।
স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সর্বশেষ অগ্রগতি ও উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য আইডেক্স এবং এনএভিডিইএক্স একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। এই প্রদর্শনীতে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একত্রিত হয়।
ক্রাউন প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করবে এবং প্রদর্শনীর সাফল্যে অর্থবহ অবদান রাখবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তার সর্বোচ্চ বিবেচনা ও গভীর কৃতজ্ঞতার আশ্বাস জ্ঞাপন করেন।
কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন বলেছেন, ‘দেশে সারের কোনো সংকট ছিল না এবং বর্তমানেও কোনো সংকট নেই। দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি অসাধু চক্র সারের কৃত্রিম সংকট দেখানোর অপচেষ্টা করেছে। তবে এই চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। বর্তমানে দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন সার মজুত রয়েছে।’
সারের ডিলারশিপ বিতরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ডিলারশিপ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে তা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে এবং বিষয়গুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
আমদানিনির্ভর পণ্যের তালিকা কমে আসছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এমন কিছু পণ্য ছিল, যা প্রতি বছরই আমদানি করতে হয়েছে। তবে এ বছর ব্যতিক্রম ঘটেছে এবং এখন পর্যন্ত সেগুলো আমদানি করার প্রয়োজন পড়েনি।’