মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ ফাল্গুন ১৪৩২

বঙ্গভবনের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন রাষ্ট্রপতি

বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গভবনের পদ্মপুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: ফোকাস বাংলা
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৩ ১৯:৫৫

‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৩’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের পদ্মপুকুরে ৫ হাজার ২৯০টি মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গভবনের পদ্মপুকুরে (যেটাকে আগে সিংহ পুকুর বলা হতো) রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস, মহাশোল, সুবর্ণ রুই, পাবদা, চিংড়ি ও গুলসার বিভিন্ন প্রজাতির ৪৩২ কেজি ওজনের পোনা অবমুক্ত করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি মৎস্য খাতের সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মৎস্য খাতকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত উল্লেখ করে, রাষ্ট্রপতি স্থানীয় জাতের মাছের উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বঙ্গভবনের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন ও সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশিদ এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা সাইফুল কবির দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন।


তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সংসদ নেতা ও দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের নবনির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা হর্ষধ্বনির মাধ্যমে তাঁদের প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ দায়িত্ব অর্পণ করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয় যে, জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে শপথ গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক লড়াই এবং গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই নির্বাচনকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আজ বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে আজকের এই সভায় বিএনপি সংসদ সদস্যরা একটি বৈপ্লবিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সংসদীয় দলের প্রথম সভা থেকেই তাঁরা ঘোষণা করেছেন যে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারিভাবে শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) বিলাসবহুল গাড়ি গ্রহণ করবেন না। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রীয় কোটায় কোনো সরকারি প্লটও না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এমন গণমুখী ও ত্যাগের সিদ্ধান্ত এর আগে কখনো দেখা যায়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মূলত তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এবং জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকার অপচয় রোধেই এই কঠোর নৈতিক অবস্থান নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংসদ সচিবালয়ের কানিজ মওলার সঞ্চালনায় তাঁরা নিজ নিজ আসনের বিপরীতে স্বাক্ষর করেন। শপথের পর পরই সংসদীয় দলের সভায় অংশ নিয়ে তাঁরা নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই সরকার একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে বলে বৈঠকে অঙ্গীকার করা হয়। আজকের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং শাসনতান্ত্রিক সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন আনতে উন্মুখ। পুরো জাতি এখন বিকেলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে, যখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক ঘটবে।


তারেক রহমান সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে এই পদে নির্বাচিত করেন। সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক পূর্ণতা পেল। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

আজকের দিনটি ছিল বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বিএনপি থেকে বিজয়ী সকল সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান এবং পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। শপথ গ্রহণের পরপরই বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় কৌশল ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সংসদীয় দলের সভায় মিলিত হন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের আইনসভায় এমন দাপুটে প্রত্যাবর্তনের পর এই সভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

সংসদীয় দলের এই বৈঠকে তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করার পাশাপাশি নতুন সরকার গঠন, মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্য এবং সংসদে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা এই নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থনের জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংস্কারমুখী শাসনব্যবস্থা কায়েম করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর এখন রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানাবে বিএনপি।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ মঙ্গলবার বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক রাজকীয় পরিবেশে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টকে ঘিরে পুরো রাজধানী এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। তারেক রহমানের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়া মূলত দেশে একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে বিকেলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের মাধ্যমেই দেশে একটি নতুন নির্বাচিত সরকারের যাত্রা শুরু হবে।


বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে জামায়াত শপথই নেবে না: আব্দুল্লাহ তাহের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন এক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অন্যদিকে, বিএনপির এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এক চরম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়, তবে জামায়াত ও তাদের জোটের নির্বাচিত সদস্যরা কোনো ধরনের শপথই গ্রহণ করবেন না।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ঘোষণা করেন যে, তারা এখনই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না। সাদা ও নীল রঙের দুটি আলাদা শপথ ফরম হাতে নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ যুক্তি দেন যে, তারা জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি বা কাঠামো এখনো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে এটি সংবিধানে ধারণ করার পর এবং কে শপথ পাঠ করাবেন সেই বিধান হওয়ার পরই কেবল এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

বিএনপির এই অবস্থান প্রকাশ হওয়ার পরপরই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে জানান, আজ দুপুর ১২টায় জামায়াত ও তাদের জোটের শরিকদের শপথ নেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সংস্কারবিহীন সংসদকে তারা ‘অর্থহীন’ বলে মনে করছেন। জামায়াত মনে করে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্রের আমূল সংস্কার এবং সংবিধানের পরিবর্তন। সেই সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বর্জন করা হলে সংসদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বিএনপি তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন না বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

এই পরিস্থিতিতে সংসদ সচিবালয় ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক নাটকীয়তা ও অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ দেড় দশক পর গণতন্ত্রের পথে ফেরার প্রথম দিনেই দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির এমন বিপরীতমুখী অবস্থান নতুন সরকারের শাসনতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জকে স্পষ্ট করে তুলছে। একদিকে বিএনপি আইনি ও পদ্ধতিগত বৈধতার ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াত সংস্কারের বিপ্লবী ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে অনড়। বিকেলের দিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও, সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে এই অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রবল কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত তাদের বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদ সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আইনি ও সাংবিধানিক অস্পষ্টতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব থাকায় বিএনপির সংসদ সদস্যরা এখনই এই পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না।

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিএনপি সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁরা নির্বাচিত হননি। তাঁর মতে, বিদ্যমান সংবিধানে এই পরিষদকে এখনো ধারণ বা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সদ্য সমাপ্ত গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও, সেটি কার্যকর করার আগে সংবিধানে যথাযথ সংশোধনীর প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে সংসদ সদস্যদের শপথের জন্য সাদা রঙের নির্ধারিত ফরম থাকলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের জন্য নীল রঙের কোনো নির্দিষ্ট ফরম বা আইনি বিধান এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে যথাযথ সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি হওয়ার আগে এই শপথ গ্রহণ অর্থহীন বলে তিনি মনে করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তটি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি মনে করে, আগে এই পরিষদকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং কে এই পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন—সে বিষয়েও স্বচ্ছ আইনি নির্দেশনা থাকতে হবে। জাতীয় সংসদে বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হওয়ার পরেই কেবল এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। দলটির এই অবস্থানের ফলে আজ সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিএনপির সংসদ সদস্যরা কেবল আইনপ্রণেতা হিসেবেই শপথ বাক্য পাঠ করেন।

বিএনপির এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সদস্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সমালোচনা করে বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার গুরুত্ব কমে যায়। তবে বিএনপি তাদের অবস্থানে অনড় থেকে সংসদীয় সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। এদিকে, শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারও সংসদ ভবনে উপস্থিত হয়েছেন। আজকের দিনেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের অভিষেকের কথা রয়েছে, যার প্রাক্কালে বিএনপির এই অনড় সাংবিধানিক অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্যেও সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হলো।


নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সাক্ষী হতে এবং নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ আমন্ত্রণে তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নতুন মন্ত্রিসভার রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তাঁর এই সফর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, আজকের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে কেবল মালদ্বীপ নয়, বরং ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ঢাকায় পৌঁছেছেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটছে, তাকে স্বাগত জানাতেই বিশ্বনেতারা আজ ঢাকায় সমবেত হচ্ছেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতিকে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো সমর্থনের একটি বিশেষ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সফরের মাধ্যমে আগামীতে ঢাকা ও মালে-র মধ্যে বাণিজ্য ও পর্যটনসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যু আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’ শপথ নিবে না বিএনপির সংসদ সদস্যরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ গ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ ও চাঞ্চল্যকর দিক ছিল ক্ষমতাসীন হতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কৌশলগত অবস্থান। দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও একই অনুষ্ঠানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আজ সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, তারা জনগণের সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং এটিই তাদের মূল ম্যান্ডেট। সংবিধান সংস্কারের জন্য গঠিত পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা নিতে চাচ্ছেন না।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন এবং এর যে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংস্কার হতে হবে জাতীয় সংসদের ভেতরে নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে। সালাহউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট করেন যে, যেহেতু তারা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদাভাবে জনগণের কাছে যাননি, তাই এই পর্যায়ে শপথ নেওয়া তাদের দলীয় নীতির পরিপন্থী। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি সংসদের সার্বভৌমত্বের অধীনে রাখতে এবং তড়িঘড়ি কোনো পরিবর্তন এড়াতেই বিএনপি এমন শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসন পেয়ে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। প্রাপ্ত ভোটের হিসেবেও দলটি অনন্য উচ্চতায় রয়েছে, যেখানে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পড়েছে মোট ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসন পেলেও তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন লাভ করেছে। সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৭টি আসনে।

নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রার্থীদের জামানত রক্ষার বিষয়টি। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও ৪২টি দল কোনো আসন লাভে সমর্থ হয়নি। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা গেছে বিএনপির ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে কাউকেই জামানত হারাতে হয়নি, যা দলটির ব্যাপক জনসমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল হতে যাওয়া জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন। সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে জাতীয় পার্টি; তাদের ১৯৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯৩ জনই প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এমনকি এনসিপি-র ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন এবং বামপন্থী দল ও নাগরিক ঐক্যের বেশিরভাগ প্রার্থীই তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

সরকার গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ বিকেলেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। বিএনপির এই অনড় অবস্থান এবং বিপুল জনসমর্থনের মধ্য দিয়ে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকার আগামী দিনে রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়ায় সংসদকে কতটা কার্যকর রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রাক্কালে বিএনপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা

আপডেটেড ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশের আইনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তন করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর আজকের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন বিএনপি নেতারা।

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঝপথে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ফলে দীর্ঘদিন বিএনপির কোনো সরব উপস্থিতি ছিল না এই সংসদ ভবনে। ফলে দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ যখন দলটির সংসদ সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে শপথ নিতে কক্ষটিতে প্রবেশ করেন, তখন এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়। শপথগ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একে একে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং নতুন বাংলাদেশের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম ধাপে বিএনপির সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। এর মাধ্যমে দলটির সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের পরপরই বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনেই বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে, যার মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ চূড়ান্ত হবে।

সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় আজ সকাল থেকেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে সংসদ সদস্যরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আজকের এই আয়োজনের পর বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ পাঠ করাবেন। বিএনপির এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নবসূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলেই নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা রয়েছে।


বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ঢাকায় পৌঁছেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য এই নতুন মন্ত্রিসভার অভিষেক অনুষ্ঠানে নেপালের এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত নেপাল দূতাবাস এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি এবং দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য যে, নেপালের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গভীর কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতেও এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। বর্তমান ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং ফলাফল স্থগিত থাকা আরও দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা আরও ৩টি আসন লাভ করেছেন। অন্যদিকে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যান্য শরিকরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে। এই বিশাল জনসমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে। আজ বিকেলের রাজকীয় এই অনুষ্ঠানে তিনি ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সাথে শামিল হবেন। বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মধ্য দিয়ে আগামীতে দুই দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি, জলবিদ্যুৎ এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তাকে স্বাগত জানাতেই নেপালের এই বিশেষ কূটনৈতিক অংশগ্রহণ। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলেই তিনি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।


নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকা পৌঁছেছেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পাকিস্তানের এই শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশন আহসান ইকবালের আগমনের তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আজ সকালে তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানের এই ফেডারেল মন্ত্রী আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নতুন মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার যে পালাবদল ঘটছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে একটি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। আহসান ইকবালের এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামীতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা এবং উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন করে সহযোগিতার বাতাবরণ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

উল্লেখ্য যে, আজকের এই মেগা ইভেন্টে অংশ নিতে ইতিমধ্যে ভারত, মালদ্বীপ, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিকেলের এই শপথ অনুষ্ঠানের আগে আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিজয়ীদের শপথ পাঠ করাচ্ছেন। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এই অভিষেক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ও রাজকীয় পরিবেশ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


মন্ত্রিসভার ৫০ সদস্যকে নিরাপত্তা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব এ এস এম ইবনুল হাসান স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে সম্ভাব্য ৫০ জন মন্ত্রিসভার সদস্যের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার সর্বোচ্চ ৫০ জন হতে পারে এমন একটি ধারণা থেকে এই আগাম নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার প্রকৃত সদস্য সংখ্যা এর চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে, তবে প্রশাসনিকভাবে ৫০ জন সদস্যের নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক প্রটোকলের যাবতীয় ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রেরিত চিঠিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যরা যাতে শপথ অনুষ্ঠানস্থলে নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের বাসস্থান ও কর্মস্থলে যথাযথ প্রটোকল পান, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুলিশের আইজিপি, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং ডিএমপির প্ররক্ষা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ও প্রটোকল গাড়ির ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে আজ দুপুর থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন না করার কঠোর বার্তা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন সরকারের এই অভিষেকের মধ্য দিয়ে দেশে যে গণতান্ত্রিক রূপান্তর শুরু হতে যাচ্ছে, তার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল ধাপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


নতুন সরকারের শপথে উপস্থিত থাকছেন বিদায়ী উপদেষ্টারা: ফিরবেন পতাকাবিহীন গাড়িতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই শপথ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারাও। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপদেষ্টাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চললেও সরকারের পক্ষ থেকে সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতেই তাঁরা আজ সশরীরে সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকছেন।

গতকাল সোমবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের ‘দেশের গর্বিত সন্তান’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমানে দেশেই অবস্থান করছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে তাঁরা সগৌরবে অংশ নেবেন। প্রেস সচিব একটি বিশেষ প্রতীকী বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে জানান যে উপদেষ্টারা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সংসদ ভবনে যাবেন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী জাতীয় পতাকা সংবলিত বা ফ্ল্যাগবাহী গাড়িতে করে। তবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর যখন তাঁরা সেখান থেকে ফিরে যাবেন, তখন তাঁদের গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না। এটি মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার একটি সম্মানজনক ও সাংবিধানিক নিদর্শন।

এদিকে উপদেষ্টাদের মধ্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ইতোমধ্যে তাঁর পুরোনো আবাসস্থলে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে কর্মস্থল থেকে যথাযথভাবে আনুষ্ঠানিক বিদায় গ্রহণ করেই তিনি ঢাকা ছেড়েছেন। তবে অন্য কোনো উপদেষ্টার দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট বা নির্ভরযোগ্য তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সদস্যরা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির যে কঠিন দায়িত্ব পালন করেছেন, তার চূড়ান্ত সফল সমাপ্তি ঘটছে আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদায়ী উপদেষ্টাদের সসম্মানে বিদায় জানাতে এবং নতুন সরকারের পথচলা মসৃণ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার নবসূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


শপথ নিতে সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে দীর্ঘ ১৫ বছরের বিরতি শেষে জাতীয় সংসদ ভবনে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদ সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে সকাল ৯টা থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গাড়ি সংসদ ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর নিজেদের প্রিয় প্রাঙ্গণে প্রত্যাবর্তনের এই মুহূর্তে অনেক সংসদ সদস্যকেই আবেগাপ্লুত হতে দেখা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সংসদীয় রীতি ও রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ নেবেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও কারচুপির অভিযোগে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ফলে দীর্ঘ সময় বিএনপি সংসদীয় রাজনীতির বাইরে ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে তারা আবারও দেশের শাসনভার ও সংসদীয় নেতৃত্বে ফিরে এসেছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের পুরো এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সংসদ ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ রোধে গেটে কড়াকড়িভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য পুরো চত্বর নজরদারিতে রাখছেন। আজকের এই আয়োজনের সফল সমাপ্তির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের এই আনুষ্ঠানিক শপথের পর আজ বিকেলেই অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাসহ সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই শপথ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে আসছেন। এই ঐতিহাসিক দিনটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ আজ, পুনরায় গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ

* দেশি-বিদেশি ১২০০ অতিথি আমন্ত্রিত * মন্ত্রিদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন * সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন সিইসির কাছে  
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এবার অপেক্ষা প্রত্যাশিত গণতন্ত্রে ফেরার। সেই শুভক্ষণেরও সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষে হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ সংসদ সদস্যের শপথ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরাও শপথ নেবেন আজ। এ মহাযজ্ঞ ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংসদের প্রবেশপথ ও ভেতরে নেওয়া হয়েছে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ও বিশেষায়িত সব ইউনিট। এই শপথের মধ্য দিয়ে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে; যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের।

সাধারণত বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও এবার তেমনটা হচ্ছে না। এবার প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে। শপথ অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই দিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়াবেন। অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন।

প্রথা অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক এবং কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসাও ঢাকায় আসছেন। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিবে বলে ধরণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন এবং শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন ও মানবাধিকার। সরকারের শাসন ব্যবস্থা এমনভাবে দৃশ্যমান হতে হবে-যেন নিশ্চিতভাবে ‘জনগণের সরকার’ হিসাবে আখ্যা দেওয়া যায়।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, এটা একটা নতুন যাত্রা। অতীতের স্বৈরশাসনের পরিণতি আমরা দেখেছি। আমরা অবশ্যই আশা করব-যেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মসৃণভাবে সামনের পথ পাড়ি দিতে পারি। তিনি আরও বলেন, স্বৈরশাসন কেন হয়েছিল, সেটার কারণগুলোও মনে রাখতে হবে। কারণ জবাবদিহির অভাব ছিল। সংসদ ঠিকমতো কাজ করত না। বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রাখা হয়েছিল। এখন এগুলো যে রাতারাতি সব ঠিক হয়ে যাবে, এমনটা নয়। কিন্তু এগুলোর দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। আমরা চাইব-জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, জাতীয় সংসদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু যেন সুসংহত থাকে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর প্রথমদিনের যাত্রাটা খুব সুন্দর হয়েছে। বিএনপি বিজয় মিছিল বা সমাবেশ না করে দোয়া ও প্রার্থনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা ভালো পদক্ষেপ ছিল। আমরা আশা করব-নতুন সরকার অতীতের তুলনায় অনেক বেশি জবাবদিহিমূলক হবে। তারা নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে সচেতন থাকবে। আইনের শাসনের ব্যাপারেও নজর দেবে এবং কোনো ধরনের পক্ষপাত করবে না। এসব কিছুর একটা মূল্যায়ন নতুন সরকারের প্রথম ৬ মাসের মাথায় করা যাবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত যে বাংলাদেশ, সেই পথে যাত্রা শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটাকে কতটুকু কাজে লাগানো যায় সেটা দেখতে হবে।

নতুন সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কারণ আমাদের কোনো ব্যাপারেই ঐকমত্য নেই। আমরা একে অপরের সঙ্গে মিলে কাজ করতে পারি না। কিন্তু আমাদের সবাই মিলেই এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ যে সমাজে তরুণ বেশি সেখানে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বেশি।

রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা একটা নতুন বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি। কারণ নির্বাচনের পরে ঝুঁকি থাকে সব পক্ষ নির্বাচনকে মেনে নিয়েছে কিনা? শক্তিশালী সরকারের জন্য যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার ছিল সেটা তারেক রহমান পেয়েছেন, এখন নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরুর অপেক্ষা মাত্র।


banner close