বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

শাহজালালের টয়লেট থেকে ২ কেজি তরল স্বর্ণ উদ্ধার

শাহজালাল বিমানবন্দরের শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণ। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৩ ১৯:৫৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টয়লেট থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ কেজি ৮৯০ গ্রাম তরল স্বর্ণ উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে বিমানবন্দরের টিজিআর গুদামসংলগ্ন টয়েলেটের (শৌচাগার) পানি নির্গমনের গর্ত থেকে এই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের মূল্য ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

শুক্রবার ঢাকা কাস্টম হাউস থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য জানানো হয়।

ঢাকা কাস্টম হাউস জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে টিজিআর গুদামসংলগ্ন ওয়াশরুম ও টয়লেটে অভিযান চালানো হয়। এ সময় টয়লেটের পানি নির্গমনের গর্তে পরিত্যক্ত অবস্থায় নীল রঙের স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ৮টি ডিম্বাকৃতির বস্তু পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, বস্তুগুলোতে স্বর্ণ রয়েছে।

পরবর্তী সময় বিমানবন্দরে কাস্টমস হলে নিয়ে স্কচটেপ খুলে এতে কাঁচা স্বর্ণের ভেজা পেস্ট পাওয়া যায়। এসব স্বর্ণের ওজন ২ কেজি ১০০ গ্রাম। পরে জব্দ করা এসব পেস্ট স্বর্ণ কষ্টিপাথর ও অ্যাসিডে পরীক্ষা করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞের মতামত অনুযায়ী প্রতি ১০০ গ্রাম স্বর্ণে ৯ দশমিক ৫০ গ্রাম থেকে ১০ গ্রাম তরল বাষ্পীভূত হওয়ায় জব্দকৃত স্বর্ণের ওজন হ্রাস পেতে পারে। সে অনুযায়ী জব্দকৃত স্বর্ণের ওজন দাঁড়াবে প্রায় ১ কেজি ৮৯০ গ্রাম। জব্দ করা এসব স্বর্ণের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

আরও জানানো হয়, অভিযানের সময় জব্দ করা স্বর্ণের সঙ্গে কোনো যাত্রীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। জব্দ করা স্বর্ণের বিষয়ে কাস্টমস আইনে মামলা ও রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টম হাউস।


নির্বাচিত

৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দিনের বেলায় এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনে আগ্রহী টয়োটা

ছবি: হাইব্রিড গাড়ি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় মোটরযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা। এ উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অটোমোবাইল শিল্পে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ জোরদার হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির স্থানান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

প্রস্তাবিত এ শিল্পায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দুটি অত্যাধুনিক ‘থ্রি-এস’ (বিক্রয়, বিক্রয়োত্তর সেবা ও যন্ত্রাংশ) কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলারের মূলধন বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি নভেম্বর মাসেই কেন্দ্র দুটির অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রগুলো থেকে গাড়ি বিপণন ছাড়াও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক মেরামত ও বিশ্বমানের আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই দেশের বাজারে টয়োটার সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতির সূচনা ঘটবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও পৃষ্ঠপোষকতা বজায় থাকলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি হাইব্রিড গাড়ি সংযোজনের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যেখানে সার্বিক সহায়তা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

টয়োটার এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে স্থানীয় ভোক্তা ও বাণিজ্যিক মহল অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবু ইউসুফ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানান, স্থানীয়ভাবে সংযোজন প্রক্রিয়া চালু করা গেলে উচ্চ আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ের সুযোগ পাবেন এবং নির্ভরযোগ্য আসল যন্ত্রাংশ ও দক্ষ বিক্রয়োত্তর সেবা সহজলভ্য হবে, যা বাজারে ব্র্যান্ডটির প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

দেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, টয়োটার এই বিনিয়োগ স্থানীয় খুচরা যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, সহযোগী ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিগত জনশক্তির জন্য অবারিত সুযোগ তৈরি করবে। স্থানীয় মেধা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে এ উদ্যোগটি দেশের মাটিতে একটি আধুনিক অটোমোবাইল শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করবে এবং অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকেও এ দেশে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, উৎপাদিত গাড়ি অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির উপযোগী করে তুলতে পারলে বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হবে। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে টেকসই নীতিসহায়তা, আকর্ষণীয় শুল্ক ও কর প্রণোদনা এবং সহায়ক পশ্চাৎপদ শিল্পের দ্রুত বিকাশ নিশ্চিত করা জরুরি, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থানকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।


নির্বাচিত

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু-পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

* কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

তিনি জানান, বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এছাড়া বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব।

এর আগে সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে অবশ্যই সাশ্রয়ী পন্থায় বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তাদের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে অর্থের অভাবে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ হারিয়ে না যায়।

তারেক রহমান বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিজেলের মজুদ বাড়ানো, কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি তেল সংগ্রহে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। নেট মিটারিংয়ের আওতায় নিজস্ব ব্যবহারের পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও বাসায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়ির ছাদ ব্যবহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।

তিনি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। উন্নয়ন সহযোগী ও প্রবাসীদেরও এ খাতে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহারে জনগণকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শ্রমিক আন্দোলনে ফের সংঘর্ষ-অবরোধ

* ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ * ৩০৬ কারখানা বন্ধ, ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত * শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ৯ পুলিশসহ আহত ৪৫ * মেট্রোরেলেও বিঘ্ন, মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে মারধর * গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকাল থেকে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে, কোথাও বিকল্প পথে যান চলাচলের চাপে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি জট। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পেরে অনেকেই বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে গেছেন। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষকে পোহাতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ। যানজটে আটকে পড়েছে রোগী বহনকারী যানবাহনও। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময় সড়কে নষ্ট হওয়ায় অনেকের কর্মঘণ্টা কমেছে, ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চতুর্থ দিনে গড়ানোর পর এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। কোথাও কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, কোথাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়।

এদিকে, আন্দোলনের প্রভাবে শিল্পাঞ্চলের ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। গাজীপুরে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। সব মিলিয়ে শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতা এখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে।

সড়ক অবরোধে ভোগান্তিতে লাখো মানুষ: মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। অনেককে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। বিকল্প পথে চলতে গিয়ে যাত্রীদের বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। দুপুরে শুরু হওয়া অবরোধ চলে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। পরে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে শ্রমিকেরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুরের নাওজোড়, ভোগড়া, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। পরে পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতায় অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি ও শিবু মার্কেট এলাকায় বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডেও যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে শিল্পাঞ্চল ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতেও প্রভাব পড়ে।

মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন, পুলিশ সদস্যকে মারধর: রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। এতে সড়কপথের পাশাপাশি গণপরিবহনের বিকল্প এই ব্যবস্থার যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। আহত কনস্টেবল মো. সাইমনকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পল্লবী থানা পুলিশ।

৩০৬ কারখানায় ছুটি, উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ: শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৩০৬টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। এতে প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার ও আশুলিয়ায় অন্তত ২০০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তার আওতাধীন প্রায় ৮০০ কারখানার মধ্যে শতাধিক বন্ধ ছিল। নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকায় বন্ধ কারখানার সংখ্যা বেশি।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, প্রথমে ১৫টি এবং পরে আরও ৪৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। আগের দিনও জেলায় অন্তত ১৫০টি কারখানা বন্ধ ছিল।

কারখানা বন্ধ থাকায় শুধু উৎপাদনই নয়, কাঁচামাল সরবরাহ, পণ্য পরিবহন, প্যাকেজিং ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রপ্তানি আদেশের পণ্য নির্ধারিত সময়ে প্রস্তুত ও জাহাজীকরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরে সংঘর্ষে আহত ৩০, নারায়ণগঞ্জে ৯ পুলিশসহ ১১: গাজীপুরে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নাওজোড়, ভোগড়া, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডের শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। একই সময়ে কোনাবাড়ীর বে-ফুটওয়্যার, মৌচাকের পূর্বাণী এবং তেলিচালার লগোস অ্যাপারেলস ও এটিএস অ্যাপারেলসের শ্রমিকেরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় তারা জড়ো হন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে অবরোধ। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালানো ও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীরাও ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে জেলা পুলিশের তিনজন ও শিল্প পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন দুই শ্রমিক।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, শ্রমিকেরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর শুরু করলে বিকেল ৫টার দিকে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। সংঘর্ষের পর যান চলাচল শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি, নজরদারি জোরদার: শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তরের মঙ্গলবারের বার্তায় জানানো হয়, গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় দুই প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজ করছেন। সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কথা জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বোরকা ও হেলমেট পরে কারা পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা কিছু ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গাজীপুরে নিরাপত্তা জোরদারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে ইন্ধনদাতাদের শনাক্তের কথা জানিয়েছেন।

মজুরি দাবি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা: পোশাকশ্রমিকদের প্রধান দাবি মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। পাশাপাশি ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধ, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে বর্তমান মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি শ্রমিকদের।

আন্দোলনের সূত্রপাত মিরপুরের বিভিন্ন কারখানায় হলেও পরবর্তী সময়ে তা সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন স্থানে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মিরপুরে দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর শ্রমিকেরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শনিবার কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু হয়ে পরে সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। রোববার বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়। সোমবার মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আবারও একাধিক শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে।

এ পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কাঁচামাল কারখানায় পৌঁছানো এবং তৈরি পোশাক বন্দরে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব না হলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সরবরাহের সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। এ শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে এর প্রভাব শুধু কারখানার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবহন, ব্যাংকিং, সরবরাহ ও সহযোগী শিল্পেও পড়বে।

তবে আন্দোলনের কারণে এখন পর্যন্ত মোট কত টাকার উৎপাদন বা রপ্তানি ক্ষতি হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য সমন্বিত হিসাব পাওয়া যায়নি। তাই ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা যাচ্ছে না।

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি এবং শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখা—দুটিই দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সরকারের মধ্যে দ্রুত কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সহিংসতা ও উসকানির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শ্রমিকদের দাবির গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।


নির্বাচিত

শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অর্থ খরচের সংযোগ থাকতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করা সত্ত্বেও চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ও নাশকতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের লুটপাটের অর্থ বিনিয়োগের সংযোগ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পোশাক খাতের আন্দোলন ও নাশকতার প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই সরকার পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে এখন আর শ্রমিকদের মূল আন্দোলন বা দাবির যৌক্তিকতা থাকার কথা নয়। কিন্তু এর মধ্যেও যারা সহিংস আচরণ করছে, তাদের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না।

গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট চক্র বা নিষিদ্ধ দলটির কাছে থাকা প্রচুর লুটপাটের টাকা খরচ করে কোথাও না কোথাও নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার সাথে শ্রমিক আন্দোলনের সংযোগ থাকতে পারে। সরকার ও প্রশাসন এটি কঠোরভাবে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে এর মানে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি করা হচ্ছে সরকার সেটা মনে করে না। উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তিনি আসতে চাইলে সরকার কোনো বাধা দেবে না।

এছাড়া বিগত আমলের মতো নির্বিচারে বা মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে পুলিশ বাহিনীকে বের করে আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশের আইনি অধিকার রয়েছে পরিস্থিতি সাপেক্ষে বলপ্রয়োগ করার, তবে তা যেন সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে থেকে নিশ্চিত করে পরিচালিত হয়। জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই সরকার এই পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বড়দিন উদযাপনে ২ কোটি টাকা অনুদানের আবেদন, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি

ফাইল ছবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন উদযাপনে ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়ে করা আবেদনের বিপরীতে ১ কোটি টাকা বেশি দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার বিষয়ে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক সারসংক্ষেপে জানানো হয়, বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়, চলতি ২০২৬ সালেও বড়দিন উপলক্ষে ২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অর্থ খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদন চাওয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ২ কোটি টাকার পরিবর্তে ৩ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দেন।


নির্বাচিত

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: স্পিকার

বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপিয়ান পার্টনার ফর ডেমোক্রেসি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল এই নির্বাচনকে অত্যন্ত সুষ্ঠু হিসেবে প্রশংসা করেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপিয়ান পার্টনার ফর ডেমোক্রেসি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর অন্যায়, জুলুম, নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের গণতন্ত্রকে লুণ্ঠিত করেছিল। ’২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সূচিত হয়।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া একটি দেশে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, নির্বাচনে তাঁদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সার্বিক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সংসদীয় বিতর্ক শোনা ও বোঝার প্রক্রিয়া সহজতর করার বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) এবং বি-স্ক্যান (B-SCAN) বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসুর’ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি বর্তমানে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আবহাওয়া অফিসের বুলেটিন অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের এলাকাভিত্তিক আবহাওয়া ও তাপমাত্রার বিস্তারিত দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার (৪ নভেম্বর) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

এছাড়া শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। ৭ নভেম্বর আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেলেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।


নির্বাচিত

সৌদিতে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী

* প্রভাবিত ১৭১টি ফ্লাইট * সরাসরি ৯৪ ও ট্রানজিট ৭৭টি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার কারণে এ পর্যন্ত ১৭১টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২৩ হাজার ৭৭ জন যাত্রী। প্রভাবিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৯৪টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি।

বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব চৌধুরী (এএসএম, ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪৫টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১৮টি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের ফ্লাইটেই প্রভাব পড়ছে। এতে সৌদিগামী ও সৌদি আরব থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।


নির্বাচিত

আনসার-ভিডিপির ‘ওমরাহ কাফেলা-২০২৬’―এর আনুষ্ঠানিক শুভযাত্রা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের অডিটোরিয়ামে পবিত্র ওমরাহ্-২০২৬ পালনের লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের মাঝে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ) ভিসা, বিমান টিকিট ও বিশেষ উপহারসামগ্রী বিতরণ এবং যাত্রার প্রারম্ভে দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি ৩ জন কর্মকর্তা ও ১৯ জন সদস্যসহ মোট ২২ জনের হাতে ভিসা, বিমান টিকিট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তিনি ওমরাহ্ কাফেলার সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ যাত্রা কামনা করেন এবং পবিত্র ওমরাহ্ যথাযথ নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পালনের পাশাপাশি দেশের ও বাহিনীর কল্যাণে দোয়া করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ পালনের জন্য তারুণ্যই উপযুক্ত সময়। জীবনের শুরুতেই ধর্মীয় অনুশীলন ও আত্মশুদ্ধির চর্চা মানুষকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে। আর সব সংস্কারের মূল ভিত্তি হলো মানসিকতার সংস্কার। তাই প্রত্যেককে ইতিবাচক মানসিকতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল, জনসম্পৃক্ত ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান। পবিত্র ওমরাহ থেকে অর্জিত শিক্ষা ও মূল্যবোধ যেন সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়।

সফরসংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদানকালে মহাপরিচালক মনোনীত সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলার আহ্বান জানান। তিনি সফরকালে পারস্পরিক সহযোগিতা, দলীয় শৃঙ্খলা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ সহযাত্রীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়ার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সফর সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে সফর সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। তিনি পবিত্র ভূমিতে দেশ, জাতি ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানান।

পবিত্র ওমরাহ্-২০২৬ পালনের জন্য মনোনীত সদস্যদের প্রতি বাহিনীর এই বিশেষ উদ্যোগ তাদের পেশাগত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার স্বীকৃতি বহন করে। মহাপরিচালকের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনা তাদের মনোবলকে আরও জোরদার করবে। আশা করা যায়, ওমরাহ্ পালনের মাধ্যমে সদস্যরা আত্মশুদ্ধি ও নতুন অনুপ্রেরণা লাভ করে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, পদ্মা ব্যারেজ এবং ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও ব্যয় চূড়ান্ত করা হবে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে জাপান সফরের অভিজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎকালে তিনি নিজের সাম্প্রতিক জাপান সফরের বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ দিক এবং সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত নানাবিধ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাঁরা দেশের বিরাজমান সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, একান্ত বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিস্তারিত রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সাধুবাদ জানান রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে উভয় রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হবে।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও একান্ত সচিব-২-সহ বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত নাশকতার চেষ্টা চলতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় ফিরে আসুন কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে ফেরত আনা হোক—সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তাঁকে দেশের মাটিতে এনে বিচারের মুখোমুখি করা

পোশাক খাতের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চক্রান্ত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি মন্তব্য করেন, এ ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা কেবল আসন্ন ডিসেম্বরকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই এমন ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যেকোনো মূল্যে এসব অপচেষ্টা সরকার রুখে দেবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ শ্রমিকদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনা করা হলেও শ্রমিকদের বাস্তব সংকটের কথা বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির ইতিবাচক সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে রাজপথে যে সহিংস রূপ দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই সাধারণ মেহনতি শ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না দাবি করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান অনুযায়ী এ ধরনের নৈরাজ্যের নেপথ্যে সীমান্তের ওপার থেকে আসা ইন্ধন রয়েছে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, একটি সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে নেমে কোনো কিছু করার সক্ষমতা দলটির আর অবশিষ্ট নেই। তবে তাদের কাছে সঞ্চিত থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থের জোরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, ডিসেম্বরের সাথে এই তৎপরতার সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হলেও শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে।

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কৌশল প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে অতীতের মতো বলপ্রয়োগ বা দমনপীড়নের মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে চায় না। রাজপথে থাকা তরুণরাও দেশের নাগরিক উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব সীমিত রেখে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমাধানের পথে এগোচ্ছে প্রশাসন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যে নির্মম চর্চা ছিল, তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে পুলিশকে আইনানুগ ও সংঘাতের মাত্রা অনুযায়ী ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় ফিরে আসুন কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে ফেরত আনা হোক—সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তাঁকে দেশের মাটিতে এনে বিচারের মুখোমুখি করা। তবে এ মুহূর্তে তাঁর পাসপোর্ট সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যুর বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close