জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৩২ মিনিটে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দ্বিতীয় বার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এরপর একে একে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনাররা।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের যেকোনো আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরু আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের মামলা পরিচালনা ও অধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত এই বিশেষ আদালত গঠনের বিষয়টি বর্তমানে নীতিগত খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং অচিরেই তা চূড়ান্ত রূপ নিয়ে বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসী নাগরিকদের সার্বক্ষণিক আইনি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারি লিগ্যাল এইড কাঠামোর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যা দ্রুতই চালু করা সম্ভব হবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল সোপান আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে জনশক্তি রপ্তানিই দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের অভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের কর্মীরা এখনও তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতাই এই সংকটের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে কর্মীদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নদীপথে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। জরুরি উদ্ধারকারী জাহাজ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং রাতে স্পিডবোট চলাচল স্থগিত করাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরে জারি করা এই আদেশটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টার্মিনালের নির্ধারিত পন্টুন ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না এবং সদরঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর মাঝপথে ছোট নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সাথে প্রতিটি নৌযানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা যায়। যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং দিনের বেলায় চলাচলের সময় নদীর মাঝপথ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।
জরুরি উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সুবিধার্থে উদ্ধারকারী জাহাজ সবসময় প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা জোরদার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট নৌ টার্মিনাল ও পন্টুন চত্বরে হকার ও ক্যানভাসারদের অবস্থান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি টার্মিনালের প্রবেশপথে নৌযানের রুট ও পন্টুনের তথ্য প্রদর্শন এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যানবাহনের সারিবদ্ধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া গণপরিবহনের অন্যান্য যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার নিয়ম কার্যকরে ঘাটে দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনালগুলোতে নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা, বিশ্রামাগার ও মোবাইল ফোন চার্জিংয়ের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ রয়েছে।
নৌযাত্রায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য প্রতিটি লঞ্চে চারটি জরুরি হটলাইন নম্বর প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীসেবা ১৬১১৩ এবং কোস্ট গার্ডের ১৬১১১। এর পাশাপাশি নদীপথের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানতে ১০৯০ অথবা ৪১০২৫৭৩০ ও ৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগের জন্য যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটের মোট ৬১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এসব ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি বিভিন্ন ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট। সরাসরি যাত্রার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, রিয়াদ এয়ারের ৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট সুবিধায় রিয়াদগামী যাত্রীদের বহন করার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর রিয়াদমুখী সংযোগ স্থগিত থাকায় ঢাকা থেকেও এসব যাত্রীকে গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রবিবার রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিগত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ দফা আক্রমণ চালানো হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় টার্মিনালের অবকাঠামো ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এক বৈমানিকসহ তিন সৌদি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।
বিগত দুই মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রিয়াদ বিমানবন্দর। এর আগে সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারকারী যেকোনো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে কঠোর পরিণতির হুমকি দিয়েছিল হুথি গোষ্ঠী, যার ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের হামলা সংঘটিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় আকারের এই বিপর্যয় নেমে আসে।
নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির বেশিরভাগ শর্তের সঙ্গেই একমত হয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে তো আমরা একটা ফ্রেমওয়ার্ক, পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টে তো যাচ্ছি, ওটা আন্ডার প্রসেস। এর মাধ্যমে আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে আগামী দিনে কোঅপারেশনগুলো কী হবে, ওই পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের মধ্যে ওটা থাকবে। এবং ইন দ্য মিন টাইম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সাপোর্ট তো দিয়ে যাচ্ছে আমাদের, সমস্যা নাই। আই থিংক উই উইল হ্যাভ এ প্রোগ্রাম হুইচ উইল বি প্রিটি গুড।’
তিনি বলেন, জনগণের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি ও এজেন্ডার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
আইএমএফের সাথে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘হ্যাঁ, এটার অগ্রগতি হচ্ছে। ওদের সাথে অলরেডি ডায়ালগ চলছে। এর মধ্যে অনেকগুলো মিটিং হয়েছে এবং এটা চলছে। তাদের সাথে কালকে পরশু আবার মিটিং আছে। সুতরাং আইএমএফের সাথে প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে।’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আইএমএফের কিছু কন্ডিশন আছে, এগুলো আমরা আলাপ করছি, এগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। আর কিছু বিষয়ে আমরা বলছি যে সিকোয়েন্সিং করতে হবে... আইএমএফের সাথে আমাদের যে ডিফারেন্সগুলো আছে, এগুলো সমাধান করা যাবে। এটা আলোচনা চলছে।
বিশ্ব অর্থনীতির নীতি-নির্ধারণী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী ও উন্নয়ন সহযোগীসহ ১৯১ দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি।
সৌদি আরবে নিরাপত্তা সংকটের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী ও সৌদিগামী যাত্রীরা। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন পর্যন্ত ২৮টি ফ্লাইটের ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরাসরি সৌদিগামী ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট ফ্লাইটের যাত্রীরাও এ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে কেউ বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন, কেউ ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। নতুন ফ্লাইটের অপেক্ষার পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, চাকরিতে যোগ দিতে না পারা এবং অতিরিক্ত খরচের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
সোমবার (১২ অক্টোবর) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট শাখার স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর এ তথ্য জানান। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি এবং ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন যাত্রাসূচি সম্পর্কে যথাসময়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে রিয়াদগামী যাত্রীদের যাত্রাসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছিল, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি, ইউএস-বাংলার একটি, সৌদিয়ার তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের দুটি রয়েছে। তবে ইন্ডিগো ও হিমালয়া এয়ারলাইন্সের দাম্মামগামী কানেক্টিং ফ্লাইটের তথ্য ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, রোববার ও সোমবারের ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইট স্থগিত ছিল। রিয়াদের বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সময়সীমা বাংলাদেশ সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৩টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিয়ে ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-দাম্মাম রুটের বিজি৩৪৯ ফ্লাইটটি প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্বের পর সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার শঙ্কা: সৌদি আরবে চাকরি পেতে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করেছেন মোহাম্মদ হাসান। গত রোববার বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় তিনি জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রিয়াদে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তার কোম্পানি বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিল। হাসান বলেন, ব্যবস্থা না হলে কী হবে, তা তিনি জানেন না। চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি।
হাসানের মতো অনেক কর্মীর জন্য ফ্লাইট বাতিল শুধু যাত্রা বিলম্বের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের চাকরি, ঋণ এবং পরিবারের জীবিকা। প্রথমবার বিদেশে কাজে যেতে চাওয়া কর্মীদের অনেকে জমি বিক্রি, ঋণ কিংবা পরিবারের সঞ্চয় থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ভিসা ও চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মোহাম্মদ রেজাউল করিম তিন মাসের ছুটি শেষে দাম্মামে কাজে ফিরছিলেন। ইন্ডিগোর কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে দুপুরে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন, তার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়াই অপেক্ষা করার কথা জানান তিনি। সন্ধ্যায় ট্রাভেল এজেন্সি তাকে ঢাকায় রাত কাটিয়ে পরদিন ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে বলে। একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন মোহাম্মদ আরিফ ও মোহাম্মদ তামিম ইসলাম।
সাইমন নামের আরেক প্রবাসী কাঠমান্ডু হয়ে হিমালয়া এয়ারলাইন্স দাম্মাম যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাকে ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম রিয়াদের ফ্লাইট ধরতে এসে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। দুই সন্তান ও বয়স্ক বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার ওপর। অন্যদিকে, মোহাম্মদ শাহীনকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন করে ভ্রমণের অনুমতি নিতে হবে। অনিশ্চয়তার মধ্যে তাকেও গ্রামের বাড়িতে ফিরে এজেন্সির খবরের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়।
চার মাসের ছুটি শেষে কাজে ফিরতে চাওয়া নড়াইলের শংকর কুমার দাসও বিমানবন্দরে অপেক্ষার পর গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং ঋণ পরিশোধের দায় তাকে কাজে ফিরতে বাধ্য করছে। তার ভাষায়, সংঘাত থাকুক বা না থাকুক, জীবিকার তাগিদে তাকে কাজে ফিরতেই হবে।
দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা কর্মীদের ভোগান্তি আরও বেশি। যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার বাড়তি ব্যয় এবং আয়হীন অপেক্ষা তাদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের খবর অনেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জানতে পেরেছেন। এরপর তাদের নিজ নিজ রিক্রুটিং এজেন্সি বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিকল্প ফ্লাইটের চেষ্টা, অনিশ্চয়তা কাটেনি: এমআরজে গ্লোবালের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ইন্ডিগোর ফ্লাইটে যাত্রা ব্যাহত হওয়া কর্মীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে কত দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা যাবে, অতিরিক্ত খরচ কে বহন করবে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চলা কর্মীদের নিয়োগকর্তারা ছুটি বাড়াবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আহত চার বাংলাদেশি রিয়াদের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।
শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে প্রভাবের শঙ্কা: সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এবং প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন বাংলাদেশি বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২, অর্থাৎ প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি। শুধু সেপ্টেম্বরেই সৌদি আরবে গেছেন ৩২ হাজার ৯১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে আসা মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আসা ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে সৌদি আরবের অবদান ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রবাহের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কার তথ্য না থাকলেও সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মীদের কাজে যোগদান ও ছুটি শেষে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে প্রবাসী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এবং যাত্রা পুনরায় শুরুর নিশ্চয়তা না থাকায় হাজারো যাত্রীর অনিশ্চয়তা কাটেনি। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও দ্রুত ফ্লাইট চালু না হলে যাত্রীদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও চাপ তৈরি হতে পারে।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যায়, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হলে নীরব থেকো না। বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাও; প্রয়োজনে হেল্পলাইনের সহায়তা নাও। তোমাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মনে রেখো, তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয়; সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হও। শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরো, দক্ষতা অর্জন করো এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নাও। স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। তোমাদের স্বপ্ন বড় হোক, প্রস্তুতি হোক দৃঢ়, আর লক্ষ্য অর্জনে থাকুক অধ্যবসায়।
অভিভাবকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান-কন্যাকে বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিন। ছেলে সন্তানকে ছোটবেলা থেকে মেয়েদের সম্মান করতে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে শেখান। বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে মেয়ের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করুন। সংসারের চাবির পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চাবিটিও তার হাতে তুলে দিন।
সমান অধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ছেলের মতো মেয়েকেও নিজের যোগ্যতায় সফল হওয়ার সুযোগ দিন, দক্ষ করে তুলুন এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনে সহযোগিতা করুন।
কন্যাশিশুর বিশ্বজয়ের জন্য পরিবর্তন জরুরি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আর সেই পরিবর্তন সম্ভব। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা ও শিক্ষক, কাজি, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এক ডানায় ভর করে কোনো পাখি যেমন আকাশে উড়তে পারে না, তেমনি নারী ও কন্যাশিশুকে পেছনে রেখে কোনো সমাজ ও জাতি-উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। এ প্রসঙ্গে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার কথা মনে রাখতে হবে। আমরা সমাজের অর্ধাঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কী রূপে।’
কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে প্রতিটি কন্যা নিরাপদে জন্ম নেবে, নির্ভয়ে বেড়ে উঠবে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করবে, দক্ষতা অর্জন করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং একদিন গর্বের সঙ্গে বলবে—এই দেশ আমার। এই ভবিষ্যৎও আমার। শিশু বিয়ে আর নয়। বৈষম্য আর নয়। কন্যার স্বপ্ন থামবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইইউর অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
সাক্ষাৎকালে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জালিয়াতি প্রতিরোধ ও নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আর্থিক নথিতে কিউআর কোড সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যাতে বৈধ চ্যানেলে সহজে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন এবং বাংলাদেশ থেকে মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করেন তারা।
অভিবাসনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্রেন ড্রেইনকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তরের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইইউ সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি ইইউ প্রতিনিধিদলকে সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর বিষয়ে অবহিত করেন। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইইউ প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক হেনরিক নীলসেন ও ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং সংস্থাটির একজন ফার্স্ট কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—এই প্রতিপাদ্যে দেশের নয় জেলায় নানা আয়োজনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজশাহী, নীলফামারী, মাগুরা, ঝিনাইদহ, বান্দরবানের লামা, সাতক্ষীরার তালা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হয়। এসব আয়োজনে কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। বাল্যবিয়ে একটি কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথে বড় বাধা। এ বাধা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাজশাহী ব্যুরো: জেলা প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন। উপস্থিত ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। সভা শেষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৩০ জনের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির অনুদান হিসেবে ২৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
নীলফামারী: জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ূন কবির। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনীম আওন ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহায়েল পারভেজ। বক্তারা কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
মাগুরা: জেলা প্রশাসন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ও শিশু একাডেমির যৌথ উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মামুনুর রহমান। বক্তব্য দেন শিশু একাডেমির কর্মকর্তা ইকবাল তালুকদার ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান। পরে স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মধ্যে চেক এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ঝিনাইদহ: জেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা হয়। এতে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নারায়ণ চন্দ্র পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মুন্সী ফিরোজা সুলতানা। বক্তারা কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করে অধিকার প্রতিষ্ঠায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
লামা (বান্দরবান): বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ইউএনডিপির উদ্যোগে র্যালি এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রভুজ বড়ুয়া। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা গোপাল কৃষ্ণ চক্রবর্তী, লাইনঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজিদা ইয়াসমিন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কন্যাশিশু ও নারীর ক্ষমতায়নবিষয়ক প্রকল্পের এডুকেশন ফ্যাসিলিটেটর মো. শামীম মিয়া। বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব।
তালা (সাতক্ষীরা): উপজেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাজমুন নাহার। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. ইমান উদ্দীন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাবিহা নাসরিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ও তথ্য আপা প্রকল্পের মুক্তি ঘোষ।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : উপজেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার। বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, কন্যাসন্তানদের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে না দিয়ে সুশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখার রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) : উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন থানার ওসি আ ফ ম আছাদুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি সাহাদৎ হোসেন সনি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাজাত হোসেন পল্টন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, সাংবাদিক আখতারুজ্জামান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। বক্তারা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার তা নিশ্চিত করা সরকার প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
শারদীয় দুর্গাপূর্জা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিগণ দেখা করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
মতবিনিময়কালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’
নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন বলে জানান।
তাঁরা বলেন, তাঁদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যে ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মতবিনিময়কালে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুভ উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সোমবার সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভার শুরুতে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পুরোদমে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর ও চালুর বিষয়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং নভেম্বরের শুরুর দিকেই উদ্বোধনের জন্য তাঁর সময় পাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় আশাবাদী। উদ্বোধনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাবেন এবং সফর সমাপ্ত করে ২৯ অক্টোবর দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন; এরপর তাঁর সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী উদ্বোধনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে।
কক্সবাজার থেকে কোন কোন বিমান পরিবহন সংস্থা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং কোন কোন রুটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বিশদ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান পর্যটনমন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি প্রধানরা অংশ নিয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য গন্তব্য দেশগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু অর্থায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে কানাডার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কানাডার মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনই মূল পথ বলে জানান তিনি, যার সঙ্গে কানাডার প্রতিমন্ত্রী পূর্ণ সহমত পোষণ করেন। এছাড়া দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মেটাতে কানাডা থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ইতিবাচক আগ্রহের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) এবং আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অটোয়ার সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
কৃষি উৎপাদন ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রসঙ্গে বৈঠকে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রান্তিক চাষিদের কাছে সার ও বীজসহ কৃষি উপকরণ সহজে পৌঁছে দিতে সরকার কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে, যেখানে কানাডার উপাত্ত ব্যবস্থাপনার আধুনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। একই সঙ্গে ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিআইএমএমওয়াইটি) কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উঠে আসে। বিশ্বব্যাংকের পর্যালোচনার বরাতে তিনি আরও বলেন, সামাজিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিগুলোকে সমন্বিত করে নগদ সহায়তার পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যকর করা গেলে দেশের অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব, যা স্বাবলম্বী জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণে খাল খনন এবং দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো প্রশংসিত হয়। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার ছাড়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যা থেকে বাংলাদেশও উল্লেখযোগ্য সহায়তা পেতে পারে। এ ছাড়া কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, বর্তমানে দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাক্ষাতের সমাপ্তিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কানাডা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এই বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি এবং গুরুতর আহত আরও ২৪ জনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, নিহত দুজন হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। নিহতের মধ্যে শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে জেদ্দা প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন এবং ভাইয়ের মৃত্যুতে দেশে এসে ছুটি কাটিয়ে রিয়াদ হয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। অন্যদিকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদ থেকে জেদ্দাগামী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন নাসরুল্লাহ।
হামলায় আহত ২৪ জন বাংলাদেশি বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী। কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। তবে রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নওগাঁর রানীনগরের ওমরাহযাত্রী সাফফাত রহমান এখনও অচেতন অবস্থায় রয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. দাউদুল ইসলাম। এছাড়া রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ঢাকার লালবাগের মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ এবং মিরপুরের আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন।
অন্যান্য হাসপাতালের মধ্যে ঢাকার ডেমরা এলাকার মো. আবদুল্লাহকে প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে এবং কামরাঙ্গীরচরের আরমান হোসেনকে সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে কর্মরত দুই প্রবাসী মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হকও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন প্রবাসী মো. রফিক মিয়া এবং কিং ফাহাদ মেডিক্যাল সিটিতে ভর্তি রয়েছেন ইসমাইল হোসেন, মো. রায়হানুল ইসলাম ও মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা। এছাড়া প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন পাঁচ প্রবাসী কর্মী সালমা আক্তার, মো. শাহادات হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।
এদিকে এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে রয়েছেন নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় ভর্তি রয়েছেন উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, আহত প্রবাসীদের যথোপযুক্ত ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ দ্রুত স্বজনদের কাছে পাঠানোর বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, বাল্যবিয়ে নির্মূল এবং সমাজে তাদের সমমর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত 'আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬' উপলক্ষ্যে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘কন্যাশিশু কোনো বোঝা নয়, এটি একটি অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা।’ একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কন্যাশিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা কোনো দয়া নয় বরং এটি তাদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার এবং তাদের সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।
নারী ও কন্যাশিশুর ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর বিচার নিশ্চিত করবে জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, অপরাধীদের কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। যেকোনো বিপদে দ্রুত রাষ্ট্রীয় জরুরি সহায়তা ও পরামর্শ পেতে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯, ১০৯৮ এবং ৯৯৯ সম্পর্কে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। পাখির উপমা টেনে তিনি বলেন, একটিমাত্র ডানার ওপর ভর করে যেমন পাখির পক্ষে উড্ডয়ন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারী ও কন্যাশিশুকে পেছনে ফেলে কোনো জাতিই প্রকৃত উন্নয়নের শিখরে আরোহণ করতে পারে না।
এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাল্যবিয়ে শৈশবকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে এবং মেধার চরম অপচয় ঘটায়। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি কন্যাদের পরিবারের ওপর বোঝা না ভেবে তাদের সার্বিক কল্যাণ ও সুশিক্ষায় নিয়মিত বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন। পুত্রসন্তানের পাশাপাশি কন্যাদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলোকে কন্যাশিশুর প্রতি সমাজের নেতিবাচক মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষভাগে কন্যাশিশুদের সাহসী হওয়ার প্রেরণা জুগিয়ে রাষ্ট্রপতি আত্মমর্যাদা রক্ষা, শিক্ষার প্রসার ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিকূলতা জয়ের নির্দেশনা দেন এবং যেকোনো অন্যায়ের মুখে মুখ বুজে না থেকে অভিভাবক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক হেল্পলাইনের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।