সোমবার, ৪ মে ২০২৬
২১ বৈশাখ ১৪৩৩
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সাক্ষৎকার

ওই রাতে শেখ কামালকে না যেতে দিলেই হতো 

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। ছবি: সুদীপ্ত সালাম
আপডেটেড
১৫ আগস্ট, ২০২৩ ১৬:৫৯
রাহাত মিনহাজ
প্রকাশিত
রাহাত মিনহাজ
প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৩ ০৯:০৫

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলাদেশের একজন বর্ষীয়ান বাম রাজনীতিক। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত মিনহাজের সঙ্গে।

রাহাত মিনহাজ: ১৯৭৫ সালের আগস্টে আপনার রাজনৈতিক পরিচয় কী ছিল?

মুজাহিদুল সেলিম: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি ছিলাম। তবে আমার ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর আমি তখন সরাসরি কমিউনিস্ট পার্টির কাজে যুক্ত ছিলাম। কমিটির সদস্য হিসেবে পাড়া-মহল্লাগুলোতে পার্টির সংগঠন গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করেছিলাম। কিন্তু এর মধ্যে যখন বাকশাল গঠিত হয়, সব রাজনৈতিক দল বাতিল করে দিয়ে একটা জাতীয় রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক- সব একটা একটা করে সংগঠন তৈরি হলো। তখন জাতীয় ছাত্রলীগ নামের একটা সংগঠন গড়ে তোলা হয়। সেই জাতীয় ছাত্রলীগের যে কমিটি গঠন করা হয় সেই কমিটিতেও আমাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই ১৫ আগস্ট চলে আসে। যার ফলে তখন এ কথা বলা যায় যে জাতীয় ছাত্রলীগ গঠিত হয়েছে। আবার এ কথাও সমানভাবে সত্য যে ছাত্র ইউনিয়নের কাঠামোটা তখনো ভেঙে যায়নি। পুরাতন ছাত্রলীগের কাঠামোটাও ঠিক ছিল। সবার রাজনৈতিক যোগাযোগও অটুট ছিল।

রাহাত মিনহাজ: ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা ছিল। এ নিয়ে নিশ্চয়ই আপনাদের ব্যস্ততা ছিল?

মুজাহিদুল সেলিম: আমি ডাকসুর ভিপি। বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটা বড় রকমের আয়োজন ছিল। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বঙ্গবন্ধুকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বহিষ্কারের এত বছর পর, তাঁকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবর্ধনা দেয়া, এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। সুতরাং খুব জাঁকজমকের সঙ্গেই এই অনুষ্ঠানটা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নানা অংশ আছে, তার মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ হলো ছাত্রসমাজ। ছাত্রসমাজের যে নির্বাচিত সংস্থা, তার ভিপি হিসেবে সেখানে আমাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাই আমাদের ব্যস্ততা ছিল অনেক বেশি।

রাহাত মিনহাজ: ১৫ আগস্টের আগে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি কেমন ছিল। আমরা যতদূর জানি কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল?

মুজাহিদুল সেলিম: বঙ্গবন্ধুর আগমন উপলক্ষে আমরা বিরাট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আয়োজনের নানা মাত্রা ছিল। ১৩ আগস্টে আমার কাছে খবর আসে পাকিস্তান দিবস (১৪ আগস্ট) উপলক্ষে পাকিস্তানের গুণগান গেয়ে একটা হ্যান্ডবিল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিলি করা হয়েছে। তবে তা খুব সংখ্যায় অল্প। আমরা একটু বিচলিত হই এই ভেবে যে পাকিস্তানপন্থিরা এই পরিস্থিতিতে আবার তৎপর।

রাহাত মিনহাজ: ক্যাম্পাসে হাত বোমা বা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা কখন ঘটে?

মুজাহিদুল সেলিম: এটা ১৪ আগস্টের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই-তিনটা গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, আরেকটা সায়েন্স ভবনের ম্যাথমেটিক্স ডিপার্টমেন্টের দোতলায় বাথরুমের ভেতর। আমি নিজে ম্যাথমেটিক্সের বাথরুমে গিয়ে বিস্ফোরিত গ্রেনেডের স্প্লিন্টারগুলো দেখতে পাই। তাড়াতাড়ি সরকারি সংস্থাগুলোকে খবর দেয়ার চেষ্টা করি। আমি নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। দেখে বুঝলাম যে স্প্লিন্টারগুলো বেশ শক্তিশালী। তবে কেউ হতাহত হয়নি।

রাহাত মিনহাজ: তারপর আপনারা কী করলেন?

মুজাহিদুল সেলিম: মোটরসাইকেল দিয়ে ভলান্টিয়াররা নিরাপত্তার ব্যাপারটা দেখাশোনা করছিল। আমি তদারকি করছিলাম। সন্ধ্যার দিকে দেখি মিলিটারি ইনটেলিজেন্সের লোকেরা টিএসসির সামনে। তাদের প্রধানের সঙ্গে আমার দেখা হলো। তিনি বললেন, ‘কোনো চিন্তা করবেন না, আমরা সব সিকিউরিটি চেক করেছি। এবং মেটাল ডিটেক্টর ডিভাইস দিয়ে আমরা সব এলাকা পরীক্ষা করে আন্ডার কন্ট্রোলে রেখেছি।’ পরবর্তী সময় হিসাব মিলিয়ে নানা রকম অ্যানালাইসিস করে আমি দেখেছি যে, এইটাও ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার একটা অংশ। কারণ মিলিটারি ইনটেলিজেন্স টিএসসি, ইউনিভার্সিটি এরিয়ায় ব্যবহার করে, আক্রমণের আসল জায়গায় যেতে যাতে গোয়েন্দা নজরদারি দুর্বল থাকে, সেটার জন্য হয়তো এটা করা হয়েছিল।

রাহাত মিনহাজ: ১৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে বোমা কারা ফাটাল। তাদের লক্ষ্য কী ছিল?

মুজাহিদুল সেলিম: এটা ছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কাজ। তৎকালীন জাসদের নেতা, এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন একাধিক জায়গায় বলেছেন ওই গ্রেনেড দুইটা তাদের কর্মীরা ফাটিয়েছিল। তারা এই বোমার নাম দিয়েছিল নিখিল। নিখিল নামে তাদের এক কর্মী ছিল। যে বোমা বানাতে গিয়ে নিহত হয়। তাই তারা এই বোমার নাম দিয়েছিল নিখিল।

রাহাত মিনহাজ: সেই সময়ে নিখিল হামলা কি নিতান্তই নিছক কোনো প্রতিবাদ ছিল। নাকি এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল?

মুজাহিদুল সেলিম: আমি এখনো এইটার যোগসূত্রটা বুঝতে পারি না। এখানে একটা রহস্য আছে। এটা কি জাসদ বিচ্ছিন্নভাবেই করেছিল নাকি কেউ তাদের দ্বারা করিয়েছিল। তাদের ডাইভারসন ট্যাকটিসের অংশ হিসেবে। এই প্রশ্নের পরিপূর্ণ জবাব আমি আজও পাইনি। ভেতরে ভেতরে অনেক কিছু থাকতে পারে।

রাহাত মিনহাজ: যতদূর জানি বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামাল ওই রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলেন?

মুজাহিদুল সেলিম: শেখ কামাল ক্যাম্পাসেই ছিল। একটু গভীর রাত, সম্ভবত রাত দেড়টা-দুইটার দিকে শেখ কামাল আমার কাছে আসে। ও বলে ‘সেলিম ভাই, আপনারা তো আছেনই। আমি বাসায় যাই।’ কামাল তখন সদ্য বিবাহিত। আমার মনটা নরম হয়ে গেল। তাকে বললাম তুমি যেতে পার। কিন্তু কাল প্রেসিডেন্টের মোটরকেডে করে তুমি ক্যাম্পাসে আসতে পারবে না। তোমাকে আগেই ক্যাম্পাসে এসে ডিউটিতে জয়েন করতে হবে। এই শর্তে তাকে আমি যেতে দিলাম। ওটাই ছিল কামালের সঙ্গে আমার শেষ দেখা। এখন মনে হয় আমি যদি তাকে যেতে না দিতাম! মনটা শক্ত করে তাকে যদি বলতাম তুমি কি লাটসাহেব! আমরা জেগে আছি আর তুমি বাসায় যাবে। যদি তাকে রেখে দিতাম হয়তো তার জীবনটা রক্ষা পেত!

রাহাত মিনহাজ: এরপর কী ঘটল। আমি জানতে চাচ্ছি খুনিদের অভিযান বা হত্যা মিশন সম্পর্কে আপনারা কখন জানতে পারলেন?

মুজাহিদুল সেলিম: কামাল চলে যাওয়ার পরও আমরা ক্যাম্পাসে তৎপর ছিলাম। ক্যাম্পাসের এখানে-সেখানে ঘুরে ঘুরে তখন প্রায় ভোর হচ্ছিল। ভোর হয় হয় ভাব। আমি বসেছিলাম কলা ভবনের সামনে। তখন অনেকগুলো মোটরসাইকেল এল। যারা ক্যাম্পাস পাহারা দিচ্ছিল। ওখানে বসে আমরা কথাবার্তা বলছি। হঠাৎ দূরে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ শুনলাম। মনে হলো শব্দগুলো ধানমন্ডির দিক থেকে আসছে। বেশ দুশ্চিন্তা হলো। দুজন কর্মীকে পাঠালাম কী হচ্ছে দেখতে। ওরা একটু পরেই ফেরত এল। বলল ওই দিকে তো যাওয়া যাচ্ছে না। কলাবাগানের ওই সাইড থেকে গুলির আওয়াজ আসছে। ওরা আসতে আসতেই ইউনিভার্সিটির এক স্টাফ (কর্মচারী) দৌড়ে এসে বলল (তার রেডিও চালু ছিল), রেডিওতে তো এ রকম অ্যানাউন্সমেন্ট হচ্ছে। তখন ডালিমের ঘোষণা মাত্র সম্প্রচার শুরু হয়েছে…।

রাহাত মিনহাজ: এরপর আপনারা কী করলেন?

মুজাহিদুল সেলিম: আমি আবার আরেকটা দল পাঠালাম। ওরাও একই রিপোর্ট নিয়ে এল ধানমন্ডির দিকে যাওয়ার উপায় নাই। আমরা যারা কলাভবনের সামনে দাঁড়িয়েই ছিলাম আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এর একটা প্রতিবাদ করতে হবে। ওরা ইউনিভার্সিটিতেও তো অ্যাটাক করতে পারে। আমরা কোনো একটা নিরাপদ জায়গায় যাই। হাতিরপুলের একটা বাসায় আমরা ৫-৬ জন অবস্থান নিলাম। ওই বাসায় টেলিফোন ছিল। আমরা বিভিন্ন জায়গায় টেলিফোন করলাম। প্রতিবাদ মিছিলের জন্য সবাইকে রেডি থাকতে বললাম।

রাহাত মিনহাজ: এরপর কী ঘটছিল?

মুজাহিদুল সেলিম: ওই বাড়িতে আমরা রেডিও খোলা রাখলাম। ডালিমের অ্যানাউন্সমেন্ট আসছে দ্বৈতকণ্ঠে। আর একটু পরপর নতুন নতুন খবর আসছে। একে একে দেখা গেল যে তিন বাহিনীর প্রধান আনুগত্য ঘোষণা করলেন। খন্দকার মোশতাক তো আগেই শপথ নিয়ে নিয়েছে। তার কেবিনেটের মেম্বারদের নাম অ্যানাউন্স করা হলো এবং তারাও শপথ নেয়া শুরু করল। এভাবে বেলা দেড়টা-দুইটা বাজতে বোঝা গেল যে পাওয়ার কনসলিউডেড (ক্ষমতা সুসংহতকরণ) করা হয়েছে। সারা দেশে কারফিউ। ভয়ংকর পরিস্থিতি, রাস্তায় ট্যাংক ঘুরছে, রেডিওতে জঙ্গি সব গান-বাজনা চলছে। রাস্তাঘাট জনশূন্য। আমরা তখন ঠিক করলাম যে আজকে প্রতিবাদ করতে যাওয়াটা ঠিক হবে না। আমরা ঠিক করলাম আরেকটু প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। সে জন্য ইউনিভার্সিটি খোলা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

রাহাত মিনহাজ: এরপর তো অনেক কিছুই বদলে গেল রাতারাতি। আপনারা প্রতিবাদের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিলেন?

মুজাহিদুল সেলিম: আগস্ট থেকে অক্টোবর-নভেম্বর ১৯৭৫ এই সময়টা আমরা নিষ্ক্রিয় ছিলাম। তবে তারপরও আমরা কর্মীদের সঙ্গে ভেতরে ভেতরে সংযোগ গড়ে তুলছি। তখন যা ছিল বেশ বিপজ্জনক। ওই বাস্তবতায় আমরা সরাসরি নির্দেশ দিতে পারতাম না। সাংকেতিক চিঠি লেখা পাঠাতাম। যেমন- ‘প্রিয় আবদুল, তোমার বাবার মৃত্যু সংবাদে আমরা মর্মাহত। কিন্তু তুমি বড় ভাই। সংসারকে দেখে রাখতে হবে। মন যাতে ভেঙে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভাই-বোনের খবরাখবর রাখবে।’ এইটা দিয়ে সিগন্যাল বোঝা যেত যে বঙ্গবন্ধু মারা গেছে। সংসার ভেঙে গেছে যার অর্থ সংগঠন ভেঙে গেছে। ভাই-বোন অর্থ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। পোস্টকার্ডে এই ধরনের চিঠি লিখে সব জেলায় পাঠাতাম। তারপর আরেকটা ঘটনা ঘটেছিল।

রাহাত মিনহাজ: কী সেই ঘটনা?

মুজাহিদুল সেলিম: খন্দকার মোশতাক আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বৈঠক মিটিং ডাকে। মিটিং ডেকে তিনি সেখানে সবাইকে তার পক্ষে আনার জন্য চেষ্টা করেন। আমরা তখন সাইক্লো স্টাইল করে কড়া ভাষায় হুমকিমূলক একটা চিঠি সব এমপির কাছে পৌঁছে দিই। ‘খবরদার, আপনারা গেলে কিন্তু আপনাদের বিপদ হবে’- এই ধরনের শক্ত ভাষায় চিঠি পাঠাই। এতে কাজ হয়। খন্দকার মোশতাক যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে সফল হলেন না। এটা শুধু আমাদের প্রচেষ্টা না, অন্যদেরও প্রচেষ্টা ছিল। এর মধ্যে বোধহয় ১৮ অক্টোবর ক্যাম্পাস খুলেছিল। সাধারণ ছুটি, পূজা, সঙ্গে ক্যাম্পাসে যাতে কোনো অঘটন না ঘটে তা মিলিয়ে ক্যাম্পাস অনেক দিন ছুটি ছিল। ১৫ আগস্ট থেকে টানা চলছিল ছুটিটা। অক্টোবর মাসের শুরুর দিকেই আমরা ঠিক করলাম কবে ইউনিভার্সিটি খুলবে এবং খোলার পরপরই আমরা মিছিল করব। এটা হলো এক নম্বর সিদ্ধান্ত। দুই নম্বর সিদ্ধান্ত হলো ২৮ অক্টোবর আমরা একটা খালি পায়ে বটতলা থেকে নীরব মিছিল করে ৩২ নম্বরে যাব। এইটার জন্য একটা লিফলেট ছাপা হবে- ‘কাঁদো, দেশবাসী কাঁদো’। ওই লিফলেট ছাপা হয়েছিল দুই লাখ। সেগুলো বিভিন্ন প্রেসে ছাপানো হয়েছে, ডিস্ট্রিবিউটও হয়েছে। ছাপানো এবং ডিস্ট্রিবিউট করতে গিয়ে পাঁচ-ছয়জন কর্মী গ্রেপ্তারও হয়েছে। অনেকে আহতও হয়েছে। আমাদের কাজ কিন্তু চলছিল। লিফলেটটা ছাপাতে একটু দেরি হয়ে গেল। সেই কারণে আমরা তারিখটাকে পরিবর্তন করে ৪ নভেম্বর করলাম। বিশ্ববিদ্যালয় খুলল ১৮ অক্টোবর।

রাহাত মিনহাজ: তারপর আপনারা কী করলেন?

মুজাহিদুল সেলিম: তখন আমি ক্যাম্পাসে যেতে পারতাম না। কারণ আমি ওয়ানটেড ছিলাম। থাকতাম কাঁটাবনের একটা বাসায়। ২০ অক্টোবর ছাত্র ইউনিয়নের নেতা কাজী আকরাম মধুর ক্যানটিনে দলবল নিয়ে ঢুকে টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে ১ মিনিটের একটা জ্বালাময়ী ঘোষণা দিয়ে সব কর্মী নিয়ে করিডরের ভেতর দিয়ে ঝটিকা মিছিল করে। এই হলো প্রথম ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রথম প্রতিবাদ। ‘এক মুজিবের রক্ত থেকে লক্ষ মুজিব জন্ম নেবে’, ‘মুজিব হত্যার বিচার চাই’ স্লোগান চলল। সবাই হকচকিত। তারপর জাসদ এখন যারা মন্ত্রী, তারা পাল্টা মিছিল করল। তাদের স্লোগান ‘রুশ ভারতের দালালরা হুঁশিয়ার’, ‘দালাল সেলিমের কল্লা চাই’। আমাদের কর্মীদের ওপর আবাসিক হলে হলে আক্রমণ করা শুরু হলো। আমরা আবার এক দিন গ্যাপ দিলাম। তত দিনে আমাদের ডেট শিফট হয়ে ৪ নভেম্বর হয়ে গেছে। আমরা তখন টিচারদের পারমিশন নিয়ে প্রত্যেকটা ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে ক্যাম্পেইন করা শুরু করলাম। ক্লাস ক্যাম্পেইন যেটাকে বলে। আমি নিজে একটু গোপনে সব বুদ্ধিজীবীর বাসায় গেলাম। কবি জসীমউদ্‌দীন, বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী জয়নাল আবেদীন তাদের সঙ্গে কথা হলো। তাদের বললাম আমরা মিছিল করতেছি, আপনারা থাকবেন। তারা বললেন ‘তোমরা কর, আছি আমরা।’ তবে অনেকের শারীরিক অসুস্থতা ছিল। তাই যুক্ত হতে পারেননি। পরিকল্পিতভাবে আমরা মিছিলটার সব অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছিলাম।

রাহাত মিনহাজ: ক্যাম্পাসের অন্য ছাত্ররাজনীতি করা দল ছাত্রলীগ বা জাসদ ছাত্রলীগ কি তখন এতটা শক্তিশালী ছিল?

মুজাহিদুল সেলিম: আগে থেকেই তারা পাওয়ারফুল ছিল। তাদের সংগঠনের ভিত্তি ছিল। কর্মী ও ক্যাডার ছিল। এর আগে ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট ছিনতাই হয়েছিল। ওই ভোটে ব্যালট যদি ঠিকমতো কাউন্ট হতো, তাহলে জাসদের প্রার্থীরা জিতে যেত। আওয়ামী লীগের ভুলটা ছিল ছাত্র সংগঠনটাকে নিয়ে অতিরিক্ত রাজনীতি করা হয়েছিল। ক্ষমতাসীনরা বুঝতে চায়নি ডাকসুতে হেরে গেলে তাদের দেশের ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যায় না। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যা হয়েছিল তা ঠিক হয়নি। যার কারণে জাসদ ছাত্রলীগ আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

রাহাত মিনহাজ: এর মধ্যেই তো আবার অন্য ঘটনা ঘটে গেল?

মুজাহিদুল সেলিম: এসব প্রস্তুতির মধ্যেই ২ নভেম্বর রাতে ক্যু হয়ে গেল। ৩ তারিখ ভোরে জেল হত্যাকাণ্ড ঘটে। আকাশে প্লেন (জেট) উড়ছে, কিন্তু কী হচ্ছে কিছুই জানা যাচ্ছে না। রেডিওতে কোনো ধরনের ঘোষণা নেই। পুরো ৩ তারিখ জুড়ে নানা গুজব। মানুষ একেবারেই কিছুই জানতে পারছিল না। উত্তেজনাপূর্ণ, গুমোট একটা অবস্থা। আর আমরা এদিকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা হওয়ার হবে। আমরা আমাদের প্রোগ্রাম অব্যাহত রাখব। আমাকে একটু গোপনে থাকতে হচ্ছিল। কারণ পরের দিন আমাকে ক্যাম্পাসে আসতে হবে। সেদিন রাত্রে আমি চামেলীবাগে মঞ্জুরুল আহসান খানের বাসায় ছিলাম। ওই বাসা আমরা ব্যবহার করতাম লিফলেট ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য। যে বাসা থেকে মঞ্জুরুল আহসান খান কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা রাশেদ মোশাররফকে (খালেদ মোশাররফের ভাই ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য) ফোন করেছিলাম।

রাহাত মিনহাজ: কী কথা হলো তার সঙ্গে?

মুজাহিদুল সেলিম: মঞ্জুরুল আহসান খান ও রাশেদ মোশাররফ ছিলেন একই এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ভালো যোগাযোগ ছিল। রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনসহ নানা বিষয় জানতে মঞ্জুরুল আহসান খান মূলত তাকে ফোনটি করেন। ওই সময় রাশেদ মোশাররফ জানান তার ভাই (খালেদ মোশাররফ) এখানেই (রাশেদ মোশাররফের বাড়িতে) আছেন। তখন মঞ্জুরুল আহসান খানের সঙ্গে খালেদ মোশাররফের কথা হয়। খালেদ মোশাররফ ও মঞ্জুরুল আহসান খানের কথার মধ্যেই একপর্যায়ে খালেদের সঙ্গে কথা হয় আমার। আমি তখন খালেদকে ৪ নভেম্বরের পূর্বনির্ধারিত শোক র‌্যালির কথা জানাই। এবং তিনি জানান ‘আমার ছেলেরা তোমাদের বাধা দেবে না’। আমি তাঁকে (খালেদ মোশাররফ) এই মিছিলে অংশ নেয়ার আহ্বান জানাই। খালেদ হেসে জানান, তিনি পারবেন না। তবে তার মা মিছিলে থাকবেন।

রাহাত মিনহাজ: এদিকে তখন তো অনেক খবর বাতাসে ভাসছিল। ছিল নানা গুজব। আপনি কী ধরনের তথ্য পাচ্ছিলেন?

মুজাহিদুল সেলিম: ওই সময় গুজব দুই রকমের ছিল। একটা হলো অনেকেই বলছিল, সবাই তৈরি হও। জাতীয় চার নেতাকে আনা হচ্ছে। ওনারা শপথ নেবেন। মোশতাকের সরকার সরে গেছে। হত্যাকাণ্ডের যে রাজনৈতির পরিবর্তন সেইটাকে আবার কারেক্ট করা হইছে। আরেকটা গুজব ছিল, আগের তথ্য ঠিক না। চার নেতা আসছেন না। কিছু একটা ঘটেছে। কী ঘটছে, চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, এই কথাগুলো আমি শুনিনি। কিন্তু সামথিং সিরিয়াস ঘটে গেছে। ৩ তারিখ সারা রাত এমন শোনা গেল। ৪ তারিখ সকালের দিকে গুজবটা আরও মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। ‘ওনাদের কেন বের করা হচ্ছে না, কেন শপথ পাঠ করানো হচ্ছে না, জেলখানায় তো সাংঘাতিক কিছু একটা ঘটে গেছে’ এমন কিছু একটা। ৪ তারিখ সকালে আমি বিশ্ববিদ্যালয় গেলাম। নানা গুজব। আমি ভাবলাম গুজবে কান দিয়ে লাভ নেই। খোঁজ নিই। আমি দুজনকে পাঠালাম জেলখানায় খোঁজ আনতে।

রাহাত মিনহাজ: তারা কী খোঁজ আনল, আপনি পরে কী করলেন?

মুজাহিদুল সেলিম: তারা সবচেয়ে খারাপ খবরটাই আনল। ঘটনা ঠিক। মিছিলের আগে আমি বললাম কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। আমরা ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসি। ৩২ নম্বরে গেলাম। শোক মিছিলের আগে বঙ্গবন্ধুর বড় ছবি। সেখানে যাওয়ার পর বন্ধ দরজার সামনে ছবি রেখে ফুল দেয়া হলো। এক মাওলানা দোয়া পড়লেন। শেষে কলাবাগানে আমি রাস্তায় রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলাম জাতীয় চার নেতাকে জেলখানায় হত্যা করা হয়েছে। পরদিন ৫ নভেম্বর অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দিলাম।


বিনিয়োগ টানতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ৪ মে, ২০২৬ ১৬:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানাগুলোতে যারা আন্তরিকভাবে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কল-কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়ার জটিলতাও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও সময়োপযোগী করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের অনুমোদন অপরিহার্য নয়, সেগুলো অনুমোদন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতে হবে। সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করা জরুরি।

বন্ধ থাকা সরকারি কল-কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন সিকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


বন্ধ বস্ত্র ও পাট কারখানা পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ধ হয়ে থাকা বস্ত্র ও পাট খাতের কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সেগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৪ মে) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খাতটির বিদ্যমান সমস্যা, আর্থিক চ্যালেঞ্জ এবং পুনরুজ্জীবনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ জানান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কল-কারখানার বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, বৈঠকে বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্ধ কারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। আজ সোমবার (৪ মে) সকালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।

তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন এবং উভয় দেশের নতুন সক্ষমতা ও নতুন আকাঙ্ক্ষার দ্বারা চালিত এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনার উভয় দেশের নিজ নিজ জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সকল ক্ষেত্রে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ভারতের অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনারের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।


উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত: তিন জেলার আট পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে নদী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে চলা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে হাওর অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী স্টেশনের সংখ্যা ৬টি থেকে বেড়ে ৮টিতে পৌঁছেছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং পানির এই ক্রমবর্ধমান চাপ স্থানীয় জনপদে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পয়েন্টে নলজুর নদীর পানি গত একদিনে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও জেলার অন্যান্য হাওর অঞ্চলে পানি বাড়ার গতি কিছুটা ধীর এবং ঘণ্টায় গড়ে শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে বাড়ছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। অন্যদিকে, নেত্রকোনা জেলায় ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মগরা নদীর পানিও নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে বিপৎসীমার যথাক্রমে ৭৯ ও ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমলেও তা এখনো বিপৎসীমার বেশ ওপরে অবস্থান করছে। বর্তমানে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। হবিগঞ্জ জেলাতেও নদ-নদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আজমিরিগঞ্জে কালনি নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং সুতাং রেল ব্রিজ পয়েন্টে সুতাং নদীর পানি ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার এবং হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদপুর-বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা উজান থেকে পানির প্রবাহ বাড়িয়ে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় অতিবৃষ্টির কারণে হাওর বেসিনের নদীগুলোয় পানি সমতল আগামী কয়েক দিন আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস না পেলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক কাজ অনুসন্ধানে কমিশন চেয়ে রিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

এই সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতাও রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রোববার (৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন।

রিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিশন গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে বর্তমান সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরও একটি রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। তবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ বলে আদেশ প্রদান করেন।


সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়

* বাজার সিন্ডিকেট দমন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা * ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধের নির্দেশনা * মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট জোরদারে নির্দেশনা * স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ওপর গুরুত্বারোপ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সরকার যে রকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানেই যে কোনো সময়ে জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন। রোববার, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন
বাজার সিন্ডিকেট দমন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ; মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট জোরদার; স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীরে ওপর গুরুত্বারোপ করে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করেছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে, সেখানে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব, সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপোস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সামগ্রিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার ওপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি, সব দেশই কমবেশি অ্যাফেক্টেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে, বাংলাদেশও হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়, সকলের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং এর জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হবেন, তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই দুর্নীতি পরায়ণতা ও অপেশাদারীত্বের অন্যতম কারণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের যে কোন ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা আপনারা করবেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বাল্যবিবাহ রোধসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেগুলো আপনাদের সক্ষমতার মধ্যেই আছে। বিশেষ করে আবারো আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন-দয়া করে এই কয়টি বিষয়ে আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করেন:
বাজার সিন্ডিকেট দমন: কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি সহ্য করা হবে না। নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
খালখনন ও কৃষিবিপ্লব: প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচিতে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা।
ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করা।
সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী: কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের সঠিক বণ্টন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন।
মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতা: খাদ্যে ভেজাল, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টকে আরও নিয়মিত ও দৃশ্যমান করা।
মাদক ও আইনশৃঙ্খলা: মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ: সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ যেন কোনো অনিয়মের শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা।
স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস করতে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা।
জাতীয় ঐক্য ও সেবা: রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মতনির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
সম্মেলন উদ্বোধনকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টামণ্ডলী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, সশস্ত্রবাহিনীর প্রধানগণ, অন্যান্য উধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনারগণ এবং জেলা প্রশাসকগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট অধিবেশন হচ্ছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হচ্ছে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীগণ সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে ৬ মে।


পুলিশের ১৬ ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের ১৬ জন ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তারা বিধি অনুযায়ী অবসর সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।


এমপি হিসেবে এনসিপির নুসরাতের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন মনিরার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমপি হিসেবে এনসিপির নুসরাতের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন মনিরার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম ও মনিরা শারমিন

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন জানানো হয়েছে। রোববার (৩ মে) রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এই আবেদন জানিয়েছেন দলটির আরেক নেত্রী মনিরা শারমিন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া চিঠিতে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা উচিত হবে না। অন্যথায় তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করা হয় এবং পরে আপিলও খারিজ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে ৪ মে। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে গ্রহণ না করা হলেও আদালতের নির্দেশে তা বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, মনিরা শারমিনের রিটের রায় অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালত যদি তার পক্ষে রায় দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটগ্রহণ হতে পারে। আর রিট খারিজ হলে নুসরাত তাবাসসুমই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত হবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের ৪৯ প্রার্থী এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও এই আসনটি নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো কাটেনি।


ট্রাফিক আইন অমান্যে আধুনিক নজরদারি: হাজিরা না দিলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এখন থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে। ডিএমপির ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই অপরাধগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক ও চালকদের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো জেনারেটেড) নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। মূলত ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ বা হাজিরা না দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা নোটিশ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে আদালতের সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রম সম্প্রতি শুরু হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই বিচারিক প্রক্রিয়া কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্বলিত উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে লাল বাতি অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো এবং লেফট লেন ব্লক করার মতো অপরাধে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা করা হচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও এই পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতি বা প্রতারণার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, স্বয়ংক্রিয় নোটিশের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের নামে আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো অসাধু চক্র যদি সিসি ক্যামেরা মামলার নাম দিয়ে অর্থ দাবির চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেবল বৈধ সরকারি পন্থায় এবং ট্রাফিক বিভাগে সশরীরে হাজির হয়েই জরিমানা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ডিএমপির এই নতুন উদ্যোগটি নগরবাসীর যাতায়াতে স্বস্তি ফেরাতে এবং উন্নত নাগরিক সেবা দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াও দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত হবে, যা চালকদের আইন মানতে বাধ্য করবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়াকে বেগবান করায় ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগরীর সড়ক ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পর্যায়ক্রমে পুরো শহরকে এই উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে।


১৬ মে চাঁদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ৩ মে, ২০২৬ ১৬:৩০
চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে চাঁদপুর যাচ্ছেন। রোববার (৩মে) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে প্রস্তুতি সভা, প্রচার কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতার আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, সফরকালে তারেক রহমান খাল খনন প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এছাড়া তিনি সুধী সমাবেশ ও একটি বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর আসবেন। তিনি খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৮০ জন বাসিন্দার জন্য এই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম বলেন, জনসভার স্থান চাঁদপুর স্টেডিয়ামে হওয়ার জন্য আমরা প্রস্তাবনা কেন্দ্র পাঠিয়েছি। যাছাই-বাছাই জনসভার স্থান নির্ধারত করা হবে। তবে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আগে ২০০৪ সালে তারেক রহমান চাঁদপুর সফরে এসেছিলেন।


৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই কাজ শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময় দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার। আড়াই মাসে কিছুটা পরিস্থিতিরি উন্নতি হলেও তা এখনও সন্তোষজনক না। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে।”

ডিসিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থা আপনারা জানেন। তাই দেশকে বন্যা ও খরা থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখবেন। সততা, মেধা ও দক্ষতাই সরকাররে নীতি। এসব দেখেই পদন্নতি বা বদলি করবে সরকার, এটাই বিএনপির নীতি।”

জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান সরকার প্রধান।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

ডিসি সম্মেলনে যোগ দিতে সকাল ১০ টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে আসেন তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।


হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হামের উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়াও একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ১৭০টি শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

চলতি বছর এ পর্যন্ত হামে ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৩১টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৩৮ হাজার ৩০১টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬ হাজার ১০০ শিশু। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৬ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৬৫০।


থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছে ডাকাতির কাজে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামকে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র–সরঞ্জামসহ দুজনকে আটকের পর এ তথ্য জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া। তবে কোন থানার সেটি নির্দিষ্ট করতে পারেনি তারা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডেমরার মেন্দিপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন—চক্রের ‘হোতা’ মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিন ও তাঁর সহযোগী মো. রায়হান।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, দুজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, ভুয়া নম্বরপ্লেট, র‍্যাবের জ্যাকেট, হাতকড়া, ওয়াকিটকি, স্টিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি ও পিস্তল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। তারা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে আসছিল। কখনো র‍্যাব, পুলিশ আবার কখনো যৌথবাহিনীর পরিচয়ে অভিযানের নামে ডাকাতি করত তারা।

কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘আলামিন এই চক্রের অন্যতম নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র‍্যাব পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা লুটের ঘটনায়ও সে আসামি।’

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে ডাকাতি মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়ায় আলামিন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল জেলা সদর থানা এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, চুরি এবং অস্ত্র মামলাসহ মোট ৮টি মামলার তথ্য পেয়েছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার রায়হান পেশায় চালক হলেও ডাকাত দলের ‘গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী’ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তিনি ডাকাতির জন্য যানবাহন সরবরাহ, রুট নির্ধারণ এবং পালানোর পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতেন বলে জানায় র‍্যাব।


banner close