জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সিরিজ বোমা হামলার ১৮ বছর পরও দেশ থেকে জঙ্গি হামলার আতঙ্ক যায়নি। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে ভয়ংকর জঙ্গি সদস্য। এরই মধ্যে গত বছরের শেষ দিকে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে একটি নতুন জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের পর গত ৯ আগস্ট এই জঙ্গি সংগঠনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরই মধ্যে গত ১৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পাহাড়ে ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামে আরেকটি নতুন জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব মিলেছে। ইমাম মাহমুদের কাফেলার প্রধান নেতাসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অনলাইনমাধ্যমে জঙ্গিরা তাদের প্রচার ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনলাইনেই তারা জঙ্গি হামলার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা হামলার কৌশল রপ্ত করছে।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলার (মুন্সীগঞ্জ বাদে) ৪৩৪ স্থানে একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশের বিভিন্ন থানায় ১৫৯টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় ৬৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে এসব মামলায় ৭৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। হামলার ১৮ বছরের মধ্যে ১১৬টি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। ৪৩টি মামলা বিচারাধীন। ৩২২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত। গ্রেপ্তারকৃত আসামির মধ্যে ৩৫৮ জনকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয় ১৫ জনকে।
ঢাকা মহানগর আদালত সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর এলাকায় বোমা হামলার ঘটনায় ওই সময় ১৮টি মামলা হয়। এই ১৮টি মামলায় পুলিশ ও র্যাব ৯১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ৫৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দেয়। অনেক মামলায় আসামিদের নাম ও ঠিকানা কিছুই নেই বা ছিল না। সাক্ষীদেরও ঠিকমতো পাওয়া যায়নি। অনেক সাক্ষী সাক্ষ্য দিতেও আসেননি। বেশির ভাগ সাক্ষীর ঠিকানাও পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে ১৪টি মামলায় মাত্র ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন আদালত। বাকি চারটি মামলা বিচারাধীন পর্যায়ে আছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু দৈনিক বাংলাকে বলেন, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় যেসব মামলা ছিল তার মধ্যে বর্তমানে তিনটি মামলা বিচারাধীন। সেগুলোও সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সাক্ষীদের অনুপস্থিতিই মূল কারণ। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষীদের পাওয়া যায়নি। সাক্ষীদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। পুলিশও চেষ্টা করছে সাক্ষীদের খুঁজে বের করতে। চাঞ্চল্যকর এসব মামলা চাইলেই তো শেষ করে দেয়া যায় না। তার পরও সাক্ষী যা হয়েছে বা আরও কয়েকটি সাক্ষী নিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে এ বছরের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার চিন্তাভাবনা আছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক দৈনিক বাংলাকে বলেন, এ দেশে ২০০৪ সালে প্রথম জঙ্গি হামলা হয়। তারপর ২০১৭ সালে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলার মাধ্যমে জঙ্গিরা তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতার জানান দেয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও তদন্তের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সীমিত করে দেয়া হয়েছে। নতুন নতুন নামে যারাই আত্মপ্রকাশ করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সর্বশেষ ইমাম মাহমুদের কাফেলা নামে আরেক জঙ্গি সংগঠনের হোতাসহ অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সংগঠনটিও নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সিরিজ বোমা হামলা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, বিচারকের ঘন ঘন বদলির কারণে মামলার কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে। তা ছাড়া একেকটি মামলা একেক কারণে বিলম্বিত হয়ে থাকে। সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলাগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানার পর সেসবের ধীরগতির কারণ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দেয়া যাবে, কোনো মামলা না দেখে ধীরগতির কারণ ব্যাখ্যা করা যাবে না।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘র্যাবের অভিযানেই জেএমবির আমির শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহ, আবদুল আউয়াল, আসাদুল ইসলাম আরিফসহ শীর্ষ জঙ্গি নেতারা গ্রেপ্তার হয়। তাদের বিচারের মুখোমুখিও করা হয়েছে। তাদের ফাঁসির রায়ও সরকার কার্যকর করেছে। জঙ্গিরা এখন সাইবারমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। জাতিগতভাবে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। এ কারণে আমরা খুব অল্প সময়ে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। জঙ্গি কার্যক্রম থেকে ফিরিয়ে এনে তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তাই বলে এটা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। তবে অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জঙ্গিদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। আমরা সাইবার ওয়ার্ল্ডে খোঁজখবর ও নজরদারি করছি। এটা নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।’
২০০০ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে জেএমবির কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ময়মনসিংহে সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণ, রাজশাহীতে প্রকাশ্যে জঙ্গি কার্যক্রম, গাজীপুরে আদালত প্রাঙ্গণে বোমা হামলা, ঝালকাঠিতে বিচারকদের ওপর বোমা হামলা, নেত্রকোনায় উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলাসহ ২০০৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আলোচনার বিষয় স্থান করে নেয় জেএমবির জঙ্গি কার্যক্রম। জেএমবির কার্যক্রম যে একেবারে শেষ হয়ে গেছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। জেএমবি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কার্যক্রম বিস্তার করার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এদের শক্তিশালী নেটওয়ার্কের তথ্য মিলেছে। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে জেএমবির বোমা বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান জানান দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট ভারতের বেঙ্গালুরু এলাকা থেকে জেএমবির দুর্ধর্ষ পলাতক জঙ্গি বোমারু মিজানকে গ্রেপ্তার করে ওই দেশের এনআইয়ে টিম। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানীর গুলিস্তানে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর বোমা হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই বছরের ২৭ মে মালিবাগে পুলিশ ভ্যানে বোমা হামলায় একজন পথচারী আহত হন। একই বছরের ২৩ জুলাই রাতে খামারবাড়ি ও পল্টন পুলিশ বক্সে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দুটি শক্তিশালী আইইডি যুক্ত বোমা ফেলে রেখে যায়। চলতি বছরে বান্দরবানের পাহাড়ে জামাতুল আনসার আল ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে একটি নতুন জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ বছর এটি নিষিদ্ধ ঘোষণার পর ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামে আরেকটি নতুন জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেওয়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে তারা সায়েন্সল্যাব এবং মিরপুর টেকনিক্যাল মোড় থেকে সরে দাঁড়ালে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেছেন যে, আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তারা আবারও সায়েন্সল্যাব মোড় ব্লকেড করে গণজমায়েত মঞ্চ তৈরি করবেন।
এর আগে দুপুর ১টা থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধের কারণে রাজধানীর একটি বড় অংশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে টেকনিক্যাল মোড়েও শিক্ষার্থীরা সড়ক দখল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির আহ্বান জানান। দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় মিরপুর ও নিউ মার্কেটমুখী সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও আগামী সপ্তাহের নতুন কর্মসূচি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অবরোধের কারণে বাসটি আটকে পড়লে বাসে থাকা ঢাবি শিক্ষার্থী ও আন্দোলনরত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিম বাসটি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পেছন দিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে বাসের কাচ ভেঙে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং বাসের বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি হাজারীবাগে অবস্থিত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। এই হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম জানান, “আমাদের দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালের ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া, একজন সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে বাসটির দুটি জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বিকল্প রুট নির্ধারণের পরিকল্পনা করছি।”
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে নিয়ে আসা হয়েছে। বাসের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে ঢাবির পরিবহন দপ্তরের পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, “বাসের পেছনের গ্লাস পুরোপুরি ভেঙে গেছে, দরজা ও বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন যাতায়াতের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
আসন্ন গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা দেশব্যাপী এক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রমের সূচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়েছে। নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাগণ আজ থেকে শুরু হওয়া এই প্রচার অভিযানের মাধ্যমে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গণভোটের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি জনসমক্ষে তুলে ধরবেন।
প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন জেলার স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন এবং গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন। কর্মসূচির প্রথম দিনে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসহ জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রচারণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ ও প্রভাব জানতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার পরেই বাংলাদেশ সরকার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলক বেশি হারে মার্কিন কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নতুন অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবেন না—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। মূলত পারিবারিক পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান বা স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থগিতাদেশের সুনির্দিষ্ট আওতা, সময়সীমা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের নাগরিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ একটি দায়মুক্তি আইন অনুমোদন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। গণঅভ্যুত্থানকারীদের নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সরকার প্রত্যাহার করবে। নতুন করে মামলা করা হবে না।”
বিগত আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে যেসব মামলা রুজু হয়েছিল সেগুলো সরকার নিজে থেকেই প্রত্যাহার করে নেবে বলে উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের যেকোনো প্রকার হয়রানি থেকে মুক্ত রাখতে এবং তাদের অবদানের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারির দাবিতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে দ্বিতীয় দিনের মতো টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সড়ক দখল করে অবস্থান নিলে যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর একটি বিশাল মিছিল নীলক্ষেত অতিক্রম করে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। রাজপথ প্রকম্পিত করে শিক্ষার্থীরা এসময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারি করতে হবে। আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মানব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না।” সায়েন্স ল্যাবের পাশাপাশি মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানের ফলে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে সাধারণ নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবারও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল, যার ফলে রাজধানীবাসীকে ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া সাত কলেজের সংকট নিরসনে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে এখনো অনড় রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই খসড়াটি দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ থাকলেও শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ‘অধ্যাদেশ’ জারির দাবি জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে গিয়ে এই পরিচয়পত্র দাখিল করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।
বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন রাষ্ট্রদূতের মেয়াদকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রত্যুত্তরে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর, বহুমাত্রিক এবং ফলপ্রসূ করতে তিনি সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন। তিনি দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বেতন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত সুপারিশ কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্থান না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান বলেন, বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনার আলোকেই দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ শেষে কমিশনের কাছে মোট ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সেই প্রস্তাবনাগুলোর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। কমিটির সুপারিশগুলো এভাবে উপেক্ষিত হওয়ার প্রতিবাদেই তিনি কমিশন থেকে সরে দাঁড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবিক চাহিদা পূরণে এই সুপারিশগুলো অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে তিনি উচ্চশিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে ও এর উন্নয়নের স্বার্থে উপ-কমিটির প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বসহকারে আমলে নেওয়ার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। তার এই হঠাৎ পদত্যাগ শিক্ষা অঙ্গনে এবং বেতন কমিশনের কার্যক্রমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের হাওর ও জলাভূমি রক্ষা এবং এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। বুধবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশটি প্রকাশ করা হয়। নতুন এই আইন অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি অবৈধভাবে দখল, ভরাট কিংবা এর শ্রেণি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সারা দেশের হাওর ও জলাভূমির একটি সরকারি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনে সময় সময় তা সংশোধন বা হালনাগাদ করা হবে।
অধ্যাদেশটিতে হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর এই মহাপরিকল্পনা তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে, যা সরকারের বিদ্যমান নীতি ও কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া হাওর বা জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে মতামত না নিলে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।
নতুন এই আইনে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাওর বা জলাভূমির কান্দা অবৈধ দখল, ভরাট, অননুমোদিত খনন, রূপান্তর কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। অনুমোদন ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্য প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করলেও একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া পানি, মাটি ও পরিবেশ দূষণ করলে ২ বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এমনভাবে পানি উত্তোলন করা যা জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদের ক্ষতি করে, তার জন্য ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও অধ্যাদেশটিতে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল, বৈদ্যুতিক শক, বিষটোপ বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরলে ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। মাছের প্রজনন বা উৎপাদন ব্যাহত হয় এমন কর্মকাণ্ডের জন্য ১ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি বা সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার, জলাবন বা কান্দার বন ধ্বংস কিংবা প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করলে ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার উল্লেখ অধ্যাদেশে করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশও দিতে পারবেন, যা পালন করা বাধ্যতামূলক।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন তারা।
সাক্ষাৎ শেষে ন্যাশনাল খ্রিস্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাস মার্থা দাস বলেন, ‘জামায়াত আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো বিষয়। যারা আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যায় কম, তাদের নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে মনে না করার আহ্বানও জানিয়েছেন আমির। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ছোট সম্প্রদায়গুলোকে সন্তানের মত আগলে রাখবেন।’
বনি বাড়ৈ জানান, ‘আমরা এদেশের খ্রিস্টান নাগরিক হিসেবে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই।’
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘুদের অধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ, টিচার ফর পাস্তর ইন বাংলাদেশের ফরমার লেজিসলেটর ড. গর্ডন প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এ দেশের সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জামায়াতে ইসলামী সব সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর।
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহি পদে শপথ গ্রহণ করেছেন। বোন হারানোর গভীর শোককে দেশপ্রেমের শক্তিতে রূপান্তরিত করে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাহিনীতে যোগদান করলেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আরফান হোসেন শপথ নিয়েছেন এবং এখন থেকে তিনি বিজিবির একজন গর্বিত সিপাহি হিসেবে দেশের সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন।
শপথ গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আরফান হোসেন। তিনি দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আরফান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার বোনকে যে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে, আজ আমি সেই সীমান্তের রক্ষী। সীমান্তে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় আমি কখনোই চাইব না যে, আমার বোনের মতো আর কারও বোন বা কোনো বাবা-মায়ের সন্তানকে এভাবে হত্যা করা হোক। তিনি শপথ করে বলেন, প্রয়োজন হলে নিজের জীবন দিয়ে হলেও তিনি সীমান্ত রক্ষা করবেন এবং সীমান্তে এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকবেন।
এর আগে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরফান হোসেনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। সে সময় আরফানের বাবা মো. নুরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। ছেলের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে নুরুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে নিজের যোগ্যতাতেই এই চাকরি পেয়েছে এবং এর পেছনে সবার দোয়া ছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, আরফান চাকরিজীবনে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হবে। ছেলের এই দেশসেবার মাধ্যমেই তার মেয়ে ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিবেকে নাড়া দেয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার এখনো সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ছোট ভাই আরফানের বিজিবিতে যোগদান শোকসন্তপ্ত এই পরিবারটির মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নিয়োগপত্র হস্তান্তরের সময় বিজিবি কর্মকর্তারাও আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তারা সর্বদা ফেলানীর পরিবারের পাশে থাকবেন।
বাহরাইনে একটি বাসা থেকে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট বিতরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে, যেখানে দেখা যায় বাহরাইনে অবস্থানরত এক জামায়াত নেতার বাসা থেকে এসব ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, তিনি বিষয়টি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে আসলে কী ঘটেছে এবং ঘটনার সত্যতা কতটুকু, তা পরিষ্কার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া এই পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এত বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গেলে কিছু সমস্যা বা অনিয়মের চেষ্টা হতে পারে, যা মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, রাজনীতির মাঠে যারা বিচরণ করেন, তারা সবাই যে নিখুঁত মানুষ, বিষয়টি এমন নয়। কেউ সুযোগ পেলে এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো যেন কোনোভাবেই এই সুযোগের অপব্যবহার না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যখনই কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাবে, তখনই তা তদন্ত করা হবে। তদন্তের নির্দেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তকাজ কতটুকু এগিয়েছে তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় মিশনগুলোর ভূমিকা খুব একটা বেশি নয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপার সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারা ভোট প্রদান করে তা ডাকযোগে বা বাই-পোস্ট দেশে পাঠাবেন। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করতে হবে। তবে সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করার লক্ষ্যে “স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (SWM) - এর জন্য স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্প”- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টায় ঢাকা ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা মাল্টিপারপাস হল-এ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জনাব আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জনাব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং মিস হেজং কিম, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, বাংলাদেশে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্পের কারিগরি দিকসমূহ তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সাসটেইনেবল ডিএমএ ম্যানেজমেন্ট টুল (SDMT) বিষয়ক একটি বিশেষ কারিগরি উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট মিটার সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানির অপচয় হ্রাস, অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরণ, বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ পাইলট প্রকল্প ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নগর পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।