বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
১ মাঘ ১৪৩২
গ্রেনেড হামলা মামলা

১৯ বছরেও হাইকোর্ট পেরোয়নি, এ বছরেও সম্ভাবনা কম

আপডেটেড
২১ আগস্ট, ২০২৩ ০০:০০
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত
আব্দুল জাব্বার খান
প্রকাশিত : ২১ আগস্ট, ২০২৩ ০০:০০

ইতিহাসের বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলাটি বিচারের প্রথম ধাপ পেরিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে হাইকোর্ট বিভাগে ঝুলে আছে। ঘটনার ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলাটি। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে চলতি বছরেই হাইকোর্ট থেকে মামলাটির সমাপ্তি ঘটবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলছে যেভাবে থেমে থেমে শুনানি হচ্ছে তাতে এ বছরেও শেষ হবে না।

২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ আসামিদের করা আপিল শুনানি গত বছরের ৫ ডিসেম্বর বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুরু হয়। এরপর মুলতবি করে করে মামলাটিতে এখনো পেপারবুক পড়াও শেষ হয়নি। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার দাবি, চলতি বছরের মধ্যেই হাইকোর্টে মামলাটি শেষ হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘এ মামলায় পেপারবুক পড়া প্রায় শেষ। অল্প কিছু পৃষ্ঠা বাকি আছে। বিচারাধীন মামলার জ্যেষ্ঠ বিচারক কিছু দিন অসুস্থ থাকায় বেঞ্চটি বসছে না। তিনি সুস্থ হয়ে এলে বন্ধের পরে কোর্ট বসলে আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বন্ধের (অবকাশ) পরে যখন কোর্ট শুরু হবে তখন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক পেশ করার সুযোগ পাবেন। তাদের বক্তব্য শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাব। এরপর হয়তো ১০ থেকে ১২ কার‌্য দিবসেই শেষ হয়ে যাবে।

হাইকোর্টের রায়েও বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকবে এমনটি প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য থাকবে, বিচারিক আদালত অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে আইনগতভাবে রায় দিয়েছেন। এই রায় যাতে বহাল থাকে সেই প্রার্থনা করব আমরা। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই মামলা শেষ হবে।’

এ মামলায় আসামিপক্ষে রয়েছেন একাধিক আইনজীবী। তাদের মধ্যে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘২১ আগস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায় হয়েছে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর। এ মামলায় হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শেষ হলে আসামিপক্ষ থেকে আমরা শুনানি করব, তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। সামনে হাইকোর্টের দেড় মাসের একটা ভ্যাকেশন (অবকাশ) রয়েছে। এরপর কোর্ট শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ শেষ করবে। তারপর আসামিপক্ষে আমাদের সময় দিতে হবে। যেহেতু আসামিপক্ষে অনেক আইনজীবী রয়েছেন প্রত্যেককে সময় দিতে হবে। সবার বক্তব্য শেষ হলে তবেই মামলাটি রায়ের জন্য যাবে। তাতে মনে হচ্ছে না এ বছরই মামলাটি শেষ হবে।’

এ মামলার অন্যতম আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মামলাটিকে বলা হয়, জজ মিয়া নাটক। আসলে সব থেকে বড় নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে মুফতি হান্নানের মাধ্যমে। এ মামলায় একসময় ৬০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি হয়ে গিয়েছিল। সেই চার্জশিটে কোথাও তারেক রহমান, বাবরের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাদের আজ্ঞাসহ তদন্তকারী কর্মকর্তা দিয়ে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। যেখানে মুফতি হান্নানকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি করা হয়। পরে কিন্তু হান্নান অস্বীকার করেছেন- তিনি এমন জবানবন্দি দেননি। এটা দিয়ে প্রমাণ হয়, এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তির হয়রানি করার জন্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। আশা করি উচ্চ আদালতে তারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।’

আরেক আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ মামলায় পেপারবুক পড়া শুরু হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠ বিচারক অসুস্থ থাকায় কোর্ট বসছে না। সব পক্ষ শুনে মামলাটি শেষ করতে আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে’ বলেও মনে করেন তিনি।

বর্বরোচিত এ ঘটনার ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় এবং ১১ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এরপর ওই বছরের ২৭ নভেম্বর দুই মামলার রায়সহ প্রায় ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়। পরে ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি মামলায় আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য গ্রহণ করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সে সময়ে দ্রুত পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন। পরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক তৈরি হয়। এরপর ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে বিজি প্রেস থেকে হাইকোর্টে আসে। এরপর সেটা যাচাই-বাছাই করে প্রস্তুত করা হয় পেপারবুক। পরে প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন।

ঘটনার বিবরণ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের ৩ শতাধিক নেতা-কর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। তখন জানা যায়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে হামলার ছক করা হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে এসেছিল হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড।

এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর আরও ৩০ জনকে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২।

বিচার শেষে মামলার রায়

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর মামলার ঐতিহাসিক রায় প্রদান করা হয়। রায়ে ৪৯ জনকে সাজা দেয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জল, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ।

পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

আর এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।

তাদের দণ্ডবিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহুদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রুহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে ভিন্ন মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর পলাতক রয়েছেন তারেক রহমানসহ ১৬ আসামি।

সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের যত মামলা

২১ আগস্ট মামলা ছাড়াও এক সময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে রয়েছে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাজা। এ মামলাটিতেও তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে। মামলাটি এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন।

এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের এক মামলায় ৮ বছরের কারাদণ্ডের সাজা হয় তার বিরুদ্ধে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই থেকে কারাগারে আছেন বাবর।

বিষয়:

স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্টে নতুন অধ্যায়: ঢাকায় স্মার্ট মিটার সিস্টেম (এসডব্লিউএম) পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করার লক্ষ্যে “স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (SWM) - এর জন্য স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্প”- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টায় ঢাকা ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা মাল্টিপারপাস হল-এ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জনাব আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জনাব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং মিস হেজং কিম, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, বাংলাদেশে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্পের কারিগরি দিকসমূহ তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সাসটেইনেবল ডিএমএ ম্যানেজমেন্ট টুল (SDMT) বিষয়ক একটি বিশেষ কারিগরি উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট মিটার সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানির অপচয় হ্রাস, অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরণ, বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ পাইলট প্রকল্প ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নগর পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে।

অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


গাজায় সেনা মোতায়েন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনামূলক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এই বাহিনীতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন কোনো সামরিক অভিযানে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রাখা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে উপদেষ্টা জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাময়িকভাবে অনঅ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া চীনের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে নির্মিত সামরিক স্থাপনাগুলো নিয়ে সৃষ্ট জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে অন্য কোনো বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেই পরিচালিত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তৌহিদ হোসেন জানান, সীমান্তে সাম্প্রতিক হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গাজা মিশনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে এর আগে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। মূলত ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংহতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার আলোকেই এই জটিল বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে ডিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে একটি স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিসেম্বর-২০২৫ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। কমিশনার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে, তাই দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যেন সামান্যতম পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন যাতে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে বা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ অনৈতিক রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়েও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে ডিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি সদস্যকে আইন মেনে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান যে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না এবং দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সভা শেষে ডিসেম্বর মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। সভায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনার এবং সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এক বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত এক বছরে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থা নিয়ে এই ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরেন। উপদেষ্টা জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের জেদ্দায় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের মানোন্নয়নে জোরালো চেষ্টা চলছে। এর সুফল হিসেবে গত এক বছরে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং সেগুলোতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হলে দেশবাসীকে তা জানানো হবে।

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহেই তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের মধ্যে দুইবার টেলিফোনে কথোপকথন হয়েছে। এই ধারাবাহিক যোগাযোগের পর চলতি সপ্তাহের রবিবার জেদ্দায় দুই দেশের শীর্ষ এই কূটনীতিকরা সরাসরি বৈঠকে বসেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে টেলিফোনে আলাপ এবং এরপর সরাসরি সাক্ষাৎকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় শক্তিশালী করার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনসেবাই সশস্ত্র বাহিনীর মূল লক্ষ্য: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো জাতীয় বিপর্যয়ে জনগণের পাশে থাকাই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) একাডেমিতে আয়োজিত বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিংয়ের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেনাপ্রধান দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জাতির সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার বক্তব্যে বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগী হিসেবে দেশের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে এই ক্যাডেটরা প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে। সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ববহ বলে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং ক্যাডেটদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করেন। প্যারেড শেষে বিএনসিসি ক্যাডেটরা এক মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন, যা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।

এই সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিএনসিসি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সশস্ত্র বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মাধ্যমে ২০২৫/২৬ বর্ষের বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিংয়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।


নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কঠোর বার্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নস্যাৎ করতে দেশের বাইরে থেকে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ট্রেনিং সেন্টারে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবারের নির্বাচনে পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের বাকি ৬১টি জেলায় মোট ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। স্বাধীনতার পর থেকে যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিদেশ থেকে বসে বড় বড় কথা না বলে সাহস থাকলে দেশের ভেতরে এসে কথা বলুন। দেশের বাইরে থেকে নির্বাচন বানচালের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরাকান আর্মির ছোড়া গোলা প্রায়ই বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পড়ছে। তবে সংগঠনটি অবৈধ হওয়ায় তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের দাপ্তরিক যোগাযোগ নেই।


কেএফসি'র মেন্যুতে নতুন সংযোজন: বক্স মাস্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে গ্লোবাল ব্র্যান্ড কেএফসি'র একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি “ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেড” ২০০৬ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কেএফসি বাংলাদেশ প্রতিবারের মতো এবারও গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বাদের নতুন এক চমক – বক্স মাস্টার! নতুন ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজে বেড়ানো ফুড লাভারদের জন্য এটি একটি অনন্য উদ্ভাবন, যা একসঙ্গে উপস্থাপন করে স্বাদ, টেক্সচার এবং অতুলনীয় ফ্লেভারের অসাধারণ সমন্বয়।

নতুন এই আইটেমটিতে তুলতুলে নরম টর্টিয়াতে মোড়ানো হয়েছে কেএফসি-র সিগনেচার হট এন্ড ক্রিস্পি জিঙ্গার ফিলে। এর সঙ্গে রয়েছে হ্যাশ ব্রাউন, ফ্রেশ ভেজ মিক্স,স্পাইসি ন্যাশভিল সস ও চিজ স্লাইস। প্রতিটি কামড়ে থাকবে ঝাল, ক্রিমি আর ক্রাঞ্চের দুর্দান্ত মেলবন্ধন – যা একদিকে যেমন মজাদার, অন্যদিকে তেমনি রোমাঞ্চকর।

বক্স মাস্টার এখন পাওয়া যাচ্ছে দেশের সকল কেএফসি আউটলেটে – ডাইন-ইন, টেকঅ্যাওয়ে, হোম ডেলিভারি, কেএফসি অ্যাপ এবং অনলাইন অর্ডারে: kfcbd.com/menu/box-master


মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার চিকিৎসায় প্রস্তুত রাজধানীর নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার সীমান্তে সংঘটিত ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিনস) হাসপাতালকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিশুটিকে ভর্তির জন্য ইতোমধ্যেই হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ রুমে একটি বিশেষ শয্যা সংরক্ষণ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হুজাইফাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং সেখানে তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলির আঘাতের কারণে শিশুটির মস্তিষ্কের একপাশে প্রচণ্ড চাপ বা ইন্ট্রাক্রেনিয়াল প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল। এই চাপ নিয়ন্ত্রণ ও জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তার মাথার খুলির ডান পাশ অপারেশন করে খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন, যা বর্তমানে সেভাবেই রাখা হয়েছে।

হুজাইফার শারীরিক অবস্থার জটিলতা বিবেচনায় মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ডে নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, ভাস্কুলার সার্জন, আইসিইউ স্পেশালিস্ট ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। শিশুটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার পর মেডিকেল বোর্ডের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাকে উন্নততর ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকায় নিনসে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে শিশু হুজাইফার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (GCS) বা জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে মাত্র ৭-এ নেমে এসেছে, যা গভীর অচেতন অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। তার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, হুজাইফার চিকিৎসায় তাদের বিশেষজ্ঞ দল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে এবং তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণে তারা প্রস্তুত।


আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহ বিস্তারের পূর্বাভাস: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তরাঞ্চলে চলমান শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার আগামীকাল থেকে আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহটি বুধবার কিছুটা সীমিত পরিসরে থাকলেও আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের প্রকোপ নতুন করে শুরু হতে পারে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী শনিবার পর্যন্ত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগরের তেঁতুলিয়ায়, যা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মাধ্যমে টানা সাত দিন ধরে তেঁতুলিয়াতেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এর আগে মঙ্গলবার সেখানে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সোমবার ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং রবিবার ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিকে রাজধানী ঢাকাতেও তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী। মঙ্গলবার তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বুধবার সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, গত প্রায় চার দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতির দিকে ছিল। তবে আগামীকাল থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার প্রবণতা শুরু হবে এবং তা আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা পুনরায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে তা অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য হয়।

উল্লেখ্য, আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের শুরুতেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছিল যে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তেঁতুলিয়া ও এর আশেপাশের এলাকায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজমান রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিনে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এই সহায়তার আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা সংবাদ, গুজব ও অনুমানের যে বন্যা দেখা যাচ্ছে, তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টেলিফোন আলাপে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কেবল স্থানীয় সূত্র নয়, বিদেশি গণমাধ্যম থেকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই অপপ্রচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর জবাবে ভলকার তুর্ক জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে তার নজরে এসেছে এবং ভুয়া তথ্যের এই ব্যাপকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আশ্বাস দেন যে, এই সমস্যা মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। তিনি জানান, ভুয়া তথ্য রোধে তার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

উভয় পক্ষের আলোচনায় আসন্ন গণভোট, রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠনের বিষয়গুলো উঠে আসে। ভলকার তুর্ক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঠিক অনুসন্ধানের স্বার্থে একটি ‘বাস্তব অর্থে স্বাধীন’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন করে কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়াও ফোনালাপে গুম-সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গটি আলোচিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর ওপর তৈরি কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে তার দপ্তর গুম-সংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানান। আলাপচারিতার সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবসমাজের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলন (সার্চে-২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

তিনি বলেন, ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের শিক্ষাবিদদের একত্র হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত কয়েক মাসে ঢাকায় যা ঘটেছে, তা পর্যালোচনার একটি সুযোগ এই সম্মেলন তৈরি করেছে। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সামগ্রিকভাবে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই তরুণদের নিজেদের চিন্তা ও মনন আছে। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়ে প্রতিবাদ করেছে। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেই এই শহরে তরুণরা কেন অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল— তাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা কী ছিল তা বোঝার চেষ্টা না করলে একটি বড় সুযোগ নষ্ট হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রেরণার উদাহরণ হিসেবে তিনি শহীদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা চিঠির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বন্ধুদের সঙ্গে রাজপথে নামাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছিল সে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এসব ঘটনা হঠাৎ কোনো বিস্ফোরণ নয়। শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এমন ঘটনা ঘটেছে, তবে ঢাকায় তা ঘটেছে আরও ব্যাপকভাবে। তিনি সম্মেলন আয়োজনের জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার এমন আয়োজন সার্কের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সার্ককে আজ প্রায় ভুলে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সার্কের মূল ধারণাই ছিল পারস্পরিক বিনিময় ও একে অন্যের কাছ থেকে শেখা। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং এ দাবি তিনি বারবার জানিয়ে যাবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণঅভ্যুত্থান দেশের পুরোনো কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। তরুণরা নিজেদের জুলাই সনদ তৈরি করেছে এবং তারা মনে করে, দেশের সমস্যার মূল নিহিত রয়েছে সংবিধানে। সে কারণেই ভবিষ্যৎ সংবিধান নির্ধারণে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এসব বিষয় শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হয় না। অথচ তরুণরা ইতোমধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করেছে; ভবিষ্যতে তাদের কেউ কেউ সংসদে নির্বাচিতও হতে পারে, এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পেতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মৌলিকভাবে চাকরিকেন্দ্রিক, যা তিনি ভুল বলে মনে করেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল চাকরির জন্য মানুষ তৈরি করা— এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল; সৃজনশীলতাই মানবসভ্যতার মূল শক্তি। চাকরিনির্ভর শিক্ষা সেই সৃজনশীল মানুষকে দাসে পরিণত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত তরুণদের উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা, চাকরিপ্রার্থী নয়। কল্পনাশক্তিই মানুষের মূল শক্তি, আর সেই কল্পনাশক্তির জোরেই তরুণরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে জীবন দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান।


অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় চীনের ৫ নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম

আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাইবার ইউনিট পাঁচ চীনা নাগরিকসহ একটি অনলাইন প্রতারক চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত ৫১ হাজারেরও বেশি সিম কার্ড, ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চ্যাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়। মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (সাইবার উত্তর) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব-ভিত্তিক অপরাধ তদন্ত দল ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে করা অভিযোগ তদন্ত করার সময় ঢাকায় সক্রিয় একাধিক দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্র চিহ্নিত করেছে।

গত ৭ জানুয়ারি বসুন্ধরায় অভিযানে নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয় গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৫১ হাজার ৬৭টি সিম কার্ড, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

পরে গত সোমবার উত্তরায় পাঁচজন চীনা নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৪৭টি মোবাইল ফোন, ১৮৪টি সিম কার্ড ও পাঁচটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ডিসি জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্র টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, লাভজনক বিনিয়োগ, কম দামের পণ্য এবং ঘরে বসে কাজ বিজ্ঞাপন দিয়ে লোকেদের প্রলুব্ধ করত।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত করা হতো এবং ভিওআইপি গেটওয়ে মেশিনের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর করা হতো।

চীনা নাগরিকদের আগমন এবং ভিসার অবস্থা নিয়ে ডিসি বলেন, যে তাদের পাসপোর্ট যাচাই করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবাদার আরও বলেন, নিয়াজ ও হাসান জয়কে এরইমধ্যে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং বাকি গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।


খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট

আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু নির্যাতন সহ্য করলেও কখনো কোনো অভিযোগ করেননি। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি মন্তব্য করেন যে, হৃদ্যতাপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে খালেদা জিয়া সবাইকে মুগ্ধ করতেন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নারী হিসেবে তার নেতৃত্ব এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর উদ্যোগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মার্শা বার্নিকাট বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বহুবার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। চরম বিপদ ও সংকটকালীন মুহূর্তেও তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল এবং আন্তরিক। বার্নিকাট উল্লেখ করেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক প্রকৃতির মানুষ যিনি সর্বদা বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ খালেদা জিয়ার এই অবিস্মরণীয় লিগ্যাসি বা ঐতিহ্যকে স্মরণে রাখবে।

স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিরোধী মতের কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল, তখন খালেদা জিয়া নির্ভীক চিত্তে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি খালেদা জিয়ার বিগত দিনের রাজনৈতিক বন্দিত্বকে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরেক সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনাও খালেদা জিয়ার অমায়িক ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে এবং অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যেও খালেদা জিয়া তার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বিরোধী দলে থাকাকালেও তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত ও সহজ রেখেছিলেন। মজেনা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। এছাড়া ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মার্ক শেফ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা এবং এপির সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ডসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


banner close