রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৫ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া পূর্বাভাসে এমনটি জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রংপুর, বগুড়া, টঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
হিমালয়ের বরফগলা জলধারা থেকে উৎপত্তি হয়ে যে নদীটি সিকিম আর পশ্চিমবঙ্গ ছুঁয়ে বাংলাদেশের উত্তর জনপদে প্রবেশ করেছে, তার নাম তিস্তা। এককালে এই নদীকে বলা হতো ‘উত্তরবঙ্গের জীবনরেখা’। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে তিস্তা রূপ নিয়েছে দুঃখ, বঞ্চনা আর কান্নার অপর নাম। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে ধূ ধূ মরুভূমি, আর বর্ষায় উজানের ঢলে সর্বগ্রাসী বন্যা—এই দুই চরম সংকটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা। এই মরণফাঁদ থেকে উত্তরবঙ্গকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ সরকার হাতে নিয়েছে এক যুগান্তকারী ও চোখধাঁধানো রূপরেখা—‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বা ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই প্রকল্পকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।’
সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।’
কী আছে এই মহাপরিকল্পনায় : তিস্তা মহাপরিকল্পনা হলো মূলত প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রজেক্ট, যা চীনের ‘হোয়াংহো’ নদীর সফল ব্যবস্থাপনার আদলে তৈরি করা হয়েছে। ২০১৬ সালের একটি স্মারক চুক্তির মাধ্যমে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। এই মহাপরিকল্পনায় নদী শাসনের প্রথম ধাপ হিসেবে তিস্তা নদীর প্রায় ১০২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ড্রেজিং করা হবে। নদীর গভীরতা ১০ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো হবে, যাতে বর্ষার অতিরিক্ত পানি নদী নিজের বুকেই ধরে রাখতে পারে। নদীর দুই তীরে ২০৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও শক্তিশালী গাইড বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর ফলে প্রতি বছরের চিরচেনা নদীভাঙন চিরতরে বন্ধ হবে। নদীকে একটি নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত সীমানার মধ্যে এনে প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার চরভূমি (যা আগে নদীগর্ভে বিলীন ছিল) উদ্ধার করা হবে। উদ্ধার হওয়া এই বিশাল জমিতে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট শহর, পাঁচতারকা হোটেল, রিসোর্ট, বিনোদন কেন্দ্র এবং মেরিন ড্রাইভ। এছাড়া থাকবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট এবং অসংখ্য কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা।
কেন এই মহাপরিকল্পনা : বাংলাদেশে তিস্তার গতিপথ ১১৫ কিলোমিটার, যার মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার তীরভূমি চরম ক্ষয়প্রবণ।ক) শুষ্ক মৌসুমের মরুভূমি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকটশুষ্ক মৌসুমে ভারতের গজলডোবা বাঁধের মাধ্যমে একতরফাভাবে পানি আটকে রাখার ফলে তিস্তা বাংলাদেশ অংশে কঙ্কালসার হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IFPRI) মতে, পানির অভাবে এই অঞ্চলে বার্ষিক প্রায় ১৫ লাখ টন ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় তীব্র পানির সংকট তৈরি হয়। খ) বর্ষার উন্মত্ততা ও অর্থনৈতিক ক্ষতিআবার বর্ষাকালে যখন ভারতে পানির চাপ বাড়ে, তখন গজলডোবা বাঁধের সবগুলো গেট একসাথে খুলে দেওয়া হয়। আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যায় লাখো মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষেত। প্রতি বছর এই বন্যার কারণে বাংলাদেশের প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৯৮৩ সালের অন্তর্বর্তী চুক্তি কিংবা ২০১১ সালের সমান ভাগের খসড়া চুক্তি—কোনোটিই পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে আলোর মুখ দেখেনি। এই স্থায়ী অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্ম।
চীনের আগ্রহ ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI): চীনের ‘পাওয়ার চায়না’ কোম্পানি প্রায় ৩ বছর ধরে তিস্তা অববাহিকায় ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সমীক্ষা চালিয়েছে। চীন এই প্রকল্পের সিংহভাগ (প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা) ঋণ দিতে এবং কারিগরি সহায়তা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এর মাধ্যমে চীন মূলত তাদের বৈশ্বিক ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (BCIM) অর্থনৈতিক করিডোরে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চায়।
ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ: ‘চিকেনস নেক’ আতঙ্কচীন যখনই টাকা নিয়ে প্রস্তুত, তখনই তীব্র আপত্তি তোলে নয়াদিল্লি। কারণ, তিস্তা প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর খুব কাছে। মাত্র ২১ থেকে ২৫ কিলোমিটার চওড়া এই করিডোরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার্স) যুক্ত করেছে। ভারত ভয় পাচ্ছে, চীন যদি তিস্তা প্রজেক্টের উসিলায় উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলে এসে বছরের পর বছর অবস্থান করে এবং ভারী অবকাঠামো নির্মাণ করে, তবে যুদ্ধ বা যেকোনো সংকটের সময়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা চরম ঝুঁকিতে পড়বে। তাই চীনকে হঠাতে ২০২৪ সালে ভারত পাল্টা প্রস্তাব দেয়—‘চীনের দরকার নেই, তিস্তা প্রকল্পের টাকা এবং কাজ আমরাই করব।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংসদে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে তিস্তা এবং সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং চীন ফিজিবিলিটি স্টাডি ও কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। সরকার আগামী অর্থবছরেই ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বা অন্য যেকোনো নামেই হোক, এর দৃশ্যমান কাজ শুরু করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের লক্ষ্য—আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন করা, যার একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প।
বাস্তবায়িত হলে মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে: যদি এই মহাপরিকল্পনা সফলভাবে আলোর মুখ দেখে, তবে উত্তরবঙ্গের মানচিত্র চিরতরে বদলে যাবে। সেচব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সচলতা তৈরি হবে। শিল্প ও কর্মসংস্থান নদীর দুই তীরে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ অর্থনৈতিক অঞ্চলে লজিস্টিক সেন্টার ও প্রসেসিং জোন গড়ে উঠবে। এতে প্রায় ৭ থেকে ১০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান হবে, কাজের জন্য আর ঢাকা বা অন্য শহরে ছুটতে হবে না। পর্যটন ও বিনোদনইকো-পার্ক, নদীকেন্দ্রিক রিসোর্ট, পাঁচতারকা হোটেল এবং মেরিন ড্রাইভের কারণে উত্তরবঙ্গ পরিণত হবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মূল আকর্ষণীয় কেন্দ্রে।
মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তা: প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ পারিবারিক সম্পদ নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। তিস্তাপাড়ের ২ কোটি মানুষ ফিরে পাবে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই।
পানিহীন নদীতে মহাপরিকল্পনার ভবিষ্যৎ কী? তিস্তা আজ শুধু একটি নদী উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম কূটনীতি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার এক এসিড টেস্ট। তবে নদী বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মৌলিক সত্যকে এড়িয়ে এই মহাপরিকল্পনা সফল করা অসম্ভব—সেটি হলো পানির ন্যায্য হিস্যা। নদীতে যদি শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিই না থাকে, তবে নদীর বুকে চোখধাঁধানো স্যাটেলাইট শহর বা বিশাল ব্যারাজ তৈরি করে লাভ কী? তাই বেইজিং বা নয়াদিল্লির ঋণের অঙ্কের চেয়েও বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী ভারতের কাছ থেকে শুষ্ক মৌসুমের পানির হিস্যা আদায় করা। তবে বিষয়টি এখন শুধু বাংলাদেশের ন্যায্য পানির চাওয়ার মধ্যে আটকে নেই। কারণ, তিস্তার ওপারে ভারত। তিস্তার উজানের অংশ আবার চীনের নিয়ন্ত্রণে। সেখানেও চীনের একটি প্রকল্প পরিকল্পনা আছে। মনে করা হয়, তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বড় কারণ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প। যার মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশকে একীভূত করতে চায়। তাই তিস্তা প্রকল্প ঘিরে ভূরাজনৈতিক নানা হিসাবনিকাশের বিষয় রয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান এ বিষয়ে বলেছেন, তিস্তা নদীর সঙ্গে ভারত, চীনসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নদীপ্রবাহ জড়িত। আমরা কতটুকু পানি পাব, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলে প্রকল্প জটিল হয়ে যাবে। তাই ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হতে হবে। নদীর উজানে চীনের নিয়ন্ত্রণ। তাই ভারতও পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এ বিষয়ে বহুপাক্ষিকভাবে আলোচনা করা যায়।
তবে আশার কথা হলো, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে এক নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। ঢাকার দক্ষ কূটনীতি যদি বেইজিংয়ের কারিগরি সক্ষমতা এবং নয়াদিল্লির নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তবেই তিস্তার প্রতিটি ঢেউয়ে বয়ে চলবে উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের স্বপ্ন। উত্তরের আকাশে তখন সত্যিই উদিত হবে এক নতুন আশার সূর্য।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল এবং ঋণনির্ভর থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে যাত্রার প্রত্যাশা করে একাধিক সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের আহ্বানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি চূড়ান্ত পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া অর্থবিল-২০২৬ এ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের পাশাপাশি ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে লাগবে না টিআইএন নম্বর।
এর আগে, বিলটির ওপর সংসদ সদস্যদের আনা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতি নিয়ে দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অধিবেশনের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের আর্থিক প্রস্তাবগুলো কার্যকরকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধন করতে ‘অর্থ বিল, ২০২৬’ সংসদে অবিলম্বে বিবেচনার জন্য গ্রহণের প্রস্তাব তোলেন।
বিলটি টেবিলে ওঠার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ বেশ কয়েকজন সদস্য বিশাল ঘাটতি বাজেট, কর ও ভ্যাটের বোঝা, ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা এবং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর থেকে ঋণের আশ্বাসের বাস্তবতার মতো নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিলটি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনা ও প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে অর্থ বিলটি একাধিক সংশোধনীসহ চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
বিল পাসের পর বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার একটি চরম দুর্বল অর্থনীতি ও ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উত্তরাধিকার হিসেবে পেলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী। চ্যালেঞ্জ যত বড়ই হোক না কেন, কার্যকর নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনপ্রশাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সব ধরনের বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, সরকার এখন থেকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে বেসরকারি উদ্যোগ, নতুন উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানই হবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে এবং মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
বাজেট নিয়ে দীর্ঘ ও গঠনমূলক আলোচনার জন্য সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের মতামত জনগণের প্রত্যাশারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে তিনি অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট কেবল একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি নির্ভরযোগ্য রূপরেখা।
বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা, লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থপাচার, বিনিময় হার নিয়ে কারসাজি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমান সরকার একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন। তবে কৃষি, শিল্প, সেবা ও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবণতা এবং সরকারের শক্ত নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার করের হার বাড়াবে না, বরং করের আওতা সম্প্রসারণ করবে। স্বচ্ছতা বাড়াতে করনীতি ও কর প্রশাসনকে সম্পূর্ণ পৃথক করা হচ্ছে এবং কর ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রস্তাবিত একক হারের ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে ঐতিহ্যবাহী বাজার ও ছোট মুদি দোকানগুলোকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হবে।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে চলতি অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায় ৪ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। আগামী অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল মাত্র ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় বর্তমানের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
পূর্ববর্তী সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে যত্রতত্র ঋণের কারণে বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি নিম্ন পর্যায় থেকে মধ্যম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই বিশাল ঋণের আসল ও চড়া সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা বর্তমান সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর একটি বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে।
এই ঋণ নির্ভরতা কমাতে আগামী অর্থবছরে ব্যাংকঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং বন্ড ও ইকুইটি ফাইনান্সিং সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কে বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় দেশ-বিদেশে মোট ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
এছাড়া ছয়টি বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ১৫টির বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৬০টির বেশি গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। সোমবার (২৯ জুন) এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে এনবিআরের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহসান হাবিব।
১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া বিসিএস পরীক্ষায় তিনি তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
কর্মজীবনে কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন আহসান হাবিব। সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।
অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আহসান হাবিব। বর্তমানে বিসিএস ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত রোববারের (২৮ জুন) তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা স্বস্তিদায়ক এবং সরকার ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী সংসদে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কারিগরি ত্রুটি ও কয়লা সংকটের কারণে গত দুই দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যেখানে চাহিদার পরিমাণ ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। ফলে বর্তমানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন,পরিস্থিতি বেশ খারাপ ছিল, তবে আল্লাহর রহমতে আজ আমরা সেখান থেকে উত্তরণ করতে পেরেছি। আমরা চেষ্টা করছি ৩৩৯ মেগাওয়াটের এই ঘাটতিও কমিয়ে আনার জন্য। পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছে।
তবে পরিস্থিতির উন্নতি সত্ত্বেও কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেন। এর আগে রোববার সংসদে দেওয়া বিবৃতিতে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে ছিদ্র (লিকেজ) হওয়া এবং বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাস ব্যাহত হওয়ায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। সেই সংকট কাটিয়ে ওঠার বিষয়টিই সোমবার তিনি সংসদে পুনরায় নিশ্চিত করেন।
এদিকে, লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে রোববার (২৮ জুন) দেশের অন্তত সাতটি জেলায় গ্রাহক বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। মন্ত্রী এ ধরনের জাতীয় সংকট ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য সংসদ সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যান্য মাসের তুলনায় চলতি জুন মাসে গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার বিষয়টি বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাওয়ার পর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। অতিরিক্ত বিলের এই অভিযোগগুলো যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের সবকটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিসমূহকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কোনো গ্রাহক অতিরিক্ত বা ভুতুড়ে বিলের সম্মুখীন হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার অফিসে অথবা বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে আগে ঘোষিত হটলাইন ও কল সেন্টারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা নম্বর ১৬৯৯৯ সহ বিপিডিবি (১৬২০০), আরইবি (১৬৮৯৯), ডিপিডিসি (১৬১১৬), ডেসকো (১৬১২০), নেসকো (১৬৬০৩) এবং ওজোপাডিকোর (১৬১১৭) কল সেন্টারগুলো সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য গত মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই এবার প্রায় ২০ শতাংশ বেশি বিল হওয়ার কথা, তবে এর বাইরেও প্রতিবছর জুনে ঘাটতি সমন্বয় করতে গ্রাহকদের অজান্তে কয়েক ইউনিট বাড়িয়ে বাড়তি বিল ধরিয়ে দেওয়ার মতো কারসাজির পুরোনো অভিযোগও রয়েছে।
অতিরিক্ত বিলের এই বিড়ম্বনা ও প্রিপেইড মিটার রিচার্জের ঝামেলার মধ্যেই দেশজুড়ে তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং, যা গ্রাহকদের ক্ষোভকে আরও উসকে দিচ্ছে। সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে (শুক্রবার ও শনিবার) কলকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে এবং লোডশেডিংও কমে আসে, কিন্তু এবার সেই চেনা নিয়ম খাটছে না। গত ২৬ ও ২৭ জুনের সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেশের শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই রাতভর ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। অতীতে সেচ মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে রাত ১২টার পর লোডশেডিং কমে আসলেও, চলতি তীব্র গরমে মধ্যরাতেও স্বস্তি মিলছে না নগরবাসীর।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির আনুষ্ঠানিক উৎপাদন বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৭ জুন রাত ৯টায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৭৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। ওই সময়ে সারাদেশে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৩০১ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার ২৯৮ মেগাওয়াট। ওই দিন সকাল ৯টায় সবচেয়ে কম চাহিদা থাকার সময়েও ৬৪৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়।
এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংয়ের মাত্রা হু হু করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়; যেমন দুপুর ১২টায় ১ হাজার ৫৮ মেগাওয়াট এবং বেলা ৩টায় তা ২ হাজার ৬৯ মেগাওয়াটে গিয়ে পৌঁছায়। দুপুরের পর থেকে শুরু করে পরদিন ভোর পর্যন্ত বিদ্যুতের এই ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ টানা ২ হাজার মেগাওয়াটের ওপরেই বজায় ছিল, যা বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের চরম চিত্রকে স্পষ্ট করে তোলে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যে কোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।'
আজ দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তারেক রহমান বলেন, 'বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি। '
সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।'
তিনি আরো বলেন, 'পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’
আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পানি প্রবাহ, সেচব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।'
কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।'
তিনি বলেন, 'কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি। '
যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।'
এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি অভিযোগ করেন, 'দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।'
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।'
তিনি বলেন, 'সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।'
শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।
সূত্র : বাসস
বাংলাদেশের শিল্পকলা, টেলিভিশন মাধ্যম ও পুতুলনাট্যের (পাপেট্রি) কিংবদন্তি রূপকার, বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সকালে ফুসফুসের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা নিয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে এই কালজয়ী গুণী শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়ার তীব্র সংক্রমণ নিয়ে গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল মুস্তাফা মনোয়ারকে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায়, বিশেষ করে রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আজ সকালে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি গোলাম মোস্তফা এবং জমিলা খাতুনের সন্তান। শৈশবে নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে সফলভাবে ম্যাট্রিক পাসের পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তি হন। তবে শিল্পকলার প্রতি গভীর টান থাকায় পরবর্তীতে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হন এবং ১৯৫৯ সালে ফাইন আর্টস (চারুকলা) বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদকসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
কলকাতা থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের দূরদর্শী পরামর্শে চারুকলা ইনস্টিটিউটে (তৎকালীন আর্ট কলেজ) শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষকতায় সফলতার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (এনআইএমসি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বসমূহ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।
মুস্তাফা মনোয়ার কেবল ক্যানভাসেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বাংলাদেশে আধুনিক পাপেট বা পুতুলনাট্যের বিকাশ ও প্রসারের পেছনে একমাত্র তাঁর হাত ধরেই এক নতুন বিপ্লব ঘটেছিল, যার কারণে তাঁকে দেশের ‘পাপটেম্যান’ বা পুতুলনাটের জনক বলা হয়। চিত্রকলার পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ, শিশুতোষ বিনোদন, পাপেট থিয়েটার এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশে অসামান্য, যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করে। এছাড়া সুদীর্ঘ কর্মজীবনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা, একাডেমি পুরস্কার ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন এই মহান প্রচারবিমুখ সাধক। তাঁর এই প্রস্থান দেশের সাংস্কৃতিক জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ হয়তো আপাতত শেষ হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখনো তীব্র জ্বালানিসংকটে ভুগছে। বিশেষ করে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে।
দেশের স্পিনিং, নিটিং ও ডায়িং কারখানাগুলো বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবহার করে। আর বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল ও গ্যাস আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। জ্বালানির বাড়তি দাম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। গত ৬ জুন, বড় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আল-মুসলিম গ্রুপ ঢাকায় তাদের নিটওয়্যার ও ডেনিম কারখানা থেকে প্রায় এক হাজার ৯০০ শ্রমিক ছাঁটাই করে।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন, যাদের বেশির ভাগই নারী। তারা জারা এবং এইচঅ্যান্ডএমের মতো পশ্চিমা ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি করেন। প্রায় চার কোটি মানুষ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৩ শতাংশ। চীনের পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ।
তবে এই খাত আগে থেকেই সংকটে আছে। ২০২৪ সালে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বিদেশি ক্রেতাদের আস্থায় ধাক্কা লাগে। বলে মন্তব্য করেন শিল্প বিশ্লেষক মেহেদী মাহবুব।
সেই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, পাঁচটি কারখানায় আগুন দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের কারাবন্দি বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতারও পোশাক কারখানা ছিল। গত তিন বছরে ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়েছে।
গত মে মাসে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকত। চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও দিনে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। উৎপাদন চালিয়ে যেতে অনেক কারখানা ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে।
এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভের আবিল বিন আমিন বলেন, এই শিল্প দক্ষতানির্ভর, সেখানে জেনারেটর চালু করতেই যদি ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে, তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে—এই সময়ের মধ্যে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
উৎপাদনে বিলম্ব, জাহাজীকরণে বিঘ্ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রেতাদের কম চাহিদার কারণে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে। এক জ্যাকেট কারখানার মালিক আবদুল্লাহ হিল নকিব বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর তার কারখানার ক্রয়াদেশ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা দশম মাসের মতো পোশাক রপ্তানি কমেছে; বছরওয়ারি হিসাবে তা কমেছে ৮ শতাংশ।
তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কাঁচামালের খরচও বেড়েছে। পোশাক তৈরির মোট ব্যয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ যায় কৃত্রিম তন্তু, রং, ফিনিশিং কেমিক্যাল, প্লাস্টিক বোতাম ও চেইনে, যেগুলোর বেশির ভাগই পেট্রোকেমিক্যালনির্ভর।
বাংলাদেশে প্রায় ৩০ শতাংশ পোশাক পলিয়েস্টার ফাইবার ও সুতা দিয়ে তৈরি হয়, যার মূল উপাদান ন্যাফথা। যুদ্ধ শুরুর পর ন্যাফথার দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। এ ছাড়া উৎপাদনব্যবস্থাও খণ্ডিত। কিছু সমন্বিত টেক্সটাইল মিল থাকলেও বেশির ভাগ কারখানায় উৎপাদনের একটি অংশ সম্পন্ন হয়। আবদুল্লাহ হিল নকিবের হিসাবে, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
সংকটগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিতে মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর বড় অংশই বরাদ্দ দেওয়া হয় পোশাক খাতের জন্য। তবে এই ঋণের সুদহার প্রায় ৭ শতাংশ। উদ্যোক্তারা এমনিতে চাপে আছেন, তাদের জন্য এটা কঠিন।
এদিকে কোভিড মহামারির সময় উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বড় ব্র্যান্ডগুলো পোশাকের দাম বাড়াতে রাজি হয়নি। এবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি কারখানায় অন্তত ৯ হাজার ৫০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যে শ্রম অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, এবার তার চেয়েও বেশি হবে—এমন শঙ্কা আছে।
উৎপাদনে বিলম্ব, পরিবহন বিঘ্ন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ভোক্তাদের কম পোশাক কেনার প্রবণতার কারণে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোও কম অর্ডার দিচ্ছে।
ঢাকার একটি জ্যাকেট কারখানার মালিক আবদুল্লাহ হিল নকিব জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তার কারখানার অর্ডার প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা দশম মাসের মতো পোশাক রপ্তানি কমেছে; আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মে মাসে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকটে থাকা ব্যবসাগুলোর জন্য ৬০০ বিলিয়ন টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, যার সবচেয়ে বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয় পোশাক শিল্পের জন্য। তবে এসব ঋণের সুদের হার প্রায় ৭ শতাংশ, যা এরই মধ্যে আর্থিক চাপে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বহন করা কঠিন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০টি কারখানায় অন্তত ৯ হাজার ৫০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের জ্বালানি খাতে যুগান্তকারী এক খবরের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। উৎপাদনের সবশেষ জটিল ধাপ পেরিয়ে আর মাত্র দুই মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎ। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বর্তমানে কমিশনিং ও স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ববর্তী শেষ এবং অত্যন্ত জটিল ধাপ।
মন্ত্রী এরপর বলেন, চলতি আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার এই ঘটনাটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে কোণঠাসা হয়ে এবার পাচারের কৌশল ও মাদকের রূপ বদলেছে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র। ফেনসিডিল বা ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের চেয়ে এখন কম দামি, সহজলভ্য ও ছদ্মবেশী বিকল্প তরল সিরাপ এবং উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ট্যাবলেটের দিকে ঝুঁকছে তারা। শুধু চোরাচালানই নয়, মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং ভারত সীমান্ত থেকে ‘পুশইন’-এর মতো ঘটনা এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় সুরক্ষায় ‘স্মার্ট সীমান্তে’ রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
কী এই নতুন ‘রূপ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সিন্ডিকেটগুলো এখন প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বা ওষুধের আড়ালে মাদক নিয়ে আসছে। ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার স্পর্শকাতর অন্তত ২৭টি রুট দিয়ে দেশে ঢুকছে এস্কাফ, ফেয়ারডিল, চকোপ্লাসের মতো মারাত্মক ক্ষতিকর কোডিনযুক্ত সিরাপ এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, যা দেশের যুবসমাজকে ঠেলে দিচ্ছে চরম অবক্ষয়ের দিকে।
কোডিনযুক্ত সিরাপ (এস্কাফ, ফেয়ারডিল, চকোপ্লাস): ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা এসব সিরাপে উচ্চমাত্রার কোডিন ফসফেট রয়েছে। এর নেশার তীব্রতা হুবহু নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের সমান।
ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট: এটি মূলত তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ হলেও মাদকসেবীরা এটিকে হ্যালুসিনেশন বা তীব্র আচ্ছন্নভাব তৈরির বিকল্প উচ্চমাত্রার নেশা হিসেবে ব্যবহার করছে।
ভয়াবহতা: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো সেবনের ফলে লিভার ও কিডনি স্থায়ীভাবে নষ্ট হচ্ছে। সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করায় তরুণেরা দ্রুত স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধিমত্তা ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার ও সমাজের বোঝায় পরিণত হচ্ছে।
অরক্ষিত সীমান্ত, পাচারের ২৭ ‘রুট : অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর ভারত-বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ সীমান্তের অন্তত ২৭টি রুট ব্যবহার করে দেশে ঢুকছে ক্ষতিকারক নিষিদ্ধ ‘নেশা সিরাপ’ ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট।
মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সীমান্তের ইউনিয়নভিত্তিক অরক্ষিত পয়েন্ট ও গ্রামীণ গোপন কাঁচা রাস্তাগুলোকে বেছে নিয়ে এই চোরাচালান চক্র সচল রেখেছে। পরে এসব মাদক চলে যায় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে।
সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন অরক্ষিত অংশগুলোকে কারবারিরা সবচেয়ে ‘নিরাপদ’ রুট মনে করছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে রাতের আঁধারে মাদক দেশে ঢোকানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে পথিমধ্যে বারবার ‘হাতবদল’ বা ক্যারিয়ার পরিবর্তন করার কৌশল নিচ্ছে সিন্ডিকেটগুলো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সীমান্ত সুরক্ষায় তিনটি ব্যাটালিয়ন দ্বায়িত্ব পালন করছে, এর মধ্যে ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১৬টি চোরাচালান রুট সক্রিয় রয়েছে। এ ছাড়া ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় রয়েছে ৮টি সক্রিয় রুট এবং ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় তিনটি পয়েন্ট মাদক পাচারের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর বাইরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ লাগোয়া রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত রুট দিয়ে নিয়মিতই আসছে মাদক, যা বিজিবিসহ অনন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরাও পড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়য়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর ও দুর্লভপুর, আলাতুলি ইউনিয়নের কোদালকাটি ও বকচর এবং চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী সীমান্ত রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কিরণগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও জমিনপুর; শাহবাজপুর ইউনিয়নের শ্মশানঘাট, আজমতপুর ও উনিশবিঘী; মনাকষা ইউনিয়নের শিংনগর; দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর; পাঁকা ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর এবং তেলকুপি, চকপাড়া, শিয়ালমারা ও দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের সোনামসজিদ-বালিয়াদিঘী সীমান্ত দিয়ে মাদকের চালান আসছে।
ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট সদর ইউনিয়নের চামুসা, হোসেনভিটা, গিলাবাড়ী ও বিলভাতিয়া; গোহালবাড়ী ইউনিয়নের আলী সাহপুর, দলদলি ইউনিয়নের পোল্লাডাঙ্গা-ময়ামারি সীমান্ত এবং গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর ও বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের শিবরামপুর সীমান্তকে মাদক কারবারিরা ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিজিবির রেকর্ড পরিমাণ মাদক উদ্ধার: মাদকের এই নতুন রূপ রুখতে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। উদ্ধার অভিযানের চিত্রে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিজিবি রেকর্ড ১২ হাজার ২৪৯ বোতল ফেনসিডিলের বিকল্প সিরাপ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে ৫১ হাজার ৭৭৪ পিস। অন্যদিকে ৫৩ বিজিবি চলতি জুন মাসে ০১ জন আসামিসহ ১১৬১ বোতল নেশাজাতীয় এস্কাফ সিরাপ, ১৮৭ বোতল নেশাজাতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ, ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।
পাশাপাশি ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও সাম্প্রতিক একাধিক অভিযানে এস্কাফ সিরাপসহ রেকর্ড ৩০ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে এসব মাদক যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ: ভারত থেকে আসার ঔষদের আড়ালে এসব ভয়ঙ্কর মাদক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন সেবনের ফলে যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটি সরাসরি মানুষের লিভার ও কিডনি স্থায়ীভাবে নষ্ট করে এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আঘাত করে স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি কেড়ে নেয়। ফলে আসক্ত তরুণরা অল্প দিনেই কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার ও সমাজের বোঝায় পরিণত হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের একাংশের আচরণ ও পড়াশোনায় এক ধরনের নীরব অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে মাদক বলতে অভিভাবকরা গাঁজা, ফেনসিডিল বা ইয়াবা বুঝতেন এবং সন্তানদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতেন। কিন্তু এখনকার তরুণরা নেশাজাতীয় সিরাপের আড়ালে মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এই ছদ্মবেশী মাদকের কারণে অনেক পরিবার বুঝতেই পারছে না যে কখন তাদের সন্তান অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম মেধা ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।
মাদকের এই নতুন ট্রেন্ডকে পুরো দেশের জন্য একটি বড় বিপদের সংকেত হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে যেভাবে বারবার রুট ও মাদকের রূপ বদল করছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের দাবি থাকবে—শুধুমাত্র সীমান্তে বিজিবি বা পুলিশের রুটিন অভিযান দিয়ে এই ভয়াবহতা ঠেকানো যাবে না। মাদক চোরাচালানের পেছনে থাকা মূল গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ যেকোনো অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে এবং সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে।
৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম চোরাচালানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশে চলতি বছর হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশই হাম-রুবেলা টিকার কোনো ডোজ পায়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে গত শনিবার (২৭ জুন) পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসেরও কম। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের হিসাবে, নির্দিষ্ট সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১৫ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গে ঘটা প্রতিটি মৃত্যুকেই হামজনিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়।
কলম্বোতে ২২ ও ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হাম-রুবেলাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিশনের সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ের জাতীয় কমিটির (এনভিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক। প্রতিনিধিদলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিব, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচও ঢাকা কার্যালয়ের রোগ প্রতিরোধবিষয়ক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, শিশুদের হাম প্রতিরোধক্ষমতার অভাব এবং টিকাদান কর্মসূচিতে নজরদারির ঘাটতি এই সংকটের প্রধান কারণ। দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ৯ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ ও ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার বিধান থাকলেও মৃত শিশুদের মাত্র ৮ শতাংশ এই টিকার আওতায় এসেছিল।
কলম্বোর সভায় উপস্থাপিত বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯ মাসের কম বয়সি শিশুর মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে ২ থেকে ৫ বছর বয়সি ১৮ শতাংশ, ৯ থেকে ১১ মাস বয়সি ১৪ শতাংশ, ১ থেকে ২ বছর ও ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি ১৩ শতাংশ করে, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সি ৪ শতাংশ এবং ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ১২ শতাংশ। এই চিত্র থেকে স্পষ্ট যে শিশুদের পাশাপাশি বড় বয়সিরাও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, কলম্বোতে উপস্থাপিত তথ্য জুন মাসের প্রথমার্ধের। তাতে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। জুনের শেষ সপ্তাহে মৃত্যু বেড়ে সাতশর বেশি হয়েছে, সে ক্ষেত্রেও টিকা না পাওয়ার হার একই থাকবে বলে আমার ধারণা।
জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল টিকাদান কর্মসূচির ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘বহু শিশুকে টিকা না দিয়েই বলা হয়েছে টিকা পেয়েছে, টিকার সাফল্যের কথা গাওয়া হয়েছে। সব পরিসংখ্যান ছিল বানোয়াট। তথ্য-উপাত্তে কারচুপি করা হয়েছে। নজরদারির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না কোনো জবাবদিহি। এত সব অনাচারের মূল্য দিতে হলো শিশুদের।’
চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কলম্বোর সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। গত ২৫ জুন ডব্লিউএইচও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হাম মোকাবিলায় জরুরি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাম নির্মূলের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে। দেশের প্রতিটি জেলায় ডব্লিউএইচওর মেডিকেল কর্মকর্তারা হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগের তথ্য সংগ্রহ করেন, যা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন আঠারো মাসের দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে বিল নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা। অন্তর্বতী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে তিনিই চিকিৎসাবাবদ সর্বোচ্চ খরচ নিয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল নিয়েছেন। তবে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা খরচের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশের একটি গণমাধ্যম।
এছাড়াও সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা; সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা; সাবেক বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিয়েছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা; সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ নিয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা; সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম নিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মাত্র ১৮ মাসে বিদেশে চিকিৎসা খরচের ব্যয় হিসেবে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা।
এদিকে, চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। ওই ব্যাখায় অপারেশনের খরচে ডিসাকাউন্ট ও নিজের পরিচর্যার জন্য তার সঙ্গে থাকা সহযাত্রীর খরচ নিজে বহন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। ডিসকাউন্ট না পেলে ও পরিচর্যার খরচ যুক্ত হলে বিল ৮২ লাখেরও অনেক বেশি আসত বলে জানান তিনি।
রোববার (২৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে চিকিৎসা বাবদ ব্যয়ের ব্যাখ্যায় তিনি এ কথা জানান।
অপারেশন ব্যয়ের ব্যাখ্যায় ধর্ম উপদেষ্টা বলেছেন, ‘বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে বিল দিই প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। যার বিল আরো অনেক বেশি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাসের কারণে ডিসিকাউন্ট পাওয়া যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘পবিত্র হজের দায়িত্ব পালন শেষে আবারও অসুস্থতা অনুভব করায় আমি দেশের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হই এবং তারা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ প্রদান করেন। বিগত জানুয়ারি মাসে আমার অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে বিল দিই প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। এ সংক্রান্ত সমস্ত বিলের কপি আমি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছি।
আইনানুসারে সরকার কর্তৃক মন্ত্রী/উপদেষ্টার চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার শুধুমাত্র আমার হাসপাতালের বিল, অপারেশন বিল ও মেডিসিনের ব্যয় বহন করেছে। প্রকৃতপক্ষে আমার পরিচর্যার জন্য সঙ্গে যাওয়া আমার সহযাত্রীর সমস্ত খরচ আমি বহন করেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার হোটেলে বসবাসের বিল, খাওয়ার বিল, যাতায়াত খরচও ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছি। সরকার প্রদত্ত প্রতিটি পয়সার প্রকৃত বিল, ভাউচার, রিসিপ্ট আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। যে কেউই চাইলে হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ব্যয়ের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করতে পারবেন।
নিজের সততার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এবং নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা তসরুপ করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি। কিন্তু কিছু মিডিয়া বৈধ, নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত বিষয়গুলোকে এমনভাবে ফ্রেমিং করছে যেন জনমানসের মনে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়। আমি এসব সংবাদ ও মিডিয়া ফ্রেমিংয়ের তীব্র নিন্দা জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি সেখানে যান। এটি তার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের কাজের খোঁজখবর নেন।
স্পারসো চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে সংস্থার কার্যক্রম এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপর বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী কাজ ও গবেষণা প্রকল্পগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পারসোকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী, স্বনির্ভর এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, স্পারসো দেশের মহাকাশ বিজ্ঞান, উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং দূর অনুধাবন প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রয়োগে নিয়োজিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান।