বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
৪ চৈত্র ১৪৩২

ডিমের দাম কমলে সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দেবেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৯ আগস্ট, ২০২৩ ১৮:১৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২৩ ১৮:১৪

দেশের বাজারে ডিমের দাম যখন কমবে, তখন ডিম সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ওপর তিনি বিকেল ৪টায় এ সংবাদ সম্মেলন ‍শুরু করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশের বাজারে ডিমের দাম যখন কমবে, তখন ডিম সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দেবেন। তাহলে বহুদিন ভালো থাকবে।’

বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে একটা শ্রেণি আছে যারা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করে। যখনই তারা আর্টিফিশিয়ালি দাম বাড়ায় আমরা তখন আমদানি করি, বিকল্প ব্যবস্থা করি যেন তারা বাধ্য হয় দাম কমাতে।’

অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বর্তমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে শতাধিক নোবেলজয়ীসহ ১৬০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতার বিবৃতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিবৃতি দিয়েছেন তাদের আহ্বান জানাই, বিবৃতি না দিয়ে বিশেষজ্ঞ পাঠান, আইনজীবী পাঠান। দলিল দস্তাবেজ, কাজগপত্র ঘেঁটে দেখুন, অন্যায় আছে কি না। তারা মামলার দলিল-দস্তাবেজ দেখুক।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজের প্রতি এত আত্মবিশ্বাস থাকলে (ড. ইউনূস) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিবৃতিভিক্ষা করে বেড়ান কেন? নির্দোষ হলে তিনি বিবৃতিভিক্ষা করে বেড়াতেন না।’

ব্রিকস সদস্যপদ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চাইলে পাবো না, সে অবস্থা না। প্রত্যেক কাজেরই একটা নিয়ম থাকে। আমরা সেটা মেনে চলি। ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে কাউকে বলিওনি।’

তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের আগে থেকেই জানিয়েছেন, তারা ধাপে ধাপে নেবেন। পরে সদস্য সংখ্যা বাড়াবেন। আমরা জোর দিয়েছি, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বিষয়ে। বাংলাদেশ কিছু চেয়ে পাবে না, সে অবস্থায় নেই। আমরা এখন বিশ্বে বাংলাদেশকে মর্যাদার অবস্থানে নিয়ে গেছি। তারাও জানে, বাংলাদেশ এখন ভিক্ষা চাওয়ার মতো দেশ না। এ নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে হা হুতাশ আছে।’


ফেব্রুয়ারিতে দুদকের জালে ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার সম্পদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা প্রায় দেড়শ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

২০২৪ সালে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দুদকের অনুসন্ধান ও মামলায় গতি আসে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয় দুদক। চলমান বিভিন্ন অনুসন্ধান ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ আদালতের নির্দেশনায় ক্রোক বা অবরুদ্ধ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় কমিশন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যা অতীতে এত অল্প সময়ে হয়নি। ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগ এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের ২০টি আদেশে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। একই সময়ে আদালতের ১৫টি আদেশে ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়ে মোট ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮ একর জমি, যার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এছাড়া, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, দুটি টিনশেড ঘর, দুটি দোকান এবং ছয়টি গাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি খেলার মাঠ ও একটি স্কুলের মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৪৪টি ব্যাংক হিসাব, যেখানে জমা রয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া, বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার, এফডিআর, বিও হিসাব, প্রাইজবন্ড ও বিমা পলিসিসহ নানা আর্থিক সম্পদ রয়েছে।

সব মিলিয়ে অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকা বলে জানিয়েছে দুদক।


ঈদযাত্রা পরিদর্শন, আইন না জানাও একটা অপরাধ: আইজিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন না জানাও একটা অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। আবার দেখা যায়, অনেকে ঈদের আগের দিন রওনা দেয়, বাড়িতে পৌঁছে সঠিকভাবে ঈদটাও করতে পারে না। এ জন্য এ বছর আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আমাদের যাত্রীদের ঈদযাত্রায় যেন হয়রানি, টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়া, সড়কে যানজট না হওয়া তা নিশ্চিত করার জন্য সব মহাসড়কে ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায়, সে জন্য গুরুত্বসহকারে কাজ করছি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেছেন।’

আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, ‘বড় বড় বাজার ও মোড়গুলোতে প্রচুর পরিমাণের যানজট সারা বছর লেগেই থাকে। সেগুলো দূর করার জন্য সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ওই এলাকায় যাতে যানজট না হয়, তার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পরিবহন মালিক সমিতির লোকজনকে অনুরোধ করেছি, যাতে পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা চালক ও সহযোগী হিসেবে থাকেন, তারা অনেক সময় ট্রাফিক আইনটাও জানেন না। ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না। এতে যানজট তৈরি হয়, এসব ক্ষেত্রে একটু মেধা খাটালেই এটা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। এ জন্য তাদের অনুরোধ করেছি, তাদের মোটিভেশন ও ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেওয়ার জন্য।’

গাবতলী বাস টার্মিনালে আইনশৃঙ্খলার তৎপরতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এখানে মাদকসেবী, ছিনতাইকারী রয়েছে। সব ধরনের লোকই আছে। এ জন্য সারাদেশে ও পুলিশের সকল ইউনিটকে বলে দিয়েছি যেন ডিউটিতে থাকে। কোনো ধরনের হুমকি নাই। তারপরও জনগণকে বলতে চাই, বাংলাদেশ পুলিশ তৎপর রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অন্যায় কোনো কিছুর সঙ্গে আপস করা হবে না।’ ‎

রাজধানীতে নানা স্থানে অবৈধ বাস কাউন্টারের বিষয়ে ‎আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আইজিপি হিসেবে যোগদানের পরই বলেছি, ঢাকা শহরের ভেতরে দূরপাল্লার কোনো বাস কাউন্টার থাকতে পারবে না। এটা দূর করার জন্য আমাদের সবার প্রচেষ্টা দরকার। আইনের মাধ্যমে আমরা এসব দূর করব।’‎

টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়ার পরও অভিযোগ না করার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘এটা আমাদের সমস্যা। আইন না জানাও একটা অপরাধ। জানার দায়িত্ব নিজের। প্রচলিত দেশের আইন জানা একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব। প্রধান দায়িত্ব আপনাকে আইন জানতে হবে। আপনি জানেন না, এসে বলবেন, আমি এটা জানতাম না, এই অজুহাত মানব না। প্রচলিত আইন জানাও আমাদের দায়িত্ব।’


ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল, নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

* কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়  *সদরঘাট ফিরছে সেই পুরোনো ব্যস্ততায় * বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় * ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিল গাড়ির চাপ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। স্বস্তি-অস্বস্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা থাকেন, তারা এখন নিজ নিজ জেলায় অর্থাৎ বাড়িতে ফিরছেন। বাস, ট্রেন, লঞ্চ সবক্ষেত্রে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে গাবতলী, মহাখালী এবং যাত্রাবাড়ী বাস স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেই সাথে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভিড় করছেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত লঞ্চঘাটে চাপ বেড়েছে, আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট দেখা দিয়েছে।

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেই অনুসারে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। তবে পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বড় যানবাহনের জন্য সাতটি ও মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা টোল কাউন্টার চালু থাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে টোল আদায় সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছাড়াই চালকরা সেতু পার হতে পারছেন। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রা সম্পন্ন করতে পেরে সাধারণ যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

যাতায়াতে ভোগান্তি না থাকলেও অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, ঈদের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও ভাড়ার ক্ষেত্রে এমন নৈরাজ্য তাদের ঈদ আনন্দ কিছুটা ম্লান করছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায় ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড় : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রীরা স্টেশনে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে চালু হওয়া বিশেষ ট্রেনের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেনগুলোতেও তীব্র যাত্রীচাপ রয়েছে। নির্ধারিত ট্রেনে উঠতে অনেক যাত্রী আগেভাগেই স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। টিকিটধারীদের পাশাপাশি অনেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েও যাত্রা করছেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রেনের সময়সূচি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব ধরনের ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ছুটছেন বাড়ির পথে। ফলে কমলাপুর স্টেশনজুড়ে এখন ঘরে ফেরার উচ্ছ্বাসই চোখে পড়ছে।

সদরঘাটে ফিরছে সেই পুরোনো ব্যস্ততা :

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত ঈদের আগে আজই ছিল শেষ কর্মদিবস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে যাত্রীদের চাপ ব্যাপক।

লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য ঘাটে আসছেন। ঘাটে কুলি-মজুরদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে। ঈদের আগে ভিড় এড়াতে অনেকে আগেভাগেই যাত্রা শুরু করছেন। সাধারণ সময়ে বরিশাল রুটে এক বা দুটি লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে যাত্রীর চাহিদা বাড়ায় চারটি লঞ্চ ছাড়ছে।

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন এক হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার ৪০০ টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। অন্যদিকে চাঁদপুর রুটে ডেকের ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিলেন সাইফুল হক। বেলা বাড়লে ভিড় বাড়বে বলে আগেভাগেই তিনি মিরপুর থেকে এসেছেন তারা। তিনি বলেন, ভিড় এড়াতেই আগেভাগে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। ভাড়াও আগের মতোই রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌকর্তৃপক্ষের পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, এবারে ঈদ উপলক্ষে আমরা যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবেছি। নতুন ট্রলি সরবরাহ করেছি মালামাল বহনের জন্য। যাত্রীদের ভিড় অনেকটা বেড়েছে।

বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় : মহাখালী বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। এদিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে দুপুর পর্যন্ত যাত্রীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। সায়েদাবাদ ও ধোলাইরপাড় বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ বেশ বেড়েছে। সায়েদাবাদ থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে যায়।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকেলের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যাত্রীদের জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহনের চাপ ছিল অনেক। এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গণপরিবহন সংকট, যাত্রীদের ভোগান্তি

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো যানজট নেই। তবে মহাসড়কে গণপরিবহনের সংকট দেখা দেওয়ায় ঘরমুখো মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মহাসড়কের এলেঙ্গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ রয়েছে।

অনেকেই বাস বা গণপরিবহন না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে মহাসড়কের নগরজালফৈ বাইপাস, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এসময় দেখা যায়, কেউ কেউ আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা যাবত গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভ্যাপসা গরম ও ধুলোবালিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষদের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ : ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ১০৪ কিলোমিটার অংশে এখনো পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টার পর থেকে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও পরিবহনের চাপ বেড়েছে। এবারের ঈদ যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন চালক ও যাত্রীরা। তারা বলছেন বিগত সময়ে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে ঘরমুখো মানুষদের দুর্ভোগে পড়লেও এবার সেই ভোগান্তি নেই। এদিকে এবারে যানজট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।


চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে গতি আনতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ। বর্তমানে ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভান’- এর মধ্যে প্রথমটি বুধবার (১৮ মার্চ) এবং দ্বিতীয়টি আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) বন্দরে ভিড়বে, যা জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, চ্যাং হ্যাং হং তু’ নামের জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে ১৫ মার্চ বন্দরে এসেছে এবং বর্তমানে ব্রাভো মুরিং-এ অবস্থান করছে। জাহাজটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন কার্গো খালাস করেছে এবং এর সম্পূর্ণ খালাস শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ১৯ মার্চ। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, জাহাজটি আজ বুধবার বন্দরে ভিড়বে।

অন্যদিকে ‘এলপিজি সেভেন’ জাহাজটি ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে ৮ মার্চ আগমন করে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস হয়েছে এবং জাহাজটির সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০ মার্চ ২০২৬। জাহাজটি শুক্রবার বন্দরে ভিড়বে বলে জানা গেছে।

তালিকায় আরও দেখা যায়, মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই ইতোমধ্যে কার্গো খালাস সম্পন্ন করে বন্দর ত্যাগ করেছে। এর মধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারতের বিভিন্ন বন্দর থেকে আসা জাহাজগুলো এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েল, গ্যাস অয়েল, এইচএসএফও ও বেস অয়েল সরবরাহ করেছে।

এছাড়া কয়েকটি জাহাজ বর্তমানে ‘প্যাসেজ’-এ রয়েছে, অর্থাৎ তারা বন্দরের পথে রয়েছে। এর মধ্যে কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে আসা জাহাজ রয়েছে, যেগুলো এলএনজি, এইচএসএফও, এলপিজি ও বেস অয়েল বহন করছে।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, ‘জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’


বাজেটের দুই অধ্যাদেশ আইনে রূপ দেওয়ার অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে এসব তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

তিনি জানান, এদিন বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল তিনটি বিষয়। এর মধ্যে দুটি প্রস্তাব ছিল অর্থ বিভাগের এবং একটি ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। প্রথম প্রস্তাব ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটসংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনে পরিণত করা।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী কোনো অর্থবছরে অনুমোদিত বরাদ্দ অপর্যাপ্ত হলে বা কোনো খাতে অনুমোদনের চেয়ে বেশি ব্যয় হলে একটি ‘সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি’ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। কিন্তু সংসদ না থাকা অবস্থায় ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সেই সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি সংসদে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

সে কারণেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এখন সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা বিল মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটসংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কে আইনে রূপ দেওয়া।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদে প্রতি অর্থবছরের জন্য ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ সংসদে উপস্থাপনের কথা বলা আছে। কিন্তু সংসদ না থাকায় ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুর আগে তা সম্ভব হয়নি।

পরে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে প্রস্তুত বিলও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এগুলো আগে জারি করা অধ্যাদেশকে আইন করার প্রক্রিয়ার অংশ; এখন সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদ না থাকায় যেসব বাজেটীয় ব্যবস্থা অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা হয়েছিল, সেগুলোই এখন আইন আকারে নেওয়া হচ্ছে।

ডব্লিউটিওর আইএফডিএতে যোগ দেবে বাংলাদেশ: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্লুরিল্যাটারাল জয়েন্ট স্টেটমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, ওই চুক্তির লক্ষ্য হল বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ সহজ করা। তাতে বাজারে প্রবেশাধিকার বা ‘ইনভেস্টর-স্টেট ডিসপিউট সেটেলমেন্ট’ বিষয়ে নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না, বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিও বদলাতে হবে না। এ চুক্তিতে যোগ দিলে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ‘আরও জোরালো’ হবে।

দুর্যোগ সহায়তার নির্দেশ: সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও হঠাৎ বন্যার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডে মানুষের কষ্ট লাঘবে কৃষি মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সচিব জানান, ছুটির মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও সহায়তার প্যাকেজ তৈরি করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদেরও তাদের হাতে থাকা স্থানীয় তহবিল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী ধরনের অতিরিক্ত সহায়তা লাগবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধর্ষণ মামলা এবং নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় সমন্বিত বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

সচিব জানিয়েছেন, এ ধরনের মামলায় একাধিক সংস্থা যুক্ত থাকে। সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সচিব বলেন, উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত বিচারের জন্য যে আদালত ও ব্যবস্থাপনা আছে, সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন করে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়নি।


সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত, নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার সকাল ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এতে সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশপাশের এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। এ বছর নারীদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. এমাদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের ঈদ জামাতে সদস্যরাসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করবেন। এ বছর মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে জামাতে শরিক হওয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এছাড়া নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে জায়নামাজ, মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনে ছাতা ছাড়া অন্যকোনো ব্যাগ বা বস্তু সঙ্গে না আনার জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।


পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পয়লা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী দিনে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন-সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।

টাঙ্গাইল ছাড়া অন্য উপজেলাগুলো হলো—পঞ্চগড়ের কমলাপুর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।

বৈঠকসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকি, ঋণসুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১৭ মার্চ, ২০২৬ ১৭:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পয়লা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী দিনে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন-সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।

টাঙ্গাইল ছাড়া অন্য উপজেলাগুলো হলো—পঞ্চগড়ের কমলাপুর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।

বৈঠকসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকি, ঋণসুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।

বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ছুটির দিনেও সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটির দিনেও সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে তিনি সচিবালয়ে যান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টায় সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন তিনি।

মন্ত্রিসভার এ বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ সময় আবর্জনা পরিষ্কারে দেশীয় পদ্ধতিতে আধুনিক ভ্যাকুয়াম তৈরির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও একটি বৈঠক করবেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

উল্লেখ্য, আজ পবিত্র শবে কদরের সরকারি ছুটি। এ ছাড়া আগামীকাল বুধবার (১৮ মার্চ) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর ফলে মঙ্গলবার থেকেই মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা সাতদিনের ছুটি শুরু হয়েছে। তবে ছুটির এই আমেজের মধ্যেও দাফতরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।


গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে এসেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার আগে রাজধানীর অন্যতম প্রধান প্রবেশ ও বাহির্গমন পথ গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শুরু করেন তারা।

এ সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা, টিকিট বিক্রি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার টার্মিনালে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন।


প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ, এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপের কথা জানিয়ে একে ‘এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ বলে উল্লেখ করেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ পদক্ষেপের কথা তিনি তুলে ধরেন।

মাহদী আমিন বলেন, আজ ১৭ মার্চ। ঠিক এক মাস আগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।‌

স্ট্যাটাসে মাহদী আমিন সরকারের ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে।

মাহদী আমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখা প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ হুবাহু তুলে ধরা হলো :

সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা

১. ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি– ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি কার্ডে মাসিক ২৫০০ টাকা সহায়তা। মাত্র ২১ দিনে বাস্তবায়ন, সরকারের মানবিক অগ্রাধিকারের উদাহরণ।

২. ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী— ৪,৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।

৩. ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ— নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ। সকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা— দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আলেম মাশায়েখদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি

৫. কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ— প্রায় ২৭,০০০ কৃষককে বহুলপ্রত্যাশিত কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে শিগগিরই কার্যক্রম শুরু, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, নতুন উদ্যমে চাষাবাদে সহায়তা।

৬. দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি— ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন, ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু। সেচ উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন

৭. সাপ্তাহিক অফিস ও অফিস সময়— প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন; কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।

৮. ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস— প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন, জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত।

৯. বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত— উপস্থিত থাকবেন একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।

১০. এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল— শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।

অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতা

১১. বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা— রমজান ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি ক্রয়।

১২. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ— ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া।

১৩. শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ— সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস সময়মতো পরিশোধ। পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

১৪. রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু— পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।

১৫. স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি— স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন

১৬. পুনর্ভর্তি ফি বাতিল ও লটারি বাতিল— প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল; লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত।

১৭. বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা— রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।

১৮. ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ— ৯,০০০ শিক্ষক নিয়োগ, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার।

১৯. ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি— শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত; নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত উদ্যোগ; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু।

স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ

২০. ই-হেলথ কার্ড ও চিকিৎসা কেন্দ্র— স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু; ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু যার ৮০ ভাগ হবেন নারী।

২১. ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান— সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান; স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা

২২. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা— গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

২৩. নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস— সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত পিংক বাস চালুর নির্দেশ; সাইবার বুলিং প্রতিরোধ।

রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ

২৪. রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়— সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি; অপচয় রোধে ইফতার সীমিত।

২৫. অবৈধ দোকান উচ্ছেদ— কক্সবাজার সুগন্ধা সি বিচে ২০ বছর পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ।

২৬. শহীদ সেনা দিবস— ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ।

২৭. ঢাকা হয়রত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল— উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ।

২৮. বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট— ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ আমানত ও এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন।

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের প্রথম ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার নেতৃত্ব এভাবেই সাধারণ মানুষের আশা ও অনুভূতিকে ধারণ করছে, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করছে। অভূতপূর্ব এ পথযাত্রায় নতুন প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে, ইনশাআল্লাহ। তাই তো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’


আজ থেকে শুরু সাত দিনের টানা ঈদের ছুটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি শুরু হলো। গতকাল সোমবার ছিল চলতি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস, যার ফলে বিকেল থেকেই রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলো থেকে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এবং প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দ প্রতিটি মানুষের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে।

এ বছরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ শনিবার বাংলাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। এর সাথে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট ছুটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সাত দিনে। মূলত ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে সরকার এই দীর্ঘ অবকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে দীর্ঘ এই ছুটির আনন্দ ও অবকাশ সবার ভাগ্যে সমানভাবে জোটেনি। জনস্বার্থ ও জরুরি সেবাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে বেশ কিছু খাতের কর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের মতো অপরিহার্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা এবং ডাক বিভাগের কর্মীদের জন্য এই ছুটি কার্যকর হবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জরুরি সেবা সচল রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এমনকি জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই সময়ে কর্মব্যস্ত থাকবেন। অন্যদিকে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আদালতের সময়সূচি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পৃথক নির্দেশনা প্রদান করবে। বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের নিজস্ব নিয়ম ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলবে। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এবার পাঁচ দিনের ছুটির ঘোষণা দিয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এই টানা ছুটির সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো ঈদে মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা। বাড়তি ছুটির কারণে সড়কে ও গণপরিবহনে চাপ কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে। তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত হাজারো কর্মীর আত্মত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রমের কারণেই সাধারণ মানুষ গ্রামে ফিরে নিশ্চিন্তে উৎসব উদযাপন করতে পারবে। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের ঈদুল ফিতরের আনুষ্ঠানিকতা।


প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর: পাঁচ ব্যাংক একীভূত দ্রুত করার নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি পাঁচ ব্যাংকের তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা অভিন্ন ফরমেটে নিয়ে একীভূতকরণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে বলেছেন। পাঁচ ব্যাংকের অন্য বিষয়গুলোও দ্রুত এক করে অভিন্ন আকারে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু করার পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসাবে একীভূতকরণের কোনো বিকল্প নেই। যত দ্রুত একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে, তত দ্রুত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

সোমবার পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এসব নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে প্রশাসকদের সহযোগী বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে গভর্নর পাঁচ ব্যাংকের তথ্য প্রযুক্তি সমন্বয় করতে কেন দেরি হচ্ছে তা জানতে চান। কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাংকগুলো আলাদা আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাদের তথ্য একত্রিত করতেও সময় লাগছে। এছাড়া একীভূতকরণ চলমান থাকবে কিনা এ নিয়েও বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

জবাবে গভর্নর বলেন, একীভূতকরণ থেকে পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। সরকার এরই মধ্যে নতুন এই ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন জোগান দিয়েছে। আমানত বিমা তহবিল থেকে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে যত দ্রুত সম্ভব পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্বল পাঁচ ব্যাংক নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো হচ্ছে-এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

চেয়ারম্যানের পদত্যাগ: সরকারি মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উল্লেখ করেছেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তাকে এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সরকারের সাবেক সচিব।


banner close