ধর্ষণের শিকার নারীর মেডিকেল পরীক্ষায় ‘টু ফিঙ্গার’ পদ্ধতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে রিটকারী সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল এ বিষয়ে রায় দেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায় থেকে উল্লেখ করে এ সংগঠনটি জানায়, আদালত আটটি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো হচ্ছে, ধর্ষণের শিকার নারীর ক্ষেত্রে দুই আঙুলের পরীক্ষা অবৈজ্ঞানিক, অনির্ভরযোগ্য এবং অবৈধ, এ পরিপ্রেক্ষিতে দুই আঙুলের পরীক্ষা নিষিদ্ধ।
রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘হেলথ রেসপন্স টু জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স-প্রটোকল টু হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার’ এ প্রটোকলটি সব ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ফিজিশিয়ান যারা ধর্ষণের শিকার নারীর ডাক্তারি (মেডিকো-লিগ্যাল) পরীক্ষা করেন, পুলিশ কর্মকর্তা যারা ধর্ষণের মামলার তদন্ত করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলার সরকারি প্রসিকিউটর এবং আইনজীবীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।
চিকিৎসকরা ধর্ষণের শিকার নারীর ডাক্তারি (মেডিকো-লিগ্যাল) পরীক্ষার সনদে ধর্ষণের বিষয়ে মতামত দেবেন, কিন্তু কোনোভাবেই অমর্যাদাকর শব্দ, যেমন: ‘অভ্যাসগতভাবে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত’ প্রয়োগ করতে পারবেন না এবং ধর্ষণের শিকার নারীকে তার অতীতের যৌন সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন না।
ধর্ষণের শিকার নারীর যৌনাঙ্গে কোনো গভীর ক্ষত পরীক্ষার জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে হবে।
কোনো শিশু বা কিশোরী মেয়ের ক্ষেত্রে ‘পার স্পেকুলাম এক্সামিনেশন’ পরীক্ষা করা যাবে না, যদি না কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন থাকে।
‘বায়ো ম্যানুয়েল’ পরীক্ষা সঙ্গে দুই আঙুলের পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই, এটি একটি গাইনি পরীক্ষা এবং ধর্ষণের শিকার নারীর ক্ষেত্রে এ পরীক্ষা করা যাবে না।
ধর্ষণের শিকার নারীর ডাক্তারি (মেডিকো-লিগ্যাল) পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও সেবিকাদের নিয়োগ করতে হবে। এ পরীক্ষার সময়ে সুবিধা অনুযায়ী নারী পুলিশ, একজন নারী আত্মীয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং সুবিধা অনুযায়ী একজন নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হবে। কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এ পরীক্ষার ক্ষেত্রে ধর্ষণের শিকার নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করবেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি নিশ্চিত করবেন যে, আদালতে ধর্ষণের শিকার নারীর জিজ্ঞাসাবাদে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, এমন কোনো প্রশ্ন আইনজীবী করবেন না।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা রোজী, অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা এবং ব্যরিস্টার শারমিন আক্তার। এর আগে ২০১৬ সালে এ পদ্ধতিকে ‘সেকেলে ও অনৈতিক’ বলে হাইকোর্টে মৌখিকভাবে মতামত উপস্থাপন করেছেন পাঁচ ফরেনসিক মেডিকেল বিশেষজ্ঞ।
বিশেষজ্ঞরা আদালতে বলেছিলেন, ‘এ পদ্ধতি সেকেলে। যৌন নির্যাতনের পরীক্ষার আধুনিক অনেক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে।’
সে সময় হাইকোর্টে মৌখিক অভিমত দিয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী, একই হাসপাতালের ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইল ল্যাবরেটরির প্রধান ডা. সাফিউর আখতারুজ্জামান, মিরপুরের ডেল্টা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাহিদুল করিম আহমেদ, বারডেম হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিনের প্রফেসর ডা. গুলশান আরা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন অব ল’, মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট মুজাহিরুল হক।
সনাতন পদ্ধতিতে (দুই আঙুলের মাধ্যমে পরীক্ষা) ধর্ষিতার মেডিকেল পরীক্ষা করার কারণে অনেক ভিকটিম পরীক্ষা করাতে আসেন না। আর এ কারণে অনেকে ধর্ষিত হয়েও বিচার পান না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এ পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতিটি একজন নারীর জন্য চরম বিব্রতকর ও অবমাননাকর।
নতুন ও আধুনিক মানবিক পদ্ধতি প্রবর্তন করার জন্যই আবেদনটি করা হয়, যেন নারী দ্বিতীয়বার অবমাননার শিকার না হন এবং ধর্ষিতা নারী সঠিক ও মানসম্পন্ন সর্বাধুনিক মানবিক পদ্ধতিতে মেডিকেল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে সুবিচার পান।
এসব বিষয় নিয়ে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ব্র্যাক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, নারী পক্ষ এবং ডা. রুচিরা তাবাচ্ছুম ও ডা. মোবারক হোসেন খান রিট আবেদনটি দায়ের করেন।
ওই রিটের ওপর জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল আদালত রায় ঘোষণা করেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারলে এবং পরবর্তী সময়ে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তিনি জানান কর্মীরা পরে সৌদি আরবে যেতে পারলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্ট্রি সম্পন্ন হবে এবং তারা প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সি একসঙ্গে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। ৩ লাখ টাকায় যেখানে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭-৮ লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনা করতে হবে এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে সেই অর্থ তুলতে তুলতেই কর্মীদের সময় পার হয়ে না যায়।
তিনি আরও জানান, কর্মীদের বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ে বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণায় সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে নিজ দেশের নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আগামীতে শ্রম খাতে আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ হবে।
আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ও সম্মেলনের (আইডিইএক্স ২০২৭) ১৮তম সংস্করণে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী, দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। একই সময়ে অনুষ্ঠেয় নেভাল ডিফেন্স অ্যান্ড মেরিটাইম সিকিউরিটি এক্সিবিশনের (এনএভিডিইএক্স ২০২৭) অষ্টম সংস্করণেও অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস এ তথ্য জানায়। দুটি ইভেন্ট আগামী বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ২৫ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) অনুষ্ঠিত হবে।
স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সর্বশেষ অগ্রগতি ও উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য আইডেক্স এবং এনএভিডিইএক্স একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। এই প্রদর্শনীতে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একত্রিত হয়।
ক্রাউন প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করবে এবং প্রদর্শনীর সাফল্যে অর্থবহ অবদান রাখবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তার সর্বোচ্চ বিবেচনা ও গভীর কৃতজ্ঞতার আশ্বাস জ্ঞাপন করেন।
কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন বলেছেন, ‘দেশে সারের কোনো সংকট ছিল না এবং বর্তমানেও কোনো সংকট নেই। দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি অসাধু চক্র সারের কৃত্রিম সংকট দেখানোর অপচেষ্টা করেছে। তবে এই চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। বর্তমানে দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন সার মজুত রয়েছে।’
সারের ডিলারশিপ বিতরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ডিলারশিপ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে তা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে এবং বিষয়গুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
আমদানিনির্ভর পণ্যের তালিকা কমে আসছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এমন কিছু পণ্য ছিল, যা প্রতি বছরই আমদানি করতে হয়েছে। তবে এ বছর ব্যতিক্রম ঘটেছে এবং এখন পর্যন্ত সেগুলো আমদানি করার প্রয়োজন পড়েনি।’
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীন সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত অতিথিদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে এসব কার্যালয়ে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা হবে।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় সাত হাজার ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং মারাত্মক রোগ ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।’
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যান। আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সরকারি কার্যালয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ অধূমপায়ী নারী-পুরুষ পরোক্ষ ধূমপানজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। এ ছাড়া প্রায় চার কোটি মানুষ ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এ ক্ষতি থেকে মানুষকে সুরক্ষায় সব জনসমাগমস্থল শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবিও জানান বক্তারা।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের সহকারী চিকিৎসক ডা. নায়লা পারভিন এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পূর্ণ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আহসান হাবিব।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর নিয়োগ-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে, তিনি এই পদে ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিবকে রাষ্ট্রপতির ১০% কোটায় সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অবসরে যাওয়ার পূর্বে তিনি নিজ ক্যাডারে প্রত্যাবর্তন করবেন।
জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আহসান হাবিব বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কর প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন। তিনি কর অঞ্চল-১/২/৩/৭/৮/১৫, ঢাকা, কর অঞ্চল-খুলনা, কর অঞ্চল-রংপুর, কর আপিল অঞ্চল-খুলনা, কর আপিল অঞ্চল-রাজশাহী ও কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া, তিনি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে হোটেল ইম্পেরিয়ালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব কথা জানান।
সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাইকা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।’
বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দ্রুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব’ (বাংলাদেশ-জাপান স্কিলস পার্টনারশিপ) গড়ে তোলা, একটি ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী’ (টেকনোলজিক্যাল ভিলেজ অ্যান্ড ইনোভেশন সিটি) প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি সহযোগিতা বাড়ানো।
এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বাসস
মোটরযানের বিভিন্ন কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। জরিমানা ছাড়াই মূল কর ও ফি পরিশোধ করে এসব কাগজপত্র আপডেটের সুযোগ দিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র (যেমন ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি পরিশোধ করে হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত শেষবারের মতো বর্ধিত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে, সংশ্লিষ্ট সকলকে জরিমানা ব্যতীত নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিজেদের মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার জন্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জাপানের স্থানীয় সময় আজ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।একই সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় মাসুমি কাকিনোকি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিও রয়েছেন। তিনি একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সূত্র: বাসস
আইনশৃঙ্খলা সুসংহত রাখা ও অপরাধীদের কঠোর দমনে সরকারের সুস্পষ্ট অনুমতি থাকলে পুলিশ প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারস্থ শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শরিয়াহভিত্তিক সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে বাহিনীর প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আইজিপি উল্লেখ করেন, পুলিশ লাঠিপেটা করলে বলা হয় ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’, আবার নীরব থাকলে বলা হয়, ‘দুর্বল পুলিশ’। তাই সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পুলিশকে কার্যকর কাজের পরিবেশ ও সক্ষমতা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইন ও সংবিধান অনুসরণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্যতা যাচাই না করে গুজবে কান দেওয়া অনুচিত।
বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে পুলিশপ্রধান স্পষ্ট করেন যে কোনো পুলিশ সদস্যের অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাথে পুলিশের কিছু সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার আওতায় গত দুই মাসে ২৭ জন সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিজের ঘর আগে পরিষ্কার করার নীতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কথায় কথায় পুলিশের ওপর দায় চাপানো কিংবা বাহিনীকে অকার্যকর করার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, কে আসবে বা না আসবে তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আলাদা কোনো ভাবনা নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আইন ও সংবিধান যেভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেবে, পুলিশ ঠিক সেভাবেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ক্রসফায়ার বাস্তবায়নেও পুলিশ দ্বিধা করবে না বলে তিনি কঠোর বার্তা দেন।
অনুষ্ঠানে ‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও সুদের কুফলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদ ও ঘুষমুক্ত, যা নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। অতীতে ব্যাংক দখল ও গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, সার্বিক শৃঙ্খলা এবং নাগরিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার রাজধানীর কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের এই জনবহুল শহরে সিটি করপোরেশনের সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নাগরিক সেবা প্রদান করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তদুপরি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হওয়া নানামুখী আর্থিক অনিয়ম ও উন্নয়ন তহবিলের অপব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকার রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে না, বরং সড়কের গুরুত্ব ও জনস্বার্থই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।
একই সভায় অংশ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, দক্ষিণ ঢাকার প্রধানতম নাগরিক সংকটের নাম জলাবদ্ধতা। এর সাথে নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রাখা হকারদের কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খুব দ্রুত বিশেষ প্রশাসনিক কর্মসূচি কার্যকর করা হবে।
প্রশাসক কড়া বার্তা দিয়ে জানান, ব্যস্ততম রাজপথে কোনো অবস্থাতেই অবৈধ হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও কাঠামোর আওতায় পুনর্বাসনের সুযোগ থাকবে, যার সফল দৃষ্টান্ত মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেট। এ সময় নাগরিক সেবা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ দায়বদ্ধতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনে যেকোনো ধরনের শৈথিল্য দেখা গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জাপান সফরে থাকা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টার দিকে টোকিওতে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন মৈত্রী লীগের সভাপতি এবং জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সংহত করতে ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য তারো আসোর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপান সফরের প্রেক্ষাপট টেনে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকের স্মৃতিচারণ করেন। অন্যদিকে তারো আসোও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর অতীত সাক্ষাতের বিষয়টিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো সর্বদাই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব গভীর করতে অত্যন্ত গঠনমূলক অবদান রেখেছেন।
বৈঠকে দুই দেশের নীতিনির্ধারকেরা রাজনৈতিক সম্প্রীতি, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং জনসাধারণের পারস্পরিক মেলবন্ধন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তারো আসো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের একটি বড় অংশই সম্ভাবনাময় তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সেখানে বিদেশি পুঁজির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় জাপানি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগ করতে ব্যাপক আগ্রহী বলে জানান তিনি।
জাপানি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। বৈঠকে শিক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) কার্যকর বাস্তবায়নে তারো আসোর ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি শিল্পে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে জাপানের অবিচল সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অন্যদিকে জাপানি প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন এলডিপির চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাবৃন্দ।
বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি আজই রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এ। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন সমুদ্র বেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে এবং বিস্তীর্ণ উপকূল জুড়ে বিরাজ করছে মেঘলা ও গুমোট আবহাওয়া।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমাগত পশ্চিম দিকে এগিয়ে একই এলাকায় ঘনীভূত রয়েছে। এর গতিপ্রকৃতি অপরিবর্তিত থাকলে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, গত মধ্যরাতে সিস্টেমটির অবস্থান ছিল পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্র সংলগ্ন সাগর অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। একই সাথে সাগরে থাকা সব মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সকালে তথ্যগুলো গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবা সুখী।
আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিশেষ জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তর চত্বরে একটি চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে তিনি এ অভিযানের সূচনা করেন।
উদ্বোধনী আয়োজনে পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পুলিশের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিট, আঞ্চলিক পুলিশ ব্যারাক, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণের ফাঁকা স্থানে পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ, ভেষজ এবং নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করা হবে।
পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুসংহত রাখা এবং জাতীয় বনজ সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দেশব্যাপী সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।