পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের একাংশ উদ্বোধন হবে আগামী ১০ অক্টোবর। সেদিন ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন রেলপথ বিষয়ক মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
তিনি দৈনিক বাংলাকে জানান, এই রেললাইন উদ্বোধনের আগে ঢাকা-ভাঙ্গা অংশের রেললাইনে পরীক্ষামূলভাবে ট্রেন চালানো হবে (ট্রায়াল রান)। আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রায়াল রান আগামী ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ট্রায়াল ট্রেন ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু পেরিয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত যাবে।
কক্সবাজার রেললাইনের উদ্বোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে সামারি (সারসংক্ষেপ) পাঠানো হয়েছে এবং সামারি অনুমোদন হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি। অক্টোবরের শেষের দিকে যেকোনো সময় এটা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া খুলনা থেকে মোংলা রেললাইন প্রকল্প অক্টোবরের শেষে গিয়ে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরের সময় উদ্বোধন করা হবে। সম্ভাব্য তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর।’
তবে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠান কোন এলাকায় হবে সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রেললাইন উদ্বোধন হলে প্রথমে চার স্টেশন চালু হবে। সেগুলো হলো- ঢাকা, মাওয়া, শিবচর, ভাঙ্গা। এই রেললাইন উদ্বোধনের পর শুরুতে এক জোড়া ট্রেন চালানো হবে। এক মাস পরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং স্টেশনও খুলে দেওয়া হবে।
বাণিজ্যিক অপারেশনের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন জানান, তিন মাসের মধ্যেই সব স্টেশনের কাজ এবং সিগন্যালিংয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রেললাইন উদ্বোধন হলেও ফুল ফেজে (পুরোপুরি) অপারেশনে যেতে তিন মাস সময় লাগবে।’
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন বসানো এবং স্টেশন ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য রেলওয়ে ২০১৬ সালের জুনে আলাদা প্রকল্প নেয়। জিটুজি পদ্ধতিতে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি)।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ থাকছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
ডিজি বলেন, গত তিন মাসে অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযান পরিচালনা করে র্যাব ৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার ও ১০৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও গত তিন মাসে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় ৪৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রায় ১৭৫ জন, ছিনতাইকারী ৬১ জন, ডাকাত ১০৬ জন, মানবপাচারকারী ২৬ জনসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় ৩ হাজার ৪৭৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের বিষয়ে ডিজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে র্যাব একটি মামলা দায়ের করে। এরপর গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান পরিচালনার করে র্যাব এবং পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর করে সংসদে পাস হয়েছে সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল- ২০২৬।
রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করার পরে তা পাস হয়।
‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
এই বিলের আওতায় সিভিল সার্ভিসের সব ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত অন্যান্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্ব শাসিত সংস্থাসমূহে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ এবং প্রতিরক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চাকরিতে স্ব স্ব বিধিমালা বহাল থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের অফিসে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দুটি ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি রেপ্লিকা তুলে দেন। একটি ছবিতে রয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অপর ছবিতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র।
সাক্ষাতে তাদের আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয়পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তাসহ পারস্পরিক স্বার্থের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
এদিকে এই সাক্ষাতের বিষয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৫০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে। এ সকল বাংলাদেশির মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আমির হামজার (কুষ্টিয়া-৩) টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে প্রবাসীদের কল্যাণমূলক বিষয়টি চরমভাবে অবহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ : সংসদে মন্ত্রী জানান, প্রবাসী কর্মীদের প্রশাসনিক, আইনগত এবং কল্যাণমূলক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২৭টি দেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহের বিদ্যমান ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইংয়ের বিভিন্ন খাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড হতে প্রতি অর্থ-বছরে অর্থ বরাদ্দসহ সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রবাসী কর্মীদের আইনগত সহায়তা প্রদানের আইন সহকারীর মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ সেবা নিশ্চিতকরণে ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১১ মিশনের শ্রম কল্যাণ ল’ ফার্ম/প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় কর্মীর দেশে আসতে সমস্যা হলে দূতাবাস/হাইকমিশন হতে ট্রাভেল পাশের ব্যবস্থা গ্রহণ; শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন জেলখানা, ডিটেনশন সেন্টার/ক্যাম্প পরিদর্শন করে আটক কর্মীদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান এবং কারামুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মন্ত্রী জানান, দেশের তিনটি প্রধান বিমানবন্দরে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের স্থাপিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে প্রবাস থেকে আগত কর্মীদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।
এছাড়া আহত, অসুস্থ বা মৃত প্রবাসী কর্মী পরিবহনের জন্য পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স (এর মধ্যে বর্তমান সরকারের আমলে দুটি ফ্রিজিং) বিনামূল্যে সেবা প্রদান করছে। বিদেশ থেকে গুরুতর আহত বা অসুস্থ হয়ে ফেরত আসা কর্মীদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রবাস ফেরত আহত ও অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা সহায়তার সর্বোচ্চ পরিমাণ বর্তমান সরকারের সময়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সময়ে ১ লাখ টাকা ছিল।
তিনি জানান, প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের জন্য এইচএসসি/সমমান এবং গ্রাজুয়েশন পর্যায়ে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী সন্তানদের মাসিক ভাতা বর্তমান সরকারের সময়ে ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
রেইস প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ৫৩ হাজার বিদেশ ফেরত কর্মীকে পুনঃএকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি আয়বর্ধক বিশেষ প্রশিক্ষণ, রেফারেল এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং পরিবারের আর্থিক সহায়তায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয় বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে আমরা সম্মান জানাতে চাই। ২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ৭১-এর স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।
রোববার জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতোমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।
এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন। এটিই প্রকৃত ইতিহাস যা আমরা সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চাই।
আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি পুনর্বহাল করতে চাই। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মূল করেছে। জুলাই সনদে এটি থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো দলের আপত্তির কারণে রাখা হয়নি। তবে আমরা এটি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এই সংসদের মাধ্যমে। আমরা ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করি। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলা নববর্ষে পহেলা বৈশাখে যে শোভাযাত্রাটি হবে, তা আর আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে হবে না, এবার সেটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপিত হবে বলে জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আনন্দ শোভযাত্রা করেছে। আনন্দ আর মঙ্গলের পার্থক্য নেই। আপাত দৃষ্টিতে এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কিছু নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে। আমরা এটার নাম দিয়েছি বৈশাখী শোভাযাত্রা। আমারা ইউনেস্কো কে জানিয়ে দেব- এটার নাম হবে এখন বৈশাখী শোভাযাত্রা।
রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিভাজন বা সংঘাত চাই না। আমরা পহেলা বৈশাখের উদযাপন নাম নিয়ে সংকট তৈরি করতে চাই না। আমাদের সিদ্ধান্ত হলো আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নয়। এটার নাম হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা।
তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। নানা আয়োজনে অতীত থেকেই এটা দেশে পালন করা হচ্ছে। হাজার বছরের পুরনো পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা নিয়ে নানা মত-দ্বিমত রয়েছে। এরশাদের সময়ে এটা আনন্দনযাত্রা, আবার পতিত আওয়ামী লীগের সময়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
রোববার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরো বাড়ছে।’
সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।’ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত এক দিনে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৪ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৪ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৯২৯ জনে পৌঁছেছে। এ সময় পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।
এদিকে একই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী।
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ (বত্রিশ) বছর নির্ধারণ করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
রোববার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বিলের মূল বিধানগুলোতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার এবং বিসিএস বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর যেসব পদে নিয়োগের বয়সসীমা আগে ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩২ ছিল, সেখানেও এখন থেকে বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।
অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা এর আগে ৩২ বছরের বেশি (যেমন : ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেই ক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না। এছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গঠনে আরও বেশি সুযোগ করে দিতে এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এই বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করাত এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দিতেই এই নতুন বিলটি আনা হয়েছে।
বিলের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে অধ্যাদেশ জারির ফলে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু বিশেষায়িত পদে উচ্চতর বয়সসীমা কমে গিয়েছিল। বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারণ করা পদগুলোর বিদ্যমান নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।
সাউন্ড সিস্টেমের বিভ্রাটের কারণে সংসদের অধিবেশন ৪০ মিনিট মুলতবি করা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ মুলতবি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
স্পিকার বলেন, আবারও স্পিকারের মাইক কাজ করছে না। এই কারণে ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো। প্রথম ২০ মিনিট নামাজের জন্য এবং পরবর্তী ২০ মিনিট মাইকের জন্য মুলতবি।
তিনি বলেন, সদস্যবৃন্দ স্পিকারের মাইক কাজ করছে না, আপনাদেরও মাইক কাজ করছে না। এ কারণে ৪০ মিনিট বিরতি দেওয়া হলো। নামাজের টাইম হয়েছে, ২০ মিনিট বিরতি দেই। সদস্যবৃন্দ আজানের ২০ মিনিট বাকি এবং এই মাইক রিপেয়ার করার জন্য আরো ২০ মিনিট, মোট ৪০ মিনিট সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো।
বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ মো. আবদুল মান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনে অষ্টম দিন সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমানে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসকল্পে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিশেষ পদক্ষেপ
১. বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ‘উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকায় ৯০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে সারা দেশে ১১৫টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং ১২২টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
২. দুর্যোকালীন সময়ে সহজে ও দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য দেশব্যাপী ১২ হাজার ২৪৫টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৩৬টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
৩. দেশের ১২টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি উদ্ধারকার্য ব্যবহারের জন্য টেলিকমিউনকেশন ইকুইপমেন্ট, ফায়ার ফাইটং ইকুইপমেন্ট, রেডিও সেট, ১২টি রেসকিউ বোট এবং ৪১৩টি শ্যালো ওয়াটার রিসোর্চ বোট ক্রয় করা হবে।
৪. অন্যদিকে, ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটর্ফম ল্যাডার ক্রয়পূর্বক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনটি ফর্কলিফ্ট, ২০ টনের তিনটি ডোজার, ৪৮ টনের তিনটি ডোজার আমর্ড ফোর্সেস ডিভিশনকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধারকার্যের জন্য আরও অগ্নিনির্বাক সরঞ্জামাদি, তাবু, এয়ার বোট, স্পিড বোট, ইমারজেন্সি রেসপন্স ভেহিক্যাল, স্যার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইকুইপমেন্ট, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয় করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেমের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) দাফতরিক তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার ও প্রদানের জন্য মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী)। রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ২৮(৪) অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট যেকোনও তথ্য প্রেস, মিডিয়া বা অন্য কোনও মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে মাহদী আমিন ও আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা মাহদী আমিন বর্তমানে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা এবং ২০২৪ সালে দলের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ৩১ দফার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) কয়েক দশক ধরে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় যুক্ত। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, বাংলাবাজার পত্রিকা ও চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন প্রথম সারির গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি কলকাতার উপ-হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবেও তিনি দীর্ঘ সময় অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট যেকোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তথ্য এখন থেকে এই দুই কর্মকর্তার মাধ্যমেই গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।
জ্বালানি ও সামগ্রিক সংকট প্রসঙ্গ টেনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জ্বালানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সংকট। এতে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।’
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে এ পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বর্তমানে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা ও পুনরুদ্ধারের এক ধরনের যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রভাব দেশের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে, ফলে সরকারি তহবিলে ধারাবাহিক চাপ ও ক্ষয় তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের ঋণ পরিস্থিতি ও তার ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী দিনে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং অর্থ সংগ্রহের খরচও পরিকল্পনার অংশ হতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি এমন অবস্থায় রয়েছে যেখানে সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে তা পুনরুদ্ধার করা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী ছিল, ফলে এখন উত্তরণের বিষয়টি সামনে আসার মতো পরিস্থিতি নেই।’
তিনি বলেন, ‘এই সংকট কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক বাস্তবতার অংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে দাম সমন্বয় করেনি, তবে এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব নয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপ বহন করা সম্ভব না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’
এর আগে, এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত, স্থলবেষ্টিত ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তর ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রমুখ।