কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মামাকে হত্যার মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নান ওরফে রফিক মাতুব্বরকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব বলছে, ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ ২৯ বছর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০। বুধবার দুপুরে র্যাব-১০ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এম ফখরুল হাসান বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ১৯৯৪ সালের ৭ জুন ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া মেটাতে গ্রেপ্তার আসামির মামা ওসমান খামারু তাদের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে ভাগ্নে আব্দুল মান্নান তার মামাকে হত্যা করেন। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে তিনি আত্মগোপন করেন। বিচার কার্য শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। তিনি ঘটনার পর থেকে ২৯ বছর পালিয়ে ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আব্দুল মান্নান ওই মামলায় যাবজ্জীবন সাজার প্রাপ্ত বলে স্বীকার করেছেন।
ফখরুল হাসান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ৭ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্রেপ্তার আসামি আব্দুল মান্নান তার আপন ছোট ভাই মো. নান্নুর সঙ্গে পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হন। ওই দিন দুপুর দেড়টার দিকে আব্দুল মান্নানের আপন ছোট মামা ভুক্তভোগী মৃত ওসমান খামারু (২৫) ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া মেটানোর জন্য তাদের বাড়িতে আসেন। ভুক্তভোগী ওসমান খামরু বাড়িতে আসার সঙ্গে সঙ্গে আব্দুল মান্নান তার মামার দিকে ধারালো বর্শা ছুড়ে মারেন। এতে ওসমান খামরু ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে নিহতের পরিবার ভেড়ামারা থানায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর থেকে আব্দুল মান্নান দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচয় গোপন করে আত্মগোপন করেছিলেন। সর্বশেষ ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার বাবলাতল এলাকায় নিজের নাম ও পরিচয় গোপন করে ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অধিবেশনের ফাঁকে এই শীর্ষ সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের একটি স্থিরচিত্র নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে ড. খলিলুর রহমান লেখেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত মতবিনিময়।’ তবে দুই নেতার এই সাক্ষাতে পারস্পরিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান বিশ্বসংস্থার জরুরি কাঠামোগত সংস্কার এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আফ্রিকান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তি ও অধিকার সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জাতিসংঘের দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ জুন ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর এক বছর মেয়াদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার থেকেই নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল বিতর্ক পর্ব শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারণ পরিষদে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভাষণ দেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সরকারি সফরে এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দু'দেশের শীর্ষ নেতৃদ্বয়।
স্হানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক একথা জানান।
সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করপন তাঁরা।
তিনি জানান, বৈঠকের আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, 'মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই।'
তিনি বলেন, 'মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।'
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।
সহকারী প্রেস সচিব বলেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও হাইতির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতা আরো জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
দেশে স্বর্ণের দাম যখন একের পর এক রেকর্ড গড়ছে, তখন থামছে না স্বর্ণ পাচার। আন্তর্জাতিক বিমানপথে বিদেশ থেকে আসছে স্বর্ণর চালান, আবার দেশের ভেতর দিয়ে এসবের একটি অংশ যাচ্ছে সীমান্তের দিকে। উড়োজাহাজের শৌচাগার, আসনের নিচ, যন্ত্রাংশ কিংবা গাড়ির বিশেষভাবে তৈরি অংশ—পাচারকারীরা ব্যবহার করছে নানা কৌশল। সাম্প্রতিক জব্দের ঘটনাগুলোতে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে স্বর্ণ আসা এবং পরে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে পাচারের দুই প্রবাহই সামনে এসেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিজিবির প্রকাশিত মাসভিত্তিক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৮ কেজি ৩৩৫ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ হয়েছে। বর্তমান ২২ ক্যারেট বাজারদর ধরে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। তবে এটি মোট জব্দের হিসাব নয়; কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কোস্টগার্ডের জব্দ এর বাইরে।
সেপ্টেম্বরেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকটি বড় চালানে ২৯ কেজির বেশি স্বর্ণ জব্দ হয়েছে। অর্থাৎ স্বর্ণ পাচারের নেটওয়ার্ক শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়; বিমানবন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহনব্যবস্থাও এর সঙ্গে যুক্ত।
বিমানবন্দরেই কোটি টাকার চালান: সর্বশেষ বড় চালানটি ধরা পড়ে ২১ সেপ্টেম্বর। সিঙ্গাপুর থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটের শৌচাগার থেকে ৫০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ওজন প্রায় ৫ কেজি ৮৩২ গ্রাম। এনবিআরের হিসাবে, এর বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা। স্বর্ণগুলো কোনো যাত্রীর ব্যাগেজে ছিল না; উড়োজাহাজের শৌচাগারে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। ২ সেপ্টেম্বর ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের আসনের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ৯ কেজি ৩৩১ গ্রাম স্বর্ণ, যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস।
শুধু সেপ্টেম্বরের এই তিন ঘটনায় প্রায় ২৯ কেজি স্বর্ণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার হিসাবে প্রায় ৫৬ কোটি টাকার চালান জব্দ হয়েছে।
ঢাকা থেকে যশোর, এরপর ভারত: স্বর্ণ পাচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠেছে যশোর। বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঢাকায় আসা স্বর্ণের একটি অংশ বিভিন্ন পরিবহনে যশোরে নেওয়া হচ্ছে। পরে শার্শা-বেনাপোল, চৌগাছা কিংবা সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা হচ্ছে।
মে থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ও দাইতলা এলাকায় নয়টি পৃথক অভিযানে ৭ কেজি ১২২ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করে বিজিবি। আটক করা হয় ১১ জনকে। জব্দ স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
জুনে একটি গাড়ি থেকে ৩ কেজি ৬৪১ গ্রাম স্বর্ণর ৩১টি বার উদ্ধার করা হয়। বিজিবির দাবি, চালানটি ঢাকা থেকে বেনাপোল সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল। এর আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতমুখী স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে সীমান্ত ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এনবিআর, ব্যবসায়ী ও কাস্টমসের বক্তব্য: এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, দেশে থাকা এবং প্রতিনিয়ত আসা স্বর্ণের বড় অংশই অবৈধ পথে আসছে। তার মতে, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ দিতে হবে। আনুষ্ঠানিক আমদানি প্রত্যাশিত মাত্রায় না হলেও বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ থাকায় এর উৎস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক খান বৈধ ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেছেন, আমদানি প্রক্রিয়ার জটিলতা বৈধ ব্যবসাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার দাবি, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অনুমোদিত ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রতি ভরিতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেশি খরচ পড়ত। আমদানি সহজ করা গেলে বৈধ সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বলছে, বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচারে চোরাকারবারিরা প্রতিনিয়ত কৌশল বদলাচ্ছে। উড়োজাহাজের শৌচাগার থেকে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেকর্ড দামে বাড়ছে ঝুঁকি: মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণর দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামকে এক ভরি ধরে বর্তমান দরে এক কেজি স্বর্ণের সমতুল্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ১ লাখ টাকা।
উচ্চ দাম যেমন বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে পাচারের প্রণোদনাও। বিশ্ব গোল্ড কাউন্সিলের হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্বর্ণের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৬৯ টন। প্রথমার্ধে মোট চাহিদার মূল্য রেকর্ড ৩৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
সরকার স্বর্ণ খাতকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার উদ্যোগও নিয়েছে। আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘গোল্ড পলিসি ২০১৮ (সংশোধিত) ২০২৬’ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। লক্ষ্য—বৈধ বাণিজ্য বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, রপ্তানি বাড়ানো ও রাজস্ব আহরণ।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বিমানবন্দর ও সীমান্তে অভিযান চালিয়ে পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। বাহক গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা, বিদেশি সরবরাহকারী, দেশের অভ্যন্তরের ক্রেতা এবং সীমান্তের গ্রহণকারীকে শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ আমদানির পথ সহজ করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো গেলে অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগও কমতে পারে।
সাম্প্রতিক জব্দের ঘটনাগুলো তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৈধ আমদানি, বাজারের সরবরাহ, উচ্চ মূল্য এবং সীমান্তপথে আন্তর্জাতিক চোরাচালানের পুরো একটি চক্র।
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রেকর্ড ১ হাজার ৮৭২ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, চলতি বছর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন এবং মারা গেছেন ১৯৫ জন।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ৭ সেপ্টেম্বর একদিনে ১ হাজার ৫৫৮ জন, ১৬ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৭৫৩ জন এবং সর্বশেষ ১ হাজার ৮৭২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে সেপ্টেম্বরেই একের পর এক দৈনিক ভর্তির রেকর্ড হচ্ছে।
দুই সপ্তাহেই আগস্টের কাছাকাছি রোগী: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, জুনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ২ হাজার ৯০৭ জন। জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৪ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৪২৪ জন। অর্থাৎ আগস্টের পুরো মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহেই রোগীর সংখ্যা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এরপরও দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী।
বর্ষা, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ায় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মডেলভিত্তিক পূর্বাভাসেও অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজধানীর বাইরে ছড়াচ্ছে চাপ: গত একদিনে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৮৭২ রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৯১, খুলনা বিভাগে ৩১৬, চট্টগ্রামে ২৮৫, বরিশালে ১৯০, রাজশাহীতে ১৬২, ময়মনসিংহে ১০৫, রংপুরে ৬৭ এবং সিলেটে ৬ জন রয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯১ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভর্তি হয়েছেন ১৫৯ জন। ফলে ডেঙ্গুর চাপ যে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, তা স্পষ্ট।
জ্বর কমলেই ছাড় নয়: ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্লাজমা লিকেজ এড়াতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জ্বর কমে যাওয়ার পর চার দিন গুরুত্ব দিয়ে হাসপাতালে অবজারভেশনে রাখতে হবে। রোগী চলে যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে সিকিউরিটি দিয়ে হাসপাতালের গেট বন্ধ রেখেও রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ। পৃথিবীতে এর আলাদা কোনো চিকিৎসা নেই। নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রটোকল রয়েছে। সে চিকিৎসা প্রটোকল দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে স্যালাইন। প্রয়োজনীয় স্যালাইন প্রতিটি উপজেলায় ও কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রাখা হয়েছে। চিকিৎসায় কোনো কিছুর অভাব হবে না। একটা লেবেলে গিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের প্লাজমা লিকেজ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যেন সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আরও ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
৪০ জেলায় প্রশিক্ষণ ১,৬০০ চিকিৎসককে: মানসম্মত ডেঙ্গু চিকিৎসা সারা দেশে পৌঁছে দিতে ৪০ জেলায় ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের পরিচালনায় দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে ‘ট্রেনিং অব ডক্টরস অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনার ভুলে যেন কোনো ডেঙ্গু রোগীর প্রাণ না যায়, সে জন্য চিকিৎসকদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণে দক্ষ করে মৃত্যুর হার শূন্যে নামানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, এবারের ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৬২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৯ হাজার ৮৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। রোগী বেড়ে গেলেও আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশকে সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আবেগ বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না। রোগতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমন্বিতভাবে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ঢালাও মিডিয়া ট্রায়ালও গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মূল প্রশিক্ষণের আগে প্রায় ৩৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসককে ‘ট্রেইনার্স ট্রেনিং’ দেওয়া হয়েছে। তারা দেশের ৪০ জেলায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
অক্টোবর নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসককে পুনঃপ্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির পানির পাত্র, ড্রাম-বালতি, ভবনের বেজমেন্ট, পার্কিং এলাকা, পানির মিটার ও পাইপসহ বিভিন্ন স্থানে এডিসের প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধনে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন। তাই বছরজুড়ে নজরদারি, আক্রান্ত এলাকার সঙ্গে মশার ঘনত্বের তথ্য মিলিয়ে ‘হটস্পট’ নির্ধারণ, লার্ভিসাইডিং ও উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ফগিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা।
আগের বছরের চিত্রও উদ্বেগজনক: ২০২৫ সালে দেশে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন।
চলতি বছরের রোগী ইতোমধ্যে ৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে সম্ভাব্য সংক্রমণের শীর্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সক্ষমতা, চিকিৎসকদের দক্ষতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ এখন জরুরি।
পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি ও আধুনিক নৌপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নৌযান চার্টার প্রদানের বিদ্যমান নীতিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নৌযান চার্টার প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থার রাজস্ব বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা হয়েছে।
সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি উপস্থিত থেকে প্রস্তাবিত নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
সভায় কর্মকর্তারা বলেন, দেশের নৌপরিবহন খাতে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত চাহিদা এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে নৌযান চার্টার ব্যবস্থাপনাকেও আধুনিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন।
এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নীতিমালায় নৌযান চার্টার প্রদানের প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
একই সঙ্গে চার্টার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসির রাজস্ব আয় বাড়ানো, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি নৌযানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিআইডব্লিউটিসির নৌযানগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। তাই এসব নৌযান চার্টারে দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক বিষয় বিবেচনা করলেই হবে না; জাতীয় স্বার্থ, সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা এবং নৌযানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন নীতিমালায় এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি বলেন, বিআইডব্লিউটিসির নৌযানগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এসব নৌযান চার্টার দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও সংস্থার আর্থিক সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একই সঙ্গে অংশীজনদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নৌযান চার্টারের ক্ষেত্রে এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে চার্টার গ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত ও সহজভাবে দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
সভায় কর্মকর্তারা বলেন, নৌযানের অব্যবহৃত সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তা বিআইডব্লিউটিসির আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ জন্য চার্টার প্রদানের ক্ষেত্রে নীতিমালা সুস্পষ্ট ও সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে নৌযান চার্টারের শর্ত, প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বগুলো আরও সুস্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌযান চার্টার প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চার্টার প্রক্রিয়া যত বেশি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে, সরকারি সম্পদের ব্যবহার তত বেশি কার্যকর হবে এবং অংশীজনদের আস্থাও বাড়বে। এ ছাড়া গ্রাহকদের চাহিদা ও নৌপরিবহন খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবা প্রদানের বিষয়টি নতুন নীতিমালায় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এতে একদিকে চার্টার গ্রহীতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হবে, অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সভায় খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের মতামত ও পরামর্শ দেন। এসব মতামত পর্যালোচনা করে খসড়াটি প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’ দ্রুত চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বিআইডব্লিউটিসির নৌযান চার্টার ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।
হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে পরবর্তীতে অর্থাৎ দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে সই করেছেন উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। পরিপত্রটি মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার ঘোষণা দিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করছেন। পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপসহ গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি সংযুক্ত করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
জিডি যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া বা উদ্ধার করা সম্ভব নয়- তাহলে আগের পাসপোর্ট ‘Revoke’ করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।
এছাড়া হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের Immigration Management System (IMS)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজনে ইন্টারপোলকে অবহিত করাসহ বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘Lost Circular’ জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সময় ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ লেখা থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের ‘Lost/Revoked’ অবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম- এই মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ তথ্য সংশোধনের বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করা যাবে।
আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা সমর্পণের ভিত্তিতে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে এবং আবেদনকারীকে শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এছাড়া হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করা পাসপোর্ট ‘Revoke’ করার পর সেটি পরবর্তীতে পাওয়া গেলেও পুনরায় সক্রিয় বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় এবং নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা আরও হয়েছে, হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত আগের পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনাগুলো সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরিপত্র জারির তারিখ থেকেই এটি কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে একের পর এক তিন দফা ব্যয় ও প্রকল্প সংশোধন করা হলেও এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সমীক্ষা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
মঙ্গলবার টেকনাফে নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
সভায় সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে মন্ত্রী এ্যানি বলেন, ‘একটা প্রজেক্ট তিনবার রিভাইজ হওয়া আপনাকে বুঝতে হবে, এরপরও জনগণের সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। তাহলে রিভাইজ কেন হলো? আপনারা বুঝে নেন, তিনবার হওয়ার যৌক্তিকতা কী থাকতে পারে। এটা কি জনস্বার্থে হলো? এটা কি জনগণের জন্য হলো?
সীমান্ত সড়ক নির্মাণে অতীতে অনেক ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটা জায়গায় যেতে চাই না। আমরা নির্বাচিত সরকার, আমাদের দায়িত্ব আছে। এখন এই মুহূর্তে এটা আমাদের একটা গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার এটাকে শেষও করতে হবে। বসে থাকলে তো চলবে না। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সীমান্ত সড়কের কাজ শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা, পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও খাল খননের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়কটি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম থেকে উখিয়ার পালংখালী হয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০২২ সালে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ১৪১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে বাড়ানোর প্রস্তাবের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
এ বিষয়ে এ্যানি বলেন, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এ সড়ক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে সীমান্তে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।
#এক দশকেও শেষ হয়নি নাফের বাঁধ প্রকল্প
এর আগে নাফ নদীর তীরবর্তী পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। পরে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ্যানি বলেন, ‘টেকনাফের মানুষ এখনো এ প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায়নি। প্রকল্পের স্ট্রাকচার ও সমীক্ষা সঠিক না হওয়ায় দীর্ঘ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আযাদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় কোথাও স্লুসগেট নির্মাণ করা হবে, নাকি ব্রিজ করা হবে-তা স্থানীয় মানুষের মতামত ও সুবিধা বিবেচনা করে নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই ঢাকার বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল এলাকায় এসে পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া ও টেকনাফের নাফ নদী বরাবর পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্পটি বর্তমানে চলমান। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো, খাল পুনঃখনন, সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ রয়েছে। সরকারি হিসাবে প্রকল্পটির অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
মূলত ২০১৭ সালে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এত বছর পরও কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির পরিকল্পনা, সমীক্ষা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার কার্যালয়ের তথ্যেও পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্পটিকে চলমান প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আযাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিন, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্টেকহোল্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।
এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাব্য চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স। ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের বিষয়ে একটি বার্তা যাবে। এয়ারবাসের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা এখনো চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এয়ারবাসের সঙ্গে সরকারের আলোচনা ও দরকষাকষি চলমান জানিয়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হওয়ায় ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয়। তবে এয়ারবাসসহ ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে তারা।
তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর আমি জোর দিচ্ছি। এই বার্তাটি বর্তমান সরকারের কাছেও আমরা দিচ্ছি। কারণ আমরা মনে করি, এটি অত্যাবশ্যকীয়। বর্তমান সরকার এবং বিমানের প্রতি আমাদের আস্থা আছে।’
এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাব্য চুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, সংখ্যার বিচারে এটি ইউরোপের জন্য বড় কোনো চুক্তি নয়। তবে এর তাৎপর্য আরও বিস্তৃত। বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে বাংলাদেশ কতটা আগ্রহী, এ সিদ্ধান্ত তার একটি ইঙ্গিত দেবে।
তিনি বলেন, শুধু একটি চুক্তি করে সম্পর্ক শেষ করার ধারণায় ইউরোপ বিশ্বাস করে না। তারা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়। বাংলাদেশের সঙ্গে ফরাসি বিভিন্ন কোম্পানির দীর্ঘদিনের সহযোগিতার মতো এয়ারবাসের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ফ্রান্স।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটা এমন নয় যে শুধু এয়ারবাস বিক্রি করলাম, এরপর শেষ। এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়া।’
বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রায় ১৭ শতাংশ রপ্তানি হলেও ইউরোপে যায় প্রায় ৪৮ শতাংশ। যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করলে এ অংশ আরও বেশি। ফলে ইউরোপ বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে এয়ারবাস ও বোয়িং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি হলেও এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা থামেনি বলে জানান ফরাসি রাষ্ট্রদূত। তার ভাষ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখনো এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহী এবং দরকষাকষি ভালোভাবেই চলছে। তিনি বলেন, ‘দরকষাকষি এখনো ভালোভাবে চলছে এবং ভালো ফলও আসছে।’
এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনার সূত্রপাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কারিগরি মূল্যায়নের পর এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছিল। এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ ছিল না। বিশ্বের অনেক বড় বিমান সংস্থার বহরে এয়ারবাস ও বোয়িং দুই ধরনের উড়োজাহাজ রয়েছে।
মিশ্র বহরের সুবিধার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিভিন্ন উড়োজাহাজের সক্ষমতা ও কারিগরি সুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। এয়ারবাসের এমন উড়োজাহাজও রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে যেতে পারে।
এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনায় সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, বড় চুক্তির ক্ষেত্রে সব কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তার মতে, আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারত, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার এফটিএ রয়েছে। বাংলাদেশও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে চাইলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের আগ্রহ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে পারে।
এফটিএ হলে ইইউর ২৭টি দেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিসর আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ফ্রান্স বা ইউরোপ বাংলাদেশকে অন্য কোনো অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক বেছে নিতে বলছে না। বরং অংশীদারত্বের ক্ষেত্র বাড়াতে চায়। তার ভাষায়, ‘ফ্রান্স এবং ইউরোপ কখনও বলে না আমাদের এবং তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নাও। আমরা অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি। অংশীদারত্ব মানে বাদ দেওয়া নয়, অন্তর্ভুক্তি।’
এফটিএ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ইউরোপের উভয়েরই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা ইউরোপকে কী বার্তা দিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিএনপির মূল শক্তি বন্দুক, ককটেল বা রিভলবার নয়; দেশের সাধারণ জনগণই দলের চালিকাশক্তি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় আব্দুল্লাহপুরসংলগ্ন পলওয়েট মার্কেটের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন ও দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে এবং তিনি দেশ ছেড়েছেন—এমন দাবি করেন তিনি। ফিলিপাইনের মার্কোস ও ইরানের শাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কোনো স্বৈরাচার গণঅভ্যুত্থানের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি।
রাজনীতিতে শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উসকানিমূলক বক্তব্য ও আস্ফালনের মধ্যে তিনি আগের সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিধ্বনি দেখতে পাচ্ছেন। অগণতান্ত্রিক উপায়ে বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোনো কিছু অর্জনের চেষ্টা সহাবস্থান ও শান্তির বার্তা দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সংকট, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মহেশখালী টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে সরকারকে বিপুল লোকসান গুনতে হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও বিরোধী দল ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে রিজভী রংপুরে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে লংমার্চের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, জ্বালানি সংকটের সময় এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের কাছে বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনাও জানতে চান।
রাজধানীর বাড্ডা, মিরপুর, উত্তরা ও কাফরুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনার প্রতিবাদ জানান রিজভী। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রিজভীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সাম্প্রতিক অভিযানে ৪৭২ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের এ সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।
রিজভী বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উত্তরা ও বিমানবন্দর মহাসড়কের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন এবং পরিকল্পিত নাশকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী বাজারে চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় গ্রেপ্তার রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন টুডুকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে সঙ্গে নিয়ে জামতলী বাজারসংলগ্ন আমবাগান, হলুদখেত ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাতভর তল্লাশি চালিয়েও তখন শিশুটির মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
পরে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে রিপন টুডুর দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করে দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে জামতলী এলাকার একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দিনাজপুর ডিবির অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, রিপন টুডুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি বলেন, হত্যার কারণ, মরদেহ কোথায় ও কীভাবে গুম করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে জিন্নাতুন তার মেয়ে রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সম্পর্কে শিশুটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ। একই সঙ্গে মরদেহের ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থানের উপযোগী প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষা প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, শিক্ষা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষার মান আরও বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, বেকারত্ব সৃষ্টি করে এবং কর্মসংস্থানের উপযোগী নয়—এমন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশে ও বিদেশে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।
রাষ্ট্রপতি প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, সার্বিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ও উঠে আসে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব ছাড়াও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) উপস্থিত ছিলেন।