আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবার আবেদন আহ্বান করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক এ সংস্থা। এ-সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি শিগগির জারি করা হতে পারে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
কোনো দেশি সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চাইলে তাদের পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে ইসির কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনের জন্য ইসি আগে আবেদন আহ্বান করেছিল। গত ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ১৯৯টি সংস্থা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। পরে আরও ১১টি আবেদন আসে। মোট ২১০টি আবেদনের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৬৮টি সংস্থাকে নিবন্ধনযোগ্য হিসেবে নির্বাচিত করে ইসি।
ইসি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৬৮টি সংস্থার বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে বলেছিল কমিশন। নির্ধারিত সময়ে দুটি সংস্থার বিষয়ে আপত্তি আসে। এই আপত্তি নিয়ে শুনানি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। বাকি ৬৬টি সংস্থা নিবন্ধন পাবে, তা মোটামুটি চূড়ান্ত।
তবে ইসি মনে করছে, আগের তুলনায় এবার দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার সংখ্যা অনেক কম। তাই এই সংখ্যা বাড়াতে আবার আবেদন আহ্বান প্রয়োজন। ইসি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনাররা আলোচনা করেছেন। দু-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবীব খান বলেন, বর্তমান কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যাপারে সব সময়ই আন্তরিক। এ কারণে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কমিশন চায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পর্যবেক্ষক আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকুক। স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য এটি প্রয়োজন। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত নিবন্ধনযোগ্য স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার সংখ্যা আগের তুলনায় কম। তাই এই সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করে কমিশন।
ইসি সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ছিলেন ৮১টি দেশীয় সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন প্রতিনিধি।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনের পদ্ধতি চালু করা হয়। বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে সংযোজন করা হয়। ইসি একটি স্থানীয় পর্যবেক্ষক নীতিমালাও তৈরি করে।
২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ১৩৮টি সংস্থাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছিল ইসি। এর মধ্যে ৭৫টি সংস্থার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন পর্যবেক্ষক নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
তবে এর আগেও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেতেন। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় ৬৯টি সংস্থার ২ লাখ ১৮ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
ইসির তথ্যমতে, পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন দেয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হবে, তার মধ্যে রয়েছে সংস্থাকে দেশের কোনো আইনের অধীন নিবন্ধিত হতে হবে। সংস্থাকে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হতে হবে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন, আছেন বা কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, এমন কোনো ব্যক্তি সংস্থার প্রধান নির্বাহী বা পরিচালনা পর্ষদে বা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হয়ে থাকলে সে সংস্থাকে নিবন্ধন দেয়া হবে না।
আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান।
সংবিধানে জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে। তার আগের ৯০ দিনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ ১ নভেম্বর থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন করতে হবে।
ঘুষের অভিযোগ বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে অবশ্যই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমাদের ইমেজ সংকট হয়। তবে আমি আগেই বলেছিলাম যে আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ন্যূনতম দুর্নীতির অভিযোগ এলে বরদাশত করা হবে না। বৈঠক করে প্রত্যেক প্রসিকিউটরকে আমি একই কথা বলেছি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কাজ করতে হলে নির্লোভ হতে হবে। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকতে হবে সবাইকে। এমন না হতে পারলে এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। যে কেউই চলে যেতে পারবেন।
প্রসিকিউটরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সংবাদ দেখেছি। এটা গুরুতর অভিযোগ। এমন কিছু আমাদের কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠার কথা ছিল না। যখন উঠেছে তাৎক্ষণিকভাবে এটার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আমরা এটা প্রশ্রয় কেন দিয়েছি জানি না। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। এলে আমরা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবো।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের রেশনিং বা সীমিত সরবরাহের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর রাইড শেয়ারিং চালকদের জন্য বিশেষ এক সুবিধার কথা জানিয়েছে সরকার। এখন থেকে এই পেশার সাথে যুক্ত মোটরসাইকেল চালকরা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন বা পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারবেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে। মূলত কর্মসংস্থান ও জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যেই বিপিসি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজমান জ্বালানি সংকট নিয়ে ভীতি ও আতঙ্ক হ্রাসের সব ধরণের চেষ্টা করছে সরকার। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির পূর্বনির্ধারিত সূচি বজায় রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত বিরতিতে তেলের পার্সেল দেশে পৌঁছাচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্থাপনা থেকে রেল ওয়াগন বা ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ডিপোতে নিয়মিত তেল পাঠানো হচ্ছে যাতে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় শূন্যতা তৈরি না হয়। বর্তমানের চ্যালেঞ্জিং সময়ে চাহিদাও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে রাইড শেয়ারিংয়ের নামে যাতে তেলের অপব্যবহার না হয়, সেজন্য বিপিসি বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চালককে অবশ্যই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় তাঁর স্মার্টফোনে রাইড শেয়ারিং অ্যাপটি সচল দেখাতে হবে। তেল গ্রহণের পরপরই অ্যাপে তেলের ধরণ, পরিমাণ ও মূল্যের ডিজিটাল রশিদ আপডেট করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া পরবর্তীবার তেল নিতে হলে পূর্বের জ্বালানি ক্রয়ের মূল রশিদের কপি পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মীরা মোটরবাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের তথ্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পরই তেল সরবরাহ করবেন।
বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যাতে ফায়দা নিতে না পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিপিসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত দেশে তেলের খুচরা মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তাই পূর্বনির্ধারিত দামেই কেনাবেচা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়কে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়মিত বাজার তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংকটের এই মুহূর্তে ভোক্তা ও সরবরাহকারী উভয় পক্ষকেই সহমর্মিতা এবং ধৈর্য প্রদর্শন করে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বিপিসি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। আজ মঙ্গলবার সকালে রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৫৯০ জন নারীর হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেন। এর মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের এই প্রান্তিক জনপদের হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা সরকারি সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় আসলেন।
এই কর্মসূচিটি সরকারের একটি বিশাল সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া বিশেষ পাইলট প্রকল্পের অংশ। বর্তমানে সারা দেশের নির্দিষ্ট ১৪টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড বিতরণের কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁওয়ের রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের অভাবী পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রীর পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম এবং জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তারা মূলত দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগকে যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন।
সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিখুঁত পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রথমে একটি বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক জরিপ চালানো হয়, যেখানে ১ হাজার ৩৫ জন নারীর নাম উঠে এসেছিল। পরবর্তীতে তথ্য যাচাই ও আইডির জটিলতা কাটিয়ে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সরকারি সার্ভারে আপলোড করা হয়। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচকের ভিত্তিতে সবচেয়ে যোগ্য ৫৯০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ নির্মোহ ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এই তালিকা করা হয়েছে যাতে কোনো দুস্থ ব্যক্তি বাদ না পড়েন।
কার্ড বিতরণ শেষে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভাতার কার্ডটি হাতে পাওয়ার পর রহিমানপুর গ্রামের ৫০ বছর বয়সী মারজিনা বেগমের চোখে ছিল খুশির অশ্রু। তাঁর স্বামী স্থায়ী কোনো কাজ না করায় এত দিন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটত। তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে জানান যে, এখন থেকে চাল-ডাল কেনার খরচ অন্তত সরকার জোগাবে, এটি তাঁর জন্য বিশাল বড় একটি পাওয়া। বর্গাচাষী রাজিয়া সুলতানাও একই ভাবে তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনার পেছনে এই সরকারি অর্থ ব্যয় হবে বলে তিনি আশা করছেন। প্রান্তিক নারীদের এই হাসি সরকারের দীর্ঘমেয়াদী জনবান্ধব কর্মসূচির পথে একটি শক্তিশালী সফলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সূচনা করেন।
এই কর্মসূচির আওতায় দেশের নির্দিষ্ট জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে উপকারভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই ভাতার অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরকারের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা এই কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পাওয়া পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। ডাবল ডিপিং বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ, সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রকল্পের আওতায় কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই উদ্যোগটি নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তৃতায় নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান যে, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।
কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে যে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের সফল সমাপ্তির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় ঘটা নজিরবিহীন হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষত কাটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিকে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় তিনশ কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগ এবং সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের নিরলস পরিশ্রমে ভবনটির হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে সংসদ ভবন অধিবেশন বসার জন্য সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কয়েক হাজার মানুষের সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ার ঘটনায় ৯ তলাবিশিষ্ট এই ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষ তছনছ করা হয়েছিল। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও হুইপদের কক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব অফিস এবং সংসদ লাইব্রেরি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লুটপাটের পাশাপাশি লাইব্রেরির হাজার হাজার বই আগুনে পুড়িয়ে দেয়। নথিপত্র অনুযায়ী, ওই দিন ব্যক্তিগত ও দাফতরিক মিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ নগদ টাকা খোয়া গিয়েছিল। সেই ভয়াবহতা কাটিয়ে সংসদের সচল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এ পর্যন্ত মোট ২৯৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।
মেরামত কাজের আর্থিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় অংকের খরচ হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এসি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি সংস্কারে। শুধুমাত্র এসি ও স্ট্যান্ড ফ্যান মেরামত এবং পরিবর্তনের জন্য প্রায় ২১৯ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্লকের বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং, মেইন সার্ভিস লাইন ও লাইট প্রতিস্থাপনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ১, ৬, ৭ ও ১২ নম্বর গেটে স্ক্যানার, আর্চওয়ে ও আধুনিক সিকিউরিটি ডিভাইস স্থাপনে ৬ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এমনকি সংসদ এলাকার মাঠ, লেক ও সি-রোডের আলোকসজ্জার পেছনেও কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করেছে গণপূর্ত বিভাগ।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার নিশ্চিত করেছেন যে, নিজস্ব বাজেট ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজগুলো শেষ করা হয়েছে। অধিবেশন কক্ষ থেকে শুরু করে সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসন ও কক্ষগুলো এখন পূর্ণ সচল। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের সময়ও নতুন সংসদ সদস্যরা ভবনের ভেতর পুনরায় সংস্কারের ছোঁয়া লক্ষ্য করেছেন। আজকালের মধ্যে ছোটখাটো কিছু ধোয়া-মোছার কাজ শেষ হলে পুরো কমপ্লেক্সটি সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকবে। প্রায় দেড় বছরের ব্যবধানে সংসদ ভবন আবারও গণতন্ত্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজের রূপ ফিরে পেল।
জাকাত ব্যবস্থাপনা ‘সুশৃঙ্খলা এবং কার্যকর’ করতে ধর্মমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ছিলেন। কীভাবে জাকাতের অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টন করা যায়, জাকাতের মাধ্যমে কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করা যায়, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়গুলোতে অবহিত হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন।’
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পরে আহমাদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাকাতের অর্থে স্কিল ডেভেলপ করে বা স্বাবলম্বী করে স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচনের পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কিছু অভিজ্ঞতা আছে। সেই জায়গা থেকে আমরা কিছু পরামর্শ, কিছু মত দেওয়ার চেষ্টা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।
আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা জানেন, আস সুন্না ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা জাকাত নিয়ে কাজ করি গত ৬-৭ বছর । শুধু গত এক বছরের হিসেব অনুযায়ী আমাদের মাত্র ১৩ কোটি টাকা খরচ করে আমরা ২১০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে পৃথকভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন সেই এক সময়ের বেকার তরুণরা গত এক বছরে ৪২ কোটি টাকা কামাই (আয়) করেছে। তার মানে প্রতিবছর এটা আস্তে আস্তে বাড়বে বৈই কমবে না।’
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে একটা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেখানে আমাকেও থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমি উনাকে বিনয়ের সাথে যদিও বলেছি যে, এখানে বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব আছেন, আরও অনেকে আছেন তারপরেও তার একান্ত অনুরোধে ইনশাল্লাহ আমি হয়ত থাকার চেষ্টা করব।
আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, কেবল ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে মানুষ বছরে ছয়শ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা জাকাত দেয়।
প্রধানমন্ত্রী এদিন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহাদ আসিফ আসাদকে নিয়ে বৈঠক করেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতি মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রণালয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিমানের সার্ভিস উন্নত করা, যাত্রী সেবা বাড়ানো, বিমান বন্দরে যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসন করা প্রভৃতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।’
এছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারী-প্রধান পরিবারকে ভাতার আওতায় আনার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এসব পরিবার মার্চ মাসের ভাতা ঈদের আগেই হাতে পাবে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, কড়াইল বস্তিসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা বড় পরিবারে সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, যেসব নারী পরিবারপ্রধান এই কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তারা যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য ভাতা বা সহায়তা চালু থাকবে।
পাইলট পর্যায়ে এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে একই মূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি উপকারভোগীদের নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৬ শতাংশ। বাকি ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, কার্ড প্রস্তুতসহ কর্মসূচির বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত কাজে ব্যয় করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ১০ দিনের মাথায় সোমবার (৯ মার্চ) ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে একটি ট্যাংকার। এক সপ্তাহের মধ্যে আসবে আরও চারটি। এসব ট্যাংকারে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন ডিজেল রয়েছে। এশিয়ার দেশগুলো থেকে এসব পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।
এমন সময়ে বন্দরে ডিজেলের চালান আসার খবর পাওয়া গেছে, যখন আতঙ্কে কেনাকাটার কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মজুত ঠিক রাখতে সরবরাহ কমিয়েছে সরকার।
সিঙ্গাপুর থেকে সোমবার (৯ মার্চ) বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি। এটিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ট্যাংকারটি এখন কুতুবদিয়ায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আজ বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি। এটিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ট্যাংকারটি এখন কুতুবদিয়ায় রয়েছে।
শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও চারটি ট্যাংকার আসবে বন্দরে। সিঙ্গাপুর থেকে আজ রাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে লিয়ান হুয়ান হু নামের ট্যাংকার। এটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এসপিটি থেমিস। এটিতে ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল রয়েছে। র্যাফেলস সামুরাই নামের ট্যাংকারটি পৌঁছানোর কথা আগামী শনিবার। একই সময়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে চ্যাং হ্যাং হং টু নামের ট্যাংকার। এই দুটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চারটি ট্যাংকার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্দর জলসীমায় পৌঁছানোর পর পালাক্রমে খালাস শুরু হবে। এই চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চারটি ট্যাংকার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্দর জলসীমায় পৌঁছানোর পর পালাক্রমে খালাস শুরু হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশে ডিজেলের স্বাভাবিক চাহিদা ১২ হাজার টন। এ হিসাবে এই পাঁচ ট্যাংকারের পরিশোধিত ডিজেল দিয়ে ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। তবে গতকাল রোববার থেকে দিনে কমিয়ে ৯ হাজার ২২ লিটার করে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তাতে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। দেশে মজুত থাকা ডিজেল দিয়ে চলবে আরও ১৬-১৭ দিন। অর্থাৎ আগামী এক মাসের চাহিদার সমান ডিজেল আসছে। বিপিসির হিসাবে, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশ ডিজেল। ডিজেলের সিংহভাগ সরাসরি আমদানি করে মেটাতে হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়টি দেশ থেকে ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে ৭৮ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে কোনো ডিজেল আমদানি করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্কবার্তা দিয়েছে। এ সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ১-২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খুচরা পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
সতর্কবার্তায় আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং তা বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে বজায় থাকে, তাহলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সোমবার (৯ মার্চ) জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সভায় তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
বর্তমান অস্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আইএমএফ প্রধান নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিবেশে অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো নিয়েও ভাবা এবং সেভাবেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির সহনশীলতাকে আবারও বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হলে তা সরাসরি পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়, যার প্রভাব পড়ে নিত্য পণ্যের ওপর। আইএমএফ-এর এই সতর্কবার্তা মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মন্দা বা উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নির্দেশ করছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে তেলের বাজারে। বিশ্ববাজারে টানা বেড়েই চলেছে দাম। সোমবার তেলের দাম ২৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২-এর মধ্যভাগের পর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এখন ব্যারেল প্রতি দাঁড়িয়েছে ১১০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, সোনার দামে পতন হয়েছে দুই শতাংশ। তাছাড়া ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে দাম বাড়ছে ডলারের। তেলের দাম বাড়ায় কৃষিজাত পণ্যেরও দাম বাড়ছে।
মার্কেট অ্যানালিস্ট টনি সিকামোর রয়টার্সকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখা যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। বাজারে এর ফল দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে জানান তিনি।
মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। নাজুক বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর যে সম্ভাবনা ছিল, এ সংঘাত সেটিকে বিলম্বিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি দারুণ সহনশীলতা দেখিয়েছে। ধাক্কার পর ধাক্কা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে। এ সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ১-২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অনুমান, চলতি বছরের শেষে গিয়ে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনে (ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব দেশ ইউরো ব্যবহার করে) মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে দশমিক ৫-৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে ইউরোজোনে তা ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এখনো ২ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। এর কারণ হলো, পাইকারি বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির ফ্র্যাকিং (তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী) কোম্পানিগুলোর বড় মুনাফার মাধ্যমে আংশিকভাবে সামলানো হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা এখন থেকেই সরাসরি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের মতে, এ সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও তা কমে দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
একইভাবে ইউরোপীয় কমিশনের পূর্বাভাস, ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। নিম্ন প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে চললে, তা বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, সুদের হার বাড়াবে এবং সরকারি কোষাগারে চাপ সৃষ্টি করবে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এটি নতুন সংকট তৈরি করবে।
বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খুচরা পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করার দরকার হতে পারে।
বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পেও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পেও অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়ান।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়—এমন প্রকল্পগুলোতে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটি নতুন সরকার ও চীনের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর একটি।’ খুব দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তার মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করবে। এ সময় নতুন ঋণ সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন সপ্তাহে অন্তত চারটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আরও জোরদার হবে।’
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগে দায়িত্ব পালনরত অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানকে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মুহা. মনিরুজ্জামান প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন বলে ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ‘মব কালচার’ প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মব সংস্কৃতি আর কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। সবকিছুকেই কেন ‘মব’ বলতে হবে, কিছু কিছু সংগঠিত হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা-সুনির্দিষ্ট অপরাধ। মব স্টাইলে কারো উপর জুলুম করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা মব নয়, নির্ধারিত ক্রাইম।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
এর আগে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় সরকার মব নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ কিনা এমন প্রশ্ন তুলেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এর পেছনে ব্যক্তিগত কোন সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধ অনুসারে এর বিচার নিশ্চিত হবে। কোনো অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ক্রিমিনালকে আইনের বাইরে রাখবো না- সবাইকে ক্রমান্বয়ে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যটন বললেই কক্সবাজারের নাম আসে। ভ্রমণ তালিকায় শীর্ষে থাকা কক্সবাজার সৈকতকে আরও পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সকল ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি পুরো শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা হবে। নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হলেই বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশ সম্ভব।
মাদক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে উখিয়া-টেকনাফের মাদক রুট বন্ধ করা জরুরি। মাদকের প্রসার, প্রচার ও বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া বন্ধের বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হাদি হত্যায় জড়িতদের ভারতে আটক ও দেশের আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ আসনের শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের আলমগীর ফরিদসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুয়েতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ভিজিট ভিসার সময়সীমা বাড়ানোসহ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে অনেক প্রবাসী শ্রমিক সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন।
বাংলাদেশি দূতাবাসের লেবার উইং জানিয়েছে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে স্পষ্টীকরণে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যেসব ভিজিট এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা দ্রুত শেষ হওয়ার পথে, সেগুলোর মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে কার্যকর হবে। ফলে এ জন্য রেসিডেন্সি বিভাগে গিয়ে আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।
এছাড়া বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বাড়তি সময়ের জন্য কোনো ধরনের ফি বা জরিমানাও আরোপ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কুয়েতে বসবাসরত কিন্তু বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরতে পারেননি—এমন ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সময়সীমা অতিক্রম হলেও তাদের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিন মাস পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।
এই বর্ধিত সময় কার্যকর করতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং এর জন্যও কোনো ফি বা জরিমানা দিতে হবে না।