রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জরুরিভাবে কাজ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে বিলম্ব পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে (জেসিসি) ‘১৮তম ইস্ট এশিয়া’ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন এবং তিন দিনব্যাপী ‘৪৩তম আসিয়ান’ শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনের আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন। খবর বাসসের।
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে আরও বিলম্ব ঘটলে এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি হলে পুরো অঞ্চলটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’
রাষ্ট্রপ্রধান আরও বলেন, ‘সংকটের সাত বছরেও এ বিষয়ে কোনো সমাধান চোখে পড়েনি।’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ৪৩তম শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি জোকো উইদোদো আজকের এই ১৮তম ‘ইস্ট এশিয়া’ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সংলাপ অংশীদাররা, আসিয়ানের মহাসচিব, মন্ত্রী এবং সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং সংলাপ অংশীদারদের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
এই মেয়াদে আসিয়ানকে প্রশংসনীয়ভাবে পরিচালনা করার এবং সুন্দর জাকার্তায় উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বর্তমান আসিয়ান চেয়ার-ইন্দোনেশিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে এবং সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা বিষয়ে ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ অনেক খাত রয়েছে, যেখানে আসিয়ান এবং বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমরা যদি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারের মর্যাদা পাই, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশাধিকার, বর্ধিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সংহতি এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক শক্তিশালী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা উভয় পক্ষের জন্য যথেষ্ট সুযোগ উন্মুক্ত করবে এবং আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে উন্নীত করবে।’
পারস্পরিক মূল্যবোধ এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ফোরামে বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটি ছয়টি অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছে এবং আরও বেশি কিছুর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।’
শত বছর ধরে বাণিজ্য দ্বারা সংযুক্ত এই অঞ্চলটি এখনও বিশ্ব বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রবাহের কেন্দ্রে রয়েছে এবং আইওআরএ বেশিরভাগ উদীয়মান সংযোগ বিকল্প থেকে সুবিধা পেতে পারে এবং আসিয়ান এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আসিয়ান এবং আইওআরএ’র মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি এটিকে পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।
সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ তার সভাপতিত্বে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আইওআরএ’র একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’
তিনি আশা করেন যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আইওআরএ’র নিযুক্তি একটি ন্যায্য, ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করবে যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে।
রাষ্ট্রপতি তার লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ একটি রূপান্তরমূলক যাত্রা করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রায় সব ক্ষেত্রেই অসাধারণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’
এদিকে অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
তারা হলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন এবং লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের প্রধানমন্ত্রী সোনেক্সে সিফানডোন। রাষ্ট্রপতি বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কুশল বিনিময় করেন।
দেশের অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসের ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে ধরে জুলাই-মার্চ পর্যন্ত করার পর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়কে নতুন অর্থবছর হিসেবে কার্যকর করা হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এজন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এছাড়া, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা-বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় আরও এক বছরের জন্য একই পদে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রাব্বানীর স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই এক বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে সকল ধরনের কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর নিয়োগের অন্যান্য শর্ত আগের চুক্তির মতোই বহাল থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. নাসিমুল গনি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ বর্তমান সরকার গঠনের ঠিক এক দিন আগে এই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে দুই বছরের চুক্তিতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং পরদিন তিনি সেখানে যোগ দেন। পরবর্তীতে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয় এবং একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অধিকারী ড. নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন মেধাবী কর্মকর্তা। ওই ব্যাচের ১৪২ জন কর্মকর্তার মেধাতালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল চতুর্থ। কর্মজীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তাকে ২০০৯ সালে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল। প্রায় চার বছর ওএসডি হিসেবে থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়, যার দীর্ঘ সময় পর তিনি পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে আসেন।
ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তবে এই রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে; তা হলো—রিকশাগুলোর ব্যাটারি অবশ্যই সৌর বিদ্যুতের (সোলার পাওয়ার) মাধ্যমে রিচার্জ করতে হবে। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রদান করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জাতীয় গ্রিড বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যতিরেকে অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিকশা চার্জ দেওয়া হলে সেই যানবাহনকে কোনোভাবেই নিবন্ধন বা নবায়ন সুবিধা দেওয়া হবে না। এমনকি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাঁকে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, “সৌরবিদ্যুতের বাহিরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাগুলোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেব না এবং নবায়ন করব না।” পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মীর শাহে আলম আরও পরিষ্কার করেন যে, এখন থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়া আর বিআরটিএ-র অধীনে থাকবে না। পরিবর্তে, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোই এই নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে এবং বর্তমানে এর বিধিমালা তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নিবন্ধন ফি, বাৎসরিক নবায়ন ফি এবং চলাচলের অন্যান্য শর্তাবলী সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে দীর্ঘদিনের চলা বিশৃঙ্খলা নিরসন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুম, খুন ও নজিরবিহীন দুর্নীতির এক চরম বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে এবং বর্তমানে সেই ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আজ সোমবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের শাসনামলকে রূপকথার মতো অবিশ্বাস্য এক অরাজকতার কাল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের রেখে যাওয়া লিগ্যাসি রাতারাতি পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে চলে গেল, ব্যাংকগুলো লোপাট হয়ে গেল—এসবই ছিল মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতির বাস্তব রূপ।” তিনি অভিযোগ করেন যে, সেই সময় মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না এবং ভিন্নমত পোষণ করলেই মানুষকে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হতো। এমনকি একজন সাবেক সাংসদকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও সেই দুঃশাসনের অংশ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিজভী আরও বলেন, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হয়েছে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম দিন থেকেই সক্রিয় রয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে।
দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতিকে কিছুটা মন্থর করলেও সরকার দমে যায়নি বলে রিজভী দাবি করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামোসহ প্রতিটি মৌলিক খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন জানিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যে সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনে নিরলস প্রচেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে সরকারের প্রতি জনগণের অগাধ আস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে সকল গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনস্রোত সরকারের প্রতি তাঁদের অকুন্ঠ সমর্থনেরই প্রমাণ দেয়। তিনি আরও যোগ করেন, “জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমান সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।” এই ছয় মাসের শাসনামলকে তিনি একটি সফল গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনালগ্ন হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এই সভায় সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের অনেক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এছাড়া তথ্য উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান, স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন ‘কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ’ (সিআইআই)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা সফরে আসছে। দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে ভারতীয় এই প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবে। এছাড়া দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথেও তাঁদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে।
সিআইআইয়ের এই প্রতিনিধিদলে ভারতের বিশ্বখ্যাত ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে গডরেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি), এবং অ্যাপোলো হাসপাতালের মতো নামী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা থাকবেন। এছাড়াও অরবিন্দ লিমিটেড, নুমালিগড় রিফাইনারি এবং বেক্সিমকো আইওসি পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রতিনিধিরাও এই সফরে যোগ দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথ সুগম হবে।
দেশে রিখটার স্কেলে ৩.০ মাত্রায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে। ঢাকা থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার।
তবে এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সরকার আজ তাঁদের দেশ পরিচালনার ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণ উপলক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে এক বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গত ছয় মাসের সরকারের সার্বিক কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য এবং সামনের দিনগুলোর উন্নয়ন রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও তথ্য বিনিময় করা।
এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, মন্ত্রী এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা সভায় তাঁদের সুচিন্তিত মতামত প্রদান করবেন।
অনুষ্ঠানে গত ছয় মাসের শাসনকালের একটি পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত পেশ করা হবে। সরকারের অগ্রগতির ধারা সচল রাখা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মেগা প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি ও আইনের শাসন চায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, আমাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন। বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে গ্রাম ও উপজেলায় থাকা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়, এমন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ আমরা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে চাই।’
রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মৎস্য খাতকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন বাজার খুঁজে বের করার জন্য দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে বহু নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ও হাওর অলস পড়ে রয়েছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে মৎস্য পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বেকার তরুণদের মধ্যে এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ বণ্টন করা হবে, যাতে তাদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।’
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের এ অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘রুপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় হাওর ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হয়তো মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত। মাছকে যদি আমরা বাঁচাতে চাই, তাহলে পরিবেশের সুরক্ষার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি পরিবেশকে রক্ষা করতে পারি, তাহলে যেমন একটি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারব, তেমনি আমাদের সন্তানরাও আগামীতে সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। একইভাবে আমাদের মৎস্য ও পশু-সম্পদসহ সবকিছু একটি সুস্থ পরিবেশে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন আবর্জনা, বিভিন্ন রকম টিস্যু পেপার ও প্লাস্টিকের পানির বোতল ফেলার কারণে ধীরে ধীরে আমাদের খাল-বিল, নদী-নালা এবং হাওর-জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আমরা যদি পরিবার, পরিবেশ, মাছ ও পানি রক্ষা করতে চাই এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করতে চাই, তাহলে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
মৎস্য খাতের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে ২য় স্থান অর্জন করেছে।’
মৎস্য খাতে বিভিন্ন আধুনিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০টি ঘেরে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় ৭ হাজার একর জমিতে ‘শ্রিম্প সিটি’ বাস্তবায়নে মাস্টারপ্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ, যা জাতীয় জিডিপির ১ শতাংশেরও বেশি। বিগত বিএনপি সরকারের সময় প্রবর্তিত ‘ইলিশ ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’-এর ধারাবাহিকতায় দেশে ইলিশ উৎপাদন অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
মৎস্যজীবী ও জেলেদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য চাষিদের কৃষক কার্ড প্রদান, জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলেদের ভিজিএফ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।’
মৎস্য ও পশুসম্পদ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত জুন মাসে নাইজেরিয়াতে হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। এভাবে বিদেশে নিত্য নতুন পণ্যের বাজার খুঁজে বের করার জন্য আমি উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই। এক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’
তারপর বিকেলে পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ অনুষ্ঠানে যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে নজরদারিতে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে আমাদের তাদেরকে চোখে চোখে রাখতে হবে, অতীত বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে তারা কী করছে সেদিকে আমাদেরকে নজর রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে আমাদের স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোন বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না।
বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মত তাদেরকে সমুচিত জবাব দিতে হবে।
এ অনুষ্ঠানে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের মধ্যে সন্মানী প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেকও দেন তিনি। একজন প্রতিবন্ধীর হাতে তুলে দেন চাকরির নিয়োগপত্র।
জনকল্যাণমূলক অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন মিল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে পেছনে রেখে বা তাদর সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারা যাবে না। আমরা যত যতই বড় স্লোগান দেই না কেন, মানুষকে যদি আমরা আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে যদি আমরা অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কখনোই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে পারব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন এক বাংলাদেশ তৈরি করা হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি শ্রেণির মানুষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পাবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের পেছনে ফেলে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত করতেই ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে। নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। সে লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সমাজের দিকনির্দেশক হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের আত্মনির্ভরশীল রাখতে বিশেষ সামাজিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি অসচ্ছল, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জালাল উদ্দীন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য আমরা জনগণের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’
জনসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই আপনাদেরকে বলতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা যে দলের ওপর আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থা ধরে রাখুন। বিএনপি আপনাদের সাথে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বর্তমান সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরবে।
তিনি বলেন, ‘আজকে সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ সকল শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।’
দেশের মানুষ এখন শান্তি চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায়, কর্মসংস্থান চায়, সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অর্থায়ন কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বেশ কয়েকটি বড় বিদেশি ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেকটিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজ সভায় দীর্ঘ বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা মোটেও সঠিক নয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত সাধারণত স্বল্পমেয়াদি হলেও তারা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বিতরণ করছে। অথচ বড় বিনিয়োগের অর্থায়ন হওয়া উচিত পুঁজিবাজারের মাধ্যমে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী আর্থিক কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো ব্যাংকঋণনির্ভর ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে আছে। এ কারণে সরকার বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থায়নের কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বাইরেও নতুন অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে বিকল্প অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আমীর খসরু বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ বহু আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্য ব্যবহার করছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। এখন সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বন্ডের সুদের হার ব্যাংকঋণের সুদের হারের তুলনায় কম। এ ছাড়া ইকুইটিভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগও রয়েছে। ফলে অর্থায়নের ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।’
পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে পরিবর্তন এবং পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধিবিধানে সংস্কারের ফলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের কাছ থেকে সরকার ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। শুধু এক বা দুজন নন, বেশ কয়েকজন বড় ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগ ব্যাংকও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
তবে অর্থমন্ত্রী মনে করেন, দেশের বাজার মূলধন এখনো অনেক ছোট। তাই আরও বেশি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।
ব্যাংক খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থিক খাত, বিশেষ করে অনেক ব্যাংক বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। এসব ব্যাংকে মারাত্মক মূলধন ঘাটতি রয়েছে। অর্থপাচার এবং উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ তুলতে পারছেন না। আবার অনেক ব্যবসায়ী কার্যকর মূলধন, ঋণপত্র খোলা এবং অন্যান্য অর্থায়নসংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন। ফলে ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারি সহায়তা, উদ্ধার তহবিল এবং অন্যান্য পুনঃমূলধনীকরণ কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
কর ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, ব্যবসায়ীদের অন্যতম বড় অভিযোগ হলো করব্যবস্থার জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও দুর্নীতি। এসব সমস্যা দূর করে কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত শুধু বিশ্বের তুলনায় নয়, আঞ্চলিক মানদণ্ডেও অনেক কম। এ কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি অংশে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি অংশ নীতিনির্ধারণ করবে, অন্যটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে একই ব্যক্তিরা করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় করনীতি প্রণয়নের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের হাতে দেওয়া হবে, যাতে নীতিনির্ধারণের সময় ব্যবসা, করদাতা, রাজস্ব আহরণ এবং ভোগব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া যায়।’
তিনি আরও জানান, পুরো করব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে, তারপরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়তা বাস্তবায়ন করা হবে। এটি কার্যকর হলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে কর ফেরত পাওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনে এবং দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশন নীতির কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশে অতিনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই একটি ওয়েবসাইট চালু করা হবে, যেখানে ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের বাধার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সরকার প্রতিদিন এসব অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করবে।’
রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকারের নতুন নীতির কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতের বাইরে যেসব উদ্যোক্তা রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের সবাইকে শুল্কমুক্ত বন্ডেড লাইসেন্স দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘নতুন কোনো রপ্তানিপণ্য নিয়ে কেউ এগিয়ে এলে তিনি বন্ডেড গুদাম সুবিধা, করমুক্ত সুবিধা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের সুবিধা পাবেন। আর যারা বন্ডেড গুদাম ব্যবহার করতে চান না, তারা ব্যাংক গ্যারান্টির আওতায় একই ধরনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।’
বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সমস্যার কথাও এ সময় তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির অগ্রগতি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে এসব সমস্যার পুরোপুরি সমাধান খুব দ্রুত সম্ভব নয়।’
তিনি জানান, গ্যাস খাতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, স্থলভিত্তিক সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়লেও সঞ্চালনব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমীর খসরু বলেন, ‘সরকার একটি সমন্বিত জ্বালানি কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক জ্বালানির মধ্যে সমন্বয় থাকবে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে শক্তিশালী ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শক্তিশালী ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, এমন দাবি সরকার করছে না। তবে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সরকার সবসময় আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান প্রমুখ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি; বরং শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রোববার দুপুর ১টায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদ হলরুমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস, পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করতে হবে। কোনো শিশু যেন অর্থের অভাবে বিদ্যালয়ে যেতে না পারে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনায় যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় পাটজাত পণ্যের ব্যবহারও বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ দেশের পাটশিল্পকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।’
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোট ও সমর্থনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
আগামীদিনের বাংলাদেশ শিক্ষা, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধনির্ভর হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সচেতন, দক্ষ ও মানবিক নতুন প্রজন্মই দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
অনুষ্ঠানে সালথা উপজেলার আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস, পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নতুন পোশাক, ব্যাগ ও জুতা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. শাহিনুর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব আজাদ জনি, সালথা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিন কুমার চাকী, সালথা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহা. তাশেম উদ্দিন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, সালথা উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফ, এনায়েত হোসেন ও কামরুল ইসলামসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্ন অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকে সংশোধন করতে হবে। এর বাইরে না। রাস্তাঘাটে বলে লাভ নেই।
রোববার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর ইসি ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বড় অন্তরায় ৭০ অনুচ্ছেদ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটা পরের চ্যাপ্টার। সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন এই প্রশ্নটা অবান্তর এবং কনফিউশন সৃষ্টি করার মতো।’
তিনি বলেন, ‘এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নটা অবান্তর এবং কনফিউশন সৃষ্টি করার মতো।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও সমর্থনকারী ছিলাম আমি। আপনাদেরকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকব ২০ আগস্ট ভোটের জন্য।’ রাজনৈতিক দল সংবাদ
এ সময় ইসি ভবনে বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ গঠনের পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘পোশাক খাতে শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: কীভাবে একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?’ শীর্ষক সিপিডির সংলাপে এই সুপারিশ করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের দিকে এগোনোর মতো সময় হাতে নেই। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।
রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘পোশাক খাতে শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: কীভাবে একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?’ শীর্ষক সিপিডির সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে দেশে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট চলছে। প্রতিদিন শিল্প উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন ও আবাসিক খাতে গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে। এর বড় কারণ দেশের অধিকাংশ জ্বালানি অবকাঠামো গ্যাসনির্ভর। এর পাশাপাশি ডিজেলের ওপরও ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে গ্যাস সরবরাহ করা হওয়ায় শিল্প-কারখানাগুলোও গ্যাসনির্ভর হয়ে পড়ে। পোশাক কারখানার বয়লার, সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে।
‘কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। গ্যাসের মজুত শেষের দিকে। নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও প্রত্যাশিত গতিতে শুরু হয়নি। ফলে সবাই বিকল্প হিসেবে দ্রুত এলএনজির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু এলএনজি বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এখনই বিকল্প জ্বালানিনির্ভর শিল্প ও অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে পূরণ করা, গ্যাসচালিত বয়লারের বিকল্প খোঁজা এবং পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
কৃষি খাতেও ডিজেলের পরিবর্তে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, সোলারভিত্তিক সেচ ব্যবস্থায় যেতে হবে। এসব সমাধানের কথা বেশ কিছুদিন ধরেই বলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, ‘এখন একদিকে ফায়ার ফাইটিংয়ের সময়। প্রতিদিন অপেক্ষা করার বা ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধান হবে এমন পরিস্থিতি আর নেই।’
তিনি বলেন, সরকারের এখনই জ্বালানি খাতের জন্য একটি জরুরি রেসপন্স টিম গঠন করা দরকার। এই টিম জরুরি ভিত্তিতে সমস্যাগুলোর সমাধান বাস্তবায়নে কাজ করবে। স্বাভাবিক প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় টেন্ডারসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে। তাই নিয়ম মেনে কীভাবে এসব প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রসঙ্গে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডেরও কার্বন নিঃসরণ কমানোর নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারেরও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ পোশাক খাত থেকেই শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের পোশাক খাত অতীতে বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং বর্তমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও নতুন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এই খাতের রয়েছে।
সংলাপে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বিজিএমইএর সহসভাপতি ব্যারিস্টার বিদ্যা অমৃত খান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।