রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
১ ভাদ্র ১৪৩৩

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: ফোকাস বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৫:১৯

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জরুরিভাবে কাজ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে বিলম্ব পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে (জেসিসি) ‘১৮তম ইস্ট এশিয়া’ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন এবং তিন দিনব্যাপী ‘৪৩তম আসিয়ান’ শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনের আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন। খবর বাসসের।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।’

বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে আরও বিলম্ব ঘটলে এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি হলে পুরো অঞ্চলটি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।’

রাষ্ট্রপ্রধান আরও বলেন, ‘সংকটের সাত বছরেও এ বিষয়ে কোনো সমাধান চোখে পড়েনি।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ৪৩তম শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি জোকো উইদোদো আজকের এই ১৮তম ‘ইস্ট এশিয়া’ শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন।

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সংলাপ অংশীদাররা, আসিয়ানের মহাসচিব, মন্ত্রী এবং সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং সংলাপ অংশীদারদের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

এই মেয়াদে আসিয়ানকে প্রশংসনীয়ভাবে পরিচালনা করার এবং সুন্দর জাকার্তায় উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বর্তমান আসিয়ান চেয়ার-ইন্দোনেশিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে এবং সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা বিষয়ে ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ অনেক খাত রয়েছে, যেখানে আসিয়ান এবং বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমরা যদি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারের মর্যাদা পাই, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশাধিকার, বর্ধিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সংহতি এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক শক্তিশালী হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা উভয় পক্ষের জন্য যথেষ্ট সুযোগ উন্মুক্ত করবে এবং আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে উন্নীত করবে।’

পারস্পরিক মূল্যবোধ এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ফোরামে বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটি ছয়টি অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছে এবং আরও বেশি কিছুর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।’

শত বছর ধরে বাণিজ্য দ্বারা সংযুক্ত এই অঞ্চলটি এখনও বিশ্ব বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রবাহের কেন্দ্রে রয়েছে এবং আইওআরএ বেশিরভাগ উদীয়মান সংযোগ বিকল্প থেকে সুবিধা পেতে পারে এবং আসিয়ান এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসিয়ান এবং আইওআরএ’র মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি এটিকে পারস্পরিক উপকারী সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ তার সভাপতিত্বে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আইওআরএ’র একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’

তিনি আশা করেন যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আইওআরএ’র নিযুক্তি একটি ন্যায্য, ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করবে যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে।

রাষ্ট্রপতি তার লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ একটি রূপান্তরমূলক যাত্রা করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রায় সব ক্ষেত্রেই অসাধারণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’

এদিকে অনুষ্ঠানের ফাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

তারা হলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন এবং লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের প্রধানমন্ত্রী সোনেক্সে সিফানডোন। রাষ্ট্রপতি বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কুশল বিনিময় করেন।


ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ২১:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবিয়া থেকে সাগর পথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।

যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই নৌকাটি নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।

এভাবে টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছে যায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি। এ সময় আমাদের উদ্ধার করতে দালালের লোকজন কিংবা অন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসেনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।

এ বিষয়ে মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের বাদরান নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ দূতাবাসকে জানিয়েছে, তারা মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এর মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

দূতাবাস আরও জানায়, হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আহত বাংলাদেশি নাগরিকরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।


ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে মোট প্রাণহানি ৭০ জনে দাঁড়াল। অন্যদিকে গত একদিনে নতুন করে ৮০৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া তিনজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি (৪১৭ জন) ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ৯৭ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২, বরিশাল বিভাগে ৮০, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৫, রংপুর বিভাগে ৭ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে রোববার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৩৩ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ১৫ জন ছাড়াও বরিশাল বিভাগে ৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গত শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৮০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২১।

রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮০৯টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, ৯৬৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫০টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৮০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।


গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরও ৪০৯ প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিনব এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। লটারির মাধ্যমে অধিদপ্তরের আরও ৪০৯ জন প্রকৌশলীকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত পূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই লটারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবরণ অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে ১৫২ জন সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ৬৭ জন সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম), ১৩৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এবং ৫৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে (ই/এম) নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে, যার সংখ্যা সহকারী প্রকৌশলী পর্যায়ে ১০০ এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পর্যায়ে ৭৯ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে আনুপাতিক হারে প্রকৌশলীদের পদায়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা ব্যক্তিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে পদায়ন নিশ্চিত করতেই এই লটারি পদ্ধতির প্রয়োগ করা হচ্ছে। লটারি কার্যক্রম চলাকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলমসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, এর আগেও জুলাই ও আগস্ট মাসের শুরুর দিকে একইভাবে কয়েক দফায় সহস্রাধিক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছিল।


বিগত ১৭ বছরের সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে যতগুলো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তার প্রত্যেকটির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান সরকার দেশে প্রকৃত ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। আজ রোববার বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আধুনিক দশতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত ১৭ বছরে কেবল বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেক মামলায় মৃত ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। তিনি ১/১১-এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়ে নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন এবং তাঁর সন্তানদের হত্যার হুমকি দেওয়া হলেও তিনি আপস করেননি। অন্যদিকে আরেকজন নেত্রী ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।”

সরকারের বর্তমান কার্যক্রমের ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী জানান, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই সেবার আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়িতা ও সাধারণ জীবনযাপনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ২৮টি গাড়ির পরিবর্তে এখন মাত্র ৪টি গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা একদিকে ব্যয় সংকোচন করছে এবং অন্যদিকে যানজট কমাতে সহায়ক হচ্ছে।”

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসাদুজ্জামান বলেন, অতীতে ‘লাল টেলিফোনের’ মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা চিরতরে নির্মূল করা হবে। তিনি আইনজীবীদের সমস্যার কথা শুনে কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার চরণে তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। এছাড়া বৈশ্বিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ধৈর্য ও কৌশলের সাথে সবচেয়ে দেরিতে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ারসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনজীবী সমিতির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ রবিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্রটি যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময় নির্বাচন কমিশনে সংশ্লিষ্ট জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে শীর্ষ পদের জন্য মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি একটি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দুটি আবেদন জমা দেওয়া হয়। অলি আহমদের মনোনয়নপত্রটি বৈধ হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দাখিলকৃত নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকল প্রার্থীর নথিপত্র পরীক্ষা শেষে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত নাম প্রকাশ করবে। এরপর কোনো প্রার্থী যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে আসতে চান, তবে আগামী ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফরের পূর্বে একটি ইতিবাচক ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নয়াদিল্লির প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আজ রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের মুখপাত্র একেএম শহীদুল করিম এই কূটনৈতিক অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এই সফরের সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানান যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ফলে এই সফরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের কঠোর ও স্বচ্ছ অবস্থান ভারতকে ইতোমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শহীদুল করিম বলেন, “আমরা মনে করি যে এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য অপরাধীদের দ্রুত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং ঢাকা এখন নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে শহীদ শরীফ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশ কোনো ধরণের আপস করতে রাজি নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পলাতক আসামিদের ফেরত পাওয়া অপরিহার্য।


বাংলাদেশকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪৯
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক বিশেষ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ব্যক্ত করেছেন। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার মির্জাপুর এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময় তিনি দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে এখানে যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, এই মাছগুলো যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে, বিভিন্ন খালে-বিলে ঢুকবে, তখন উপকার কাদের হবে? লন্ডনের মানুষের উপকার হবে নাকি জাপানের মানুষের উপকার হবে? উপকার হবে বাংলাদেশের মানুষের।’

সরকারপ্রধান তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ জনপদ ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই তাঁর দলের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর মতে, ‘বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষের কল্যাণ।’ বিগত নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতিটাই হচ্ছে এমন একটি রাজনীতি, যেই রাজনীতি বাস্তবায়ন করলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে, গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তিনি বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কৃষি ও মৎস্য খাতের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের গৃহীত ‘খাল খনন’ কর্মসূচির ব্যাপক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে সারা দেশে এই কার্যক্রম জোরালোভাবে শুরু হয়েছে, যার সুফল কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন। খাল খননের পর এর পানি যেন বহুমুখী কাজে ব্যবহার করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি সেচের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এসব জলাশয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের মতো পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রধান নদী ও বড় বড় খালে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

দেশের নারী সমাজকে উন্নয়নের মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে পিছিয়ে রেখে একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি মনে করেন, নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমেই তাঁদের দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার প্রকৃত অংশীদার করা সম্ভব। নারী-পুরুষের সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই একটি সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য স্থির করেছে তাঁর সরকার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে করতালি ও হর্ষধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানান, যার ফলে পুরো পাকুন্দিয়া এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে তিনি দুপুরে আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং জাতীয় মৎস্যপদক বিতরণ করবেন।

মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে যাবেন। সেখানে মাঠের উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরে সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের পথে পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী, শিশু-কিশোর ও নারীরাসহ শত শত মানুষ জড়ো হন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের জবাব দিয়েছেন।’


প্রধানমন্ত্রীর গণমুখী ও সংস্কারধর্মী পদক্ষেপে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ: মাহদী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের গণমুখী ও সংস্কারধর্মী নানা উদ্যোগে দ্রুত বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেড় দশকের ভাঙাচোরা রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পথ চলছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।’

বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের ১৮০ দিনের গতিশীল পথচলা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অর্জন, বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এছাড়া সারা দেশে কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো গণমুখী উদ্যোগ এবং বন্ধ শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত রূপরেখা নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন।

বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘২০১৪ সালের বিনা ভোটে প্রহসনের নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশি রাতের ভোট কিংবা ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের মতো অন্ধকার অধ্যায় দেখেছে এ দেশের মানুষ। সেই সময়ে একটি অনির্বাচিত সরকার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা ও অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাদের ক্ষমতার মূল ভিত্তি ছিল নতজানু পররাষ্ট্রনীতি। তবে সেই ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ যে গণমুখী ও নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়েছে, তার ক্ষমতার একমাত্র উৎস এ দেশের জনগণ। জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে সম্বল করে সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

সরকারের গত ৬ মাসের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষক সমাজের পাশে দাঁড়িয়ে সুদে-আসলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখের বেশি কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। এর পাশাপাশি দেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এবং গৃহস্থালি অর্থনীতিতে গতি আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। একই সাথে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রধানদের জন্য সরকারি ভাতা চালু, খান খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো প্রকল্পগুলো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান রূপ নিয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের প্রভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী আমাদের এই ফ্যামিলি কার্ডের ধারণাকে অত্যন্ত প্রশংসা করেছে। এটি কেবল অর্থ সহায়তা নয়, বরং নারীদের স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান করে তোলার একটি নীরব বিপ্লব। নারীরা এই অর্থ সন্তানের পড়াশোনা, পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসার কাজে লাগাচ্ছেন। কার্ড বিতরণে কিছু কারিগরি অসঙ্গতি নজরে এলে দ্রুততম সময়ে ডেটাবেজ হালনাগাদ ও ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ সংস্কারের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, যেন কেবল প্রকৃত প্রাপ্য ব্যক্তিরাই এর সুবিধা পান।’

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পবিত্র রমজান ও দুটি ঈদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস সঠিক সময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করা সরকারের একটি বড় সফলতা ছিল। তবে ফ্যাসিবাদ আমলের বিগত দেড় দশকে ধারাবাহিকভাবে গড়ে ওঠা জ্বালানি সংকট ৬ মাসে শতভাগ সমাধান করা দুরূহ কাজ। তদুপরি মার্কিন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প সোর্স থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস ও জ্বালানি নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারের সম্ভাবনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার সাথে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ এই জটিলতার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি চালু হলে পরবর্তী চার মাসে অন্তত এক লাখের বেশি কর্মী সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, কেবল নির্দিষ্ট খাত নয়, বরং রিয়েল এস্টেট, এগ্রিকালচার ও ম্যানুফ্যাকচারিংসহ সবকটি খাতে আমাদের কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া জাপান, ওমান, জর্ডান এবং মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে কারিগরি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও জামানতহীন বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের বাজারগুলোতে নতুন করে আমাদের জনশক্তি রপ্তানি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিগত ৬ মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শতভাগ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দেশ পরিচালনায় চরম সমালোচনা কিংবা উস্কানিমূলক আচরণের মুখোমুখি হয়েও সরকার সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ধৈর্য প্রদর্শন করেছে। আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনকে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা থেকে বের করে এনে একটি প্রকৃত সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। হাতি হত্যা থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব অপরাধের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোনো অপরাধীকেই দলীয় বা রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না।’

পররাষ্ট্রনীতির সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের বৈদেশিক নীতির মূল কথাই হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ভারতসহ বিশ্বমঞ্চের সকল রাষ্ট্রের সাথে আমরা সমতা, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক চাই। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার যে আইনি প্রক্রিয়া, তাতে একটি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।’

অর্থনৈতিক প্রসারে সরকারের নতুন রোডম্যাপ তুলে ধরে সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত সুদৃঢ় করতে ও আগামী দিনে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ব্যবসা সহজীকরণে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ কার্যকরকরণ, বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্গো সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে সরকারের যে সততা, সদিচ্ছা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়েই ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

সূত্র: বাসস


১৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সারাদেশে বসছে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:১১
অনলাইন ডেস্ক

দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সারাদেশের ৬৪টি জেলা, সকল মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কেনা হবে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এআই ক্যামেরার বিশেষত্ব হলো এটি সাধারণ সিসি ক্যামেরার মতো শুধু দৃশ্য ধারণ করবে না, বরং রিয়েল টাইমে অপরাধী শনাক্ত, গাড়ির নম্বর প্লেট রিডিং এবং সন্দেহজনক গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে পারবে। জনাকীর্ণ এলাকায় এই ক্যামেরাগুলো নিমিষেই বিপুল সংখ্যক মানুষের মুখ স্ক্যান করে ডেটাবেজে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি বা নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

রাজধানীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইতোমধ্যে ৩৭টি এআই ক্যামেরা পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকার আরও ২০০টি পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো বা হেলমেট না পরার মতো অপরাধগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির মালিকের ফোনে ‘ই-মামলা’র মেসেজ চলে যাবে। এর সাথে বিআরটিএর সার্ভারও সংযুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সাথেও এই ক্যামেরা নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলের লাইভ দৃশ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায়। মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তায় এই আগস্টের শেষ থেকেই ঢাকা-মাওয়া রুটে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেটসহ দেশের সকল প্রধান মহাসড়ক এই স্মার্ট নজরদারির অধীনে আসবে। আগামী বুধবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসন আরও নিশ্চিত করেছে যে, প্রযুক্তির এই বিশাল ব্যবহারের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ফায়ারওয়াল ও এনক্রিপশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একইসাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আধুনিক এই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে’—তানজিদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথমবার ৯ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় টেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) এই স্মরণীয় সাফল্যের পর তিনি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের জন্য শুভকামনা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক পরিবেশে খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের ওয়েলকাম করার জন্য। সবার শরীর ভালো আছে তো? আসেন, আপনারা সবাই সুস্থভাবে আসেন। বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে আপনাদের ওয়েলকাম করার জন্য। আবারও কনগ্রাচুলেশন।’ তাঁর এই বার্তায় খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

কথপোকথনের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এই টেস্টে অসামান্য বোলিং করা হাসান মাহমুদের নৈপুণ্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, হাসান প্রথম ইনিংসে পাঁচটি ও দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি উইকেট শিকার করেছেন। এই অসাধারণ অর্জনের খবর শুনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, দেখলাম দেখলাম, নিউজে। এক্সিলেন্ট, এক্সিলেন্ট, ওয়ান্ডারফুল।’

পরবর্তীতে বিসিবি সভাপতি ওই ম্যাচের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তাঁর জন্মস্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বগুড়ার ছেলে ভাইয়া, বগুড়ার ছেলে।’ তবে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত গভীর দেশাত্মবোধের সাথে সংশোধন করে দেন। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। বগুড়ার না, বাংলাদেশের ছেলে। হি রিপ্রেজেন্টস বাংলাদেশ, নট বগুড়া।’


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেদন বৈধ বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী এই বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং মনোনয়নপত্রটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল। একই দিনে নির্বাচন কমিশন থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়নপত্রটিও বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ফলে এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।


banner close