শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
২৯ ফাল্গুন ১৪৩২
পদ্মা সেতুতে রেলের ট্রায়াল রান

ট্রেনে নিমিষেই পদ্মা পার

পদ্মা সেতুতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক ট্রেন চলছে। গতকাল কমলাপুর স্টেশন থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা স্টেশনে গিয়ে ফের ঢাকায় আসে ট্রেনটি। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
আপডেটেড
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:২৯
তৌফিকুল ইসলাম, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ফিরে
প্রকাশিত
তৌফিকুল ইসলাম, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ফিরে
প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:২৭

আরেক প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রথম বারের মতো ট্রেন চলেছে। ট্রেনের এই যাত্রাকে বলা হয়েছে পরীক্ষামূলক চলাচল। তবে এই বিশেষ ট্রেনে যারা যাত্রী হয়েছিলেন, তারা বেশ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে ট্রেনে চেপে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছেন। মাত্র ৮ মিনিটে ট্রেন পদ্মাসেতু অতিক্রম করে। আর ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লেগেছে পরীক্ষামূলক ট্রেনটির।

আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের একাংশ ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করবেন। তারপর ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রুটে শুরু হবে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল। ট্রেন চলাচল শুরু হলে কাজ বাকি থাকবে। ট্রেন চলাচল শুরুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে সবকিছু পরীক্ষা করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষামূলক যাত্রার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গতকাল সকাল ১০টা ৭ মিনিটে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে সাত বগির বিশেষ একটি ট্রেন ছেড়ে যায়। এরপর ট্রেনটি গেণ্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ , নিমতলা, শ্রীনগর এবং মাওয়া স্টেশন হয়ে পদ্মা সেতুতে উঠে। মূল সেতুতে ট্রেনটি ১১টা ২৭ মিনিটে ওঠে। পদ্মার ওপর সেতু পেরিয়ে ১১টা ৩৪ মিনিটে ট্রেনটি সেতু থেকে নামে। এরপর ভাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছায় বেলা ১২টা ১৭ মিনিটে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেললাইন । ফলে পুরো পথে ট্রেন যেতে সময় লেগেছে প্রায় ২ ঘন্টা ১০ মিনিট। এসময় ট্রেনের গড়ে গতি ছিলো ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার।

ট্রেনের গতির বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষামূলক যাত্রার ট্রেন চালক লোকা কোমাস্টার) এনামুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে গেন্ডরিয়া পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিলো ২০ কিলোমিটার। গেন্ডারিয়া থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত গতি ছিল ৪০ কিলোমিটার। কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়া পর্যন্ত গতি ছিলো ৫০ কিলোমিটার। আর মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিল ৬০ কিলোমিটার। তবে নতুন লাইনে কোন সমস্যা ছিল না। আমাদের গতি যেভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেভাবে চালানো হয়েছে’।

এদিকে ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রার ছিলেন মন্ত্রী, এমপি , রাজনৈতিক রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ছিলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সাত বগির একটি বিশেষ ট্রেনে প্রায় ৬০০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা জংশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে ভাঙা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রায়াল রান করলাম। এটা প্রস্তুত হয়েছে দেখলাম। আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চলাচল উদ্বোধন হবে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে। আপাতত সব স্টেশন চালু হচ্ছে না। শুরুতে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছেড়ে গেন্ডারিয়া, নিমতলী, পদ্মা, শিবচর হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলবে। ভবিষতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের রেলপথ পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত যাবে। খুলনায় যেসব ট্রেন চলছে সেগুলোকে এই রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হলে মোংলা পোর্টকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা যাবে। দক্ষিণাঞ্চলের যে ব্যবসা-বাণিজ্য সেটি আরও বেশি প্রসারিত হবে। এই রেলপথকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের সময় ও খরচ কমবে। ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এই অঞ্চলের মানুষ’।

প্রকল্প সূত্র বলছে, রেললাইন উদ্বোধনের পর এক সপ্তাহ পর থেকে শুরুতে এক জোড়া ট্রেন চালানো হবে। একমাস পরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং আরো কিছু স্টেশনও খুলে দেওয়া হবে।

বানিজ্যিক পরিচলনের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন দৈনিক বাংলাকে জানান, ‘তিন মাসের মধ্যেই সব স্টেশনের কাজ এবং সিগন্যালিং এর কাজও শেষ হয়ে যাবে। তখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রেললাইন উদ্বোধন হলেও পূর্ণোদ্যমে চলতে তিন মাস সময় লাগবে'।

ট্রেন যাত্রা দেখে খুশি এলাকাবাসী

৮২ কিলোমিটার পথে ট্রেন যেদিক দিয়ে গেছে রেললাইনের দুই পাশেই ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। ট্রেন চলাচল দেখে খুশি এলাকাবাসী। তাদের অপেক্ষা কবে চড়বেন এই ট্রেনে ।

এসময় দেখা যায় হাত নেড়ে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকেই আবার মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছেন, তুলেছেন ছবি। কেউ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে, কেউ বাড়ির ছাদে থেকে এই আনন্দ উপভোগ করেন।

একাংশ খুলছে কাজ এখনো বাকি

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ তিন ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে মাওয়া ৪০ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এবং তৃতীয় ধাপে ভাঙা থেকে যশোর পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার পথে রেল লাইন প্রস্তুত ট্রেন চলার জন্য। এদিকে প্রকল্পের তৃতীয় অংশে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত জুন মাস থেকে। আগস্ট পর্যন্ত ভাঙ্গা থেকে যশোর অংশে ১৫ কিলোমিটার রেল লাইন বসে গেছে।

প্রকল্পের আগস্ট মাসের অগ্রগতির তথ্য বলছে, পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৯৬. ৫০ শতাংশ। ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৮০.৫০ ভাগ। এদিকে ভাঙ্গা-যশোর অংশের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ ভাগ।

প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইন বসানো হচ্ছে ১৬৯ কিলোমিটার, লুপ ও সাইডিং লাইন আছে ৫৩.৯৭ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে গেন্ডারিয়া ৩টি লাইন ৩.৯৭ কিলোমিটারসহ মোট ২২৬.৯৫ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক। ২৩ দশমিক ৩৭৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ১দশমিক ৯৮ র‍্যাম্প, ৬০টি মেজর ব্রীজ, ২৭২টি মাইনর ব্রীজ (কালভার্ট আন্ডারপাস), ২৯টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং ৬টি বিদ্যমান স্টেশনের উন্নয়ন ও অন্যান্য অবকাঠানো নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ২০টি স্টেশনে টেলিযোগাযোগসহ (সিবিআই) সিস্টেম সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৪২৬ একর ভুমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন বসানো এবং স্টেশন ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প নেয় রেলওয়ে ২০১৬ সালের জুনে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পদ্মা সেতু রেল সংযোগের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা

এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের ডিফেক্ট লাইবেলিটি পিরিয়ডের জন্য এক বছর এবং সব কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য আরো ছয় মাস সহ মোট দেড় বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। সেই হিসাবে আগামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।


মির্জা আব্বাসের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১৩:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে তিনি দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান চিকিৎসার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে এই বর্ষীয়ান নেতাকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে পাঠানোর যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও প্রদান করেছেন তিনি।

এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের নিউরো সায়েন্স বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হবে।


ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিনিধিদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন শনিবার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ফটো
আপডেটেড ১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ধর্মীয় সেবকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নতুন সম্মানী কার্যক্রম চালু করছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সেবকদের আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হবে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসানের পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ধর্মীয় সেবকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুধু ইমাম ও মুয়াজ্জিন নয়, বরং দেশের সব ধর্মের প্রতিনিধিদের এই সম্মানী কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। জানা গেছে, একই দিনে মসজিদের খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত এবং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের জন্যও এই সম্মানী কার্যক্রমের সূচনা করা হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সেবকদের জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশিত এই সম্মানী চালু হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো ধর্মীয় সেবক সরাসরি উপকৃত হবেন।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সম্মানী বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সরকারের ধর্মীয় কাঠামোর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।


জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সোয়া ১০টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তারা বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। পরে তারা স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তাদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


দেশ ও জনগণের স্বার্থে মহান সংসদকে অর্থবহ করতে চাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সংসদ প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি, তর্ক এবং সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। আজ থেকে স্পিকার আর কোনো দলের নন, তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা এই সংসদকে অর্থবহ করতে চাই। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে তিনি ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জনগণকে দুর্বল জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা হয়েছিল এবং সংসদকে মানুষের অধিকার লুণ্ঠনকারীদের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দেড় দশকে যারা নিজেদের এমপি পরিচয় দিতেন, তারা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। কিন্তু আজকের সংসদ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ। এটি বাংলাদেশের জনগণের সংসদ।

তারেক রহমান বলেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট যুক্তি ও বিতর্কের মাধ্যমে সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই আমরা। এক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সংসদ পরিচালনায় আমরা স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের রাজনীতির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি, যার অশেষ রহমতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন যাত্রা শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রালগ্নে তিনি তাদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, এসব আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যেসব সন্তান তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে এবং যেসব আহত মানুষ স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন, তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, গাড়িচালক, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, গৃহিণীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ যারা গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং মিথ্যা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন কিংবা জীবন্ত মানুষ কবরস্থানের মতো বর্বর বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর মতো পরিস্থিতির মধ্যেও যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে রুখে দেওয়া যায়নি, তাদের সাহসী ভূমিকায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই যাত্রালগ্নে দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক বীর ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানান।

ভাষণে তিনি বলেন, দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত এবং দেশে তাবেদারি শাসন-শোষণ কায়েম করা হয়।

তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং জীবনে কখনো স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। আজ থেকে দেশে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের এই সাফল্যের মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। তাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে আপসহীন নেতৃত্বের অধিকারী, স্মরণীয় ও অনুকরণীয় রাজনীতিবিদ মরহুমা খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন—‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেই আছি’। অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি।

তিনি বলেন, আমার রাজনীতি দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই আমার রাজনীতির লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা এবং জাতীয় সংসদের সকল দলের নির্বাচিত সদস্যদের সমর্থন প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, দল বা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার সংসদকে অকার্যকর করে ফেলেছিল।

তিনি বলেন, নতুন সংসদের যাত্রা শুরু করার সময় সংসদের সাবেক স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও পতিত ও পরাজিত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও তাবেদারি শাসন-শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।

বক্তব্যের শেষদিকে স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে: রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সকলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেছেন।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। হাজারো শহীদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। আমি এই সংসদে আপনার মাধ্যমে (স্পিকার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি এই মহান জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যের প্রতিও রইল আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল নেতার অবদানকেও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, আমি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০২৫ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর সরকার জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শিশু শহীদদের ৬০টি পরিবারকে এককালীন ৫০ হাজার টাকার সমমূল্যের প্রাইজবন্ড এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করেছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ যাবৎকালে দেশের ইতিহাসের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি এক অস্থিতিশীল সময় অতিক্রম করছে। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। রেমিট্যান্সসহ আরও কয়েকটি সূচক ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ সময়ে মাথাপিছু জাতীয় আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ ইউএস ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে সরকার আশা করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একদিকে বিশ্বে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অপরদিকে দেশে মুদ্রাস্ফীতি, রাজস্ব জিডিপির নিম্নহার, এ ধরনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আশা করা যায়, পরবর্তী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত থেকে গত এক বছরে ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্জিত হয়েছে। বর্তমান সরকার আরও নতুন রপ্তানি খাত এবং রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করেছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, পাট ও পাটপণ্য হতে গত এক বছরে ৪৭০ মিলিয়ন ইউএস ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ইউএস ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে রেমিট্যান্সের অন্তঃপ্রবাহ ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ইউএস ডলারে। ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং টাকা-ডলার বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ডলার প্রতি ১২২ দশমিক ৩০ টাকায়। স্বয়ংক্রিয় বন্ড ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্য সহজে প্রাপ্তির জন্য এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট হাব চালু করা হয়েছে। ই-ভ্যাট বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বলেন, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা কোম্পানি এবং পুঁজিবাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম উন্নতকরণ, আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং খেলাপি ঋণ হ্রাসে গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান সরকার ব্যাংক খাতের সুশাসন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার যৌক্তিকীকরণ এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর নীতি প্রণয়ন করবে। এ লক্ষ্যে ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করা হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চ খেলাপি ঋণ (নন-পারফর্মিং লোন) সমস্যা পর্যালোচনা করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমা খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের সংস্কারের জন্য একটি ‘পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। পাশাপাশি, গত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে। শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা আনয়ন, কারসাজি বন্ধ, শক্তিশালী বন্ড ও ইক্যুইটি মার্কেট, করপোরেট বন্ড ও সুকুক গঠন করা হবে। প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়নে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, বেকারত্ব হ্রাস, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক অর্থায়নের পরিমাণ ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ৩৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ কর্তৃক ৭৫৩টি চলমান প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও ১৭৮টি সমাপ্ত প্রকল্প মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং ৩৫৩টি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণে অলিগার্কিক কাঠামো ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। ঋণ-নির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরই হবে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতি হবে চালিকাশক্তি। বর্তমান সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকার দেশে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে এবং ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস এবং ইজ অব ডুয়িং বিজনেস-এর উন্নয়নকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকার কৃষক ও কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এর ফলে ১১ লাখের বেশি কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আম, আলুসহ বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে সরকার হিমাগার স্থাপন করছে। বরেন্দ্র প্রকল্প পুনরায় চালু করা হচ্ছে। কৃষি বিমা, ফসলের ন্যায্যমূল্য ও কৃষিজমি সুরক্ষা, সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে গড়ে তোলা হচ্ছে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল। অঞ্চলভিত্তিক উৎপাদন ও গবেষণা, এগ্রোপ্রেনারশীপ স্টার্টআপ চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ চাল, সবজি, পাট, আলু ও আম উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশসমূহের মধ্যে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মাছ, মাংস এবং ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিলুপ্তপ্রায় ৪১ প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনসহ লাইভজিন ব্যাংক স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কর্তৃক প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে নিরাপদ ফিড উৎপাদন, ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপন, পোলট্রি, মাংস ও ডেইরি শিল্পের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নীতি সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত পশু-রোগ প্রতিষেধক ওষুধের জোগান নিশ্চিত করা এবং ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগ দেওয়া হবে। মৎস্য খাত উন্নয়নে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে ‘জাল যার জলা তার’ এই নীতির ভিত্তিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে।


বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সংসদ প্রতিবেদক  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশনের শুরুতেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি বা স্পিকারের (প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) পক্ষ থেকে এ শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

শোকপ্রস্তাব উত্থাপনকালে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমরা হারিয়েছি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।

বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে সংসদ। এ তালিকায় রয়েছেন, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ডা. এ.কিউ.এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়। তাদের জীবনবৃত্তান্ত সংবলিত শোকপ্রস্তাব সংসদে পাঠ করা হয়।

শোকপ্রস্তাবের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, মতিয়া চৌধুরী (সাবেক সংসদ উপনেতা), মেজর জেনারেল (অব.) কে. এম. সফিউল্লাহ (প্রথম সেনাপ্রধান), আবদুল্লাহ আল নোমান (সাবেক মন্ত্রী), মোস্তফা মোহসীন মন্টু, আব্দুল করিম খন্দকার (বীর মুক্তিযোদ্ধা) এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ ৩১ জন বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে সংসদে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শোকপ্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।


স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে চিফ হুইপের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সংসদ প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। এরপর তিনি নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকেও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি ১১৭ ভোলা-৩ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি ১৫৭ নেত্রকোনা-১ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করেছেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই শপথের মাধ্যমে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


ছাত্রদল নেতা থেকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

আপডেটেড ১২ মার্চ, ২০২৬ ২৩:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক 

আইন অঙ্গনে ছুটে চলা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে করলেন বাজিমাত। প্রথমে হলেন প্রতিমন্ত্রী। আর বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ১৯৭২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রাংপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোস্তফা কামাল মনছুর ও মা বেগম যোবায়দা কামাল। তার বাবা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিনিধিত্ব করে জয়লাভ করেন কায়সার কামাল। তাকে সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এবার ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনি।

কায়সার কামাল লন্ডনের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওলভারহ্যাম্পটন থেকে এলএলবি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। ১৯৮৮ সালে ছাত্ররাজনীতিতে পদার্পণ হয় কায়সার কামালের। ১৯৯৬ সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্যপদ লাভ করেন। ২০০৯ সালে লাভ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্যপদ। ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির মহাসচিবও। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি মামলায় আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।


গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে: সংসদে রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি উল্লেখ করেন, একটি তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে ।

ভাষণের শুরুতেই তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদদের অপরিসীম আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার কথা পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই শহীদদের সম্মান রক্ষার্থে যে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রের বর্তমান নীতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি জানান যে, সরকার এখন 'করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে দেশ পরিচালনার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন যে, দুর্নীতি দমন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনাই হবে এই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনাই হবে বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

সামাজিক কল্যাণ ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন যে, বর্তমান সরকার নারীর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি প্রান্তের পরিবারগুলোকে 'ফ্যামিলি কার্ড' সুবিধার আওতায় আনার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই উদ্যোগগুলো একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে চিফ হুইপের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। এরপর তিনি নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি ১১৭ ভোলা-২ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি ১৫৭ নেত্রকোনা-১ মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিকট শপথ গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই শপথের মাধ্যমে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


খালেদা জিয়া, মতিয়া চৌধুরীসহ ৩১ জনকে স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশনে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম শোকপ্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্বও করেন তিনি।

শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশ হারিয়েছে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। জাতীয় সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এছাড়া অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান কে. এম. সফিউল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে খন্দকার এবং রমেশ চন্দ্র সেনসহ মোট ৩১ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।


মন্ত্রী হলেন আহমদ আজম খান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বিরতির সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আহমেদ আযম খান পান ১ লাখ ১৩ হাজার ২১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর হরিণ প্রতীক নিয়ে পান ৭৬ হাজার ৪৪৮ ভোট। ৩৬ হাজার ৭৬৬ ভোটে জিতে এমপি হন বিএনপির এ নেতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করান। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ও হওয়ায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আর মন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

এদিনই টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের এমপি এডভোকেট আহমেদ আযম খানকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়। তবে এখনো তাকে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নব নির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে এ শপথ পড়ানো হয়। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ পড়ানো হয়।

তার আগে সংসদ সদস্যের হ্যাঁ ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথমে সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয় সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।


banner close