আরেক প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রথম বারের মতো ট্রেন চলেছে। ট্রেনের এই যাত্রাকে বলা হয়েছে পরীক্ষামূলক চলাচল। তবে এই বিশেষ ট্রেনে যারা যাত্রী হয়েছিলেন, তারা বেশ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে ট্রেনে চেপে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছেন। মাত্র ৮ মিনিটে ট্রেন পদ্মাসেতু অতিক্রম করে। আর ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লেগেছে পরীক্ষামূলক ট্রেনটির।
আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের একাংশ ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করবেন। তারপর ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রুটে শুরু হবে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল। ট্রেন চলাচল শুরু হলে কাজ বাকি থাকবে। ট্রেন চলাচল শুরুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে সবকিছু পরীক্ষা করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষামূলক যাত্রার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গতকাল সকাল ১০টা ৭ মিনিটে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে সাত বগির বিশেষ একটি ট্রেন ছেড়ে যায়। এরপর ট্রেনটি গেণ্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ , নিমতলা, শ্রীনগর এবং মাওয়া স্টেশন হয়ে পদ্মা সেতুতে উঠে। মূল সেতুতে ট্রেনটি ১১টা ২৭ মিনিটে ওঠে। পদ্মার ওপর সেতু পেরিয়ে ১১টা ৩৪ মিনিটে ট্রেনটি সেতু থেকে নামে। এরপর ভাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছায় বেলা ১২টা ১৭ মিনিটে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেললাইন । ফলে পুরো পথে ট্রেন যেতে সময় লেগেছে প্রায় ২ ঘন্টা ১০ মিনিট। এসময় ট্রেনের গড়ে গতি ছিলো ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার।
ট্রেনের গতির বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষামূলক যাত্রার ট্রেন চালক লোকা কোমাস্টার) এনামুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে গেন্ডরিয়া পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিলো ২০ কিলোমিটার। গেন্ডারিয়া থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত গতি ছিল ৪০ কিলোমিটার। কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়া পর্যন্ত গতি ছিলো ৫০ কিলোমিটার। আর মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিল ৬০ কিলোমিটার। তবে নতুন লাইনে কোন সমস্যা ছিল না। আমাদের গতি যেভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেভাবে চালানো হয়েছে’।
এদিকে ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রার ছিলেন মন্ত্রী, এমপি , রাজনৈতিক রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ছিলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সাত বগির একটি বিশেষ ট্রেনে প্রায় ৬০০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা জংশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে ভাঙা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রায়াল রান করলাম। এটা প্রস্তুত হয়েছে দেখলাম। আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চলাচল উদ্বোধন হবে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে। আপাতত সব স্টেশন চালু হচ্ছে না। শুরুতে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছেড়ে গেন্ডারিয়া, নিমতলী, পদ্মা, শিবচর হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলবে। ভবিষতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের রেলপথ পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত যাবে। খুলনায় যেসব ট্রেন চলছে সেগুলোকে এই রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হলে মোংলা পোর্টকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা যাবে। দক্ষিণাঞ্চলের যে ব্যবসা-বাণিজ্য সেটি আরও বেশি প্রসারিত হবে। এই রেলপথকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের সময় ও খরচ কমবে। ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এই অঞ্চলের মানুষ’।
প্রকল্প সূত্র বলছে, রেললাইন উদ্বোধনের পর এক সপ্তাহ পর থেকে শুরুতে এক জোড়া ট্রেন চালানো হবে। একমাস পরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং আরো কিছু স্টেশনও খুলে দেওয়া হবে।
বানিজ্যিক পরিচলনের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন দৈনিক বাংলাকে জানান, ‘তিন মাসের মধ্যেই সব স্টেশনের কাজ এবং সিগন্যালিং এর কাজও শেষ হয়ে যাবে। তখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রেললাইন উদ্বোধন হলেও পূর্ণোদ্যমে চলতে তিন মাস সময় লাগবে'।
ট্রেন যাত্রা দেখে খুশি এলাকাবাসী
৮২ কিলোমিটার পথে ট্রেন যেদিক দিয়ে গেছে রেললাইনের দুই পাশেই ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। ট্রেন চলাচল দেখে খুশি এলাকাবাসী। তাদের অপেক্ষা কবে চড়বেন এই ট্রেনে ।
এসময় দেখা যায় হাত নেড়ে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকেই আবার মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছেন, তুলেছেন ছবি। কেউ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে, কেউ বাড়ির ছাদে থেকে এই আনন্দ উপভোগ করেন।
একাংশ খুলছে কাজ এখনো বাকি
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ তিন ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে মাওয়া ৪০ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এবং তৃতীয় ধাপে ভাঙা থেকে যশোর পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার পথে রেল লাইন প্রস্তুত ট্রেন চলার জন্য। এদিকে প্রকল্পের তৃতীয় অংশে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত জুন মাস থেকে। আগস্ট পর্যন্ত ভাঙ্গা থেকে যশোর অংশে ১৫ কিলোমিটার রেল লাইন বসে গেছে।
প্রকল্পের আগস্ট মাসের অগ্রগতির তথ্য বলছে, পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৯৬. ৫০ শতাংশ। ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৮০.৫০ ভাগ। এদিকে ভাঙ্গা-যশোর অংশের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ ভাগ।
প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইন বসানো হচ্ছে ১৬৯ কিলোমিটার, লুপ ও সাইডিং লাইন আছে ৫৩.৯৭ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে গেন্ডারিয়া ৩টি লাইন ৩.৯৭ কিলোমিটারসহ মোট ২২৬.৯৫ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক। ২৩ দশমিক ৩৭৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ১দশমিক ৯৮ র্যাম্প, ৬০টি মেজর ব্রীজ, ২৭২টি মাইনর ব্রীজ (কালভার্ট আন্ডারপাস), ২৯টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং ৬টি বিদ্যমান স্টেশনের উন্নয়ন ও অন্যান্য অবকাঠানো নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ২০টি স্টেশনে টেলিযোগাযোগসহ (সিবিআই) সিস্টেম সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৪২৬ একর ভুমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন বসানো এবং স্টেশন ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প নেয় রেলওয়ে ২০১৬ সালের জুনে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পদ্মা সেতু রেল সংযোগের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা
এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের ডিফেক্ট লাইবেলিটি পিরিয়ডের জন্য এক বছর এবং সব কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য আরো ছয় মাস সহ মোট দেড় বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। সেই হিসাবে আগামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন এবং ১ মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।
গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা হলেন-
ড. আবদুল মঈন খান : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
সাচিং প্রু জেরি : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আন্দালিব রহমান : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
আফরোজা খানম : খাদ্য মন্ত্রণালয় (পূর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন)।
প্রতিমন্ত্রীরা হলেন-
হুমায়ুন কবির : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মোহাম্মদ শামীম কায়সার : ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ৪ মার্চ, ১২ মার্চ ও ২৫ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনসমূহের অন্যান্য বিষয়াবলি অপরিবর্তিত থাকবে।
এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইতোমধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের রাষ্ট্রপতিসহ চীন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
চীন
নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।
ভারত
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক চিঠিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।
দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, আত্মত্যাগ, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।
দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি তিনি মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য ও সুখ এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
পাকিস্তান
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
জারদারি বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের জন্য মির্জা ফখরুলকে আমন্ত্রণ জানান। তার আশা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
নেপাল
নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও শুক্রবার (২১ আগস্ট) অভিনন্দন বার্তায় মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।
তিনি নেপাল ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
যুক্তরাজ্য
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুক্রবারের এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ঢাকা ও লন্ডনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা আগ্রহী।
ফ্রান্স
ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্স দূতাবাস বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানায়। বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার দীর্ঘদিনের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়।
সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ডের ঢাকাস্থ দূতাবাসও মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
জার্মানি
জার্মান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
দূতাবাস তার নতুন দায়িত্বে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছে। পাশাপাশি জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা জানিয়েছে।
নাইজেরিয়া
নাইজেরিয়ার ফেডারেল সরকারও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বাসেডর বিয়াঙ্কা ওদুমেগউ-ওজুকউ ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান।
নাইজেরিয়া মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে নতুন এই সংস্থা গঠিত হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএর। সংস্থা তিনটির সমন্বয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রপতির আদশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) থেকে এ আইন কার্যকর করল।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।
কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।
নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।
একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ করবেন নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করেছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবজীবন ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
বর্তমানে দেশেরে শিক্ষাব্যবস্থা কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা যে অবস্থানে পৌঁছেছে, সেখান থেকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। বাস্তবজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষে একজন শিক্ষার্থী যেন দেশ-বিদেশে নিজের যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে।
ইউজিসির হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন উপাচার্যসহ নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সংলাপে উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, শ্রমবাজারের চাহিদা, শিক্ষার গুণগত মান, জবাবদিহি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী ও সুশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর জোর দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর ঘিরে শুরু হওয়া গুঞ্জনের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ঢাকা। আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তারেক রহমানের দিল্লি সফর করতে পারেন–ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) তার প্রেস সচিব বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ।
সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়।
এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আলোচনা চলছে।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক আমেজ কিছুটা ফিকে হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মমভাবে দমনের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অনলাইনে ভাষণ দেন এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রয়টার্সকে বলেন, ‘সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও ‘অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের’ প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সফরটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, এ বিষয়ে নতুন করে তথ্য দেওয়ার মতো কিছু তাদের কাছে নেই। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়ে ভারত জানায়, বিষয়টি তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য আরো বেশি অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। মূলত শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার পরই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ফের জটিল হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বঙ্গভবনে উঠবেন সদ্য শপথ নেওয়া রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ উপলক্ষে বঙ্গভবনে তার আনুষ্ঠানিক অভিষেকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট)রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বঙ্গভবনের ২ নম্বর গেটে পৌঁছালে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাবে।
সেখানে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেবে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে যাবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে ফিরবেন। পরে তার গুলশানের বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর এক দিন আগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল।
শপথগ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ পর ভারতের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ অভিনন্দন জানানো হয়। বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি নিশ্চিত যে, আপনার দীর্ঘ জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় একটি সফল সময়ের সূচনা করবে।
বিবৃতিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক অনন্য সম্পর্ক বিদ্যমান, যার মূলে রয়েছে ত্যাগের অভিন্ন ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং বন্ধুত্বের উষ্ণ সম্পর্ক। সম্প্রতি জ্বালানি, প্রযুক্তি, সংযোগ, যুব বিষয়ক, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমাগত আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসারিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। মহামান্য, আপনার অব্যাহত সুস্বাস্থ্য ও সুখ, আপনার দায়িত্বের সফল সম্পাদনা এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নেবেন।
এর আগে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
বঙ্গভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু এবং আন্দালিভ রহমান পার্থ। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন এই চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয় ও দপ্তর বণ্টন করবেন।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথ পড়ান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এরপর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয় থেকে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন নিশ্চিত করছে।
শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দরবার হলে বিশাল সমাগমের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, বিচারক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকসহ প্রায় ১,২০০ জন অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অতিথিদের সুবিধার্থে দরবার হলে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮০০-এর বেশি করা হয়েছে।
বঙ্গভবনের দরবার হলে নির্ধারিত সময়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।
শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পর রাষ্ট্রপতির শপথ সম্পন্ন হবে। শপথগ্রহণ ও বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতিসহ মন্ত্রিপরিষদ ও নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে শপথ পাঠ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার পরিধি আরও বড় হচ্ছে। দলীয় ও জোটগত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন আরও চারজন সংসদ সদস্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে তিনজনকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং একজনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নতুন এই মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি নিজেই তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন।
ইতিমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য এই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে জিয়া উদ্যানে পৌঁছে তিনি উভয়ের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে এই শীর্ষ পদের লড়াই সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেন, অন্যদিকে অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।
ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জয়ী ঘোষণা করেন এবং গতকাল সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হয়।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা ৭টায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে তিনি লাভ করেন ২৫৫টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, "রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা মোতাবেক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পিতা- মির্জা রুহুল আমিন, গ্রাম-কালিবাড়ী, ডাকঘর-ঠাকুরগাঁও ৫১০০, ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, ঠাকুরগাঁওকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে ঘোষণা করা হলো।"
শপথের বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মতামত) এ এ আউয়াল জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয় এবং সেই সময় থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ৬ জন সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর এটিই ছিল সংসদ কক্ষে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় ঘটনা।
নির্বাচনে মির্জা ফখরুল জয়ী হওয়ার ঘোষণা আসার সাথে সাথেই সংসদ নেতা তারেক রহমান তাঁকে গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা করতালির মাধ্যমে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মির্জা ফখরুলের আসনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কোলাকুলি ও সৌজন্য বিনিময় করেন। পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকেও পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করতে দেখা যায়।
গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সরকারি দলের বিপুল সংখ্যাধিক্য থাকায় বিএনপির প্রার্থীর জয় আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল, তবুও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণের আয়োজন করে। আজ শুক্রবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হবেন।