সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
পদ্মা সেতুতে রেলের ট্রায়াল রান

ট্রেনে নিমিষেই পদ্মা পার

পদ্মা সেতুতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক ট্রেন চলছে। গতকাল কমলাপুর স্টেশন থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা স্টেশনে গিয়ে ফের ঢাকায় আসে ট্রেনটি। ছবি: সৈয়দ মাহামুদুর রহমান
আপডেটেড
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:২৯
তৌফিকুল ইসলাম, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ফিরে
প্রকাশিত
তৌফিকুল ইসলাম, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে ফিরে
প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:২৭

আরেক প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রথম বারের মতো ট্রেন চলেছে। ট্রেনের এই যাত্রাকে বলা হয়েছে পরীক্ষামূলক চলাচল। তবে এই বিশেষ ট্রেনে যারা যাত্রী হয়েছিলেন, তারা বেশ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে ট্রেনে চেপে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছেন। মাত্র ৮ মিনিটে ট্রেন পদ্মাসেতু অতিক্রম করে। আর ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লেগেছে পরীক্ষামূলক ট্রেনটির।

আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের একাংশ ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করবেন। তারপর ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রুটে শুরু হবে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল। ট্রেন চলাচল শুরু হলে কাজ বাকি থাকবে। ট্রেন চলাচল শুরুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে সবকিছু পরীক্ষা করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষামূলক যাত্রার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গতকাল সকাল ১০টা ৭ মিনিটে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে সাত বগির বিশেষ একটি ট্রেন ছেড়ে যায়। এরপর ট্রেনটি গেণ্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ , নিমতলা, শ্রীনগর এবং মাওয়া স্টেশন হয়ে পদ্মা সেতুতে উঠে। মূল সেতুতে ট্রেনটি ১১টা ২৭ মিনিটে ওঠে। পদ্মার ওপর সেতু পেরিয়ে ১১টা ৩৪ মিনিটে ট্রেনটি সেতু থেকে নামে। এরপর ভাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছায় বেলা ১২টা ১৭ মিনিটে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেললাইন । ফলে পুরো পথে ট্রেন যেতে সময় লেগেছে প্রায় ২ ঘন্টা ১০ মিনিট। এসময় ট্রেনের গড়ে গতি ছিলো ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার।

ট্রেনের গতির বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষামূলক যাত্রার ট্রেন চালক লোকা কোমাস্টার) এনামুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে গেন্ডরিয়া পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিলো ২০ কিলোমিটার। গেন্ডারিয়া থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত গতি ছিল ৪০ কিলোমিটার। কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়া পর্যন্ত গতি ছিলো ৫০ কিলোমিটার। আর মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিল ৬০ কিলোমিটার। তবে নতুন লাইনে কোন সমস্যা ছিল না। আমাদের গতি যেভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেভাবে চালানো হয়েছে’।

এদিকে ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রার ছিলেন মন্ত্রী, এমপি , রাজনৈতিক রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ছিলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সাত বগির একটি বিশেষ ট্রেনে প্রায় ৬০০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা জংশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে ভাঙা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রায়াল রান করলাম। এটা প্রস্তুত হয়েছে দেখলাম। আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চলাচল উদ্বোধন হবে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে। আপাতত সব স্টেশন চালু হচ্ছে না। শুরুতে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছেড়ে গেন্ডারিয়া, নিমতলী, পদ্মা, শিবচর হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলবে। ভবিষতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের রেলপথ পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত যাবে। খুলনায় যেসব ট্রেন চলছে সেগুলোকে এই রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হলে মোংলা পোর্টকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা যাবে। দক্ষিণাঞ্চলের যে ব্যবসা-বাণিজ্য সেটি আরও বেশি প্রসারিত হবে। এই রেলপথকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের সময় ও খরচ কমবে। ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এই অঞ্চলের মানুষ’।

প্রকল্প সূত্র বলছে, রেললাইন উদ্বোধনের পর এক সপ্তাহ পর থেকে শুরুতে এক জোড়া ট্রেন চালানো হবে। একমাস পরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং আরো কিছু স্টেশনও খুলে দেওয়া হবে।

বানিজ্যিক পরিচলনের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন দৈনিক বাংলাকে জানান, ‘তিন মাসের মধ্যেই সব স্টেশনের কাজ এবং সিগন্যালিং এর কাজও শেষ হয়ে যাবে। তখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রেললাইন উদ্বোধন হলেও পূর্ণোদ্যমে চলতে তিন মাস সময় লাগবে'।

ট্রেন যাত্রা দেখে খুশি এলাকাবাসী

৮২ কিলোমিটার পথে ট্রেন যেদিক দিয়ে গেছে রেললাইনের দুই পাশেই ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। ট্রেন চলাচল দেখে খুশি এলাকাবাসী। তাদের অপেক্ষা কবে চড়বেন এই ট্রেনে ।

এসময় দেখা যায় হাত নেড়ে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকেই আবার মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছেন, তুলেছেন ছবি। কেউ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে, কেউ বাড়ির ছাদে থেকে এই আনন্দ উপভোগ করেন।

একাংশ খুলছে কাজ এখনো বাকি

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ তিন ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে মাওয়া ৪০ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এবং তৃতীয় ধাপে ভাঙা থেকে যশোর পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার পথে রেল লাইন প্রস্তুত ট্রেন চলার জন্য। এদিকে প্রকল্পের তৃতীয় অংশে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত জুন মাস থেকে। আগস্ট পর্যন্ত ভাঙ্গা থেকে যশোর অংশে ১৫ কিলোমিটার রেল লাইন বসে গেছে।

প্রকল্পের আগস্ট মাসের অগ্রগতির তথ্য বলছে, পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৯৬. ৫০ শতাংশ। ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৮০.৫০ ভাগ। এদিকে ভাঙ্গা-যশোর অংশের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ ভাগ।

প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইন বসানো হচ্ছে ১৬৯ কিলোমিটার, লুপ ও সাইডিং লাইন আছে ৫৩.৯৭ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে গেন্ডারিয়া ৩টি লাইন ৩.৯৭ কিলোমিটারসহ মোট ২২৬.৯৫ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক। ২৩ দশমিক ৩৭৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ১দশমিক ৯৮ র‍্যাম্প, ৬০টি মেজর ব্রীজ, ২৭২টি মাইনর ব্রীজ (কালভার্ট আন্ডারপাস), ২৯টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং ৬টি বিদ্যমান স্টেশনের উন্নয়ন ও অন্যান্য অবকাঠানো নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ২০টি স্টেশনে টেলিযোগাযোগসহ (সিবিআই) সিস্টেম সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৪২৬ একর ভুমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন বসানো এবং স্টেশন ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প নেয় রেলওয়ে ২০১৬ সালের জুনে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পদ্মা সেতু রেল সংযোগের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা

এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের ডিফেক্ট লাইবেলিটি পিরিয়ডের জন্য এক বছর এবং সব কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য আরো ছয় মাস সহ মোট দেড় বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। সেই হিসাবে আগামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।


সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলন করবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।


সায়েদাবাদে ঈদযাত্রায় উপচে পড়া ভিড় ও বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। আজ সোমবার সকাল থেকেই সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে যাত্রী সাধারণের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার ব্যাকুলতা থাকলেও প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের পিছু ছাড়েনি নানা ভোগান্তি। বিশেষ করে যারা আগে থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের চরম বাসের সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগে প্রতিটি রুটের পরিবহনেই নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

সকাল থেকেই সায়েদাবাদ এলাকার বাস কাউন্টারগুলোর সামনে শত শত মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত বাসের দেখা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী দূরপাল্লার বাসে যাত্রীপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীরা বলছেন, পরিবহনের টিকিট সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এই বাড়তি মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। নিয়মিত মূল্যে টিকিট না পেয়ে অনেককে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হচ্ছে।

অগ্রিম টিকিট না পাওয়া অনেক যাত্রীকে দেখা গেছে চরম ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে। বড় বাসে সিট না পেয়ে অনেক যাত্রী লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে কিংবা বাসের ইঞ্জিনের ওপর বসেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন। বিশেষ করে বরিশাল ও খুলনাগামী রুটে এই চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। বরিশালগামী যাত্রী জসিম জানান, নিয়মিত ৫০০ টাকার টিকিট এখন ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকিট সংগ্রহের পরও দীর্ঘ সময় টার্মিনালে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাত্রী পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি ছাড়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভাড়ার নৈরাজ্য দেখা গেছে চট্টগ্রাম ও খুলনা রুটেও। যাত্রীদের দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের নন-এসি বাসে নিয়মিত ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও বর্তমানে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খুলনাগামী বাসে ৭০০ টাকার ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০০ টাকায়। নিয়মিত বাসের পাশাপাশি বিএমএফ-এর মতো লোকাল বাসগুলোতেও যাত্রী ঠাসাঠাসি করে নেওয়া হচ্ছে। আসন পূর্ণ হওয়ার পরও দাঁড়িয়ে এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার রাস্তাগুলোতে মানুষের প্রচণ্ড চাপের কারণে যানজটও তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি থাকলেও ভাড়ার লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ে বাস না ছাড়া এবং টার্মিনালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকার ফলে শিশু ও নারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ঘরমুখো এই মানুষের ভিড় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।


বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ কুয়েতে ২৪০ টন খাদ্য সহায়তা পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেটেড ২৫ মে, ২০২৬ ১২:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে বন্ধুত্ব ও সংহতির নিদর্শন স্বরূপ কুয়েতকে ২৪০ টন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সহায়তা হিসেবে প্রদান করছে বাংলাদেশ সরকার। গত রবিবার (২৪ মে) কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে এই খাদ্য চালানের প্রতীকী হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।

আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু ফ্লাইটের মাধ্যমে এই সাহায্য কুয়েতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জারাহ জাবের আল-আহমেদ আল-সাবাহর উপস্থিতিতে কুয়েতি আমিরের নিকট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা ও সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটায় কুয়েতের কৌশলগত খাদ্য মজুতকে সুসংহত করতে এই সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। শুভেচ্ছা বার্তায় কুয়েতের জনগণের শান্তি ও সার্বিক কল্যাণের প্রত্যাশার পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চশিখরে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা, জনশক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে পারষ্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।


মেট্রোরেলে বয়োজ্যেষ্ঠ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের একক যাত্রায় বিশেষ ছাড়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সিনিয়র সিটিজেন (বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক) এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যাত্রীদের জন্য একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে উপস্থিত থেকে মেট্রোরেলের বিশেষ ছাড় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় পাবেন। জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগটি সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গ্রহণ করা হয়েছে বলে গত রোববার এমআরটি লাইন-৬ এর উপ-প্রকল্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়।

ছাড় পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সি সিনিয়র সিটিজেনরা টিকিট কাউন্টারে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শন করে বয়স যাচাইয়ের মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। একইভাবে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা একক যাত্রা টিকিটের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ছাড়ের সুযোগ পাবেন।


ঈদযাত্রায় সরকারের বাড়তি সতর্কতা

 * এবার বাড়ি ফিরবে এক কোটির বেশি কর্মজীবী  * থাকছে বিআরটিএর ১৯ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহা উদযাপনে ঘরমুখী মানুষের চিরচেনা স্রোত শুরু হয়েছে। তবে ঈদযাত্রার আসল ধকল ও মূল চাপটি শুরু হবে সোমবার (২৫ মে) থেকে বুধবার পর্যন্ত—এই তিন দিন। এবার এক কোটির বেশি কর্মজীবী মানুষ ঢাকা ছাড়বে। সেই হিসেবে দিনে ঢাকা ছাড়বে ৩৫ লাখ মানুষ। এই আনন্দযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে রয়েছে বহুমুখী ব্যবস্থা। এগুলো মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, ৬৬টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন এবং ঈদের আগে-পরে নৌযানে মালামাল পরিবহন নিষিদ্ধ করা। এছাড়া মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন, পশুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ, এবং ভাড়া ও চাঁদাবাজি রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

এতে বলা হয়েছে, বাসযাত্রার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না। একই আসন একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা যাবে না। সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বা বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা যাবে না।

নির্দেশনায় পণ্য ও পশুবাহী যানবাহনে, বিশেষ করে ফেরার পথে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, চালকদের গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং বেপরোয়া বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং করা যাবে না। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব নিয়ে কিংবা শারীরিক অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। মালিকপক্ষ কোনো চালককে একটানা ৫ ঘণ্টা এবং দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবে না।

বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। চালক নিয়োগের আগে তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং উচ্চস্বরে গান বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্টোপথে গাড়ি চালানো যাবে না।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে হবে। নিজেদের মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে এবং বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টার বা টার্মিনালে উপস্থিত হতে হবে। এছাড়া চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী বা পশুবাহী যানবাহনে যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।

এদিকে, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতু পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কেও বাড়তে শুরু করেছে যানবাহনের চাপ। তবে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও যানজট দেখা যায়নি। ফাঁকা সড়কে ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে ফিরছে মানুষ। রোববার (২৪ মে) বিকাল ৪টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কড্ডার মোড়, নলকা, হাটিকুমরুল গোল-চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মহাসড়ক ফাঁকা দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে গত কয়েকদিনের চেয়ে রোববার (২৪ মে) যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট বা ধীরগতি না থাকায় স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছে যানবাহনগুলো। এতে এবার ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় বাসচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এই মহাসড়কে যানজট নেই। অতিরিক্ত পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যমুনা সেতু পশ্চিমপাড়ে রাস্তা ফোর লেন চালু হয়েছে। যাত্রীরা ভালো সেবা পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনও সমস্যা নেই। আশা করা যাচ্ছে এবার ঈদে সমস্যা হবে না। সমস্যা হলে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় কিছুটা হবে। সিরাজগঞ্জ অংশে যানজট নেই। সড়ক ফাঁকা।’

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের তেমন একটা চাপ নেই। তবে গত কয়েকদিনের চেয়ে রোববার (২৪ মে) বিকাল ৪টার পর থেকে গাড়ির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের কোথাও যানজট বা ধীরগতি সৃষ্টি হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে আশা করা যায়।

তবে স্বস্তির খবর নেই দক্ষিণাঞ্চলে। এবার মৃত্যুফাঁদের মহাসড়ক ধরে ঈদে বাড়ি ফিরছে এ অঞ্চলের মানুষ। এতে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা আর হতাহতের সংখ্যা। গত শুক্রবারও (২২ মে) এই সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ৩৫ বছরের এক যুবক। দেড় মাসে এভাবে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৬১। পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ শতগুণ বাড়লেও প্রশস্ত হয়নি মহাসড়ক। উপরন্তু বিপদ বাড়াচ্ছে সড়কে থাকা ৩৮টি বিপজ্জনক বাঁক। যেসব বাঁকে প্রায়ই দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে যানবাহন। সব মিলিয়ে যেন লাশের মিছিল রাজধানীসহ সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে।

নৌপথ বনাম সড়কপথ: রাজধানীসহ সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ প্রশ্নে লঞ্চই ছিল একসময় বরিশাল অঞ্চলের প্রধান ভরসা। বিভাগের ৬ জেলা আর ৪২ উপজেলা থেকে লঞ্চে ঢাকায় যেত মানুষ। সড়কপথে যোগাযোগ থাকলেও পদ্মা নদীর কারণে বরিশাল থেকে ঢাকায় যেতে লাগত ৮/১০ ঘণ্টা। পদ্মা সেতু চালুর পর সেই সময় নেমে আসে ৩/৪ ঘণ্টায়। অন্যান্য জেলা-উপজেলা থেকেও এখন সড়কপথে কম সময়ে যাওয়া যাচ্ছে ঢাকায়। এতে এই মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহন।

যানবাহনের উপচে পড়া চাপ: রোড সেফটি মুভমেন্ট নামে একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক প্রায় আড়াই লাখ মানুষ যাতায়াত করে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে, যা আগের তুলনায় প্রায় দেড়শগুণ। সড়কপথে চলাচলে সময় কম লাগায় নৌপথের তুলনায় পণ্য পরিবহণও বেড়েছে আলোচ্য এই মহাসড়কে। বেড়েছে ট্রাকসহ পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের সংখ্যা।

প্রশস্ততার তীব্র অভাব: মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা এভাবে শতগুণ বাড়লেও সেই তুলনায় প্রশস্ত হয়নি মহাসড়ক। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে হলেও ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কটির অধিকাংশ জায়গা এখনো রয়ে গেছে আগের প্রস্থে। কোথাও ১৮ আবার কোথাও বা ২৪ ফুটের বেশি প্রশস্ত নয় সড়ক। পরিস্থিতি এমন যে, নামমাত্র এই মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় দুটি বাস পাশাপাশি একে অপরকে অতিক্রম করাও হয়ে পড়ে বিপজ্জনক।

ঈগল পরিবহনের বাসচালক সাত্তার মিয়া বলেন, ভাঙ্গা পার হওয়ার পর টেকেরহাট পর্যন্ত মোটামুটি সোজা এই মহাসড়ক। তারপর শুরু একের পর এক বিপজ্জনক বাঁক। কিছু বাঁক আছে উলটো দিক থেকে আসা যানবাহন চোখেই পড়ে না। বিশেষ করে মাদারীপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত এলাকা।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ৬ লেন না হলে এই মহাসড়কে যেমন গতি বাড়বে না, তেমনই বন্ধ হবে না মৃত্যুর মিছিল।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। মাদারীপুর অংশের জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বরিশাল থেকে লেবুখালী পায়রা ব্রিজ পর্যন্ত যে অধিগ্রহণ, তাও ১/২ মাসের মধ্যে শেষ হবে। এরপর বাকি থাকে ফরিদপুর অংশ। যতদূর জানি, সেখানকার জমি অধিগ্রহণ শেষ হতে ৩/৪ মাস লাগবে। এগুলো হয়ে গেলেই শুরু হবে মূল প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করেছি। অর্থ সহায়তা দিতে দাতা সংস্থারও আগ্রহ রয়েছে।

স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি: বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ: বিআরটিএ-এর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তদারকি দল টার্মিনালগুলোতে সক্রিয় রয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল জানান, নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

বিজিবি মোতায়েন: পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার ঈদের ৭ দিন আগে থেকে এবং ঈদের ৩ দিন পর পর্যন্ত সারাদেশে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। তারা মহাসড়ক, টোল প্লাজা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহায়তা করবে।

ডিজিটাল টোল ব্যবস্থা: এছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট উৎসাহিত করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সেতু বিভাগ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে ‘কন্ট্যাক্টলেস’ টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।


ঈদুল আজহার ছুটি শুরু  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার (২৫ মে) থেকে টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে। ফলে, রোববার (২৪ মে) অফিস শেষ করেই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন লাখো চাকরিজীবী। আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।

ঈদযাত্রা যেন সাধারণ মানুষের জন্য নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক হয়, সেজন্য আগেভাগেই ছুটির বিষয়টি ঢেলে সাজিয়েছে সরকার। পূর্ব নির্ধারিত ছুটির সঙ্গে মন্ত্রিসভার বিশেষ সিদ্ধান্তে আরও একদিন যুক্ত করায় এবার মোট সাত দিনের লম্বা ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) থেকে আগামী রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। মূলত ২৮ মে ঈদের মূল ছুটির সঙ্গে আগের ও পরের নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে এই দীর্ঘ ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এর আগে, ঈদযাত্রা সহজ করতে গত ৭ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৫ মে সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং ২৩ ও ২৪ মে অফিস খোলা রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

তবে ঈদের ছুটিতেও দেশের সব হাসপাতাল ও জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে। ফলে, এ সেবায় যুক্ত কর্মী, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীদের সবাই ছুটির সুযোগ পাবেন না।

এছাড়াও এই দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও জনগণের ভোগান্তি কমাতে জরুরি সেবা খাতগুলোকে সচল রাখা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট ও ডাক সেবার মতো জরুরি বিষয়গুলো ছুটির আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির দিনগুলোতেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।


নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে সরকার: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বিদ্যুতে সাবলম্বী হতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। রোববার (২৪ মে) সংসদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

চিফ হুইপ বলেন, বিদ্যুতে সাবলম্বী হতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে সরকার। এরই পদক্ষেপ হিসেবে সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি ভবনেও সোলার প্যানেল বসানো হবে।

মো. নূরুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে আগামী অধিবেশনে আলোচনা হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলও আসবে বলে আশা করি।

তিনি জানান, প্রথম অধিবেশনের ১৬টি বাতিল অধ্যাদেশ পরবর্তী অধিবেশনে আলোচনার বিষয়ে নিশ্চিত নয়। সংসদ চলাকালে যেকোনো অধিবেশনে আইন পাস হতে পারে। বাজেট অধিবেশনে বাজেট আলোচনা প্রাধান্য থাকবে।


মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কার্যবণ্টন ইসি’র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কার্যবণ্টন করা হয়েছে।

রোববার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (সংস্থাপন) মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সহকারী উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যবণ্টন সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হলো।

অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সহকারী উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যবণ্টন তালিকায় রয়েছে- প্রশাসনিক কার্যাবলি, আর্থিক কার্যাবলি, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণসংক্রান্ত, নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যাবলি, জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত, লজিস্টিক সংগ্রহ, বিতরণ ও সংরক্ষণ এবং অন্যান্য।


পশুবাহী গাড়ি জোর করে নির্দিষ্ট হাটে নেওয়া ঠেকাতে নজরদারিতে র‍্যাব: মহাপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন জোরপূর্বক কোনো নির্দিষ্ট হাটে নিতে বাধ্য করা না হয়, সে বিষয়ে র‍্যাব বিশেষ নজরদারি করছে র‌্যাব। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেছেন।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাবও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে পশুর হাটগুলোতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, গবাদি পশু নিরাপদে হাটে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে র‍্যাবের ব্যাটালিয়নগুলো নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় জোরদার টহল পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

র‍্যাব প্রধান বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলক কমে যাওয়ায় পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিক্রির টাকা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের নিরাপত্তা চৌকি ও টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নগদ লেনদেন পরিহার করে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জাল টাকা প্রতিরোধ ও শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি জাল টাকা উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদ ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধ দমনে র‍্যাবের নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর আগে তিনি গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।


বৃষ্টিতে ছন্নছাড়া রাজধানীর পশুর হাট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনভর দাবদাহের পর বিকাল গড়াতেই রাজধানীতে নামে ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির ফলে বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে আসা বেপারী ও ক্রেতারা। যেসব ক্রেতা বৃষ্টির আগে গরু কিনতে এসেছিলেন, তারাও বৃষ্টি শুরু হতেই চলে গেছেন। ফলে বৃষ্টির পর একপ্রকার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে হাটগুলো।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরান ঢাকার ধোলাইখাল খোকার মাঠ ও পোস্তগোলা-শ্মশানঘাট হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বেপারীদের প্রত্যাশা, আজ সোমবার থেকে পুরোদমে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে।

হাট ঘুরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার গরুর বাজারে লাখে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, গত বছর যে গরু এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবার সে গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে দেড় লাখ টাকা এবং বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ২০-৩০ হাজার টাকায়।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে ধোলাইখাল হাটে ২৭টি গরু নিয়ে এসেছেন জগদীশ পাল। তিনি জানান, গত পরশু এসেছি এ হাটে। এখন পর্যন্ত দুটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। ক্রেতা কিছু আসে, দাম জিজ্ঞেস করে আবার চলে যায়। কেউ কেউ যে দাম বলে, তাতে গরু বিক্রি করা যায় না। আশা করি, এখন যেহেতু বৃষ্টি কিছুটা থেমেছে, তাই রাতে কিছু ক্রেতা আসবে। না হলে আগামীকাল থেকে পুরোদমে গরু বেচাকেনা হবেই।

পুরান ঢাকার ইসলামপুরের ব্যবসায়ী মো. শাহজালাল জানান, গরু কেনার উদ্দেশ্যেই হাটে এসেছিলাম। কিন্তু আবহাওয়ার যে অবস্থা, তাতে গরু কিনে রাখব কোথায়? এখনো তিন দিন বাকি আছে। তারপরও দেখছি, যদি দরদামে মিলে যায় তাহলে কিনে ফেলব। গরুর দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় একটু বেশি মনে হচ্ছে। বিশেষ করে মাঝারি গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।’

মেহেরপুরের গাংনী থেকে গরু নিয়ে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দিন যে আবহাওয়া ছিল, ভেবেছিলাম আজ সন্ধ্যার পর পুরোদমে গরু বেচাকেনা শুরু হবে। কিন্তু দুপুরের পর থেকে বৃষ্টির কারণে ক্রেতারা এখনো হাটে আসেননি। যারা এসেছে, তারাও দরদাম করছে, কিন্তু নেওয়ার মতো না। আগামীকাল থেকে পুরোদমে বেচাকেনা হবে আশা করছি।

পাবনা থেকে ১৩টি মহিষ নিয়ে পোস্তগোলা-শ্মশানঘাট হাটে এসেছেন আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো ক্রেতার দেখা পাইনি। আজ ভেবেছিলাম সন্ধ্যার পর কিছু ক্রেতা আসবে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটা আজ হচ্ছে না। তবে আশা করি, আগামীকাল থেকে ক্রেতা আসবে এবং পুরোদমে হাট জমে উঠবে।’


কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের জন্য সরকারের ভুল তুলে ধরার অধিকার রয়েছে সবার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যখন কোথাও প্রোগ্রাম করা যেত না, তখন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাধাহীনভাবে আমরা প্রোগ্রাম করতে পেরেছি। আমরা চাই, আমাদের সরকারের বিরুদ্ধেও যারা কথা বলতে চান, তাদেরও যেন ডিআরইউ সেই সুযোগটা দেয়। কারণ তারা যদি আমাদের ভুল ধরিয়ে না দেন, তাহলে আমরা কীভাবে আমাদের ভুল শুধরে নেব। কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের জন্য সরকারের ভুলগুলো তুলে ধরার অধিকার সবার রয়েছে। তিনি ডিআরইউ’র ডিবেটিং ক্লাবসহ সব ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় স্পন্সরশিপ সহায়তার আশ্বাস দেন।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সদস্যদের জন্য প্রথমবারের মতো ‘ডিবেটিং ক্লাব’-এর যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক জাফর ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদী, ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য সচিব শেখ মো. আরীফ ও সদস্য আসিফ সুমিত প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মাজাহারুল ইসলাম, ডিবেটিং সোসাইটির সদস্য কাজী শহীদুল আলম এবং সংগঠনের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডিবেটিং ক্লাবের আহ্বায়ক এমএম জসিম ডিবেটিং ক্লাবের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।


ঢাকায় আবারও শিশু ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ভাষানটেকে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনায় ভাষানটেক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।

গ্রেপ্তার মো. হোসেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার মৃত সাহেব আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ভাষানটেক এলাকায় বসবাস করছিলেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে শিশুটি তার গোপনঅঙ্গে ব্যথার কথা বলে পরিবারের কাছে কান্নাকাটি করছিল। একপর্যায়ে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে সে তার পরিবারকে ঘটনার কথা জানায়।

শিশুটি জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে তাদের ঘরের সামনে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী হোসেন তাকে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে এবং মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

ঘটনাটি জানার পরপরই শিশুটির বাবা গত শনিবার রাতে ভাষানটেক থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আসামি হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত শনিবার রাতে ধর্ষণের মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে তাকে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।


ডিএনসিসির ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহারের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত নগরভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এই উপহারের চেক হস্তান্তর করা হয়। উপহার হিসেবে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপহারের চেক তুলে দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কথা ভাবেন এবং তাদের কষ্ট ও শ্রমকে মূল্যায়ন করেন বলেই ধারাবাহিকভাবে ঈদ উপহার প্রদান করছেন। ঈদুল আজহায় কোরবানির কারণে পুরো নগরে অতিরিক্ত বর্জ্যের সৃষ্টি হয়। এই সময় নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করেন। তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করেন। অনেক সময় সকালে নাস্তাও করতে পারেন না। ঢাকা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আপনাদের। আপনারা যদি কাজ না করেন তাহলে নগর সুন্দর থাকবে না, দুর্গন্ধমুক্ত থাকবে না। আপনারা আমাদের প্রাণ, আপনারা আমাদের শক্তি। আপনারাও সিটি করপোরেশনের অংশীদার। এই নগর আপনাদেরও। নগরকে পরিষ্কার রাখার সর্বোচ্চ দায়িত্ব আপনাদের কাঁধেই।’

সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রিন ঢাকা ও ক্লিন ঢাকা গড়তে শুধু সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’

ঈদ ও বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সময় যাতে দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন প্রস্তুত রয়েছে।’ এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পূর্বে দেওয়া রেইনকোট ব্যবহার করারও আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার আসন্ন কোরবানির ঈদে যারা নগর পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন তাদের উদ্যম আরও বাড়িয়ে দেবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করবেন এবং নগরবাসী যাতে কোরবানির বর্জ্যে ভোগান্তিতে না পড়েন সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


banner close