আরেক প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রথম বারের মতো ট্রেন চলেছে। ট্রেনের এই যাত্রাকে বলা হয়েছে পরীক্ষামূলক চলাচল। তবে এই বিশেষ ট্রেনে যারা যাত্রী হয়েছিলেন, তারা বেশ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে ট্রেনে চেপে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছেন। মাত্র ৮ মিনিটে ট্রেন পদ্মাসেতু অতিক্রম করে। আর ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লেগেছে পরীক্ষামূলক ট্রেনটির।
আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের একাংশ ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করবেন। তারপর ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রুটে শুরু হবে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল। ট্রেন চলাচল শুরু হলে কাজ বাকি থাকবে। ট্রেন চলাচল শুরুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে সবকিছু পরীক্ষা করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষামূলক যাত্রার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গতকাল সকাল ১০টা ৭ মিনিটে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে সাত বগির বিশেষ একটি ট্রেন ছেড়ে যায়। এরপর ট্রেনটি গেণ্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ , নিমতলা, শ্রীনগর এবং মাওয়া স্টেশন হয়ে পদ্মা সেতুতে উঠে। মূল সেতুতে ট্রেনটি ১১টা ২৭ মিনিটে ওঠে। পদ্মার ওপর সেতু পেরিয়ে ১১টা ৩৪ মিনিটে ট্রেনটি সেতু থেকে নামে। এরপর ভাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছায় বেলা ১২টা ১৭ মিনিটে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেললাইন । ফলে পুরো পথে ট্রেন যেতে সময় লেগেছে প্রায় ২ ঘন্টা ১০ মিনিট। এসময় ট্রেনের গড়ে গতি ছিলো ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার।
ট্রেনের গতির বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষামূলক যাত্রার ট্রেন চালক লোকা কোমাস্টার) এনামুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে গেন্ডরিয়া পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিলো ২০ কিলোমিটার। গেন্ডারিয়া থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত গতি ছিল ৪০ কিলোমিটার। কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়া পর্যন্ত গতি ছিলো ৫০ কিলোমিটার। আর মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিল ৬০ কিলোমিটার। তবে নতুন লাইনে কোন সমস্যা ছিল না। আমাদের গতি যেভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেভাবে চালানো হয়েছে’।
এদিকে ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রার ছিলেন মন্ত্রী, এমপি , রাজনৈতিক রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ছিলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সাত বগির একটি বিশেষ ট্রেনে প্রায় ৬০০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা জংশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে ভাঙা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রায়াল রান করলাম। এটা প্রস্তুত হয়েছে দেখলাম। আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চলাচল উদ্বোধন হবে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে। আপাতত সব স্টেশন চালু হচ্ছে না। শুরুতে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছেড়ে গেন্ডারিয়া, নিমতলী, পদ্মা, শিবচর হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলবে। ভবিষতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের রেলপথ পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত যাবে। খুলনায় যেসব ট্রেন চলছে সেগুলোকে এই রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হলে মোংলা পোর্টকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা যাবে। দক্ষিণাঞ্চলের যে ব্যবসা-বাণিজ্য সেটি আরও বেশি প্রসারিত হবে। এই রেলপথকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের সময় ও খরচ কমবে। ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এই অঞ্চলের মানুষ’।
প্রকল্প সূত্র বলছে, রেললাইন উদ্বোধনের পর এক সপ্তাহ পর থেকে শুরুতে এক জোড়া ট্রেন চালানো হবে। একমাস পরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং আরো কিছু স্টেশনও খুলে দেওয়া হবে।
বানিজ্যিক পরিচলনের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন দৈনিক বাংলাকে জানান, ‘তিন মাসের মধ্যেই সব স্টেশনের কাজ এবং সিগন্যালিং এর কাজও শেষ হয়ে যাবে। তখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রেললাইন উদ্বোধন হলেও পূর্ণোদ্যমে চলতে তিন মাস সময় লাগবে'।
ট্রেন যাত্রা দেখে খুশি এলাকাবাসী
৮২ কিলোমিটার পথে ট্রেন যেদিক দিয়ে গেছে রেললাইনের দুই পাশেই ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। ট্রেন চলাচল দেখে খুশি এলাকাবাসী। তাদের অপেক্ষা কবে চড়বেন এই ট্রেনে ।
এসময় দেখা যায় হাত নেড়ে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকেই আবার মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছেন, তুলেছেন ছবি। কেউ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে, কেউ বাড়ির ছাদে থেকে এই আনন্দ উপভোগ করেন।
একাংশ খুলছে কাজ এখনো বাকি
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ তিন ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে মাওয়া ৪০ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এবং তৃতীয় ধাপে ভাঙা থেকে যশোর পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার পথে রেল লাইন প্রস্তুত ট্রেন চলার জন্য। এদিকে প্রকল্পের তৃতীয় অংশে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত জুন মাস থেকে। আগস্ট পর্যন্ত ভাঙ্গা থেকে যশোর অংশে ১৫ কিলোমিটার রেল লাইন বসে গেছে।
প্রকল্পের আগস্ট মাসের অগ্রগতির তথ্য বলছে, পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৯৬. ৫০ শতাংশ। ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৮০.৫০ ভাগ। এদিকে ভাঙ্গা-যশোর অংশের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ ভাগ।
প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইন বসানো হচ্ছে ১৬৯ কিলোমিটার, লুপ ও সাইডিং লাইন আছে ৫৩.৯৭ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে গেন্ডারিয়া ৩টি লাইন ৩.৯৭ কিলোমিটারসহ মোট ২২৬.৯৫ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক। ২৩ দশমিক ৩৭৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ১দশমিক ৯৮ র্যাম্প, ৬০টি মেজর ব্রীজ, ২৭২টি মাইনর ব্রীজ (কালভার্ট আন্ডারপাস), ২৯টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং ৬টি বিদ্যমান স্টেশনের উন্নয়ন ও অন্যান্য অবকাঠানো নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ২০টি স্টেশনে টেলিযোগাযোগসহ (সিবিআই) সিস্টেম সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৪২৬ একর ভুমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন বসানো এবং স্টেশন ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প নেয় রেলওয়ে ২০১৬ সালের জুনে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পদ্মা সেতু রেল সংযোগের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা
এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের ডিফেক্ট লাইবেলিটি পিরিয়ডের জন্য এক বছর এবং সব কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য আরো ছয় মাস সহ মোট দেড় বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। সেই হিসাবে আগামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ১৮ নভেম্বর শেষ হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন। সরকারি ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে অধিবেশন বসবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে চতুর্থ অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনার সময় বরাদ্দ ও অধিবেশনের স্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে জানানো হয়, এ অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য একটি সরকারি বিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তৃতীয় অধিবেশনের পর থেকে চতুর্থ অধিবেশনের আগে তিনটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এগুলো হলো পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬। অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উত্তর দেওয়ার জন্য ১৭৪টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৩ হাজার ৫৭৭টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে প্রশ্নের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫১টি। এ ছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ৯২টি এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ২৮১টি নোটিশ পাওয়া গেছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ চত্বরকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণার প্রস্তাব দেন। উপস্থিত সদস্যরা প্রস্তাবটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেন।
এ সময় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমের অগ্রগতি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া জানান, আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সাউন্ড সিস্টেম উদ্বোধন করা হবে।
জাতীয় সংসদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। সংসদ চলাকালে প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ সংরক্ষণাগারের সুবিধা রেখে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ই-পার্লামেন্ট কার্যক্রম এবং জাতীয় সংসদের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন।
বৈঠকে সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ আজ স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ফোর্সেস-এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এসআরবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ ১৯৯৮ সালে বিসিএস ১৭তম ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন।
তিনি রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী থেকে এক বছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ চাকুরি জীবনে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর এবং হাইওয়ে পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া ও সুদানে দায়িত্ব পালন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফারুক আহমেদ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক (বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং) ডিগ্রি লাভ করেন। সূত্র: বাসস
পূর্ববর্তী প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনর্থক চর্চা করাকে সময়ের অপচয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সরকারের বিগত দিনের আলোচনায় যেতে চাই না, এটি ওয়েস্ট অব টাইম।’ রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রের সার্বিক উত্তরণে অর্থনৈতিক রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক রূপ দেওয়া সম্ভব না হলে রাজনীতিতে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায্যতা অনুপস্থিত থাকলে রাজনীতিতে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যা প্রকারান্তরে দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকেও শ্লথ করে দেয়। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, নির্ভুল তথ্যপ্রবাহ না থাকলে কোনো খাতেই স্বচ্ছতা আনা যায় না। এ কারণেই সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা প্রদান করেছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রের বাস্তব তথ্য নিয়ে যেকোনো সরকারের জালিয়াতি মূলত নিজের সঙ্গেই নিজে প্রতারণা করার শামিল।
আলোচনা সভায় পরিসংখ্যানের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার ওপর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো ধরনের তথ্য বিকৃত করতে চায় না। পরিসংখ্যান তৈরিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। মানুষ যেন নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।’
একই অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিগত সময়ের কাঠামোগত দুর্বলতার দিকটি চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়েছেন, আর যোগ্য ব্যক্তিরা ছিলেন সুবিধার বাইরে। এতে বাংলাদেশের সীমিত সম্পদের বড় একটি অংশ অপচয় হয়েছে।’ এছাড়া দেশের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বলেও তিনি অবহিত করেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার পরিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর মধ্য থেকেই অগ্রসর হচ্ছে বলে স্পষ্ট করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, বরং রাষ্ট্রীয় আইনের কঠোর বাস্তবায়নই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বের সমাপ্তিতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারের এ দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্বের পর শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যাবাসনে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা বিরোধে জড়ানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান যে, এ সংক্রান্ত যাবতীয় উদ্যোগ বিধিবদ্ধ ও যথাযথ প্রক্রিয়ার (ডিউ প্রসেস) মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিচালিত হবে সম্পূর্ণ আইনি নীতিমালার আলোকে। সেখানে যেকোনো কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইনকে সমুন্নত ও সঠিকভাবে প্রয়োগ করাই মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি অবহিত করেন।
ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি একান্তই সে দেশের নিজস্ব বিচারিক এখতিয়ার। তবে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তির শর্তাবলি মেনে ইতিমধ্যে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে হস্তান্তর করামাত্রই বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে আদালতের মুখোমুখি করা হবে।
ভারত শেখ হাসিনাকে বন্দি বিবেচনা না করে ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ হিসেবে গণ্য করছে—সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের জবাবে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ভারত কী বলছে, তারা বললেই তো আর বাস্তবতা বদলে যাবে না! আমার রাষ্ট্রে উন্মুক্ত আদালতে তার বিচার হয়েছে। আমাদের কাছে তিনি একজন অপরাধী—দেশের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী, এটাই হলো আমাদের কাছে তার চূড়ান্ত পরিচয়।’
দেশে গত অক্টোবর মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাছের দাম। এক মাসে মাছের দাম গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জ্বালানি তেল, চিনি ও ভোজ্য তেলের দামও বেড়েছে। তবে সাত ধরনের পণ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল এবং দুটি পণ্যের দাম কমেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) কনজুমারস ফোরাম (সিএফ) প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজার পরিস্থিতি–সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির সরেজমিনে সংগ্রহ করা বাজারদরের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
পণ্যভেদে দামের হিসাবে দেখা যায়, অক্টোবরে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরাসহ বিভিন্ন মসলার দাম গড়ে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, চিনির ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ, ভোজ্য তেল ও ডালডার ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ, আটার দাম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং চালের দাম ২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডিমের দাম ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, মাংসের দাম শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং চায়ের দাম শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে অক্টোবরে সাত ধরনের পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ ও টুথপেস্ট, চানাচুর ও বিস্কুট, নিত্যব্যবহৃত ১১টি ব্র্যান্ডের ওষুধ এবং খাতা-কলম। এ সময়ে শাকসবজির দাম গড়ে ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতকালীন শাকসবজি বাজারে আসতে শুরু করায় সবজির দাম কমেছে। যশোর, বগুড়া ও রংপুর এলাকার বাজার থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া ও রংপুরে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬ থেকে ১২ টাকা, মূলা ৬ থেকে ৮ টাকা এবং লাউ ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে কলার হালি পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৮ টাকায়। তবে একই পণ্য ঢাকার বাজারে বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে। রাজধানীতে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পেঁপে ও মূলা ৩০ টাকা এবং লাউ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। সবজির দাম কমলেও এতে উৎপাদকেরা লাভবান হতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাজারে কম দামে সবজি বিক্রি করতে গিয়ে উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তাঁরা। ফলে একদিকে ভোক্তারা ঢাকার বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে সবজি কিনছেন, অন্যদিকে উৎপাদকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।
সিএফের হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছিল। অক্টোবরে বেড়েছে আরও ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সংগঠনটি দুই মাসে মোট দাম বৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে। পণ্যমূল্য এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের মতে, শুধু বেতন-ভাতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো সম্ভব নয়। বাড়িভাড়া, দোকানভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন ব্যয়ও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা জরুরি। বাজারে অতিমুনাফার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিএফ। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে গ্রামপর্যায়ে কৃষিপণ্যের উৎপাদনমূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে ব্যবধান কমাতে বাজার তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে সিএফ রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার, মীনা বাজার ও স্বপ্ন সুপারশপ থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি যশোর, বগুড়া ও রংপুরের বাজার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির গ্রাসে দেশের বিপুলসংখ্যক সমবায় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ খাতের সার্বিক কার্যক্রমে সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সংকট নিরসন এবং নড়বড়ে অর্থনীতির গতি ফেরাতে সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে সমবায় অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বিষয়ে বক্তব্য দেন।
গ্রামীণ জনপদের অর্থনৈতিক ভিত মজবুতকরণ ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমবায়ের তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সমবায় শুধু পণ্য উৎপাদন কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমবায়কে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধের অভিঘাতে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে বহুমুখী প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছে তা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
সমবায় ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্নীতির কারণে অনেক সমিতি তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সমবায় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’ পরে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে জাতীয় সমবায় পুরস্কার-২০২৫ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭ নভেম্বর সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বাসস
আর্থিক অনিয়মের চেয়েও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি দেশের বিচার বিভাগকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিচারিক শুদ্ধাচার কর্মশালায় (জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপ) অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মশালায় বক্তব্য প্রদানকালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির ফসল হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগে অর্থনৈতিক দুর্নীতি যতটা না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি।’ এ সময় বিচারকদের নৈতিক মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, ‘জজের নামের সঙ্গে সৎ জজ কথাটি অতিরঞ্জন। জজের কাজটাই সততা রক্ষা করা।’ একইসঙ্গে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখা ও স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেসব বিচারকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সরকার বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অবলম্বন করবে।
অতীতের সংকটময় মুহূর্তে বিচারালয়ের ভূমিকার সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখন সালাহউদ্দিন আহমদ গুম হলেন, বিচার বিভাগ তার পাশে দাঁড়ায়নি।’ এছাড়া ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেবে সরকার। এ চুক্তির আওতায় ভারত সরকার তাকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার। তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করা দরকার, তা করা হয়েছে।’ এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতে আগামী ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার হওয়া জরুরি, তেমনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামে প্রাণ হারানো শহীদ জাফর, জয়নাল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রউফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডা. মিলনসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ এক হাজার চার শতাধিক মানুষের আত্মত্যাগ এবং প্রায় তিন শতাধিক মানুষের পঙ্গুত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার সংস্কৃতি তৈরির আহ্বান জানান।
বুদ্ধিজীবী সমাজের মধ্যকার বিভক্তি ও জুলাইয়ের হতাহতের ঘটনায় একটি অংশের নীরবতা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে তিনি জানান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যখন বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার পর্যালোচনা করে, তখন কেবল আর্থিক দিকটিই প্রাধান্য পায়। কিন্তু সেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক বিচ্যুতির বড় সংকটটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, যা মূলত দেশের সামগ্রিক বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
তৈরি পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা সুসংহত রাখা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার বিজিবির জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার মিরপুরসহ সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, বিসিক শিল্পনগরী, চাষাঢ়া, কাঁচপুর ও শিমরাইলে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। একই সঙ্গে গাজীপুরের প্রধান শিল্প বলয় চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক, আমবাগ, কাশিমপুর, নাওজোর, ভোগড়া বাইপাস, গাছা ও সালনাসহ বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকির অংশ হিসেবে বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত বিশেষ মনিটরিং সেল থেকে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ও সরাসরি ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে বাহিনীটি।
বিজিবি জানিয়েছে, সর্বসাধারণের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুকূল কর্মপরিবেশ রক্ষা এবং মহাসড়কসহ স্থানীয় জনপদে যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তাদের এই বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
গত এক দশকে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। ২০১৫ সালে বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলার। ২০২৫ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৪৩ কোটি ডলারে। বর্তমান বাজারদরে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬-এ বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের এই চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশের বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধির ধারায় বাংলাদেশেও বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক।
বহুপক্ষীয় সংস্থার কাছে ঋণ বেশি: বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের উৎসকে বহুপক্ষীয় ও দ্বিপক্ষীয়—এই দুই ভাগে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি পর্যায়ে বিদেশি অর্থায়নের সবচেয়ে বড় উৎস বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলো।
বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) এসব সংস্থার কাছে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ১১৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২ হাজার ২৬৩ কোটি এবং এডিবির কাছে ১ হাজার ৭৫১ কোটি ডলার ঋণ রয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের ঋণ ৩ হাজার ২৬৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে জাপানের কাছে ১ হাজার ২৭২ কোটি এবং রাশিয়ার কাছে ৯০২ কোটি ডলার ঋণ রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার।
ঋণের স্থিতি হলো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের মোট অপরিশোধিত ঋণের পরিমাণ। অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে নেওয়া ঋণ থেকে যতটুকু পরিশোধ করা হয়েছে, তা বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ বকেয়া থাকে, সেটিই ঋণের স্থিতি।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো দেশ এক বছরে ১০০ কোটি ডলার এবং পরের বছর আরও ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিল। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করলে দ্বিতীয় বছরের শেষে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়াবে ১২০ কোটি ডলার।
ঋণ পরিশোধের সক্ষমতায় ইতিবাচক চিত্র: বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়লেও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সহনীয় বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত ২৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এ অনুপাত বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে ঋণ পরিশোধের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম।
অর্থাৎ রপ্তানি আয় থেকে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে মোট রপ্তানি আয়ের ১৬ শতাংশ। এই অনুপাত কমে আসাকে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৪ বছরে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে চার গুণের বেশি: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছিল ১১০ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০১ কোটি ডলারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ পৌনে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
সর্বশেষ বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণের বেশি।
সামনে বাড়তে পারে ঋণ পরিশোধের চাপ: আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, বড় কয়েকটি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু হচ্ছে বা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শিগগির শুরু হওয়ার কথা। এসব ঋণের অর্থ জাপানকে পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
টানা ৫ দিনের দীর্ঘ শ্রমিক আন্দোলন ও উত্তেজনার পর সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। খুলে দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বন্ধের দিনও বেশ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। সাভার হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মৌর এবং আশুলিয়ার নরসিংহপুর,বাইপাইল, জিরাবো, পুকুরপাড় এলাকায় শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে কারখানায় যোগ দেন। এ সময় সিকিউরিটি গার্ড তাদের আইডি কার্ড চেক করে। পাশাপাশি পুলিশও শ্রমিদের নজরদারিতে ছিল। কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তবে বিভিন্ন কারখানার এইচআর ডিপার্টমেন্ট সূত্র জানা যায়, ৮০ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগদান করেছেন। তারা বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় এ উপস্থিত। শনিবার (৬ নভেম্বর) থেকে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়। উপস্থিতিও প্রায় শতভাগ। সকালে ঢাকা-আরিচা ও আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বেশ কিছু পোশাক কারখানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা ও বাইপাইল–আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন সদস্য। এছাড়া দায়িত্ব পালন করছেন আটজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিগত কয়কদিন যা ঘটেছে তা শ্রমিক আন্দোলন নয় বরং ফ্যাসিস্টরা তাদের ব্যর্থ শক্তি প্রদর্শন করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অতীতেও তারা পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে এবং পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াসহ আশপাশের শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। টানা শ্রমিক অসন্তোষের পর শিল্পাঞ্চল এখন শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বেশ কিছু কারখানা বন্ধ থাকায় নিরব পরিবেশ বিরাজ করছে আশুলিয়া ও সাভারে।
একজন গার্মেন্টস মালিক জানান, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছিল। পতিত সরকারের দোসরা আত্মগোপনে থেকে এ সব ষড়যন্ত্র করছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা তত্ত্বে উঠে এসেছে। জানুয়ারি মাসেই নতুন বেতন পাবেন শ্রমিকরা। মজুরি কমিশন বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার থেকেই অনেক গামের্ন্টসের উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কয়েকদিন ধরে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ধাওয়া পালটা ধাওয়া ফলে সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল থমথমে।
গত ৫ দিনে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সাভার ও আশুলিয়া থানায় ৭টি মামলায় কয়েক হাজার দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তাররা কেউ শ্রমিক নন বলে জানান সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন শিল্পী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় মজুরি কমিশন বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী জানুয়ারিতে ডিসেম্বরের শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির টাকা পাবেন।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে প্রায় চার দিন পর পুনরায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে টার্মিনালটিতে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসকে (এলএনজি) গ্যাসে রূপান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়।
পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ায় মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই আগের মতো জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় সহযোগিতার জন্য গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
এর আগে সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত গ্যাস রূপান্তরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল সংস্থাটি।
ওই সময় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
রক্ষণাবেক্ষণ শুরুর আগে চার দিন সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটিকে গুজব আখ্যা দেয় পেট্রোবাংলা।
সংস্থাটি জানিয়েছিল, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।
দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করে সামিট গ্রুপ, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি।
সামিটের টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা দিনে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
গণহত্যাকারী ও সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকারীদের বিচার এই মাটিতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘আপনি বাংলাদেশে আসবেন বলছেন, আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না, এখনই আসুন। প্রয়োজনে আমরাই টিকিট পাঠিয়ে দেব, তবু আসুন।’
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে যখনই বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে তখনি জিয়া পরিবারের আবির্ভাব হয়েছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিভাজনের রাজনীতি করে দেশটাকেও বিভাজনে পরিণত করেছিল। শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় রাজনীতি দেশে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আর এখন আবার ওই জিয়া পরিবারের কারণেই ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপির জন্য আজ আমরা গর্বিত। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল সব সময় অরাজকতা করে যাচ্ছে।’ শেখ হাসিনার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের মাঠে রেখে গণহত্যা চালিয়ে লাখ-কোটি টাকা লুটপাট করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
শিশু হত্যা, নারী হত্যা ও গণহত্যার বিচার এই মাটিতেই হবে। আপনারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুংকার দেন, বাস্তবে কিছুই হবে না। পালিয়েছেন, এবার হাইটা হাইটা হ্যান্ডকাফ পইরা আসতে হবে এবং বিচারের আওতায় আসতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ১৭ বছর আপনারা যে দুর্নীতি-লুটপাট করেছেন, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছেন, মানুষ তা ভুলে যায়নি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ পুনরায় স্বাধীন হয়েছে এবং এই স্বাধীনতা লুণ্ঠিত করতে কাউকে দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা দেশের জনগণ কোনোদিন ভুলবে না।’
জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আজ তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তিনি উন্নয়ন শুরু করেছেন। সেই উন্নয়নের ধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আপনাদের আশপাশে যারাই এই উন্নয়নে বাধা দেবে বা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের চিহ্নিত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন। লুটপাটের রাজনীতি যারা করেছে, তাদের আর আসতে দেওয়া হবে না।’
নান্দাইলের নিজস্ব আসনের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নান্দাইলের উন্নয়নে হাত দিয়েছি। ইতিমধ্যে এখানে ১৮৬টি রাস্তার ইটের সলিং করা হয়েছে এবং আরো ১০৪টি রাস্তা করার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া আরো সাড়ে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ এনে রাস্তা পুনঃসংস্কারের কাজ শুরু করেছি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে গৃহহীনদের জন্য ৩৬টি ঘর করে দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরো ১০৪টি ঘর করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। পারুখি ব্রিজসহ আরো অনেক ব্রিজের অনুদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমার বাবা যেভাবে সংসদ সদস্য হয়ে এই অঞ্চলের মানুষের সেবা করেছিলেন, আমিও আপনাদের কর্মী হয়ে সেভাবেই কাজ করতে চাই।’
নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশাল জনসভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, নজরুল ইসলাম ফকির, রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনির, এডভোকেট আবদুস সালাম এবং আবুল খায়ের বাবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।