আরেক প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত প্রথম বারের মতো ট্রেন চলেছে। ট্রেনের এই যাত্রাকে বলা হয়েছে পরীক্ষামূলক চলাচল। তবে এই বিশেষ ট্রেনে যারা যাত্রী হয়েছিলেন, তারা বেশ আনন্দ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে ট্রেনে চেপে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছেন। মাত্র ৮ মিনিটে ট্রেন পদ্মাসেতু অতিক্রম করে। আর ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লেগেছে পরীক্ষামূলক ট্রেনটির।
আগামী ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের একাংশ ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করবেন। তারপর ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রুটে শুরু হবে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল। ট্রেন চলাচল শুরু হলে কাজ বাকি থাকবে। ট্রেন চলাচল শুরুর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে সবকিছু পরীক্ষা করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষামূলক যাত্রার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গতকাল সকাল ১০টা ৭ মিনিটে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে সাত বগির বিশেষ একটি ট্রেন ছেড়ে যায়। এরপর ট্রেনটি গেণ্ডারিয়া, কেরানীগঞ্জ , নিমতলা, শ্রীনগর এবং মাওয়া স্টেশন হয়ে পদ্মা সেতুতে উঠে। মূল সেতুতে ট্রেনটি ১১টা ২৭ মিনিটে ওঠে। পদ্মার ওপর সেতু পেরিয়ে ১১টা ৩৪ মিনিটে ট্রেনটি সেতু থেকে নামে। এরপর ভাঙ্গা স্টেশনে পৌঁছায় বেলা ১২টা ১৭ মিনিটে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেললাইন । ফলে পুরো পথে ট্রেন যেতে সময় লেগেছে প্রায় ২ ঘন্টা ১০ মিনিট। এসময় ট্রেনের গড়ে গতি ছিলো ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার।
ট্রেনের গতির বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষামূলক যাত্রার ট্রেন চালক লোকা কোমাস্টার) এনামুল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে গেন্ডরিয়া পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিলো ২০ কিলোমিটার। গেন্ডারিয়া থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত গতি ছিল ৪০ কিলোমিটার। কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়া পর্যন্ত গতি ছিলো ৫০ কিলোমিটার। আর মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেনের গতি ছিল ৬০ কিলোমিটার। তবে নতুন লাইনে কোন সমস্যা ছিল না। আমাদের গতি যেভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেভাবে চালানো হয়েছে’।
এদিকে ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রার ছিলেন মন্ত্রী, এমপি , রাজনৈতিক রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ছিলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। সাত বগির একটি বিশেষ ট্রেনে প্রায় ৬০০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা জংশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে ভাঙা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রায়াল রান করলাম। এটা প্রস্তুত হয়েছে দেখলাম। আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাঙ্গা রেল চলাচল উদ্বোধন হবে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে। আপাতত সব স্টেশন চালু হচ্ছে না। শুরুতে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছেড়ে গেন্ডারিয়া, নিমতলী, পদ্মা, শিবচর হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলবে। ভবিষতে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের রেলপথ পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত যাবে। খুলনায় যেসব ট্রেন চলছে সেগুলোকে এই রেল যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত হলে মোংলা পোর্টকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা যাবে। দক্ষিণাঞ্চলের যে ব্যবসা-বাণিজ্য সেটি আরও বেশি প্রসারিত হবে। এই রেলপথকে কাজে লাগিয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের সময় ও খরচ কমবে। ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এই অঞ্চলের মানুষ’।
প্রকল্প সূত্র বলছে, রেললাইন উদ্বোধনের পর এক সপ্তাহ পর থেকে শুরুতে এক জোড়া ট্রেন চালানো হবে। একমাস পরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং আরো কিছু স্টেশনও খুলে দেওয়া হবে।
বানিজ্যিক পরিচলনের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. আফজাল হোসেন দৈনিক বাংলাকে জানান, ‘তিন মাসের মধ্যেই সব স্টেশনের কাজ এবং সিগন্যালিং এর কাজও শেষ হয়ে যাবে। তখন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ ঢাকা থেকে ভাঙ্গা রেললাইন উদ্বোধন হলেও পূর্ণোদ্যমে চলতে তিন মাস সময় লাগবে'।
ট্রেন যাত্রা দেখে খুশি এলাকাবাসী
৮২ কিলোমিটার পথে ট্রেন যেদিক দিয়ে গেছে রেললাইনের দুই পাশেই ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। ট্রেন চলাচল দেখে খুশি এলাকাবাসী। তাদের অপেক্ষা কবে চড়বেন এই ট্রেনে ।
এসময় দেখা যায় হাত নেড়ে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকেই আবার মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছেন, তুলেছেন ছবি। কেউ রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে, কেউ বাড়ির ছাদে থেকে এই আনন্দ উপভোগ করেন।
একাংশ খুলছে কাজ এখনো বাকি
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ তিন ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে মাওয়া ৪০ কিলোমিটার, দ্বিতীয় ধাপে মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার এবং তৃতীয় ধাপে ভাঙা থেকে যশোর পর্যন্ত ৮৭ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার পথে রেল লাইন প্রস্তুত ট্রেন চলার জন্য। এদিকে প্রকল্পের তৃতীয় অংশে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত প্রায় ৮৭ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে গত জুন মাস থেকে। আগস্ট পর্যন্ত ভাঙ্গা থেকে যশোর অংশে ১৫ কিলোমিটার রেল লাইন বসে গেছে।
প্রকল্পের আগস্ট মাসের অগ্রগতির তথ্য বলছে, পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৯৬. ৫০ শতাংশ। ঢাকা-মাওয়া অংশের অগ্রগতি হয়েছে ৮০.৫০ ভাগ। এদিকে ভাঙ্গা-যশোর অংশের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ ভাগ।
প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মেইন লাইন বসানো হচ্ছে ১৬৯ কিলোমিটার, লুপ ও সাইডিং লাইন আছে ৫৩.৯৭ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে গেন্ডারিয়া ৩টি লাইন ৩.৯৭ কিলোমিটারসহ মোট ২২৬.৯৫ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক। ২৩ দশমিক ৩৭৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ১দশমিক ৯৮ র্যাম্প, ৬০টি মেজর ব্রীজ, ২৭২টি মাইনর ব্রীজ (কালভার্ট আন্ডারপাস), ২৯টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং ৬টি বিদ্যমান স্টেশনের উন্নয়ন ও অন্যান্য অবকাঠানো নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ২০টি স্টেশনে টেলিযোগাযোগসহ (সিবিআই) সিস্টেম সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ১০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ৪২৬ একর ভুমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন বসানো এবং স্টেশন ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আলাদা প্রকল্প নেয় রেলওয়ে ২০১৬ সালের জুনে। জি-টু-জি পদ্ধতিতে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি)। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট (সিএসসি) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পদ্মা সেতু রেল সংযোগের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা
এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মেয়াদ আছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের ডিফেক্ট লাইবেলিটি পিরিয়ডের জন্য এক বছর এবং সব কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য আরো ছয় মাস সহ মোট দেড় বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। সেই হিসাবে আগামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কার্য সম্পাদনে সহায়তা করবেন-
ক) প্রতিমন্ত্রী-১: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়াবলী, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিতব্য অন্য যেকোনো বিষয়।
খ) প্রতিমন্ত্রী-২: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা এবং উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এল ডি সি উত্তরণ, আই সি টি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্র সম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত দায়িত্ব বণ্টণে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদন রয়েছে।
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও আন্তঃসীমান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ মেটাতে বাংলাদেশের ওপর 'সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি' (এসএনএ) নামে নতুন একটি চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ০.০০৫ ভারতীয় রুপি (আধা পয়সা) গুণতে হবে, যা বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে।
গ্রিড পরিচালনা, সিডিউলিং, মিটারিং ও বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগের মতামত চাওয়া হয়েছে। শুরুতে ভারত প্রতি ইউনিটে ১ ভারতীয় পয়সা দাবি করলেও পরবর্তীতে বিপিডিবির দরকষাকষির ফলে তা আধা পয়সায় নির্ধারিত হয়। ভারতীয় আইন অনুযায়ী চুক্তিটি দ্রুত সই না হলে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নেপাল ও ভুটানকেও একই হারে এসএনএ চার্জ দিতে হয়।
ভারতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পূর্ণ সক্ষমতায় আমদানি করা হলে বাংলাদেশকে প্রতি ঘণ্টায় ৫ হাজার ৮০০ রুপি চার্জ দিতে হবে। ভারতীয় বিদ্যুৎ বিধিমালার (সিইআরসি) অধীনে আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি পৃথক ‘কন্ট্রোল এরিয়া’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যার দরুন মূল দামের বাইরে গ্রিড ব্যবহারের এই সমন্বয় ফি প্রযোজ্য হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে সর্বমোট ২,৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির সুব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে বিভিন্ন ভারতীয় কেন্দ্র থেকে আসা ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যই মূলত এই চুক্তি কার্যকর হবে।
অন্যদিকে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ড কেন্দ্র থেকে আসা ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মূল ক্রয় চুক্তিতে এই চার্জ আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকায় সেটির জন্য নতুন চুক্তির প্রয়োজন পড়ছে না।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে নিজের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
বঙ্গভবনের ২ নম্বর প্রধান ফটকে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল রাষ্ট্রপতিকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানায়। এরপর বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান তথা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।
অভ্যর্থনা পর্ব শেষে বঙ্গভবনের অক্টাগনালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম সপরিবারে রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
দাপ্তরিক কার্যক্রমের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল তাঁর নির্ধারিত অফিস কক্ষে বসে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে। গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং পরদিন ২১ আগস্ট বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেন। আজ দাপ্তরিক কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের পূর্ণ সক্রিয়তা প্রকাশ করলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা ও সততাকে প্রধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে তিনি নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। আজ রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব দিকনির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নৌ ও বিমান বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে যেভাবে সহায়তা করছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাহিনীর সকল স্তরের সদস্যদের এই ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল শহীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে নবস্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন এবং এর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়া তিনি এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করে ড্রোনের মাধ্যমে লাইভ ফিড এবং হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের মহড়া অবলোকন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং সেখানে নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটোলসহ বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন) প্রদর্শনী উপভোগ করেন। তিনি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়ন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা করেন যে, প্রযুক্তিগত এই আত্মনির্ভরতা বিমান বাহিনীর সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।
এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গঠিত ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
আজ রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এর উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
নির্বাচনী পর্ষদ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে এডমিরাল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। র্যাংক ব্যাজ পরিধান শেষে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
বিগত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সংঘটিত যাবতীয় দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।
ড. আবদুল মঈন খান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমার মূল লক্ষ্য হবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের কাছে সরকারি সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া।” একইসাথে তিনি এই মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি জনগণের সাথে কাজ করে বিধায় এর মাধ্যমে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। তিনি জনগণের ক্ষমতার উৎসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। ড. মঈন খান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সচ্ছল ব্যক্তিরা নিজেদের প্রয়োজনে পথ খুঁজে নিতে পারলেও দরিদ্র মানুষ সম্পূর্ণভাবে সরকারি সেবার ওপর নির্ভরশীল, তাই তাঁদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, সেই সময় এমনকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয় থেকে রায় লিখে দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ দেশপ্রেম ও সেবার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে একটি গুরুদায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করে ড. মঈন খান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দেশের বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়োগ করবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি মন্ত্রণালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।
নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, বিগত দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের হাত আক্ষরিক অর্থে বেঁধে রাখা হয়েছিল। দেশের তথাকথিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে গণমাধ্যমকে মুক্তভাবে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
আন্দালিব রহমান পার্থ জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।" তিনি মনে করেন, দেশের সাম্প্রতিক এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এই অবদানের স্বীকৃতি অবশ্যই থাকতে হবে।
বিগত সময়ে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "গত কয়েক বছরে দেশের সব বিভাগেই নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে।" তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই একযোগে কাজ করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে আন্দালিব রহমান পার্থ আরও বলেন, সরকারের যাবতীয় কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে একযোগে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার। তাঁকে আগামী এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে এই পদে অধিষ্ঠিত করা হলো। নিয়োগের প্রধান শর্ত হিসেবে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিদ্যমান সকল কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। তাঁর এই নিয়োগের মেয়াদ হবে দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, জনস্বার্থ বিবেচনা করেই এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তাঁর নিয়োগের আনুষঙ্গিক অন্যান্য শর্তাবলি সম্পাদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান এখন থেকে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রথমবারের মতো নিজের দাপ্তরিক কার্যালয় ‘বঙ্গভবনে’ গিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিনি রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এবং বেলা ১১টায় সেখানে পৌঁছান।
বঙ্গভবনে প্রবেশের পর রাষ্ট্রপতি গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানিয়ে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। এই আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হলো। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল শনিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে একই দিন দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। আজ থেকে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবকের দায়িত্ব পালনে তিনি পুরোপুরি সক্রিয় হলেন। এখন থেকে তাঁর যাবতীয় রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড এই ঐতিহাসিক ভবন থেকেই পরিচালিত হবে।
রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজের নতুন ঠিকানা ‘বঙ্গভবনে’ উঠেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে এসে পৌঁছান।
বঙ্গভবনের প্রধান তোরণ দিয়ে প্রবেশের পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সেখানে রাষ্ট্রপতি গার্ড রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় কায়দায় অভিবাদন বা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এখন থেকে তিনি দেশের এই সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীর দাপ্তরিক কাজ এবং সপরিবারে বসবাস বঙ্গভবনেই করবেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে বঙ্গভবনে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এক নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদীয় ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পান। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তাঁর সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
শনিবার এক বার্তায় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বলেছে, ‘রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতে কাজ করার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।’
গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। শুক্রবার তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদোন্নতির এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর শীর্ষ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ারের অধিকারী খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।
সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম ও ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর কাজের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। প্রায় ৪০ বছরের এই দীর্ঘ কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে কাজে যোগ দিয়েছেন। এদিন সকালে তিনি সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে অবস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সকাল ৮টা ২০ মিনিটে দপ্তরে উপস্থিত হওয়ার পর মন্ত্রী তাঁর নতুন কার্যদিবসের সূচনা করেন। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনেই তিনি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হন এবং উপস্থিত সকলের সাথে সৌজন্য বিনিময় করেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত থেকে মন্ত্রীকে বরণ করে নেন।