রোববার, ১ নভেম্বর ২০২৬
১৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিকের ১১ শিক্ষকের যোগদানপত্র গ্রহণের নির্দেশ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৯:৪৯

ভিন্ন এলাকা থেকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় বদলি হয়ে আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষকের যোগদানের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

১১ শিক্ষকের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদেশের পাশাপাশি রুলে বদলিকৃত ১১ জন শিক্ষকের যোগদানপত্র গ্রহণ না করায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় বদলিকৃত ১১ জন শিক্ষকের যোগদানপত্র গ্রহণ করার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মোট ছয়জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আবেদনের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, আবেদনকারী দেশের বিভিন্ন বিভাগ, সিটি করপোরেশন, জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এই ১১ জন ‘সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা (সংশোধিত) ২০২২” অনুযায়ী বদলির জন্য আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন অনুযায়ী গত মার্চে তাদের কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করে অফিস আদেশ জারি করেন এবং বদলি আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বদলিকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করার জন্য ছাড়পত্র দেন। পরে তাদের বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার জন্য কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে যোগদানপত্র দাখিল করিতে গেলে তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। অনেক চেষ্টা করেও তারা যোগদান করতে পারেননি। যার ফলে কোনো বিদ্যালয়ে কর্মরত না থাকায় রিটকারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত শুনানি নিয়ে এ আদেশ দিয়েছেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকায় চালু হলো সমন্বিত বাস রুট

আজ রবিবার পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। বর্তমানে পরিচালিত ৯৮টি বাস রুটকে কমিয়ে ৩২টি সমন্বিত রুটে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আজ রবিবার পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে অন্য সব পথও এই সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হবে।

প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, একই সড়কে একাধিক কোম্পানির গাড়ির মধ্যকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং বন্ধ করতে প্রতিটি রুটে একটি একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এতে সুনির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান জানান, যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, রাজপথের ধারণক্ষমতা ও যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য দূর করতেই ৯৮টি রুটকে ৩২টি রুটে রূপান্তরের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডিটিসিএর তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালে প্রথম বাস রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে নতুন উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৪২টি রুটের প্রস্তাব করা হয়। এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বর্তমানের ৩২টি রুট চূড়ান্ত করা হয়। এ লক্ষ্যে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে ৯৮টি রুটে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর ওঠানামা এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর গন্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজধানীর ৭২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনার পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে আধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত গণপরিবহন মডেল প্রস্তুত করা হয়।

ডিটিসিএর প্রাক্কলন বলছে, প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত হবে। যেহেতু নতুন রুটগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমান সড়কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, তাই বর্তমান পথ ও অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। বিমানবন্দর, মিরপুর-১০, কুড়িল, গাবতলী, মহাখালী, ফার্মগেট, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে কেন্দ্র করেই নেটওয়ার্কটি সাজানো হয়েছে।

প্রাথমিক ধাপে চালু হওয়া ছয়টি রুটের মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে কেরানীগঞ্জের চুলকুটিয়া, মোহাম্মদপুরের বসিলার ঘাটারচর থেকে শাহবাগ ও মৎস্য ভবন হয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে সায়েন্সল্যাব ও জিগাতলা হয়ে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড-কাঁচপুর ব্রিজ, ঘাটারচর থেকে মিরপুর-১০ হয়ে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ এবং টঙ্গী কলেজগেট থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত নির্ধারিত পথ।

এসব রুটে পরিস্থিতি বিবেচনায় ৭০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত নন-এসি বাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হবে। এর বাইরে ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুর এলাকা এবং উত্তরায় ২০টি করে বাস দিয়ে তিনটি চক্রাকার সার্ভিস চালুর রূপরেখা রাখা হয়েছে। কার্যক্রমে ঢাকা চাকা, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, ফোর স্টার বাস লাইন ও পিএনপি সিটি সার্ভিসসহ বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে এবং বাসগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশের যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে যুবসমাজের বিপুল সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তাদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি লাভ করে।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তাদের কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৮০ লাখেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি আয় করছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

জাতীয় যুব পুরস্কারকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নার-নারী ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন বর্তমান বিশ্বে যুবসমাজের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে যুবসমাজের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখছেন।

তিনি স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে আরও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তা দিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যাতে অর্থের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সে লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ ক্রমবর্ধমানভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তিনি জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


নির্বাচিত

বাড়ির ছাদে সোলার ইউনিট স্থাপনে মিলবে ‘গ্রিন হাউস’ স্বীকৃতি, বিশেষ কর ছাড়: বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সর্বস্তরে দ্রুত বাড়াতে চায় সরকার। তাই সাধারণ গ্রাহকদেরও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে—যেসব গ্রাহক তাদের বাসাবাড়ির ছাদে ‘রুফটপ সোলার’ বা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তাদের বাড়িকে ‘গ্রিন হাউস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে সরকার। পাশাপাশি তাদের বিশেষ করছাড়ের সুবিধাও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য নিউ এজ’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

‘গৃহস্থালি পর্যায়ে রুফটপ সোলার: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এই আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাসাবাড়িতে রুফটপ সোলার স্থাপনে সাধারণ গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে এই বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই কর সুবিধা ও আইনি সুরক্ষা সাধারণ জনগণকে নিজেদের বাসার ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে গভীরভাবে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরাও দেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।

সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব বাড়িতে রুফটপ সোলার বসানো হবে, সেগুলোকে সরকারিভাবে ‘গ্রিন হাউস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তাদের কর ছাড় দেওয়া হবে। সোলার প্যানেল স্থাপন সংক্রান্ত একটি বিল দ্রুতই সংসদে পাস করা হবে, যাতে সাধারণ গ্রাহকেরা সহজেই এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী আরও জানান, চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আনতে সরকার নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই রূপরেখার অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি—বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকে আরও ৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো এবং প্রণোদনা সাধারণ পরিবারের কাছে ছাদভিত্তিক সোলারকে অর্থনৈতিকভাবে আরও আকর্ষণীয় ও লাভজনক করে তুলবে। এটি একই সাথে সরকারের সার্বিক জ্বালানি খাতের উৎস বহুমুখীকরণের জাতীয় প্রয়াসকে জোরদার করবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া এবং আমদানিকৃত তেল, গ্যাস ও কয়র ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়াতে নানামুখী কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করছে।


নির্বাচিত

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাশিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি কেন্দ্রে প্রবেশ করে।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান।

এই চালানসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট পাঁচটি চালানে ইউরেনিয়াম পৌঁছাল। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটি চালান এসেছে।

এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছিল, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনা হবে। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ‘চালুকরণ সি-ধাপ’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বায়েয়ার চেয়ারম্যান এ কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।

সি-ধাপের আওতায় পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, বাষ্পীয় টারবাইন-জেনারেটর এবং পরিচালনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রকৌশলগতভাবে এ প্রক্রিয়াকে ‘সমন্বয়সাধন’ বলা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি নভেম্বর মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে অক্টোবরে সর্বোচ্চ মৃত্যু, পরিস্থিতির উন্নতি ডিসেম্বরের আগে নয়

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের মধ্যে অক্টোবরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নভেম্বরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ডিসেম্বরের আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৪১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি রোগী। শুধু অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৩ জন। এর আগে সেপ্টেম্বরে মৃত্যু হয়েছিল ১৪৮ জনের। ফলে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হয়ে উঠেছে অক্টোবর।

এদিকে ডেঙ্গুর পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। এ রোগে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুটি রোগের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে দেশের আগে থেকেই চাপের মুখে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও সংকটে পড়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক ডেঙ্গু রোগী গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমানে ২৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একদিনেই নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ জন। হাসপাতালের পরিচালক মির্জা গোলাম সারওয়ার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক রোগী শক বা মারাত্মক সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। কারও কারও রক্তচাপ এতটাই কমে যাচ্ছে যে তা মাপাও কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অক্সিজেনের মাত্রাও কমে যাচ্ছে।’

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় দেরি হওয়ার কারণে গুরুতর রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে আবার সংক্রমিত হলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’ এ কারণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৩৩ বছর বয়সি ঢাকার বাসিন্দা ফয়সাল ফেরদৌস ২০১৭ ও ২০২৪ সালের পর চলতি মাসেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, এবার তার পাশাপাশি স্ত্রীকেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে দুজনই বাসায় ফিরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

ফয়সাল বলেন, অন্য একটি রোগে আক্রান্ত পাঁচ বছর বয়সি ছেলের চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন হাসপাতালে থাকার পরপরই তিনি ও তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে তাদের উদ্বেগও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনই দেশে ছড়িয়ে পড়ায় গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য ধরনের ভাইরাসে সংক্রমিত হলে জটিলতার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে এখনো ডেঙ্গুর টিকা চালু হয়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে টিকা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

জলবায়ু পরিবর্তনে দীর্ঘ হচ্ছে ডেঙ্গুর মৌসুম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘অক্টোবরে যে হারে মৃত্যু বেড়েছে, সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বরজুড়েই ডেঙ্গুর সংক্রমণ চলতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কিছুটা স্বস্তি মিললেও নভেম্বরেই ডেঙ্গুর প্রকোপ শেষ হয়ে যাবে না। সংক্রমণ কমলেও সেই হ্রাস খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।’

কবিরুল বাশারের মতে, আগের বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া মশার প্রজননস্থল থেকে নতুন মশার জন্ম অব্যাহত থাকবে। ফলে আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করলেও সংক্রমণ চলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ধরন বদলে যাচ্ছে। এতে মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে এবং এডিস মশা আগের তুলনায় বেশি সময় সক্রিয় থাকছে।’


নির্বাচিত

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না, সরকার গঠনের পথ নির্বাচন: চীফ হুইপ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না। সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন।

তিনি বলেন, জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোটের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠন করবে।

আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চীফ হুইপ বলেন, “আন্দোলন করে কি সরকার হতে পারে? সরকার গঠনের পথ হলো নির্বাচন। যারা আন্দোলনের নামে অস্থির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাদের বুঝতে হবে, দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ সবার আগে।”

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমরা চাই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে জনগণ তার সুফল পাবে। আর সরকার ভালো কাজ করতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে। একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের আন্দোলন ও কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত তৈরি করলে তার সুযোগ নেবে অন্যরা। তিনি বলেন, “আমরা নিজেরা ঝগড়া করার পরেও পথ সুগম হবে কার? যারা আমাদের বিভক্ত দেখতে চায়, তাদের। দুই ভাই যখন ঝগড়া করে, তখন পাশের বাড়ির লোক সালিশ করতে আসে; কিন্তু সেই সুযোগে সে দুই ভাইয়ের সম্পত্তিই কিনতে চায়।”
চীফ হুইপ আরও বলেন, “দেশটা যদি ধ্বংস হয়, তাহলে আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে কী জবাব দেব? ৫৪ বছরে আমরা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছি। এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

জ্বালানি সংকট ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ এখনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে জিম্মি করতে চায়, দেশের ২০ কোটি মানুষকে জিম্মি করতে চায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চীফ হুইপ বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দক্ষ ও শিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “আপনারা দেশ গড়ার কারিগর। আপনাদের মেধা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। আপনাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।”

অনুষ্ঠানে আইডিইবির নেতৃবৃন্দ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

অবশেষে ডিবি হারুনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
    গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অপরাধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী তাঁর এ আচরণকে ‘পলায়ন’ হিসেবে সাব্যস্ত করে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর বিবেচনা করে ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের আদেশ বহাল হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করে নিখোঁজ থাকেন তিনি। স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও ই-মেইলে বারংবার তলব করা সত্ত্বেও তিনি কাজে ফেরেননি। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি বা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেননি।

পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুসারে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তদন্তের পর পুনরায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে নোটিশ জারি করা হলেও তিনি নীরব থাকেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্তের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে সাংবিধানিক সংস্থাটিও তাঁকে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করে। সার্বিক নথিপত্র মূল্যায়নের পর সরকার এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।

বিষয়:

নির্বাচিত

এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, সম্পূরক পরীক্ষায়ও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না কিংবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের বাদ দেওয়া হবে না। বরং তাদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও আগের ফলাফল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে যাতে কোনো ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা না থাকে, সে জন্য এবার প্রতিটি পরীক্ষককে কমসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফলাফল কমে যাওয়ার কারণ ও শিক্ষার ঘাটতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে। এটি কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতির কারণে হয়নি। বরং সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে।

অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন উপায়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কারচুপির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে অতীতে বড় ধরনের ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি একসময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান সরকার কঠোর হাতে এসব দমন করেছে।

ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে ফলের অবনতি ঠেকাতে ইতোমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

যেসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম বা পাসের হার শূন্য, সেগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভালো ফল করা পাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাতে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু বড় শহর নয়, গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করতে না পারে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দেশে পৌঁছাল রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৭ শ্রমিকের মরদেহ

বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো অবশিষ্ট সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে যাবতীয় দাপ্তরিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর কফিনগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তীতে শেষকৃত্য ও দাফনের উদ্দেশ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি নওগাঁ ও নাটোরে নিয়ে যাওয়া হবে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ওই ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তবে অবশিষ্ট সাতজনের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে ঝলসে যাওয়ায় শুরুতে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করার পরই তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানোর পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিষয়:

নির্বাচিত

বিগ-বি শুধু বাংলাদেশ-জাপানের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, তৃতীয় দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি

* প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে ফলপ্রসূ * জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের প্রস্তাব
ছবি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে। সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশের পাশাপাশি ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগে তৃতীয় কোনো দেশকে যুক্ত করা কিংবা বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘বিগ-বি’ সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের উদ্যোগ। এর সঙ্গে অন্য কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়নি।

বিগ-বিকে ‘শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির পর্যায়ে উন্নীত করার মধ্য দিয়ে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে নেপাল, ভুটান ও ভারতকে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। যৌথ বিবৃতিতেও তৃতীয় কোনো দেশের উল্লেখ নেই।

তিনি বলেন, যৌথ যোগাযোগ বিবৃতিতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তৃতীয় কোনো দেশ কিংবা বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কোনো আলোচনারও উল্লেখ নেই। বিগ-বি মূলত বাংলাদেশ ও জাপানের একান্ত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের উদ্যোগ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও বাড়ানোর বিষয়ে জাপানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতিকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মানবসম্পদ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন।

গত ২৬ অক্টোবর জাপানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে জাপানের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করতে পারে বলেও আলোচনা হয়েছে।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি ইয়েন-ঋণ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান সহায়তার চুক্তিও হয়েছে।

সরকারি পর্যায়ের চুক্তির পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও সহযোগিতার অগ্রগতি হয়েছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সফরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করা। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও আইসিটি অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নে কাজ করবে দুই দেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়ন, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং দুই দেশের ধারাবাহিক সহযোগিতার ওপর।


নির্বাচিত

ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপের দাবি দীপের, আশ্বস্ত নয় পিবিআই

* তাহসিফের মৃত্যুরহস্যে নতুন মোড়, মোটরসাইকেল উদ্ধার
ছবি: বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক ও টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। তার দাবি, ঘটনার রাতে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ইউনিফর্মধারী ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে দীপের এই বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এদিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে সংস্থাটি। সেটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এ সময় তিনি ঘটনার রাতের বিবরণ দেন। পিবিআই জানায়, ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নৌপুলিশের তদন্তের পাশাপাশি তারাও ছায়া তদন্ত করছে এবং নৌপুলিশকে সহযোগিতা করছে।

পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দীপের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি তাহসিফকে নিয়ে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দীপ কোনোমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে দীপ বলেন, দূর থেকে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করছিলেন। তখন তিনি ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে গিয়ে দাঁড়ান, যাতে ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তিরা তাকে দেখতে না পান। তাহসিফ দৌড়ে গেলেও তিনি দৌড়াননি; হেঁটে সেখান থেকে চলে আসেন বলে দাবি করেন।

তবে দীপের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তদন্তকারীদের। পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, দীপের বক্তব্যে তারা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। মামলার অন্যান্য দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। স্থানীয় চায়ের দোকানি জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখেছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সেটি নিয়ে যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। সংস্থাটির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েতুর রহমান মান্না জানান, পিবিআই উত্তর বিভাগের একটি দল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে তাকে হেফাজতে নেয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করা সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যেতে দেখা যায়। ওই যুবকই তার জুনিয়র বন্ধু দীপ বলে জানান স্বজনেরা। তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, ছেলের মা বারবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

পরদিন বুধবার বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীর পাড়ে বাঁধা একটি স্পিডবোটে আটকে ছিল তার মরদেহ।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্‌ঘাটনে দীপের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আলামত যাচাই করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পিবিআই।


নির্বাচিত

অনলাইনে সহিংসতার শিকার ৪৫ শতাংশ নারী, আইনের আশ্রয় নেন মাত্র ৪ শতাংশ

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ হার ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে ভুক্তভোগীদের মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পুলিশের সহায়তা নিয়েছেন। পুলিশের কাছে যাওয়া নারীদের ৮১ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের মামলায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে অথবা কোনো অগ্রগতিই হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বোঝা ও মোকাবিলা’ শীর্ষক গবেষণার তথ্য রাজধানীর মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণী ও শিক্ষার্থীরা অনলাইন সহিংসতার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন। হয়রানি, অর্থনৈতিক প্রতারণা, ছবি ও যৌন নির্যাতন, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা, সাইবার অনুসরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও এ সহিংসতার উল্লেখযোগ্য ধরন। ফেসবুক ও মেসেঞ্জার এ ধরনের সহিংসতার প্রধান মাধ্যম।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ৫৬ শতাংশ ভুক্তভোগী। এ ছাড়া ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী মনে করেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় সমাজে ভুক্তভোগীদেরই দোষারোপ করা হয়। ৬৭ শতাংশ নারী কখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ পাননি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি জানান, গবেষণাটির লক্ষ্য সহিংসতার কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংকট চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের করণীয় তুলে ধরা। গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহারজনিত সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান গবেষক সায়েমা চৌধুরী বলেন, ‘ডিজিটাল সচেতনতার অভাব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে না জানার কারণে নারীরা অর্থনৈতিক শোষণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’

উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম বলেন, ‘ভুয়া পরিচয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করা, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও দ্রুত তদন্তে পুলিশকে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন নারী অধিকার, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নভেম্বরে প্যাকেটজাত মসলা ও চা বিক্রি শুরু করবে টিসিবি

* ভর্তুকির নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্য * আগামী অর্থবছরে গ্রাহক এক কোটি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আটা ও আরও কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, আটা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে নতুন পণ্য যুক্ত করা হবে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পণ্যগুলো প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে সংস্থাও সামান্য মুনাফা অর্জন করছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক আয় বাড়িয়ে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়াই সংস্থাটির লক্ষ্য।

ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন দক্ষতার ওপর।

বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, নতুন পণ্য বিক্রি শুরুর পর গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চান তারা। নতুন পণ্য যুক্ত হলেও ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে বিক্রি হওয়া পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এসব পণ্য আগের দামেই বিক্রি অব্যাহত থাকবে।

নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম রাখা হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্য হলো, যাতে ভোক্তারা টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় পরিবারের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য কিনতে পারেন।

এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করছে টিসিবি। তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং এপিআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। এ ছাড়া পরিবহন ও পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থা চালু করেছে সংস্থাটি।

ফয়সল আজাদ বলেন, শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়, পাশাপাশি আয়ও বাড়াতে হবে। ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পণ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি জানান, চিনি ও অন্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে কেনে না টিসিবি। বাজার পরিস্থিতি ও সরকারের প্রয়োজন বিবেচনায় এসব পণ্য সংগ্রহ করা হয়।

তিনি বলেন, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টিসিবি পেঁয়াজ কিনেছিল। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের সংকট না থাকায় নতুন করে কেনার পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজন মনে করলে পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে।

টিসিবির প্রত্যাশা, নতুন পণ্য যুক্ত করা এবং গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে একদিকে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগোতে পারবে সংস্থাটি।


নির্বাচিত

banner close