ঢাকা জজকোর্ট এলাকায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের পদযাত্রা থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির ১৩ আইনজীবীকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. শওকত আলী চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ জামিন দেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং বিএনপির আইন সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ ১৩ জনকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন আদালত। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে এ আইনজীবীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র জয়নুল আবেদীন।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী কামরুল ইসলাম সজল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, মোহাম্মদ আলী, মাহবুবুর রহমান খান, দেওয়ান হুমায়ূন কবির রিপন, আল ফয়সাল সিদ্দিকী, মো. কাইয়ুম, মো. শাহাদাত হোসেন আদিল, রাসেল আহমেদ, মহিদুল ইসলাম শিপন ও আশরাফ জালাল খান মনন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের পদযাত্রা থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৬৬ আইনজীবীর বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় উপ-পরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত ১৩ জনকে জামিন দেন।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা জজকোর্ট এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী আইনজীবীদের পদযাত্রায় পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জে অন্তত ৫০ জন আইনজীবী আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির সঙ্গে বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জেলেদের কল্যাণ, মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ, সমুদ্রপথে মাদকপাচার প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, সংঘাত বা নাশকতাজনিত কারণে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে সমুদ্রের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে অন্যান্য দেশের আদলে মাছ ধরার নৌকায় রংভিত্তিক (কালার কোড) পরিচিতি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জেলেদের অবস্থান শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জিপিএস ট্র্যাকার সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, কোস্ট গার্ডের বহরে হেলিকপ্টার সংযোজন করা হলে সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি কোস্ট গার্ডকে আরও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকে সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে মাদকপাচার প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এ ছাড়া অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া সংবাদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মন্ত্রী জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী আরও জানান, এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ৮৬০টি সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক), বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩-৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ, সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্টচেক) বিষয়ক ১৪টি প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং এবং সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে। ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তবে প্রশ্নে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের কোনো বিশেষ সেল বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও মন্ত্রী তার উত্তরে কোনো কিছু উল্লেখ করেননি।
সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন গাড়ি কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণসহ বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাশ্রয়ী ব্যয়ের নীতি অনুসরণ করা হলেও পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় খুব বেশি কমানোর সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের গতিও ধীর। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার বড় বাজেট যথাযথভাবে বাস্তবায়নে আপাতত আগের মতো সরকারি ব্যয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে আগ্রহী নয়। তবে শেষ পর্যন্ত কৃচ্ছ্রসাধন নীতি জারি করা হলো।
পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ (অর্থনৈতিক কোড ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ও বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কেনা যাবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত মোটরযান ছাড়া অন্য সব নতুন বা প্রতিস্থাপন করা জিপ ও কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকচালিত যানবাহন হতে হবে।
পরিচালন বাজেটের আওতায় নতুন আবাসিক ভবন, অনাবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ভবন স্থাপনা-নির্মাণও বন্ধ থাকবে। তবে চলমান কোনো নির্মাণকাজের অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সেই কাজে ব্যয় করা যাবে।
এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায়ও মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা বন্ধ থাকবে। তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।
উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে। একইভাবে পরিকল্পনা কমিশনের অনুকূলে ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে সরকারি অর্থের সংরক্ষিত বরাদ্দও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে।
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সরকারের দেওয়া বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে।
এ ছাড়া বিদেশি সরকার, প্রতিষ্ঠান বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে আয়োজিত বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মৌলিক ও আবশ্যিক প্রশিক্ষণের বিদেশ অংশ উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা যাবে।
পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বপর্যায়ের পরিদর্শন এবং কারখানায় গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু জটিল প্রকৃতির পণ্য অথবা যেখানে এ ধরনের পরিদর্শন বাধ্যতামূলক, সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরিভাবে সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ও বহির্গামী যাত্রীদের সুবিধার্থে বিনামূল্যে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বুধবার (৮ জুলাই) বিমানবন্দরের ক্যানোপি এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সেবার উদ্বোধন করেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।
বেবিচক জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে এ শাটল সার্ভিস পরিচালিত হবে। বাসগুলো বিমানবন্দর–বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড, জসিমউদ্দিন মোড়–বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং কাওলা–বিমানবন্দর রুটে চলাচল করবে। যাত্রীরা এসব রুটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।
এ সেবা বিশেষভাবে প্রবীণ, নারী, শিশু, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের জন্য উপকারী হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় যানজট নিরসন, পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ‘দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে বেবিচক ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে এই বিনামূল্যের শাটল সার্ভিস, যা যাত্রীদের সময় সাশ্রয়, নিরাপদ চলাচল এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’
অনুষ্ঠানে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন অংশীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি, দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হওয়াকে দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ‘কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি)’ প্রাপ্তির জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ সমস্যার কারণে অনেকেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টির দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ মডেলের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে বাংলাদেশের শহরগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চতর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পাকিস্তানের সহায়তাও কামনা করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জানায়, মিয়ানমার যেন দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করছে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ সুবিধাজনক সময়ে সফর করার সম্মতি জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের নেতৃত্ব শক্তিশালী করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য শক্তিশালী স্থানীয় নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বিল্ডিং এ মডেল ফর এসডিজি লোকালাইজেশন : এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, আজ যেসব উদ্যোগ তরুণ নারীদের ক্ষমতায়িত করছে, তা আগামী দিনের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করছে।
ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন-এর সমন্বয়ে এবং নারীপক্ষের অংশীদারিত্বে যৌথ এসডিজি ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘এনহ্যান্সিং উইমেনস পলিটিক্যাল লিডারশিপ থ্রু এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬ লোকালাইজেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ কর্মসূচির অধীনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বাস্তবায়িত এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলের অভিজ্ঞতা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি তরুণ নারী নেত্রী, শিক্ষার্থী, পরামর্শক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা লিঙ্গ সমতা বিষয়ক এসডিজি ৫ এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বিষয়ক এসডিজি ১৬-এর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জাতীয় অঙ্গীকারগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, এসডিজির স্থানীয়করণ জাতীয় অগ্রাধিকারকে কমিউনিটি পর্যায়ের কার্যক্রমে প্রতিফলিত করতে সহায়তা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নারীর নেতৃত্বে বিনিয়োগ জরুরি।
কর্মশালায় এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলটি উপস্থাপন করেন নারীপক্ষের নির্বাহী সদস্য মাহীন সুলতান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেল ওয়াহাব সাইদানি, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং হলিক্রস গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা।
‘কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে’ তা নিশ্চিত করতে কর্মশালায় যৌথ অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমাধানের মাধ্যমে এসডিজি স্থানীয়করণকে এগিয়ে নিতে ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন, নারীপক্ষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
দেশের সামগ্রিক অভিবাসন ও পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে প্রস্তাবিত নতুন ভিসানীতির খসড়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিমার্জন ও চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার।
অর্থমন্ত্রীকে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক করে গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটি ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর খসড়াটি চূড়ান্তভাবে সংশোধন করার পর তা আগামী মাসের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
ভিসানীতি পরিমার্জনের লক্ষ্যে বিশেষ এই কমিটি গঠন করে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
বিশেষ এই প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই বিশেষ কমিটির অন্যান্য প্রভাবশালী সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই ৮ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর খসড়াটি পরিমার্জনের কাজ সম্পন্ন করবে। এর বাইরে কাজের সুবিধার্থে এবং প্রয়োজন মনে করলে কমিটি নিজেদের ক্ষমতাবলে যেকোনো নতুন উপযুক্ত সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত বা কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটির গুরুত্ব অনুযায়ী যেকোনো সময়ে এর বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে এবং সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাচিবিক ও দাপ্তরিক সহায়তা প্রদান করবে।
এই নীতি বাস্তবায়নের সময়সীমা উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নবগঠিত কমিটির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও পরিমার্জনের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই সংশোধিত ভিসা পলিসির চূড়ান্ত খসড়াটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী মাসের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে দাপ্তরিক অনুমোদনের জন্য পেশ করবে।
এর আগে গত ২ জুলাই সরকারের নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রথমবারের মতো ‘ভিসা পলিসি-২০২৬’-এর প্রাথমিক খসড়াটি আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেই বৈঠকে পলিসিটির বিভিন্ন ধারা-উপধারা আরও সময়োপযোগী ও পরিমার্জন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায়, এই বিশেষ রিভিউ কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও তা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার বুকেই ইউরোপের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের ভিসা সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালসহ ইউরোপের যেসব উন্নত দেশে বর্তমানে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী পাঠানোর ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অথচ বাংলাদেশে সেই সমস্ত দেশের নিজস্ব কোনো স্থায়ী ভিসা সেন্টার নেই; সেই দেশগুলোর ভিসা সেন্টার যেন দ্রুত ঢাকায় স্থাপন করা যায়, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এই উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা তৃতীয় দেশের ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বাজারে কর্মী পাঠানো অনেক বেশি সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার বিকল্প ও নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এই লক্ষ্যে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, থাইল্যান্ডের বাজারে কর্মী নিয়োগ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া ইতোমধ্যে দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রথাগত দেশগুলোতে বিভিন্ন সময়ে বন্ধ বা সংকুচিত হয়ে পড়া শ্রমবাজারগুলো পুনরায় পুরোপুরি চালু করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি নতুন করে উন্মুক্ত করার বিষয়েও দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই লক্ষ্যসমূহ অর্জনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় বাজারের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অতি দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চলতি বছরের ৫ ও ২৪ মার্চ এবং ৫ এপ্রিল ধারাবাহিক কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় সচল করা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় স্বল্পমেয়াদি মৌসুমি কর্মী পাঠাতে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানের বাজারে কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ 'জাপান সেল' গঠন করা হয়েছে। জাপানিজ ভাষা ও কারিগরি দক্ষতার মান বাড়াতে এই সেলের অধীনে জাপানে কর্মী প্রেরণকারী ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টিরও বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারকে (টিটিসি) একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তারা এই আয়োজনকে একটি বর্ণাঢ্য মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর অধীনে দুটি নতুন ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। একই সঙ্গে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং একটি বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করবেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তাঁর সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে ঢামেক ক্যাম্পাসে এখন সাজ সাজ রব। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে হাসপাতালের বিদ্যমান বিভিন্ন সংকট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তারা মনে করেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় এই চিকিৎসালয় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জাতীয় সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ–অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের অবদান অবিস্মরণীয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
অন্যদিকে, ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ডা. বেলাল হোসেন নাজিম মনে করেন, আধুনিক ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপে দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তার প্রতিফলন এই সফরে দেখা যাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের (ঢামেকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান নোমান বলেন, “আগামী ১১ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ানদের জন্য গৌরব, আবেগ ও নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসবে। এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি। বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ওই সফরের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সমাজকে সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ আগ্রহী। এছাড়া দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতির পর এ বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়াকে তিনি দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনযোগাযোগের নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির “কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড” (সিএনআইসি) পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন, যার ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে তিনি পাকিস্তানের মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রধান শহরে বাস্তবায়িত “সেফ সিটি” উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশটির এই আধুনিক প্রযুক্তির সফল অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শহরগুলোকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য হতে পারে। এ বিষয়ে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যেভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের নিবিড় পরামর্শ ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে ফিরিয়ে নেয়, সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো ও ধারাবাহিক সমর্থন প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এই বৈঠকে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি সুবিধাজনক সময়ে সফরের আশ্বাস দেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অনাগত দিনে অধিকতর নিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সংস্কার সংক্রান্ত এক সংলাপে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এক না হলেও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটকেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি সাজানো হচ্ছে।’
ইসি সানাউল্লাহ জানান, বর্তমান কমিশন নির্বাচন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আইন সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি চলছে। ইসির দক্ষতা এবং পর্যবেক্ষকদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো ভালোভাবে আমলে নিলে সামনের দিনগুলোতে ভালো কিছু সম্ভব।’ পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সুপারিশসমূহ গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার মূল্যায়ন ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।’ কমিশন বর্তমানে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের পৃথক আইনি কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা করছে এবং ইতোমধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনার কাজও শেষ করেছে বলে জানান তিনি।
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে ইউরোপীয় জোটের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বিশেষ করে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে নির্বাচন কমিশনের সাথে যৌথভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধও করার দেশের বর্তমান নিট রিজার্ভ ২৭ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট (গ্রস) রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় আট হাজার ৫৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হিসাবে)। রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান এবং প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার মধ্যেই মালয়েশিয়ায় নতুন করে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার সুখবর পাওয়া গেল। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে দ্রুত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার আশা জেগেছে বাংলাদেশিদের মনে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের পর বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বিনা খরচে কর্মী পাঠানো শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসে।
আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দুই দফায় উদ্যোগ নিয়েও সংকটের সমাধান করতে পারেনি। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে ১৩ মে তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধিদল দেশটি সফরে গেছে। সেখানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম চি কেওয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। তবে এ সফরের পরও কোনো সুফল আসেনি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এপ্রিলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। সফর শেষে তিনি ঘোষণা করেন, দ্রুতই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার।
জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে বন্ধ আছে বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, বনায়ন, পরিষেবাসহ বিভিন্ন খাতে ৮ থেকে ১০ লাখ বাংলাদেশি এখনো কাজ করছেন মালয়েশিয়ায়। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট পাঁচবার বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শ্রমবাজার। এর পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট, অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, দুর্নীতি, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও শ্রম অধিকারের অবনতিসহ পরস্পর সম্পর্কিত কারণ।
১৯৭৮ সালে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিংয়ের মাধ্যমে ২৩ জনকে পাঠিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী রপ্তানি শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর ১৯৮৬ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ জন শ্রমিক পাঠানো হয় দেশটিতে। দুই দেশের সরকারের মধ্যে শ্রমিক অভিবাসনবিষয়ক প্রথম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯২ সালে। কিন্তু তারপরও ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত শ্রমবাজারটি প্রায় বন্ধ ছিল।
তবে এবার মালয়েশিয়া নয়, বাংলাদেশই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। তাই সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি এড়াতে সরকার ও এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালে শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। পরে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া আবারও বন্ধ করে মালয়েশিয়া।
এরপর আবার ২০২২ সালের আগস্ট থেকে আবার কর্মী যাওয়া শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুন আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন শর্ত শিথিল নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে।
এদিকে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছেন। বাকি কর্মীদের বিষয়েও দ্রুত পৃথক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২১ জুন দুদিনের সরকারি সফরে তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরেও দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দুই দেশের সরকারের আলোচনার মাধ্যমে আইনি জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে শ্রমবাজার আবারও চালুর ঘোষণা এলো।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত—শুধু শ্রমবাজার উন্মুক্ত করলেই হবে না, একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসনের পরিবেশই তৈরি করতে না পারলে, রক্ষিত হবে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার।
শ্রমবাজার বিষয়ক বিশ্লেষকরা জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে আবারও জনশক্তি রপ্তানিতে ধাক্কা আসতে পারে।
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে। জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা প্রশংসিত। তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধীন অষ্টম বীরের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ এলাকা পায়ে হেঁটে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি ‘ফার্ম বেস-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা (ভার্বাল অর্ডার) শোনেন এবং সেনাসদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন। তিনি সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।
একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার গ্রহণ করেন এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।