শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৫ বৈশাখ ১৪৩৩

পাইলট আল হিন্দির মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চেয়ে রিট

পাইলট ক্যাপ্টেন ইউসুফ হাসান আল হিন্দি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২০:৩০

ঢাকায় গালফ এয়ারের পাইলট ক্যাপ্টেন ইউসুফ হাসান আল হিন্দির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা পালনে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আল হিন্দির বোন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তালা এলহেন্ডিসহ দুইজন এ রিট দায়ের করেন।

রিটের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ঢাকায় গালফ এয়ারের পাইলট ক্যাপ্টেন ইউসুফ হাসান আল হিন্দির মৃত্যুর ঘটনায় ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) গত জুন মাসে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ দিনেও সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় আমরা তাদের নোটিশ পাঠাই। কিন্তু তারপরও কোনো কাজ না হওয়ায় আমরা আবার রিট দায়ের করি।

রিটে উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেই মর্মে রুল জারির আবেদন করেছি। একই সঙ্গে নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্দেশনা চেয়েছি।

রিটে বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, গালফ এয়ার, গালফ এয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজার, স্টেশন ম্যানেজারসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটটি আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারীদের আইনজীবী।

গালফ এয়ারের বিদেশি পাইলট ক্যাপ্টেন মোহান্নাদ ইউসুফ আল হিন্দি ফ্লাইট নিয়ে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন। আসার পরদিন ভোরে অসুস্থ হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেখানে মারা যান।

ভুল চিকিৎসায় ও অবহেলার অভিযোগ তুলে গত ১৪ মার্চ ঢাকা মহানগর ২১ নম্বর আদালতে ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেন প্রয়াত পাইলটের বোন তালা এলহেন্ডি।

পরে তারা জুন মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে গত ১৯ জুন বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৫ দিনের মধ্যে রিটকারীদের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

এ আদেশের পর দীর্ঘদিন অপেক্ষায় রেখে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না জানিয়ে আবেদনটি ফেরত দিয়ে দেয় বেবিচক।

বিষয়:

হামের টিকা না দেওয়া বিগত দুই সরকারের ক্ষমাহীন অপরাধ: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত দুটি সরকার যথাসময়ে শিশুদের হামের টিকা না দিয়ে ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে শিশুদেরকে হামের টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত ইমিডিয়েট দুটি সরকারের জীবনবিনাশী ব্যর্থতা মনে হয় ক্ষমাহীন অপরাধ। ভবিষ্যতে আর কখনোই যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। বর্তমান সরকার সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ায় আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির অবনতি কিছুটা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আমি সকল চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন সেই সকল পিতামাতা এবং স্বজনদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যদিও কাজটি এক মাস বা এক বছরে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবুও সরকার ধাপে ধাপে এটি অর্জনের পথে রয়েছে।’

বর্তমান সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে আগে আমরা জনগণের কাছে স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছিলাম। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, ‘‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’’ বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা যদি রোগের শুরুতেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে রোগের বিস্তার মোকাবিলা সম্ভব। আমাদের এই নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ যেমন শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, হৃদরোগ ইত্যাদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে উপজেলা পর্যায়েই গুরুত্বসহকারে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং নিয়মিত করা প্রয়োজন। জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করার ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরী জরুরি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে ইউ-এইচ-এফ-পি-ও অর্থাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।’ তিনি বলেন, একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। কারণ, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং সমউন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্য সেবায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে যে কোনো নাগরিক প্রয়োজনে দেশের যে কোনো হাসপাতালে সহজেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যাতে কোনো নাগরিক চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’

চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা রক্ষায় সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং জীবন মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কেও সরকার ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারেও সরকার সাধ্যমতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধ পরিকর।’

সবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, সেটি হলো প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। আপনাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন, আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশা।’


হজের খরচ আরো কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ আরো কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এই আশ্বাস দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে রাত ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তদারকি ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ সময় তার সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিমানবন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। তারপরও দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি এবং অন্তত ১২ হাজার টাকা খরচ কমানোর ব্যবস্থা করেছি। আগামী বছর যাতে আরো কম খরচে আপনাদের হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি, সেজন্য আপনারা দোয়া করবেন।’

হজযাত্রীদের নিরাপদ সফর কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদের তৌফিক দেন, যাতে সামনের সব সমস্যা ও বিপদ মোকাবেলা করতে পারি। সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেই প্রার্থনা করবেন।’

এরপর বিমানেই হজযাত্রীদের নিয়ে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ হয়ে নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।


এবারও হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি পেল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে নোঙর তুলেছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। তবে যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনী জাহাজটি পারস্য উপসাগরে ফেরত যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা পেয়ে আবারও পারস্য উপসাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি।

জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছিলাম।

তবে ইরানের বাহিনী জাহাজটি হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। জাহাজটি ফেরত নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা আগের জায়গায় অর্থাৎ পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছি।

রাতে এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগর থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। রাত তিনটা নাগাদ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একের পর এক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে। শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে রাত পৌনে ১টায় মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে।

বিএসসির এই জাহাজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসি। তবে সেবার অনুমতি না পেয়ে হরমুজ পার হওয়া যায়নি।

অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে। এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি চেয়ে পায়নি জাহাজটি। এর পর থেকেই হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল জাহাজটি। তৃতীয় দফায় শুক্রবার হরমুজ পার হতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফেরত যাচ্ছে জাহাজটি।


সরকারের ২ মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে বিকাল সাড়ে ৩টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

* দক্ষিণ এশিয়া নতুন করে পড়বে দারিদ্র্যের কবলে * বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রেমিট্যান্স আয়ে * ফ্লাইট বাতিলে ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি পণ্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মানব উন্নয়ন অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দরিদ্র মানুষের আয়ের পথ প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। নতুন করে শ্রম অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যারা কর্মরত আছেন, তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশসহ এশিয়ার মানুষের জীবনযাত্রায় এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সংকট যত দীর্ঘ হবে, দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের সাফল্য ততই ম্লান হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ইউএনডিপি প্রকাশ করেছে।

ইরান যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংকট চলছে, তার ওপর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩৬টি দেশের ওপর করা একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এ সতর্কতা জানিয়েছে।

ইউএনডিপি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বা সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়া এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এটি কেবল একটি অর্থনৈতিক ধাক্কা নয়, বরং এই অঞ্চলের গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি রক্ষার এক বড় পরীক্ষা।

বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব : ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় উত্তেজনার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট বাতিল করায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের আকাশপথের কার্গো পণ্যের অর্ধেকেরও বেশি সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের ‘হাব’গুলো হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়, যা এখন হুমকির মুখে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স আয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের সাড়ে ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সরাসরি রেমিট্যান্স কমিয়ে দেবে এবং অভিবাসী পরিবারে খাদ্য অনিরাপত্তা বাড়িয়ে তুলবে। নতুন করে শ্রম অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যারা কর্মরত আছেন, তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অবস্থা মোকাবিলায় অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার স্কুলগুলোর জন্য বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজের সময় কমিয়ে আনার মতো নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ২১,৪৬৭

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি দুজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪৬৭ জনে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১১৫ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় ১২৭ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যা মিলিয়ে গত এক মাসে মোট নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জনে।

হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৮৯৮ জন রোগী সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৪৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের ফলে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।


১৬ বছরে সময় টেলিভিশন: সঠিক তথ্য উপস্থাপন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রত্যাশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদে গতি, নির্ভুলতা আর বস্তুনিষ্ঠতায় ১৫ বছরের এক গৌরবময় যাত্রা শেষ করে ১৬ বছরে পদার্পণ করল সময় টেলিভিশন। যা দেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতেও সময় টেলিভিশন দর্শকের আস্থায় অটুট থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আগত অতিথিরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে মুখরিত ছিল সময় টেলিভিশনের প্রাঙ্গণ। দুপুর থেকেই বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে উপস্থিত হন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি, জাতীয় সংসদের সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী), ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটা হয়।

বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতেও সময় টেলিভিশন দর্শকের আস্থায় অটুট থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অতিথিরা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে বিগত ১৫ বছরে সমস্ত ধরনের গৌরব ও তরৎপরতা অতিক্রম করে আজ ১৬ বছরের পদার্পণ করেছে সময় টিভি। এটি অত্যন্ত আনন্দঘন একটি মুহূর্ত।’

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সার্বভৌমত্বকে ঠিক রাখার জন্য যে কার্যক্রম প্রয়োজন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই সময় টেলিভিশন সেই কাজটি করবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সময় টিভি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।’

ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ‘১৫ বছর পেরিয়ে ১৬ বছরে পা দিয়েছে সময় টিভি। সবাইকে শুভ জন্মদিন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘রাষ্ট্র এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি দায়িত্বশীল এবং স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত জরুরি। আশা করি সময় টেলিভিশনও একই পথে হাঁটবে।’

দর্শকদের প্রত্যাশা কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে জনগণের কথা বলবে সময় টেলিভিশন। পাশাপাশি অপতথ্য রুখে দিয়ে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরবে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তারুণ্যনির্ভর টিমের সমন্বয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় আরও জোর দিয়ে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে দেশের একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী এই টেলিভিশন। এমন প্রত্যাশা দর্শক, কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীদের।


“একবছর আগে যার রিকশা ভাড়া ছিল না, পরের বছর দেখা যায় ঢাকাতে ফ্ল্যাট কিনছে”

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

“একবছর আগে যার রিকশা ভাড়া ছিল না, পরের বছর দেখা যায় ঢাকাতে ফ্ল্যাট কিনছে”—রাজনীতিতে অর্থের অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

‎শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎স্পিকার বলেন, “রাজনীতি করতে গেলে অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পদ বা সুযোগ পেলেই কেউ কেউ চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কিংবা পদ বিক্রি করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে “অকল্পনীয় লুটপাট” হয়েছে এবং এর ফলে বিদেশে বাংলাদেশ “লুটেরা জাতি” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

‎তিনি আরও বলেন, “একেকজন মন্ত্রীর ৩০০-৪০০টি বাড়ি বিদেশে—লন্ডন, আমেরিকা, দুবাইয়ে। সীমাহীন লুটপাটের পর আল্লাহর গজব তাদের ওপর নেমে এসেছে।”

‎২০১৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলে তিনি নিজেই গৃহবন্দী ছিলেন। “৬ বারের এমপি হয়েও নির্বাচনের দিন ঘর থেকে বের হতে পারিনি,” বলেন তিনি।

‎স্পিকার ছাত্রসমাজ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই “মাফিয়া সরকার” বিদায় হয়েছে এবং উন্নয়নের পথ সুগম হয়েছে।

‎রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দলবাজি বন্ধ করুন। মতাদর্শের কারণে কাউকে হয়রানি করবেন না।”

‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তিনি বলেন, “তারা ভদ্রলোকের দল, সংসদে ভালো আচরণ করে।” একইসঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতকে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।

‎তিনি সতর্ক করে বলেন, “ঐক্য ভেঙে গেলে আবার বিদেশি প্রভাব ফিরে আসতে পারে এবং লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম হতে পারে।”

‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু।


সরকারের দুই মাস পূর্তি, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও মুখপাত্র সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। ধারণা করা হচ্ছে, এই সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের প্রশাসনিক কার্যক্রম, অর্জিত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

একইসঙ্গে দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছে ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের করা আবেদনটি ভারত বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং ভারত সরকার আইনগত ও কূটনৈতিক—উভয় দিক বিবেচনা করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই আবেদনটি পরীক্ষা করছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সকল দিক খতিয়ে দেখার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলেও দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষই বাণিজ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।


আমরা হজযাত্রীদের খাদেম, তাদের সেবা করা আমাদের দায়িত্ব: ধর্মমন্ত্রী

আপডেটেড ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, আমরা হজযাত্রীদের খাদেম। তাদের সেবা না করতে পারলে আমাদের পদত্যাগ করা উচিত। হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পবিত্র এই সফরে যেতে পারেন সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি হজযাত্রীদের সেবায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।

আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।

এবারের প্রথম ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪১৯ যাত্রী নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলছে শেষ প্রস্তুতি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, আজ মোট ১৪টি ফ্লাইট যাবে।

এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬টি, তিনটি সাউদিয়া ও তিনটি ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস। ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী এ বছর হজ পালনে যাবেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে যাবেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। এরই মধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছে ১৭১ জনের মেডিক্যাল টিম।


বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায়, ট্রল করে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেসবুকে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ‘বট বাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি তার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায় এবং ট্রল করে। এমনকি আমি নাকি পরীক্ষার দিন পরীক্ষার রুটিন দেব—এমন হাস্যকর অপপ্রচারও তারা চালাচ্ছে।’

আজ শুক্রবার দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নবীনবরণ (ওরিয়েন্টেশন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার রুটিন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘নকল বন্ধে পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত, কোন বিষয়ে পরীক্ষা জানা যাবে পরীক্ষার হলে’-মর্মে একটি অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন পোর্টালগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি গুজব।

‘ফেল করলেই এমপিও বাতিল’—এমন গুজবও ফেসবুকে বট বাহিনী ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এবার কোনো প্রতিষ্ঠানে জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না। কিন্তু বট বাহিনী লিখে দিল এবার ফেল করলেই এমপিও বাতিল। এখন দেখা যাচ্ছে দেশ ফেসবুকেই চলে।


চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল যে তাকে এভাবে আটক রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি যথাযথ জায়গায় আজ-কালের মধ্যেই কথা বলব এবং তার দ্রুত মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘মহানগর পরিবার দিবস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, সমতলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, উপজাতি, জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ নানা সম্প্রদায় রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে দেশে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।

রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক হলেও এসব বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এটাই সরকারের নীতি এবং সেই নীতিতেই আমরা কাজ করছি।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পালসহ অনেকে।


banner close