মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩

১২ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ

ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:৪৪

আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটি এই বৈঠকে বুধবার এ ঘোষণা দেয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বুধবার ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিষয়:

প্রত্যাবাসন শূন্য, বাড়ছে নতুন অনুপ্রবেশ

* ক্যাম্পে জন্ম নিচ্ছে নতুন প্রজন্ম * বাড়ছে সংঘাত, অপরাধের ঝুঁকি * বৈঠক হয়, প্রতিশ্রুতি আসে রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরায় না কেউ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)

৮৬ বছরের বৃদ্ধ মাস্টার আব্দুল জব্বার। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর টুডেং জব্বরপাড়া গ্রামের এই প্রবীণ শিক্ষক জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন মানুষ গড়ার কাজে। কিন্তু জান্তা বাহিনীর নিপীড়ন ও পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তাহীন হয়ে ২০০৪ সালে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা জব্বারের শেষ ঠিকানা এখন টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি ঝুপড়ি ঘর।

বছরের পর বছর প্রত্যাবাসনের আশ্বাস শুনেও একজন রোহিঙ্গাকেও নিজ দেশে ফিরতে না দেখে তার প্রশ্ন, ‘আমাদের নিয়ে কি বিশ্ব নাটক ও ব্যবসা চলছে?’

সোমবার (২৪ আগস্ট) উখিয়া-টেকনাফের কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে কথা হয় মিয়ানমারের চারজন বর্ষীয়ান শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার রোহিঙ্গার সঙ্গে। দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে আসে নিপীড়ন, নাগরিকত্ব হারানো, দেশত্যাগ, প্রত্যাবাসনের ব্যর্থতা এবং নিজ জন্মভূমিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষার করুণ ইতিহাস।

নয় বছরেও ফেরার পথ খোলেনি: ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান ও নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এরপর কেটে গেছে প্রায় নয় বছর। আন্তর্জাতিক তৎপরতা, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, চীনের উদ্যোগ এবং জাতিসংঘের নানা প্রচেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথম দফায় রোহিঙ্গাদের একটি দলকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। ২০১৯ সালের আগস্টে চীনের উদ্যোগেও প্রত্যাবাসনের চেষ্টা হয়। সেবারও রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে রাজি হননি।

২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু তালিকা যাচাই, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও অধিকারসহ নানা প্রশ্নে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আটকে থাকে।

নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার পরই বিপদ শুরু: লেদা ক্যাম্পের প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমরা অং সানের শাসনামল পর্যন্ত ভালো ছিলাম। এরপর নে উইনের সময় আমাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। আমাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র ছিল। পরে তা কেড়ে নিয়ে সাদা রঙের এক ধরনের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। সেখানে আমাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আমি সেই পরিচয়পত্র জমা দিইনি। এ কারণেই আমাকে চলে আসতে হয়েছে।’

তার জীবনে শিক্ষকতার গৌরবের পাশাপাশি রয়েছে পরিবারের সদস্য হারানো, নাগরিকত্ব হারানো এবং মাতৃভূমি ছাড়ার বেদনা। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে বসবাস করেও তার একমাত্র প্রত্যাশা—নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজের গ্রামে ফিরে যাওয়া।

নতুন করে আসছে রোহিঙ্গা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে একদিকে পুরোনো শরণার্থী সংকটের সমাধান হচ্ছে না, অন্যদিকে নতুন করে চাপ বাড়ছে বাংলাদেশের ওপর।

সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘মগবাগি আরাকান আর্মি আমার চাচাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করছে। তাদের নির্যাতনের কারণে আমি এক মাস আগে বাংলাদেশে চলে আসি। এখন দুই ভাইবোনের জন্য চিন্তায় আছি।’

২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত নতুন করে আসা ও নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ২৯ জন। বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর তাদের আঙুলের ছাপ নিয়েছে। নতুনদেরসহ ক্যাম্পগুলোতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৪১১ জন। এর বাইরে আরও ২৫ থেকে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।

প্রতি বছর ক্যাম্পগুলোতে জন্ম নিচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার শিশু। ফলে প্রত্যাবাসন ঝুলে থাকায় ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে এমন একটি প্রজন্ম, যারা নিজেদের জন্মভূমি মিয়ানমার কখনো দেখেনি।

‘আমরা যেন ভূরাজনীতির দাবার ঘুঁটি’: উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা সৈয়দ আলম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বছরের পর বছর কথা হচ্ছে। বিশ্ব আমাদের নিয়ে আলোচনা করে, বৈঠক করে; কিন্তু ঘরে ফেরার পথ খুলে দেয় না। আমরা আর কোনো রাজনীতি চাই না, আমরা শুধু নিজের দেশে নিরাপদে ফিরতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেন ভূরাজনীতির দাবার ঘুঁটি। এক দেশ আরেক দেশের দিকে তাকিয়ে থাকে, আর আমাদের জীবন পড়ে থাকে ক্যাম্পে। আমাদের সন্তানরা এখানে জন্ম নিচ্ছে, বড় হচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।’

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিক্ষক মাস্টার আয়ুব বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের কথা শুনতে শুনতে আমাদের বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে কথার শেষ নেই, কিন্তু বাস্তবে অগ্রগতি খুবই কম। আমাদের জীবন নিয়ে যেন ফুটবল খেলা হচ্ছে—এক পক্ষ থেকে আরেক পক্ষের কাছে বল যাচ্ছে, কিন্তু সেই বলের জায়গায় যে মানুষের জীবন, সেটি কেউ ভাবছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে চাই না। মিয়ানমারে আমাদের বাড়িঘর, জমি ও পরিচয় ছিল। আমরা নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে সেই অধিকার ফিরে পেতে চাই। প্রত্যাবাসন যদি সত্যিই করতে হয়, তাহলে কথার রাজনীতি বন্ধ করে বাস্তব ব্যবস্থা নিতে হবে। আর কত বছর আমরা আশ্রয়শিবিরে অপেক্ষা করব?’

রাখাইনে ফেরার মতো পরিবেশ নেই: ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এখন গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাখাইনের বড় একটি অংশে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রত্যাবাসনের জটিলতা আরও বেড়েছে।

রোহিঙ্গা আবু তৈয়ব বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে আসার পর অনেক আত্মীয়-স্বজন গ্রামে ছিলেন। কিন্তু এখন আরাকান আর্মির দখলে যাওয়ার পর গ্রামটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই। সেখানে একজন রোহিঙ্গাও নেই। অনেকেই নতুন করে পালিয়ে এসেছেন, আবার অনেকে পালানোর চেষ্টা করছেন।’

তার প্রশ্ন, ফেরার মতো গ্রামই যদি না থাকে, তাহলে আমরা কোথায় ফিরব? রোহিঙ্গারা থাকবে, প্রত্যাবাসনের বাস্তব সম্ভাবনা দেখছি না।’

রোহিঙ্গা গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে এখন রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। সেখানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিতে চাইলে তাদের কোথায় রাখবে এবং কী মর্যাদায় নেবে—এসব বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধরে নিলাম মিয়ানমার সরকার তিন লাখ রোহিঙ্গাকে নেবে। কিন্তু বাকিদের কী হবে? তাদের ভবিষ্যৎ কী -এ প্রশ্নেরও কোনো উত্তর নেই।’

আলতাফ পারভেজের মতে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে মিয়ানমারের মৌলিক নীতিগত অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, ‘নয় বছর পরও মিয়ানমার সীমিতসংখ্যক রোহিঙ্গাকে ‘‘ফেরত যাওয়ার যোগ্য’’ হিসেবে বিবেচনা করছে, বাকিদের নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এভাবে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

তার ভাষায়, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে থাকবে, আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থ আসবে, তারা খাবে এবং শেষ পর্যন্ত থেকে যাবে। এখন পর্যন্ত আমি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বাস্তব কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার প্যানেল সদস্য খিন বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারে ফিরতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ২০ মিনিটও এখানে থাকতে চাই না—এমন মানসিকতা রয়েছে। মিয়ানমারের সদিচ্ছার অভাবে আমাদের ফেরত যাওয়া আটকে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও ব্যর্থতা আছে। রোহিঙ্গারা কীভাবে ফিরবে, তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কেউ তৈরি করেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে আমরা ফিরব।’

ক্যাম্পে বাড়ছে সংঘাত, অপরাধের ঝুঁকি: দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি কক্সবাজারের পরিবেশ, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় দেড় বছর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি থাকলেও সম্প্রতি পুরোনো দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘাত বেড়েছে।

বিশেষ করে ক্যাম্প-২, ৬, ৭, ৮ ইস্ট, ১৪ ও ১৫ নম্বর ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, মাদক ও অস্ত্র কারবার, চোরাচালান, মানবপাচার ও অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

টেকনাফের রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল বলেন, ‘প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের অস্তিত্ব, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জীবন-জীবিকা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।’

নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোথায়: ২০১৭ সালে যারা শিশু ছিল, তারা এখন তরুণ। আবার ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া হাজারো শিশু কখনো তাদের জন্মভূমি মিয়ানমার দেখেনি। এভাবে একটি পুরো প্রজন্ম শরণার্থী পরিচয় নিয়ে বেড়ে উঠছে।

রোহিঙ্গা আব্দুল হাফিজ বলেন, ‘অনেক রোহিঙ্গা তরুণ বেকার। তারা খারাপ কাজের দিকে ঝুঁকছে। অন্যদিকে এখানে এসে যারা জন্ম নিয়েছে, তাদের ঠিকানা কী হবে, আমরা কেউ বলতে পারছি না। বলতে গেলে তারা ঠিকানাহীন মানুষ।’

মিয়ানমারের সদিচ্ছার অভাবেই সংকট: আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের নেতা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের নীতিই রোহিঙ্গা সংকটকে জিইয়ে রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা রাখাইন ও মিয়ানমারের নাগরিক। কিন্তু মিয়ানমার সরকার কখনোই রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রত্যাবাসনে সদিচ্ছা দেখায়নি। এবার যা বলা হচ্ছে, সেটিও সেই ধারাবাহিকতা।’

তার অভিযোগ, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের নাগরিক অধিকার অস্বীকার করে আসছে। ফলে প্রত্যাবাসনের মূল প্রশ্ন—নাগরিকত্ব ও অধিকার—আজও অমীমাংসিত।

রোহিঙ্গা এআরএসপিএইচের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের রোহিঙ্গা বলা হয় না, বাঙালি বলা হয়। পুরো দুনিয়া বাংলাদেশ আর মিয়ানমারকে নিয়ে মেতে আছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এখনো সেখানে সামরিক শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতি অশান্ত করে রাখছে, যাতে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা না থাকে।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আটকে থাকার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। মিয়ানমারের নাগরিকত্ব অস্বীকার, নিরাপত্তাহীনতা, রাখাইনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপের অভাব এবং দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ—সব মিলিয়ে সংকট আরও জটিল হয়েছে।

বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হওয়ায় এখন স্থানীয় জনগোষ্ঠীও চাপের মুখে। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের মধ্যেও ঐক্যবদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের সংকট রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অধিকার ও প্রত্যাবাসনের দাবি আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা কঠিন হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে। বছরের পর বছর আলোচনা, বৈঠক, বিবৃতি ও প্রতিশ্রুতি থাকলেও মিয়ানমারের ওপর এমন কার্যকর চাপ তৈরি হয়নি, যাতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়, বর্তমানে এটি আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রত্যাবাসনের রূপরেখা প্রণয়নসহ সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।’


মন্ত্রীদের সংসদীয় দায়িত্ব বণ্টন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংসদীয় দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিন মন্ত্রী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংসদীয় দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এজেডএম মো. জাহিদ হোসেন এবং শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত মন্ত্রীরা জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন, তাও প্রজ্ঞাপনে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন ড. আব্দুল মঈন খান। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আফরোজা খানম। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আন্দালিব রহমান। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন এম রশিদউজ্জামান মিল্লাত। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন সাচিং প্রু। তাঁর অনুপস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালন করবেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনের অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য হিসেবে ছয়জন শপথ নেন। শপথের পর তাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন এবং একজন পুরোনো মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সংসদীয় কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করেছে সরকার।


রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন ইউনুস আলী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ইউনুস আলী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

উপসচিব ড. গোলাম মোরশেদের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির অভিপ্রায় অনুযায়ী তার সহকারী একান্ত সচিব পদে মো. ইউনুস আলীকে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর তৃতীয় গ্রেডের সর্বশেষ ধাপ ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা বেতন স্কেলে নিয়োগ দেয়া হলো। রাষ্ট্রপতি যতদিন এ পদ অলংকৃত করবেন অথবা মো. ইউনুস আলীকে তার সহকারী একান্ত সচিব পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন, ততদিন এই নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বাংলাদেশ-ভারতের তরুণ প্রজন্মের অনেক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে : দীনেশ ত্রিবেদী

সচিবালয়ে এই সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে এই সাক্ষাৎ শেষে ব্রিফিংয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সাধারণ মানুষ চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভালো রাস্তা ও বিদ্যুৎ চায়। এসব নিশ্চিত করা যেতে পারে বাণিজ্যের মাধ্যমে। দুই দেশের সম্পর্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুটি দিক রয়েছে। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক ইস্যু থাকবেই, তবে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চায়। উন্নয়ন ছাড়া কিছুই হতে পারে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষ অনেক মেধাবী। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের অনেক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যা করণীয়, তা করা সবার দায়িত্ব।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘ইন্টারডিপেন্ডেন্সি’ বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই স্থায়ী সমাধান। উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ভারতের ওপর এবং ভারত বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করবে।

এই নির্ভরতাই একটি পরিবারের মতো সম্পর্ক তৈরি করে।

তিনি আরো বলেন, অর্থনীতি ও রাজনীতি দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণ মানুষের খুব বেশি চাওয়া নেই, তারা শান্তি চায়। শান্তি থাকলে সমৃদ্ধি আসে। দুই দেশের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দেওয়া। দুই দেশেই তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তরুণদের কথা মনে রাখতে হবে।

পোশাক খাতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা ব্যাবসায়িক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাই, রাজনীতি তার নিজের পথে চলবে।’ সাধারণ মানুষের যা পাওনা, তা দেওয়া দুই দেশের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কেউ বড় বা ছোট নয়, সবাই সমান। এই সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশকে কাজ করে যেতে হবে।


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন

 ছবি: বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এক অভিনন্দন বার্তায় শি জিনপিং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ প্রতিবেশী দেশ। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫১ বছরে দুই দেশ সবসময় একে অপরকে সম্মান করেছে, সমতার ভিত্তিতে আচরণ করেছে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একে অপরকে সমর্থন দিয়েছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ ও চীন নিজ নিজ আধুনিকায়নের পথে একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ক পরীক্ষিত হয়েছে এবং আরও শক্তিশালী হয়েছে।

শি জিনপিং তার বার্তায় বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এগিয়ে নেওয়া, কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধি, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্নখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আরও গভীর হবে এবং এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদী।


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ: প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়ছেন, মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট (প্রতিরক্ষা চুক্তি) নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট নিয়ে তো আমরা আগ্রহ প্রকাশ করছি। তবে এ বিষয়ে কোনো ডেভেলপমেন্ট নেই।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ইজ আ কান্ট্রি অব রেকগনিশন এবং একটা আগ্রহ আছে, যারা মিডল ইস্টের (মধ্যপ্রাচ্যের) স্টেকহোল্ডার আছেন, গ্লোবালি যারা মুসলিম ওয়ার্ল্ডে...বিভিন্ন কি স্টেকহোল্ডারস...এখন বাংলাদেশের লিডারশিপ, পার্টিকুলারলি অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার তারেক রহমানের লিডারশিপে, তারা অনেক জায়গায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন টু কাম অ্যান্ড পার্টিসিপেট (আসতে ও অংশগ্রহণ করতে)।’

হুমায়ুন কবির আরো বলেন, ‘মক্কা নিয়ে তো সব সময়ই একটা আলাদা জায়গা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে আছে।

সেখানে মিডল ইস্টে একটা মানে যদি হয়...এমনও হয় যে ইসলামিক নেশনসদের মধ্যে একটা সিকিউরিটি প্যাক্ট হয়, তাহলে সেখানে তো আর অস্বাভাবিক না যাওয়া। সো, লেটস সি, ইটস বিয়িং ভিউড পজিটিভলি।’


৬ মাসে ৯৫ কারখানা বন্ধ, কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার মানুষ: সিপিডি

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে সিপিডির বক্তারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতিতে কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে সংস্থাটি জানায়, অর্থনীতির মূল ৩১টি সূচকের মধ্যে ১৯টিতেই অবনতি ঘটেছে।

একই সময়ে দেশের প্রধান তিন শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমজীবী মানুষ। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সতর্ক করে বলেন যে, অর্থনৈতিক সংস্কারে রাজনৈতিক সাহসিকতার ঘাটতি ও আমলাতান্ত্রিক চাপের কারণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সরকার পুনরায় পুরোনো সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবে পড়ে যেতে পারে।

সিপিডির আশঙ্কা, অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করা না গেলে সরকার আবারও পুরোনো সিন্ডিকেট ও স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবে পড়তে পারে। এ জন্য অর্থনৈতিক সংস্কারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

সংলাপে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রধান দুটি প্রত্যাশা ছিল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা থাকলেও ছয় মাসের মূল্যায়নে কিছুটা অস্বস্তির জায়গা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি কোন অবস্থায় ছিল, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করা হয়নি। সরকার বারবার খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললেও সেই পরিস্থিতির একটি সুনির্দিষ্ট নথি না থাকায় সরকারের বিভিন্ন বক্তব্য ও পরিসংখ্যানের মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ড. দেবপ্রিয়ের মতে, সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সমন্বিত কোনো কর্মপরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়। প্রয়োজনীয় সংস্কারে রাজনৈতিক সাহসের অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিপিডি জানিয়েছে, নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও গৃহীত পদক্ষেপ মূল্যায়নে তারা প্রায় ৩৬২টি উদ্যোগের তালিকা করেছে। এগুলোকে ৯টি ভাগে বিভক্ত করে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর আওতায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সুশাসনের ক্ষেত্রেও ১০৫টি ঘটনা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী—এই তিন প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এতে সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন।

গ্যাস সংকটের কারণে টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেলবোর্ড, সিরামিকসহ বিভিন্ন গ্যাসনির্ভর শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিল্পে গ্যাসের ব্যবহার ১ হাজার ১৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ১ হাজার ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সূচকের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

সিপিডির হিসাবে, অর্থনীতির ৩১টি প্রধান সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ ১২টি সূচকে উন্নতি হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি, মাথাপিছু ঋণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বাকি ১৯টি সূচকে অবনতি বা গভীর উদ্বেগের কারণ দেখা গেছে।

সিপিডি বলছে, মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা উন্নতি হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরে আসেনি। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে।

তবে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হলেও প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি এখনো নেতিবাচক রয়েছে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় মানুষের আয় বাড়ছে না।

এদিকে, চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সিপিডি।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন ঋণ নেওয়ার আগে দেশের বিদ্যমান ঋণের পরিমাণ, পরিশোধের সময়সীমা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন প্রয়োজন ছিল।

সরকারের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে সিপিডি। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, অপ্রকাশিত অর্থ বৈধ করার প্রস্তাব প্রত্যাহার, ই-রিটার্ন ও ডিজিটাল আয়কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ স্বাক্ষর, বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠন, স্টার্টআপ তহবিল গঠন, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মেট্রো ও ট্রেনভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় এবং কৃষিঋণের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ও সুদ মওকুফের উদ্যোগকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

এ ছাড়া নারী পরিচালিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

ব্যাংক খাতে পাঁচটি দুর্বল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন এবং পাঁচটি অকার্যকর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ প্রয়োগকেও ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেছে সিপিডি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং শীর্ষ পর্যায়ের নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সুশাসনের ক্ষেত্রে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সিপিডি। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতিরও ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন ড. দেবপ্রিয়।

আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন আইন ও ব্যবস্থায় ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’নীতি ঘোষণার পরও মব সহিংসতা এবং নারী, শিশু ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংলাপে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

সিপিডির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ছয় মাসে অর্থনীতিতে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি দেখা গেলেও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন এবং কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না গেলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সৌদি রাষ্ট্রদূত বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস’কে এ তথ্য জানান।

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সফর আরও সুগম এবং হাজিদের কষ্ট লাঘবের জন্য, বিশেষ করে মিনায় গোসলখানা ও শৌচাগার সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনশক্তি নেওয়ারও আহ্বান জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মির্জা ফখরুল সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে তাদের নেতৃত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত এ সময় জ্বালানি, সহায়তা ও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম কোনো বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ। বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারকে বিশ্ব মানচিত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত করতে বড় ধরনের সুখবর দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুভ উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর থেকে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও এই বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মিল্লাত জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সরকার তাদের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসেই টার্মিনালটি পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। যাত্রীসেবার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে এবং বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এই টার্মিনালটি একটি গেম চেঞ্জার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও জানান, এই বিশাল প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আগামী মাসে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারকালে এটিজেএফবি সভাপতি তানজিম আনোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন মন্ত্রীর গৃহীত এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানান। কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে দেশের পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে। মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পর্যটন ও এভিয়েশন খাতকে বিশ্বমানের করে তোলাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। আজ সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান পানি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, এই ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তিগত বিনিময় বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও টেকসই ও কার্যকর করবে।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা এবং নগর পরিবেশ সুরক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য।

সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি মন্তব্য করেন যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে জড়িত এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রদূত এ খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আলোচনায় জানান যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। বৈঠকে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত টেকসই উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরও গভীর হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই সংস্কার হবে : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধানের যেকোনো ধরনের সংস্কার কার্যক্রম বাহাত্তরের মূল সংবিধানকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় যেসব পরামর্শ বা মতামত আসবে, তার মধ্যে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বিষয়গুলো অবশ্যই সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।

আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন।

সংবিধান সংস্কারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, "অনেকে বলেছিলেন বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। তবে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে যা কিছুই করা হোক না কেন, বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বাহাত্তরের সংবিধান এখনো বলবৎ আছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনো আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটানো প্রয়োজন।

মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, "সংবিধান সংস্কারে যারা মতামত দেবেন, সেসব বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণযোগ্য হলে তা গ্রহণ করা হবে। সংবিধান ও সংস্কার নিয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে।"

অনুষ্ঠানে সরকারের জবাবদিহিতা ও গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, শাসনব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে সমালোচনা অপরিহার্য। মন্ত্রীদের কাজের তদারকি ও সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মন্ত্রীদের তোপের মুখে না রাখলে সরকার সঠিক পথে চলতে পারবে না।" সরকারের স্তুতি গাওয়ার চেয়ে ভুল ধরিয়ে দেওয়াকে তিনি অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন।

মন্ত্রীর মতে, গঠনমূলক সমালোচনা সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "সরকারের স্তুতি করা উচিত নয়। তোপের মুখে রাখা বা সরকারের সমালোচনা করাকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাষা প্রয়োগে সচেতনতা কাম্য।"

উক্ত সংলাপে দেশের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এটি পরিষ্কার করেছেন যে, সংবিধানের আধুনিকায়ন বা সংস্কার যা-ই হোক না কেন, তার মূল ভিত্তি হবে বাহাত্তরের সংবিধান। সংলাপে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


ডাক বিভাগে ১৪ ফুলফিলমেন্ট সেন্টারসহ নতুন সেবা শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোক্তাভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ৩১২ টনের বেশি মৌসুমি ফল সরবরাহ, ডিজিটাল সেবা সংযুক্তি এবং ই-কমার্স খাতে লজিস্টিক সহায়তায় ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে।

ডাক অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে রূপ নিচ্ছে আধুনিক লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে। ডাক অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সেবার মান উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তর-এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখে একযোগে এগোচ্ছে সাতটি খাতভিত্তিক কার্যক্রম।

কর্মকর্তারা আরও জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস মডেল। ডাক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে পিকআপ ও ডেলিভারি সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

এ উদ্যোগের সামগ্রিক উদ্দেশ্য ও রূপরেখা তুলে ধরে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘চিঠির যুগ পার হলেও সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও জনবান্ধব লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল চালু হলে ডাক সেবার সময়সীমা ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা দূর হবে। আমাদের পোস্ট অফিসগুলোর নেটওয়ার্কের বাইরে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যুক্ত হলে একদিকে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে নাগরিকরা কোনো সময়ের বাধা ছাড়াই ডাকসেবা পাবেন।’

এ মডেলের পরিচালন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘ডাক বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হবে, যার আওতায় তারা নির্ধারিত বিধিবিধান মেনে মূলত পণ্য সংগ্রহ ও বিলির (পিকআপ ও ডেলিভারি) কাজ পরিচালনা করবেন। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সার্বক্ষণিকভাবে ডাক বিভাগের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এগুলোর সেবার গুণগত মান ক্ষুণ্ন হলে বা কোনো নিয়ম ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে।’

সরকারের ডাক বিভাগের তথ্যমতে, বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম এই ৬ মাসে কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উৎস জেলাসমূহ থেকে নিরাপদে ৩১২ টনের বেশি মৌসুমি ফল সংগ্রহ করে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শুধু আমের রাজধানী রাজশাহী কিংবা নতুন করে গড়ে ওঠা সাতক্ষীরা বা খাগড়াছড়ি নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই এবার এই ফল আহরণ করা হয়েছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তারা।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন দুটি সেবার কারিগরি প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মামলা সংক্রান্ত ডকুমেন্টস (ভিডিও মামলা, ট্রাফিক নোটিশ ইত্যাদি) সংশ্লিষ্ট প্রাপকের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সংযুক্তিকরণ সম্পন্ন হয়েছে, যা ডাক বিভাগের নতুন এক এজেন্সি সার্ভিস হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ডাক জীবন বীমার প্রিমিয়াম সংগ্রহের কারিগরি সংযুক্তিকরণও সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে গ্রাহকরা ঘরে বসেই বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারবেন। পোস্ট অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

ডাক বিভাগের তথ্য মতে, মেইল প্রসেসিং ও লজিস্টিকস সেবা আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন পোস্ট অফিসে ইতোমধ্যে ৬ হাজার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল,৬ হাজার থার্মাল প্রিন্টার ও পাঁচশ কম্পিউটার সরবরাহ করা হচ্ছে, পাশাপাশি তিনটি মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা বা ‘গ্রিন লজিস্টিকস’ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ৫০টি ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) বহরে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডাকসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বজনীন ডাক ইউনিয়ন (ইউপিইউ) থেকে প্রাপ্ত ৩৩টি নতুন ডেলিভারি মেইল ভ্যান ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ডাক বিভাগের মেইল লাইনে সংযোজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৮০ দিনের এই কর্মযজ্ঞে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে ফুলফিলমেন্ট সেন্টার উদ্যোগ। দেশব্যাপী ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতের পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রসেসিং, বুকিং, সর্টিং, পরিবহন ও বিলি পরিচালনার লক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তরের ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালুর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডাক বিভাগের তথ্য মতে, রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও, গোপালগঞ্জ, ঈশ্বরদী, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও যশোরে এই ১৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের এই ১৪টি স্থানে আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কিছু ধাপ শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় নেওয়া এসব উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানটির সেবার পরিধি ও মান বাড়বে, তেমনি ডিজিটাল ও ই-কমার্সনির্ভর অর্থনীতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

সূত্র: বাসস


সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গ্রুপ ছবিতে অংশগ্রহণ করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের সকল শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে যারা দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত হয়েছেন প্রত্যেকের অবদান তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদসহ সকল বীর সেনাদের।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসস্থ আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময়, তিনি নব উন্মোচিত এডিএসআই-এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এছাড়া তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এসিওসির ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমানসমূহকে বাধা প্রদান ও চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইফ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণ অবলোকন করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।

এসময়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ভিটোল) প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টার এর উড্ডয়ন অবলোকন করেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুতকরণ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


banner close