আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার বৃষ্টিপাত হবে। তবে এর তীব্রতা কম থাকবে। রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকবে। বৃষ্টিপাত হলেও গরমের তীব্রতা কমবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আজও বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
বৃষ্টিপাতের মধ্যেও গরমের তীব্রতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি বেশি থাকবে। মানুষ গরমের ঘেমে যাবে। এ ছাড়া বৃষ্টিপাতের সময় ঝড় বাতাস কম থাকলেও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এক কথায় সেপ্টেম্বরজুড়েই বৃষ্টিপাত থাকবে। আজ সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় সর্বোচ্চ ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বগুড়া, সৈয়দপুর, ডিমলা, তেঁতুলিয়া, রাজারহাট, ময়মনসিংহ, সিলেট, মাইজদীকোর্ট, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী ও মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সীতাকুন্ডে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শুক্রবার বান্দরবানে সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু উত্তরাংশে সক্রিয় এবং বাংলাদেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে।
আজ ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৪৭ মিনিটে।
সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেলের একটি চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে এসে পৌঁছেছে ‘ইয়ান জিং হে’ নামের একটি জাহাজ। শিগগিরই আরও দুটি জাহাজ ডিজেল নিয়ে বন্দরে ভিড়বে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ‘ইয়ান জিং হে’ নামের জাহাজটি বন্দরে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘ইয়ান জিং হে’ জাহাজটি ভোরে বহির্নোঙরে পৌঁছেছে এবং একে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামের আরও একটি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে আসছে। এ ছাড়া আজ শনিবার এলএনজি নিয়ে আরও একটি জাহাজ আসার কথা আছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে মার্চ মাসে বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি নিয়ে মোট ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল, ৮টি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং ৯টি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে এসেছিল।
জাহাজ দুটির শিপিং এজেন্ট ‘প্রাইড’-এর স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল শুক্রবার আসা জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টনের কিছু বেশি ডিজেল নিয়ে এসেছে। জাহাজটি বর্তমানে ডলফিন জেটিতে বার্থিংয়ের অপেক্ষায় আছে। রাতে মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে পৌঁছাবে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান।’
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯৪৭ শিশু। এ সময় মারা গেছে ৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ৪২ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এসব জানানো হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে গত একদিনেই ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ৫২৭ জন।
এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
তবে পূর্বে প্রকাশিত তথ্য সংশোধন করে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা থেকে ৫টি মৃত্যু বাদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের তথ্য বলছে, জেলা পর্যায় থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে এসব মৃত্যু জাতীয় প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া (৩), লক্ষ্মীপুর (১) ও চাঁদপুর (১)।
এদিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে আরও একজন হামে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা সর্বশেষ প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সে নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে ভিন্ন ধরনের যান চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ ধরনের অপরাধে জেল ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিআরটিএ সদরদপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স বা হালনাগাদ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি জনসমক্ষে মোটরযান চালাতে পারবেন না কিংবা কাউকে চালাতে দিতে পারবেন না।
এছাড়া ধারা ৪(২) অনুযায়ী, লাইসেন্সে উল্লেখিত ক্যাটাগরির বাইরে অন্য কোনো ধরনের যান চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ধারা ৫(১) অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি ছাড়া কেউ গণপরিবহন চালাতে বা চালাতে দিতে পারবেন না।
আইন ভঙ্গ করলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
বিআরটিএ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এমনকি শারীরিক বা মানসিকভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হলেও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে।
সংস্থাটি উল্লেখ করে, সাম্প্রতিক সময়ে লাইসেন্সবিহীন চালনা, ভুল ক্যাটাগরির যান ব্যবহার, বেপরোয়া গতি ও বিশৃঙ্খল ড্রাইভিংয়ের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে, যা প্রাণহানি ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে চালকদের বৈধ লাইসেন্স ব্যবহার এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদেরও চালকদের বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের রুহের মাগফিরাত কামনায় রাজধানী গুলশানের সোসাইটি জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ওই মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত সকলকে কৃতজ্ঞতা জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এ সময় তিনি তার সহধর্মিণীর সঙ্গে দীর্ঘ ৫৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথা উল্লেখ করেন।
স্পিকার বলেন, তার সহধর্মিণী একজন ধার্মিক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ ও রোজা আদায় করতেন। স্পিকার মরহুমা সহধর্মিণী ও তার মৃত মা-বাবার জন্য মহান আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
একইসঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির উন্নতি ও কল্যাণে সকল নাগরিককে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মরহুমা দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সরকারি ইডেন কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দোয়া মাহফিলে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, সংসদ সদস্য মো. মজিবর রহমান সরওয়ার, সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সেনা কর্মকর্তারা, ভোলা-৩ আসনের বিএনপির নেতাকর্মী, আপামর জনসাধারণসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে জাপানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিইকো।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৩ মার্চ এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, একজন রিকসা চালকের রিকসা চালানোর অধিকার, একজন কৃষকের চাষাবাদের অধিকার এবং তাঁদের ঘাম ও শ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন পাওয়াই হলো স্বাধীনতার স্বাদ। প্রকৃত স্বাধীনতা মানে হলো জনগণের রুটি রুজির অধিকার ফিরে পাওয়া।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চীফ হুইপ এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের পর জনগণ স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসনের একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মানুষ ভালো থাকায়ই বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মানুষ অনাহারে থেকেছে। দূর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তির বমি আরেক ব্যক্তি খেয়েছে। মা ছেলেকে লাশ বানিয়ে ভিক্ষা করত। ঠিক সেসময়েই আবার কামালের বিয়ে হয়েছে মুকুট পরিয়ে। আইন শৃংখলা বলে কিছু ছিলনা। বাবাকে বাধ্য করা হয়েছে ছেলের মাথায় কুড়াল চালাতে, যুবলীগের ছেলেরা লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র পেত। পথে ঘাটে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যেত। এসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের চাপে দায়িত্ব নেন। তার খাল খনন কর্মসূচির ফলে তিন বছরের মাথায় খাদ্য সংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ প্রথম খাদ্য রপ্তানি করে সেনেগালে।
জুলাই সনদ নিয়ে চীফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না। বিএনপি এই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা নেই। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে যাতে আইনী প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোন প্রশ্ন না উঠে।
বিরোধী দল প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, তারা একের পর এক অবস্থান বদলাচ্ছে, কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে। নির্বাচনের আগে তারা পিআর পদ্ধতি চেয়েছিল। আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা আমাদের পাশের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এই ব্যবস্থা নেই। তারা বলছিল পিআর না দিলে নাকি নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা তখন স্পষ্ট বলেছি, কোনো বিশেষ অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচন আটকে রাখা যাবে না।
শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাকে অরক্ষিত রেখে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তারই দল আওয়ামী লীগ দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। তারেক রহমান সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি টাকা চুরি করতে আসেননি। তিনি একজন সাশ্রয়ী মানুষ, যিনি নিজের অফিসে সেন্ট্রাল এসি চালান না এবং রাত ৩টায় ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়। তারেক রহমান কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন এবং প্রস্তাব রেখেছেন যে, দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটান জিয়াউর রহমান। পৃথিবীর একমাত্র সামরিক শাসক যিনি মার্শাল ল জারি করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা দেন। যার ফলে বর্তমান সময়ে এত মিডিয়া চালু রয়েছে। বিনা বাধায় মানুষ এখন তারেক রহমানের ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন আকতে পারে। এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ সমালোচকদের প্রশংসাও করেন।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়বার দেশে অন্ধকার নেমে এলে দায়িত্ব নেন বেগম খালেদা জিয়া। মানুষের ভাগ্য বদলাতে থাকে। দেশের উন্নয়ন হয়। ‘বেগম জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভালো থাকল, কেন দেশের উন্নতি হলো? শুধু এসব কারণে আমরা ১৭ বছর অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করেছি। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে এবং এর প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়ে দেখা করার নজিরও তিনি স্থাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া ও অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট নিয়ে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত থাকবেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ হার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আয়োজন করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এ পরিষদে অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল ও ভোগ্যপণ্য খাতের ৯ জন শীর্ষ উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এই পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি।
কর্মকর্তারা বলছেন, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের একটি কার্যকর মাধ্যম তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে সময়োপযোগী অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন সহজ হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিবিএল গ্রুপের এম এ জব্বার, প্যাসিফিক জিন্সের সৈয়দ এম তানভীর, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বে ফুটওয়্যারের জিয়াউর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, ইনসেপ্টা গ্রুপের আব্দুল মুক্তাদির, রানার গ্রুপের হাফিজুর রহমান খান, র্যাংগস গ্রুপের সোহানা রউফ চৌধুরী এবং এসিআই-এর আরিফ দৌলা।
বিডা চেয়ারম্যান আশিক বিন হারুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, তারা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং কোন ধরণের নীতিগত পদক্ষেপ নতুন বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করতে পারে—সেসব বিষয়ে শুনতে চান।’
তিনি আরও জানান, উৎপাদন খাতের তাৎক্ষণিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সক্ষমতা ধরে রাখার উপায় খোঁজার বিষয়েও আলোচনা গুরুত্ব পাবে।
বৈঠকে জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হবে।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার পর বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবন-এ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সংসদ ভবনেই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এবং যাতায়াতের সময় সাশ্রয় ও যানজট এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে, অর্থাৎ অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লেনদেন করবে, তবে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একই সঙ্গে নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার কারণে ত্রিমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কর ফাঁকি বন্ধ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নজর দিচ্ছে। পাশাপাশি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে উদ্ধার করা এবং একই সাথে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা। তবে সরকার টাকা সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজার সচল করার পক্ষে নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশ তেলশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকট: বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট, যেমন—ডলার সংকট ও টাকার অবমূল্যায়ন, অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ছে।
রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে ঝুঁকি: মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং রপ্তানিবাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট বলেছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির কথা ভাবছে। তবে সরকার নতুন করে টাকা ছাপাতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর পেছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠাবেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (জেনারেল অ্যাসেমবলি) যাবে। এই বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব আহরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে মূলত নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আহরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এবারের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো- বঞ্চিত মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিনিয়োগ ও নীতিমালার স্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার নীতিমালার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির সাথে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বড় ধরনের ডিরেগুলেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার বিষয়ে বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এই বঞ্চিত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ চলছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি খাতে শুধু তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে খাতটিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকেও গার্মেন্টসের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে জাপান ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে এই সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যেত। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বঞ্চিতদের দিয়ে বাজেট শুরু করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে অনেক সময় শিল্প বা উৎপাদন খাতের ওপর বেশি জোর দিতে গিয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা বাজেটের সুফল থেকে বাদ পড়ে যেত। এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বঞ্চিত মানুষের পাওনা ও প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন শুরু করা হবে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারাদেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকেই সব শপিং মল ও দোকানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় জ্বালানি–সংকটের কারণে দেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান এবং শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবারই (২ এপ্রিল) এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে। তবে হয়তো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও এ বিষয়ে অবগত নয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে প্রায় সব শপিং মল ও দোকানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।
হরমুজ প্রণালির জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশ এবার বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করছে। লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এই তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। তেলবাহী ট্যাংকারটি আগামী ২০ এপ্রিল লোড করার কথা রয়েছে।
এদিকে, বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন তেল জাহাজে লোড করা হবে। আরও ১ লাখ টন তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের জাহাজ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এসব তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হবে। এতে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করছে বিএসসি।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, পরিশোধনের পর এই ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা কম।
বিএসসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজি সহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে সভাপতি করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন—আশরাফ উদ্দিন নিজান, ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সাঈদ আল নোমান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মো. নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সিনিয়র সহকারী সচিব রুম্পা সিকদারকে শাস্তি দিয়েছে সরকার। শাস্তি হিসেবে তার বেতন ২ বছর বাড়বে না। রুম্পা সিকদার নলছিটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় এ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার তাকে শাস্তি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে ৩০২টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। এর মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের কথা ছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে এবং পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তার দায়িত্বকালীন অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হন, যা দায়িত্বে চরম অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এ ঘটনায় ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগের জবাব দাখিলের পর গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও তার বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও নলছিটি থেকে বদলির সময় তিনি এ অর্থের কোনো বিবরণ দাপ্তরিক নথিতে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং তা কী উদ্দেশে ব্যবহার হয়েছে, তার যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ করা তার দায়িত্ব ছিল।
তদন্তে তার প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সবশেষে অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সরকার মনে করে, তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে ২ বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।