শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

যুদ্ধের পথ পরিহার করে শান্তি, সমৃদ্ধির জন্য কাজ করুন: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৯:১২

যুদ্ধ ও সংঘাতের পথ পরিহার করে মানবজাতির কল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আজ আপনাদের সকলের কাছে, বিশ্ব নেতাদের কাছে আমার আবেদন, যুদ্ধ ও সংঘাতের পথ পরিহার করুন এবং আমাদের জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী শান্তি, মানবজাতির কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করুন।’

শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারি ও জলবায়ু সঙ্কটের প্রভাব এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য, অর্থায়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার উপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উন্নয়ন-লক্ষ্যসমূহ অর্জনে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বহুপাক্ষিক কূটনীতিকে জোরদারকরণ, জাতিসংঘের উপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ পালন করার জন্য প্রচেষ্টা ও সাহসী বক্তব্য, এবং বৈশ্বিক সঙ্কট উত্তরণে সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবমূখী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সবসময় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসেকে সমর্থন জানায়।’

প্রধানমন্ত্রী ইউএনজিএ অধিবেশনে প্রদত্ত তাঁর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য সংকট, মানবাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি), সন্ত্রাসবাদ এবং সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

গেল বারের মতো এবারসহ মোট ১৯তম বারের মতো শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রদত্ত ভাষণের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।

এ বছরের ইউএনজিএ’র মূল প্রতিপাদ্য হলো— ‘আস্থা পুনর্গঠন ও বিশ্বব্যাপী সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা: সকলের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও স্থায়িত্বের লক্ষ্যে ২০৩০ এজেন্ডা এবং এর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে ত্বরান্বিতকরণ পদক্ষেপ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় তুলে ধরে বলেন, ‘আমি নিজে নিপীড়িত এবং যুদ্ধ ও হত্যার নৃশংসতার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে যুদ্ধ, হত্যা, অভ্যুত্থান ও সংঘাতের ভয়াবহতার কারণে মানুষ যে বেদনা ও যন্ত্রণা সহ্য করে তা অনুভব করতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার পিতা, জাতির পিতা ও বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেদিন আমার মা, আমার তিন ছোট ভাই, দুই ভ্রাতৃবধূ, চাচাসহ পরিবারের মোট আঠার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল।’

তিনি ও তাঁর ছোট বোন বিদেশে থাকায় সেই বর্বরতা থেকে বেঁচে যান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ত্রিশ লাখ দেশবাসীকে হত্যা এবং দুই লাখ নারীকে নির্মম নির্যাতনের কথাও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন।

আসুন আমরা রোহিঙ্গাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগণের প্রতি বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কেননা ইতোমধ্যেই তাদের বাস্তুচ্যুতির ছয় বছর পেরিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ মানবিক কারণে আমরা অস্থায়ীভাবে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতি এখন আমাদের জন্য সত্যিই অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘায়িত উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক হতাশার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্ভাব্য মৌলবাদকে ইন্ধন দিতে পারে।’

‘এই অবস্থা চলমান থাকলে এটি আমাদের আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে’ বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় এবং সেখানে তারা শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে আগ্রহী। আসুন আমরা এই নিঃস্ব মানুষের জন্য তাদের নিজের দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করি।’

উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের ০.৪৭% এরও কম অবদান রাখলেও বাংলাদেশ জলবায়ুজনিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য মারাত্মক হুমকি। এর সমাধানের লক্ষ্যে জরুরি, সাহসী এবং উচ্চাভিলাষী সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলিকে উচ্চাভিলাষী এনডিসি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই। উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের উন্নয়ন চাহিদার কথা বিবেচনা করতে হবে। আমরা ২৭তম জলবায়ু সম্মেলনে গৃহীত ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত তহবিলের জরুরি বাস্তবায়ন চাই।’

সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা, লবণাক্ততা, নদী ক্ষয়, বন্যা ও খরা-জনিত কারণে জলবায়ু-অভিবাসীদের দায়িত্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংহতির আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীল টেকসই উন্নয়নের পথ অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ সবুজ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বল্প-কার্বন নির্গমন কৌশল প্রণয়ন করছে।

শেখ হাসিনা এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে এই তহবিলে এ পর্যন্ত ৪৮০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছি। জলবায়ু অভিযোজন এবং প্রশমনের লক্ষে সমুদ্র উপকূলে বাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার, গ্রিন বেল্ট এবং বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যূত মানুষের জন্য বিশ্বের সবচেয় বড় আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেখানে ৪ হাজার ৪০৯টি উদ্বাস্তু পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ ১৩৯টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ ‘আশ্রয়ণ’ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার পরিবারের ৫০ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে ঘর দেয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, তাঁর সরকার ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ বাস্তবায়ন করছে। যার লক্ষ্য সমন্বিত ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, জলবায়ু সহনশীল এবং সমৃদ্ধ ডেল্টা অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকার ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে একটি জলবায়ুর ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে জলবায়ু সহনশীল দেশে পরিণত হতে কাজ করছি। বাংলাদেশের ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহার করছে। আমরা আরও টেকসই শক্তির মিশ্রণের জন্য কাজ করছি। আমরা আশা করি, ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের শক্তির ৪০% পুনঃনবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া যাবে।’

আঞ্চলিক খাদ্য ব্যাংক স্থাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ অকার্যকর হয় পড়েছে এবং এ ব্যবস্থার দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও, আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া, উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের লক্ষ্যে হিমাগার নির্মাণের জন্য আমাদের বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমি জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য আঞ্চলিক ‘খাদ্য ব্যাংক’ চালু করার প্রস্তাব করছি। আমাদের অবশ্যই জলবায়ু-সহনশীল ফসলের গবেষণায় একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে।”

বিগত কয়েক বছরের আন্তঃসংযুক্ত সঙ্কটগুলো বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি এবং পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের সরকার প্রধান বলেন, ‘জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিকারক দেশ হিসেবে আমাদের আমদানি বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, আমরা প্রতিটি মানুষের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করেছি। আমরা নিম্ন আয়ের ১ কোটি মানুষকে সাশ্রয়ী দামে চাল ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করছি।’

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দেশের সকল অনাবাদী জমিকে চাষের আওতায় আনার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ গঠন এবং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক খাদ্য, শক্তি এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে বিভিন্নমুখী সমাধান প্রদানের জন্য আমি জাতিসংঘ মহাসচিবকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

খাদ্যপণ্য রপ্তানি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিদ্যমান সমস্যাসমূহের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার জন্য এই গ্রুপের অন্যতম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তিনি সব সময় জোর দিয়েছেন বলেও জানান।

এসডিজি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক আর্থিক অবকাঠামো প্রয়োজন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় যে, বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আর্থিক অবকাঠামো লক্ষ্যগুলির সঙ্গে যেমন সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তেমনি এটি সঙ্কটের সময় উন্নয়নশীল দেশগুলির আর্থিক চাহিদা মেটাতেও সক্ষম নয়।’

তিনি বলেন, ‘আজ এমন একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক অবকাঠামো আমাদের জরুরিভাবে প্রয়োজন যা উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বিশেষ ছাড়ে, কম খরচে, কম সুদে এবং ন্যূনতম শর্তে অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করবে। তাছাড়া, জরুরি অবস্থা এবং দুর্যোগের সময় আইএমএফের এসডিআর তহবিলে উন্নয়নশীল দেশগুলির ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। সমস্ত ঋণ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংক্রান্ত বিশেষ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ প্রস্তাবনার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা এই প্রস্তাবনার দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমরা এসডিজি অর্জনে অবিচলিত অগ্রগতি সাধন করেছি। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশও এক্ষেত্রে গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। করোনাভাইরাস, বিভিন্ন মানবসৃষ্ট সঙ্কট এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় চ্যালেঞ্জগুলিকে বহুগুণে জটিল করেছে। সে কারণে, এ বছর জাতিসংঘ এসডিজি সম্মেলনের সফল আয়োজন এবং এতে গৃহীত রাজনৈতিক ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা বিশ্বাস করি, এই রাজনৈতিক ঘোষণা ২০৩০ উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে।’

গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রচারে বাংলাদেশ সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র রক্ষা ও প্রচারে পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘এই বছর আমরা সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ৭৫তম বার্ষিকী পালন করছি। এই মাহেন্দ্রক্ষণে বিশ্ব মানবতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সকলের জন্য সমতা, ন্যায্যতা, স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি যাতে উন্নয়নশীল দেশের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।’

‘বাংলাদেশের সংবিধান সকলের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করে। সকলকে আইনগত সুরক্ষা প্রদান ও সুবিচার নিশ্চিতকরণে গত এক দশকে বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার তাৎপর্যপূর্ণ সংশোধন করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের আপামর জনগণের মানবাধিকার সংরক্ষণে অন্যান্য সদস্যগণের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ এই অধিবেশনে আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করতে চাই যে, বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে যাবে।’

বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি অর্জনে আমরা নারীর প্রতি বৈষম্যের অবসানকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন এবং লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকরণ ও প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা নারীশিক্ষাসহ সার্বিক শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক হতে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ত্রিশ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি, বৃত্তি এবং এককালীন অনুদান দেয়া হচ্ছে। এদের অর্ধেকেরও বেশি নারী। আমাদের জাতীয় বাজেটের মোট ৩০ শতাংশ নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জানান, তাঁর সরকার সরকারের শীর্ষ থেকে সর্বনিম্ন সকল স্তরে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি খাতে ৫০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

তিনি বলেন, “এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা উপযুক্ত আইন প্রণয়ন ও তা যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা, নারী পাচার এবং অন্যান্য অপরাধ নিরসনের জন্য কাজ করছি। আমরা নারীর অগ্রগতির জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘প্ল্যাটফর্ম ফর উইমেন লিডার’-এর মাধ্যমে সকল আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সমর্থন করছি।”

২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে অঙ্গীকারাবদ্ধ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভিশন ২০৪১-এর আওতায় ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আমার সরকার বিপুল বিনিয়োগ করেছে এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে এমন একটি উচ্চ আয়ের, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত দেশে পরিণত করতে চাই, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং নিত্য নতুন উদ্ভাবনের পথ উন্মুক্ত করবে। সে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গসমতা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতির আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিতে আমরা মানুষের কল্যাণে অন্তর্ভূক্তিমূলক ও আধুনিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছি। তাঁর দেখানো পথে বাস্তবমূখী নীতিগ্রহণ, সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হতে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে পেরেছি। আমরা দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৪১.৫ থেকে ২০২২ সালে ১৮.৭ শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের হার ২৫.১ শতাংশ থেকে ৫.৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি।’

সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তি স্থানান্তর
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের জন্য কিছু ন্যূনতম মানদণ্ড স্থাপনের ধারণার প্রশংসা করি। এসকল লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যেমন পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং উত্তম চর্চাসমূহ বিনিময় নিশ্চিত করতে হবে।’

‘বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি। বাংলাদেশের এই সাফল্য এই সাধারণ পরিষদ দ্বারা স্বীকৃত এবং প্রশংসিত হয়েছে। অনুরূপ আর্থ-সামাজিক অবস্থার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশসমূহ আমাদের এই মডেল অনুকরণ করতে পারে।’

সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পর সুনীল অর্থনীতি বাংলাদেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারকে কাজে লাগানোর জন্য সমুদ্রের আইন সম্পর্কিত জাতিসংঘ কনভেনশনের বিধানগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন আবশ্যক।’

শেখ হাসিনা জানান, একদিন আগে তিনি জাতিসংঘের সাগর সম্পর্কিত আইন অনুযায়ী দেশসমূহের জাতীয় অধিকারভূক্ত এলাকার বাইরে সামুদ্রিক জৈব বৈচিত্রের সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবহারের জন্য ‘বিবিএনজে’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। বাংলাদেশ সম্প্রতি তার ‘ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক’ প্রকাশ করেছে, যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এবং সহযোগিতার মাধ্যমে সমুদ্রপথ এবং সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার অটুট
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সর্বজনীন ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পূর্ণাঙ্গ ও অবিচল। আমরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সকল আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য অস্ত্রের প্রসারণ বন্ধ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমরা অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ এবং অস্ত্রের প্রসারণ বন্ধ বিষয়ক চুক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন চাই।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের অবদান বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ। অদ্যাবধি ১ লাখ ৮৮ হাজার বাংলাদেশী নারী ও পুরুষ ৪০টি দেশে ৫৫টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীগণ তাদের পেশাগত দক্ষতা এবং কাজের জন্য সমাদৃত।’

তিনি আরও বলেন, “আমরা বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ এবং তৎসংশ্লিষ্ট হুমকি নিয়ে চিন্তিত; যা প্রতিনিয়ত তথ্যের অপব্যবহার এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুনভাবে আবির্ভূত হচ্ছে। আমার সরকার চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা কখনই সন্ত্রাসবাদ কার্যক্রম সংঘটনে বা অন্যের ক্ষতি সাধনে আমাদের ভূমি ব্যবহৃত হতে দেই না।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকলের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য অভিন্ন সঙ্কট মোকাবেলায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ জন্য, আমাদের অবশ্যই বিভাজন, সঙ্কীর্ণতা ও বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে একতা, সহমর্মিতা ও বহুপাক্ষিকতা বেছে নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শান্তি ও টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের উদ্দেশ্যে আমাদের অবশ্যই সুবিচার, ন্যায় ও ন্যায্যতার নীতি অনুসরণ করতে হবে, যার ভিত্তি হবে জাতিসংঘ সনদ এবং ২০৩০ এজেন্ডা।’

উন্নয়নশীল দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার আহ্বান
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবে। আমি বিশ্বাস করি যে, বর্তমান বৈশ্বিক সঙ্কটসমূহ আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তবুও, উন্নয়ন সহযোগী এবং উন্নত দেশসমূহকে আমাদের এ যাত্রায় তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি। যা স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় আমাদের জন্য সহায়ক হবে। স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ সুবিধাসমূহ আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যাপ্তিকাল মোতাবেক প্রদান করার জন্য আমি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এ বছরের মার্চ মাসে কাতারের দোহাতে অনুষ্ঠিত এলডিসি-৫ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য অপেক্ষমান দেশগুলোকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আমি জাতিসংঘ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের দোহা কর্মসূচির সম্পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।’


‘ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ডাক বিভাগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে চায়। আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘নগদ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।’

ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন কর্মীদের উৎসাহিত করে। তাই যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের ডাকঘর ও কর্মীদের কাজের মূল্যায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ‘ডাক বিভাগের বিদ্যমান অবকাঠামো ও দেশব্যাপী বিস্তৃত পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ডাকসেবার সংস্কার ও রূপান্তরের পাশাপাশি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় এবং ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

গত শুক্রবার বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালিত হয়েছে।


‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প’ কমিটির সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) উদ্যোগে প্রণীত ‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। এ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিনকাসেম, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জ।

কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহাপরিচালক (বিঅ্যান্ডআইটি)।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হলো ইউএনডিপি প্রণীত ‘ই-জাতীয় সংসদ প্রকল্প’-এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়া। পাশাপাশি ই-পার্লামেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কমিটি।

এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিরাপত্তা পাচ্ছেন ড. ইউনূস

ছবি: সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস একদল ব্যক্তির দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রটোকলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সরকারপ্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তাঁর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ এবং বিমানবন্দর পোর্ট অথরিটির কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে। এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে বাংলাদেশ মিশন।


জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা, সবুজায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন।

তিনি আরও জানান, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান ও বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, জাতীয় সংসদ প্লাজার সৌন্দর্য ও পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠ ও বাগান পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালার সঠিক পরিচর্যা এবং সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও তিনি দেন।

এছাড়া সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের এলাকায় যেসব স্থানে সংস্কার দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক আরও জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি।


ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়াবিষয়ক একটি সম্মেলনে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের বক্তব্যকালে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাকুতে ‘এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা বিষয়ক’ (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেয় ঢাকা।

সেখানে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বক্তব্য শুরু করলে সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করে হুমায়ুন কবির ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশও ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালীন হল ত্যাগ করেন। এই ওয়াকআউট ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে কূটনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুইদিন ব্যাপী এশিয়া শীর্ষক সম্মেলন। এতে এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বাকুর উদ্দেশে গত বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এশীয় দেশগুলোর মধ্যকার আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন মিস্টার হুমায়ুন কবির। নিজের বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট করে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হলো— সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অনুসরণ ব্যবস্থাসহ ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিভিন্ন অংশীজনের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আরও বেশি সরাসরি উপস্থিতিভিত্তিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিনিময় জোরদার করা।

১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ফোরামের লক্ষ্য এশিয়াজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও জোরদার করা। এ ছাড়া, শীর্ষ সম্মেলনে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য সিআইসিএ- এর সভাপতিত্বে আজারবাইজানের দায়িত্ব গ্রহণ এবং এর পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে মহামান্য সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়েছে।


দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার-ভিডিপির ২ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন

আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তরে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সারাদেশে আনসার-ভিডিপির ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ ও ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী সদস্যসহ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়াদানের জন্য আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমের ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

তিনি আরো বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি, দক্ষ জনবল এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মাধ্যমে এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে।

আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কর্মমুখী শিক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালু করা হয়েছে কলেজভিত্তিক ভিডিপি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও জননিরাপত্তায় অংশগ্রহণের উপযোগী দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তারা এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতার বাস্তব প্রয়োগ ঘটাবেন।

নিরাপত্তা কার্যক্রমের তদারকি ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে ব্যবহৃত ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’-এর কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ আরও সহজ ও কার্যকর হচ্ছে। পূজামণ্ডপে নিয়োজিত ভিডিপি সদস্যরা নিরাপত্তার প্রথম সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ ও তাৎক্ষণিক সাড়াদানে ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি, সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, ঘটনা ও দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং গুজব প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোর গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় তিন শ্রেণিতে নিরাপত্তা জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৬ হাজার ৯১৪টি মণ্ডপের প্রতিটিতে ৮ জন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ ১১ হাজার ৭৮১টি ও সাধারণ ১৪ হাজার ৪৭০টি মণ্ডপের প্রতিটিতে ৬ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় সারাদেশে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় পরিবেশ ও বন রক্ষায় সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত কাজের বাইরে গিয়ে উদ্যোগী হওয়ার এবং দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি (বীজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ মাতৃগাছ) চিহ্নিত করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ২৫ কোটি গাছ লাগানোর বড় পরিকল্পনার কথা সভায় তুলে ধরা হয়। গাছ রোপণের সাথে সাথে তার নিয়মিত পরিচর্যা, মনিটরিং এবং পার্বত্য অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রকৃতির সান্নিধ্য নিশ্চিত করতে ছাদবাগান ও স্কুলবাগানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকার দীর্ঘদিনের বায়ুদূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি একে দেশের জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করেন এবং এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সরকারি চাকরির নির্দিষ্ট সময়সূচির বাইরে গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে কর্মকর্তাদের বাড়তি চেষ্টা চালানোর তাগিদ দেন তিনি।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অন্য কোনো মন্ত্রণালয় গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে সেই ঘাটতি পূরণ ও গাছের তদারকির দায়িত্ব পরিবেশ মন্ত্রণালয়কেই নিতে হবে। সভায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সংস্কারে সহায়তা দেবে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংক: তিতুমীর

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশল অনুযায়ী সহায়তা দিতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলো একমত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার আইএমএফের ঋণ সহায়তার শর্ত পূরণে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা পরবর্তী পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও প্রতিফলিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার আশাবাদী, যদিও আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির একটি সংরক্ষণশীল পূর্বাভাস দিয়েছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক খাত ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ বাড়ানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্বের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ব্যাংক খাত থেকে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্টদের দেশে বা বিদেশে যেখানেই পাওয়া যাক, আইনানুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষায় ইতিমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ল মূল্যস্ফীতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে দেশটির মূল্যস্ফীতি। সরকারি হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিগত এক বছরে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ঠিক তার আগের মাসে অর্থাৎ আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণাকে ছাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি এভাবে বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি তেলের চড়া দর। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন সময়ে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় যখন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে, তখন মূল্যস্ফীতির এই আকস্মিক উল্লম্ফন স্বাভাবিকভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যানুযায়ী, বিগত এক বছরে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে মোটরযানের জ্বালানি খরচ বেড়েছে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই জ্বালানির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি দায় বহন করছে। সব মিলিয়ে এক বছরে সামগ্রিক জ্বালানি মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশে। এর মাঝে চরম আঘাত এসেছে ঘর উষ্ণ রাখার জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে, যার দাম এক লাফে বেড়েছে ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ।

জ্বালানির তুলনায় অবশ্য খাদ্যপণ্যের বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল এবং বছরওয়ারি হিসাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সীমাবদ্ধ ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশে। অন্যদিকে, খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থিতিশীল খাতগুলোকে বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল বা কোর মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে ২ শতাংশে। জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচ অর্থনীতির অন্যান্য খাতে, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের বাজারে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে কি না, সে বিষয়ে ফেডের নীতিনির্ধারকরা গভীর নজর রাখবেন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বাজারে জ্বালানির জোগান হ্রাস পেলে এবং চাহিদা আগের মতোই অটুট থাকলে স্বভাবতই দাম বাড়ে। এছাড়া অপরিশোধিত তেল ডিজেল ও পেট্রল উৎপাদনের প্রাথমিক কাঁচামাল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ের খরচে প্রতিফলিত হয়।

মূল্যস্ফীতির এই বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির বড় প্রভাব রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের অধিকাংশ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দেন। সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারিতে অধিকাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দিলেও ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প হিসেবে ঢালাওভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর করেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, শুল্কের ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন গতিশীল হবে এবং ক্রেতারা স্থানীয় পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত হবেন। তবে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই শুল্ক নীতিই দেশটির মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।

আমদানিকৃত পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক আরোপিত হলে বিদেশি রপ্তানিকারকরা যদি দাম কমিয়ে তার ভাগ না নেন, তবে মার্কিন ব্যবসায়ীদেরই সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় মেটাতে হয়। নিউইয়র্ক ফেডের তথ্যানুযায়ী, নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর বিদেশি রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্যের দাম নামমাত্র কমিয়েছে। যার ফলে বাড়তি শুল্কের প্রায় ৯০ শতাংশ আর্থিক চাপই বহন করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। গবেষণায় আরও সতর্ক করা হয়েছে, গড় শুল্কের হার ১ শতাংশ বাড়লে পরবর্তী এক বছরে ভোক্তা পণ্যের দাম প্রায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বর্তমান মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করলেও সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় তা এখনও যথেষ্ট কম। বৈশ্বিক মহামারির সময় সরবরাহ শৃঙ্খলের বিপর্যয় এবং ২০২২ সালের শুরুতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের জেরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেসব বৈশ্বিক সংকটের জেরে একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছিল।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের মানে বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং এর অর্থ হলো আগের তুলনায় ধীরগতিতে দাম বাড়ছে। একটি সচল অর্থনীতিতে পরিমিত মাত্রার মূল্যস্ফীতিকে সাধারণত আর্থিক স্থিতিশীলতার পরিচায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার প্রতিফলন দেখা যায় ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায়। পক্ষান্তরে মূল্যস্ফীতি মাত্রাতিরিক্ত কমে গেলে ভবিষ্যতে আরও কম দামে পাওয়ার আশায় সাধারণ ক্রেতারা ব্যয় স্থগিত রাখতে পারেন, যার ফলে বাজারে সামগ্রিক চাহিদা সংকুচিত হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের মজুরি হ্রাস বা ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।


কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের কৃষিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এখন মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যায় না। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে করতে হবে।

আজ সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ঐ অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে।’

তিনি বলেন, শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের ভূয়সী প্রসংশা করে বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক।

তিনি ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের কৃষিখাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজিপুর-২ এর সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সেলিম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং বারির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

সবশেষে রাষ্ট্রপতি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। তিনি উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন। সূত্র: বাসস

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button


বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কার কার্যক্রম ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট। দুই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে আজ আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল গত কয়েক দিনে তথ্য আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এসব আলোচনার ভিত্তিতে আজকের বৈঠকেও বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে, তা বিবেচনায় নিয়ে দেশের অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তবে ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাতসহ কিছু বিষয়ে সংস্থাটির যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেটা থাকা স্বাভাবিক। বাংলাদেশেরও কিছু বিষয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয় সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আগামী কয়েক মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে পারে।

আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে এবং তা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত রেখে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগ্রহী।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

কর্মসূচির শর্ত ও মতপার্থক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, শর্ত থাকবে। কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা ধৈর্য ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি বিশ্বাসযোগ্য কৌশল রয়েছে বলেই আলোচনা এত দূর এগিয়েছে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ অক্টোবর ব্যাংককে শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ সভা চলবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। সূত্র: বাসস


স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : সাখাওয়াত হোসেন

রাজধানীতে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ : নকশা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ উপযোগী হলেও একসাথে সব বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তাই সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে পাইলট স্কিম হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও এর কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এই আইনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন করার জন্য বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা ও সমন্বয় করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসা খরচ চলে যাওয়ার কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

নারীদের স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গর্ভকালীন সময়ে মা ও নারীরা যেভাবে বিব্রত ও হেয় প্রতিপন্ন হন, তা থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে। হেলথ সেন্টারগুলোকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে রূপান্তর করে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যানসার ও সার্ভিকাল ক্যানসারের টেস্ট এআই মেশিনের মাধ্যমে করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে সফলভাবে চলছে। এটি খুব কম খরচে সব উপজেলায় পর্যায়ে চালু করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে একযোগে কাজ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি স্তরে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুক হকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে কাল শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে।

এই দিন অর্থাৎ ‘মহা ষষ্ঠী’তে দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণ বা ‘বোধন’ অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী শনিবার ও রোববার, এই দুই দিন জুড়ে ‘মহা সপ্তমী’ তিথি থাকায় পরদিন থেকেই দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

মহাসপ্তমীতে ‘নবপত্রিকা’র আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। এতে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদকে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়।

সোমবার উদযাপিত হবে ‘মহাঅষ্টমী’। যার বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘সন্ধিপূজা’, যা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়।

পরদিন ‘মহানবমী’তে পূজার শেষ ধাপের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং দেবীকে ‘ভোগ’ নিবেদন করা হবে।

উৎসবের শেষ দিনে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন এবং প্রতিমা বিসর্জনের জন্য শোভাযাত্রা সহকারে নির্ধারিত নদী, পুকুর বা জলাশয়ে নিয়ে যাবেন।

পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আগমন করবেন।
অন্যদিকে, দেবী নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে গমন করবেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে।

শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসস’কে বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

দেশজুড়ে পূজা কমিটি, মন্দির ও মন্ডপগুলো পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি।

রাজধানীর পূজামন্ডপগুলোতে প্রতিমা, মন্ডপ তৈরি ও আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন প্রায় শেষ হয়েছে।

দেবী দুর্গা বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক, জ্বালা ও যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন।

শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামের অন্য একটি অর্থ করেছেন, দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা।

দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।

‘মহা চন্ডীতে’ উল্লেখ আছে, ত্রেতা যুগে ভগবান রাজা রামচন্দ্র দশানন রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে রত হন। পাপের বিনাশের লক্ষ্যে দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার কাছে শক্তি বৃদ্ধির আশায় শরৎকালে তার পূজা করেছিলেন এবং যুদ্ধে জয়লাভ করে দেবী সীতাকে উদ্ধার ও রাবণকে হত্যা করতে সক্ষম হন রামচন্দ্র।

সেই থেকে পৃথিবীতে প্রতি বছর শরৎকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গোৎসব পালন করে আসছেন।

পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি প্রায়ই শেষ হয়েছে।

সারাদেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল কাঁসা ও শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মন্ডপ।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামন্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মন্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা ও বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতীবাজার ও শাঁখারী বাজারসহ বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে দূর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন চলছে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গত ১০ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করেছেন, যা দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা বয়ে আনে।

উৎসব যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের মন্ডপগুলো জমকালো সাজসজ্জা, বর্ণিল আলোকসজ্জা ও শৈল্পিক থিমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে।

উৎসব চলাকালে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মন্ডপগুলোতে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করবেন, প্রসাদ গ্রহণ করবেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উদযাপিত হয়।

এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মন্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার পূজামন্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১ তে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূজামন্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

মন্ডপ আয়োজকদের সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখার এবং বিদ্যুৎ বা জেনারেটর বিকল হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রিচার্জেবল লাইট বা বাতি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মন্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা ও বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতীবাজার ও শাঁখারী বাজারসহ বিভিন্ন মন্দিরে দূর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন চলছে। সূত্র: বাসস


banner close