বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
প্রতিনিধি সম্মেলনে চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত

যা কিছু ভালো তার সঙ্গে থাকবে দৈনিক বাংলা

সোমবার দৈনিক বাংলার কার্যালয়ে পত্রিকাটির প্রতিনিধি সম্মেলন বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলার নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) আফিজুর রহমানসহ সাংবাদিক-কর্মকর্তারা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২২:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ২১:৫০

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দৈনিক বাংলার প্রতিনিধি সম্মেলন সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পত্রিকাটির নিজস্ব কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত বলেন, ‘যা কিছু ভালো তার সঙ্গে দৈনিক বাংলা থাকবে। ঐতিহ্যবাহী দৈনিক বাংলা পত্রিকাকে এগিয়ে নিতে যা যা করা প্রয়োজন, কর্তৃপক্ষ তা করবে। এই পত্রিকাকে এগিয়ে নেয়ার পথে আমাদের প্রতিনিধিরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন বলে আমি মনে করি। জনগুরুত্বপূর্ণ খবর পাঠিয়ে প্রতিনিধিরা দৈনিক বাংলাকে পাঠকপ্রিয় পত্রিকায় রূপান্তর করবেন বলে প্রত্যাশা রাখি।’

ছবি: দৈনিক বাংলা

এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত প্রতিনিধিদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

সম্মেলনে জেলা ও উপজেলার শতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তারা একে একে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা পত্রিকার সাফল্য ও সম্ভাবনা নিয়ে মূল্যবান পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সম্পাদককে অবগত করেন। সম্পাদক তাদের কথা ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

সম্মেলনে উপস্থিত দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিদের একাংশ। ছবি: দৈনিক বাংলা

প্রতিনিধি সম্মেলন উপলক্ষে এ দিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিধিরা দৈনিক বাংলার কার্যালয়ে জড়ো হোন। তারা দৈনিক বাংলার কার্যালয় ঘুরে দেখেন।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক বাংলার নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) আফিজুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি ফারাজী আজমল হোসেন, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক তানজিমুল নয়ন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ডেইজি মওদুদ, জি এম (মার্কেটিং) শাহাদত হোসেনসহ অনেকে।

সম্মেলনে উপস্থিত দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিদের একাংশ। ছবি: দৈনিক বাংলা

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিউজবাংলার অ্যাসিসট্যান্ট নিউজ এডিটর আজহারুল ইসলাম, দৈনিক বাংলার জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক শাহিদ আবেদীন, ডিজিএম (মার্কেটিং) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার রাফিউল ইসলাম সরকার প্রমুখ।


সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের শরিক দলগুলোর সংসদীয় বৈঠক চলছে।

বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদে সরকারের কৌশল নির্ধারণসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে এই সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্ধারণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। ক্ষমতাসীন দলের সব সংসদ সদস্য এতে অংশ নিয়েছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয় পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। সেই সময় সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন তারেক রহমান। একই দিন বিকেলে তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন।


অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিল সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি কমাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে জ্বালানি তেলের (অকটেন ও পেট্রোল) গড় বিক্রি ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, চলমান বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেল সরবরাহ/গ্রহণ সম্পর্কিত বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করে।

সে পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেলের (অকটেন ও পেট্রোল) গড় বিক্রয় হতে ২৫ শতাংশ হ্রাসের পরিবর্তে বর্তমানে ১৫ শতাংশ হ্রাস করে ফিলিং স্টেশন প্রতি বরাদ্দ চার্ট অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, হ্রাসকৃত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিপিসির অধীনস্থ বিপণন কম্পানি সমূহের ডিপো সুপার, বিক্রয় কর্মকর্তা এবং ডিলার/এজেন্টগণকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।


জামিন পেলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায় জামিন পেলেন। সেক্ষেত্রে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি।

গত ১৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। পরে গত ২৫ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি এই মামলায় আনিস আলমগীরকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা। আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের উৎস থেকে মোট আয় পাওয়া গেছে ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা।

এর মধ্যে অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয় ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ বাবদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ হিসাবে তার ঘোষিত ও গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া যায়, যা মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং তা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে করা হয়।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর জুলাই রেভুলেশনারী এলায়েন্সের সংগঠক আরিয়ান আহমেদ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর গত ১৫ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ এই মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।


১৬ মার্চ থেকে শুরু বিআরটিসির ঈদ স্পেশাল সার্ভিস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে আগামী ১৬ মার্চ থেকে ‘ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে বিআরটিসির এই ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

বিআরটিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুর ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী ভাড়ায় যাতায়াত নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

জনসাধারণকে বিআরটিসির এই বাস সেবা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় বৈঠক আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। নিজেদের কৌশল নির্ধারণসহ সার্বিক বিষয়ে আজ বুধবার (১১ মার্চ) সংসদীয় দলের বৈঠকে বসছে ক্ষমতাসীন দল। এ বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্ধারসহ চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত হতে পারে।

বুধবার (১১ মার্চ) সংসদ ভবনের সরকার দলীয় সভাকক্ষে এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ৯ মার্চ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সভায় ক্ষমতাসীন দলের সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

এ বৈঠক থেকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করবেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হবেন তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়াও সংসদীয় কমিটি গঠনে এবং সংসদের অন্যান্য কার্যপ্রণালি নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা।

এর আগে গত ৯ মার্চ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্য গঠনে সরকার ও বিরোধী দলীয় হুইপদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ ভবনের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনির অফিস কক্ষে বৈঠকটি হয়। এতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন, মো. রফিকুল ইসলাম খান, মো. আবুল হাসনাত ও মো. নূরুল ইসলাম।


দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হব না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই দেশ আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে জন্য সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীর কড়াইলে বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছান। তবে, মঞ্চে ওঠার আগেই তিনি সোজা চলে যান মাঠে অপেক্ষমাণ নারীদের কাছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নারীরা। নানা স্লোগান দেন তারা। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এতো কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুরুতে পবিত্র কোরআন, বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল পাঠের পর বিএনপি দলীয় সংগীত পরিবেশ করা হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উদ্বোধনী বোতাম চেপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জনের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পৌঁছে দেন। প্রতিজনের অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় ১৭ জন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এরা হলেন বেগম পারভিন, বেগম সমলা, বকুলা বেগম, বেগম জ্যোৎস্না, তসলিমা আখতার, বেগম রাশেদা আখতার, বেগম হোসনা আখতার, রিনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোখসানা আখতার, মোসাম্মাৎ মাহফুজা, বেগম লিনা আখতার, মোসাম্মাৎ সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম, মিনারা বেগম। এ সময় করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে এদিন সারা দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো। নির্বাচনে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের ওয়াদা দিয়েছিলাম। এক মাস পূরণের আগেই আমরা তা পূরণ করতে পেরেছি। সেই জন্য শুকরিয়া আদায় করছি। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারায় আজ আমার জন্য যেমন একটি আবেগের দিন, তেমনি সরকার ও বিএনপির জন্যও একটি ঐতিহাসিক ও আবেগের দিন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষাকে বিনা মূল্যে করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারীসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেই এখন ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কড়াইল, সাত তলা ও ভাষানটেক এলাকার ১৫ হাজার নারীকে কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চার কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, এই কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলাম তাই আজ একটি স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক দিন। এখন ১৪ জায়গায় কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে সবার কাছে এই কার্ড নিয়ে যেতে পারব বলে আশাবাদী।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে এই কার্ড চালু করা হলো।

বক্তব্যের শেষে তিনি তার নির্বাচনী স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রত্যেকটি নির্বাচনী জনসভায় একটি কথা আমার বক্তব্যের শেষে আমি তুলে ধরতাম। সেই কথাটি ছোট্ট একটি স্লোগানের মাধ্যমে আপনাদের সকলের কমবেশি জানা আছে, সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্লোগানটি পৌঁছে গেছে। আজকে সেই স্লোগানটি দিয়েই আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই, সেই স্লোগানটি ছিল: করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ! সবার আগে বাংলাদেশ!

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আজ বাস্তবায়িত হলো। এই কার্ড নিয়ে রাজনীতি, দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলো ভাতা পাবে। ভাতার টাকা যাবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তারা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।

কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।

এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।


আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিরা ফের সক্রিয় হচ্ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। আত্মসমর্পণ করা অনেক চরমপন্থি সদস্য পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

রাজধানীর আদাবর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার জব্দ ও দুইজনকে গ্রেপ্তার করার বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি পাবনা-কুষ্টিয়া এই অঞ্চলে চরাঞ্চল রয়েছে। এই চরাঞ্চল দখল নিয়ে বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। এসব অস্ত্র এই অঞ্চলের বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

‘সুন্দরবনে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুরাও আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে সাধারণ মানুষের অপরাধ জগতের বিচরণ ও প্রত্যাবর্তন। সুন্দরবনের জলদস্যুদের বিষয়টি আমরাও পরিলক্ষিত করেছি। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যে তথ্য পাচ্ছি তাতে এই ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমাদের তৎপরতা আগেও ছিল, এখনো আছে।

তিনি বলেন, আর যারা ইতোমধ্যে অপরাধে জড়িয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন সময়ে র‍্যাব এককভাবে আবার কখনো কখনো র‍্যাব, পুলিশ এবং কোস্ট গার্ড সম্মিলিতভাবে নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবেও বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এসময় চরমপন্থি গ্রুপগুলোর সক্রিয় হওয়ার বিষয় তুলে ধরে যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া র‍্যাব-১২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সর্বহারা ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতা ছিল।

২০২৩ সালে র‍্যাব-১২ এর উদ্যোগে প্রায় ৩১৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল এবং তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছু আত্মসমর্পণকারী সদস্য আবারও পুরোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে মনিটর করতে থাকি এবং যার ফলস্বরূপ আজকে আমাদের এই সফলতা এবং আমরা এগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের ধারণা, নিষিদ্ধ যারা চরমপন্থি আছে, তাদের হাতে এগুলো যাওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা আছে— আমি ধারণা করছি।


জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের হাতে সুযোগ রয়েছে: সিপিডি

* সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে * মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হবে * বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোগ নিতে হবে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে এখনো কিছু নীতিগত সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)। এছাড়া এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন মনে করছেন সংস্থাটির গবেষকরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে সিপিডির পরামর্শ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সংস্থাটি মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে নীতি–উপকরণ ব্যবহার করে স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সেটি স্থানীয় বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলাদেশে জ্বালানির ওপর প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এসব কর কমিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ কমাতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জ্বালানি আমদানিতে আরোপিত ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দেশে বর্তমানে ডিজেল, অকটেনসহ বিভিন্ন জ্বালানির কয়েক সপ্তাহের মজুত রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা হলো—এখানে কোনো স্থায়ী কৌশলগত জ্বালানি মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেই, যা অনেক প্রতিবেশী দেশে রয়েছে। এমন রিজার্ভ থাকলে সংকটের সময় বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হতো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কিনে মজুত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই ‘প্যানিক বায়িং’ বেড়ে গেলে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে সামাল দেওয়া কঠিন। তাই বাজারে আস্থা তৈরি করা এবং সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি।

বর্তমানে সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পট মার্কেট থেকে তেল কিনছে এবং ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির চুক্তি পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই রিজার্ভের ওপর খাদ্য নিরাপত্তা ও সার আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) থেকে ঋণ নেওয়ার কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে একটি কৌশলগত জ্বালানি রিজার্ভ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। এতে ভবিষ্যতে বাজারে স্থিতিশীলতা থাকবে এবং প্যানিক বায়িংয়ের ঝুঁকিও কমবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির কারণে চলতি অর্থবছরেই সরকার প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা শুল্ক রাজস্ব হারাতে পারে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করছে, এই চুক্তির ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য অন্যান্য দেশকেও একই ধরনের সুবিধা দিতে হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। পাশাপাশি আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আরও ২ হাজার ২১০ ধরনের পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে।

তার মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি অর্থবছরেই সরকার আমদানি শুল্ক থেকে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে। তিনি আরও বলেন, চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা ডব্লিউটিও-এর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এর ফলে ডব্লিউটিওর আওতাভুক্ত অন্যান্য দেশকেও একই সুবিধা দিতে বাধ্য হতে পারে বাংলাদেশ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার শর্ত থাকায় সরকারের ব্যয়ও বাড়তে পারে। এ কারণে চুক্তির প্রভাব—বিশেষ করে রাজস্ব আয় ও সরকারি ব্যয়ের বিষয়টি—পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার আলোচনা করা উচিত।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বর্তমান সময়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এজন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। তাই এটি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ, যার মাধ্যমে তারা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব দেখাতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান অস্থিরতা মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি জোর দেন।


জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে বাংলাদেশ: চীনা রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ খাতে বিনিয়োগে বাংলাদেশ আরও উৎসাহ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একইসঙ্গে কীভাবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও ভালো পদ্ধতি তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেছেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ কি কোনো প্রস্তাব দিয়েছে– জানতে চাইলে ইয়াও ওয়েন বলেন, তারা এ খাতে আরও বিনিয়োগকে উৎসাহ দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে আরও বিনিয়োগের কথা বলেছে, যেমন– তাপবিদ্যুৎ অথবা জ্বালানি, সৌর উন্নয়ন এবং ছাদভিত্তিক (রুফটপ) প্রকল্প।

আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই নতুন সরকার এসব খাতে উন্নয়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় আরও আগ্রহী। তাই আমি নিশ্চিত যে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এ খাতটি উচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। এটি চীন ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও বেশি উপকার বয়ে আনবে।

চীন কি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে– জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা আলোচনা করছি। আমরা বিভিন্ন উপায় খুঁজে দেখছি। কিছু নির্দিষ্ট অনুরোধ রয়েছে, তাই আমরা দেখব কীভাবে একসঙ্গে কাজ করা যায়। তবে আমি এখন বিস্তারিত বলার অবস্থানে নেই।

তিনি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমাদের আলোচনা খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক ছিল। আমরা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। কিছু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছি যেগুলো নির্মাণাধীন আছে এবং আমরা আলোচনা করছি কীভাবে আমাদের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা যায়।

ইয়াও ওয়েন বলেন, উভয়পক্ষ থেকেই বর্তমান যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি আমরা হচ্ছি তা বিবেচনায় রেখে কীভাবে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে।

তাই আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায়ও পৌঁছেছি এবং আমরা দেখব কোন উপায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও ভালো পদ্ধতি তৈরি করা যায়।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশ কি কোনো দাবি করেছে– জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমরা জ্বালানি খাতে চীনের বিনিয়োগ, বিশেষ করে সবুজ জ্বালানি, সৌর শক্তি– এই ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। তারা কিছু পাইপলাইন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেছে। আর অবশ্যই আমরা মধ্যপ্রাচ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তার কারণে যে সাধারণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি তা নিয়েও আলোচনা করেছি। তাই আমরা আলোচনা করছি কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা যায়।


গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে বেআইনি গ্রেফতার ও মামলা বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বিজয় সরণিতে সামরিক জাদুঘর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘সকল নারী ও বালিকার জন্য অধিকার, বিচার ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই সেমিনারের আয়োজন করে। আইন মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ জানানো হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের কল্যাণ, মানবাধিকার ও নারীর অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় জাতীয় পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু কর্মসূচি চালু করা হয়েছে (১০ মার্চ) মঙ্গলবার।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং এসব কার্ডের মালিকানা পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের নামে দেওয়া হয়েছে। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৭টি জনসভায় নারী জাগরণের জন্য নারীদের উদ্বুদ্ধ করার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, তিনি নীতিগতভাবে নারী কমিশন গঠনের পক্ষে। তবে দেশে একের পর এক কমিশন গঠনের ফলে অনেক সময় তাদের দায়িত্বের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়ক একটি অর্ডিন্যান্স হয়েছে, যেখানে গুম কমিশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুম কমিশন যুক্ত হওয়ার ফলে মানবাধিকার কমিশনকে গুম কমিশনের তদন্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে। এতে মানবাধিকারের মূল কাজ ব্যাহত হতে পারে। তাই এই আইন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। যদিও সরকারের নীতি হলো গুমকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।’

নারী কমিশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে মৌলবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে নারীরা। তাই নারীদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের সচেতন করছে। নারীরা সচেতন হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।’

নারীর অধিকার প্রসঙ্গে নিজের উদাহরণ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, তার দুই মেয়ে রয়েছে কিন্তু ছেলে সন্তান নেই। শরিয়া আইনের বিধান অনুযায়ী তিনি যে সম্পদ অর্জন করবেন তার সম্পূর্ণ অংশ তার মেয়েরা পাবে না। তাই বিকল্প আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

বআইনি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে বেআইনি গ্রেফতার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছে। মিথ্যা মামলার সংস্কৃতিও অনেকটা বন্ধের পথে রয়েছে।’ এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পেলে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আরও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রীরা যাতে ‘বেগম পাড়া’ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সে বিষয়ে নাগরিক সমাজকে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি নীতিগতভাবে মনে করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্যও ম্যারেজ ও ডিভোর্স আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যেমনটি মুসলমানদের জন্য বিদ্যমান রয়েছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া, বাংলাদেশে জাতিসংঘের নারী প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং, জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান এবং মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন।


পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তার পদায়ন ও বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে আরেক কর্মকর্তাকে বদলি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুনকে পিআইবিতে পদায়ন করা হয়েছে। ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. তারেক মাহমুদকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়েছে।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।


তারেক রহমান অঙ্গীকার পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার। এর জন্য তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক; তাই বিলম্ব না করে সরকার গঠনের ২১তম দিনে বাংলাদেশের ১০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে তিনি কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে আরও একটি প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে। সেটি হলো খাল খনন কর্মসূচি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ জুনিয়র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাবেন গৃহবধূরা, নারীরা। এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক ভিত্তি দৃঢ় করা। সন্তানদের চাহিদা পূরণের জন্য তারা বেশি মায়েদের কাছে আসে, আমরা চাই পারিবারিক ভিত্তিগুলি শক্তিশালী হোক। পরিবারের নারীরা জানেন কোন খরচগুলো বেশি প্রয়োজন এবং তার পক্ষেই সম্ভব পরিবারের খরচ বাঁচিয়ে সঞ্চয় করা যায়। সেজন্য প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের যতগুলো নির্বাচনি অঙ্গীকার করা হয়েছে তার সবটি বাংলাদেশের উন্নয়নকে টার্গেট করে করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটি ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব। যাতে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে।

মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সুনামগঞ্জের যতগুলো রাস্তা আছে, ব্রিজ কালভার্ট দরকার এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য যেখানে খাল খনন দরকার- তা করা হবে।

তিনি বলেন, যেহেতু এখানে একটি মাত্র ফসল উৎপাদন হয় বোরো ফসল, আর কী ধরনের ভিন্ন প্রজাতির বাড়তি ফসল হিসেবে ফলানো যায় এই পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে গ্রামীণ কৃষিজীবী পরিবার যাতে বাড়তি আয় করতে পারে সে বিষয়ে কাজ করবে সরকার।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইনস্ট্রাক্টর হরিমোহন রায়ের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন- এমপি নাছির চৌধুরী, এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ, এমপি কামরুজ্জামান কামরুল, এমপি এম কয়ছর আহমেদ, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সহিদুল ইসলাম প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজিব সরকার।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে আর একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেটি হলো খাল খনন কর্মসূচি। কৃষি উৎপাদনে সিলেট বিভাগ তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে, তার কারণ হলো বেশির ভাগ জমিতে শুকনো মৌসুমে সেচের অভাব। সে কারণে বাড়তি ফসল হয় না, বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এই জমিগুলোতে যদি আমরা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারি আর শুকনা সময়ে সেচের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে সিলেট বিভাগের প্রত্যেকটা কৃষি জমি থেকে বাড়তি ফসল ফলানে সম্ভব। আগামী দিনে আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। আমরা চাই প্রত্যেকটা পরিবারের মধ্যে স্বচ্ছতা দেখতে, এটাই হচ্ছে আমাদের আগামী দিনের অঙ্গীকার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তারও আগে আওয়ামী লীগের সময়ে বিনিয়োগের বন্ধ্যত্ব ছিল, বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ছিল। আমরা জানি বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হয় না। কর্মসংস্থান যদি না হয় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা থাকবে না, দারিদ্র্য বাড়বে। এ জন্য যাতে বিনিয়োগবান্ধব একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়বে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কিছু প্রভাব তো পড়বেই। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে নদীপথ সমুদ্রপথ এ যুদ্ধের যে অবস্থানের কাছাকাছি থাকায় পরিবহন খরচ বাড়বে, তবে ৫-১০ দিন যুদ্ধের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার আশু কোনো সম্ভাবনা নাই।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত যে উপায়ে এই কার্ডগুলোর উপকারভোগীদের বেছে নেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে কোনো বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বিবিএসের জরিপ থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে খানা জরিপের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য স্কোরিং এর মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। আমরা সবসময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখব। এ সময় মন্ত্রী কয়েক নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।

এ প্রকল্পে কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আকিল শাহ, উত্তর সুরিয়ারপাড় ও রাধানগর গ্রামের ৬৯৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।


ভারত থেকে আসছে ৫,০০০ টন ডিজেল, খালাস শেষ হবে আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে ৫,০০০ টন ডিজেল আসা শুরু হয়েছে। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে এই ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এসে পৌঁছাচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ৩টা ২০ মিনিট থেকে ভারত থেকে আসা ডিজেল পাম্পিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ৫,০০০ টন ডিজেল সম্পূর্ণ খালাস করতে প্রায় ৪৪ ঘণ্টা সময় লাগবে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, পার্বতীপুর ডিপোতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ টন তেল পাম্পিং করা সম্ভব। সেই হিসেবে, ভারত থেকে আসা এই তেলের চালানের পাম্পিং শেষ হতে বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত এই মৈত্রী পাইপলাইনটি প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই বিশেষ পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল পরিবহন করা হয়ে থাকে।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই আন্তঃদেশীয় পাইপ লাইনটির উদ্বোধন করা হয়। বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে এই পাইপলাইনটির।

সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তারা জানান, পাইপ লাইনটি চালুর আগে ২০১৬ সাল থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজেল আনা হতো। তবে পাইপ লাইন চালু হওয়ার ফলে পরিবহন সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, এই পাইপ লাইন ব্যবহার করে প্রতি বছর ১.৮০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে ভারত। এছাড়া ২০২৬ সালে বাংলাদেশকে ১.২০ লাখ লিটার তেল দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, গত রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, সেই বৈঠকে মৈত্রী পাইপ লাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।


banner close