বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
৪ চৈত্র ১৪৩২

বিদেশ যেতে পারবেন না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই জাকির

মো. জাকির হোসেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৩:২৩

অর্থপাচার আইনের মামলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। তবে এ সময় তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। এ জন্য তার পাসপোর্ট আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বুধবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

অর্থপাচার আইনে করা মামলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জামিন দেন হাইকোর্ট। এ জামিন স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল করে দুদক। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

তিনি চেম্বার আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। আমরা সেই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করি। আদালত শুনানি নিয়ে জামিন স্থগিত না করলেও পাসপোর্ট জমা দিতে বলেছেন, এবং বিদেশ যেতে আদালতের অনুমতি নিতে হবে বলেছেন।

জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৪ মার্চ মামলা করে দুদক। মামলায় তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলের অভিযোগ আনা হয়।

জাকির হোসেনের জমা দেয়া আয়কর নথি ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে দুদক তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের তথ্য পায়। ২০২১-২২ আয়কর নথি অনুযায়ী, জাকির হোসেনের নামে ধানমন্ডির ১ নম্বর সড়কে ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় ২৬৩ অজুতাংশ জমির ওপর ৭৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭০০ টাকা খরচ করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণসহ মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকার স্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের টয়োটা রোস গাড়ি, নগদ ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৯৭০ টাকা ও ব্যাংক হিসাবে রক্ষিত ৭২ হাজার ৫০৬ টাকাসহ মোট ১৩ কোটি ৮৮ লাখ ৮৭ হাজার ৪৭৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে আয়করে। সব মিলিয়ে জাকির হোসেনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৬ টাকা।

জাকির হোসেন ১৯৯২ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। তিনি ১৯৯৫ সালে কুয়েত দূতাবাসে এবং ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কেনিয়ার নাইরোবিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রামমুখী লেন ৪ দিন বন্ধ থাকবে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় অবস্থিত সেতুর জরুরি মেরামত কাজের কারণে আগামী ২২ মার্চ থেকে চারদিন চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই লেন দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।

এরপর ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এক লেন দিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল চালু রাখা হবে।

সওজের ফেনী কার্যালয় থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেরামতকাজ চলাকালে যান চলাচলের জন্য কয়েকটি বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিকল্প পথের বেশিরভাগই শহরের অভ্যন্তরীণ এবং ভারী যানবাহনের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে শহরের ভেতরে যানজট ও দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে এই মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট। বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করায় এই সময়ে লেন বন্ধ থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

এদিকে সড়ক বিভাগের দাবি, ঈদ পরবর্তী সময়ে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং ভারী যান চলাচলও সীমিত থাকে। তাই এই সময়টিকেই মেরামতের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাময়িক কিছু চাপ থাকলেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।


গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে উল্লেখ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। রাস্তায় কোনো ধরনের যানজট নেই।

বুধবার (১৮ মার্চ) গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। কোনো ধরনের যানযট নেই। যে দুই-তিনটি অভিযোগ আসছে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, রাজধানী থেকে সময়মতো বাস ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা স্বস্তিতেই যাত্রা করছেন।

এ সময় যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ৩২ হাজারের বেশি যান পারাপার হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট হওয়ার গুঞ্জনের মধ্য মন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনে কোনো ধরনের তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত দেওয়া হচ্ছে।


ঈদের দিনে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী শুক্র বা শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

এ দুদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (১৮ মার্চ) আবহাওয়া অফিসের ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গত রোববার রাতে সংঘটিত রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি ছিল, তবে পরবর্তীতে অনিবার্য কারণবশত সেই ব্রিফিং স্থগিত করা হয়। বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল গত রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলির শিকার হয়ে নিহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায় যে, সেদিন কয়েকজন যুবক আকস্মিকভাবে এসে প্রথমে রাকিবুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন একজনকে চাপাতিসহ আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডটি মূলত প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
এই নৃশংস হামলায় সাত থেকে আটজন অংশ নিয়েছিলেন এবং ঘাতকদের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বিশেষভাবে ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। নিহত রাকিবুলের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলায় এবং তাঁর পিতা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী।


প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে দায়িত্বে থাকবেন দুই মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদ বিষয়ক কার্যাবলি কীভাবে সম্পাদিত হবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী, ২৫ জন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রীর বিকল্প হিসেবে সংসদে কোন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এবং তাদের বিকল্প—উভয়েই কোনো কারণে সংসদে অনুপস্থিত থাকলে কীভাবে কার্যক্রম সম্পাদিত হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‌‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর যুগপৎ অনুপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং তার অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশ্নোত্তর প্রদান এবং সংসদ সম্পর্কিত কার্যাবলি সম্পাদন করবেন।’


ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ চূড়ান্তকরণ এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনার লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬ টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই বৈঠকের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হবে মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবটি কবে উদযাপিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

চাঁদ দেখার তথ্য সরাসরি জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে জানানোর জন্য ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরগুলো সচল রাখা হবে। এছাড়াও নাগরিকগণ সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা নিজ নিজ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও চাঁদ দেখার সংবাদ প্রদান করতে পারবেন।


নারী অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নারীর অবস্থা বিষয়ক কমিশনের ৭০তম অধিবেশনে (সিএসডব্লিউ৭০) অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অবিচল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রদত্ত ভাষণে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন সূচকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ পূর্ণ দায়বদ্ধ এবং নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আর্থ-সামাজিক অবস্থান বা পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচারের পথ উন্মুক্ত থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো প্রকার ভয় বা বাধা ছাড়াই আইনি সুরক্ষা ভোগ করতে পারে।

বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানগুলোতে বাংলাদেশি নারীদের অবদান অত্যন্ত গৌরবজনক ও লক্ষণীয়। তবে বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজন বিশেষ করে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের নারীদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলায় ড. রহমান নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচারিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য, ৯ থেকে ১৯ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে চলমান এই ৭০তম অধিবেশনটির মূল প্রতিপাদ্য হলো সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।


যমুনা সেতুতে যানবাহন পারাপারে রেকর্ড, ৪৮ ঘণ্টায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা টোল আদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে যমুনা সেতুতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে গত ৪৮ ঘণ্টায় ৮২ হাজার ৬০১টি গাড়ি পারাপারের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে এই টোল আদায় করা হয়।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং একদিনেই ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন থেকে এক কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা এবং ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন থেকে এক কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করা হয়।

মহাসড়কের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ জানায়, সোমবার বিকাল থেকে সরকারি ছুটি হওয়ার পর মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তবে স্বস্তির খবর হলো, বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। বিশেষ করে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা পাওয়ায় যাত্রীরা কোনো বাধা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারছেন। যদিও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার যানজটের আশঙ্কা করলেও এখন পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়নি এবং চালক ও যাত্রীরা নির্বিঘ্নেই গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।


ফেব্রুয়ারিতে দুদকের জালে ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার সম্পদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা প্রায় দেড়শ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

২০২৪ সালে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দুদকের অনুসন্ধান ও মামলায় গতি আসে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয় দুদক। চলমান বিভিন্ন অনুসন্ধান ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ আদালতের নির্দেশনায় ক্রোক বা অবরুদ্ধ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় কমিশন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যা অতীতে এত অল্প সময়ে হয়নি। ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগ এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের ২০টি আদেশে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। একই সময়ে আদালতের ১৫টি আদেশে ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়ে মোট ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮ একর জমি, যার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এছাড়া, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, দুটি টিনশেড ঘর, দুটি দোকান এবং ছয়টি গাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি খেলার মাঠ ও একটি স্কুলের মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৪৪টি ব্যাংক হিসাব, যেখানে জমা রয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া, বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার, এফডিআর, বিও হিসাব, প্রাইজবন্ড ও বিমা পলিসিসহ নানা আর্থিক সম্পদ রয়েছে।

সব মিলিয়ে অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকা বলে জানিয়েছে দুদক।


ঈদযাত্রা পরিদর্শন, আইন না জানাও একটা অপরাধ: আইজিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন না জানাও একটা অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। আবার দেখা যায়, অনেকে ঈদের আগের দিন রওনা দেয়, বাড়িতে পৌঁছে সঠিকভাবে ঈদটাও করতে পারে না। এ জন্য এ বছর আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আমাদের যাত্রীদের ঈদযাত্রায় যেন হয়রানি, টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়া, সড়কে যানজট না হওয়া তা নিশ্চিত করার জন্য সব মহাসড়কে ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায়, সে জন্য গুরুত্বসহকারে কাজ করছি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেছেন।’

আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, ‘বড় বড় বাজার ও মোড়গুলোতে প্রচুর পরিমাণের যানজট সারা বছর লেগেই থাকে। সেগুলো দূর করার জন্য সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ওই এলাকায় যাতে যানজট না হয়, তার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পরিবহন মালিক সমিতির লোকজনকে অনুরোধ করেছি, যাতে পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা চালক ও সহযোগী হিসেবে থাকেন, তারা অনেক সময় ট্রাফিক আইনটাও জানেন না। ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না। এতে যানজট তৈরি হয়, এসব ক্ষেত্রে একটু মেধা খাটালেই এটা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। এ জন্য তাদের অনুরোধ করেছি, তাদের মোটিভেশন ও ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেওয়ার জন্য।’

গাবতলী বাস টার্মিনালে আইনশৃঙ্খলার তৎপরতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এখানে মাদকসেবী, ছিনতাইকারী রয়েছে। সব ধরনের লোকই আছে। এ জন্য সারাদেশে ও পুলিশের সকল ইউনিটকে বলে দিয়েছি যেন ডিউটিতে থাকে। কোনো ধরনের হুমকি নাই। তারপরও জনগণকে বলতে চাই, বাংলাদেশ পুলিশ তৎপর রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অন্যায় কোনো কিছুর সঙ্গে আপস করা হবে না।’ ‎

রাজধানীতে নানা স্থানে অবৈধ বাস কাউন্টারের বিষয়ে ‎আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আইজিপি হিসেবে যোগদানের পরই বলেছি, ঢাকা শহরের ভেতরে দূরপাল্লার কোনো বাস কাউন্টার থাকতে পারবে না। এটা দূর করার জন্য আমাদের সবার প্রচেষ্টা দরকার। আইনের মাধ্যমে আমরা এসব দূর করব।’‎

টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়ার পরও অভিযোগ না করার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘এটা আমাদের সমস্যা। আইন না জানাও একটা অপরাধ। জানার দায়িত্ব নিজের। প্রচলিত দেশের আইন জানা একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব। প্রধান দায়িত্ব আপনাকে আইন জানতে হবে। আপনি জানেন না, এসে বলবেন, আমি এটা জানতাম না, এই অজুহাত মানব না। প্রচলিত আইন জানাও আমাদের দায়িত্ব।’


ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল, নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

* কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়  *সদরঘাট ফিরছে সেই পুরোনো ব্যস্ততায় * বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় * ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিল গাড়ির চাপ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। স্বস্তি-অস্বস্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা থাকেন, তারা এখন নিজ নিজ জেলায় অর্থাৎ বাড়িতে ফিরছেন। বাস, ট্রেন, লঞ্চ সবক্ষেত্রে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে গাবতলী, মহাখালী এবং যাত্রাবাড়ী বাস স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেই সাথে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভিড় করছেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত লঞ্চঘাটে চাপ বেড়েছে, আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট দেখা দিয়েছে।

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেই অনুসারে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। তবে পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বড় যানবাহনের জন্য সাতটি ও মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা টোল কাউন্টার চালু থাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে টোল আদায় সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছাড়াই চালকরা সেতু পার হতে পারছেন। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রা সম্পন্ন করতে পেরে সাধারণ যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

যাতায়াতে ভোগান্তি না থাকলেও অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, ঈদের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও ভাড়ার ক্ষেত্রে এমন নৈরাজ্য তাদের ঈদ আনন্দ কিছুটা ম্লান করছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায় ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড় : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রীরা স্টেশনে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে চালু হওয়া বিশেষ ট্রেনের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেনগুলোতেও তীব্র যাত্রীচাপ রয়েছে। নির্ধারিত ট্রেনে উঠতে অনেক যাত্রী আগেভাগেই স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। টিকিটধারীদের পাশাপাশি অনেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েও যাত্রা করছেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রেনের সময়সূচি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব ধরনের ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ছুটছেন বাড়ির পথে। ফলে কমলাপুর স্টেশনজুড়ে এখন ঘরে ফেরার উচ্ছ্বাসই চোখে পড়ছে।

সদরঘাটে ফিরছে সেই পুরোনো ব্যস্ততা :

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত ঈদের আগে আজই ছিল শেষ কর্মদিবস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে যাত্রীদের চাপ ব্যাপক।

লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য ঘাটে আসছেন। ঘাটে কুলি-মজুরদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে। ঈদের আগে ভিড় এড়াতে অনেকে আগেভাগেই যাত্রা শুরু করছেন। সাধারণ সময়ে বরিশাল রুটে এক বা দুটি লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে যাত্রীর চাহিদা বাড়ায় চারটি লঞ্চ ছাড়ছে।

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন এক হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার ৪০০ টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। অন্যদিকে চাঁদপুর রুটে ডেকের ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিলেন সাইফুল হক। বেলা বাড়লে ভিড় বাড়বে বলে আগেভাগেই তিনি মিরপুর থেকে এসেছেন তারা। তিনি বলেন, ভিড় এড়াতেই আগেভাগে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। ভাড়াও আগের মতোই রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌকর্তৃপক্ষের পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, এবারে ঈদ উপলক্ষে আমরা যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবেছি। নতুন ট্রলি সরবরাহ করেছি মালামাল বহনের জন্য। যাত্রীদের ভিড় অনেকটা বেড়েছে।

বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় : মহাখালী বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। এদিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে দুপুর পর্যন্ত যাত্রীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। সায়েদাবাদ ও ধোলাইরপাড় বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ বেশ বেড়েছে। সায়েদাবাদ থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে যায়।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকেলের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যাত্রীদের জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহনের চাপ ছিল অনেক। এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গণপরিবহন সংকট, যাত্রীদের ভোগান্তি

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো যানজট নেই। তবে মহাসড়কে গণপরিবহনের সংকট দেখা দেওয়ায় ঘরমুখো মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মহাসড়কের এলেঙ্গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ রয়েছে।

অনেকেই বাস বা গণপরিবহন না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে মহাসড়কের নগরজালফৈ বাইপাস, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এসময় দেখা যায়, কেউ কেউ আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা যাবত গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভ্যাপসা গরম ও ধুলোবালিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষদের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ : ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ১০৪ কিলোমিটার অংশে এখনো পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টার পর থেকে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও পরিবহনের চাপ বেড়েছে। এবারের ঈদ যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন চালক ও যাত্রীরা। তারা বলছেন বিগত সময়ে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে ঘরমুখো মানুষদের দুর্ভোগে পড়লেও এবার সেই ভোগান্তি নেই। এদিকে এবারে যানজট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।


চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে গতি আনতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ। বর্তমানে ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভান’- এর মধ্যে প্রথমটি বুধবার (১৮ মার্চ) এবং দ্বিতীয়টি আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) বন্দরে ভিড়বে, যা জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, চ্যাং হ্যাং হং তু’ নামের জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে ১৫ মার্চ বন্দরে এসেছে এবং বর্তমানে ব্রাভো মুরিং-এ অবস্থান করছে। জাহাজটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন কার্গো খালাস করেছে এবং এর সম্পূর্ণ খালাস শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ১৯ মার্চ। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, জাহাজটি আজ বুধবার বন্দরে ভিড়বে।

অন্যদিকে ‘এলপিজি সেভেন’ জাহাজটি ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে ৮ মার্চ আগমন করে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭০২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস হয়েছে এবং জাহাজটির সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০ মার্চ ২০২৬। জাহাজটি শুক্রবার বন্দরে ভিড়বে বলে জানা গেছে।

তালিকায় আরও দেখা যায়, মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই ইতোমধ্যে কার্গো খালাস সম্পন্ন করে বন্দর ত্যাগ করেছে। এর মধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারতের বিভিন্ন বন্দর থেকে আসা জাহাজগুলো এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েল, গ্যাস অয়েল, এইচএসএফও ও বেস অয়েল সরবরাহ করেছে।

এছাড়া কয়েকটি জাহাজ বর্তমানে ‘প্যাসেজ’-এ রয়েছে, অর্থাৎ তারা বন্দরের পথে রয়েছে। এর মধ্যে কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে আসা জাহাজ রয়েছে, যেগুলো এলএনজি, এইচএসএফও, এলপিজি ও বেস অয়েল বহন করছে।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, ‘জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’


বাজেটের দুই অধ্যাদেশ আইনে রূপ দেওয়ার অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে এসব তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

তিনি জানান, এদিন বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল তিনটি বিষয়। এর মধ্যে দুটি প্রস্তাব ছিল অর্থ বিভাগের এবং একটি ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। প্রথম প্রস্তাব ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটসংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনে পরিণত করা।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী কোনো অর্থবছরে অনুমোদিত বরাদ্দ অপর্যাপ্ত হলে বা কোনো খাতে অনুমোদনের চেয়ে বেশি ব্যয় হলে একটি ‘সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি’ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। কিন্তু সংসদ না থাকা অবস্থায় ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সেই সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি সংসদে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

সে কারণেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এখন সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা বিল মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটসংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কে আইনে রূপ দেওয়া।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদে প্রতি অর্থবছরের জন্য ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ সংসদে উপস্থাপনের কথা বলা আছে। কিন্তু সংসদ না থাকায় ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুর আগে তা সম্ভব হয়নি।

পরে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে প্রস্তুত বিলও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে।

ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এগুলো আগে জারি করা অধ্যাদেশকে আইন করার প্রক্রিয়ার অংশ; এখন সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদ না থাকায় যেসব বাজেটীয় ব্যবস্থা অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা হয়েছিল, সেগুলোই এখন আইন আকারে নেওয়া হচ্ছে।

ডব্লিউটিওর আইএফডিএতে যোগ দেবে বাংলাদেশ: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্লুরিল্যাটারাল জয়েন্ট স্টেটমেন্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্টে বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, ওই চুক্তির লক্ষ্য হল বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ সহজ করা। তাতে বাজারে প্রবেশাধিকার বা ‘ইনভেস্টর-স্টেট ডিসপিউট সেটেলমেন্ট’ বিষয়ে নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না, বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিও বদলাতে হবে না। এ চুক্তিতে যোগ দিলে বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ‘আরও জোরালো’ হবে।

দুর্যোগ সহায়তার নির্দেশ: সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও হঠাৎ বন্যার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ফ্ল্যাশ ফ্লাডে মানুষের কষ্ট লাঘবে কৃষি মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সচিব জানান, ছুটির মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ও সহায়তার প্যাকেজ তৈরি করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদেরও তাদের হাতে থাকা স্থানীয় তহবিল ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী ধরনের অতিরিক্ত সহায়তা লাগবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করে পাঠাতে বলা হয়েছে।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মামলা নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ধর্ষণ মামলা এবং নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় সমন্বিত বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

সচিব জানিয়েছেন, এ ধরনের মামলায় একাধিক সংস্থা যুক্ত থাকে। সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সচিব বলেন, উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত বিচারের জন্য যে আদালত ও ব্যবস্থাপনা আছে, সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন করে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়নি।


banner close