বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র ১৪৩৩

শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা মোদির

আপডেটেড
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১৭:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১১:৪১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশন এক বার্তায় জানায়, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মোদি ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিনে তার সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন।

শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে অবস্থান করছেন।


আঞ্চলিক সংহতি ও সার্ক পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশ-ভুটানের জোর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সার্ক’ (SAARC)-কে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে বাংলাদেশ ও ভুটান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভুটানের পররাষ্ট্র সচিব পেমা লেকতুপ দর্জি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দিক, বিশেষ করে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।

বৈঠক চলাকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই সর্বপ্রথম দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক প্রতিষ্ঠার যুগান্তকারী ধারণাটি উত্থাপন করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর সংহতি গড়ে তুলতে এবং এই অঞ্চলের আপামর জনগণের জন্য সম্মিলিত সুফল নিশ্চিত করতে এই জোটকে পুনরায় সক্রিয় করার ওপর উভয় পক্ষই জোরালো মত প্রকাশ করে।

আঞ্চলিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখাও উঠে আসে এই বৈঠকে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভুটানের নিজস্ব উদ্যোগ ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি)-এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে ভুটানের জন্য নির্ধারিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)-এর দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই দুটি বিশেষ অঞ্চল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে তা দুই দেশের অর্থনীতিতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক অর্থবহ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

অর্থনৈতিক এই উদ্যোগগুলো সফল হলে তা উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে কানেকটিভিটি বা যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বড় ধরনের অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফসিও)-এ অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যেই ভুটানের পররাষ্ট্র সচিব পেমা লেকতুপ দর্জি বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন।


আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে দেশে এলো ২৩ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ২১০ কোটি ১০ লাখ টাকা। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা এই বিপুল পরিমাণ প্রবাসী আয় আর্থিক খাতকে নতুন করে শক্তিশালী করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে কেবল ১৭ আগস্ট এক দিনেই দেশে ১ হাজার ২০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের ঠিক একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে, অর্থাৎ প্রায় ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেবল আগস্ট মাসেই নয়, চলতি অর্থবছরের সার্বিক হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। অথচ গত অর্থবছরের ঠিক একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ২০ লাখ ডলার।

হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক ও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে মজবুত করার পাশাপাশি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


দেশজুড়ে ২৫০টি অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত পাঁচ মাসে সারা দেশে অভিযান চালিয়ে আড়াইশোর বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এই নিয়মিত শুদ্ধি অভিযান শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে আড়াইশোর বেশি অবৈধ ক্লিনিক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ত্রুটি সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব ক্লিনিকের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তাদেরও তা নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, স্বাস্থ্য বিভাগের এই কড়া অবস্থানের পর ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর বাইরে নতুন করে আরও ২ থেকে ৩ হাজার লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছে, যা যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে মোট ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যার সংখ্যা ৪১৫টি। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহে ২৫২টি, চট্টগ্রামে ২৪০টি, খুলনায় ১৫৬টি, রংপুরে ১১১টি, রাজশাহীতে ৫৫টি, বরিশালে ৪৮টি এবং সিলেটে সবচেয়ে কম ৮টি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছিল।

গত কয়েক মাসের অভিযানে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তদন্তকারী দলের সরাসরি পরিদর্শনে গুরুতর অনিয়ম পাওয়ায় প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুরে পাঁচটি, টাঙ্গাইলে ছয়টি, শরীয়তপুর, নরসিংদী, পাবনা ও মানিকগঞ্জে দুটি করে এবং ঝিনাইদহ ও রাজশাহীতে একটি করে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ দেশজুড়ে সর্বমোট দুই শতাধিক অবৈধ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


স্বাস্থ্য খাতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা বিন ওসমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বৈঠকে উভয়পক্ষ স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করে।

মালয়েশিয়ার চিকিৎসাব্যবস্থার অগ্রগতির প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জন্য মালয়েশিয়ায় কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন, লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন, বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে যৌথভাবে কিছু করা যায় কি না এবং সেক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, কম্বোডিয়ার রোগীরা আগে থাইল্যান্ড যেত। তারা এখন মালয়েশিয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের রোগীদের জন্যও মালয়েশিয়া একটি ভালো গন্তব্য হতে পারে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিলের (MSTC) মাধ্যমে আগ্রহী বালাদেশিরা চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা পেতে পারেন।

মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশে তাদের দেশের কিছু শিক্ষার্থী এমবিবিএস, এমডিএস এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে উল্লেখ করেন।


পরিবর্তনের সুযোগ এসেছিল কাজে লাগানো যায়নি: প্রতিমন্ত্রী নুর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হলেও তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকজন তরুণকে ক্ষমতায়ন করলেও বৃহত্তর অংশকে বাইরে রেখেছে। জুলাই আন্দোলনে নারী ও তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়নি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব: রাজনীতিতে নারী ও তরুণ’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। নেদারল্যান্ডস রাজ্যের দূতাবাসের সহযোগিতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘তরুণরা ক্ষমতার অংশ না হয়ে শক্তিশালী চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।’

একই সঙ্গে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান, প্রবাসী কর্মসংস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন দেশ ও খাত অনুসন্ধান এবং জাপানসহ বিভিন্ন দেশে ঋণসহায়তা সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

সংলাপে রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, অধিকারকর্মী, আইনজীবী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা রাজনীতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণে বাধা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির জন্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ বণ্টনেও কার্যকর কর্তৃত্ব প্রয়োজন। প্রয়োজনের সময় নারীদের সামনে আনা হলেও ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট জায়গা দেওয়া হয় না।’

সাম্যবাদী দল-জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘তরুণদের শুধু ক্ষমতাকেন্দ্রিক না করে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। নারীদের চরিত্র হনন ও উপহাসের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।’

প্রবীণদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেন গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘সংসদে তরুণদের অপর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব রাজনৈতিক ব্যর্থতা। স্থানীয় সরকারে নারীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও তাদের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।’

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এখনো নারীদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী।

কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী রতন সংসদে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের সুযোগ এবং রাজনৈতিক পদে বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার প্রস্তাব দেন। সমাজের বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দিয়ে সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেন বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রেজেকুজ্জামান রতন।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরীন সুলতানা মিলি, লিঙ্গ ও যৌন অধিকারকর্মী হো চি মিন ইসলাম এবং ইরাবতীর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. মুক্তাদির রশিদ রোমিও।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছাত্র ও তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। ডাকসুর সাবেক নির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা ও পরিচয়ের স্বীকৃতি নিয়ে বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির জুবাইরুল হাসান আরিফ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ছাত্রদলের আবিদুর রহমান মিশু, বিপ্লবী ছাত্র ঐক্যের ইসরাত জাহান এমু, ছাত্র ফেডারেশনের আরমানুল হক, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার রাইসা রিফাত জুইন এবং ছাত্র ইউনিয়নের তিলোত্তমা ইতি।

রাজনৈতিক দলে নারী ও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বড় বাধা সাইবার হয়রানি ও নিপীড়ন, যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রভাব কমিয়ে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরির দাবি জানান তারা।


গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: উপদেষ্টা জাহেদ

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এই সংকট পুরোপুরি নিরসনে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে সাময়িকভাবে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, মানুষ যথেষ্ট কষ্ট পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমাদের বক্তব্য খুব সহজ—মানুষের কষ্টটা সত্য। কিন্তু এটার জন্য আমাদের দোষ দেওয়া সঠিক নয়।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল। এটা দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। এর দায় স্বীকার করে সরকার সংকট নিরসনে কাজ করছে। সংকট পুরোপুরি নিরসনে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকার এগোচ্ছে। সাময়িকভাবে যেন বেশি সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানির যে সংকটের মুখোমুখি আমরা এখন হচ্ছি, এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব দ্রুত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস মূল লাইনে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সরকার করছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার চেষ্টা চলছে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করেছি। জরিপের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়েছে, দেশের স্থলভাগে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। বর্তমানে দেশে বছরে ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তথ্য উপদেষ্টা কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, চিন্তা ও দর্শন নিয়ে বিদ্যালয় পর্যায়ে বয়স উপযোগী চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নজরুলকে শুধু প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রতিটি স্কুলে শিশুদের বয়স উপযোগী করে তার সাহিত্য, চিন্তা ও দর্শন নিয়ে চর্চা করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো প্রতিযোগিতা হলেই সেটিকে নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন নজরুলচর্চা শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতিটি স্কুল ও সমাজের বিভিন্ন জায়গায় যেন সব সময় এ চর্চা হয়। রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য সেটিই ভালো হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব দীপংকর বিশ্বাস, ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ অন্যরা।


তারেক রহমানের জন্য অধীর অপেক্ষায় ভারত: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের জন্য ভারত এখনো অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সম্পর্কের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে সমঅধিকারের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারতের জোরালো প্রত্যাশার কথাও ব্যক্ত করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং ভারতও এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে বিশ্বাস করে। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘জনগণের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই বহুল প্রতীক্ষিত সফরটি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

দুই দেশের সম্পর্কে থাকা বিভিন্ন জটিলতার বিষয়েও অনুষ্ঠানে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের বিষয়গুলো পুরোপুরি ভুলে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সব সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সম্ভব এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও কাজ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট আশ্বাস রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, এই সফরের পথে যেসব বিষয়কে বর্তমানে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বাংলাদেশ সেগুলোতে কার্যকর অগ্রগতি দেখতে চায়। দ্বিপক্ষীয় এসব বিষয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পথ আরও সহজ ও অর্থবহ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন সদস্যদের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য। তারা হলেন- রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিহ উল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতের সময় দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানিয়েছেন।

এর আগে সকালে স্থায়ী কমিটির এই চার সদস্য শেরে বাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান।

গত ১৫ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে এই চার সদস্যকে মনোনীত করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার নেতাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরে সদস্যদের মৃত্যু ও পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে দলটি। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হয়।

স্থায়ী কমিটিতে আগে থেকে ১৩ জন ছিলেন। তারা হলেন- তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর তিনি দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ায় স্থায়ী কমিটির সদস্য দাঁড়াতে যাচ্ছে ১৬ জনে।


টেকসই উন্নয়নের জন্য সমতার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জার্মান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা জিআইজেড ও নরওয়ে সরকার ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিজ্ঞান ও ইতিহাসের শিক্ষা থেকে আমরা দেখতে পাই, সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পথই একটি সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যায়।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জার্মান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা জিআইজেড ও নরওয়ে সরকার ‘ইনফরমেশন ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেশন ইন বাংলাদেশ: পলিসি, প্ল্যাটফর্ম অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড কালেক্টিভ অ্যাকশন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও তথ্যের জগৎ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রবাহের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্র, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তথ্য প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে তথ্যের পরিসর যেমন বিস্তৃত হচ্ছে, তেমনি ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলাও বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রযুক্তি যদি শেষ পর্যন্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন একটি দানবীয় জগৎ তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদেরই ধ্বংস করে দিতে পারে।

গণমাধ্যম ও তথ্য ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে গবেষণা, নীতিনির্ধারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

তিনি নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ডেটা-নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার— এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের খাপ খাওয়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ইউএনডিপির এ ধরনের আয়োজন দেশের গণমাধ্যম খাতে নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি কেউ, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর কেউ তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেননি। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর আগামী ২০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি এ সময় নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি ও ভোটদানের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।

এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

ইসি সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শুরুর প্রাক্কালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন উপস্থিত সংসদ সদস্য তথা ভোটারদের ভোট দেওয়ার নিয়মাবলী সম্পর্কে অবহিত করবেন।

সচিব আরও জানান, আজই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার মুদ্রণের কাজ সম্পন্ন হবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ এবং মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে সংসদ সদস্যের নাম, ক্রমিক নম্বর ও বিভক্তি নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য থাকবে। ভোটাররা নির্দিষ্ট স্থানে নিজেদের পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর দিয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করবেন।

ভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, "একটা স্পেসে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট নেবেন। ডান পাশের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো হবে। সেই অনুযায়ী তাঁদের নাম প্রিন্ট করা থাকবে এবং প্রিন্টের পাশে ডান দিকে স্পেস থাকবে, যেখানে সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে তাঁরা ব্যালট পেপার জমা দেবেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ব্যালট পেপার নেওয়া হবে। ৫টার পরে ব্যালট কাউন্ট করা হবে। ব্যালটের রংটা হচ্ছে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট।"

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হওয়ার পর সংসদকক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। গণনা শেষে নির্বাচনী কর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হবে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।

গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি নিজেই আদালতে আবেদনের পক্ষে সওয়াল করেন। রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী এবং এটি সংসদ সদস্যদের বাকস্বাধীনতাকে খর্ব করে। একই সাথে আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আর্জিও জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এই রিটের বিরোধিতা করেন। শুনানিতে তাঁকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি দেখায় যে, সংবিধানের বিদ্যমান বিধান অনুযায়ীই সকল প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাঁর নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে এবং আসনটি শূন্য হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন এই সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বেও ২০১৮ সালে একই আইনজীবী ৭০ অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে রিট করেছিলেন যা আদালত কর্তৃক গ্রাহ্য হয়নি। হাইকোর্টের আজকের এই আদেশের ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না


দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের যোগদান, আগামীকাল থেকে করবেন অফিস

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদান করেছেন। আগামীকাল বুধবার থেকে তাঁরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
আজ মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান।
দুদক সচিব বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। গতকাল গেজেটের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা ২টার দিকে তাঁরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগদান করেছেন। আগামীকাল থেকে তাঁরা দুদক কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
দুদক সচিব বলেন, ‘আগামীকাল থেকে নতুন যাত্রা শুরু হবে দুদকের। আপনারা যেরকম প্রত্যাশা করেন, সেটা প্রত্যাশা পূরণ হবে। আগামীকাল সকালে আমাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁরা মতবিনিময় করবেন।’
গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। একই প্রজ্ঞাপনে কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগে নিয়োগ পেয়ে শপথ নেন তিনি।
নতুন কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।


ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
আপডেটেড ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সার্বিক সফলতা বহুলাংশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী রাজস্ব কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এনবিআরকে জনগণের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই জনআস্থা অর্জন করা সম্ভব। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনামলে এনবিআরে যে দলীয়করণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কলঙ্ক লেপন করা হয়েছিল, তা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নীতি নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা করার সংস্কৃতি এখন অতীত। ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে এখন আমাদের সাহসের সাথে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’

পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনীতির সাথে তাল মেলাতে রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, মানি লন্ডারিং এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সাথে রাজস্ব ব্যবস্থাকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, ‘শুধুমাত্র কর আদায় বাড়ানোই আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য নয়, বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করাই মূল সার্থকতা।’ তিনি কর ব্যবস্থা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার মাধ্যমে করদাতা ও প্রশাসনের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ভ্যাট ব্যবস্থাপনার সফলতার ওপর আলোকপাত করে তারেক রহমান বলেন, ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতা যাতে কোনোভাবেই ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিকে বাধাগ্রস্ত না করে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি রাজস্ব কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে ও স্বস্তি নিয়ে দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে সবার আগে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। প্রত্যেকটি মানুষের অবদানকে বর্তমান সরকার সম্মানের চোখে দেখে।’ গত কয়েক মাসের ইতিবাচক রাজস্ব আহরণের চিত্র উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশপ্রেম ও আন্তরিকতা থাকলে একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা অবশ্যই সম্ভব হবে।

এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের শুরু হয়। এর পর চলে রাজস্ব আদায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ ফটোসেশনে অংশ নেন এবং ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত বিভিন্ন বিভাগের তথ্যমূলক উপস্থাপনা ঘুরে দেখেন।


banner close